১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৫:১০:৪৫
১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শেষ হয়েছে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ও বিস্তৃত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। দিন শেষে মোট ৩৯২টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ২৮৮টির দর বেড়েছে, ৬৭টির দর কমেছে এবং ৩৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। উত্থানকারী শেয়ারের সংখ্যা বেশি হলেও দরপতনকারী শেয়ারের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, যা বাজারে একটি মিশ্র কিন্তু গতিশীল চিত্র নির্দেশ করে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বাজার পরিস্থিতি

এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৬টি শেয়ারের মধ্যে ১৪৪টির দর বেড়েছে এবং ৩৯টির দর কমেছে। শক্ত মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় থাকলেও কিছু শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

বি ক্যাটাগরিতে মোট ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৫৮টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সক্রিয় ছিল, যদিও ১৫টি শেয়ারে দরপতন বাজারে সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়।

জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৫টি শেয়ারের মধ্যে ৮৬টির দর বেড়েছে। তুলনামূলক দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ার হলেও স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রত্যাশায় এই ক্যাটাগরিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।

এন ক্যাটাগরিতে একটি মাত্র শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং সেটির দর অপরিবর্তিত ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আজও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল। লেনদেন হওয়া ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৯টির দর বেড়েছে, ৪টির দর কমেছে এবং ১১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ডে আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

করপোরেট বন্ড বাজারে সীমিত লেনদেন দেখা গেছে। চারটির মধ্যে দুটি বন্ডের দর বেড়েছে, একটি কমেছে এবং একটি অপরিবর্তিত ছিল। সরকারি সিকিউরিটিজে দুটি ইস্যু লেনদেনে অংশ নেয়, যার একটি উত্থান ও একটি দরপতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

লেনদেনের পরিসংখ্যান

দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৮৬৬টি। শেয়ার ও ইউনিট হাতবদলের পরিমাণ ছিল ৩২ কোটি ৭৩ লাখের বেশি। আর্থিক মূল্যে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের উচ্চ লেনদেনের একটি উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বাজার মূলধনের চিত্র

মঙ্গলবার দিন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭,০৮৯ ট্রিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে ইকুইটি খাতে প্রায় ৩,৫২৩ ট্রিলিয়ন টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২৪.৩ ট্রিলিয়ন টাকা এবং ঋণপত্রে প্রায় ৩,৫৪১ ট্রিলিয়ন টাকার বাজার মূলধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাজার মূলধনের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্লক ট্রানজ্যাকশন: প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনে তৎপরতা

আজ ব্লক মার্কেটে ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। মোট ২৬টি সিকিউরিটিজে ৯০টি ব্লক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

ব্লক ট্রানজ্যাকশনে এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস ছিল শীর্ষে, যেখানে প্রায় ৮৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়াটিক ল্যাব, ফাইন ফুডস, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা টেক্সটাইল, এমটিবি, আইডিএলসি, ব্র্যাক ব্যাংক এবং গ্রামীণফোনের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিক মূল্যায়ন

সব মিলিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারির বাজারচিত্রে দেখা যায়, উত্থান ও দরপতনের সহাবস্থান থাকলেও লেনদেন ও বাজার মূলধনের বৃদ্ধি বাজারকে একটি শক্ত অবস্থানে রেখেছে। নির্বাচন-পূর্ব সময় হওয়া সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারে আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো নীতিগত বা বৈশ্বিক নেতিবাচক সংকেত না এলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে এই গতিশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রাফসান


১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৫:০৯:১৩
১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে বাজারে স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকাকে প্রভাবিত করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের দর সংশোধনের পর বিনিয়োগকারীরা নতুন করে অবস্থান নেওয়ায় আজকের এই উত্থান দেখা গেছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার হিসেবে তালিকার শীর্ষে উঠে আসে আল–আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছায়, যা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ধারাবাহিক ক্রয়চাপ ও স্বল্প সরবরাহ এই উত্থানে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। শিল্প খাতের এই শেয়ারটি আগের ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে, প্রায় ৯.৭০ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এই শেয়ারটিকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

ব্যাংকিং খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার আইএফআইসি ব্যাংক আজ প্রায় ৯.৬২ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের মিউচুয়াল ফান্ড এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটদর বেড়েছে প্রায় ৯.৩৮ শতাংশ, যা ফান্ড খাতে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।

পঞ্চম স্থানে থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংক–এর শেয়ারদর বেড়েছে ৯.০৯ শতাংশ। একই ধারায় এনআরবিসি ব্যাংক–এর শেয়ারও ৮.২০ শতাংশ উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৮.১৬ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আরও একটি স্কিম আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটদর বেড়েছে প্রায় ৭.৬৯ শতাংশ। একই দিনে আগের দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ–এর শেয়ার, যা প্রায় ৭.৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের শেষ অবস্থানে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ড্যাফোডিল কম্পিউটার। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৭.২৪ শতাংশ, যা দিনভর সক্রিয় লেনদেন ও ক্রয়চাপের ফল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ গেইনার তালিকা বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতই বাজারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো নেতিবাচক অর্থনৈতিক সংকেত না থাকলে স্বল্পমেয়াদে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

-রাফসান


১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৫:০৬:৩২
১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়ায় শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকায় এসব খাতের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দর সংশোধনের পর বিনিয়োগকারীরা পুনরায় অবস্থান নেওয়ায় আজকের এই উত্থান দেখা গেছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে আল–আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছায়, যা শতভাগ ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনভর ধারাবাহিক ক্রয়চাপ এই শেয়ারকে গেইনার তালিকার শীর্ষে তুলে আনে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ–এর শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৯.৭০ শতাংশ। শিল্প খাতের এই শেয়ারটি আগের ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য শেয়ার আইএফআইসি ব্যাংক আজ প্রায় ৯.৬২ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটদর বেড়েছে ৯.৩৮ শতাংশ, যা ফান্ড খাতে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।

চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং এনআরবিসি ব্যাংক। এই দুই ব্যাংকের শেয়ার যথাক্রমে ৯.০৯ শতাংশ ও ৮.২০ শতাংশ বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক প্রত্যাশাই এই উত্থানের পেছনে কাজ করছে।

তালিকার পরবর্তী স্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক–এর শেয়ার, যার দর বেড়েছে প্রায় ৮.১৬ শতাংশ। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আরও একটি স্কিম আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিটদর বেড়েছে প্রায় ৭.৬৯ শতাংশ।

তালিকার নবম স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ–এর শেয়ার আজ প্রায় ৭.৬৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের দরপতনের পর এই শেয়ারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

শীর্ষ দশের শেষ অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল কম্পিউটার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ৭.২৪ শতাংশ, যা দিনভর সক্রিয় লেনদেনের ফলাফল বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ গেইনার তালিকা বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে ব্যাংকিং খাতই বাজারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো নেতিবাচক অর্থনৈতিক সংকেত না এলে স্বল্পমেয়াদে এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

-রাফসান


৯ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৫:০২:৪১
৯ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেন শেষ হয়েছে শক্তিশালী উত্থানের মধ্য দিয়ে। দিনজুড়ে ক্রয়চাপ প্রাধান্য পাওয়ায় বাজারের সার্বিক সূচকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৩২৭টির দর বেড়েছে, যা বাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মাত্র ৩৭টির দর কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল, যা সামগ্রিক বাজারকে একতরফা উর্ধ্বমুখী বলেই নির্দেশ করে।

ক্যাটাগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোই আজকের বাজারে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২১১টি শেয়ারের মধ্যে ১৬৯টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক প্রতিবেদন, নিয়মিত লভ্যাংশ এবং তুলনামূলকভাবে শক্ত মৌলভিত্তির কারণে এ ক্যাটাগরির শেয়ারেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। একই ক্যাটাগরিতে মাত্র ১৯টির দর কমা বাজারের শক্ত ভিতকেই আরও জোরালো করে।

বি ক্যাটাগরির শেয়ারেও আজ ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৭৯টি শেয়ারের মধ্যে ৭১টির দর বৃদ্ধি পাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাধারণত এই ক্যাটাগরিতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকলেও আজকের লেনদেন প্রমাণ করে যে বাজারে স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রত্যাশা সক্রিয় ছিল।

জেড ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতেও আজ উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৬টি শেয়ারের মধ্যে ৮৭টির দর বেড়েছে। যদিও এই শ্রেণির শেয়ারগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও মৌলভিত্তি তুলনামূলক দুর্বল, তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর মূল্য সংশোধনের সুযোগে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এন ক্যাটাগরিতে আজ মাত্র একটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং সেটির দর কমেছে। ফলে এই ক্যাটাগরির প্রভাব বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও দিনটি কেটেছে ইতিবাচক ধারায়। মোট ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক স্থিতিশীল রিটার্ন এবং ঝুঁকি কম থাকার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। মাত্র দুটি ফান্ডের দর কমা এই খাতে আস্থার সংকটের কোনো ইঙ্গিত দেয় না বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে আজ কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। করপোরেট বন্ডে লেনদেন হওয়া চারটির মধ্যে তিনটির দর কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে লেনদেন হওয়া সাতটির সবগুলোর দরই নিম্নমুখী ছিল। সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা ও তারল্য ব্যবস্থাপনার কৌশল এই খাতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

লেনদেনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। শেয়ার ও ইউনিট হাতবদলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৭১ লাখের বেশি। আর্থিক মূল্যে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬৪৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের গড় লেনদেনের তুলনায় শক্তিশালী বলেই ধরা হচ্ছে।

দিন শেষে বাজার মূলধনের চিত্রও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০২৪ ট্রিলিয়ন টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি খাতে প্রায় ৩৪৭১ ট্রিলিয়ন টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২৩.৮ ট্রিলিয়ন টাকা এবং ঋণপত্রে প্রায় ৩৫২৯ ট্রিলিয়ন টাকার মূলধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাজার মূলধনের এই আকার দেশের পুঁজিবাজারের সামগ্রিক গভীরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

আজ ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। মোট ২৭টি সিকিউরিটিজে ৫৯টি ব্লক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২২৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ব্লক লেনদেন সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন হয়ে থাকে, যা ভবিষ্যৎ বাজারধারার ইঙ্গিত দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে আজকের বাজারচিত্র বিশ্লেষণে বলা যায়, সীমিত সংখ্যক শেয়ারে দরপতন থাকলেও বাজারের প্রধান স্রোত ছিল উর্ধ্বমুখী। ব্যাংক, বিমা, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারকে স্থিতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রেখেছে। বড় কোনো নীতিগত বা বৈশ্বিক নেতিবাচক সংকেত না এলে এই ইতিবাচক প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

-রাফসান


৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৫:০০:০৮
৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পরিচিত ব্যাংক, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই এই পতনের প্রধান কারণ।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনকারী শেয়ার হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের ৫২ টাকা থেকে নেমে ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায় বন্ধ হয়, যা প্রায় ৬.৯২ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে। দিনভর তুলনামূলক বেশি বিক্রিচাপ শেয়ারটিকে লুজার তালিকার শীর্ষে নিয়ে আসে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আল–আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক–এর শেয়ারদর কমেছে প্রায় ৫.৮৮ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতের এই শেয়ারে সাম্প্রতিক উত্থানের পর আজ দর সংশোধনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড–১–এর ইউনিটে। মিউচুয়াল ফান্ডটির ইউনিটদর ৩ টাকা থেকে কমে ২ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে, যা প্রায় ৩.৩৩ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।

শিল্প খাতের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক–এর শেয়ার প্রায় ২.৫৮ শতাংশ দরপতনের মাধ্যমে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একই খাতের ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠান আরএসআরএম স্টিল–এর শেয়ারেও প্রায় ২.৫৩ শতাংশ দর কমেছে।

আজকের লুজার তালিকায় আরও রয়েছে প্যাসিফিক ডেনিম লিমিটেড, যার শেয়ারদর প্রায় ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি খাতের মেঘনা পেট্রোলিয়াম–এর শেয়ারেও প্রায় ২.৪৯ শতাংশ দরপতন দেখা গেছে।

উচ্চমূল্যের শেয়ারের মধ্যে রেনউইক যাজু অ্যান্ড কোম্পানি এবং জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ–এর শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ২.১২ শতাংশ ও ২.০৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই দরপতনের অন্যতম কারণ।

তালিকার দশম স্থানে থাকা এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ–এর শেয়ারদর কমেছে প্রায় ১.৯৬ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ দরপতনকারী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের শেয়ারেই তুলনামূলক বেশি সংশোধন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত নয়; বরং সাম্প্রতিক উত্থানের পর একটি স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয় হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

-রাফসান


৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৪:৫৬:৪৪
৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের বড় অংশজুড়ে ছিল ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের শেয়ার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে প্রত্যাশিত রিটার্ন এবং সাম্প্রতিক তারল্য পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার হিসেবে উঠে আসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের ১২ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৪০ পয়সায় বন্ধ হয়, যা প্রায় ৯.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনভর ক্রয়চাপ বেশি থাকায় শেয়ারটি গেইনার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ারদর ৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়, যা প্রায় ৮.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে প্রত্যাশাই এই উত্থানের পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি হয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স–এর শেয়ারে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার আগের ১২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে, যা প্রায় ৮.৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ব্যাংকিং খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার আইএফআইসি ব্যাংক আজ ৮.৩৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একই খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক–এর শেয়ারও প্রায় ৭.৩২ শতাংশ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও আজ ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর দর বেড়েছে ৬.৬৭ শতাংশ। পাশাপাশি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এও ধারাবাহিক ক্রয়চাপ দেখা গেছে।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফাইন্যান্স–এর শেয়ার আজ প্রায় ৫.৮৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের শিল্প খাতের শেয়ার এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস–এও সক্রিয় লেনদেন হয়েছে এবং দর বেড়েছে প্রায় ৫.৭৯ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারই বাজারকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং তারল্য সংকট না বাড়লে স্বল্পমেয়াদে এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

-রফিক


৮ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৫:২৩:৪০
৮ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনভিত্তিক লেনদেনে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা প্রায় সমান থাকায় বাজারে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নির্বাচনপূর্ব সতর্কতা ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দিন শেষে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৩৯৩টি ইস্যুতে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬২টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ঠিক একই সংখ্যক ১৬২টি শেয়ারের দর কমেছে, আর ৬৯টি ইস্যুর দর অপরিবর্তিত ছিল। এই পরিসংখ্যানই বাজারের সমতাভিত্তিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বাজারচিত্র

‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতে আজ তুলনামূলকভাবে চাপ বেশি ছিল। এই ক্যাটাগরিতে ৯৪টি শেয়ারের দর কমেছে, বিপরীতে ৭৯টির দর বেড়েছে এবং ৩৪টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বোঝা যায়, ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারেও বিনিয়োগকারীরা আপাতত রক্ষণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৭টি শেয়ার দর বেড়েছে, ৩৯টি দর হারিয়েছে, আর ১৩টি শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এখানে ৫৬টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ২৯টি কমেছে, এবং ২১টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়েছে। সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই ক্যাটাগরিতে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

‘এন’ ক্যাটাগরিতে মাত্র একটি ইস্যুতে লেনদেন হয়েছে এবং সেটির দর অপরিবর্তিত ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজার

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আজ কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৫টির দর কমেছে, ৮টির দর বেড়েছে, এবং ১১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড বাজারে খুব সীমিত লেনদেন হয়েছে। এখানে ১টি বন্ডের দর বেড়েছে, ১টির কমেছে, এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল।

সরকারি ট্রেজারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) খাতে আজ ৩টি ইস্যুতে লেনদেন হলেও সবগুলোর দরই কমেছে, যা সুদহার ও নীতিগত প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

লেনদেনের পরিসংখ্যান ও বাজার মূলধন

আজকের লেনদেনে বাজারে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৪টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১৭ কোটি ৭ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের কয়েকটি কার্যদিবসের তুলনায় মাঝারি মাত্রার।

দিন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের বাজার মূলধন প্রায় ৩৪ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা, আর ঋণপত্র ও ডেট সিকিউরিটিজ খাতে রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ মূলধন।

ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন

আজকের ব্লক মার্কেটে তুলনামূলকভাবে সক্রিয়তা দেখা গেছে। মোট ৪৮টি সিকিউরিটিতে ৭৮টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ব্লক ট্রেডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, লাভেলো, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারে। বিশেষ করে ফাইন ফুডসের শেয়ারে একাধিক বড় লেনদেন বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। ফলে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে লাভ তুলে নেওয়া ও পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সমান সংখ্যা ইঙ্গিত দেয় যে বাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং বড় কোনো নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়নি।

-রাফসান


৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৫:১৫:১০
৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের শেষভাগে বেশ কয়েকটি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। আগের দিনের সমাপনী দর (ওয়াইসিপি) বিবেচনায় বাজারে বিক্রয়চাপ বাড়ায় শীর্ষ ১০ দরহারানো তালিকায় ব্যাংক, শিল্প, বস্ত্র ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের একাধিক ইস্যু স্থান পেয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং কিছু শেয়ারে অতিমূল্যায়নের কারণে এই পতন হয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনকারী হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট দর প্রায় ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। দিনের শুরু থেকেই এই ফান্ডে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ২৪ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব এ দরপতনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ শতাংশের বেশি কমে ২৬ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট দর হারিয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই দিনে আরেকটি মিউচুয়াল ফান্ড প্রাইম ফার্স্ট আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড প্রায় ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ দরপতন নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

এরপর রয়েছে এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, যার ইউনিট দর ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে। শরিয়াহভিত্তিক ফান্ডগুলোতে সাম্প্রতিক মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রভাব এখানে স্পষ্ট।

ব্যাংক খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড আজকের লেনদেনে ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। শেয়ারটির দর নেমে এসেছে ১৭ টাকায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, যার ইউনিট দর কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সঙ্গে বস্ত্র খাতের পরিচিত কোম্পানি রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড শেয়ার দর হারিয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

শীর্ষ ১০ দরপতনকারী তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ইউনিট দর প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ২ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনপূর্ব বাজার পরিস্থিতিতে কিছু বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে লাভ তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার ও ফান্ডে বিক্রির চাপ বাড়ছে। তারা বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, সাময়িক দরপতনে আতঙ্কিত না হয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

-রাফসান


৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার 

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৫:০৯:২০
৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার 
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের শেষ পর্যায়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আগের দিনের সমাপনী দর (ওয়াইসিপি) বিবেচনায় দিনের শেষে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় শিল্প, বিমা, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খাতের একাধিক কোম্পানি উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্দিষ্ট শেয়ারে চাহিদা বাড়ার কারণেই এই দরবৃদ্ধি ঘটেছে।

দিনের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে কে অ্যান্ড কিউ (কেই অ্যান্ড কিউ)। কোম্পানিটির শেয়ার দর দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। লেনদেনের পুরো সময়জুড়েই শেয়ারটিতে ক্রয়চাপ বজায় ছিল, ফলে সর্বোচ্চ দরও সমাপনী দরেই পৌঁছায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে আইসিবি ইপিএমএফ ১এস১ মিউচুয়াল ফান্ড। ইউনিটপ্রতি দর ৪ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছে আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে মনো অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মিলস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ৩৬৪ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একই গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান মনো ফ্যাব্রিকস লিমিটেড চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে, যার শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ২০ পয়সায়।

বিদ্যুৎ খাতের সামিট পাওয়ার লিমিটেড তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রায় ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ার দর ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।

উচ্চমূল্যের শেয়ারের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্পষ্ট ছিল। জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ারের দর ৫ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ৫০২ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বিমা খাতের দুটি প্রতিষ্ঠানও আজকের টপ গেইনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকায় রয়েছে, আর এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড শেয়ার দর ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

শীর্ষ ১০ তালিকার শেষ অবস্থানে থাকা মনো সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ার দর ৪ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৮৩ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা, কিছু কোম্পানির মৌলভিত্তি শক্ত হওয়া এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতার কারণে নির্দিষ্ট শেয়ারে এই উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে তারা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র দরবৃদ্ধির ভিত্তিতে নয়, বরং কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, আয়ের ধারাবাহিকতা এবং ঝুঁকি বিবেচনা করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


সাপ্তাহিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষণে ইতিবাচক ইঙ্গিত

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৩:১২:০০
সাপ্তাহিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষণে ইতিবাচক ইঙ্গিত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে ধীরে কিন্তু স্পষ্টভাবে ফিরেছে ইতিবাচক গতি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সূচক, লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে যে উন্নতি দেখা গেছে, তা বাজারের জন্য স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। Dhaka Stock Exchange–এর সাপ্তাহিক ‘মার্কেট পালস’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাজারের এই সামগ্রিক চিত্র।

সূচকের গতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা

সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক দাঁড়িয়েছে ৫,২৩৪.৩৮ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮০.০৭ পয়েন্ট বা ১.৫৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের শুরু থেকে (YTD) সূচকের মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৬ শতাংশে। বড় মূলধনী কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ ০.৭৭ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক উল্লেখযোগ্য ৩.৬৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শরিয়াহ সূচকের এই শক্ত উত্থান শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লেনদেন ও তারল্যের উন্নতি

এই সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৬৮২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি। শেয়ার হাতবদলের দৈনিক গড় পরিমাণও প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে ২২৪ মিলিয়নে পৌঁছেছে। যদিও মোট লেনদেন মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও কম ট্রেডিং ডে থাকা সত্ত্বেও লেনদেনের গতি বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার মূলধন ও সামগ্রিক বিস্তার

সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বাজারের বিস্তারে দেখা গেছে, লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২৩১টির দর বেড়েছে, ১৪১টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন রেশিও ১.৬৪ হওয়ায় বাজারের সার্বিক প্রবণতা স্পষ্টতই ঊর্ধ্বমুখী।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ

ব্যাংক খাত ছিল সপ্তাহের সবচেয়ে সক্রিয় খাত। এই খাতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যালস খাতও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে, যা প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগের প্রবণতাকে নির্দেশ করে। টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেন ও দর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, সাধারণ বিমা ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে বড় ধরনের দর সংশোধন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা আগের লাভ তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইটি ও ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার খাতেও মুনাফা গ্রহণের চাপ দেখা গেছে।

শীর্ষ লেনদেন ও ব্লক ট্রেড

সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাব, ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। ব্লক ট্রেডে ফাইন ফুডস, গ্রামীণফোন, ডমিনেজ স্টিল ও ট্রাস্ট ব্যাংকের বড় অঙ্কের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে।

দর বৃদ্ধিতে কারা এগিয়ে, দরপতনে কারা

সপ্তাহে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির তালিকায় বেশিরভাগই ছিল আর্থিক খাত ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার, যেখানে স্বল্প মূল্যের শেয়ারে স্পেকুলেটিভ চাহিদা কাজ করেছে। বিপরীতে, কিছু মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা ও টেক্সটাইল খাতের শেয়ারে দরপতন দেখা গেছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন ও আগাম দৃষ্টিভঙ্গি

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময়ের অনিশ্চয়তার মধ্যেও সূচক ও লেনদেনের এই উত্থান বাজারে আস্থার ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ডলার বিনিময় হার, মুদ্রানীতি, সুদের হার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিতে নজর রাখা এবং স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: