প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও আধুনিক বিদ্যুৎ কাঠামোর পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, শক্তিশালীকরণ ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০ কোটি ডলারের (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকা) ঋণ অনুমোদন করেছে। এই অর্থায়নে মূলত ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল উপশহর ও শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, সক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি করা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই বিশেষ প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীনে পরিচালিত ঢাকার নিকটবর্তী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) আওতাধীন এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য সাবস্টেশনের অতিরিক্ত ওভারলোড, জীর্ণ অবকাঠামো, কারিগরি অপচয় হ্রাস করা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করে কলকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া।
বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং জানান, সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ার পথে আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক অত্যন্ত জরুরি। উন্নত প্রযুক্তি ও শক্তিশালী অবকাঠামোর এই প্রকল্প ঢাকার নিকটবর্তী প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রগুলোকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, যা শিল্প বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের কারিগরি রূপরেখা অনুযায়ী, ৫২টি সাবস্টেশনে ১,১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হবে এবং বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা আরও ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে। এছাড়া ২,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড বিতরণ লাইন নির্মাণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ত্রুটি শনাক্ত করে সঞ্চালন সচল করতে ৯০০টি 'ফল্ট লোকেটর সেট' স্থাপন এবং নদী পারাপারের উপযোগী বিশেষ সঞ্চালন কাঠামো নির্মাণ করা হবে।
২০২২ সালে দেশব্যাপী শতভাগ বিদ্যুতায়ন অর্জিত হলেও শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা বিতরণ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। এডিবি অনুমোদিত মোট ঋণের মধ্যে ১৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার দেওয়া হচ্ছে বিশেষ 'রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং' হিসেবে, যার অধীনে পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে করে কারিগরি অপচয় কমার পাশাপাশি বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ খাতে নারী কর্মী ও নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি বিআরইবি ও পিবিএস কর্মকর্তাদের ডিজিটালাইজেশন, সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা বাড়াবে প্রকল্পটি। ২০ কোটি ডলারের এডিবি ঋণের বাইরে বাংলাদেশ সরকার ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার ও বিআরইবি ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি কোরীয় ফান্ড থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি অনুদানও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
/আশিক
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন এলএনজি আমদানির অনুমোদন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাত এবং দেশীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কাতার থেকে অতিরিক্ত আরও দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের নীতিগত ও আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৬ ও ২২ নভেম্বর দেশে এসে পৌঁছাবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি পর্যায়ে এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি-এর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সামঞ্জস্য রেখে এই অতিরিক্ত দুই কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মারাত্মক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে এলএনজি ক্রয়ের অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রতিষ্ঠান ডারাব ইনক, মাইন্ড মিঙ্গল এলএলসি এবং গ্লোবাল এনার্জি জায়ান্ট টোটাল এনার্জিস ও ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে মোট ছয় কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো পুনর্নবীকরণ ও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় গ্যাসের চাপ (প্রেসার) না পাওয়ায় অনেক শিল্পাঞ্চলে প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সাময়িক ঘাটতি বজায় রয়েছে বলে কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্ট খাতসূত্রে জানা গেছে।
/আশিক
হামের উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও শতাধিক শিশু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৩ জনের দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও এক হাজার ১৫৭ জন শিশুর শরীরে এই রোগের উপসর্গ দেখা গেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৬ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের কারণে ১০১ জন এবং হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ১৫৭ জন শিশুর দেহে রোগের আলামত মেলায় মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। অন্যদিকে, গত একদিনে নতুন ১১৩ জন নিশ্চিত আক্রান্তকে হিসাবভুক্ত করায় দেশে সর্বমোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।
বিগত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত হামের সন্দেহভাজন লক্ষণ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন মোট এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থতা লাভ করে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।
/আশিক
পাসপোর্ট খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে যেসব নিয়ম মানতে হবে
হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু করার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাসপোর্ট হারানো বা চুরির বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত অনলাইনে রির্পোট করার পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা বাধ্যতামূলক।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে উপসচিব মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নির্ধারিত ফি দিলেই চলবে, কোনো বাড়তি জরিমানা বা দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে একই ঘটনা দ্বিতীয়বার বা পরবর্তীতে পুনরায় ঘটলে, সাধারণ পাসপোর্ট ফির পাশাপাশি প্রতিবার ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দণ্ড ফি প্রদান করতে হবে।
পরিপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট একটি স্পর্শকাতর জাতীয় ভ্রমণ দলিল যা খোয়া গেলে মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি হারানো বা নষ্টের অজুহাতে পুনঃইস্যুর আবেদন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্র বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে অনলাইন প্রতিবেদন দিতে হবে। পাশাপাশি থানায় জিডি করার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পাঠাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে পুলিশি রিপোর্ট না এলেও জিডির কপি জমা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে এবং কর্তৃপক্ষ ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা ব্যক্তি যদি ভিসা প্রক্রিয়ার অজুহাতে পাসপোর্ট অবৈধভাবে আটকে রাখে এবং ফেরত না দেয়, সে ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টটি বাতিল বা ‘রিভোক’ করে নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া হারানো পাসপোর্টের তথ্য ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) এবং প্রয়োজনবোধে ইন্টারপোলে আপডেট করা হবে। বিদেশে থাকাকালীন এই ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট অফিসে অবহিত করে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
পুনঃইস্যুকৃত নতুন পাসপোর্টের ডাটাবেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ লেখা থাকবে। আবেদনকারীর সুবিধার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আংশিক নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের সনাক্তযোগ্য অংশ থাকলে তা জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট মিলবে, তবে পুরো নষ্ট হলে হারানো পাসপোর্টের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আবেদনকালে নাম, পিতা-মাতার নাম কিংবা জন্মতারিখ পুরোপুরি পরিবর্তন করা যাবে না, কেবল আইনি বিধিসম্মত আংশিক সংশোধন বিবেচনা করা হবে।
একবার হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্ট বাতিলের (রিভোক) পর যদি পুনরায় তা ফেরতও পাওয়া যায়, তবে সেটিকে আর সক্রিয় করা যাবে না বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। অকার্যকর পাসপোর্টটি উদ্ধারের খবর দ্রুত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়ে দিতে হবে। পূর্বের পরিপত্র ও নির্দেশনাসমূহ সংশোধন করে নতুন এই নিয়ম জারি করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
/আশিক
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চীন সরকারের নতুন ভাবনা
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশকে এ অঞ্চলে পণ্য উৎপাদনভিত্তিক প্রধান কেন্দ্র বা প্রোডাকশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষভাবে আগ্রহী। তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিকস সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শুরু থেকেই ঘনিষ্ঠ ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীন সরকারের কার্যকর ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন স্পিকার।
জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী ও যৌথ সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ বা এক চীন নীতিকে সমর্থন করে আসছে এবং ভবিষ্যতে এই নীতিতে অবিচল থাকবে। ভোলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতায় চীন সরকারের সমর্থন প্রত্যাশা করেন স্পিকার।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কড়া বার্তা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের কঠোর সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খনিজ তেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বায়ুমণ্ডলকে বর্জ্য ফেলার স্থান বা নর্দমার মতো ব্যবহার করে চলেছে।
গুতেরেস উল্লেখ করেন যে, খনিজ জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী মহলগুলো স্বেচ্ছায় এই পথ থেকে সরে আসবে না। বহু দশক ধরে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো পরিবেশ ও বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে একদিকে যেমন ক্ষতিসাধন করেছে, অন্যদিকে নিজেরা পকেটস্থ করেছে বিপুল অংকের অর্থ।
জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি পশ্চিমা তেল কোম্পানি প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। অথচ অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গঠিত তহবিলে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
খনিজ জ্বালানি শিল্পের এমন একচেটিয়া প্রভাবকে অতীতে তামাক কোম্পানিগুলোর জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন গুতেরেস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিবেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে যারা সর্বোচ্চ মুনাফা লুটছে, পরিবেশ পুনরুদ্ধারের আর্থিক দায়ভারও মূলত তাদেরই বহন করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে ইতিহাসের রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হিমবাহ ধসে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যায় নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। পরিবেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে জাতিসংঘ প্রধান পরিবেশ দূষণের জন্য সরাসরি তেল কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করলেন।
সামনে আশার আলো রয়েছে উল্লেখ করে গুতেরেস বিশ্বজুড়ে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত প্রসারের প্রতি জোর দেন। তিনি জানান, পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে বর্তমানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ শক্তির উৎস হিসেবে উঠে এসেছে এসব নবায়নযোগ্য শক্তি।
/আশিক
দল থেকে বহিষ্কৃত তবুও এমপি! গাজী নজরুলের ঘটনায় সংসদে নতুন আইনের দাবি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্যদের জন্য অবিলম্বে বাধ্যতামূলক নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি উল্লেখ করে, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি মরিয়মের মৃত্যু এবং পূর্বে উত্থাপিত যৌন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকেই অপরাধী বলা যায় না। তবে একজন আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠা জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালত করলেও সংসদ সদস্যের নৈতিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংসদের দায়িত্ব।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গাজী নজরুলের পদমর্যাদা নিয়ে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশন কী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জনগণের সামনে দ্রুত স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ড হলে তবেই সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। সে কারণে শুধু গ্রেপ্তার, রিমান্ড বা দলীয় সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি করে না। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার বা সংসদের মর্যাদা নষ্টকারী আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা জরুরি।
সংস্থাটি জানায়, সংসদ সদস্যদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১০ সালে একটি বিল উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট কন্ডাক্ট অ্যাক্ট’ প্রণয়নের জোর সুপারিশ করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকার পরও কেন বাধ্যতামূলক আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
/আশিক
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ৭টি নীরব লক্ষণ যা সাধারণ ভেবে ভুল করেন অনেকেই
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে একটি নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অত্যন্ত মৃদু ও সাধারণ হওয়ায় শুরুতে অনেকেই তা সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা মনে করে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি শনাক্ত হতে হতে এটি অনেক সময় শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সময়মতো সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
মানবদেহের পাকস্থলীর ঠিক পেছনে ও পেটের উপরিভাগে অবস্থিত ক্ষুদ্র এই অঙ্গটি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। তবে অগ্ন্যাশয়ে যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পায় এবং টিউমার গঠন করে, তখনই ক্যানসারের রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের এমন ৭টি পূর্বলক্ষণ তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষ প্রায়ই গুরুত্ব দেন না।
প্রথমত, ৫০ বছর বয়সের পর কোনো পূর্বকারণ ছাড়া হঠাৎ ডায়াবেটিস দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, কারণ অগ্ন্যাশয়ের টিউমার ইনসুলিন নিঃসরণে সরাসরি বাধা তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যভ্যাস বা ব্যায়াম ব্যতিরেকে হঠাৎ দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া শরীর খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণে ব্যর্থ হওয়ার সংকেত দেয়।
তৃতীয়ত, অগ্ন্যাশয় চর্বি হজমকারী এনজাইম তৈরিতে বাধাগ্রস্ত হলে মলের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া, তৈলাক্ত ভাব দেখা যাওয়া কিংবা মলে চর্বি ভেসে ওঠার মতো পরিবর্তন ঘটে। চতুর্থত, আঘাত বা পেশির টান ছাড়াই পিঠের মাঝখানে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দেওয়াও একটি বড় লক্ষণ; অগ্ন্যাশয় পেটের গভীরে থাকায় এর যন্ত্রণা প্রায়শই পিঠে প্রতিফলিত হয়।
পঞ্চমত, চোখ ও ত্বক হঠাৎ হলুদ হয়ে জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দেওয়া ক্যানসারের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত, যা মূলত অগ্ন্যাশয়ের মাথায় তৈরি হওয়া টিউমার পিত্তনালি অবরুদ্ধ করলে ঘটে থাকে। ষষ্ঠত, পছন্দের খাবারের প্রতি হঠাৎ অনিচ্ছা, গা গুলানো বা অল্প খেতেই পেট ভরে যাওয়ার মতো অনুভূতিকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।
সর্বশেষ, ত্বকে কোনো ধরনের ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি না থাকা সত্ত্বেও সারা শরীরে একটানা তীব্র চুলকানি হওয়ার অর্থ হলো পিত্তনালি বন্ধ হয়ে রক্তে পিত্তলবণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্যানসারের একটি আড়াল হওয়া লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ এগুলো অন্য কোনো সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে একাধিক উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
/আশিক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সকালে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে তিনি অংশ নেন।
বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত একটি বিশেষ স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও তাদের সফরসঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব এই আনুষ্ঠানিক প্রাতরাশের আয়োজন করেন।
/আশিক
'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে জনগণের সহানুভূতি ও সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার উৎখাত বা পদত্যাগের দাবি তোলা হতো, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে তেমন দাবি করা সমীচীন হবে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করে, যা কার্যকর হয়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জনগণের সহানুভূতি প্রত্যাশা করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং সামনেও হতে পারে। বিগত আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পূর্বে অনির্বাচিত সরকারের সময় যেকোনো পণ্য বা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সরকারে থাকা ব্যক্তিদের পদত্যাগ দাবি করা হতো, কারণ জনগণ সে সরকারকে নিজেদের বলে গণ্য করত না। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার হওয়ায় জনগণের উচিত বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা।
মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে পরিস্থিতি আরও সহনীয় রাখা যেত বা মূল্য বৃদ্ধি কিছুটা কম করা যেত—তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আসতেই পারে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জ্বালানির দর নিয়ন্ত্রণ একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা নির্বাচনেও প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় অজনপ্রিয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকি সৃষ্টি করলেও, সরকার কোনো ধরনের অসাধু পথ অবলম্বন না করে বাস্তবতা মেনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। আইএমএফ সাধারণত অতিরিক্ত ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিলেও সরকার সর্বদা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো নিজেদের বিবেচনাতেই পরিচালনা করে আসছে।
সাম্প্রতিক বাসে আগুন ও ককটেল হামলার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও আধুনিক বিদ্যুৎ কাঠামোর পথে বাংলাদেশ
- বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন এলএনজি আমদানির অনুমোদন
- বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠক
- শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম
- আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ ও দেশীয় জ্বালানি নীতি নিয়ে সরকারের নতুন ভাবনা
- যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তেহরান
- হামের উপসর্গে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও শতাধিক শিশু
- পাসপোর্ট খোয়া গেলে বা নষ্ট হলে যেসব নিয়ম মানতে হবে
- বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চীন সরকারের নতুন ভাবনা
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে জ্বালানি খাতে বড় আর্থিক চাপ
- সামরিক ক্ষয়ক্ষতির জল্পনায় জল: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে ট্রাম্পের বড় দাবি
- জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে জলবায়ু সংকট নিয়ে কড়া বার্তা
- দল থেকে বহিষ্কৃত তবুও এমপি! গাজী নজরুলের ঘটনায় সংসদে নতুন আইনের দাবি
- দ্রুত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন আবহাওয়া দুর্যোগ
- অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ৭টি নীরব লক্ষণ যা সাধারণ ভেবে ভুল করেন অনেকেই
- নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যুক্ত হলেন জাতীয় দলের তারকা পেসার
- মার্কিন ডুবোজাহাজ দখলের দাবি ইরানের, শুরু হচ্ছে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব
- 'হাসিনার সময় পদত্যাগ চাইতাম, এখন চাওয়া ঠিক হবে না': জাহেদ উর রহমান
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে বাসে আগুনের রহস্য: রাশেদ খাঁন
- ইরানের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিল ওয়াশিংটন
- দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ভারতের সবুজ সংকেত
- চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আকাশে উড়ন্ত রহস্যময় বস্তু
- পাইপলাইন মেরামতের জন্য যেসব এলাকায় মঙ্গলবার গ্যাস থাকবে না
- তেহরানের আকাশে রহস্যময় আলোর পিণ্ড: নতুন করে জল্পনা শুরু
- নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখে বিশ্ব চমকে যাবে: আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- দাম বাড়ার পরও প্রতি লিটার ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসান গুণতে হবে: রিজভী
- জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া পরিবারের তৃতীয় উত্তরাধিকার
- দেবিদ্বারে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের তাণ্ডব: প্রাণ গেল মা ও শিশুর
- কম বয়সে চুল পড়ার প্রধান তিনটি কারণ ও এর প্রতিকার
- পুরোনো সহযোগীকে পাশে নিয়ে নতুন মিশনে নামছেন ধোনি
- আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেন এমপি নজরুল
- শিশুদের কল্যাণে অনন্য নজির স্থাপন করলেন আর্জেন্টাইন তারকা
- আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনার মধ্যেই রাশিয়ার নির্বাচন সম্পন্ন
- অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
- লংমার্চকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলে মেনে নেবে না বিএনপি: রিজভী
- সাইবার অপরাধ দমনে চীনের সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ঘোষণা
- সরকারের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত চেপে বসেছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে নতুন মৃত্যুর পরিসংখ্যান সামনে এল
- আলোচিত সংসদ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীর রিমান্ড মঞ্জুর
- জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ইতালীয়দূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে মেসির
- যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের
- রোববারের এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
- শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন থেকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- দুর্দান্ত জয়ের পরও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বড় ছন্দপতন
- বিরলে পুষ্টি সংবেদনশীল হর্টিকালচার নার্সারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ
- খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?
- অপ্রতিমের মৃত্যু যে প্রশ্ন রেখে গেল: নিরাপত্তা, জনআস্থা ও আইনশৃঙ্খলার নতুন পরীক্ষা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- বিরলে পুষ্টি সংবেদনশীল হর্টিকালচার নার্সারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
- অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় সুখবর: ৫ ধাপে বাড়ল সরকারি পেনশন, কার কত বৃদ্ধি?
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
- টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানী ও আশপাশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
- পরমাণু শক্তির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ভিয়েনায় তুলে ধরলেন মন্ত্রী
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই








