ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৫৩:৩৮
ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
ছবি : সংগৃহীত

আমদানি দায় পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহক পর্যায় এবং খোলাবাজার—সবখানেই ডলারের বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী। ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের দুর্বলতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে মাসভিত্তিক ওঠানামা ডলারের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যকে আবারও নড়বড়ে করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ আগস্ট প্রকাশিত বিনিময় হার অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা এবং ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা ছিল। লেনদেনভিত্তিক ভারিত গড় হার দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৮১ দশমিক ৯৭ পয়সায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই হার আন্তঃব্যাংক বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

এর আগে ৩০ জুলাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্পট রেফারেন্স রেট দিনের শুরুতে ১২৩ টাকা ৭৯ দশমিক ৪৬ পয়সা এবং দিনের শেষে ১২৩ টাকা ৮৮ দশমিক ১৮ পয়সা ছিল। ২ আগস্ট দিনের শুরুতে এই হার ১২৩ টাকা ৯১ দশমিক ৫০ পয়সায় উঠলেও শেষ পর্যন্ত ১২৩ টাকা ৭৪ দশমিক ৭৬ পয়সায় নেমে আসে। এতে বোঝা যায়, ব্যাংকভিত্তিক বড় অঙ্কের লেনদেনে ডলারের দর এখনো অস্থির অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডলারের প্রকৃত খরচ ব্যাংকভেদে আরও কিছুটা বেশি হতে পারে। কারণ ঘোষিত আন্তঃব্যাংক হারের সঙ্গে ব্যাংকের নিজস্ব মার্জিন, লেনদেন ব্যয় এবং গ্রাহকের আমদানির ধরন যুক্ত হয়। আমদানি দায় মেটাতে বেশি ডলার প্রয়োজন হওয়ায় কয়েকটি ব্যাংক বাজারে তুলনামূলক উচ্চ দর দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

ডলারের ওপর বাড়তি চাপের অন্যতম কারণ হলো ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

পেট্রোলিয়াম আমদানি ওই সময়ে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা আমদানিকারকদের ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধের জন্য আগাম ডলার সংগ্রহে উৎসাহিত করছে। এতে স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।

রপ্তানি খাত থেকে ডলারের প্রবাহ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়াও বাজারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে সীমিত ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম এবং ৫৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, দুর্বল আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাপকে এই দুর্বলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে বড় সহায়তা দিয়েছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জুনে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা জুনের তুলনায় সামান্য বেশি এবং আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ একেবারে কমে গেছে বলা যাবে না, তবে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি আসার তুলনায় জুন-জুলাইয়ের প্রবাহ কিছুটা নিচে রয়েছে।

ব্যাংকিং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খোলাবাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে নগদ ডলার ব্যাংকদরের চেয়ে কয়েক টাকা বেশি মূল্যে কেনাবেচা হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে খোলাবাজারে প্রতিষ্ঠান, অবস্থান ও লেনদেনের পরিমাণ অনুযায়ী দর ভিন্ন হতে পারে। তাই ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ডলার কেনার আগে অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ থেকে মূল্য যাচাই এবং রসিদ সংগ্রহ করা জরুরি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হার থেকে অস্বাভাবিক বিচ্যুতি রোধ, রেমিট্যান্স সংগ্রহে অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা কমানো এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ঠেকানোই এই নজরদারির উদ্দেশ্য। তবে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থায় ডলারের মূল্য শেষ পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহের ওপরই নির্ভর করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি বিল, রপ্তানি আয়ের গতি, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় ডলারের বাজারের দিক নির্ধারণ করবে। আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকলে এবং রপ্তানি আয় দুর্বল থাকলে টাকার ওপর চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিপরীতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য কমে এলে বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ থাকবে।

-রাফসান


গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২১:২৩:০৯
গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জেরে দেশের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার পোশাক কারখানার বিদেশি রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে অথবা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এক বিশেষ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে শিল্প খাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

বিকেএমইএ জানায়, তাদের সক্রিয় ৮০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৬০টি কারখানার বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিশদ সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকট এবং পরবর্তীকালে তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে দেশের নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের ৮৭ শতাংশই যথাসময়ে পণ্য শিপমেন্ট করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার খেসারত হিসেবে বিদেশি ক্রেতাদের মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুইজন পোশাক প্রস্তুতকারক।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোর মধ্যে ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংকটের প্রভাবে এবং ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংকট চলাকালে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে গিয়ে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানার উৎপাদন ব্যয় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সমপরিমাণ কারখানা মারাত্মক শ্রমঘণ্টার অপচয়ের মুখে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটের এই বহুমুখী অভিঘাত পোশাক খাতের সামগ্রিক ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ উদ্যোক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের আস্থা হারানোর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিন-চতুর্থাংশের বেশি কারখানা তাদের উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি ১০ জন মালিকের মধ্যে ৬ জনই জানিয়েছেন যে চলমান পরিস্থিতির কারণে তারা ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

/আশিক


 ফেডের সুদের হার বাড়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৪৪:১৭
 ফেডের সুদের হার বাড়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো পূর্বাভাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদবিহীন নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইউবিএস-এর পণ্য বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, বিগত সপ্তাহে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের পর বিনিয়োগকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছেন; তদুপরি বিশ্ববাজারে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৯ শতাংশে ঠেকেছে, যা গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পূর্বে ছিল ৬৭ শতাংশ। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এইচএসবিসি-র মতো শীর্ষ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধারণা করছে, মঙ্গল ও বুধবারের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে পারে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দর ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৯ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯২ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওঠানামার মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

/আশিক


আইবাস প্লাস প্লাসে জটিলতা: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২০:০২:১৮
আইবাস প্লাস প্লাসে জটিলতা: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এ কারিগরি জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির ফলে সফটওয়্যারে ভগ্নাংশের হিসাব ও পে-ফিক্সেশনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাংশ আগে কারিগরি সমাধান সম্পন্ন করে পরে গেজেট প্রকাশের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে জটিলতা দ্রুত নিরসন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের খসড়া গেজেট আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে কর্মচারীদের পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতার তথ্য যাচাই করে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু একাধিক ধাপে ফিক্সেশন করতে গিয়ে সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। এই কারিগরি বাধা দূর হলেই আনুষ্ঠানিক গেজেট জারি এবং ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হবে।

/আশিক


টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:১৮:৫২
টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
ছবি : সংগৃহীত

টানা দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে নিম্নমুখী থাকলেও দিনের শেষভাগে ধাতুটির দর ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৩ দশমিক ০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে শুক্রবারের এই মূল্যবৃদ্ধির পরও পুরো সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশের পর আগামী সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক নীতিগত সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণত সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়। তবে ধাতু বিশেষজ্ঞ তাই ওয়ং জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর স্বর্ণের বর্তমান মূল্য নির্দেশ করছে যে বাজারে স্বল্পমেয়াদি একটি মজবুত ভিত্তি (প্রাইস বেস) তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৮ দশমিক ৯০ ডলারে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২০:১৯:২৪
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা রেনমিনবির (ইউয়ান) মান সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৩ পিপস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৭৬৬-এ।

চীনের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী, দেশটির স্পট বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় সমাপনী মধ্যমূল্যের সাপেক্ষে ইউয়ানের দর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করার সুযোগ থাকে। মূলত আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার খোলার আগে অনুমোদিত বাজার-নির্ধারক সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত দরের গড়ের ওপর ভিত্তি করেই এই আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়।

তথ্যসূত্র: সিএমজি


আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২০:০৪:৪৯
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মিশ্র প্রবণতা, নজর মার্কিন মূল্যস্ফীতিতে
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের বিনিময় মান কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে বাজারে বড় কোনো পরিবর্তনের আগে বিনিয়োগকারীদের মূল দৃষ্টি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত ডেটার দিকে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রধান নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৫ দশমিক ০৯ ডলারে উঠেছে, যদিও একই সময়ে মার্কিন ফিউচার্স মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৮০ ডলারে অবস্থান নেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলার সূচক কিছুটা দুর্বল থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়েছে, যা মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদাকে চাঙ্গা রেখেছে। তবে বাজার এখন দেশটির প্রযোজক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং শুক্রবার প্রকাশিতব্য ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার অনুমানের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেলে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্বর্ণের মূল্যের ওপর তীব্র নিম্নমুখী চাপ তৈরি করার ঝুঁকি রাখে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের এই সামান্য বৃদ্ধির বিপরীতে দেশের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্যের তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরিপ্রতি দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭০০ টাকা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকায়।

/আশিক


বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৯:২৯:৫২
বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশের প্রাক্কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অবস্থান তৈরি হওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দর কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে তাৎক্ষণিক লেনদেন হওয়া বা স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। যদিও কার্যদিবসের শুরুতে লেনদেনের একপর্যায়ে মূল্যবান এই ধাতুর দর ৪ হাজার ৪৪২ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল।

সমান্তরালভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারের দরও শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৪৩৫ ডলারে স্থিতি পায়। দিনের শুরুর ভাগে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৪১৮ দশমিক ৭৯ ডলারে ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে লেনদেনে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির উপাত্ত নিয়ে লগ্নিকারীদের সাবধানী প্রতিক্রিয়াই মূলত স্বর্ণের বাজারে এই নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজারে এমন শঙ্কা রয়েছে যে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করলে সুদবিহীন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে পুঁজি খাটানোর আগ্রহ কমে যায়।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অস্থিরতার জেরে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ফলে ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা মাথাচাড়া দিয়েছে।

বর্তমানে স্বর্ণবাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআই এবং ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য এই দুটি অর্থনৈতিক সূচক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মূল্যস্ফীতি যদি পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি দেখা যায়, তবে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হবে, যা স্বর্ণের দরপতনকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকার ইঙ্গিত মিললে নীতিমালার ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার প্রত্যাশা বাড়বে এবং স্বর্ণের দাম আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

এদিকে বৈশ্বিক বাজারের এই প্রভাবের মাঝে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত হার অনুযায়ী, সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকায়। এছাড়া বাজারে বর্তমানে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকায়।

/আশিক


মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৮:২৯:১১
মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি মাসেই সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২১ দশমিক ০৪ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দরও ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯০ ডলারে। ফেডের আসন্ন মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা বুঝতে বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চলতি সপ্তাহের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) এবং ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তথ্যের দিকে নজর রাখছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী চাকরির বাজার প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে ৫৮ শতাংশে উন্নীত করেছে। সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।

একই দিনে স্পট রুপার দাম কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ০৬ ডলারে নামলেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে; যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।

/আশিক


তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১০:০২:০২
তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা তিন দফা দরপতনের পর আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আজ শুক্রবারও দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দর বহাল থাকবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দর চূড়ান্ত করা হয়। এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকেই তা কার্যকর হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। একই পরিমাণ ২১ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে লাগবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা।

এর ঠিক আগের দিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ২৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ফলে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই পতনের চেয়েও বড় অঙ্কে দাম বেড়ে গেছে। বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বা প্রায় ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

সাম্প্রতিক দর পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এই বৃদ্ধির আগে দেশের বাজারে টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ফলে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বড় বৃদ্ধিতে সেটি আপাতত থেমে গেছে। স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের বাজারদরের পরিবর্তনকেই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাজুস।

দেশীয় বাজারের এই পরিবর্তনের সময় আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ দশমিক ৮৭ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্স ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৭০ ডলারে ওঠে। ফলে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও মূল্যবান ধাতুটির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার নতুন মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা রাখা হয়েছে।

এবারের মূল্যতালিকায় ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ও স্পষ্ট করেছে বাজুস। ঘোষিত স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকার নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত দামের ওপর স্বর্ণের জন্য আলাদাভাবে ভ্যাট যোগ করার সুযোগ নেই। তবে অলংকারের নকশা, কারুকাজ ও তৈরির জটিলতার ওপর ভিত্তি করে মজুরি যুক্ত হবে। সে কারণে দোকানে গহনা কেনার সময় একজন ক্রেতার চূড়ান্ত ব্যয় বাজুস ঘোষিত স্বর্ণের মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া পুরোনো স্বর্ণ বা রুপার অলংকার বিনিময় কিংবা বিক্রির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট, অলংকার তৈরির মজুরি এবং ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করার বিধান কার্যকর থাকবে। পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বশেষ নির্ধারিত দর অনুসরণ করতে হবে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: