৭ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৪:৫৯:৩৫
৭ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের প্রাধান্য থাকলেও লেনদেনে ছিল উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমলেও ব্লক মার্কেটে বড় অঙ্কের লেনদেন এবং নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে সচল রেখেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১৯৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭২টির শেয়ারদর। সার্বিক চিত্রে বাজারে বিক্রির চাপই বেশি ছিল।

দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকায়। এদিন মোট ২ লাখ ২১ হাজার ৫৪৬টি ট্রেড সম্পন্ন হয় এবং ২৫ কোটির বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ওঠানামার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো সতর্ক অবস্থান বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে বিক্রির চাপ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে এদিন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ‘ফাইন ফুডস’ ও ‘অ্যাপেক্স স্পিনিং’। ‘ফাইন ফুডস’-এর প্রায় ১৪০ কোটি টাকার এবং ‘অ্যাপেক্স স্পিনিং’-এর ১২৪ কোটি টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ এসব কোম্পানিতে সক্রিয় ছিল।

একইসঙ্গে ‘লাভেলো’-এর শেয়ারেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির প্রায় ৮৪ কোটি টাকার ব্লক ট্রেড বাজারে আলাদা নজর কেড়েছে। এছাড়া ‘ইএইচএল’, ‘গিকিউ বলপেন’, ‘ড্যাফোডিল কম্পিউটার’ এবং ‘সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স’-এর মতো কোম্পানিগুলোতেও বড় লেনদেন দেখা গেছে।

বাজার মূলধনের দিক থেকেও দিনটি খুব ইতিবাচক ছিল না। ডিএসইর মোট বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি বাজারের মূলধন ছিল প্রায় ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বীমা ও কিছু উৎপাদনমুখী কোম্পানিতে আগ্রহ বাড়লেও ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বেশিরভাগ শেয়ার নিম্নমুখী ছিল। বিশেষ করে ‘ইবিএল’, ‘ফার্স্ট ফাইন্যান্স’, ‘ফিনিক্স ফাইন্যান্স’সহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে চাপ ছিল স্পষ্ট।

এদিকে ব্লক মার্কেটে মোট ৩৫টি কোম্পানির ৬০ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৬৪৬ কোটি টাকার বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ বাজারে চাপ থাকলেও বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারে তারল্য ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

-রাফসান


৭ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৪:৫৫:১২
৭ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কয়েকটি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল খাতের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে লুজার তালিকায় উঠে এসেছে একাধিক আলোচিত কোম্পানির নাম।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) ডিএসইর লুজার তালিকার শীর্ষে ছিল ‘ইবিএল’। ব্যাংকটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কমে ২৩ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ২৫ টাকা ৪০ পয়সা। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এই পতনের অন্যতম কারণ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ‘নুরানি’-এর শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। স্বল্পমূলধনী এই কোম্পানির শেয়ারে দিনের বেশিরভাগ সময় বিক্রির চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য।

টেক্সটাইল খাতের ‘মিথুন নিটিং’-এর শেয়ারদর ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ১৪ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেক্সটাইল খাতে কিছু কোম্পানিতে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা এখনো বজায় রয়েছে।

একইসঙ্গে আর্থিক খাতের ‘ফিনিক্স ফাইন্যান্স’-এর শেয়ারদর ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দিনের গেইনার তালিকায় আগের দিন আলোচনায় থাকা ‘জেএইচআরএমএল’ এবার লুজার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৪৮ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে। একইভাবে ‘মির আখতার’-এর শেয়ারও প্রায় ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ দর হারিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত দরবৃদ্ধির পর এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিয়েছেন।

উচ্চমূল্যের শেয়ারের মধ্যে ‘রেনউইক যজ্ঞেশ্বর’-এর দরপতনও বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৫ শতাংশ কমে ৫১৩ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসে।

অন্যদিকে ‘ইউনিয়ন ক্যাপিটাল’, ‘ফার্স্ট ফাইন্যান্স’ এবং ‘ফাস ফাইন্যান্স’-এর মতো আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোও উল্লেখযোগ্য দর হারিয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের বিক্রিমুখী প্রবণতা এখনও শক্তিশালী রয়েছে।

-রাফসান


৭ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৪:৫২:৪৯
৭ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে বীমা, টেক্সটাইল ও আর্থিক খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বাড়তি ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় গেইনার তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) লেনদেন শেষে গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ‘কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স’। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ২৯ টাকায় পৌঁছেছে। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল একই। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বীমা খাতে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার প্রভাব এই উত্থানে স্পষ্ট হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ‘সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স’-এর শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার দিনশেষে ৩৭ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বীমা খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে ধারাবাহিক দরবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এদিনের বাজারে সবচেয়ে আলোচিত শেয়ারগুলোর একটি ছিল ‘অ্যাপেক্স স্পিনিং’। আগের দিনের উত্থানের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৩৮৪ টাকায় উঠে যায়। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৮৫ টাকা ৭০ পয়সা। বিশ্লেষকদের মতে, ব্লক মার্কেট ও সাধারণ লেনদনে উচ্চ সক্রিয়তা এই শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।

বীমা খাতের আরও কয়েকটি কোম্পানিও গেইনার তালিকায় জায়গা করে নেয়। ‘প্রাইম ইন্স্যুরেন্স’ ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ, ‘সিকল’ ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ‘গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স’ ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে বর্তমানে বীমা খাত ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি ‘পুরবী জেনারেল’-এর শেয়ারদর ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারে মাঝারি ও স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে ‘এমএইচএসএমএল’-এর শেয়ারও ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২৫ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক কার্যদিবস ধরেই শেয়ারটি বাজারে উল্লেখযোগ্য আলোচনায় রয়েছে।

গেইনার তালিকায় থাকা ‘পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স’ ও ‘আইসিআইসিএল’-এর শেয়ারও প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


৬ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৫:০১:৪৮
৬ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আবারও বড় ধরনের বিক্রির চাপ দেখা গেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বাজারজুড়ে নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। লেনদেন, বাজার মূলধন এবং অগ্রসর শেয়ারের সংখ্যাও কমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১০৮টির, বিপরীতে দর কমেছে ২১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৭টির শেয়ারদর। অর্থাৎ বাজারে স্পষ্টভাবেই বিক্রেতাদের আধিপত্য ছিল।

বিশেষ করে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোতে বড় চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির দর কমেছে। অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও পতনের প্রবণতা স্পষ্ট ছিল, যেখানে ১২০টির মধ্যে ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং খাতভিত্তিক অস্থিরতার কারণে লেনদেনে গতি কমে এসেছে।

মোট ২৪ কোটি ৭২ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। যদিও লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি, তবে বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক সীমিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিন বাজার মূলধনও কমেছে। ডিএসইর ইকুইটি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন নেমে এসেছে প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯০ কোটি টাকায়। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ওঠানামার মধ্যে বাজার মূলধনের এই পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

তবে নেতিবাচক বাজারেও ব্লক মার্কেটে কিছু কোম্পানির শেয়ারে বড় লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্লক লেনদেন হয়েছে ‘এনসিসি ব্যাংক’-এ। কোম্পানিটির প্রায় ৭২ কোটি টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হয়েছে। এছাড়া ‘সাইহাম কটন’, ‘ফাইন ফুডস’, ‘এমএইচএসএমএল’ এবং ‘লাভেলো’-তেও উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে।

‘ফাইন ফুডস’-এ প্রায় ৩৪ কোটি টাকার এবং ‘সাইহাম কটন’-এ প্রায় ৩৪ কোটি টাকার ব্লক লেনদেন বাজারে আলাদা নজর কাড়ে। এছাড়া ‘টেকনোড্রাগ’, ‘ড্যাফোডিল কম্পিউটার’ ও ‘এশিয়াটিক ল্যাব’-এর শেয়ারেও সক্রিয়তা দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে বিক্রির চাপ বেশি ছিল। অন্যদিকে টেক্সটাইল ও কিছু ওষুধ কোম্পানিতে সীমিত পরিসরে ক্রয়চাপ দেখা যায়।

-রাফসান


৬ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৪:৫৮:৩৪
৬ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বুধবারের (৬ মে ২০২৬) লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও স্বল্পমূলধনী কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চাপের মুখে পড়ে দিনের লুজার তালিকায় উঠে এসেছে।

দিনের সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে ‘ফারইস্ট ফাইন্যান্স’-এর শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ২ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে। একই হারে দর হারিয়েছে ‘আইএলএফএসএল’ ও ‘প্রিমিয়ার লিজিং’-এর শেয়ারও। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল মৌলভিত্তি, খেলাপি ঋণের চাপ এবং আর্থিক খাতের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে এই খাতের শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ বাড়ছে।

লুজার তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা ‘ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স’-এর শেয়ারদর কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। দিনশেষে কোম্পানিটির শেয়ার ৪২ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। বীমা খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রভাব এই পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

একইসঙ্গে ‘বিআইএফসি’ শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই শেয়ারটি গত কয়েক কার্যদিবস ধরেই অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।

‘এইচএফএল’-এর শেয়ারদর প্রায় ৬ শতাংশ কমে ১২ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে। এছাড়া ‘প্রাইম ফাইন্যান্স’-এর শেয়ারও ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর হারিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ফাইন্যান্স খাতে বিনিয়োগকারীদের বিক্রিমুখী প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

শিল্প খাতের কোম্পানি ‘বিডি ওয়েল্ডিং’-এর শেয়ারদর ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি ‘তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘কেপিপিএল’-এর শেয়ারও উল্লেখযোগ্য দর হারিয়ে লুজার তালিকায় জায়গা করে নেয়।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে খাতভিত্তিক ওঠানামা বাড়লেও আর্থিক ও দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম থাকায় এসব শেয়ারে বড় দরপতন দেখা যাচ্ছে।

-রাফসান


৬ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৪:৫৪:০৭
৬ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের মাঝামাঝি লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে সিরামিক, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও বীমা খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) লেনদেন শেষে ডিএসইর গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ‘মনো সিরামিক’। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ২০ পয়সায়। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৪ টাকা ৫০ পয়সা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিরামিক খাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় এই উত্থান ঘটেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ‘এমএইচএসএমএল’-এর শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দিনশেষে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার বিক্রি হয়েছে ২৩ টাকা ৯০ পয়সায়। তুলনামূলক কম দামের শেয়ার হওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এই কোম্পানিতে বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গেইনার তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা ‘সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। ওষুধ খাতের এই কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের নতুন আগ্রহ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

একইসঙ্গে বীমা খাতের কোম্পানি ‘সিকল’ উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ৩১ টাকা ৭০ পয়সায় পৌঁছেছে। বাজারে বীমা খাতে নতুন করে লেনদেনের গতি বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

অন্যদিকে আগের কার্যদিবসে বড় দরপতনের পর আজ শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ‘অ্যাপেক্স স্পিনিং’। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ৩৫৪ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেছে। ব্লক মার্কেট ও সাধারণ লেনদেন দুই ক্ষেত্রেই শেয়ারটি নিয়ে সক্রিয়তা দেখা গেছে।

টেক্সটাইল খাতের আরও কয়েকটি কোম্পানিও ভালো অবস্থানে ছিল। ‘সাইহাম টেক্স’ ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং ‘মালেক স্পিনিং’ ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, পোশাক ও বস্ত্র খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে ‘টেকনোড্রাগ’-এর শেয়ারদর প্রায় ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। স্বাস্থ্যখাতভিত্তিক কোম্পানিগুলোর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ‘অ্যাপেক্স ট্যানারি’ ও ‘জেএইচআরএমএল’-এর শেয়ারও দিনশেষে উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধি নিয়ে গেইনার তালিকায় জায়গা করে নেয়।

-রাফসান


৫ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৬:০১:৩৯
৫ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার Dhaka Stock Exchange PLC-এ ৫ মে লেনদেনে স্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে গেছে এবং বাজারে বিক্রির চাপ আধিপত্য বিস্তার করেছে।

দিনশেষে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিলেও এর মধ্যে ২২৭টির দরপতন হয়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বিপরীতে মাত্র ১০৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে এবং ৫৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোতেই সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে, যেখানে ১২৫টি শেয়ারের দর কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৪৭টি। এটি বড় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান ও মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বি ক্যাটাগরিতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে পতনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারের নিম্নস্তরের শেয়ারগুলোও চাপের মুখে পড়ে।

জেড ক্যাটাগরিতে ৫৬টি শেয়ার কমে যাওয়ায় বোঝা যায় দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে।ঢ়দিনের মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮,৩২২ কোটি টাকার বেশি, যা বাজারে কার্যক্রম সচল থাকার ইঙ্গিত দিলেও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব যে ইতিবাচক নয় তা স্পষ্ট।

মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬.৫ কোটি শেয়ার, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম, ফলে তারল্যের চাপও কিছুটা কমেছে।

বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮০ লাখ কোটি টাকার বেশি, তবে সামগ্রিকভাবে ইক্যুইটি অংশে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হতে পারে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে, যেখানে ১৬টি ফান্ডের দর কমেছে এবং মাত্র ২টি বেড়েছে। এতে বোঝা যায় ঝুঁকিহ্রাসমুখী বিনিয়োগকারীরাও এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

করপোরেট বন্ড খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও সরকারি সিকিউরিটিজে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য কিছু কোম্পানির শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, জিকিউ বলপেন, ফাইন ফুডস, ড্যাফোডিল কম্পিউটার এবং ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স উল্লেখযোগ্য।

বিশেষ করে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সে প্রায় ৯৭ কোটি টাকার ব্লক লেনদেন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়, তবে তা মূল বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক সংশোধন চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ঘাটতি থাকলে এই সংশোধন আরও গভীর হতে পারে।

তারা সতর্ক করে বলেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত স্বল্পমেয়াদি গুজব বা আবেগে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় প্রবণতা এবং খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করা।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পুঁজিবাজার এখন একটি অনিশ্চিত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া বিনিয়োগ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

-রাফসান


৫ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৫:৫২:২৯
৫ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে শীর্ষ লুজার তালিকায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও আর্থিক খাতের শেয়ারগুলোতে ধারাবাহিক বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয়েছে এপেক্স স্পিনিং, যার শেয়ারদর প্রায় ৮.৬ শতাংশ কমে ৩৩০ টাকায় নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ ৩৫২ টাকার ওপরে লেনদেন হলেও শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পতন বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রিমিয়ার লিজিংও প্রায় ৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। নিম্নমূল্যের এই শেয়ারে অস্থির লেনদেন বাজারের দুর্বল মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।

আর্থিক খাতের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যেমন জিএসপি ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ও ইউনিয়ন ক্যাপিটাল উল্লেখযোগ্য হারে দরপতনের মুখে পড়েছে। এতে বোঝা যায়, এই খাতে আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি।

শিল্প খাতের এপিজিএল ও লেগেসি ফুটওয়্যার মাঝারি মাত্রার পতন দেখিয়েছে, যা উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলোর ওপর স্বল্পমেয়াদি চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বীমা খাতের সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ট্যানারি খাতের এপেক্স ট্যানারিও দরপতনের তালিকায় রয়েছে, যা বাজারে বহুমাত্রিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব শেয়ার দ্রুত বেড়েছিল, সেগুলোতেই এখন সংশোধনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক বাজারচক্র হলেও অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনার ফলেও এমন পতন ত্বরান্বিত হতে পারে।

তারা আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বল্পমেয়াদি লাভ তুলে নেওয়ার জন্য বিক্রির চাপ তৈরি করায় বাজারে এই ধরনের পতন দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু শেয়ারের মৌলিক ভিত্তি দুর্বল হওয়াও দরপতনের অন্যতম কারণ।

-রাফসান


৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৫:৪৬:২৩
৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বহুমুখী খাতের কোম্পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিস্তৃত ভিত্তিতে আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনের লেনদেন শেষে দেখা যায়, উৎপাদন, ওষুধ, বীমা ও টেক্সটাইল খাতের শেয়ারগুলোই মূলত দরবৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে মনোনো সিরামিকস, যার শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৯৫ টাকায় পৌঁছায়। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দামের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায় বোঝা যায়, এই শেয়ারটি নিয়ে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিক্স ফার্মা উল্লেখযোগ্য ৭ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ওষুধ খাতের এই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি স্বাস্থ্যসেবা খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইস্পাত ও শিল্প খাতের ডমিনেজও শক্তিশালী উত্থান দেখিয়েছে। প্রায় ৭.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতেও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে।

বীমা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সিকল এবং এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্সও তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা আর্থিক খাতের প্রতি আংশিক আস্থার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে মনোনো অ্যাগ্রো, মিরাকখতার এবং এনএফএমএল মাঝারি মাত্রার প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

সিরামিক ও টেক্সটাইল খাত থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এসপিসি সিরামিকস ও মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারদর বাড়ায় উৎপাদনমুখী শিল্প খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের গেইনার তালিকায় বিভিন্ন খাতের কোম্পানির উপস্থিতি দেখায় যে বাজারে একক কোনো খাতের ওপর নির্ভরতা কমছে। এটি একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজারের লক্ষণ।

তারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাঝারি মূলধনী শেয়ারে দ্রুত দরবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় এসব শেয়ারে অবস্থান নিচ্ছেন।

-রাফসান


৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৪:৫৮:১১
৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার দেশের পুঁজিবাজারে একটি তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ কিন্তু ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা পতন হওয়া শেয়ারের তুলনায় বেশি থাকায় বাজারে আংশিক আস্থার প্রত্যাবর্তন স্পষ্ট হয়েছে। মোট ৩৯৬টি লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৪টির দাম বাড়া শুধু সংখ্যাগত দিক থেকেই নয়, বরং বাজার মনস্তত্ত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত বহন করে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই উত্থানের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মাঝারি ও বড় মূলধনী শেয়ার। এ ক্যাটাগরিতে ৮১টি শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও মৌলিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। তবে একইসঙ্গে ৯০টি শেয়ারের দরপতন বাজারের অভ্যন্তরীণ চাপের দিকটিও তুলে ধরছে।

বি ক্যাটাগরিতে দৃশ্যপট আরও ইতিবাচক। এখানে ৫১টি শেয়ার দরবৃদ্ধি পেলেও মাত্র ১৮টি কমেছে, যা তুলনামূলকভাবে ছোট ও গ্রোথ-ভিত্তিক কোম্পানির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে দ্রুত লাভের আশায় বিনিয়োগকারীরা এই সেগমেন্টে সক্রিয় হচ্ছেন।

অন্যদিকে জেড ক্যাটাগরির চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। ৫১টি শেয়ারের দরপতন এই খাতে আস্থার ঘাটতির স্পষ্ট চিহ্ন। দুর্বল আর্থিক কাঠামো ও অনিয়মিত ডিভিডেন্ড ইতিহাসের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো এসব কোম্পানি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ১৫টি ফান্ডের দর কমেছে এবং মাত্র ৫টি বেড়েছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস বা স্বল্পমেয়াদি প্রফিট টেকিংয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

লেনদেনের দিক থেকে বাজার বেশ সক্রিয় ছিল। মোট লেনদেনের পরিমাণ ৮৭৬৯ কোটি টাকার বেশি হওয়া দেখায় যে বাজারে তারল্য এখনো বজায় রয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি শেয়ার লেনদেন হওয়া বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাত্রাও তুলে ধরে।

বাজার মূলধন সামান্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে প্রায় ৬.৮১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদিও এটি বড় ধরনের পতনের ইঙ্গিত দেয় না, তবে স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করতে আরও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

ব্লক মার্কেট বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। এখানে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারে প্রায় ৩৯৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এপেক্স স্পিনিং, ফাইন ফুডস, জিকিউ বলপেন, লাভেলো, এনসিসি ব্যাংক এবং রেনাটা প্রভৃতি কোম্পানির শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লক ট্রেড সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল কিংবা বড় পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে হয়ে থাকে। তাই এই প্রবণতা বাজারে আস্থার একটি সূক্ষ্ম ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে বাজার এখনো একটি ট্রানজিশন পর্যায়ে রয়েছে। একদিকে গেইনারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে চাপ বজায় আছে। ফলে বাজার এখনো সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল হয়নি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক সুদের হার, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত পরিবর্তন ভবিষ্যতে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: