গ্যাস ও গবেষণায় বড় সিদ্ধান্ত: ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানি অনুমোদন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৬ ২১:৫৪:৫৩
গ্যাস ও গবেষণায় বড় সিদ্ধান্ত: ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানি অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপদ গ্যাস মজুত ও সমুদ্র গবেষণায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা এবং সামুদ্রিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বুধবার (৬ আগস্ট) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির ২৪তম সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন (গ্যাসোলিন ৯৫ আনলেডেড) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পর্ব-২)’-এর আওতায় কয়েকটি সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—একটি ছোট গবেষণা জাহাজ, দুটি স্পিডবোট, একটি পন্টুন জেটি ও গ্যাংওয়ে। এসব সরঞ্জাম খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (DPM) কেনা হবে।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ভারতের অংশে রোপওয়ে নির্মাণে ডিপিএম পদ্ধতিতে প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির নাম—‘কনভারসন অব ওয়েট প্রসেস টু ড্রাই প্রসেস অব সিসিসিএল’।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও সভায় অনুমোদন পেয়েছে। সেখানে ২০০৮ সালের সরকারি ক্রয় বিধিমালার ৮৩(১)(ক) ধারা অনুযায়ী ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে এই চাল সংগ্রহ করা হবে।

সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, গবেষণা ও খাদ্য মজুত পরিস্থিতি জোরদারে এ সিদ্ধান্তগুলোকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


পতনের পরই বিশাল লাফ: রেকর্ড ভেঙে এবার কত হলো সোনার ভরি?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১১:২৮:৪৩
পতনের পরই বিশাল লাফ: রেকর্ড ভেঙে এবার কত হলো সোনার ভরি?

দেশের বাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে সোনার দামে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবী সোনার (Pure Gold) মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সব ধরনের সোনার দাম এক লাফে বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারের সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এক ধাক্কায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন ভ্যাটসহ এই প্রিমিয়াম মানের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের রেকর্ড ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা গুণতে হবে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই চড়া দাম দেশব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুসের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ বড় একটা ধাক্কা, কারণ এর ঠিক আগের দুই দিনই দেশের বাজারে সোনার দামে বড় দরপতন হয়েছিল। গত ২৪ এবং ২৫ জুনের টানা দুই দফায় ভালো মানের সোনার দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল, যার ফলে ভরিপ্রতি মোট ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা সাশ্রয় পাচ্ছিলেন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতারা। কিন্তু সেই স্বস্তির মেয়াদ ৪৮ ঘণ্টাও পার হতে পারল না। দুই দফার সেই পুরো পতনকে এক দিনেই মুছে দিয়ে আবারও চড়া মূল্যের রেকর্ড ধারায় ফিরল মূল্যবান এই ধাতু।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট ছাড়াও অন্যান্য মানের সোনার দামও সমানতালে বেড়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ৪ হাজার ৪৯০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায়। সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রুপার গহনা কেনার ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্ধারিত মূল্যের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রেখে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও যথাক্রমে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ৩,৭৯১ টাকা এবং ২,৮৫৮ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।


বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ০৮:৪১:৩৫
বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর কমার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস নতুন করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। সবশেষ সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার, ২৭ জুন, দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নির্ধারিত দরেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, স্থানীয় চাহিদা, সরবরাহ, মুদ্রা বিনিময় হার এবং দেশের বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দরের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত এই মূল্য সমন্বয় করা হয়।

এর আগে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বড় অঙ্কে কমানো হয়েছিল। বাজুসের ধারাবাহিক দর সমন্বয়ের ফলে কয়েক দফায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমে আসে। এতে দীর্ঘদিন ধরে গহনা কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, দাম কমার সময় তারা সাধারণত বেশি আগ্রহী হন। তবে সোনার দাম দ্রুত ওঠানামা করায় কেনার আগে বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ দর যাচাই করা জরুরি।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজার ছিল বেশ অস্থির। এখন পর্যন্ত ৮১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪০ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ঘন ঘন দর পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই বাজারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।

ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস ঘোষিত দরে সাধারণত স্বর্ণের মূল দাম নির্ধারিত হয়। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন, কারিগরি মান, মজুরি এবং পাথর থাকলে তার মূল্য আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে। তাই গহনা কেনার সময় ক্যারেট, ওজন, মজুরি ও মোট বিল ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী, স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকলে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ক্রেতাদের বিল নেওয়ার সময় ভ্যাট, মজুরি ও অন্যান্য খরচ পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

-রাফসান


সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৯:৪৫:৪৫
সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে কয়েক দফা দরপতনের পর স্বর্ণের দাম এখন বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দাম কমার এই সুযোগ কাজে লাগাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেকে আগে থেকেই গহনা কেনার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের দাম বেশি থাকায় তারা অপেক্ষা করছিলেন নতুন কোনো মূল্যসমন্বয়ের জন্য। বাজেটের পর কয়েক দফায় দাম কমায় সেই অপেক্ষা শেষ হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের একটি বড় অংশ বলছেন, বিয়ের গহনা, পারিবারিক প্রয়োজন বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তারা স্বর্ণ কিনতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন। এখন ভরিতে কয়েক দফা কমে দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে আসায় তারা দোকানে আসছেন।

রাজধানীর একটি জুয়েলারি দোকানে গহনা কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে স্বর্ণের দাম অনেক বেশি ছিল। সে কারণে কেনাকাটা স্থগিত ছিল। এখন দাম কিছুটা কমে আসায় ছুটির দিনটিকেই গহনা কেনার জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস বৃহস্পতিবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে। নতুন দরে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। শুক্রবারও একই দামে দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে সোনা বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই দাম কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে একই নির্ধারিত দরে স্বর্ণ বিক্রি হওয়ার কথা।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে অলঙ্কারের ডিজাইন ও কারিগরি কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এ ছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথর বাদ দিয়ে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। ফলে পুরোনো গহনা বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে হিসাব বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণের দাম কমলে সাধারণত ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে। বিশেষ করে বিয়ে, উপহার, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে অনেকে দাম কমার সময় গহনা কেনাকে সুবিধাজনক মনে করেন।

তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজার, স্থানীয় চাহিদা, মুদ্রা বিনিময় হার এবং বিশুদ্ধ স্বর্ণের দরের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। তাই দাম আরও কমবে নাকি আবার বাড়বে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

তাদের পরামর্শ, গহনা কেনার আগে অবশ্যই বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ দর যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে ক্যারেট, ওজন, মজুরি, ভ্যাট এবং পাথর থাকলে তার মূল্য আলাদাভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। এতে কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ক্রেতা প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

সব মিলিয়ে, বছরের সর্বনিম্ন দামের এই সময়ে দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন করে ক্রেতা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দাম কমার সুযোগে রাজধানীর জুয়েলারি দোকানগুলোতে ভিড় বাড়লেও পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ের দিকে এখন নজর রাখছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ী-দুই পক্ষই।

-রাফসান


আবার কমল স্বর্ণের দাম, আজ কত টাকায় মিলছে এক ভরি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১০:০৪:৫৫
আবার কমল স্বর্ণের দাম, আজ কত টাকায় মিলছে এক ভরি
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও এসেছে দামের পরিবর্তন। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার (২৬ জুন) দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কমানো দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ২১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় মূল্যহ্রাসের কারণে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পাকা বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দর কার্যকর থাকবে।

এর আগে ২৫ জুনের আগের সমন্বয়ে (কার্যকর ছিল ২৩ জুনের নির্ধারিত দর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৮ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে প্রতিটি ক্যারেটেই দাম কমেছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজুস নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করে থাকে। ফলে দেশের বাজারেও প্রায়ই স্বর্ণের দামে পরিবর্তন দেখা যায়।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৮১ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বৃদ্ধি, ৪০ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। ঘন ঘন এই পরিবর্তন দেশের স্বর্ণবাজারে আন্তর্জাতিক দামের প্রভাব এবং বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ২০:২৫:৪০
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম কমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে ডলারের মান শক্তিশালী হচ্ছে। আর ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফের ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮২ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগামী আগস্ট মাসে ডেলিভারির চুক্তিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের বাজারমূল্যও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ফলে প্রতি আউন্স গোল্ড ফিউচারসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯৭ দশমিক ৬০ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এই দরপতনের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেডের কড়া মুদ্রানীতিগত অবস্থান এবং এর ধারাবাহিকতায় সুদের হার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনাই মূলত স্বর্ণের এই দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। গত সপ্তাহে ফেডের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সামগ্রিকভাবে ৬ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। সবশেষ বুধবার (২৪ জুন) এক ঐতিহাসিক পতনের মুখে গত বছরের নভেম্বরের পর এই প্রথম স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর আন্তর্জাতিক বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ২৬ ডলারে নেমেছে। এর পাশাপাশি প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৫৭১ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের বাজার দর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ লাখ ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে বিশ্ববাজারের এই দরপতনের আবহের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মানদণ্ডের মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯property ৪৭৪ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

/আশিক


স্বস্তির খবর, সোনার দামে বড় পতন ঘোষণা বাজুসের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১০:২৯:৩৭
স্বস্তির খবর, সোনার দামে বড় পতন ঘোষণা বাজুসের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পাকাসোনার দাম কমে যাওয়ায় সব ধরনের স্বর্ণের অলঙ্কারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।

বাজুসের ঘোষণার পর বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের অলঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়।

নতুন নির্ধারিত দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকায়। একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

এর মাত্র দুই দিন আগে, অর্থাৎ ২২ জুন বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশের স্বর্ণবাজারে পড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সময়ে সময়েই বাজুস মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন মূল্যই কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারিগরি কাজ এবং ডিজাইনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে, যা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে।

সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। ক্রেতাদের কেনাকাটার সময় মূল্য তালিকা দেখে বিল গ্রহণ করার পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


সঞ্চয়পত্র নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা, সব ব্যাংককে কড়া সতর্কবার্তা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ২০:০৭:০৪
সঞ্চয়পত্র নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা, সব ব্যাংককে কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্র বিক্রির বৈধ ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের বিভিন্ন অজুহাতে বিনিয়োগে বাধা বা নিরুৎসাহিত করার অভিযোগে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়পত্র ক্রয় প্রক্রিয়া ও এ সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ডিএমডি) থেকে জারি করা এক বিশেষ সার্কুলারে এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে পাঠানো ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং- ০৯/২০২৬-এর মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, সম্প্রতি বিভিন্ন স্তরের গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, তফসিলি ব্যাংকগুলো সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে নানা প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত করছে বা হয়রানি করছে।

সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭ এর অনুচ্ছেদ নম্বর-৩-এ বর্ণিত বিধিমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্রের অনুমোদিত ইস্যু অফিস হিসেবে প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা এবং গ্রাহক সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রতিটি শাখায় সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম নিয়মিত ও কঠোরভাবে তদারকি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে গ্রাহকদের যেকোনো তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি প্রতিটি শাখার সহজ ও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করার এবং প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিএমডি’র পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্র সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

/আশিক


বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ‘সবুজ পাতায়’ যুক্ত হচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্প

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৯:৫২:৫২
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ‘সবুজ পাতায়’ যুক্ত হচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্প
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে প্রস্তাবিত ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই বা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদের টেবিল উত্থাপিত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান ও অন্যতম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি মেগা প্রকল্প। এই সেতুটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এখন সরকারের সেতু বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে একটি বিশদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার কাজ চলছে, যার জন্য বর্তমানে যোগ্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংসদে বাজেট ও উন্নয়ন বরাদ্দ সংক্রান্ত আলোচনায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, দেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এই মূল সেতুটি সরাসরি নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো তহবিল বরাদ্দ না থাকলেও, এর প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজেট থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পুরোপুরি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পটিকে জাতীয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় (যা সবুজ পাতা নামে পরিচিত) অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং লাইফলাইন হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই সেতু নির্মাণের পরবর্তী মূল পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক ও শীর্ষ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


করের নতুন নিয়ম ১ জুলাই থেকে, যেসব ফিতে বাড়ছে ২০ শতাংশ টিডিএস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:৪৩:২৫
করের নতুন নিয়ম ১ জুলাই থেকে, যেসব ফিতে বাড়ছে ২০ শতাংশ টিডিএস
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক খাতের বিপরীতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর বা টিডিএস (Tax Deducted at Source) কর্তনের নিয়মে বড় ধরনের সংশোধন আসছে। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই আয়কর আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী এই পরিমার্জিত উৎসে করের নতুন হার কার্যকর করা হবে। নতুন এই নির্দেশনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বড় পরিবর্তনটি এসেছে মিটিং ফি, ট্রেনিং ফি এবং বিভিন্ন সেমিনারের সম্মানী বাবদ পাওয়া অর্থের ওপর, যেখানে এখন থেকে সরাসরি ২০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কেটে রাখা হবে।

ফলে বিভিন্ন কোম্পানির বোর্ড সভা, সেমিনার, কর্মশালা কিংবা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাবেন, কারণ তাদের বিলের বড় একটি অংশ কর হিসেবে কেটে নেওয়া হবে।

পরামর্শক, উপদেষ্টা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য নতুন কর কাঠামোতে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি এককভাবে উপদেষ্টা বা পরামর্শক ফি এবং পেশাদার কোনো সেবা প্রদান করেন, তবে তার ক্ষেত্রে উৎসে করের হার হবে ১৫ শতাংশ। কিন্তু কোনো নিবন্ধিত কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক সত্তা যদি একই ধরনের সেবা দেয়, তবে সেটির জন্য করের হার অর্ধেক বা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে কারিগরি সেবা বা কারিগরি সহায়তা ফি গ্রহণকারী ব্যক্তি হলে তাকে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে, আর সেবা প্রদানকারী পক্ষ যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি হয়, তবে করের হার হবে ১০ শতাংশ।

এছাড়া ক্যাটারিং, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া, জনসংযোগ, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা পরিচালনা, কুরিয়ার সার্ভিস, প্যাকিং ও শিফটিং, রিকভারি এজেন্সি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এজেন্সির মতো সেবামূলক খাতের মোট বিলের ওপর ৮ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করা হবে। এর পাশাপাশি ইভেন্টিং কমিশনের ওপর করের হার পুনর্নির্ধারণ করে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে করের হারে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে অনুযায়ী ক্লিনিং, নিরাপত্তা ও জনবল সরবরাহকারী সেবার কমিশনের ওপর ১০ শতাংশ এবং সামগ্রিক বা মোট বিলের ওপর ১ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের সেবা বিল এবং ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির বিলের ওপর উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ। এছাড়া মোটর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ এবং ব্যক্তিগত কনটেইনার পোর্ট বা ডকইয়ার্ডের মোট বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে কর কাটা হবে এবং শিপিং এজেন্সির কমিশনের ওপর এই করের হার হবে ১০ শতাংশ।

নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সংশোধিত উৎসে করের হার মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই নতুন নিয়ম মেনে বিল পরিশোধ এবং কর কাটার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন বিধান পুরোপুরি কার্যকর হলে দেশের সেবা খাতগুলো থেকে কর আদায়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং সামগ্রিক উৎসে কর ব্যবস্থাপনা আরও বেশি সুসংহত হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: