ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১৭:২৫:২৪
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ, মহাসড়কের চাপ সামলানো এবং সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের তাড়াহুড়ো ও অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাঝপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রশাসন তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকেও সারা দেশের সড়ক ও পরিবহনের সার্বিক তদারকি চলছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বাস টার্মিনালগুলোর মূল কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ এখন পর্যন্ত খুব বেশি পাওয়া যায়নি। তবে অনেক সময় মাঝপথে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাগিদে সামনে পাওয়া যেকোনো বাসে উঠতে চান, আর ঠিক এই সুযোগটি নিয়েই কিছু ক্ষেত্রে অসাধু চক্র বেশি ভাড়া আদায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা ত্রিমোহনী এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। কারণ ওই রুটে সাত লেনের যানবাহন এসে যখন হঠাৎ দুই লেনের সড়কে প্রবেশ করছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেখানে একটি বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে রাস্তায় বড় ধরনের কোনো যানজট বা ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।

চলতি বছরের ঈদযাত্রার তীব্র চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে কোরবানির জন্য প্রায় ৮০ লাখ পশু বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করতে হচ্ছে, যা দেশের সীমিত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অবকাঠামোগত চাপ তৈরি করেছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েও পরিবহন খাত এই চাপ সামলাতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চাপ সামাল দিতে তিনি সাধারণ যাত্রীদেরও কিছুটা ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। তার মতে, অনেক যাত্রী আগে থেকে কোনো টিকিট না কেটে একদম শেষ মুহূর্তে টার্মিনালে এসে যাত্রা শুরু করেন। এর ফলে স্টেশনে তাৎক্ষণিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় এবং এই বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নেয় অসাধু চক্র।

রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ইতোমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কামরার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে দেশের সব ট্রেনে এখনই এই সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ রেলের পর্যাপ্ত বগির সংকট রয়েছে এবং ঈদের সমস্ত অগ্রিম টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত বহরের সাথে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ারাধীন এবং ইজারা সংক্রান্ত সমস্ত ভালো-মন্দ দায়-দায়িত্বও তাদেরই বহন করতে হবে।

দেশের সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের পুরো পরিবহন খাতকে একটি সমন্বিত বা মাল্টিমোডাল ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ চলছে। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানি গঠন, ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতে মনোরেল চালুর পরিকল্পনাও সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এবারের ঈদযাত্রায় নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

/আশিক


ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ২১:৩৩:৩৫
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদ আজও বিভিন্নভাবে জন্ম নেয় এবং নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে। নিজ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে গুম-হত্যার মতো অন্যায় সৃষ্টি করা হয়। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সমাজকে মুক্ত করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিশু-কিশোর শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’তে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম মানুষকে প্রতিনিয়ত শক্তি জোগায়। তার গান, কবিতা ও জীবনদর্শন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সৃষ্টি করে।

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সাধারণ রাজনীতিবিদদের তুলনায় রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার পথ অনেক বেশি কঠিন। একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের বিকাশের পথও সুগম করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার তূর্যবাদক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। একই সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তিনি নিয়েছিলেন।

রিজভী আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার পিতার সেই উদ্যোগকে অনুসরণ করে এ বছর ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষে’ শিশুদের শারীরিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে।

সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী রংপুরে একটি শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণতা ও মাদকের প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে নজরুলের গান, কবিতা ও জীবনদর্শনের ব্যাপক চর্চা প্রয়োজন।

‘চল্ চল্ চল্’ রণসংগীতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নজরুল পিছিয়ে পড়া জাতিকে অলসতা ঝেড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বদরবারে এগিয়ে যাওয়ার দিশা দেখিয়েছেন। তার গান মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা দেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন আহমেদ স্টালিন। এ সময় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:৪০:৪১
চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে আলোচনা শেষে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে এর বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, এমআরসিএ হিসেবে জে-১০সিই এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন বৈঠক হয়েছে। ওই আলোচনার ভিত্তিতে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।

চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তার দাবি, ওই সংঘাতে চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এ ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের দাবির স্বাধীন যাচাই নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সতর্কতা রয়েছে

জাহেদ উর রহমান বলেন, জে-১০ একটি মাল্টিরোল ফাইটার এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের যুদ্ধবিমানের দিকে সরকার মনোযোগ দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম। ফলে জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য উদ্যোগের কথা উঠে এসেছিল। সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত চুক্তি ও মূল্য নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি ব্যবস্থাও যুক্ত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৯:২১:১৪
মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে। তাঁর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও মহানবী (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হতে পারে। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাই তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণীর শেষে মহান আল্লাহর কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন তিনি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আবারও আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:২২:২৭
আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কারও আত্মীয় হিসেবে নয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আরও পেশাদারভাবে প্রশ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক তাকে মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। জবাবে পার্থ বলেন, তিনি আশা করেছিলেন প্রশ্নটি আরও পেশাদারভাবে করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম আপনার প্রশ্নটা আরও প্রফেশনাল হবে। আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়। আশা করি আরও প্রফেশনাল ওয়েতে প্রশ্ন করবেন।’

সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পেতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি না এবং কবে নাগাদ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাওয়া যাবে— জানতে চান ওই সাংবাদিক।

জবাবে পার্থ বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন—এটি বাংলাদেশ সরকারের জানা। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে জানানো হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার জানা মতে, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে।

এ বিষয়ে পার্থ বলেন, রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি শেখ হাসিনার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, শুধু শেখ হাসিনাই নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

/আশিক


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১৮:০৫:১১
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তার শপথ গ্রহণে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বাংলাদেশের সরকার যা করছে, সংবিধান মেনেই করছে।’

এর আগে হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

এদিন আইনমন্ত্রী সরকারের আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, গুম ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সরকার গঠনের পর পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মিথ্যা মামলা হয়নি বলেও দাবি করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, কোনো ভুক্তভোগী নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

/আশিক


নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১০:৫৭:৪১
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে বড় পরিসরের ক্রয় পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থাটি। একই সঙ্গে গুদাম সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং পণ্য বিতরণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, পরিকল্পিত পণ্যের প্রায় অর্ধেক স্থানীয় বাজার এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহের প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে। তবে কোন উৎসে দাম, মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতা বেশি সুবিধাজনক—তার ওপর চূড়ান্ত ক্রয়ের অনুপাত নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রে তুলনামূলক ভালো শর্ত পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে আমদানির অংশ বাড়ানো হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় অংশ রাখা হয়েছে ভোজ্যতেলের জন্য। টিসিবি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস মিলিয়ে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল সংগ্রহ করতে চায়। পাশাপাশি ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজারে সংকট দেখা দেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনছে সংস্থাটি। মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা পণ্য এবং ইতোমধ্যে কেনা কিন্তু সরবরাহের অপেক্ষায় থাকা পণ্যের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে ছেড়ে সরবরাহের ঘাটতি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি কমানো।

বিশেষ করে রমজান, ঈদ কিংবা নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় বাজারে টিসিবির কার্যকর উপস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত মজুতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টিসিবির মজুত পরিস্থিতি চলমান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সন্তোষজনক। তবে ভবিষ্যতে বাজারে হস্তক্ষেপের সক্ষমতা বাড়াতে ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি লজিস্টিক অবকাঠামোও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

বর্তমানে টিসিবির ব্যবহারে মোট ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯টি সংস্থার নিজস্ব, আর ৩১টি ভাড়া করা। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়া করা গুদামে ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন পণ্য রাখার সুযোগ রয়েছে।

ভাড়া করা অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমাতে আরও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন নিজস্ব মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে টিসিবি। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বড় আকারে পণ্য কিনে সুবিধাজনক সময়ে বাজারে সরবরাহ করতে হলে নিজস্ব গুদাম ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

নিত্যপণ্যের বাজারে টিসিবির প্রভাবও বাড়াতে চায় সরকার। চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের সামগ্রিক বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ। তবে পরিবারভিত্তিক ভোগের বাজার বিবেচনা করলে টিসিবির কার্যকর অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে মনে করেন তিনি।

মসুর ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও নিম্ন ও সীমিত আয়ের পরিবারের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। সংস্থাটির মূল্যায়ন হচ্ছে, বড়সংখ্যক পরিবারের জন্য তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করা গেলে খুচরা বাজারেও এর একটি মূল্য-স্থিতিশীলকারী প্রভাব তৈরি হয়।

সরকারি ভর্তুকির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও টিসিবির নতুন কৌশলে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক উৎস থেকে কম দামে পণ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য সীমিত মুনাফায় বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে ভোক্তারা বাজারের তুলনায় কম দামে পণ্য পাবেন, অন্যদিকে প্রতিটি পণ্যের জন্য সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি দিতে হবে না।

টিসিবির পণ্যতালিকাও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। এতদিন ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির মতো কয়েকটি পণ্যকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, মরিচ, হলুদ এবং বিভিন্ন মসলা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে নতুন এসব পণ্য ভর্তুকির আওতায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান। প্রতিযোগিতামূলকভাবে সংগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে সেগুলো বিক্রির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীদের জন্য অতিরিক্ত পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করা হবে না।

কোন পণ্য টিসিবির বিক্রয়তালিকায় যুক্ত হবে, সে সিদ্ধান্তেও ভোক্তার চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন পণ্য চালুর আগে জরিপ করে সুবিধাভোগীদের প্রয়োজন ও আগ্রহ যাচাই করা হবে। ভোক্তার বাস্তব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই ধাপে ধাপে পণ্যের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

টিসিবির কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থায়। চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সুবিধাভোগীদের আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে সুবিধাভোগীর তালিকা স্থায়ী নয়। মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন, স্থানান্তর কিংবা যোগ্যতার পরিবর্তনের কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য একটি গতিশীল সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পণ্য বিতরণে অনিয়ম কমানো এবং লেনদেনের তথ্য আরও সহজে যাচাই করতে পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করার কাজও চলছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করে সুবিধাভোগীর পরিচয় যাচাই করেন। পরবর্তী পর্যায়ে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্য কেনার পর গ্রাহক লেনদেনের রসিদও পাবেন।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা ডিজিটাল সুবিধা তৈরির কাজও চলছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থায় একজন সুবিধাভোগী নিজের কার্ডের তথ্য ডিজিটালভাবে দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা কিংবা নগদ অর্থের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাবেন। ফলে কার্ড ব্যবস্থাপনা থেকে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ সহজ হবে।

আরও বড় পরিসরে টিসিবির ডিজিটাল অবকাঠামোকে অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের তৈরি প্ল্যাটফর্মে প্রায় ২১ ধরনের কর্মসূচি সংযুক্ত করার প্রযুক্তিগত সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও সুবিধাভোগীভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনায় এই অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

টিসিবির সামগ্রিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শুধু কম দামে পণ্য বিক্রি নয়; বরং বাজারে প্রয়োজনের সময় দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম একটি রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ, পর্যাপ্ত মজুত, শক্তিশালী গুদাম ব্যবস্থা, ডিজিটাল সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ এবং চাহিদাভিত্তিক পণ্যতালিকা সবকিছুকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।

তবে এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সঠিক সময়ে পণ্য কেনা, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি সামলানো, ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ডিলার পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পিত ক্রয় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নিত্যপণ্যের বাজারে আকস্মিক সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময় টিসিবির হস্তক্ষেপের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

-রফিক


বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৫ ১০:৩৯:১৮
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে হত্যা, নিপীড়ন ও ব্যাপক সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বড় ঢলের নয় বছর পূর্ণ হলো আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)। ২০১৭ সালের এই দিনে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেন। নয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, রাখাইনে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ, নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকোচন পুরো সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ উপলভ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এর মধ্যে কক্সবাজারে প্রায় ১১ লাখ ৬৬ হাজার এবং ভাসানচরে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা রয়েছেন। নতুন করে বাংলাদেশে আসা ১ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকেও বায়োমেট্রিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

২৫ আগস্টকে রোহিঙ্গারা গণহত্যা স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন। দিনটি উপলক্ষে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সমবেত হয়ে ২০১৭ সালের সহিংসতার বিচার দাবি এবং নিজ ভূমি আরাকানে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার কর্মসূচি রয়েছে। তবে তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে এবারও একই প্রশ্ন—নয় বছর পরও কেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হলো না।

প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক একটি অগ্রগতি হলো, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে মিয়ানমার। তবে একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে যাচাই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হলেও বাস্তবে কবে একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যেতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সময়সীমা নেই।

রোহিঙ্গাদের বড় উদ্বেগ নাগরিকত্ব ও জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি নিয়েও। ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। সংস্থাটির অবস্থান হলো, মিয়ানমারে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবর্তন সম্ভব।

এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন মনে করেন, প্রত্যাবাসনই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলেও শুধু কূটনৈতিক ঘোষণা দিয়ে সেটি অর্জন করা সম্ভব নয়। তার মতে, মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মাথায় রেখে একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, মর্যাদা এবং নিজ ভূমিতে অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো প্রত্যাবাসনের কাঠামোর কেন্দ্রে রাখতে হবে।

ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার সভাপতি সৈয়দ উল্লাহর বক্তব্যেও দীর্ঘদিনের হতাশা স্পষ্ট। তার মতে, ২০১৮ সাল থেকে প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে বহু আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সামান্য। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকেও এই সংকটের দায় ও সমাধানের দায়িত্ব নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার উপাদান হিসেবে না দেখে অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বানও জানান তিনি।

রাখাইনের পরিবর্তিত সামরিক বাস্তবতাও এখন প্রত্যাবাসনের অন্যতম বড় বাধা। রোহিঙ্গা যুবনেতা ও আরাকান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মুজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, রাখাইনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে কেবল মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করেই প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তার মতে, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তির কার্যকর সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন।

দীর্ঘায়িত সংকটের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতি। জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো ২০২৬ সালে রোহিঙ্গা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে। এই আবেদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম, এবং জাতিসংঘ বলছে এটি জীবনরক্ষাকারী ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে। পরিকল্পনাটির আওতায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তার লক্ষ্য রয়েছে।

অর্থসংকট ইতোমধ্যেই মানবিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি করেছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মানবিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও কিছু কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বড় অংশ খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্য, পানি ও সুরক্ষাসহ মৌলিক প্রয়োজনের জন্য এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা পুরোপুরি থেমে যায়নি। চলতি আগস্টেই অস্ট্রেলিয়া ২০২৬-২৮ মেয়াদি মানবিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ইউএনএইচসিআরকে আরও ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ বাড়ছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতে, দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাসের ফলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সম্পদ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্পর্ককে ঘিরে চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাম্পে অপরাধ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখলে সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

উন্নয়নকর্মী ফারিহা হোসাইন মনে করেন, নয় বছর ধরে চলা এই সংকটকে এখন আর শুধু জরুরি ত্রাণের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আলোচনায় তাদের নিজেদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

ব্র্যাকের উপদেষ্টা সুব্রত চক্রবর্তীর মতে, শরণার্থী সংকটের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমাধানের মধ্যে স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন, স্থানীয় একীভূতকরণ এবং তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন রয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে একীভূত করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রত্যাবাসনকে মূল লক্ষ্য রেখেই সীমিত পরিসরে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের পথও খোলা রাখা যেতে পারে।

ইউএনএইচসিআরের বর্তমান অবস্থানও বলছে, প্রত্যাবাসনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অধিকারভিত্তিক পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। মিয়ানমারের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় নতুন বাস্তুচ্যুতি ও সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনাও ঘটছে। ফলে একদিকে পুরোনো শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা, অন্যদিকে নতুন বাস্তুচ্যুত মানুষের আগমন দুই বাস্তবতাই বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

নয় বছর পর তাই রোহিঙ্গা সংকটের সামনে মূল প্রশ্ন শুধু ‘কবে প্রত্যাবাসন হবে’ নয়; বরং কোথায়, কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে, কী নাগরিক মর্যাদায় এবং কতটা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে তারা ফিরবেন এসব প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর পাওয়া জরুরি। প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সংকটের চাপ বহন করা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও আন্তর্জাতিক সহায়তার কেন্দ্রে রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

-রফিক


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:২১:৪৯
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে যুক্ত হতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রস্তাবিত নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টিকে ঢাকা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বহুমাত্রিক করতে বর্তমান সরকার কাজ করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গঠিত এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বিষয়েও বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তার নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে যে আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে।’

এ সময় একটি গণমাধ্যমে তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ?’

পরে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।

এদিন সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই কাজ করছে। ঢাকা ও দিল্লির সুবিধাজনক সময়ে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা তার অন্যতম দায়িত্ব। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২০:১৮:০৭
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কার এত জ্বালা?’

সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে, যে আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য কাজ করা কোনো সুবিধাবাদী ব্যক্তির কাজ নয়।

এ সময় সাংবাদিকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি শুনে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, কোথায় এ আলোচনা হয়েছে। এক সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার কথা জানালে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! মানে কোন নেটিজেন? আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, কাজ করি। আপনি বলেন নেটিজেন!’

এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন সংবাদপত্রে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কার এত জ্বালা যে মানে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তাঁর জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’

পরে দেশের স্বার্থে জোরালো অবস্থান নেওয়া মানুষ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।

হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নটি সামনে আসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ নেওয়ার পর। সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। সেখানে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক

পাঠকের মতামত: