আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১১:৫২:৪৭
আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক লেনদেন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতিদিন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা প্রবাসীদের পরিবার এবং ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) লেনদেনের সুবিধার্থে বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান প্রধান দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সরকারি ও বেসরকারি ক্রয়-বিক্রয়ের বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। আজকের বাজার দর অনুযায়ী, আমেরিকান ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ১৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউরোর ক্রয় মূল্য ১৩৯ টাকা ৮৯ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১৪৪ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ব্রিটেনের পাউন্ডের ক্রয় মূল্য ১৬২ টাকা ১৮ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১৬৭ টাকা ২৯ পয়সা দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েন ক্রয় ০.৭৬ টাকা ও বিক্রয় ০.৭৮ টাকা, সিঙ্গাপুর ডলার ক্রয় ৯৫.০৩ টাকা ও বিক্রয় ৯৬.৬৩ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ক্রয় ৩৩.২৫ টাকা ও বিক্রয় ৩৩.৫৪ টাকা এবং সৌদি রিয়ালের ক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৫৩ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ৩২ টাকা ৮৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্রয় ৮৬.৪১ টাকা ও বিক্রয় ৮৮.৪২ টাকা, সুইস ফ্রাঁ ক্রয় ১৫৪.১৭ টাকা ও বিক্রয় ১৫৮.৩৫ টাকা, চাইনিজ ইউয়ান ক্রয় ১৭.৮৭ টাকা ও বিক্রয় ১৮.২৩ টাকা এবং ভারতীয় রুপির ক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৭ পয়সা ও বিক্রয় মূল্য ১ টাকা ২৯ পয়সা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।

/আশিক


গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২০:০৭:৫২
গ্রাহকদের জন্য জরুরি নোটিশ, সাময়িকভাবে মিলবে না একাধিক কার্ড সেবা
ছবি : সংগৃহীত

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, জরুরি সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এবং 'কিউ-ক্যাশ' (Q-Cash) নেটওয়ার্কের বড় ধরনের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রায় ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম, পিওএস (POS), এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের এই সিস্টেম আপগ্রেডেশনের ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের লেনদেনে সাময়িক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত সূত্রে জানা গেছে, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের এই মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মূলত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর লেনদেন ব্যবস্থা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকছে। সাময়িক সেবা বন্ধ থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে অগ্রণী, জনতা, রূপালী, কৃষি ব্যাংক, বেসিক, ব্যাংক এশিয়া, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকসহ প্রায় ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এটি কোনো স্থায়ী বৈশ্বিক সংকট নয় এবং অবকাঠামোগত মাইগ্রেশন শেষ হওয়া মাত্রই নিজ নিজ ব্যাংকের সেবা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বার্ষিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো সেবা আধুনিকায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিয়ে এ ধরনের সূচি নির্ধারণ করে। তবে কাকতালীয়ভাবে একই সময়ে একাধিক ব্যাংকের মাইগ্রেশন পেড়াতে বিষয়টি গ্রাহকদের নজরে এসেছে ও একযোগে ভোগান্তি তৈরি করেছে।

ব্যাংকগুলোকে এসএমএস ও নোটিশের মাধ্যমে গ্রাহকদের আগাম সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই বিভ্রাটের সময় জরুরি লেনদেনের সুবিধার্থে অল্টারনেটিভ চ্যানেল, এমএফএস (MFS) বা অন্যান্য ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি সেবা বন্ধের অজুহাতে পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) হাতিয়ে নেওয়া সাইবার প্রতারকদের বিষয়েও কঠোর সতর্ক বার্তা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৮:২০:১৫
সরকারি ঋণ বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণের প্রভাবে ব্যাংক খাতে বড় ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি হ্রাস, ব্যাংক খাতের নানামুখী ভঙ্গুরতা এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে স্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার কারণে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য ও বৈষম্য আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এর অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণে দেশের সার্বিক অর্থনীতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে বৈশ্বিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৮ শতাংশ থেকে আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে ৩.৪ শতাংশে স্থির হয়েছে। গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও উৎপাদন প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ২.২ শতাংশে, যা করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ে যেকোনো প্রান্তিকের সর্বনিম্ন রেকর্ড। মূলধনি ব্যয় হ্রাস, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থবিরতা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণে এই অর্থনৈতিক সংকোচন দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের নজিরবিহীন খেলাপি ঋণকে দেশের অর্থনীতির প্রধানতম ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; যার মধ্যে ইসলামিক ব্যাংকগুলোতে তা ৫৮.৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ৪৩.২ শতাংশ স্পর্শ করেছে। একই সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার নেমেছে ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে। এছাড়া সরকার রেকর্ড পরিমাণ ব্যাংক ঋণ (৩০.৪ শতাংশ) নেওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪.৫ শতাংশে নেমেছে, যা সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অর্থনৈতিক চাপ এবং জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়ের ফলে টানা চতুর্থ বছরের মতো জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে এক বছরেই নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতিতে কারখানা বন্ধ বা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি নেমেছে মাত্র ২ শতাংশে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে শ্রমবাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন বহু নারী ও প্রান্তিক কর্মী।

বিদ্যমান সংকট সত্ত্বেও ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে গত অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ১৭.৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বিপরীতে নিট বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৫ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশের নিচু ঘরেই থমকে থাকতে পারে এবং দারিদ্র্যের হার আরও বেড়ে ২২.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থাটি অবিলম্বে ব্যাংক খাতের সম্পদের মান পর্যালোচনা, জ্বালানি অবকাঠামো জোরদার এবং করনীতি ও প্রশাসন পৃথক করার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

/আশিক


সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৯:৩৬:৩৪
সপ্তাহজুড়ে ধারাবাহিক ওঠানামার পর স্বর্ণের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী
ছবি : সংগৃহীত

টানা তিন দফায় মূল্য হ্রাসের পর দেশের সার্বিক স্থানীয় বাজারে নতুন করে সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বুধবার থেকে স্বর্ণের ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়। বর্ধিত এই মূল্যের ওপর ভ্যাট যুক্ত হয়ে বর্তমানে বাজারে উচ্চমানের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়।

আজ রোববারও (৪ অক্টোবর) রাজধানীসহ সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে নতুন নির্ধারিত এই সর্বোচ্চ দর বজায় রয়েছে।

সংশোধিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সর্বাধুনিক ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য মানের মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯ি টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দর ১ হাজার ১০৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায়।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাজারে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। তার দুদিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর ফের দাম কমে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। তবে পর পর তিন দফার সমন্বয়ে বাজারে ভালো মানের সোনা ভরিতে সর্বমোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা কমে আসার পরই আবার এই নতুন মূল্য বৃদ্ধি ঘটল।

/আশিক


আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৭:৫১:১৮
আবারও বাড়ল এলপিজির দাম, নতুন দর ঘোষণা করল বিইআরসি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। সংশোধিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করে।

সদ্য ঘোষিত এই সমন্বয়ের আগে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত সরকারি দর ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে সরকারি দর তা থাকলেও দেশের খুচরা বাজারে এতদিন এটি বিক্রি হচ্ছিল প্রায় দুই হাজার টাকার কাছাকাছি মূল্যে।

উল্লেখযোগ্য যে, সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারে ১৩ টাকা কমিয়ে এর দর ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করেছিল। আর তার আগের মাসে ওই একই আয়তনের সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারিত ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা।

/আশিক


ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:৩০:৫৭
ফেডের সিদ্ধান্তের আগে ডলারের সূচকে পতন, স্বর্ণের বাজারে নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রত্যাশার চেয়ে কম কর্মসংস্থান সৃষ্টির চিত্র সামনে আসায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে শুক্রবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার তথ্য প্রকাশের পরপরই মার্কিন ডলারের সূচক সূচকে পতন ঘটে, যা বৈশ্বিক পুঁজিবাজার ও স্বর্ণে বড় প্রভাব ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন মাত্র ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তথ্য প্রকাশের পূর্বে ছিল ২৮ শতাংশ এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে যা প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কমায় ডলারের মান দুর্বল হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পুনর্বহাল বা ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরিয়ে আনতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। যদিও গত ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি সুদের হারের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দর সার্বিকভাবে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল, তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য ধাতুর দামেও ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা গেছে।

এদিকে বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম উঁচুতে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কর্তৃক নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনা কিনতে ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০১ ২৩:৩৫:১৬
এলপিজি আমদানি পর্যাপ্ত, তবু ১৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২৯০০: গ্যাস গেল কোথায়?

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানিতে দৃশ্যত কোনো ঘাটতি নেই। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, টানা দুই মাসেই চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি দেশে এসেছে। অথচ খুচরা বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকায়। অনেক দোকানে আবার ক্রেতাকে বলা হচ্ছে, সিলিন্ডারই নেই।

আমদানি স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে এমন পরিস্থিতি কেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসছে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মজুত, অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা এবং আসন্ন মূল্য ঘোষণাকে ঘিরে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা। তবে এর দায় কার, তা নিয়ে অপারেটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরের দিকে আঙুল তুলছেন।

দুই মাসে ৩ লাখ ১৩ হাজার টন আমদানি, তবু সংকট কেন?

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টন। অর্থাৎ দুই মাসে মোট প্রায় তিন লাখ ১৩ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় আমদানি ঘাটতির কারণে বাজারে বর্তমান সংকট হওয়ার কথা নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিইআরসি সাধারণত প্রতি মাসের ২ তারিখে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম ঘোষণার ঠিক আগে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী মাসে দাম বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশা থেকে কোনো পর্যায়ে সিলিন্ডার আটকে রাখা হচ্ছে কি না।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমানও বলেছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দুই মাসেই পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকার কথা নয়।

তার মতে, মাসের শেষ দিকে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মনে করতে পারেন, সামনে দাম বাড়লে বর্তমান মজুত পরে বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে। যদিও পরবর্তী মাসে দাম বাড়বে নাকি কমবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (Saudi CP), জাহাজ ভাড়াসহ কয়েকটি উপাদানের ওপর দেশের এলপিজির মূল্য নির্ভর করে।

১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২,৯০০ টাকা

বাজারের বাস্তবতা অবশ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক দূরে। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা দুই হাজার ৭০০, দুই হাজার ৮০০ এমনকি দুই হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাকে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশি দাম দিয়েও সব জায়গায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো বিক্রেতা দোকান বন্ধ রাখছেন। আবার কোনো দোকানে প্রথমে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলা হলেও বেশি দাম দিতে রাজি হলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা সোনিয়া পারভীন জানান, আগে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে যে সিলিন্ডার কেনা যেত, এখন সেটির জন্য দুই হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, দোকানে প্রথমে সিলিন্ডার নেই বলা হলেও বেশি দাম দিলে তা পাওয়া যাচ্ছে।

কলাবাগানের বাসিন্দা মো. আমিনুরের অভিজ্ঞতাও একই। বাসাবাড়িতে নিয়মিত পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে। এখন রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবারের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারাও কিনছেন চড়া দামে

অস্বাভাবিক দামের জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

হাতিরপুলের এক খুচরা বিক্রেতা ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ৯০০ টাকা দাবি করে বলেন, তারাই দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে কিছু লাভ রেখে বিক্রি করতে গেলে দুই হাজার ৯০০ টাকা নিতে হচ্ছে।

ধানমন্ডির আরেক খুচরা ব্যবসায়ীর দাবি, মূল সমস্যা ডিলার পর্যায়ে। ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডারই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকান বন্ধ রেখেও কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে।

এখানেই তৈরি হয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আমদানি যদি পর্যাপ্ত হয় এবং অপারেটর পর্যায়েও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সিলিন্ডারের দাম এতটা বেড়ে যাচ্ছে কীভাবে?

অপারেটরদের দাবি, সমস্যা খুচরা বাজারে

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি এবং ডেল্টা এলপি গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক অবশ্য সংকটের জন্য খুচরা পর্যায়কে দায়ী করেছেন।

তার দাবি, এলপিজি আমদানি কমেনি। খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ বাজারে সমস্যা তৈরি করছেন। প্রশাসন কয়েকদিন কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলপিজি অপারেটর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ডিলার পর্যায়েই বেশি দাম দিচ্ছেন। ফলে সংকটের উৎস নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।

নতুন দাম ঘোষণার আগে মজুতের আশঙ্কা

বিইআরসির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আরেকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে। প্রতি মাসের ২ তারিখে নতুন মূল্য ঘোষণার আগে বাজারের কোনো কোনো অংশে সিলিন্ডার ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

পরবর্তী মূল্য যদি বাড়ে, তাহলে বর্তমান মজুত নতুন ও বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করা সম্ভব। ফলে মূল্য ঘোষণার ঠিক আগের কয়েকদিন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকে।

তবে বিইআরসি বলছে, নতুন দাম বাড়বে না কমবে, সেটি আগেভাগে নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি সিপি, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য মূল্য উপাদানের ভিত্তিতে নতুন দাম নির্ধারিত হয়।

বিইআরসি বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। এর আগে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য গঠিত কমিটিকেও আবার সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বাজার তদারকি করতে বলা হয়েছে।

ক্যাবের প্রশ্ন, ব্যবস্থা কোথায়?

ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা অবশ্য শুধু বাজার মনিটরিংয়ের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির দায় বিইআরসি এড়াতে পারে না।

তার বক্তব্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে যারা অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।

পাইপলাইনে গ্যাস নেই, এলপিজিতেও স্বস্তি নেই

বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ পরিবারের ওপর। রাজধানীর বহু এলাকায় পাইপলাইনে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে রান্নার জন্য এলপিজি এখন অনেক পরিবারের বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য জ্বালানি।

এমন পরিস্থিতিতে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত ব্যয় করতে হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বড় ধাক্কা লাগে।

বিশেষ করে খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে রান্নার জ্বালানির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

আমদানি আছে, তাহলে গ্যাস কোথায়?

এলপিজি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই শুধু ‘সংকট’ শব্দটি দিয়ে সমস্যার ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ আমদানির পরিসংখ্যান বলছে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে। অপারেটররাও বলছেন আমদানিতে সমস্যা নেই। অথচ খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তারা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না অথবা অনেক বেশি দামে কিনছেন। অন্যদিকে ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়েও সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ফলে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আমদানি থেকে অপারেটর, ডিলার, পরিবেশক হয়ে খুচরা বাজার পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলের ঠিক কোন পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকার পরও যদি ভোক্তার কাছে তা না পৌঁছায়, তাহলে শুধু নতুন মূল্য ঘোষণা কিংবা সাময়িক অভিযান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে মূল্য ও মজুতের তথ্য নজরদারির আওতায় আনা এবং নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাকেই।


জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ২১:৫২:০৯
জ্বালানি তেলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি: অক্টোবর মাসের দর ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

অক্টোবর (২০২৬) মাসের জন্য জ্বালানি তেলের বিদ্যমান মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত দর অনুযায়ীই আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন বিক্রি করা হবে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী অক্টোবর মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি বহাল থাকবে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগামী মাসজুড়েই সর্বশেষ পুনর্নির্ধারিত এই মূল্যহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দর ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছিল সরকার। নতুন মাসে সেই বর্ধিত দরই আপাতত বলবৎ থাকছে।

/আশিক


ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৮:৩৭:৩২
ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীদের চাপ, বাণিজ্যমন্ত্রীর অবস্থান পরিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এলেও কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করেই একটি যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেটে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় সরাসরি তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের দৈনিক খরচে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়িক মহল থেকে নতুন করে তেলের দাম বাড়ানোর জোরালো আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের ভাবনার কথা জানতে চাওয়া হলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মূল্যবৃদ্ধির অনুরোধ পেলেও সরকার কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেবে না; বরং সামগ্রিক বাজারের অবস্থা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জনগণের সুবিধা বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একই অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জোর দেন যে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর নেতিবাচক প্রভাব যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এর আগে সকালে তিনি সিলেট সদরের কানিশাইল এলাকায় ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সুরমা নদীর ডানতীরের প্রতিরক্ষা কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।

/আশিক


ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৮:২১:৫৭
ডলারের দাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নতুন টানাপোড়েন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এমন শঙ্কার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়ে চার হাজার ১৯৫ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছালেও, সেপ্টেম্বর মাসের সামগ্রিক হিসেবে এর দাম ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উঁচুতে রাখার অবস্থান বজায় রাখবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এতে মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারের মাধ্যমে স্বর্ণসহ অন্যান্য ধাতু কেনা বেশ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়; কারণ স্বর্ণে সরাসরি কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট মুনাফা পাওয়া যায় না। আগামী দিনগুলোতে মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য ও ফেডের পরবর্তী নীতি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপথ। সার্বিক ধাতব বাজারে রূপার দামেও পতন দেখা গেছে, তবে বিপরীতে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম কিছুটা বৃদ্ধির মুখ দেখেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: