ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১১:৫৪:১৮
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারটি দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গভীর সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে। ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণের একটি বাড়তি চাপ সরকারের ওপর রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে দেখা দেওয়া জ্বালানি সংকট এবং হামের প্রাদুর্ভাবের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সরকারকে শুরুতেই বেশ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ১০০ দিনে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া কিছু উদ্যোগ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি সরকারের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জন্ম দিয়েছে নানা সমালোচনার।

বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা মাত্র একশ দিনের মাথায় চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের ভবিষ্যৎ পথচলার শুরুটা কেমন হলো তা বোঝার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনগুলোতে সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে খাতভিত্তিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির আভাস মিললেও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাত এখনো স্থবির রয়ে গেছে।

বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের ভূমিকা এখনো সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কার্যকর হয়ে ওঠেনি। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিকে টেনে তোলার এই কঠিন চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার কতটা সফল হবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট দেখলেই পরিষ্কার হবে যে এই সরকার দেশের অর্থনীতি নিয়ে আসলে কী ধরনের পরিকল্পনা করছে এবং তাদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো ঠিক কী। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তারা বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এবং সিংহভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রিসভায় গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রায় ৬২ শতাংশ ইতিমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নতুন সরকারের প্রথম একশ দিনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল অর্থনৈতিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। ব্যাংক খাতের সংস্কার, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। এর সঙ্গে বাড়তি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

ফলে অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই সময়কালকে মূলত একটি তীব্র সংকট ব্যবস্থাপনার সময় হিসেবেই দেখছেন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া কিছু সময়োপযোগী পদক্ষেপে সরকার ইতিবাচক বার্তা দিতে পারলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক ঋণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের একটি সদিচ্ছা সরকারের মধ্যে দেখা গেছে। তবে দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মাত্র একশ দিনের মধ্যে আর্থিক খাতে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন আনা অলৌকিক, তবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো থেকে ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যেতে পারে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এবারও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না এবং সরকারকে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে। অবশ্য এই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যাংকিং আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগসহ আর্থিক খাতের বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই খাতের সামগ্রিক সংস্কারে সরকার আসলে সুনির্দিষ্টভাবে কী করতে চায়, তা এখনো বিশেষজ্ঞদের কাছে স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং অর্ডিন্যান্স নতুন করে পর্যালোচনা করার কথা বলা হলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতার ব্যাপারে সরকারের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। এছাড়া বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে বড় ধরনের সংকোচন দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় অন্তরায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সরকারের জন্য অন্যতম কঠিন পরীক্ষা।

ব্যাংকিং খাতের অস্থিতিশীলতা ও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এখনো অর্থনীতির প্রধান দুর্বলতা হিসেবে রয়ে গেছে। একই সাথে রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা অনেকখানি সীমিত হয়ে পড়েছে। আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাঠামোগত স্থায়ী সংস্কার ছাড়া কেবল প্রশাসনিক তদারকি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে সাধারণ মানুষ আশা করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ মনে করেন, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলো এখনো সমাজে অস্বস্তির কারণ হয়ে আছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে বিচার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। অপরাধ ও রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর কালশিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের পিছু হটার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, যা নির্দেশ করে যে পুলিশ এখনো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ও পেশাদার জায়গায় ফিরতে পারেনি।

অবশ্য দেশের মাঠ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াগুলোকে পরিস্থিতির উন্নতির ইতিবাচক দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আইনের আওতার বাইরে রাখার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, তা থেকে সংস্থাটিকে মুক্ত করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। এক সময় র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি রাজনৈতিক এজেন্ডায় থাকলেও, সরকার এখন এটিকে বিলুপ্ত না করে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় এনে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধগুলো এখনো জনগণের উদ্বেগের প্রধান কারণ।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আসা এই নতুন সরকারকে শুরু থেকেই নানামুখী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যার আভাস সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাওয়া গেছে। জুলাই সনদসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বেশ উত্তপ্ত ও আলোচিত ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান মনে করেন, সরকার এখন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর সাথে বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পরিবেশ ধরে রাখতে পেরেছে, যা একটি সুস্থ ও ইতিবাচক গণতান্ত্রিক চর্চার লক্ষণ। তবে জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সরকারের জন্য সহজ হবে না। এছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে শপথ গ্রহণের দিন থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি। বিরোধীরা সংসদের বাইরেও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকার শুরু থেকেই সামাজিক সুরক্ষামূলক অঙ্গীকারগুলো আগে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ডের মতো পদক্ষেপগুলো দ্রুত চালু করে সরকার যেমন জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে, তেমনি অতীতে এসবের কটাক্ষ করা বিরোধীদেরও একটি পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি করতে না পারলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা খুব শিগগিরই সরকারকে আরও বড় ধরনের চাপে ফেলতে সক্ষম হবে।

এই সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দেশজুড়ে দেখা দেওয়া হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমান সরকারকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করা হলেও বর্তমান স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান ও অর্জনের খতিয়ান তুলে ধরেছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে গৃহীত ৬০টি নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৭টি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং এস আলম গ্রুপের প্রায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।

মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পসহ দেশজুড়ে জলাশয় ও খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

সরকার দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা মেহেরপুরের একটি ধর্ষণ মামলায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং ঢাকার পল্লবীর চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি তদারকির উদাহরণ পেশ করেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিন, ভালো কাজের পথ দেখান: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২১:৩৫:২৮
সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিন, ভালো কাজের পথ দেখান: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থে আমাদের হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। অতীতে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "আমার সঙ্গে যা হয়েছে—এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে। অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।" মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের বাকশাল আমলের সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আজকের এই দিনে বাংলাদেশের চারটি সংবাদপত্র বাদে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। বাকশাল গঠন করে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং সংবাদপত্রের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই এবং বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানান এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিপুল শক্তিকে ইতিবাচক খাতে ব্যবহার করতে হবে। এর প্রধান মাধ্যম হলো খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা। তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছি।

সম্প্রতি শেষ হওয়া একটি শিক্ষা বিভাগীয় ইভেন্টে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে।" তবে এত বড় আয়োজন সংবাদমাধ্যমে উপযুক্ত গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। যুবসমাজকে সুস্থ ধারায় ফেরাতে শুধু বিশেষ দিনগুলোতে নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সারা বছর সাংস্কৃতিক, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞান মেলার আয়োজন চালু রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন নৃশংসতার ভিডিওর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান। মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দেশের আকাশে মহররমের চাঁদ দেখা গেছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২১:৩১:২৮
দেশের আকাশে মহররমের চাঁদ দেখা গেছে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান। ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়াও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হকসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

/আশিক


দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:২৮:০১
দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
ছবি : সংগৃহীত

দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মুখে পড়ার বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাকে কোনো কক্ষে আটকে রাখা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি স্পষ্ট করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে যে ধরনের কূটনৈতিক ও প্রটোকলগত আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, তা পাননি। ফলে আত্মসম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে তিনি ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তার সফরের বিষয়টি গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের (Note Verbale) মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।

এত আনুষ্ঠানিকতার পরও গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিকে নিজের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পরিপন্থী মনে করে তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং ভারতে প্রবেশ না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভারতীয় কর্মকর্তারা একাধিকবার আন্তরিকতার সঙ্গে তাকে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে রোববার রাতেই তিনি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সোমবার (১৫ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

আজকের ব্রিফিংয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ‘হেনস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "ওখানে কোনো রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বা জেরা করা হয়েছে—বিষয়টি একদম তেমন নয়। একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে দৃশ্যত কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তাও বলব না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী আমার সঙ্গে যে ট্রিট করার কথা ছিল, সেটি করা হয়নি।"

পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চাননি উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "আমি সিচুয়েশনটাকে বেশি খারাপ করতে চাইনি এবং সেই বার্তাও ওদের দিয়ে এসেছি। চাইলে আমরা আমাদের পুরো প্রতিনিধিদলকে সম্মেলন থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম, কিন্তু তা করা হয়নি। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আমি সেদিনই দেখিয়েছি।" তবে এই ঘটনার পরও ভবিষ্যতে ভারত সরকার যদি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমন্ত্রণ জানায়, তবে তিনি আবারও দেশটিতে যাবেন বলে জানান।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি কূটনৈতিক। তার মতে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিলেও এ বিষয়ে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:০১:৪৮
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজধানী ঢাকার পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যুব সমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখার বিষয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।"

বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও এই একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজকের এই প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি করে 'পরিদর্শন কক্ষ' নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা করে বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার পানি সংকটের চিত্র ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার। তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুসরণ করে অত্যাধুনিক কেমিক্যাল পিএসি অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরিনেশনের মাধ্যমে পানি পরিশোধন করা হয়। পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪০-৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে থাকে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যানে করে বাসাবাড়ির বর্জ্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় আনার কাজ চলছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে ছোট ছোট কাভার্ড ভ্যানে সম্পূর্ণ পরিবেশসম্মত উপায়ে ময়লা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী একটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজ করতে এবং জনভোগান্তি দূর করতে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন ২’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ব্লক চেইন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যার ফলে কোনো স্তরে তথ্য পরিবর্তন করা হলে তার লগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে এবং জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে।

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম এবং মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের যুবসমাজকে মোবাইল এবং মাদক আসক্তি থেকে রক্ষা করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কর্মশালা ও ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্পের ডিপিপি (DPP) প্রণয়ন করা হয়েছে, যার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (Feasibility Study) কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

/আশিক


দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১২:৩৩:৩৩
দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাকে কোনো কক্ষে নিয়ে আটক রাখা হয়নি কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে পরিস্থিতির প্রতি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) তথ্য অধিদফতরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে কোনো ধরনের আটকাদেশের আওতায় রাখা হয়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিকভাবে দিল্লিতে প্রবেশের অনুরোধও জানানো হয়।

তবে তিনি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেননি। তার ভাষায়, ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি ভারত সফর বাতিল করে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তার কিছু অংশ বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তাকে কোনো কক্ষে নিয়ে আটক রাখা হয়েছে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এ ধরনের তথ্য সঠিক নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১৪ জুন) ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হন। কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখান থেকে বিকল্প রুটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া একজন উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

-রফিক


অসংখ্য গুমের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বেনজীর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২০:১২:৫৪
অসংখ্য গুমের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বেনজীর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
ছবি : সংগৃহীত

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি স্পষ্ট করেন, সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অসংখ্য গুমের মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত আনা প্রয়োজন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, র‍্যাবের বিতর্কিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে সংঘটিত ভয়াবহ গুম, নির্বিচার আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা সচল রয়েছে, যেখানে বেনজীর আহমেদ অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আসামি।

এছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের হওয়া স্পর্শকাতর মামলার তদন্তও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর পাশাপাশি বহুল আলোচিত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে 'বন্দুকযুদ্ধের' নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অসংখ্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক এই আইজিপির সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাইরেও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে।

এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি করা তিনটি পৃথক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মূল নথি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কূটনৈতিক ধাপে এই নথিগুলো ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে তাকে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ফেরত চেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সকল প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। দেশে ফিরিয়ে আনার পরপরই আইনি হেফাজতে নিয়ে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় অপরাধগুলোর পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং মামলার বিচারে তার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি।

/আশিক


দলীয় লেজুড়বৃত্তি নয়, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২০:০৯:৩৭
দলীয় লেজুড়বৃত্তি নয়, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রায় গণমাধ্যমকে অন্যতম প্রধান অংশীদার উল্লেখ করে দেশের সাংবাদিকদের সম্পূর্ণ স্বাধীন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। সচিবালয়ে দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী স্পষ্ট করে বলেন, গণমাধ্যমের কাছ থেকে কোনো ধরনের দলীয় আনুগত্য, চাটুকারিতা বা লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বর্তমান সরকার কোনোভাবেই প্রত্যাশা করে না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সত্যিকারের বস্তুনিষ্ঠ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক যাত্রায় সারাক্ষণ কেবল রাজনৈতিক খবরাখবর বা বিতর্ক নিয়ে পড়ে না থেকে, দেশের সাধারণ মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে আরও বেশি গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান বার্তা সম্পাদকরা জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁদের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করেছেন যে, অতীতের মতো কোনো দলীয় প্রচারযন্ত্র বা প্রোপাগান্ডা টুল হিসেবে নয়, বরং গণমাধ্যমকে তার নিজস্ব শক্তিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের একটি বড়ো সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনে এই খাতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে আমূল পরিবর্তনের সূচনা সরকার করেছে, সেখানে গণমাধ্যমকে অন্যতম প্রধান অংশীদার মনে করা হয়। তাই এই জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কারযাত্রায় সংবাদমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বৈঠকে উপস্থিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের নানাবিধ চলমান সংকট, নীতিগত সমস্যা ও দীর্ঘদিনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে সরাসরি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাঁদের প্রতিটি সমস্যার কথা শোনেন এবং গণমাধ্যম যাতে কোনো রকম অদৃশ্য চাপ, ভয় বা আর্থিক সংকট ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জোরালো আশ্বাস দেন।

/আশিক


অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৮:১৪:৫২
অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির নানাবিধ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করে জাতীয় অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

জাতীয় সংসদে সোমবার (১৫ জুন) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকারের সমাপনী বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংসদে বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ও সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতের ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক স্তরে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিশেষ কার্যক্রমও সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নানাবিধ জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি কিছুটা সমন্বয় বা হ্রাস করতে হলেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদানের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আগের চেয়ে আরও বেশি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসব গণমুখী কার্যক্রম সুচারুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই মূলত এবারের সম্পূরক বাজেটে সরকারি মোট ব্যয় ও ঘাটতির ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

বাজেটের মূল অঙ্ক ও সংশোধনের বিবরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের মোট নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে জাতীয় নির্বাচন-পূর্ববর্তী বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি মাঠপর্যায়ে কিছুটা মন্থর বা ধীরগতির ছিল। এই বাস্তবতার কারণে সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮Target কোটি টাকা নির্ধারণ করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি দেশের আর্থিক খাতের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে আরও জানান, এবারের সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ঠিক ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের তারতম্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে দেশের মোট ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার সর্বমোট পরিমাণ হলো ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ব্যয়ের মিতব্যয়িতা নীতি অনুসরণ করে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে।

সম্পূরক বাজেটের ওপর সংসদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিরোধী দল ও সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা যে গুরুত্বপূর্ণ মতামত, সমালোচনা ও সুদূরপ্রসারী পরামর্শ দিয়েছেন, তা আগামী দিনে সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিজের সমাপনী বক্তব্যের একদম শেষ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সম্মানিত সদস্যের প্রতি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত আইনি দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বাবদ দাবিকৃত মঞ্জুরি অনুমোদনের বিশেষ আহ্বান জানান।

/আশিক


ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৭:৫৯:৫৩
ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়েকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ডেকে পাঠানো হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অসন্তোষ ও কড়া প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে সে দেশে প্রবেশে আকস্মিক বাধা প্রদান করা হয়। মূলত বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেই ভারতীয় দূতকে তলব করে জবাবদিহি চেয়েছে ঢাকা।

এদিকে, দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া অগ্রহণযোগ্য আচরণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে হওয়া পুরো আচরণকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলেও আখ্যা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে, গত রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ভারতে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করে এবং তাকে প্রবেশে বাধা দেয়। এমন প্রতিকূল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে তিনি আর দিল্লিতে প্রবেশ না করেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: