পোড়া মরদেহ, কান্না আর ধ্বংস, আবারও রক্তাক্ত গাজা

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক দুটি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রথম হামলাটি হয় গাজা সিটির ফাহমি আল-জারগাওয়ি স্কুলে, যেখানে বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। আগুনে পুড়ে যাওয়া দুটি শ্রেণিকক্ষে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারান। গাজার সিভিল ডিফেন্স বাহিনী জানিয়েছে, মরদেহগুলোর অবস্থা এতটাই করুণ যে অনেককে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, স্কুল ভবনটি হামাস ও ইসলামিক জিহাদের কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা হচ্ছিল। তারা হামাসের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণকে 'মানবঢাল' হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে।
অপরদিকে, গাজার উত্তরের জাবালিয়ায় একটি বাড়িতে চালানো আরেক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৯ জন। এই হামলা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি ইসরায়েল।
এই হামলাগুলো গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সেনা অভিযানের ধারাবাহিক অংশ। আইডিএফ-এর তথ্যমতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা গাজাজুড়ে ২০০টিরও বেশি স্থানে অভিযান চালিয়েছে।
সম্প্রতি একাধিক ভয়াবহ হামলার নজির পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার গাজায় এক নারী চিকিৎসকের বাড়িতে চালানো হামলায় তার ৯ সন্তান নিহত হন, যাদের বয়স কয়েক মাস থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। একই ঘটনায় আহত হন তার স্বামী ও একমাত্র জীবিত পুত্র।
শনিবার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের দুই কর্মী নিহত হন, যা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি অভিযানে অন্তত ৫৩ হাজার ৯৩৯ জন নিহত ও ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৭ জন আহত হয়েছেন। যদিও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছে, কারণ বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের মানবিক মাত্রাকে আরও ঘনীভূত করেছে। বেসামরিক হতাহতের এই চিত্র আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষত শিশু ও মানবিক কর্মীদের হতাহতের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্ধিত সহিংসতা ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যু সংখ্যা উভয়ই মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী মানবিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
-ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক
হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক বাকযুদ্ধের জেরে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই অবস্থান তুলে ধরেন। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিসহ আঞ্চলিক স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরান তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এ ধরনের বক্তব্য সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়ায় এবং তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তেহরান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে কোনো প্রশ্ন বা অস্পষ্টতা দূর করতে তারা আলোচনায় প্রস্তুত। তবে সামরিক হামলা হলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা ও সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় রয়েছে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
-রাফসান
মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
ইরানের প্রথম বিশেষায়িত ভূস্থির উপগ্রহ ‘জাম-এ-জাম ১’— যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইরান ডিবিএস’ নামে নিবন্ধিত— Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি)-এর মালিকানাধীন, কাজাখস্তানের Baikonur Cosmodrome থেকে সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ উপগ্রহটি একটি Proton-M উৎক্ষেপণ যানের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়, একই সঙ্গে একটি রুশ আবহাওয়া উপগ্রহও উৎক্ষেপণ করা হয়।
এ উৎক্ষেপণ আইআরআইবির কারিগরি অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ইরানের মহাকাশভিত্তিক সম্প্রচার সক্ষমতা উন্নয়নে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘জাম-এ-জাম ১’ হলো পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারঅ্যাকটিভ রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচার প্রযুক্তি বাস্তবায়নের প্রথম কারিগরি ও কার্যকরী ধাপ। উপগ্রহটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি স্থলভিত্তিক সম্প্রচার কেন্দ্রগুলোতে ইন্টারঅ্যাকটিভ অডিও ও ভিডিও সংকেত প্রেরণ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইন্টারঅ্যাকটিভ গণমাধ্যম সেবার ভিত্তি স্থাপন করবে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, উপগ্রহটি তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ৩৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে তার চূড়ান্ত কক্ষপথে স্থানান্তর ও স্থিতিশীল করা হবে। উপগ্রহের সংকেত গ্রহণের জন্য পেশাদার ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে; সাধারণ গৃহস্থালী রিসিভারের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করা যাবে না। এই প্রকল্পটি আইআরআইবি’র জন্য ইন্টারঅ্যাকটিভ সম্প্রচার প্রযুক্তি সুসংহত করার প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কাঠামো নিশ্চিত করছে এবং মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোতে সংস্থাটির কারিগরি স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায় সূচনা করছে।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি
নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অভিনন্দন জানান। চিঠিতে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এ বিজয়ে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক সম্মান এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে—এমন প্রত্যাশার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিসমূহ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য উচ্চমানের আমেরিকান সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিঠির শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়। এর আগে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয় ‘বাংলাদেশের জনগণকে সফল নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা। যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ।’
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিশ্বের অনেক নেতা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিনন্দন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথের পর প্রথম ভাষণে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি দমন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই উষ্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
/আশিক
ভারতীয় ভিসা নিয়ে বড় সুখবর
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় চালু হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু থাকা ভিসা সেবাকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে মেডিক্যাল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা কার্যকর থাকলেও পর্যটনসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ক্যাটাগরি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিসা প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়। মেডিক্যাল ভিসা ছাড়া অধিকাংশ ভিসা বিভাগ বন্ধ থাকায় ভ্রমণ, ব্যবসা ও শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর ভিসা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দুই দেশের নাগরিক ও পর্যবেক্ষকরা।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণই এই সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক রাখবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।
-রাফসান
শনিবার কি ইরানে হামলা হচ্ছে? পেন্টাগনের সেনা সরানোর খবরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো হোয়াইট হাউসে চলমান এবং পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং এর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে।
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া পেন্টাগনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যদিও সেনা কিংবা কর্মীকে সরানো হলেই যে হামলা নিশ্চিতভাবে হবে, বিষয়টি তেমন নয়।
বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অনেক কারণ ও যুক্তি রয়েছে, তবে কূটনীতিই সবসময় প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ। তবে সম্ভাব্য এই হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে হবে কি না; সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। লেভিট আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছিল একটি সফল অভিযান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ও এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন সব মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থানে থাকবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই দেশটির সীমানার কাছাকাছি বিমান ও নৌ সামরিক সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, এফ-৩৫ লাইটনিং টু, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিশাল রণপ্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
/আশিক
পবিত্র আল-আকসার ইমাম গ্রেপ্তার: রমজানের শুরুতেই জেরুজালেমে চরম উত্তেজনা
পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মুহাম্মদ আলী আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদ চত্বরের ভেতর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ইমামকে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। জেরুজালেমের ওল্ড সিটি ও আল-আকসা চত্বরকে কেন্দ্র করে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ওই এলাকায় অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি সমবেত হন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি পুলিশ পুরো মসজিদ এলাকা ঘিরে রেখেছিল এবং নানা অজুহাতে অনেক তরুণ ফিলিস্তিনিকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনের ইমামতিতে নামাজের সময় মসজিদের প্রাঙ্গণ পূর্ণ থাকলেও কড়া পাহারার মাধ্যমে মুসলিমদের ইবাদতে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আল-আকসার ইমাম ও খতিবদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের পাহারায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ চত্বরে প্রবেশের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাছাড়া করার মতো পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রমজানের পবিত্রতা ও ইবাদতের পরিবেশে এমন কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চললেও রণক্ষেত্রে এক বিরল ও শক্তিমত্তার মহড়া দেখাল ইরান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। কাকতালীয়ভাবে ঠিক একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানি দূতের বাসভবনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এক পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন। বিশ্ববাজারে তেলের মোট সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয় বিধায় ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূর্বনির্ধারিত সামরিক মহড়ার স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য এই প্রণালি বন্ধ রাখা হয়। মহড়া চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সরাসরি তাজা ক্ষেপণাস্ত্র বা লাইভ মিসাইল নিক্ষেপ করে তাদের সক্ষমতার জানান দেয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, আশির দশকের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ বন্ধ করার মতো কঠোর ও দুঃসাহসী ঘোষণা দিল ইরান। মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতেই তেহরান এই কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, বিশ্বের শক্তিশালী সেনাবাহিনীগুলোও মাঝে মাঝে এমন চরম আঘাত বা ‘চড়’ খেতে পারে যে, তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে খামেনি আরও যোগ করেন, বিশাল যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বড় বিপদ হলো সেই সব আধুনিক অস্ত্র, যা নিমেষেই জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর এই মন্তব্যকে সরাসরি মার্কিন রণতরীগুলোর প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশারদগণ।
তবে রণক্ষেত্রের এই মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে কিছুটা নমনীয় ও আশাবাদী সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে। জেনেভায় জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর জন্য এখন একটি নতুন সুযোগ বা ‘জানালা’ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক মোড় নিয়েছে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা ইরান এখনো মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক বিশাল সামরিক বহর তৈরি হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হলেও আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এখন বিশ্ববাসীর নজর আগামী দুই সপ্তাহের দিকে, যখন ইরান এই অচলাবস্থা নিরসনে তাদের বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
/আশিক
সূত্র: এপি।
ইরানে মার্কিন হামলা হলে পাশে থাকবে তালেবান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ইরানকে সহযোগিতার এক প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তালেবান। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তবে আফগান জনগণ ইরানের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা ও সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে এই সহযোগিতার বিষয়টি সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো কি না, তা নিয়ে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মুজাহিদ স্পষ্ট করেছেন যে, আফগানদের সহমর্মিতা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে তালেবান যোদ্ধারা আগ বাড়িয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হবে।
সাক্ষাৎকারে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও উল্লেখ করেন যে, তালেবান সরকার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার পক্ষপাতি এবং তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় কোনো যুদ্ধ দেখতে চায় না। বরং ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিরসনে তারা কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তালেবানের মতে, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে মুজাহিদ বলেন, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে ইরান অত্যন্ত সফলভাবে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে বলে তালেবান মনে করে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো ইরানের ওপর কোনো বহিঃশত্রুর হামলা হয়, তবে ইরান আগের মতোই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করতে সমর্থ হবে। তালেবানের এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রতি এক ধরনের নৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে তালেবান ও ইরানের মধ্যে চরম মতাদর্শগত বিরোধ ও শত্রুতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ইরানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের মানবেতর জীবন ও তাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তালেবানের এই নমনীয় অবস্থান ও সহযোগিতার ইঙ্গিত প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বাড়তে থাকা নতুন ও উন্নত সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
/আশিক
বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে তারেক রহমান
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজকীয় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দেড় যুগের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গঠিত হওয়া এই নতুন সরকারের অভিষেককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের শপথগ্রহণের খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান’। রয়টার্স এই ঘটনাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এই পটপরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে আমেরিকান বার্তা সংস্থা এপি তাদের শিরোনামে উল্লেখ করেছে, ‘নির্বাচনে তাঁর দলের নিরঙ্কুশ জয়ের পর শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী’। এপি তাদের প্রতিবেদনে একটি বিশেষ তথ্যের ওপর আলোকপাত করেছে; তারা লিখেছে যে তারেক রহমান গত ৩৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা সাড়ে তিন দশক ধরে তাঁর মা খালেদা জিয়া অথবা তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে তাদের শিরোনামে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের খবরটি প্রচারের পাশাপাশি বিএনপির এই বিপুল বিজয়কে একটি ‘সহজ জয়’ বলে অভিহিত করেছে। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম আলজাজিরা এবং পাকিস্তানের প্রধান ইংরেজি দৈনিক ডন তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছে। ডন তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী তারেক রহমান’। ডন আরও উল্লেখ করেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মা-বাবার রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে থাকার পর এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান অবশেষে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদে আসীন হলেন। এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে তিনি পারিবারিক ছায়া কাটিয়ে একজন একক শক্তিশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের এই ক্ষমতার রদবদল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক দ্যা হিন্দু এবং টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি তারেক রহমানের শপথ নেওয়ার খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে। এনডিটিভি এই বিজয়কে বিএনপির ‘ভূমিধস জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে লিখেছে, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূলত ‘এক নতুন যুগের সূচনা’। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা এখন বিশ্ব কূটনীতির অন্যতম আগ্রহের বিষয়। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বের প্রথম সারির সব সংবাদমাধ্যমই তারেক রহমানের শপথ গ্রহণকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন ধাপ হিসেবে চিত্রিত করেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আজকের টাকার রেট কত? দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- যশোরে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙালো ছাত্রলীগ
- আজ শনিবার; রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে এমন আচরণ কাম্য নয়: রুমিন ফারহানা
- জেনে নিন রাজধানীতে আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ রাজধানীতে কোথায় কী কর্মসূচি: জেনে নিন সকালে বের হওয়ার আগে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দর কত? জেনে নিন বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা
- একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজানের তৃতীয় দিনের ইফতার ও নামাজের সময়সূচি
- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?
- আবারও স্বর্ণের বাজারে বড় উত্থান
- রমজানে অর্ধশত পরিবারের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- মুরাদনগরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
- ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের
- শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু
- ২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির সড়ক নির্দেশনা, কোন পথ এড়াবেন
- হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
- "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার: ২০ ফেব্রুয়ারি
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ যেসব মার্কেট বন্ধ
- এইচএসসি ২০২৬: ফরম পূরণের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও নীতিমালা প্রকাশ
- শুক্রবারের পূর্ণ নামাজ সূচি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- রাজধানীতে আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- রাজধানীতে আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- বাংলাদেশের ম্যাচসহ আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন
- এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান
- ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা
- সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
- স্বর্ণের বাজারে টানা উত্থান: বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর
- ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে? সতেজ থাকার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন
- মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
- ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম
- পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
- ১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- রোজার প্রথম দিনেই মুরগি ও সবজির দামে লাগামহীন রাজধানীর বাজার
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ইফতারে যেসব ভুলের কারণে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বাড়ে
- প্রথম রোজার ইফতারে চমক! ঘরেই তৈরি করুন মুচমুচে ও সুস্বাদু চিকেন পাকোড়া
- দুপুরের নির্জনতা ভেঙে হঠাৎ কেঁপে উঠল সিলেট: বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
- ভারতীয় ভিসা নিয়ে বড় সুখবর
- জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা নৈতিক দায়িত্ব: ফখরুল
- স্বাধীনতার পর প্রথম মন্ত্রী: কুমিল্লা বরুড়াবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে চান জাকারিয়া তাহের
- ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার
- রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি, কতদিন বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ?
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ বিকেলেই শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- আকাশছোঁয়া স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি: আজ থেকেই দাম কমছে








