৯ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৫:০২:৪১
৯ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেন শেষ হয়েছে শক্তিশালী উত্থানের মধ্য দিয়ে। দিনজুড়ে ক্রয়চাপ প্রাধান্য পাওয়ায় বাজারের সার্বিক সূচকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৩২৭টির দর বেড়েছে, যা বাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মাত্র ৩৭টির দর কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল, যা সামগ্রিক বাজারকে একতরফা উর্ধ্বমুখী বলেই নির্দেশ করে।

ক্যাটাগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোই আজকের বাজারে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২১১টি শেয়ারের মধ্যে ১৬৯টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক প্রতিবেদন, নিয়মিত লভ্যাংশ এবং তুলনামূলকভাবে শক্ত মৌলভিত্তির কারণে এ ক্যাটাগরির শেয়ারেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। একই ক্যাটাগরিতে মাত্র ১৯টির দর কমা বাজারের শক্ত ভিতকেই আরও জোরালো করে।

বি ক্যাটাগরির শেয়ারেও আজ ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৭৯টি শেয়ারের মধ্যে ৭১টির দর বৃদ্ধি পাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাধারণত এই ক্যাটাগরিতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকলেও আজকের লেনদেন প্রমাণ করে যে বাজারে স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রত্যাশা সক্রিয় ছিল।

জেড ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতেও আজ উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৬টি শেয়ারের মধ্যে ৮৭টির দর বেড়েছে। যদিও এই শ্রেণির শেয়ারগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও মৌলভিত্তি তুলনামূলক দুর্বল, তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর মূল্য সংশোধনের সুযোগে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এন ক্যাটাগরিতে আজ মাত্র একটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং সেটির দর কমেছে। ফলে এই ক্যাটাগরির প্রভাব বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও দিনটি কেটেছে ইতিবাচক ধারায়। মোট ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ২০টির দর বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক স্থিতিশীল রিটার্ন এবং ঝুঁকি কম থাকার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। মাত্র দুটি ফান্ডের দর কমা এই খাতে আস্থার সংকটের কোনো ইঙ্গিত দেয় না বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে আজ কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। করপোরেট বন্ডে লেনদেন হওয়া চারটির মধ্যে তিনটির দর কমেছে। সরকারি সিকিউরিটিজে লেনদেন হওয়া সাতটির সবগুলোর দরই নিম্নমুখী ছিল। সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা ও তারল্য ব্যবস্থাপনার কৌশল এই খাতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

লেনদেনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ ডিএসইতে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। শেয়ার ও ইউনিট হাতবদলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৭১ লাখের বেশি। আর্থিক মূল্যে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬৪৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের গড় লেনদেনের তুলনায় শক্তিশালী বলেই ধরা হচ্ছে।

দিন শেষে বাজার মূলধনের চিত্রও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০২৪ ট্রিলিয়ন টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি খাতে প্রায় ৩৪৭১ ট্রিলিয়ন টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২৩.৮ ট্রিলিয়ন টাকা এবং ঋণপত্রে প্রায় ৩৫২৯ ট্রিলিয়ন টাকার মূলধন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাজার মূলধনের এই আকার দেশের পুঁজিবাজারের সামগ্রিক গভীরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

আজ ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। মোট ২৭টি সিকিউরিটিজে ৫৯টি ব্লক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২২৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ব্লক লেনদেন সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন হয়ে থাকে, যা ভবিষ্যৎ বাজারধারার ইঙ্গিত দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে আজকের বাজারচিত্র বিশ্লেষণে বলা যায়, সীমিত সংখ্যক শেয়ারে দরপতন থাকলেও বাজারের প্রধান স্রোত ছিল উর্ধ্বমুখী। ব্যাংক, বিমা, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারকে স্থিতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রেখেছে। বড় কোনো নীতিগত বা বৈশ্বিক নেতিবাচক সংকেত না এলে এই ইতিবাচক প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

-রাফসান


৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৫:০০:০৮
৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শেষভাগে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পরিচিত ব্যাংক, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই এই পতনের প্রধান কারণ।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনকারী শেয়ার হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের ৫২ টাকা থেকে নেমে ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায় বন্ধ হয়, যা প্রায় ৬.৯২ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে। দিনভর তুলনামূলক বেশি বিক্রিচাপ শেয়ারটিকে লুজার তালিকার শীর্ষে নিয়ে আসে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আল–আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক–এর শেয়ারদর কমেছে প্রায় ৫.৮৮ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতের এই শেয়ারে সাম্প্রতিক উত্থানের পর আজ দর সংশোধনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড–১–এর ইউনিটে। মিউচুয়াল ফান্ডটির ইউনিটদর ৩ টাকা থেকে কমে ২ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে, যা প্রায় ৩.৩৩ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।

শিল্প খাতের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক–এর শেয়ার প্রায় ২.৫৮ শতাংশ দরপতনের মাধ্যমে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একই খাতের ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠান আরএসআরএম স্টিল–এর শেয়ারেও প্রায় ২.৫৩ শতাংশ দর কমেছে।

আজকের লুজার তালিকায় আরও রয়েছে প্যাসিফিক ডেনিম লিমিটেড, যার শেয়ারদর প্রায় ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি খাতের মেঘনা পেট্রোলিয়াম–এর শেয়ারেও প্রায় ২.৪৯ শতাংশ দরপতন দেখা গেছে।

উচ্চমূল্যের শেয়ারের মধ্যে রেনউইক যাজু অ্যান্ড কোম্পানি এবং জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ–এর শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ২.১২ শতাংশ ও ২.০৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই দরপতনের অন্যতম কারণ।

তালিকার দশম স্থানে থাকা এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ–এর শেয়ারদর কমেছে প্রায় ১.৯৬ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ দরপতনকারী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের শেয়ারেই তুলনামূলক বেশি সংশোধন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত নয়; বরং সাম্প্রতিক উত্থানের পর একটি স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয় হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

-রাফসান


৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৪:৫৬:৪৪
৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের বড় অংশজুড়ে ছিল ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের শেয়ার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারে প্রত্যাশিত রিটার্ন এবং সাম্প্রতিক তারল্য পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার হিসেবে উঠে আসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের ১২ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৪০ পয়সায় বন্ধ হয়, যা প্রায় ৯.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। দিনভর ক্রয়চাপ বেশি থাকায় শেয়ারটি গেইনার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক। ব্যাংকটির শেয়ারদর ৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়, যা প্রায় ৮.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে প্রত্যাশাই এই উত্থানের পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি হয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স–এর শেয়ারে। নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার আগের ১২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে, যা প্রায় ৮.৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ব্যাংকিং খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার আইএফআইসি ব্যাংক আজ ৮.৩৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একই খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংক–এর শেয়ারও প্রায় ৭.৩২ শতাংশ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও আজ ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর দর বেড়েছে ৬.৬৭ শতাংশ। পাশাপাশি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এও ধারাবাহিক ক্রয়চাপ দেখা গেছে।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফাইন্যান্স–এর শেয়ার আজ প্রায় ৫.৮৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের শিল্প খাতের শেয়ার এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস–এও সক্রিয় লেনদেন হয়েছে এবং দর বেড়েছে প্রায় ৫.৭৯ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারই বাজারকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং তারল্য সংকট না বাড়লে স্বল্পমেয়াদে এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

-রফিক


৮ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৫:২৩:৪০
৮ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনভিত্তিক লেনদেনে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা প্রায় সমান থাকায় বাজারে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নির্বাচনপূর্ব সতর্কতা ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দিন শেষে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৩৯৩টি ইস্যুতে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬২টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ঠিক একই সংখ্যক ১৬২টি শেয়ারের দর কমেছে, আর ৬৯টি ইস্যুর দর অপরিবর্তিত ছিল। এই পরিসংখ্যানই বাজারের সমতাভিত্তিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বাজারচিত্র

‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতে আজ তুলনামূলকভাবে চাপ বেশি ছিল। এই ক্যাটাগরিতে ৯৪টি শেয়ারের দর কমেছে, বিপরীতে ৭৯টির দর বেড়েছে এবং ৩৪টি শেয়ারের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে বোঝা যায়, ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারেও বিনিয়োগকারীরা আপাতত রক্ষণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২৭টি শেয়ার দর বেড়েছে, ৩৯টি দর হারিয়েছে, আর ১৩টি শেয়ার অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এখানে ৫৬টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ২৯টি কমেছে, এবং ২১টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়েছে। সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এই ক্যাটাগরিতে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

‘এন’ ক্যাটাগরিতে মাত্র একটি ইস্যুতে লেনদেন হয়েছে এবং সেটির দর অপরিবর্তিত ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজার

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আজ কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১৫টির দর কমেছে, ৮টির দর বেড়েছে, এবং ১১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড বাজারে খুব সীমিত লেনদেন হয়েছে। এখানে ১টি বন্ডের দর বেড়েছে, ১টির কমেছে, এবং ২টি অপরিবর্তিত ছিল।

সরকারি ট্রেজারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) খাতে আজ ৩টি ইস্যুতে লেনদেন হলেও সবগুলোর দরই কমেছে, যা সুদহার ও নীতিগত প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

লেনদেনের পরিসংখ্যান ও বাজার মূলধন

আজকের লেনদেনে বাজারে মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৪টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১৭ কোটি ৭ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের কয়েকটি কার্যদিবসের তুলনায় মাঝারি মাত্রার।

দিন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের বাজার মূলধন প্রায় ৩৪ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে ২ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা, আর ঋণপত্র ও ডেট সিকিউরিটিজ খাতে রয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ মূলধন।

ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন

আজকের ব্লক মার্কেটে তুলনামূলকভাবে সক্রিয়তা দেখা গেছে। মোট ৪৮টি সিকিউরিটিতে ৭৮টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রায় ৭০ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ব্লক ট্রেডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, লাভেলো, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারে। বিশেষ করে ফাইন ফুডসের শেয়ারে একাধিক বড় লেনদেন বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। ফলে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে লাভ তুলে নেওয়া ও পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সমান সংখ্যা ইঙ্গিত দেয় যে বাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং বড় কোনো নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়নি।

-রাফসান


৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৫:১৫:১০
৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের শেষভাগে বেশ কয়েকটি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। আগের দিনের সমাপনী দর (ওয়াইসিপি) বিবেচনায় বাজারে বিক্রয়চাপ বাড়ায় শীর্ষ ১০ দরহারানো তালিকায় ব্যাংক, শিল্প, বস্ত্র ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের একাধিক ইস্যু স্থান পেয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং কিছু শেয়ারে অতিমূল্যায়নের কারণে এই পতন হয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনকারী হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ফান্ডটির ইউনিট দর প্রায় ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। দিনের শুরু থেকেই এই ফান্ডে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে ২৪ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে। জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব এ দরপতনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ শতাংশের বেশি কমে ২৬ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট দর হারিয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই দিনে আরেকটি মিউচুয়াল ফান্ড প্রাইম ফার্স্ট আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড প্রায় ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ দরপতন নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

এরপর রয়েছে এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, যার ইউনিট দর ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে। শরিয়াহভিত্তিক ফান্ডগুলোতে সাম্প্রতিক মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রভাব এখানে স্পষ্ট।

ব্যাংক খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড আজকের লেনদেনে ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। শেয়ারটির দর নেমে এসেছে ১৭ টাকায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, যার ইউনিট দর কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সঙ্গে বস্ত্র খাতের পরিচিত কোম্পানি রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড শেয়ার দর হারিয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

শীর্ষ ১০ দরপতনকারী তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। ইউনিট দর প্রায় ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ২ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনপূর্ব বাজার পরিস্থিতিতে কিছু বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে লাভ তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার ও ফান্ডে বিক্রির চাপ বাড়ছে। তারা বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, সাময়িক দরপতনে আতঙ্কিত না হয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

-রাফসান


৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার 

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৫:০৯:২০
৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার 
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লেনদেনের শেষ পর্যায়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আগের দিনের সমাপনী দর (ওয়াইসিপি) বিবেচনায় দিনের শেষে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় শিল্প, বিমা, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খাতের একাধিক কোম্পানি উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্দিষ্ট শেয়ারে চাহিদা বাড়ার কারণেই এই দরবৃদ্ধি ঘটেছে।

দিনের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে কে অ্যান্ড কিউ (কেই অ্যান্ড কিউ)। কোম্পানিটির শেয়ার দর দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। লেনদেনের পুরো সময়জুড়েই শেয়ারটিতে ক্রয়চাপ বজায় ছিল, ফলে সর্বোচ্চ দরও সমাপনী দরেই পৌঁছায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে আইসিবি ইপিএমএফ ১এস১ মিউচুয়াল ফান্ড। ইউনিটপ্রতি দর ৪ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছে আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় স্থানে রয়েছে মনো অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মিলস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ৩৬৪ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একই গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান মনো ফ্যাব্রিকস লিমিটেড চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে, যার শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ২০ পয়সায়।

বিদ্যুৎ খাতের সামিট পাওয়ার লিমিটেড তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রায় ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ার দর ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।

উচ্চমূল্যের শেয়ারের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্পষ্ট ছিল। জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ারের দর ৫ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ৫০২ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বিমা খাতের দুটি প্রতিষ্ঠানও আজকের টপ গেইনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে তালিকায় রয়েছে, আর এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড শেয়ার দর ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

শীর্ষ ১০ তালিকার শেষ অবস্থানে থাকা মনো সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ার দর ৪ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ৮৩ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা, কিছু কোম্পানির মৌলভিত্তি শক্ত হওয়া এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতার কারণে নির্দিষ্ট শেয়ারে এই উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে তারা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র দরবৃদ্ধির ভিত্তিতে নয়, বরং কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, আয়ের ধারাবাহিকতা এবং ঝুঁকি বিবেচনা করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

-রাফসান


সাপ্তাহিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষণে ইতিবাচক ইঙ্গিত

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৩:১২:০০
সাপ্তাহিক শেয়ারবাজার বিশ্লেষণে ইতিবাচক ইঙ্গিত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে ধীরে কিন্তু স্পষ্টভাবে ফিরেছে ইতিবাচক গতি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সূচক, লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে যে উন্নতি দেখা গেছে, তা বাজারের জন্য স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। Dhaka Stock Exchange–এর সাপ্তাহিক ‘মার্কেট পালস’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাজারের এই সামগ্রিক চিত্র।

সূচকের গতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা

সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক দাঁড়িয়েছে ৫,২৩৪.৩৮ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮০.০৭ পয়েন্ট বা ১.৫৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের শুরু থেকে (YTD) সূচকের মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৬ শতাংশে। বড় মূলধনী কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ ০.৭৭ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক উল্লেখযোগ্য ৩.৬৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শরিয়াহ সূচকের এই শক্ত উত্থান শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লেনদেন ও তারল্যের উন্নতি

এই সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৬৮২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি। শেয়ার হাতবদলের দৈনিক গড় পরিমাণও প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে ২২৪ মিলিয়নে পৌঁছেছে। যদিও মোট লেনদেন মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও কম ট্রেডিং ডে থাকা সত্ত্বেও লেনদেনের গতি বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার মূলধন ও সামগ্রিক বিস্তার

সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বাজারের বিস্তারে দেখা গেছে, লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২৩১টির দর বেড়েছে, ১৪১টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন রেশিও ১.৬৪ হওয়ায় বাজারের সার্বিক প্রবণতা স্পষ্টতই ঊর্ধ্বমুখী।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ

ব্যাংক খাত ছিল সপ্তাহের সবচেয়ে সক্রিয় খাত। এই খাতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেমিক্যালস খাতও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে, যা প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগের প্রবণতাকে নির্দেশ করে। টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেন ও দর বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, সাধারণ বিমা ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে বড় ধরনের দর সংশোধন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা আগের লাভ তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইটি ও ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার খাতেও মুনাফা গ্রহণের চাপ দেখা গেছে।

শীর্ষ লেনদেন ও ব্লক ট্রেড

সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাব, ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। ব্লক ট্রেডে ফাইন ফুডস, গ্রামীণফোন, ডমিনেজ স্টিল ও ট্রাস্ট ব্যাংকের বড় অঙ্কের লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে।

দর বৃদ্ধিতে কারা এগিয়ে, দরপতনে কারা

সপ্তাহে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধির তালিকায় বেশিরভাগই ছিল আর্থিক খাত ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার, যেখানে স্বল্প মূল্যের শেয়ারে স্পেকুলেটিভ চাহিদা কাজ করেছে। বিপরীতে, কিছু মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা ও টেক্সটাইল খাতের শেয়ারে দরপতন দেখা গেছে।

সামগ্রিক মূল্যায়ন ও আগাম দৃষ্টিভঙ্গি

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময়ের অনিশ্চয়তার মধ্যেও সূচক ও লেনদেনের এই উত্থান বাজারে আস্থার ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ডলার বিনিময় হার, মুদ্রানীতি, সুদের হার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিতে নজর রাখা এবং স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

-রাফসান


ডিএসইতে আজকার বাজারচিত্র এক নজরে

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৫:২৩:২৭
ডিএসইতে আজকার বাজারচিত্র এক নজরে
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি–এ স্পষ্ট বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে অংশ নেওয়া মোট ৩৯২টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর কমেছে ২২২টির, বিপরীতে দর বেড়েছে ১২৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টি শেয়ারের দাম। এ চিত্র বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন।

‘এ’ ক্যাটাগরিতে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে চাপপূর্ণ। এই ক্যাটাগরির ২০৬টি শেয়ারের মধ্যে ১৩৯টির দর কমেছে, যেখানে দর বেড়েছে মাত্র ৫১টির। এতে বোঝা যাচ্ছে, মৌলভিত্তি শক্ত শেয়ারেও এদিন বিক্রির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি ছিল।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে দর কমেছে ৫৩টির এবং বেড়েছে ১৫টির। অন্যদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলক স্থিতিশীল চিত্র দেখা গেছে; এখানে ৫৭টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ৩০টির কমেছে এবং ১৯টি অপরিবর্তিত ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে এদিন তুলনামূলক ইতিবাচক ধারা দেখা যায়। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৪টির দর বেড়েছে, মাত্র ৩টির দর কমেছে এবং ৭টি অপরিবর্তিত ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহই এ উত্থানের প্রধান কারণ।

সার্বিক লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯০ বার। হাতবদল হওয়া শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৪ লাখ ইউনিটে, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের অঙ্ক কিছুটা কমেছে।

দিন শেষে বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইক্যুইটি অংশের বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা এবং ঋণপত্রে প্রায় ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এদিন ব্লক মার্কেটে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট ৬২টি ব্লক ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। খাদ্য, ওষুধ, বস্ত্র, ব্যাংক ও বীমা খাতের একাধিক শেয়ার ব্লক লেনদেনে সক্রিয় ছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা, সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনী আবহ সব মিলিয়েই বাজারে এদিন চাপ তৈরি হয়েছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ডে ধারাবাহিক আগ্রহ বাজারের জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

-রাফসান


ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৫:০৫:১৬
ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে কয়েকটি বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক ও আর্থিক খাতভুক্ত শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। বাজারে স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও খাতভিত্তিক চাপের কারণে শীর্ষ ১০ দরপতনকারীর তালিকায় উঠে এসেছে একাধিক পরিচিত কোম্পানি।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, যা আগের দিনের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৩ টাকা ৩০ পয়সায় বন্ধ হয়। লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে শেয়ারটিতে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টেকনো ড্রাগস, যার দর কমেছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার দিনশেষে ২৯ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা আরামিট সিমেন্ট ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ দরপতন নিয়ে ১০ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। একই দিনে তুংহাই নিটিং অ্যান্ড স্পিনিং ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে।

বস্ত্র খাতের আরেক শেয়ার রহিম টেক্সটাইল মিলস দিনের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতার পর ৫ দশমিক ১১ শতাংশ দর হারিয়ে ২৩০ টাকা ৪০ পয়সায় বন্ধ হয়। উচ্চ দর থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রফিট টেকিংয়ের প্রভাব এখানে স্পষ্ট ছিল।

এর পরেই রয়েছে নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, যা ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ৮৫ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে। আর্থিক খাতের প্রতিনিধি এবি ব্যাংক শেয়ারের দর কমেছে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ, বন্ধ হয় ৪ টাকা ৪০ পয়সায়।

সিরামিক খাতের স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ ৪ দশমিক ২১ শতাংশ দরপতন নিয়ে ৭২ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। একই দিনে এমএইচ সামিট লিমিটেড প্রায় ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমে ১৭ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে।

শীর্ষ ১০ তালিকার শেষ স্থানে থাকা ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৮০ টাকায় বন্ধ হয়। আগের কয়েক দিনের উত্থানের পর সংশোধনী চাপেই শেয়ারটি দর হারিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক সংশোধন, সঙ্গে খাতভিত্তিক দুর্বলতা ও স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বিক্রিই এ দিনের দরপতনের প্রধান কারণ।

-রাফসান


৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৪:৫৮:১৩
৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার লেনদেনের শেষ পর্যায়ে বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ড ও বড় মূলধনী শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারীর তালিকায় উঠে এসেছে মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের মিউচুয়াল ফান্ড এবং নির্বাচিত শিল্পখাতের শেয়ার।

দিনের শীর্ষে অবস্থান করে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের তুলনায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে। ফান্ডটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়ায় ৩ টাকা ৩০ পয়সা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বল্পমূল্যের ইউনিটে আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যার দর বেড়েছে ৮ শতাংশ। ফান্ডটি দিনশেষে ২ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। ধারাবাহিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই ফান্ডেও সক্রিয় বিনিয়োগ লক্ষ্য করা গেছে।

তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা আইসিবি ইপিএম ফার্স্ট স্কিম ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে ৪ টাকা ২০ পয়সায় বন্ধ হয়। এর পরপরই প্রাইম ফার্স্ট আইসিবিএ মিউচুয়াল ফান্ড প্রায় ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন শেষ করে।

পঞ্চম স্থানে থাকা এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে বাজার বন্ধ করে ৬ টাকা ৩০ পয়সায়। শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ পণ্যে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকার প্রতিফলন হিসেবেই এই উত্থান দেখা যাচ্ছে।

এছাড়া আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড–১ প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছায়। তালিকায় থাকা একমাত্র বড় শিল্প খাতের শেয়ার ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ দিনের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতার পর ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে ৪২১ টাকা ২০ পয়সায় বন্ধ হয়।

বস্ত্র খাতের প্রতিনিধি আল-হাজ টেক্সটাইল মিলস ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ টাকায় উন্নীত হয়, যা খাতভিত্তিক চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একই দিনে আইসিবি সোনালী ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড এবং ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬৫ ও ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্বল্পমূল্যের মিউচুয়াল ফান্ডে আগ্রহ, সঙ্গে কিছু মৌলভিত্তি শক্ত শেয়ারে কারেকশন–পরবর্তী কেনার প্রবণতাই এই দরবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: