খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৩৪:৪৯
খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি শেষ: এলপিজি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে সচিবালয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই সুখবর জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে, এলপিজির বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলেও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে কিছু খুচরা বিক্রেতা বা রিটেলার বাড়তি দাম নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভোক্তা পর্যায়ে এই ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং বা নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে এলপিজির দাম দ্রুতই সরকার নির্ধারিত পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আমদানিকারকরা তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরলে সরকার সেগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বাজারে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

যদিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব স্টোরেজ সক্ষমতা কিছুটা কম, তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আমদানিকারকদের দাবিগুলো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিচার করা হবে, তবে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় কোনোভাবেই এলপিজির দাম বাড়ানো হবে না। সরবরাহ চেইন ঠিক রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের মার্কেট অ্যাবিউজ বা কারসাজি রুখতে মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে বাধ্য ব্যাংক! অমান্য করলেই ব্যবস্থা 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:৫৬:০৭
ছেঁড়া-ফাটা নোট নিতে বাধ্য ব্যাংক! অমান্য করলেই ব্যবস্থা 
গ্রাফিক্স: ইত্তেফাক

দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য এ ধরনের নোট গ্রহণ এবং বিনিময় করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বা পরিচ্ছন্ন নোট নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এ ধরনের নোট নিতে অনীহা প্রকাশ করায় বাজারে ময়লা ও ত্রুটিপূর্ণ নোটের আধিক্য বেড়ে গেছে, যা জনসাধারণের লেনদেনে সমস্যা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট নোটগুলোর বিনিময়ের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ জোর দিয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংকের শাখায় গিয়ে তাদের ছেঁড়া বা ময়লা নোট জমা দিয়ে তার বিপরীতে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট বুঝে নিতে পারবেন। কোনো ব্যাংক এই সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা গাফিলতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

/আশিক


স্বর্ণের বাজারে বড় পতন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দাম

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১১:৫২:০৭
স্বর্ণের বাজারে বড় পতন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা দুই দফা বাড়ার পর অবশেষে বড় ধরনের পতন হয়েছে স্বর্ণের দামে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৩২ টাকা পর্যন্ত দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন সমন্বিত দামেই আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবারও স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নতুন দাম কার্যকর থাকবে। তবে জুয়েলারি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

মান অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন দাম

বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২ হাজার ৮৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের প্রতি ভরির জন্য গুনতে হবে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ টাকা।

/আশিক


আজকের টাকার রেট: প্রবাসীদের জন্য ৯ এপ্রিলের মুদ্রার বিনিময় হার

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১১:৪৬:৩৪
আজকের টাকার রেট: প্রবাসীদের জন্য ৯ এপ্রিলের মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে আজ বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের বাজারে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।

এর মধ্যে ডলার কেনার দাম ১২২ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রির দাম ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো কেনার ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা ৮৫ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা ৯৭ পয়সা দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ড কেনার দাম ১৬৫ টাকা ১৯ পয়সা এবং বিক্রির দাম ১৬৫ টাকা ২৯ পয়সা।

সিঙ্গাপুর ডলার কেনা যাচ্ছে ৯৬ টাকা ৩১ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৯৬ টাকা ৪০ পয়সায়।

কানাডিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ৬৬ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ৭০ পয়সা।

অস্ট্রেলিয়ান ডলার কেনা হচ্ছে ৮৬ টাকা ৬৬ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৮৬ টাকা ৭১ পয়সায়।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রা সৌদি রিয়ালের ক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৭৩ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৫০ পয়সা।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ৩১ পয়সা (ক্রয় ও বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রে) এবং জাপানি ইয়েন কেনা হচ্ছে ০.৭৭ টাকায় ও বিক্রি হচ্ছে ০.৭৬৭ টাকায়।

উল্লেখ্য যে, বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী মুদ্রার এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

/আশিক


আজকের মুদ্রার রেট: জেনে নিন কোন দেশের কত টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ১১:২৯:১৫
আজকের মুদ্রার রেট: জেনে নিন কোন দেশের কত টাকা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল রয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা।

প্রবাসীদের সুবিধার্থে এবং সঠিক হিসাবে লেনদেনের জন্য আজকের (১১ এপ্রিল, ২০২৬) মুদ্রার বিনিময় হার তুলে ধরা হলো।

আজকের বাজার অনুযায়ী, আমেরিকান ডলারের বিনিময় হার ১২২.১৭ টাকা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মান দাঁড়িয়েছে ১৬৪.৮১ টাকায়।

ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর মান আজ ১৪৩.৬২ টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনারের মান বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ ৩৯৭.০১ টাকা।

এছাড়া সৌদি রিয়াল ৩২.৭৩ টাকা এবং দুবাই দেরহাম ৩৩.৪২ টাকায় বিনিময় হচ্ছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার মধ্যে মালয়েশিয়ান রিংগিত ৩০.৯৩ টাকা, সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৩৩ টাকা এবং ওমানি রিয়াল ৩১৮.৯২ টাকা।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের ১ রুপির বিপরীতে আজ বাংলাদেশি ১.৩২ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, তাই লেনদেনের আগে নিকটস্থ ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ থেকে বর্তমান দর যাচাই করে নেওয়া ভালো।

/আশিক


ক্রেতাদের জন্য সুখবর, কমলো স্বর্ণের দর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১১ ০৯:৪৬:১২
ক্রেতাদের জন্য সুখবর, কমলো স্বর্ণের দর
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সত্ত্বেও দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা গেছে। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর এবার স্বর্ণের দামে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে।

বাজুসের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং শনিবার পর্যন্ত একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ বা তেজাবি স্বর্ণের দামে পতন ঘটার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত দরে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ভরিতে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৪৮ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও স্বর্ণের দামের এই পতন মূলত স্থানীয় বাজারের সরবরাহ ও মূল্য সমন্বয়ের ফল। এতে স্বল্পমেয়াদে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও ভবিষ্যতে আবারও মূল্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নির্ধারিত মূল্যই কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা বহাল রয়েছে।

-রফিক


কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২০:০৮:৩৪
কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি
পাম্প জ্যাকের মাধ্যমে তেল উত্তোলন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। ফাইল ছবি: এএফপি

প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান—মানুষের জয়যাত্রা কিংবা পতনের নেপথ্যে একটি তরল পদার্থের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্র্যাকিং বিপ্লব পর্যন্ত, তেলের ইতিহাস মানেই শক্তির পালাবদল।

আদি ইতিহাস: মমি থেকে নৌকা (৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

তেলের ব্যবহার আধুনিক যুগের আবিষ্কার নয়। প্রাচীন ব্যবীলনীয়রা নৌকা পানিরোধক করতে এবং মিশরীয়রা মমি সংরক্ষণে তেলের আদি রূপ ব্যবহার করত। তবে তখন এটি ছিল কেবল একটি সহায়ক উপাদান, বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক নয়।

আধুনিক বিপ্লব: পেনসিলভানিয়া থেকে মোটরগাড়ি (১৮৫৯-১৮৮৫)

১৮৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাণিজ্যিক তেল কূপ আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক তেল শিল্পের যাত্রা শুরু। ১৮৮৫ সালে কার্ল বেঞ্জ যখন প্রথম মোটরগাড়ি আবিষ্কার করলেন, তখন তেলের চাহিদা গগনচুম্বী হয়ে ওঠে। গ্যাসোলিন হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান জ্বালানি।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান ও বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯০৮-১৯১৮)

১৯০৮ সালে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিশাল মজুত আবিষ্কার বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, ট্যাঙ্ক, জাহাজ ও বিমান চালাতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। যার তেল আছে, যুদ্ধজয়ে সেই এগিয়ে।

তেলের ভাগবাটোয়ারা ও সুয়েজ সংকট (১৯৪৪-১৯৫৬)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৪ সালে মার্কিন ও ব্রিটিশরা মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। কিন্তু ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট বুঝিয়ে দেয়, উৎপাদনকারী দেশগুলো (বিশেষ করে মিশর) এখন আর স্রেফ দর্শক নয়, তারা তেলের রুট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে।

তেল যখন মারণাস্ত্র: ১৯৭৩-এর সংকট ও উপসাগরীয় যুদ্ধ

১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো তেলকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে, ফলে তেলের দাম ৪ গুণ বেড়ে যায়। এরপর ১৯৯০-এর উপসাগরীয় যুদ্ধের নেপথ্যেও ছিল কুয়েতের তেল ক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফ্র্যাকিং’ প্রযুক্তির উদ্ভাবন তেলের বাজারে নতুন মেরুকরণ আনে। শিলাস্তর ফুটো করে তেল উত্তোলনের এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারকে পরিণত করে। ২০১৫ সালে এসে আরবের দেশগুলো তেলের দাম কমিয়ে দিয়ে পশ্চিমা এই ফ্র্যাকিং শিল্পকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে, যা বিশ্ববাজারে ধস নামায়।

তেল কেবল একটি জ্বালানি নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তেলের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে, বিশ্বের ক্ষমতার চাবিকাঠিও তার হাতে। ৩০০০ বছর আগের সেই মমি তৈরির তেল আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার যুগেও বিশ্ব অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হিসেবে কাজ করছে।


জ্বালানি সংকটে স্বস্তি: ৫ দিনে ৫ জাহাজ ভর্তি এলএনজি-এলপিজি আসছে দেশে

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১০:২৮:৩৫
জ্বালানি সংকটে স্বস্তি: ৫ দিনে ৫ জাহাজ ভর্তি এলএনজি-এলপিজি আসছে দেশে
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমতে শুরু করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে অন্তত পাঁচটি বড় জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে এই জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টদের দেওয়া তথ্যমতে, এই চালানে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের জন্য বিপুল পরিমাণ এলএনজি এবং চট্টগ্রামের জন্য এলপিজি আসছে।

শিডিউল অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মালয়েশিয়া থেকে ২,৪৭০ টন কার্গো নিয়ে ‘মর্নিং জেলি’ নামক এলপিজি জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘ইএমইআই’ নামক একটি জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) নোঙর করবে।

এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১১ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকে একই পরিমাণ এলএনজি নিয়ে আসবে ‘কংটং’ নামক জাহাজ। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসবে ‘পল’ এবং ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬৪,৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে পৌঁছাবে ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রা’। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম নিশ্চিত করেছেন যে, সবকটি জাহাজ বর্তমানে সমুদ্রপথে রয়েছে এবং এদের আগমনী বার্তা ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

জ্বালানি আমদানির এই তোড়জোড় কেবল গ্যাসেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বুধবার রাতেই মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ এবং হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামক দুটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে অকটেন খালাসের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানান, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে খালাস প্রক্রিয়ায় আছে। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার এই আমদানি প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

/আশিক


স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো যত

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:১৮:৪২
স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো যত
ছবি: সংগৃহীত

টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের সংশোধন দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণায় জানিয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বাজুস এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়েছে। এই সমন্বয়ের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে সকাল ১০টা থেকে।

বাজুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দামে পতন ঘটেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সমগ্র স্বর্ণমূল্যে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২ হাজার ৮৪৮ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৬ টাকা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র একদিন আগেই স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল, যেখানে ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন মূল্যহ্রাস বাজারে একটি দ্রুত সংশোধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নির্ধারিত মূল্যই কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে তা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা বহাল রয়েছে।

-রাফসান


বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ০৮:৫১:৪৭
বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা।

বুধবার সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী দিনগুলোতেও এই হারেই স্বর্ণ বিক্রি হবে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন বড় বৃদ্ধি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নতুন মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায়।

এর আগে সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল, যেখানে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে ২২ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের বৃদ্ধি বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ইতোমধ্যে ৫৩ বার স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২২ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের ঘটনা ঘটে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

-রফিক

পাঠকের মতামত: