দল থেকে বহিষ্কৃত তবুও এমপি! গাজী নজরুলের ঘটনায় সংসদে নতুন আইনের দাবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্যদের জন্য অবিলম্বে বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি উল্লেখ করে, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি মরিয়মের মৃত্যু এবং পূর্বে উত্থাপিত যৌন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকেই অপরাধী বলা যায় না। তবে একজন আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠা জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালত করলেও সংসদ সদস্যের নৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংসদের দায়িত্ব।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গাজী নজরুলের পদমর্যাদা নিয়ে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশন কী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জনগণের সামনে দ্রুত স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ড হলে তবেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। সে কারণে শুধু গ্রেপ্তার, রিমান্ড বা দলীয় সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি করে না। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বা সংসদের মর্যাদা নষ্টকারী আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা জরুরি।
সংস্থাটি জানায়, সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১০ সালে একটি বিল উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট কন্ডাক্ট অ্যাক্ট’ প্রণয়নের জোর সুপারিশ করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকার পরও কেন বাধ্যতামূলক আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
/আশিক
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ৭টি নীরব লক্ষণ যা সাধারণ ভেবে ভুল করেন অনেকেই
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অত্যন্ত মৃদু ও সাধারণ হওয়ায় শুরুতে অনেকেই তা সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা মনে করে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি শনাক্ত হতে হতে এটি অনেক সময় শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সময়মতো সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
মানবদেহের পাকস্থলীর ঠিক পেছনে ও পেটের উপরিভাগে অবস্থিত ক্ষুদ্র এই অঙ্গটি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। তবে অগ্ন্যাশয়ে যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পায় এবং টিউমার গঠন করে, তখনই ক্যানসারের রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের এমন ৭টি পূর্বলক্ষণ তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষ প্রায়ই গুরুত্ব দেন না।
প্রথমত, ৫০ বছর বয়সের পর কোনো পূর্বকারণ ছাড়া হঠাৎ ডায়াবেটিস দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, কারণ অগ্ন্যাশয়ের টিউমার ইনসুলিন নিঃসরণে সরাসরি বাধা তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যভ্যাস বা ব্যায়াম ব্যতিরেকে হঠাৎ দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া শরীর খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণে ব্যর্থ হওয়ার সংকেত দেয়।
তৃতীয়ত, অগ্ন্যাশয় চর্বি হজমকারী এনজাইম তৈরিতে বাধাগ্রস্ত হলে মলের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া, তৈলাক্ত ভাব দেখা যাওয়া কিংবা মলে চর্বি ভেসে ওঠার মতো পরিবর্তন ঘটে। চতুর্থত, আঘাত বা পেশির টান ছাড়াই পিঠের মাঝখানে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দেওয়াও একটি বড় লক্ষণ; অগ্ন্যাশয় পেটের গভীরে থাকায় এর যন্ত্রণা প্রায়শই পিঠে প্রতিফলিত হয়।
পঞ্চমত, চোখ ও ত্বক হঠাৎ হলুদ হয়ে জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দেওয়া ক্যানসারের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত, যা মূলত অগ্ন্যাশয়ের মাথায় তৈরি হওয়া টিউমার পিত্তনালি অবরুদ্ধ করলে ঘটে থাকে। ষষ্ঠত, পছন্দের খাবারের প্রতি হঠাৎ অনিচ্ছা, গা গুলানো বা অল্প খেতেই পেট ভরে যাওয়ার মতো অনুভূতিকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।
সর্বশেষ, ত্বকে কোনো ধরনের ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি না থাকা সত্ত্বেও সারা শরীরে একটানা তীব্র চুলকানি হওয়ার অর্থ হলো পিত্তনালি বন্ধ হয়ে রক্তে পিত্তলবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্যানসারের একটি আড়াল হওয়া লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ এগুলো অন্য কোনো সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে একাধিক উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
/আশিক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সকালে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে তিনি অংশ নেন।
বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত একটি বিশেষ স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও তাদের সফরসঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব এই আনুষ্ঠানিক প্রাতরাশের আয়োজন করেন।
/আশিক
'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে জনগণের সহানুভূতি ও সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার উৎখাত বা পদত্যাগের দাবি তোলা হতো, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে তেমন দাবি করা সমীচীন হবে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করে, যা কার্যকর হয়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জনগণের সহানুভূতি প্রত্যাশা করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং সামনেও হতে পারে। বিগত আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পূর্বে অনির্বাচিত সরকারের সময় যেকোনো পণ্য বা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সরকারে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগ দাবি করা হতো, কারণ জনগণ সে সরকারকে নিজেদের বলে গণ্য করত না। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার হওয়ায় জনগণের উচিত বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা।
মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে পরিস্থিতি আরও সহনীয় রাখা যেত বা মূল্য বৃদ্ধি কিছুটা কম করা যেত—তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আসতেই পারে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জ্বালানির দর নিয়ন্ত্রণ একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা নির্বাচনেও প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় অজনপ্রিয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকি সৃষ্টি করলেও, সরকার কোনো ধরনের অসাধু পথ অবলম্বন না করে বাস্তবতা মেনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। আইএমএফ সাধারণত অতিরিক্ত ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিলেও সরকার সর্বদা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো নিজেদের বিবেচনাতেই পরিচালনা করে আসছে।
সাম্প্রতিক বাসে আগুন ও ককটেল হামলার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
/আশিক
দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ভারতের সবুজ সংকেত
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মঞ্জুর করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের পক্ষ থেকে সরকারের ইতিবাচক সম্মতিপত্র বা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নয়াদিল্লি এই অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের বিষয়টি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনা-কল্পনা ও অস্পষ্টতার অবসান ঘটল।
পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। একই পদে রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলে পরিবর্তনের পর তাকে জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে বদলি করা হয়েছে।
১৯৯৫ সালে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদানকারী আসাদ আলম সিয়াম গত বছরের জুনে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার পূর্বে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ফিলিপাইন ও অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত, ইতালির মিলানে কনসাল জেনারেল এবং যুক্তরাজ্যসহ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রটোকল প্রধান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবেও তিনি নিযুক্ত ছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত সরকার সাবেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও তাদের সবচেয়ে প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে পদায়নের পথ বেছে নেয়।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দেয়।
পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এখনো ঢাকার জন্য আলোচনার একটি প্রধান সংবেদনশীল বিষয় হয়ে রয়েছে।
/আশিক
দাম বাড়ার পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান গুণতে হবে: রিজভী
জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হলেও সরকারকে এখনো লিটারপ্রতি প্রায় ৭০ টাকা করে লোকসান গুনতে হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২০৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দাম বাড়ানোর আগে সরকারের লোকসান ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ৯০ টাকা। বছরে দেশে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। সাধারণ মানুষের ওপর এর চাপ বাড়ার কথা স্বীকার করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর জটিল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের বাধ্যবাধকতায় মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে আপাতত কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কম দামে জ্বালানি সরবরাহের উপায় নিয়ে বিরোধীদের সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তাদের সহযোগীরা এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অপপ্রচার ও সহিংসতার প্রতিবাদে দলের অঙ্গ, সহযোগী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো নানা কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
/আশিক
জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া পরিবারের তৃতীয় উত্তরাধিকার
১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বৈশ্বিক বৈষম্য ও দারিদ্র্যের স্থায়ী রূপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর জোর দিয়েছিলেন। প্রায় ১৬,৮৩০ দিন পর, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁরই পুত্র এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যা জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
১৯৮০ সালের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে জিয়াউর রহমান যখন বিশ্ব বাণিজ্যের কাঠামোগত বৈষম্য, কমতে থাকা সাহায্য এবং তেলের সংকটে গরিব দেশের অসহায়ত্ব তুলে ধরে আত্মনির্ভরশীলতার ডাক দিয়েছিলেন, তখন সেটি আধুনিকায়ন তত্ত্বের নীরব অপেক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। এরপর ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন অধিবেশনে পাঁচবার বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রেখে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও মর্যাদা নিয়মিতভাবে তুলে ধরেছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে সেই পুরোনো প্রশ্নটি নতুন রূপ নিয়েছে, যেখানে পণ্য বা জ্বালানির পাশাপাশি কার্বন, পানি, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু অর্থায়ন একবিংশ শতাব্দীর নতুন অর্থনৈতিক ন্যায়ের প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বসংকট। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের ‘Climate Action and the Just Transition’ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরদিন তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করবেন।
বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান নামমাত্র প্রায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ হলেও, ২৪০৪ সালের ওয়ার্ল্ড রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী দেশটি জলবায়ু ঝুঁকিতে নবম অবস্থানে রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বসতি এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হওয়া বাংলাদেশকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে বাধ্য করছে।
জলবায়ুসংকটের পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সহিংসতা এড়িয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন রোহিঙ্গার বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি ও এর বহুমুখী প্রভাব দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
২০২৬ সালে জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল আবেদন করলেও বিগত বছরের তুলনায় তা ২৬ শতাংশ কম, অথচ সংকটটি ইতিমধ্যেই নবম বছরে পদার্পণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো, যেহেতু এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধান ও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনও সেই দেশেই নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তাটিই বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ কূটনৈতিক গৌরব বয়ে এনেছে, কারণ বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ১৯০টি ভোটের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই সর্বোচ্চ আসনে বাংলাদেশ আসীন হওয়ার পাশাপাশি একই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করায় এটি এক বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
১৯৮০ সালে শহীদ জিয়ার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সূচনা, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার বৈশ্বিক সরব উপস্থিতি এবং বর্তমান বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, জলবায়ু ন্যায়বিচার, প্রযুক্তিগত অধিকার ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার লড়াই এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের এই ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল একটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির উপস্থাপন নয়, বরং চার দশক আগের সেই আত্মমর্যাদাশীল কণ্ঠেরই নতুন রূপ, যা বিশ্বকে জানিয়ে দেবে বাংলাদেশ তার ইতিহাসকে ধারণ করে নিজস্ব ভবিষ্যৎ নিজেরা নির্মাণ করতে প্রস্তুত।
/আশিক
সাইবার অপরাধ দমনে চীনের সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ঘোষণা
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সিআইডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ ঘোষণা দেন তিনি।
বৈঠকে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন ও প্রশিক্ষণ বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূতের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তিনি চীনের মিনিস্টার অব পাবলিক সিকিউরিটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে জানানো হয়, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের একশতের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে সাইবার ক্রাইম, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষায়িত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন ও অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। দেশজুড়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনের সাইবার ল্যাব ও প্রযুক্তি পরিদর্শনের পর এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে ফরেনসিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করবে। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
/আশিক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে নতুন মৃত্যুর পরিসংখ্যান সামনে এল
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ২২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহজনক হামে মোট ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছেন ১০১ জন। এই একই সময়ের মধ্যে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনে এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৪৬ জন। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন রোগী এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন।
/আশিক
জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ইতালীয়দূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্পিকার বলেন, ১৯৭২ সালে ইতালির স্বীকৃতিদানের মাধ্যমেই দুই দেশের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং তখন থেকেই বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে অকৃত্রিম সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং অভিবাসীদের জন্য দেশটি সবসময় উদারতা দেখিয়ে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা শুরুর বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকার জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রসারের ফলে বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এছাড়া বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং রোহিঙ্গা সংকটে ইতালির আর্থিক সহায়তার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালির বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্পিকার।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ইতালির দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধু এবং দেশটির গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালি সবসময় শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে। সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং প্রতিনিধি দল বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিকপণ্য রপ্তানির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, সংসদীয় কূটনীতি জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নিরসন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বৈঠকে উভয় দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও সংসদ সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- দল থেকে বহিষ্কৃত তবুও এমপি! গাজী নজরুলের ঘটনায় সংসদে নতুন আইনের দাবি
- দ্রুত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন আবহাওয়া দুর্যোগ
- অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ৭টি নীরব লক্ষণ যা সাধারণ ভেবে ভুল করেন অনেকেই
- নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যুক্ত হলেন জাতীয় দলের তারকা পেসার
- মার্কিন ডুবোজাহাজ দখলের দাবি ইরানের, শুরু হচ্ছে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব
- 'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে বাসে আগুনের রহস্য: রাশেদ খাঁন
- ইরানের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিল ওয়াশিংটন
- দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ভারতের সবুজ সংকেত
- চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আকাশে উড়ন্ত রহস্যময় বস্তু
- পাইপলাইন মেরামতের জন্য যেসব এলাকায় মঙ্গলবার গ্যাস থাকবে না
- তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলোর পিণ্ড: নতুন করে জল্পনা শুরু
- নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে: আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- দাম বাড়ার পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান গুণতে হবে: রিজভী
- জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া পরিবারের তৃতীয় উত্তরাধিকার
- দেবিদ্বারে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের তাণ্ডব: প্রাণ গেল মা ও শিশুর
- কম বয়সে চুল পড়ার প্রধান তিনটি কারণ ও এর প্রতিকার
- পুরোনো সহযোগীকে পাশে নিয়ে নতুন মিশনে নামছেন ধোনি
- আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেন এমপি নজরুল
- শিশুদের কল্যাণে অনন্য নজির স্থাপন করলেন আর্জেন্টাইন তারকা
- আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচন সম্পন্ন
- অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
- লংমার্চকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে মেনে নেবে না বিএনপি: রিজভী
- সাইবার অপরাধ দমনে চীনের সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ঘোষণা
- সরকারের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত চেপে বসেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে নতুন মৃত্যুর পরিসংখ্যান সামনে এল
- আলোচিত সংসদ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীর রিমান্ড মঞ্জুর
- জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ইতালীয়দূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে মেসির
- যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের
- রোববারের এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
- শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন থেকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- দুর্দান্ত জয়ের পরও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বড় ছন্দপতন
- বিরলে পুষ্টি সংবেদনশীল হর্টিকালচার নার্সারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ
- খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?
- প্রচারচিত্রে বুক চেপে লুটিয়ে পড়লেন ভাইজান! হঠাৎ কী ঘটল ‘বিগ বস’-এর মঞ্চে?
- ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?
- ২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন
- ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় বড় চমক, দেশজুড়ে নতুন ইন্টারনেট ব্যবস্থা আনল গ্রামীণফোন
- বন্ধুত্বের আড়ালে চরম বিশ্বাসঘাতকতা! আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়
- পল্লবীতে সরকারি কলেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন
- রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?
- বৈশ্বিক মঞ্চে নতুন সরকারের অভিষেক: জাতিসংঘ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ১২ ঘণ্টার অভিযানে ধরা পড়ল ৪ জন, অপ্রতিম হত্যায় যা জানাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- অপ্রতিমের মৃত্যু যে প্রশ্ন রেখে গেল: নিরাপত্তা, জনআস্থা ও আইনশৃঙ্খলার নতুন পরীক্ষা
- ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
- ৯ দফা না মানলে ১ দফার ডাক দিতে বাধ্য হব: ডা. শফিকুর রহমান
- কিশোর অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে স্তব্ধ শোবিজ অঙ্গন
- অপ্রতিমের মৃত্যু যে প্রশ্ন রেখে গেল: নিরাপত্তা, জনআস্থা ও আইনশৃঙ্খলার নতুন পরীক্ষা
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
- বিরলে পুষ্টি সংবেদনশীল হর্টিকালচার নার্সারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ
- আগামী কয়েক দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ








