ধুঁকতে থাকা কারখানা বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১১ ২১:১৫:৩১
ধুঁকতে থাকা কারখানা বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং ধুঁকতে থাকা কারখানাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১১ মে) বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানান, যে সব কারখানা এখনও বন্ধ হয়নি কিন্তু আর্থিক সংকটে ধুঁকছে, তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ তহবিল গঠন করছে। এই তহবিল থেকে ঋণ বা আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কারখানাগুলোকে সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, সংকটে থাকা উদ্যোক্তারা এখান থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবেন।

ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান কিছু নীতির সমালোচনা করেন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তার দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী এই সমস্যাগুলো সমাধানে সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব চেয়েছেন। মাহমুদ হাসান খান বলেন, "কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন বা সহায়তা প্রয়োজন, তা আমরা লিখিতভাবে জমা দিলে সরকার পদক্ষেপ নেবে।" এছাড়া আগামী ঈদুল আযহার পরে বিজিএমইএ পর্ষদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবারও বৈঠকে বসবেন বলে ঠিক হয়েছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের (Export Diversification) ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজশাহীতে থাকা সরকারের রেশম শিল্প-কারখানাগুলো বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে দেশীয় রেশম শিল্পের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর অবস্থান শক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ২০:৪৫:১৬
ইসলামে বিভেদ ও হানাহানির কোনো স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে কোনো ধরনের হানাহানি, সামাজিক বৈরিতা, বিভেদ কিংবা বিদ্বেষের বিন্দুমাত্র স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আশুরার মহান ও শাশ্বত শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সহনশীলতা আরও সুদৃঢ় করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে আরও বেশি নিবেদিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। বাণীতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পবিত্র আশুরা আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় যে ইসলামের মূল শিক্ষা সর্বদা শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পবিত্র আশুরা পালিত হয়ে থাকে। ইসলামের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনন্য একটি দিন। এই দিনটি শুধু শোক প্রকাশ কিংবা স্মরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ এবং নৈতিক দৃঢ়তার এক চিরন্তন বার্তা ও শিক্ষা ধারণ করে। কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনাকে মানব ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঘটনা যুগে যুগে মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে অবিরাম অনুপ্রাণিত করে আসছে।

মানবিক মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার এবং সুমহান আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে অমূল্য শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় এবং স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। অন্যায়কারীদের সামনে মাথা নত না করার এই অনন্য আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী এবং শাশ্বত প্রতীকে পরিণত করেছে।

পবিত্র আশুরার এই বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে কারবালার নির্মম ও ঐতিহাসিক ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তাঁর পরিবারের সদস্য এবং বিশ্বস্ত সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এই শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও নিজের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

/আশিক


২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:২৩:৪৩
২৮ জুন থেকে দেশের ৫টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ট্যুরিস্ট বা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি নির্ধারিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রে (আইভ্যাক) সাধারণ পর্যটকরা তাদের ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

ভারতীয় হাইকমিশনার স্পষ্ট জানান, আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা পর্যটন ভিসার জন্য নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রধান পাঁচটি কেন্দ্র—ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং চট্টগ্রাম থেকে এই পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে চিকিৎসা বা মেডিকেল ভিসার কার্যক্রম সফলভাবে চলমান রয়েছে এবং আগামী দিনে এর পরিধি ও সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা হবে। এর আগে আজ সকালেই বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিজের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

কূটনৈতিক এই শীর্ষ কর্মকর্তা গত শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে এসে পৌঁছালে শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে গত ৫ জুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে নিজের নিয়োগপত্র বা ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণ করেন তিনি।

ভারতের জাতীয় রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা মূলত কলকাতায়। ফলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের একটি নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় কংগ্রেস, জনতা দল ও তৃণমূল কংগ্রেসে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করার পর ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনি একাধিকবার দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা এবং নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নয়াদিল্লি। তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে লুণ্ঠিত এবং অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছিল। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে অবস্থিত ভারতের পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারও (আইভ্যাক) অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার মুখে পড়ে। উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত তীব্র হুমকি এবং হাইকমিশনের নিজস্ব স্থাপনা ভাঙচুরের কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন সাময়িকভাবে তাদের নিয়মিত ভিসা কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় ভিসার আবেদনকারীদের একটি বড় অংশই সাধারণত গুরুতর রোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। সেই সব সংকটাপন্ন রোগীদের মানবিক দিক বিবেচনা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর ভিসা কেন্দ্রগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ভিসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল। ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে দেড় হাজারেরও বেশি ভিসা ইস্যু করে চলেছে।

/আশিক


অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:১৬:৫১
অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়তে শেখায় আশুরা: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র আশুরার শাশ্বত শিক্ষা মানুষকে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ নির্দেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় রাষ্ট্রপ্রধান ইসলামের সুমহান আদর্শ রক্ষায় কারবালা প্রান্তরে আত্মত্যাগকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কারবালার ঐতিহাসিক প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্র আশুরা একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আশুরা বহু গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত হলেও, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের মহান আত্মত্যাগ এই দিনটিকে একটি অনন্য মর্যাদা এবং গভীর মানবিক আবেদনে রূপ দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, পৃথিবীতে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের প্রকৃত সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই অনন্য আত্মদান মানবজাতির ইতিহাসে চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পবিত্র আশুরার এই মহান ও শাশ্বত শিক্ষা যেন সবার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে আলোকিত করে, বাণীতে তিনি সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন।

ইসলামের মূল মর্মবাণী তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম ইসলাম সর্বদা মানুষকে সত্য, ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানায়। এটি সমাজ থেকে সব ধরনের হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে সর্বস্তরের মানুষকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হতে শেখায়। বাণীতে তিনি পবিত্র আশুরার পবিত্রতা ও চেতনাকে ধারণ করে একটি সাম্যবাদী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি এবং অব্যাহত সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করেন।

/আশিক


সীমান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে: আশাবাদ নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:১০:৪৫
সীমান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে: আশাবাদ নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকার সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো খুব দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে নিজের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করার পর এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নতুন এই চিলিয় হাইকমিশনার। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিষয়ে জানান, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ সব ধরনের অমীমাংসিত বিষয়ের ইতিবাচক ও সম্মানজনক সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিজিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুই দেশের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও নিয়মিত ও নিবিড় বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সীমান্ত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর এই কার্যকাল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও বেশি সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ এবং জনকল্যাণমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের বিষয়টিও অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, নিকটতম প্রতিবেশী এবং অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ সর্বদা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে থাকে।

রাষ্ট্রপতি আরও স্পষ্ট করেন যে, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে একটি সম্মানজনক ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং আগামী দিনে সেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

/আশিক


বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১৫টি সমঝোতা স্মারকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:০৬:৫৪
বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: ১৫টি সমঝোতা স্মারকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়
ছবি : সংগৃহীত

চীন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।

এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি আরও জানান, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি শেষ হওয়ার পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

বেইজিংয়ের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত রয়েছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর্বটি শেষ হওয়ার পর, গ্রেট হলে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নৈশভোজ বা ভোজসভার আয়োজন করা হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এসে পৌঁছালে তাঁকে সেখানে উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

/আশিক


তিস্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে নতুন সমঝোতা, বৈঠকে তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৩:২৯:০৫
তিস্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে নতুন সমঝোতা, বৈঠকে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, তিস্তা নদী উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীন সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে দেশটির পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর সঙ্গে বৈঠক করে এসব বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের নদীনির্ভর অর্থনীতি, কৃষি ও পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা, নদীভাঙন ও পলি জমার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে নদী খনন, পানি সংরক্ষণ এবং নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক এবং গবেষণানির্ভর। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর করার ব্যাপারে বেইজিং আগ্রহী।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পানি সম্পদ সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাশাপাশি গত বছর চীনের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সফর করে নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লি গোওইং আরও বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী পুনরুদ্ধার, পানি সংরক্ষণ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রকৌশলী, পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ আরও কার্যকর অংশীদার হতে পারে।

বৈঠকে নদীভিত্তিক উন্নয়ন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজনমূলক উদ্যোগ নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একপর্যায়ে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে একটি স্মারক গ্রন্থ তুলে দেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক


যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১১:৪৫:০৮
যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
ফাইল ছবি

আগামী ২৮ জুন (রোববার) দেশজুড়ে একযোগে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ড। শিশুদের অপুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমিয়ে আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং নির্ধারিত স্থানে শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, বয়সভেদে শিশুদের জন্য আলাদা রঙের ক্যাপসুল নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এতে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রার ভিটামিন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কোনো শিশু যদি নির্ধারিত দিনে ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে না পারে, তাহলে তাকে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকবে। ফলে নির্ধারিত দিনে অনুপস্থিত থাকলেও শিশুদের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।

তিনি বলেন, দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের বিষয়েও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি, চরাঞ্চল ও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় ২৮ জুনের পর টানা চার দিন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরাও ভিটামিন ‘এ’ সেবার আওতায় আসে।

এবারের কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীসেবা কেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫০০টি মোবাইল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এর ফলে চলাচলরত পরিবার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও সহজে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ড. এম এ মুহিত জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় রাউন্ড চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করা হবে। প্রতিবছর নিয়মিত দুই দফায় এই কর্মসূচি পরিচালনার মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্র বা মোবাইল ক্যাম্পে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে। এর মাধ্যমে শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় পুষ্টি উন্নয়ন কর্মসূচিকেও আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারও দেশের প্রায় প্রতিটি যোগ্য শিশুর কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

-রফিক


নবম পে স্কেলে বড় অগ্রগতি, বৈঠকে নেওয়া যেসব সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১১:৩৪:২৯
নবম পে স্কেলে বড় অগ্রগতি, বৈঠকে নেওয়া যেসব সিদ্ধান্ত
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার পর নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও বেতন কত শতাংশ বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বুধবার অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তবে বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি খাতের বিষয়ে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সভায় অংশ নেওয়া কোনো সদস্য গণমাধ্যমের কাছে বেতন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট হার বা বাস্তবায়নের ধাপসংখ্যা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ফলে কত শতাংশ বেতন বাড়বে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কয়েকটি বিকল্প নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আরেকটি বিকল্প প্রস্তাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

এছাড়া আরও একটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব প্রস্তাবের কোনটি চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, অবসর-পূর্ব ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নবম পে স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো প্রজ্ঞাপন এখনো জারি হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়, রাজস্ব সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে।

-রফিক


বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশইন চেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১০:২৫:৪১
বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশইন চেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান এবং টহল জোরদারের কারণে পুশইনের প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তের ২৪৪/এমপি সীমান্ত পিলারের উত্তর পাতাড়ি এলাকা দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা শুরু হয়। এরপর প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবি সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করে। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয় এবং সদস্যরা সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুশইনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার অনেক মানুষ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত হন। উত্তর পাতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে গ্রামবাসীরাও সেখানে জড়ো হন এবং বিজিবির সদস্যরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন। তার মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক ছিলেন।

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ১টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অন্ধকারের সুযোগে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভোর হওয়ার পর সীমান্তের ওই এলাকায় আর কাউকে দেখা যায়নি। বর্তমানে সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল এবং নজরদারি আগের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি আগের মতোই সতর্ক থাকবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: