দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ২১:৫৮:৫৯
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মির্জা ফখরুল বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্রের সংকটকালীন সময়ে অভিভাবকত্ব দেওয়ার মতো একজন সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বকেই সর্বোচ্চ পদে আসীন করতে চায়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে থাকা মির্জা ফখরুল রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়তে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং সাবেক এই অর্থনীতিবিদ ঢাকা কলেজের শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কোনো দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা, জিয়া পরিবারের প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং শালীন আচরণের কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও আন্তর্জাতিক মহলে রাষ্ট্রপতির মতো ভারসাম্যপূর্ণ সাংবিধানিক পদের জন্য তাঁকে উপযুক্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত হবেন। ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে ভোটার তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।

/আশিক


জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না — ১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:০৬:০৯
জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না — ১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ১১ দলীয় জোট ও দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও পরীক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে সবাই তাঁকে এই যোগ্য সম্মান দিয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচিত হলে কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানে থেকে তিনি ও তাঁর জোট কখনো জাতির সাথে বেইমানি করবেন না এবং জনগণের স্বার্থরক্ষায় পাশে থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের শীর্ষ বৈঠকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচন-পরবর্তী পদক্ষেপ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের বর্তমান ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। উল্টো নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের চক্রান্ত চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে স্বপদে বহাল রেখে তাকে বিচারহীনভাবে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়া সন্দেহজনক, যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

আগামীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও ক্ষমতার ভারসাম্য বিচারে রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি অতীতের রাজনৈতিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার কারণেই অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে সর্বসম্মতভাবে প্রার্থী করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

/আশিক


এটা সংস্কার নয়, হস্তান্তর: নতুন জ্বালানি নীতি নিয়ে জামায়াতের তোপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ২১:৫৮:৩৯
এটা সংস্কার নয়, হস্তান্তর: নতুন জ্বালানি নীতি নিয়ে জামায়াতের তোপ
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন প্রক্রিয়া বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ কোনো সংস্কার নয়, বরং 'হস্তান্তর'। এর ফলে জ্বালানি খাতে সরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থার বদলে বেসরকারি সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া ব্যবসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢালাওভাবে বেসরকারিকরণের বিরোধিতা না করলেও যেসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতি, সরকারের উচ্চপর্যায়ের লুটপাট বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল হিসেবে সরব হওয়া জরুরি। দলটির দাবি, সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে সরানোর চার দিনের মাথায় বেসরকারি খাতে তেল বাণিজ্য উন্মুক্ত করার জন্য দ্রুত খসড়া নীতিমালার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি না হয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে পুরো খাতটি জিম্মি হয়ে পড়তে পারে। কারণ গভীর সমুদ্রবন্দর, ট্যাংক টার্মিনাল ও বিপুল আর্থিক সক্ষমতার মতো অবকাঠামো বাংলাদেশে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে।

বিপিসিকে 'অদক্ষ' ও 'লোকসানি' বানিয়ে বেসরকারিকরণের যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তাও নাকচ করে দেয় দলটি। সংবাদ সম্মেলনে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছয়টি স্পষ্ট দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা, খসড়া নীতিমালা জনসম্মুখে প্রকাশ করে ৬০ দিন মতামত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া, সংসদীয় কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি করা, বেসরকারিকরণের বদলে বিপিসির প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা বহাল রাখা। অনুষ্ঠানে দলের নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দিল্লির সুরক্ষিত এলাকায় গোপন বৈঠক: বাংলাদেশে কোন বড় নাশকতার ছক কষছেন শেখ হাসিনা?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১০:৪১:৫৩
দিল্লির সুরক্ষিত এলাকায় গোপন বৈঠক: বাংলাদেশে কোন বড় নাশকতার ছক কষছেন শেখ হাসিনা?

ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর যৌথ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে একটি বহুমাত্রিক ও চতুর্মুখী নাশকতার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই নীল নকশার মূল লক্ষ্য হলো ঢাকাসহ সারাদেশকে একযোগে অস্থিতিশীল করে তোলা, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অকার্যকর প্রমাণ করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি ভঙ্গুর ও উগ্রবাদকবলিত রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রায়িত করা। দিল্লির সুরক্ষিত 'লুটিয়েন্স জোন'-এ আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনার বাসভবনে গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দু দফায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকে এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন এবং ঢাকার সাবেক ১০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মোট ২২ জন পলাতক নেতা এই বৈঠকে সরাসরি অংশ নেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকাকে অস্থিতিশীল করতে পেশাদার খুনি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারী, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার, এমনকি ভারতের গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণে থাকা পুনর্গঠিত জঙ্গি সংস্থাকে একই ছাদের নিচে নিয়ে এসে কাজ করার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাটিকে প্রধানত চারটি কৌশলগত স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম স্তরে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গোপন ক্যাডারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ ঘটানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা জনমনে সার্বক্ষণিক ভীতির সঞ্চার করবে। দ্বিতীয় স্তরে, রাজধানী ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত কিলার ও অস্ত্রধারীদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ সংগঠকদের ওপর টার্গেট কিলিং বা সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ডগুলোর মাধ্যমে একাধারে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হবে এবং তার দায় প্রতিপক্ষ কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপিয়ে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা হবে। তৃতীয় স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি) নতুন মোড়কে সক্রিয় করার এক বিপজ্জনক চক্রান্ত। ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার মাস্টারমাইন্ড শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের ভাগ্নে নাবিল আহমেদকে ভারতের মাটিতে বসিয়ে এই নেটওয়ার্কের মূল নেতৃত্বে আনা হয়েছে। তাকে কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা তৈরিতে সহযোগিতা করছেন ভারতে অবস্থানরত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও এসবি প্রধান মনি রুল ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে 'ছাতা বোমা' এবং আশুলিয়ায় 'প্রেসার কুকার বোমা' উদ্ধারের ঘটনাগুলোকে গোয়েন্দারা এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রাথমিক মহড়া বা ট্রায়াল হিসেবে দেখছেন।

পরিকল্পনার চতুর্থ এবং সবচেয়ে জটিল স্তরটি সাজানো হয়েছে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকে হাতিয়ার করে এক প্রক্সি ওয়ার বা ছদ্মযুদ্ধ চালুর মাধ্যমে। দেশের প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সাম্প্রতিক মতপার্থক্য ও বিচ্ছিন্ন সংঘাতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাত্রলীগের বাছাই করা সশস্ত্র ক্যাডাররা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ শিক্ষার্থী বা অন্য দলের পরিচয়ে সংঘাতের ভেতরে ঢুকে পড়বে এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে 'লাশ ফেলার' পরিস্থিতি তৈরি করবে। ফলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর মধ্যে চিরধরে যাবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অচলাবস্থা তৈরি হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল বাজেটের জোগান দিচ্ছেন ভারতে পলাতক গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং রাজধানীর গুলশানে বসবাসকারী যুবলীগের এক কোটিপতি নেতা। কেবল শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও এই চক্রান্তের বড় অংশ হয়ে উঠেছেন। ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০4 জন প্রগতিশীল শিক্ষক একটি এনক্রিপ্টেড সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপে 'সিস্টেম আপডেট' ও 'মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটে'-এর মতো কোডওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন বৈঠক করছেন এবং ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সাথে, দেশের প্রায় চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পদায়ন ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে 'শাহানা' নামের এক বিতর্কিত শিক্ষক নেত্রীর মাধ্যমে সারাদেশে শিক্ষক অসন্তোষ উসকে দিয়ে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে রাজপথ অচল করে সরকার পতনের এক নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে।

যদিও মূল তথ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এসব গোয়েন্দা খবরের প্রতিটি বিস্তারিত বিষয় স্বাধীনভাবে শতভাগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'রেড অ্যালার্ট' মোডে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে সারাদেশে বিশেষ করে পুলিশের নিজস্ব যানবাহন, থানা, পুলিশ লাইনস এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ডিউটি শেষে বা সাময়িক বিরতিতেও কোনো যানবাহন অরক্ষিত না রাখার বিষয়ে কড়া হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো ধরণের অপতৎপরতা নস্যাৎ করতে পুলিশ, র‍্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামানো হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই চতুর্মুখী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া তাড়াতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজন: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:৪৬:৪৮
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া তাড়াতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজন: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদ ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হলেও তাদের ‘কালো ছায়া’ এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংস্কৃতিচর্চা ও আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ের মাধ্যমে এই অপশক্তিকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদা পুনর্প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত বা আদর্শ থাকলেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দেন তিনি। জাতিকে বিভক্ত করার যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় থাকলে আধিপত্যবাদ আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

লেখক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের সভাপতিত্বে এবং ড. মনোয়ারুল ইসলাম, শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, মাহবুব মুকুল ও আহসান হাবীব খানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

উৎসবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিল্পী, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি শহীদ আব্দুল্লাহ তাহিরের মা উপস্থিত ছিলেন। এতে ঐতিহ্যবাহী জারি, কাওয়ালি, গম্ভীরা ও অভিনয়ের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত বিশেষ নাটক ‘রক্তাক্ত জুলাই’ পরিবেশিত হয়।

/আশিক


আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয় মিত্র, তারা বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে: নাছির চৌধুরী এমপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:২৯:৪০
আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয় মিত্র, তারা বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে: নাছির চৌধুরী এমপি
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে ‘মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ অচিরেই এক হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী। একই সাথে নিজ দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিরাই পৌর শহরের থানা পয়েন্টে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আলোচিত মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে এমপি নাছির চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো শত্রু নয়, বরং তারা বিএনপির মিত্র এবং দল দুটি একসাথে লড়াই করেছে। তিনি দাবি করেন, অচিরেই আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে মিশে যাবে। আগামী ৮ আগস্ট বিএনপির ব্যানারে পৃথক সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশই বিএনপির আসল সমাবেশ এবং এর বাইরে অন্য উদ্যোগগুলো দলের ভেতর বিভাজন তৈরি করার ষড়যন্ত্র। নেতাকর্মীদের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে এমপি নাছির বলেন, তিনি একা এবং তাঁর নামে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অসৎ উদ্দেশ্যে সুবিধা করতে না পেরে একশ্রেণীর লোক তাঁর বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তুলছে বলে দাবি করেন তিনি। আর্থিক বিষয়ে সংশয় থাকলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে বাজেটের সঠিক তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর জীবদ্দশায় এলাকায় কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সরদারের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে এমপি নাছির চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভীন আক্তার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামসুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

/আশিক


জুলাই শহীদদের কবর বাঁধানোর বরাদ্দও মেরে খেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: ইশরাক হোসেন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৯:৪৯:৪৩
জুলাই শহীদদের কবর বাঁধানোর বরাদ্দও মেরে খেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: ইশরাক হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন, জুলাই শহীদদের কবর পাকা করার জন্য প্রতি কবরে বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন না করায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানামুখী জটিলতার মুখে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে অন্তর্বর্তী সরকার বহু প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাকে তালিকার বাইরে রেখে গেজেটভুক্ত করেনি। বর্তমান সরকার সেই বাদ পড়া বীরদের সনাক্ত করে দ্রুত গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

কবরের বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদদের কবর বাঁধানোর যে টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেক কবরের সামান্যতম চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। তারা এই শহীদদের তহবিলের টাকাও মেরে খেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আরও এমন বহু স্পর্শকাতর অনিয়মের নথিপত্র সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্টরা মুখ লুকানোর সুযোগ পাবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, একমাত্র বিএনপির ইতিহাসেই দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী বা গণহত্যার মতো কোনো কালো ইতিহাস নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিজেদের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা এসব সত্য মুছে ফেলতে তৎপর, কিন্তু এ দেশের জনগণ কখনোই অতীত ইতিহাস ভুলবে না।

গতকাল বুধবারের (৫ আগস্ট) একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় একটি সুনির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একজন সংসদ সদস্যের উসকানিতে অনাকাঙ্ক্ষিত মব তৈরি করা হয়েছিল। কোনো বিষয়ে দ্বিমত বা অসন্তোষ থাকলে সভ্য ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানো যেত, কিন্তু উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে দেশের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

/আশিক


হাসিনাকে মাইক দেওয়ায় ভারতকে কাঠগড়ায় তুললেন সালাহউদ্দিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:২৪:০৫
হাসিনাকে মাইক দেওয়ায় ভারতকে কাঠগড়ায় তুললেন সালাহউদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রেস মিটে অংশ নিয়ে বিতর্কিত অডিও বার্তা প্রদানের ঘটনায় আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া এবং তাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের ভূখণ্ডভিত্তিক নীতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতকে সরাসরি এই প্রক্রিয়ার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বিভিন্ন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেন, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর তাঁর প্রথম সরাসরি কোনো সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও আনুষ্ঠানিক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত একজন পলাতক আসামিকে অন্য দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের আশ্রয় নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত তাকে আশ্রয় দিতে পারে কিন্তু তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে কেন স্বাধীন প্রচারমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে?

আওয়ামী লীগের বিগত কার্যক্রম ও বর্তমান মানসিকতা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানোর পরেও সংগঠনটির নেতাদের মাঝে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি। বরং প্রবাসে অবস্থান করে তারা ক্রমাগত দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে, যার ফলে দেশের মানুষের ক্ষোভ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে বিএনপির নীতি পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি এককভাবে বা কোনো ধরনের প্রশাসনিক আদেশ (নির্বাহী আদেশ) জারি করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আদালতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন। এছাড়া দীর্ঘ শাসনের গুম, খুন ও নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় রেখে দেশের সাধারণ জনগণই ভোটের মাঠে ও সামাজিক বিচারে দলটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


'মানুষ ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে, বিএনপিকে সত্য মেনে নিতে হবে': রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৯:৪৪:০৯
'মানুষ ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে, বিএনপিকে সত্য মেনে নিতে হবে': রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে স্থানীয় বিএনপি। উক্ত অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন এবং বিএনপিকে এই বাস্তব সত্যটি মেনে নেওয়া উচিত।

বুধবার (৫ আগস্ট) সরাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান এবং এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির কোনো প্রতিনিধি এতে অংশ নেননি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে যেকোনো নেতার উচিত জনগণের দেওয়া রায় মেনে নেওয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের রায়কে যদি সম্মানই না করা হয়, তবে বিগত ১৭ বছর আন্দোলনের কোনো অর্থ থাকে না।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম জানান, রুমিন ফারহানা বিজয়ী সংসদ সদস্য হিসেবে প্রশাসনের দাওয়াত পেয়েছেন। তবে তিনি যেহেতু দল থেকে বহিষ্কৃত, তাই বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন রুমিন ফারহানা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু একটি সরকারের বদল কিংবা পুরনো সুবিধাভোগীদের স্থানে নতুন সুবিধাভোগী তৈরি করতেই কি হাজারো ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন? ৫ আগস্টের আন্দোলনে নিজের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে তাঁর বাড়িঘর ও গাড়ি ভাঙচুরসহ হত্যা মামলাসহ মোট ১০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে আজ কেউই এই অবস্থানে থাকতে পারতেন না বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সরাইল উপজেলার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

/আশিক


৫ আগস্টের ভরদুপুরে দেশত্যাগ: গণভবন থেকে ভারতের ফ্লাইট পর্যন্ত যা ঘটেছিল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৯:৩০:২৮
৫ আগস্টের ভরদুপুরে দেশত্যাগ: গণভবন থেকে ভারতের ফ্লাইট পর্যন্ত যা ঘটেছিল
ছবি : সংগৃহীত

অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাঁচই আগস্ট (ছত্রিশে জুলাই) ভরদুপুরে ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত রাজপথ ও উত্তাল জনরোষের মুখে তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সামরিক বিমানে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। নাটকীয় এই দেশত্যাগের পটভূমিতে আকাশপথের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার যাত্রার গতিপ্রকৃতি, বিমানে থাকা সহযাত্রী ও সেনাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর। সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য পাওয়া গেলেও, স্পর্শকাতরতার কারণে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি এবং তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।

ঘটনার দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে লাখো মানুষের ঢল রাজধানীতে প্রবেশ করে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে গণভবনের দিকে জনস্রোত ধেয়ে আসলে দুপুরের আগেই পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। সংকটময় মুহূর্তে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিটের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পরপরই বাণিজ্যমেলার কাছাকাছি স্থানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি ‘এমআই-১৭’ হেলিকপ্টার অবতরণ করে এবং শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে উড্ডয়ন করে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গণভবন থেকে তাঁদের উদ্ধার করে আনা এই হেলিকপ্টারের চালক ও সহকারী চালকের দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে এয়ার কমোডর আব্বাস এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল ৩টার কাছাকাছি সময়ে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। এই রেসকিউ মিশন চলাকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে কর্মরত উইং কমান্ডার কানিজ ফাতেমা সংক্ষিপ্ত বেতার বার্তার মাধ্যমে সামরিক হেলিকপ্টারটির গতিপথ ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোলকে অবহিত করেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছিল। বিশেষ করে গণভবন থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশলটি কেবল হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার জানা ছিল। মিশন বাস্তবায়নে বিমানবাহিনীর স্পেশাল ফ্লাইং ইউনিটকে ব্যবহার করা হয় এবং বিমানবন্দরে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন এয়ার বেইজ কমান্ডার নিজেই।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য মতে, কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই একটি ‘সি-১৩০ জুলিয়েট’ সামরিক পরিবহন বিমান চালু অবস্থায় প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানটির অভ্যন্তরে আগেই অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তাঁর স্ত্রী শাহিন সিদ্দিকী, তাঁদের দুই কন্যা ও জামাতা।

হেলিকপ্টার থেকে নামার পর বিমানবন্দরেই শেখ হাসিনা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে আন্দোলনের সার্বিক অবস্থা জানতে চান। সে সময় তাঁকে গণভবনমুখী বিপুল জনস্রোত ও সরকার পতনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি নিজের দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা শাসনের অবসান ঘটার বিষাদময় খবরটি পান।

পরবর্তীতে হাসিনাকে নিরাপদে ভারতের মাটিতে পৌঁছে দিয়ে বিমানের ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীরা ওই দিনই ঢাকায় ফিরে আসেন। ঘটনার কিছুদিন পর এই মিশনের অন্যতম পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয় এবং কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত আছেন। পুরো রেসকিউ মিশন পরিচালনায় মূল দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি, যিনি ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির সন্তান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: