রাজনৈতিক তর্কের করুণ পরিণতি: ট্রাম্পকে নিয়ে বিবাদে বাবার হাতে মেয়ে খুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১১ ১১:২৯:০২
রাজনৈতিক তর্কের করুণ পরিণতি: ট্রাম্পকে নিয়ে বিবাদে বাবার হাতে মেয়ে খুন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে এক মর্মান্তিক পারিবারিক বিবাদের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটিশ তরুণী লুসি হ্যারিসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক ঘিরে বাবার সাথে রাজনৈতিক তর্কে জড়ানোই যেন কাল হলো ২৩ বছর বয়সী এই তরুণীর জন্য। গত ১০ জানুয়ারি বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান লুসি, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চেশায়ার করোনার কোর্টে লুসির মৃত্যুর তদন্ত শুনানিতে উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার জানান, ঘটনার দিন সকালে ট্রাম্পকে নিয়ে বাবা ক্রিস হ্যারিসনের সঙ্গে লুসির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। তর্কের একপর্যায়ে লুসি তাঁর বাবাকে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করলে ক্রিস হ্যারিসন অত্যন্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য করেন। এতে লুসি ভীষণ কষ্ট পেয়ে নিজের ঘরে চলে যান। দুপুরের দিকে বিমানবন্দর যাওয়ার ঠিক আধা ঘণ্টা আগে বাবা ক্রিস হ্যারিসন লুসিকে জোর করে শোবার ঘরে নিয়ে যান এবং এর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গুলির শব্দ শোনা যায়।

অভিযুক্ত ক্রিস হ্যারিসন আদালতের কাছে দাবি করেছেন, এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। তিনি লুসিকে তাঁর কাছে থাকা বন্দুকটি দেখাতে চেয়েছিলেন এবং অসাবধানতাবশত গুলিটি বেরিয়ে যায়। তবে তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় ক্রিস হ্যারিসন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি ঘটনার ঠিক আগে দোকান থেকে মদ কিনেছিলেন এবং পুলিশও তাঁর শরীরে মদের গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। যদিও স্থানীয় জুরি ক্রিসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তবে লুসির মা ও তাঁর নিকটজনরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে আসছেন।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৫৬:০৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১৪ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫.৭ শতাংশ বেড়ে ১১৪.২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে মার্কিন তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারস ৬.১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণেই এই অস্থিরতা থামছে না। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের ঘটনায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অভাবনীয় হারে বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তেলের বাজারে এই রেকর্ড ভাঙা দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করবে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৫১:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখ লাখ মানুষ। ‘নো কিংস’ (No Kings) নামক এই বিশাল আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা, যার মাধ্যমে ট্রাম্পের ইরান আগ্রাসন এবং অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সারা দেশে ৩ হাজারের বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম প্রতিবাদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, মিনিয়াপোলিস এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহরগুলোতে বিশাল জনসমাগমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার জনসংখ্যার ছোট অঙ্গরাজ্য ভারমন্টেও ৪০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর মাসেও একই ব্যানারে বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, জুনের বিক্ষোভে প্রায় ৫০ লাখ এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। এবারের সমাবেশ সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ইরান নীতি এবং অভিবাসীদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কেবল একটি প্রতিবাদ নয় বরং আমেরিকান গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। তারা একে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের দিনলিপি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। দেশজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৩৬:০৫
নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের প্রাণঘাতী 'জেনজি' (Gen-Z) বিক্ষোভে জড়িত থাকা এবং সহিংসতা দমনে চরম অবহেলার অভিযোগে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে ভক্তপুরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার ঠিক পরদিনই এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিলেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলির সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আইনি বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ওলিকে গ্রেপ্তারের পরপরই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায়বিচারের শুরু; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তবে কেপি শর্মা ওলি এই গ্রেপ্তারকে 'প্রতিহিংসামূলক' দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেপালে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এই নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে ওলি সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের পর বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় এসে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করেন।

শুক্রবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ওই কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে, যার দায়ে ওলি ও লেখকসহ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুংসহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

/আশিক


বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১০:০৬:০৯
বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রাতে পরিচালিত এই হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এটি তৃতীয় দফার হামলা। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো হতাহত বা কেন্দ্রের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও আল-জাজিরার তথ্যমতে, একই রাতে ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আরও বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর পরমাণু স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে একটি ইউরেনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্র এবং ভারী পানির একটি চুল্লি রয়েছে। এ ছাড়া ইসফাহানের দুটি ইস্পাত কারখানাও হামলার শিকার হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলার পর ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর জন্য ইসরায়েলকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় জানান, ইসরায়েল দাবি করছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। এদিকে, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে পারমাণবিক স্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

/আশিক


সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ০৯:২৮:৫৯
সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস (CBS) জানিয়েছে, ইরান এই হামলায় অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন এবং স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০০ জনে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ২৭৩ জন চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে এই এক মাসের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে, যা পেন্টাগনের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি মূলত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৬ এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের একটি প্রধান কেন্দ্র। এই ঘাঁটিতে আঘাত হানার মাধ্যমে ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে তাদের পাল্টা সক্ষমতার বার্তা দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স


হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ০৯:১০:২০
হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে রসিকতা করে নিজের নামে অর্থাৎ ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (FII) সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। ইরান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে যখন এই জলপথটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এমন নামকরণ বিষয়ক রসিকতা উপস্থিত বিনিয়োগকারী ও দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল তৈরি করে।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।” পরক্ষণেই তিনি বিদ্রূপের সুরে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো (Fake News) হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে তাঁর অভিধানে ‘ভুল’ বলে কিছু নেই। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে পরাজিত এবং তারা এখন একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ (Begging) করছে। যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে ট্রাম্পের দাবি— ইরান ইতিপূর্বেই আলোচনার অংশ হিসেবে ৮ থেকে ১০টি তেলের ট্যাঙ্কার ছেড়েছে, যা প্রমাণ করে যে তারা পর্দার আড়ালে সমঝোতা করতে চায়।

বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানকে আগামী ৬ এপ্রিলের (বর্ধিত সময়সীমা) মধ্যে এই জলপথটি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে, অন্যথায় দেশটির বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামকরণ মূলত তাঁর চিরচেনা ব্র্যান্ডিং মানসিকতারই প্রতিফলন, যা যুদ্ধের এই সংবেদনশীল সময়েও তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য প্রকাশের একটি কৌশল।

সূত্র: সিএনবিসি


ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৯:৩১:৫৬
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মস্কো তেহরানকে সীমিত পরিসরে সহায়তা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নয়; বরং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে একটি পরোক্ষ কৌশলগত সমর্থন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে উন্নত স্যাটেলাইট তথ্য সরবরাহ করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার কার্যকর গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার ‘লিয়ানা’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এই গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতায় উৎক্ষেপিত ইরানের ‘খৈয়াম’ স্যাটেলাইট উচ্চমানের চিত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তব সময়ের নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

এই স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা ইরানকে শত্রুপক্ষের সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য প্রদান করছে, যা কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সাম্প্রতিক কিছু হামলার দাবি নাকচ করে দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সহযোগিতা যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়; বরং এটি একটি পারস্পরিক নির্ভরতার কাঠামো তৈরি করেছে। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ সিরিজের ড্রোন এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ পুনরায় ইরানের কাছে ফিরে আসছে, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের একটি চক্র তৈরি করেছে।

উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি জ্যামিং-প্রতিরোধী নেভিগেশন প্রযুক্তি শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়ায়, যা আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যে কৌশল ব্যবহার করেছে যেমন ড্রোন ও ডামি টার্গেটের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা সেই অভিজ্ঞতাও এখন ইরানের যুদ্ধ কৌশলে প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঝুঁকি নেবে না; বরং পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশলই অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকট, চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৭:৪৫:৩৮
ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকট, চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার একটি কৌশলগত হিসাব করেছিলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ধারণা ছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু জোরদার করলে জনমত নিজের পক্ষে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি; বরং উল্টো রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা বাড়ার পরিবর্তে বরং কমতে শুরু করেছে, যা সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে বাজেট ইস্যুতে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ৩১ মার্চের মধ্যে জাতীয় বাজেট অনুমোদন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ ভেঙে যাবে এবং তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এই বাস্তবতায় সরকার এখন দ্রুত বাজেট পাস করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন জোটের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রবল। ফলে রাজনৈতিকভাবে সময় কেনাই এখন নেতানিয়াহুর প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের শুরুতে হিসাব ছিল ভিন্ন। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আগাম নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে—এমন আশাবাদ তৈরি হয়েছিল নেতানিয়াহুর শিবিরে। মার্চের শুরুতে লিকুদ পার্টি নিজেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দাবি করেছিল এবং এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

কিন্তু চার সপ্তাহ পার হওয়ার পরও যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ফলে সেই কৌশল কার্যকর না হয়ে উল্টো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

সরকার এখন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে মিত্র দলগুলোর প্রতি আরও উদার হচ্ছে। বিশেষ করে অতিরক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর জন্য বাড়তি বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে জোট ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গাজা ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইরান প্রসঙ্গ সামনে এনে কিছুটা জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করা হলেও, বাস্তবে ভোটের অঙ্কে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে।

টাইমস অব ইসরায়েল-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের সংসদে লিকুদ পার্টি পেতে পারে মাত্র ২৮টি আসন। পুরো জোটের আসন দাঁড়াতে পারে ৫১-এ, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।

অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতেও। প্রতি সপ্তাহে বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সরকারকে আরও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

-রাফসান


চীনের চিপ সরঞ্জাম যাচ্ছে ইরানে, অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৭ ১৬:০০:৩৬
চীনের চিপ সরঞ্জাম যাচ্ছে ইরানে, অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা এখন ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন-কে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এসেছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, এসএমআইসি ইরানের সামরিক খাতে ব্যবহারের উপযোগী চিপ তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। তাদের দাবি, এই সহযোগিতা শুধুমাত্র সরঞ্জাম সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তা বন্ধ হয়েছে এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে এই সরঞ্জামগুলোর উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্টভাবে কিছু জানায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এসব প্রযুক্তির কোনো অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উৎপত্তি হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানে রপ্তানি করা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

অন্যদিকে চীন সরকার এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা ইরানের সঙ্গে কেবল স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং কোনো সামরিক সহযোগিতায় জড়িত নয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র এসএমআইসিকে একটি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত মূলত চীনের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা সীমিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার সংযোগ নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে উন্নত চিপ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের প্রযুক্তি খাতকে সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লাম রিসার্চ, কেএলএ এবং অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস-এর মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত সরঞ্জাম থেকে চীনা কোম্পানিগুলোকে দূরে রাখাই ছিল এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে, বিশেষ করে হুয়াওয়ে-এর মেট ৬০ প্রো স্মার্টফোনে উন্নত চিপ ব্যবহারের পর এই নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এর ফলে এসএমআইসির আধুনিক কারখানাগুলোতে মার্কিন প্রযুক্তির প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে একই সময়ে ইরান ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানা যায়নি, চিপ তৈরির এই সরঞ্জামগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতায় কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলেছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব প্রযুক্তি উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: