তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন নিয়ে বড় সংকট

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) নির্বাচনে বাজিমাত করলেও ম্যাজিক ফিগারের অভাবে সরকার গঠন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন জোহো’র (Zoho) সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শ্রীধর ভেম্বু বর্তমান অবস্থাকে ‘অস্থিতিশীল’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, তামিলনাড়ুতে কোনো দলের হাতেই সরকার গঠনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। জোট বেঁধে সরকার গঠন করলেও তা টেকসই হবে না। তাই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে পুনরায় নির্বাচনের আয়োজন করাই এখন একমাত্র যৌক্তিক সমাধান। তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, বিজেপির উচিত কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে লড়াই করা এবং জনগণকে নতুন রায় দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় থালাপতি বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বাকি ১০টি আসনের জন্য বিজয় এখন কংগ্রেস (৫ আসন), ভিসিকে (২ আসন) এবং বাম দলগুলোর সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমনকি এআইএডিএমকে এবং পিএমকে-র মতো দলগুলোর সঙ্গেও পর্দার আড়ালে দরকষাকষি চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে, বুধবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। তবে রাজ্যপাল বিজয়ের দাখিল করা সমর্থনপত্রের সপক্ষে পর্যাপ্ত নথিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে জানা গেছে। ফলে থালাপতি বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য আরও কিছু সময় দেওয়া হতে পারে। রাজভবন থেকে সবুজ সংকেত না আসা পর্যন্ত তামিলনাড়ুর মসনদে কে বসছেন, তা নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকছে।
/আশিক
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল পটপরিবর্তন ঘটিয়ে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় বিজেপির একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হবে। বুধবার (৬ মে) এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র মতে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিত ভট্টাচার্য শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে আইনসভা পার্টির নেতা হিসেবে ঘোষণা করবেন। এর মাধ্যমেই শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথ চূড়ান্ত হবে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ৪ মে ঘোষণা করা হয়, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজেপি।
ভবানিপুর আসনে মমতার খাসতালুকে তাকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছেন শুভেন্দু। এছাড়া তিনি নন্দীগ্রাম আসনেও বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তিনি যেকোনো একটি আসন ছেড়ে দেবেন। আগামী ৯ মে শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তবে শপথের আগ পর্যন্ত সমর্থকদের কোনো ধরনের বিজয় উৎসব না করার আহ্বান জানিয়েছেন হবু এই মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে
রাহুল গান্ধীর সমর্থন পেলেন থালাপতি বিজয়: বদলে যাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতির রঙ
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করলেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। তাঁর রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই জটিলতা কাটাতে এবার বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কংগ্রেস এমপি শশিকান্ত সেন্টিল নিশ্চিত করেছেন যে, দলটির পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি টিভিকে-কে সরকার গঠনে সবুজ সংকেত দিয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী শুরু থেকেই এই জোটের পক্ষে থাকলেও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সিদ্ধান্তটি তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ভার্চুয়াল বৈঠকে টিএনসিসি-কে সমর্থনের অনুমতি দেওয়া হয়। বিনিময়ে বিজয়ের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় কংগ্রেস দুটি মন্ত্রণালয় পাওয়ার আশা করছে। তবে কংগ্রেস শর্ত দিয়েছে যে, টিভিকে কোনোভাবেই এনডিএ বা এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট করতে পারবে না।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান থালাপতি বিজয়। তিনি লেখেন, টিভিকের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। দল গঠনের পর অনেক সমালোচনা ও অপমানের শিকার হতে হলেও সাধারণ মানুষের ওপর বিশ্বাস হারাননি তিনি। বিজয়ের মতে, এই ফলাফল শুধু একটি দলের জয় নয়, বরং এটি গণতন্ত্রের জয়। এখন রাজ্যপালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানানোর পরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন এই অভিনেতা।
সূত্র: এনডিটিভি
পরাজয় অস্বীকার মমতার: ভোট লুটের অভিযোগ উড়িয়ে যা জানাল কমিশন
পশ্চিমবঙ্গে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগণনা ও ফলাফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাঁর পরাজয় স্বীকার করেননি। উল্টো তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিজেপি অন্তত একশোটি আসন তাদের কাছ থেকে ‘লুট’ করে নিয়েছে এবং সম্পূর্ণ ভোটগণনা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভোটগণনায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ ছিল না এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
তৃণমূলনেত্রীর এই দাবিকে তিনি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের বরাত দিয়ে সিইও জানান, গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি বন্ধ রাখা বা এজেন্টদের বের করে দেওয়ার যে দাবি মমতা তুলেছেন, তার কোনো সত্যতা মেলেনি; বরং এসব অভিযোগ তাঁর ‘মনগড়া’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের খাসতালুক ভবানীপুর আসন থেকেই ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। গত সোমবার রাতে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই তিনি কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থানের ফলে এই ফলাফল নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন।
কেরালার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন ৩৪ বছরের মুসলিম তরুণী ফাতিমা তাহিলিয়া
ভারতের কেরালা রাজ্যের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ইতিহাস গড়েছেন ৩৪ বছর বয়সী তরুণ আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ‘পেরাম্ব্রা’ আসনে জয়ী হয়ে তিনি ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে রাজ্য আইনসভায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। মঙ্গলবারের (৫ মে) এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’ এই ঐতিহাসিক বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কেরালার এই আসনটি দীর্ঘকাল ধরে বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে ফাতিমা তাহিলিয়া সিপিআইএম-এর হেভিওয়েট নেতা তথা এলডিএফ কনভেনর টি.পি. রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করে রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছেন। নির্বাচনে ফাতিমা মোট ৮১ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়েছেন এবং ৫ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন। গত ২০২১ সালের নির্বাচনে এই একই আসনে রামকৃষ্ণন যেখানে ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেখানে ফাতিমার এই বিজয় বাম শিবিরের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফাতিমার এই জয় কেরালা, বিশেষ করে মালাবার অঞ্চলের ভোটারদের মানসিক পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিত। মূলত ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই তরুণী মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ছাত্রজীবনে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হাতে নারী কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি দমে যাননি। এই হার না মানা মনোভাবই তাকে আজ ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে সাহায্য করেছে।
আইইউএমএল-এর মতো রক্ষণশীল দলে নারী প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়ার ইতিহাস খুব একটা সুখকর ছিল না। এর আগে ১৯৯৬ এবং ২০২১ সালে মাত্র দুইজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তারা জয়ের মুখ দেখেননি। ফলে ফাতিমা তাহিলিয়ার এই বিজয় কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং মুসলিম তরুণীদের রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো। নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে সমর্থন জানাতে রাহুল গান্ধী নিজেই পেরাম্ব্রায় উপস্থিত হয়েছিলেন, যা তার জয়ের পথকে আরও প্রশস্ত করেছিল।
পেশায় কোঝিকোড জেলা আদালতের এই আইনজীবী দীর্ঘকাল ধরে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে এবং মুসলিম নারীদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে সোচ্চার। হিজাবকে নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে রক্ষা করার পাশাপাশি সামাজিক সংস্কারের পক্ষেও তিনি অত্যন্ত সাহসী অবস্থান নিয়েছেন। ২০২০ সালে কাউন্সিলর হিসেবে যাত্রা শুরু করা ফাতিমা এবার সরাসরি রাজ্য আইনসভায় প্রবেশ করে প্রমাণ করলেন যে, আদর্শ ও সাহসের কাছে অভিজ্ঞতার অভাব বা রাজনৈতিক বাধা কোনোটিই বড় নয়।
/আশিক
হারিনি, ভোট লুট হয়েছে: পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানালেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলে পদত্যাগ না করার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে এই পরাজয় কোনো স্বাভাবিক জনমতের প্রতিফলন নয়; বরং এর নেপথ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং কেন্দ্রীয় শক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও কারসাজি সক্রিয় ছিল। মঙ্গলবার (৫ মে) কলকাতার কালীঘাটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলীয় এই অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী কবে পদত্যাগ করছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যে, কেন তিনি পদত্যাগ করবেন? তাঁর মতে, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে হারেনি, বরং শক্তির অপব্যবহার করে ভোট লুট করা হয়েছে। ফলে পরাজয় মেনে নিয়ে সরে দাঁড়ানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদায়ী এই মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, এই লড়াইটি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে ছিল না, বরং লড়াইটি ছিল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এমন অসম ও বৈরী পরিবেশে ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়া মানে অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করা। তাই গণতান্ত্রিক লড়াইকে আরও বেগবান করতে এবং পরাজয়ের পেছনের প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে আনতে তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং ইস্তফা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চললেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও রাজপথ এবং আইনি লড়াই জারি রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা।
/আশিক
মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, এক সময় বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনী কৌশলে অতিরিক্তভাবে আই-প্যাকের ওপর নির্ভরতা।
অতীতে এই সংস্থার পরিকল্পনা দলকে সুবিধা দিলেও, এবার কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এছাড়া মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাঙনও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও অন্যান্য ছোট দলের উত্থানে তা বিভক্ত হয়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলে পড়ে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক বছরে দলটি নীরবে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে এবং এবারের নির্বাচনে বহিরাগত নেতাদের বদলে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা গেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘ভুয়া’ ও ‘বহিরাগত’ ভোটার বাদ পড়াও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সীমান্তসংক্রান্ত নানা ইস্যুতে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? ধারণা করা হচ্ছে, যদি শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পান, তাহলে তিনি এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
/আশিক
১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে: মমতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফলাফল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। সোমবার (৪ মে) কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই নির্বাচনী ফলকে সরাসরি ‘লুট’ এবং ‘অনৈতিক বিজয়’ বলে আখ্যা দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বিজেপি রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, গণনায় কারচুপি করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় তৃণমূলের জয় স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও শংসাপত্র দিতে গড়িমসি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি কোনো ‘নৈতিক জয়’ নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের যোগসাজশে ঘটা একটি লুণ্ঠনমূলক কাণ্ড। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এই বিপর্যয় কাটিয়ে ভবিষ্যতে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, এই জয়কে ‘জনগণের শক্তির বিজয়’ হিসেবে দেখছে বিজেপি শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাফল্যকে ‘সুশাসনের রাজনীতির জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির একক সরকার গঠন নিশ্চিত হয়েছে।
ভোট গণনা চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস বারবার কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট এবং বর্ধমান উত্তরের মতো কেন্দ্রগুলোতে গণনায় ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ও শংসাপত্র প্রদানে কারচুপি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে গণনা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ইভিএম মেশিনে অমিল পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, এটি তৃণমূলের পরাজয় নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৮টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮৯টি আসন। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা যুগের অবসান হতে যাচ্ছে। বিজেপির সদর দপ্তরে এখন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে তৃণমূল শিবির লড়ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।
গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উচ্ছ্বসিত ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশাল এই জয়ের পর দলীয় কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহার নির্বাচনের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্র এবং সংবিধানের জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো এবং সেখানে পরিবর্তনের সূচনা হলো।” নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করায় এখন সবার নজর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৯টি আসনে থমকে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ভূমিপুত্র। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচাইতে এগিয়ে আছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায় আরও রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্তর মতো নেতারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মানবিক রাজনীতি’ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সত্ত্বেও তৃণমূলের এই ভরাডুবির মূলে রয়েছে মাঠপর্যায়ের পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ। ২০১১ সাল থেকে ‘বাংলার ঘরের মেয়ে’ হিসেবে মমতার যে আবেগ কাজ করত, এবার তার বিপরীতে বিজেপির সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক গণিত কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো অ-আঞ্চলিক দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যা ভারতীয় রাজনীতিতে ‘পদ্মফুলের উত্থান’ হিসেবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
/আশিক
দুই দশকের আধিপত্যের অবসান: বিপুল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিচ্ছেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের যবনিকা ঘটল। ২০১১ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবার বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ‘বাংলার মেয়ে’ হিসেবে যে আবেগের দেওয়াল মমতা তুলেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগ আর প্রশাসনিক স্থবিরতার ধাক্কায় তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি ১৯৮টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ (১৪৮) অনায়াসেই পার করে গেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৮৯টি আসনে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল শক্তি ছিল সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী বা রূপশ্রীর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেখা গেল, সাধারণ মানুষের সেই ‘মায়া’ আর কাজ করেনি।
মাটির নিচে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বেকারত্ব এবং মাঠপর্যায়ে তৃণমূলের দলীয় ক্যাডারদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে মানুষ এবার নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছে। রাজনীতির সেই নির্মম আয়নায় আজ ধরা পড়ল যে, কেবল জনকল্যাণের ভাষা দিয়ে সবসময় ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখা যায় না, যদি সেখানে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাব থাকে।
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। একে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক দর্শনের এক আমূল পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বাম আমলের ৩৪ বছর আর মমতার ১৫ বছর—সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দীর আঞ্চলিক ও বামপন্থী ঘরানার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে বাংলা এখন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পথে। ক্ষমতার এই রং বদল যতটা নিশ্চিত ছিল, তার চেয়েও বেশি চমকপ্রদ হলো মমতার মতো একজন জননেত্রীর এমন শোচনীয় পরাজয়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন নিয়ে বড় সংকট
- ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা: ইসরায়েলি হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
- মৃত্যুর ৭ বছর পর সামনে এল এপস্টেইনের রহস্যময় সুইসাইড নোট
- দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ের হানা: আবহাওয়া দপ্তরের জরুরি বার্তা
- আজ বৃহস্পতিবারের ব্যস্ত সূচি: জেনে নিন রাজধানীর প্রধান কর্মসূচিগুলো
- সব রেকর্ড চুরমার! স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ
- আজ বৃহস্পতিবার: বের হওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীর কোন কোন মার্কেট বন্ধ
- আজ বৃহস্পতিবারের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তথ্য
- টানা ১৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- দ্রুতই শেষ হবে যুদ্ধ: ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বড় ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
- হয়রানি করলে ছাড় নয়! জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের
- ৪৮ দলের মেগা বিশ্বকাপ: সব ম্যাচ দেখার বিনিময়ে লাখপতি হওয়ার সুযোগ
- কুয়ালালামপুরে চিকিৎসায় বড় উন্নতি, দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস
- ২৭ না কি ২৮ মে? কোরবানির ঈদ নিয়ে যা জানাল বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া দপ্তর
- মৃত্যুর ১৭ বছর পরও বিশ্ব সংগীতের রাজা মাইকেল জ্যাকসনই!
- বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত
- লন্ডনের রাস্তায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন পাপন! ভাইরাল ছবিতে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
- ৬০০ বার হামলা চালায় ইরান ইরাকে মার্কিন স্থাপনায়
- কালিগঞ্জে বসতবাড়ির যাতায়াত পথ বন্ধ: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পরিবার
- মৌলভীবাজারে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- পায়ে ধরে ইজ্জত ভিক্ষা চেয়েও রক্ষা পাইনি: কুমিল্লায় গৃহবধূর পৈশাচিক আর্তনাদ
- পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর সীমান্ত সিল! বিজিবি-কে কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- তেলের পর বিদ্যুৎ! ভর্তুকি সামাল দিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি
- ফের ৯ শতাংশ পার মূল্যস্ফীতি, দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ
- একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, বড় সুখবর দিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি! ইরান-আমেরিকার আলোচনায় বড় মোড়
- ৬ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৬ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নির্ধারিত স্থান ছাড়া বসবে না পশুর হাট: প্রতিমন্ত্রী
- অনিদ্রায় ভুগছেন? এই ৫টি অভ্যাস বদলে দেবে আপনার জীবন
- অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা
- এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’
- স্বর্ণের পর এবার রুপার দামে বড় লাফ! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- ২৪ ডিগ্রি না কি ২৬ ডিগ্রি? কোন তাপমাত্রায় এসি চালালে বিদ্যুৎ বিল কমবে
- রাহুল গান্ধীর সমর্থন পেলেন থালাপতি বিজয়: বদলে যাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতির রঙ
- দ্বিগুণ হতে পারে সরকারি চাকুরের বেতন, যা আছে নতুন সুপারিশে
- ধর্মপুর-ঝাগুরজুলি সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে কুমিল্লাবাসী
- বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা এডুকেশন হাব: শিক্ষামন্ত্রী
- মেয়র হতে চান নীলা ইসরাফিল: ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মুখ
- পরাজয় অস্বীকার মমতার: ভোট লুটের অভিযোগ উড়িয়ে যা জানাল কমিশন
- আমাদের আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব: ইরানের প্রেসিডেন্ট
- যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি!
- মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?
- আজ ঢাকার আবহাওয়া যেমন থাকতে পারে
- ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় মিলবে এক ভরি স্বর্ণ, জানুন বিস্তারিত
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজকের বন্ধ মার্কেট তালিকা
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট আজকের ক্রীড়ারাত, জানুন সূচী
- আজ রাতে আকাশের খেলা: হ্যালির ধূমকেতুর ছোঁয়ায় দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির!
- ঢাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কাঁকশিয়ালী’-র নতুন কমিটি গঠন
- স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- কালিগঞ্জে বসতবাড়ির যাতায়াত পথ বন্ধ: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পরিবার
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
- ক্রিকেটে ঠাসা সূচি; বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও আইপিএলের উত্তাপ আজ
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রাতজুড়ে ক্রিকেট উত্তেজনা, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন জানুন সূচী








