কঠোর অবস্থান থেকে সরছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তিতে নতুন মেরুকরণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিজের বিজয় ঘোষণা করার পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে নতুন কোনো কঠোর চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই ট্রাম্প প্রশাসন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রণালিটি উন্মুক্ত হলে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্য দাবি করে ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যগুলো ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং এখন মূল মনোযোগ জলপথটি সচল করার ওপর। জানা গেছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন যে, কোনো আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি হয়তো এই সংঘাতময় অধ্যায়ের ইতি টানতে পারেন। কারণ, গত জুনে ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পর তাদের পক্ষে পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করা বেশ কঠিন। তদুপরি, তেহরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পদক্ষেপ নিলে তা মার্কিন গোয়েন্দা জালে ধরা পড়বে এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয় ইরানকে নিবৃত্ত রাখবে বলেই ট্রাম্প মনে করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান যদি পারমাণবিক কার্যক্রমে নতুন কোনো অগ্রগতি না ঘটায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তবে ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে পারেন এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছিলেন যে, যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে এমন শক্ত শর্ত থাকতে হবে যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নমনীয় মনোভাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত এক বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটির নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া চরম অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। ১২০ সদস্যের নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠন করতে ন্যূনতম ৬১টি আসনের প্রয়োজন হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট—কেউই এককভাবে প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কাকে প্রথম সুযোগ দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং রোববারের মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে কথা রয়েছে।
নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য তাকে বিরোধী শিবিরের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। অপরদিকে, গাদি আইজেনকটকে সমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও সমীকরণ বেশ জটিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পার্লামেন্টের ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন জানালেও এর মধ্যে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর আসনও যুক্ত রয়েছে। ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন এই দলগুলোর মোট আসন ১৯টি (যার মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের ১১টি এবং ইউনাইটেড আরব লিস্টের ৮টি)।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট সরকারে যোগ দিতে এবং জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে সমর্থন দিতে ইচ্ছুক হলেও, হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তাদের সঙ্গে জোটে যেতে নারাজ আইজেনকট। তাছাড়া, ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে ব্যক্তিগতভাবেও আপত্তি রয়েছে তার। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানো এবং এর বিনিময়ে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের আবাসন সুরক্ষা, অপরাধ দমন এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করছে তারা।
এই রাজনৈতিক বরফ গলাতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বা নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীত্ব ভাগাভাগি করে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও, নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন আইজেনকটের বেশ কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন তিনি প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে এই মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। এভাবে তিন দফায় চেষ্টা করেও যদি সরকার গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে দেশটি।
আর সেই সংকটময় মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন নেতানিয়াহুই। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক নেহরু জামহুর আল জাজিরাকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অচলাবস্থাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট, যেখানে নতুন নির্বাচন দিলে নেতানিয়াহু তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করা এবং আরব ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে ফেলার পুরনো সুযোগগুলো আবারও কাজে লাগাতে পারেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ট্রাম্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করছেন জেডি ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত ও জোরালো করার চেষ্টা করছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতি, সংযত পররাষ্ট্রনীতি এবং জননিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের আলাদা রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে ভ্যান্স মূলত ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতিগুলো—বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও কঠোর অভিবাসন অবস্থান—এড়িয়ে নিজস্ব এজেন্ডাকে সামনে নিয়ে আসেন।
৪২ বছর বয়সী জেডি ভ্যান্স এখনো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে সরাসরি কোনো সমর্থন জানাননি। তবে সম্ভাব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের অনুগত বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীকে নিজের পক্ষে ধরে রাখার পাশাপাশি ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিতর্ক ও নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করাই হবে ভ্যান্সের জন্য আগামীদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মূল্যায়নের পরামর্শ দেন তিনি। প্রকাশ্যে এই প্রথম তার এমন অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিলেও হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে এটি ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিরোধের ইঙ্গিত নয় এবং হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়কে জানিয়েই তিনি এটি করেছেন।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য অন্য সম্ভাব্য রিপাবলিকান নেতারাও নিজেদের বিভিন্ন মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দলের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন, অন্যদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ভোটারদের মূল উদ্বেগ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়গুলো বাদ দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুর পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ভ্যান্সের জন্য মূল পরীক্ষা হবে ট্রাম্পের ভিত্তি ধরে রেখে সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা, কারণ ডেমোক্র্যাটরা তাকে সবসময় ট্রাম্পের সঙ্গেই সম্পৃক্ত করে প্রচার চালাতে চাইবে। সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই জেডি ভ্যান্সের এই সাম্প্রতিক অবস্থান কেবল নির্বাচনী বিপর্যয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ নয়, বরং ট্রাম্প-পরবর্তী রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্বে নিজের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করার একটি সুদূর প্রসারী কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর তীব্র ও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প খাত, জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে এসব হামলা চালানো হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কিয়েভে চালানো এই হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন ব্রিজ এবং মেরিডিয়ান কারখানা। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন যানবাহন পরিবহনের কাজে নর্দার্ন ব্রিজ ব্যবহার করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, মেরিডিয়ান কারখানায় ফ্লেমিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয় বলে দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনাতেও বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মস্কো। এসব স্থাপনার তালিকার মধ্যে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, বেশ কিছু বিদ্যুতের সাবস্টেশন এবং গোলাবারুদ উৎপাদনকারী কারখানা রয়েছে। শুধু কিয়েভ নয়, পার্শ্ববর্তী ঝিতোমির অঞ্চলের একটি বিদ্যুৎ সাবস্টেশনেও রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈত ব্যবহারের পণ্য বহনকারী একটি কার্গো জাহাজেও সফল হামলার দাবি করেছে রাশিয়া।
তবে এসব বর্বরোচিত হামলায় ইউক্রেনীয় পক্ষে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছ কি না, সে বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এমনকি এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেনের চলমান সামরিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহ অবকাঠামোগুলোকে অকার্যকর বা দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব স্থাপনায় এই ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ দিচ্ছে সৌদি আরব
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দিতে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'নুসুক' অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি জমজমের পানি জেতার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর নুসুকের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই প্রতিযোগিতার আওতায় মোট ১০০টি আকর্ষণীয় ওমরাহ প্যাকেজ এবং ১০ হাজার কার্টন জমজমের পানি পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। প্রতিটি ওমরাহ প্যাকেজে দুজনের একসঙ্গে ভ্রমণের সুব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ওমরাহ ভিসা, বিমান টিকিট এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ১০ রাতের থাকা-খাওয়ার আবাসন। এছাড়া বিনা খরচে ওমরাহ প্যাকেজ জেতার পাশাপাশি বিজয়ীরা ২০ কার্টন জমজমের পানিও উপহার হিসেবে পাবেন, যার মধ্যে ১০ কার্টন নিজের জন্য এবং বাকি ১০ কার্টন অন্যদের দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় তিনজন ওমরাহ প্যাকেজ এবং আরও ৩০ জন জমজমের পানি জিতেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। প্রথমে স্মার্টফোনে ‘নুসুক’ (Nusuk) অ্যাপ ডাউনলোড করে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে অথবা পূর্বের নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। অ্যাপে প্রবেশের পর ‘স্টার্ট দ্য চ্যালেঞ্জ’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী, পবিত্র কুরআন, মক্কা ও মসজিদুল হারাম এবং মদিনা ও মসজিদে নববি—এই চারটি বিভাগ থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর করা বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে এবং সঠিক উত্তরদাতাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে লটারির ড্র-এর তালিকায় যুক্ত হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রতিটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি করে ডিজিটাল চাবি পাওয়া যায়। তবে বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার লিংক শেয়ার করে অতিরিক্ত চাবি অর্জনের সুযোগও রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রতিদিন রাতে নুসুকের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী প্রতিযোগীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কেবল নুসুক অ্যাপে একটি নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট থাকলেই যে কেউ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন, তবে লটারির মাধ্যমেই চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
/আশিক
হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিস্ফোরণের পর ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনার পর কঠোর বার্তা দিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে যেসব নৌযান বা জাহাজ নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করবে, তাদের সবাইকে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই ঘটনা ও হুঁশিয়ারির ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই সামুদ্রিক রুটে জাহাজ চলাচল নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ওই ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দেশটির নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ একটি আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, যেসব জাহাজ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই জলসীমায় চলাচলের চেষ্টা চালাবে, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই অনুরূপ পরিণতি নেমে আসবে। ইরানের এই কঠোর অবস্থান থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নির্ধারিত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই প্রণালীটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধানতম ধমনী হিসেবে বিবেচিত, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা সামুদ্রিক চলাচলে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর। সাম্প্রতিক মাইন বিস্ফোরণ এবং এর পর ইরানের এমন কড়া হুশিয়ারির কারণে হরমুজ প্রণালীর সার্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আল জাজিরা
ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার কথা ভাবছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের উল্লেখযোগ্য পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ব্লুমবার্গের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন বিকল্প পথ পর্যালোচনা করছেন রুবিও ও তার ঘনিষ্ট উপদেষ্টারা। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা—এই দুটি পদ থেকে একসঙ্গে বা চূড়ান্তভাবে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং পদত্যাগের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচিও নির্ধারিত হয়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, এর আগে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন রুবিও। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নিজ নিজ পদে বহাল থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর পুরো ট্রাম্প প্রশাসন, বিশেষ করে প্রশাসনের যুদ্ধপন্থী অংশটি বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাপের অন্যতম কেন্দ্রে অবস্থান করছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী ও পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ।
রিপাবলিকান দলের অনেক নেতার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালাতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করা এবং ওই সংঘাত শেষ করার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল বা এক্সিট প্ল্যান না থাকার কারণে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির জন্য আংশিকভাবে দায়ী হেগসেথ। এর পাশাপাশি, হেগসেথের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারকে বরখাস্ত করার ঘটনাও তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে শীর্ষ স্তরে এসব রদবদল পেন্টাগনের সার্বিক সামরিক ব্যবস্থাপনা এবং সংকটকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: পার্সটুডে
বিদেশি নির্ভরতা ছাড়াই আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বিপ্লব ইরানের
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বেলালি বলেছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তির মূল ভিত্তি হলো সম্পূর্ণ নিজস্ব সক্ষমতা এবং জনগণের জোরালো সমর্থন। শত্রুদের এটি স্পষ্টভাবেই জেনে রাখা উচিত যে এই শক্তি দিন দিন আরও অপ্রতিরোধ্য গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, এই সামরিক খাতে ইরান এখন পূর্ণাঙ্গ স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। বর্তমানে ইরান কেবল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নকশা তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রেই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, বরং এর নেভিগেশন, পরিচালনা ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মতো জটিল প্রযুক্তিও তারা সফলভাবে আয়ত্ত করেছে। এসব ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো শক্তির ওপর দেশটির বিন্দুমাত্র কোনো নির্ভরতা নেই।
ইরানের ড্রোনশিল্পের অভূতপূর্ব সংখ্যাগত ও গুণগত অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই প্রযুক্তিতে ইরান এখন এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে যা বিশ্বমঞ্চেও নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পূর্ণ সামর্থ্য রাখে। সুদীর্ঘ সময় ধরে আকাশে ভেসে থাকতে সক্ষম উন্নত গোয়েন্দা ড্রোন থেকে শুরু করে যেকোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম আক্রমণাত্মক ড্রোন—সবক্ষেত্রেই দেশটি ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে।
জেনারেল বেলালি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাদের এসব সামরিক সক্ষমতা মূলত দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শত্রুপক্ষকে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন থেকে নিবৃত্ত করার লক্ষ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো বিদেশি শক্তিকেই ইরানের পবিত্র ভূখণ্ড ও আকাশসীমায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জনগণের ওপর যখনই তারা আস্থাশীল হয়েছেন, তখনই চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে। ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও বিপ্লবের প্রতি এ দেশের আপামর জনসাধারণের অগাধ আনুগত্যই তাদের সবচেয়ে বড় ও শক্তির মূল উৎস সম্পদ।
সূত্র: পার্সটুডে
‘মার্কিন আধিপত্যের পতন আসন্ন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না’: খামেনির কঠোর বার্তা
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তাঁর মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘাত মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক চাপ যতই বাড়ানো হোক, ইরান কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ইরানের 'বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জাতীয় দিবস' এবং শিক্ষার্থী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব মন্তব্য করেন খামেনি। এমন একসময়ে তাঁর এই কঠোর অবস্থান সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কাতারসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও সরকারঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত বার্তা অনুযায়ী, খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব, অর্থাৎ হার্ড পাওয়ার ও সফট পাওয়ার উভয় ক্ষেত্রেই এমন অবনতি ঘটেছে, যা সহজে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, পারস্য উপসাগরের ঘটনাপ্রবাহ মার্কিন সামরিক শক্তির অপ্রতিরোধ্য হওয়ার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে খামেনি বলেন, আমেরিকা তার আধিপত্যের অবসানকে অনেক দূরের ঘটনা বলে মনে করছে, কিন্তু ইরানের দৃষ্টিতে সেই সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি, বরং পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরশীল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।
খামেনির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রমাণিত হয়েছে, কোনো রাষ্ট্র নিজের জনগণ ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার পরিবর্তে বিদেশি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে সংকটের সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিও তার আঞ্চলিক মিত্রদের প্রত্যাশিত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে মার্কিন সামরিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের অপরিবর্তনীয় পতন সম্পর্কে খামেনির মূল্যায়ন ইরানের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। এসব দাবি স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের ঐতিহাসিক পটভূমিও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের ওপর মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সূচনা হয়েছিল সাত দশকেরও বেশি সময় আগে, ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্টের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।
ওই অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নথিভুক্ত রয়েছে। খামেনির মতে, সেই সময় ইরানের তেলসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল বিদেশি শক্তিগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়েও যুক্তরাষ্ট্র পাহলভি রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি শাহের আমলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা সাভাক (SAVAK) প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরও ওয়াশিংটনের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন খামেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপ্লবোত্তর সময়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থন, সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা, বিরোধী সংগঠনকে সহযোগিতা এবং ইরাক-ইরান যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে সহায়তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছিল।
১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ইরানের বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলোও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
খামেনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে ইরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা এবং বিদেশে ইরানের সম্পদ জব্দের মতো পদক্ষেপ দুই দেশের বৈরিতা আরও গভীর করেছে।
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকেও একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলায় ইরানের বিজ্ঞানী, সামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ নাগরিকেরা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষও ছিলেন।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে তুলে ধরেন।
মোজতবা খামেনির মতে, এসব ঘটনার পেছনে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য হলো ইরানকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা, দেশটির স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত করা এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা।
তবে তিনি দাবি করেন, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও জাতীয় ঐক্যের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও সামরিক হুমকি কিংবা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের মৌলিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।
হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে এই প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন খামেনি। তাঁর দাবি, পারস্য উপসাগরে ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে দুর্বল করেছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাব। তাঁর মতে, এসব ঘটনা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদেশি আধিপত্য প্রতিরোধের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ।
তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সে সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামেনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সীমিত সামরিক অভিযানগুলোকে আত্মরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক বিমান ও স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ইরানি হুমকি মোকাবিলার জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান কিংবা ডেমোক্র্যাট যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পরিবর্তন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার পালাবদলের কারণে ইরানের প্রতি মার্কিন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে, এমন আশা করা ভুল। একইভাবে ছাড় বা আপসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তার চাপ প্রয়োগের নীতি থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে যারা বিশ্বাস করেন, তাঁরাও ভুল করছেন।
তাঁর দাবি, ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ইরানের কাছ থেকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আদায় করা। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস তেহরানের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
খামেনি সতর্ক করেন, বিদেশি চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হলে তা শুধু অতীতের আত্মত্যাগকে অর্থহীন করে তুলবে না, বরং ভবিষ্যতে আরও চাপ ও দাবি উত্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তবে এই কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন সামরিক অবরোধ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকায় এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
খামেনি তাঁর বার্তায় ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে সক্রিয় ইরানপন্থি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম এবং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে।
তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তিগুলোর পারস্পরিক সংহতি এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রচলিত পরাশক্তিগুলোর একক আধিপত্য ক্রমেই সীমিত হয়ে আসবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ৮১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে সত্যের বিজয় এবং মিথ্যার পরাজয়ের বিষয়ে নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
তবে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর মতে, শুধু অস্ত্র ও সামরিক প্রস্তুতি দিয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অর্থনৈতিক সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, সামাজিক সংহতি এবং জনগণের আস্থা।
খামেনি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের একমাত্র পথ হলো একটি আগের চেয়ে শক্তিশালী ইরান গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংহতিকে তিনি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবিকা, কল্যাণ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
ইরানের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। তিনি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ এবং স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরদের দেশের আগামী দিনের প্রধান শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হতাশা ও ব্যর্থতার আশঙ্কায় নিজেদের সীমাবদ্ধ করে রাখা যাবে না। বরং জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
তাঁর মতে, ভবিষ্যতের শক্তিশালী ইরান গড়তে হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, পেশাগত দক্ষতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের বিকাশ জরুরি।
বক্তব্যের শেষাংশে খামেনি ইরানের সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও দাবি করেন, বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের যুগ ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে আরও পরিবর্তন ঘটবে।
সব মিলিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। দ্বিতীয়ত, সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাবে ইরান আরও বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় দেশটি।
তবে তেহরানের এই কঠোর অবস্থান এবং একই সময়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে কতটা সমন্বয় সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারবে, নাকি নতুন সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে?
খামেনির সর্বশেষ বার্তায় আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট: ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং বিদেশি চাপের কাছে আত্মসমর্পণ না করার প্রশ্নে ইরানের নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে।
মাসাবীহ/২০১৯-২
ট্রাম্পের ক্ষমতায় গণতন্ত্রের লাগাম: ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকা?
গণতন্ত্র কখনো নিখুঁত শাসনব্যবস্থা ছিল না, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে না। কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি এবং ভুল সংশোধনের সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বিকল্প কী? প্রায় আট দশক আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল যে প্রশ্নের অবতারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যেন নতুন করে সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতে বাধ্য করছে বিশ্ববাসীকে।
১৯৪৭ সালের ১১ নভেম্বর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক ঐতিহাসিক বক্তব্যে চার্চিল বলেছিলেন, পৃথিবীতে বহু ধরনের শাসনব্যবস্থার পরীক্ষা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। কেউ দাবি করে না, গণতন্ত্র নিখুঁত কিংবা সর্বজ্ঞ। বরং প্রচলিত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত পরীক্ষিত অন্য সব শাসনব্যবস্থা বাদ দিলে গণতন্ত্রই সবচেয়ে খারাপ ব্যবস্থা। কথাটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ছিল গভীর। গণতন্ত্রের দুর্বলতা রয়েছে, কিন্তু জনগণের সম্মতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ এটি দেয়, তা অন্য অনেক শাসনব্যবস্থায় অনুপস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন সেই গণতান্ত্রিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ, অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত রয়টার্সের হিসাবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫৪টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৪টি আসন নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৪৭টি এবং রিপাবলিকানরা ১৫৪টি আসনে জয় পেয়েছে। তখনো কিছু আসনের গণনা ও ফল ঘোষণা বাকি ছিল।
নির্বাচনের এই ফলাফল শুধু দুটি রাজনৈতিক দলের আসনসংখ্যার পরিবর্তন নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, রাজনৈতিক আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
নির্বাচন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ, সরকারি স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বহু ভোটারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ঘিরে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন অবস্থানও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কিছু অংশ মার্কিন সমাজে বিভাজন, বর্ণগত উত্তেজনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করে আসছেন। নির্বাচনের ফলাফল এই বিতর্কের সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি করেনি, তবে তা প্রশাসনের প্রতি একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এখানেই মার্কিন সংবিধানের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির বিষয়টি সামনে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য, যাকে রাজনৈতিক বিজ্ঞানের পরিভাষায় Checks and Balances বলা হয়। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ যেন একে অপরের ওপর প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মিত হয়েছিল।
এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন জেমস ম্যাডিসন। মার্কিন সংবিধান প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা এবং The Federalist Papers-এ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তাঁর যুক্তি আধুনিক সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। অন্যদিকে জন অ্যাডামসও আইনের শাসন, প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার এবং নির্বাহী ক্ষমতার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা মানুষের হাতে ন্যস্ত হলে সেই ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকিও থাকবে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শুধু সৎ বা যোগ্য নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। এমন প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা ক্ষমতাসীন ব্যক্তির ইচ্ছা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে সেই সাংবিধানিক দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করায় ট্রাম্প প্রশাসন আর আগের মতো একক দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ আইন, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
একই সঙ্গে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো প্রশাসনের কার্যক্রম, সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা, সম্ভাব্য দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নিতে পারবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই ডেমোক্র্যাটরা নির্বাহী বিভাগের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে, এমন নয়। প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা, সিনেটের কার্যপ্রণালি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীন ভূমিকাও এই ক্ষমতার ভারসাম্যের অংশ।
অভিশংসনের প্রশ্নটিও এখন মার্কিন রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কোনো যোগ্য ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনতে প্রতিনিধি পরিষদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদচ্যুত করার জন্য সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। পূর্ণ ১০০ সদস্য উপস্থিত থাকলে সেই সংখ্যা ৬৭। ফলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শুধু নিজেদের ভোটে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন তাদের নেই।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেস তদন্ত করতে পারে। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্পূর্ণ পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অভিযোগের অস্তিত্ব নিজে থেকেই অপরাধ প্রমাণ করে না।
এই সাংবিধানিক কাঠামোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের উদাহরণও স্মরণ করতে হয়। বিপুল জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি দুই মেয়াদ শেষে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এর মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের মেয়াদসীমা সম্পর্কে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট চারবার নির্বাচিত হলে সেই প্রচলিত রীতির পরিবর্তন ঘটে। এরপর ১৯৫১ সালে সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদে সর্বোচ্চ দুইবার নির্বাচিত হওয়ার বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মার্কিন সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ, যেখানে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে আরও সুসংহত করা হয়েছে।
বস্তুত মার্কিন সংবিধান বিশ্বের প্রাচীনতম এখনো কার্যকর লিখিত জাতীয় সংবিধানগুলোর অন্যতম। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই সংবিধান রাজনৈতিক সংঘাত, গৃহযুদ্ধ, অর্থনৈতিক মহামন্দা, বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক সংকটের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এর প্রতিটি অধ্যায় সফলতার ইতিহাস নয়। বরং ইতিহাসের অনেক অধ্যায় গভীর বৈষম্য, অন্যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সাক্ষ্য বহন করে। তবু সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগই ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন গণতন্ত্রের এই আদর্শিক পরিচয়ের সঙ্গে একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক ধারণা জড়িয়ে আছে, *A City upon a Hill*।
১৬৩০ সালে ইংরেজ পিউরিটান নেতা জন উইনথ্রপ উত্তর আমেরিকায় নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি এমন একটি সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যার কর্মকাণ্ডের দিকে পৃথিবীর অন্য মানুষের দৃষ্টি থাকবে। পরবর্তীকালে এই ধারণা মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
১৯৮৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায়ের সময় রোনাল্ড রিগ্যান আমেরিকাকে সেই পাহাড়ের ওপর আলোকিত নগরীর প্রতীকে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর কল্পনার আমেরিকা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে স্বাধীনতা, সুযোগ, সৃজনশীলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান একসঙ্গে বিকশিত হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আজকের আমেরিকা সেই আদর্শ থেকে কতটা দূরে সরে গেছে?
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বহু মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক হস্তক্ষেপ, বর্ণগত বৈষম্য এবং বৈশ্বিক ক্ষমতা প্রয়োগের ইতিহাস নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকট এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতির অভিযোগ দেশটির ভাবমূর্তিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষত জাতীয় স্বার্থের ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা এবং বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি অনিশ্চিত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন গণতন্ত্রের আত্মসংশোধনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শুধু একটি নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রীয় আস্থা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে না।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। তাদের প্রশাসনিক অতীত, অর্থনৈতিক নীতি, পররাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। ফলে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ডেমোক্র্যাটদের সব নীতির প্রতি নিঃশর্ত জনসমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বরং নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রমে কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নে দায়িত্বশীল সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
একইভাবে রিপাবলিকানদের জন্যও নির্বাচনের ফলাফল ভোটারদের উদ্বেগ নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগ। গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় পরাজয় কোনো রাজনৈতিক দলের স্থায়ী প্রত্যাখ্যান নয়; এটি জনসমর্থন পুনরুদ্ধারের জন্য নীতি ও নেতৃত্ব পর্যালোচনারও একটি উপলক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক তাৎপর্যও কম নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিংশ শতাব্দীর বড় অংশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিশেষ করে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়কে অনেকেই মার্কিন একক প্রাধান্যের যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমেই আরও জটিল ও বহুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্থান, ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভূমিকা, রাশিয়ার সামরিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর অধিকতর নীতিগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
ফলে বিংশ শতাব্দীকে যদি আমেরিকান সেঞ্চুরি বলা হয়, তাহলে একবিংশ শতাব্দীকে ক্রমবর্ধমান বহুমেরুকেন্দ্রিকতার যুগ হিসেবে ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা কোনো একক শক্তির সম্পূর্ণ পতন কিংবা অন্য শক্তির অবধারিত আধিপত্য বোঝায় না। বরং এটি আন্তর্জাতিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাধিক রাষ্ট্র ও অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বজায় রাখার জন্য শুধু সামরিক শক্তি কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নীতিগত ধারাবাহিকতা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, অংশীদারদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিশ্বাসযোগ্য চর্চা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আরও নিবিড় পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকায় পরিবর্তনের প্রকৃত ব্যাপ্তি নির্ভর করবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।
সবশেষে উইনস্টন চার্চিলের সেই ঐতিহাসিক মন্তব্যের কাছে ফিরে যাওয়া যায়। গণতন্ত্রের সার্থকতা এই নয় যে সেখানে ভুল হবে না, ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটবে না কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্ব কখনো জনস্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেবে না। বরং এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে ভুল শনাক্ত করার স্বাধীনতা, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতায়।
২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সেই সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ভোটাররা তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা এখনো বাকি। নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা কতটা দায়িত্বশীলভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করবে, বিরোধী পক্ষ কতটা সাংবিধানিক সীমারেখাকে সম্মান করবে এবং প্রশাসন কতটা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি মেনে চলবে, তার ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী অধ্যায়।
মার্কিন গণতন্ত্রের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক শিক্ষা সম্ভবত এখানেই: কোনো নেতা, দল কিংবা প্রশাসন রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকারই হওয়া উচিত ক্ষমতার চূড়ান্ত সীমারেখা।
যুক্তরাষ্ট্র তার হারানো আস্থা, নৈতিক কর্তৃত্ব ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। কিন্তু এবারের নির্বাচন অন্তত এটুকু দেখিয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
গণতন্ত্রের সাফল্য তাই কোনো একটি দলের বিজয়ে নয়, বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা টিকিয়ে রাখায়, যেখানে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে পারে এবং রাষ্ট্র তার নিজের ভুল সংশোধনের সুযোগ ধরে রাখে।
পাঠকের মতামত:
- ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা
- জামায়াতের ক্ষমতার লোভে ভেঙে গেছে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য: চরমোনাই পীর
- ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তির দেশে ফেরার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
- ট্রাম্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করছেন জেডি ভ্যান্স
- কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা
- রণবীরের মুখে অবসরের ইঙ্গিত, হতবাক ভক্ত ও সিনেমাপাড়া
- পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়
- বিএনপি হলো একটি ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ দিচ্ছে সৌদি আরব
- হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিস্ফোরণের পর ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর হুঁশিয়ারি
- ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- টেস্টে ইতিহাস গড়ে তাওহীদ হৃদয়ের নতুন রেকর্ড
- ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার কথা ভাবছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
- বিদেশি নির্ভরতা ছাড়াই আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিতে বিপ্লব ইরানের
- রক্ষণাবেক্ষণ শেষে স্বাভাবিক হলো দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি
- বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা
- লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রাজধানীতে বিএনপির বর্ণাঢ্য র্যালি
- ‘মার্কিন আধিপত্যের পতন আসন্ন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না’: খামেনির কঠোর বার্তা
- ট্রাম্পের ক্ষমতায় গণতন্ত্রের লাগাম: ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকা?
- ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা বাংলাদেশের
- নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন
- হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ভারতসহ চার দেশকে বিশেষ ছাড় ইরানের
- মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সংকটের আভাস ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি
- একাদশে বড় চমক নিয়ে মাঠে নামছে লাল-সবুজরা
- পোশাক খাতের অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ প্রশাসনের
- জামায়াত জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়লেন এনসিপি নেত্রী সামান্ত শারমিন
- রেকর্ড গড়ে বিশ্ব ও দেশীয় বাজারে বড় দরবৃদ্ধি
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে রোমাঞ্চকর লড়াই ও নাটকীয় ফিনিশ
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রযুক্তি এবার ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে রাশিয়া
- ভারতীয় ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য এল নতুন ও জরুরি নির্দেশনা
- পবিত্র মদিনার দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি জোট
- সীমান্তের ওপার থেকে দেশের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী
- মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন সিনেটর
- বিশ্ব ফুটবলে এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিলেন তারকা
- মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কার মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
- সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব সাইবার সুরক্ষা আইনে
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ
- বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
- শীতে কি সত্যিই ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো উচিত?
- ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
- দীর্ঘ বিরতির পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করায় মুদ্রাবাজারে আলোচনা
- মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা: ইয়াইর গোলান
- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ডলার ও তেলের দাম হ্রাস
- শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে একাধিক লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
- পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত
- আরও শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি নেতার
- গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না
- বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- ৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা
- বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও শ্রমিক বিক্ষোভের ওপর ভারত নজর রাখছে: রণধীর জয়সওয়াল
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ
- নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ঐতিহাসিক ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত
- সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী








