হাসিনাকে মাইক দেওয়ায় ভারতকে কাঠগড়ায় তুললেন সালাহউদ্দিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:২৪:০৫
হাসিনাকে মাইক দেওয়ায় ভারতকে কাঠগড়ায় তুললেন সালাহউদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রেস মিটে অংশ নিয়ে বিতর্কিত অডিও বার্তা প্রদানের ঘটনায় আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া এবং তাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের ভূখণ্ডভিত্তিক নীতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতকে সরাসরি এই প্রক্রিয়ার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বিভিন্ন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেন, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর তাঁর প্রথম সরাসরি কোনো সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও আনুষ্ঠানিক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত একজন পলাতক আসামিকে অন্য দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের আশ্রয় নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত তাকে আশ্রয় দিতে পারে কিন্তু তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে কেন স্বাধীন প্রচারমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে?

আওয়ামী লীগের বিগত কার্যক্রম ও বর্তমান মানসিকতা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানোর পরেও সংগঠনটির নেতাদের মাঝে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি। বরং প্রবাসে অবস্থান করে তারা ক্রমাগত দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে, যার ফলে দেশের মানুষের ক্ষোভ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে বিএনপির নীতি পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপি এককভাবে বা কোনো ধরনের প্রশাসনিক আদেশ (নির্বাহী আদেশ) জারি করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আদালতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন। এছাড়া দীর্ঘ শাসনের গুম, খুন ও নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় রেখে দেশের সাধারণ জনগণই ভোটের মাঠে ও সামাজিক বিচারে দলটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৯:৩৫:২৩
শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই আন্দোলন প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলন নয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের দ্রুত কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বোর্ড এ বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব একজন নেতা। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সার্বিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি পোশাকশিল্পের মালিকদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শ্রমিকনেতাদের সঙ্গেও এ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই একমত হয়ে স্বীকার করেছে যে, চলমান এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন নয়; বরং একটি কুচক্রী মহল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

/আশিক


গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৮:৫৪:৫৩
গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরও যদি আন্দোলন অব্যাহত থাকে, তবে রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে তা কঠোরভাবে থামানোর পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের রয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান রাশেদ খাঁন। ওই পোস্টে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে পোশাকশ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ আগামী জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই শ্রমিকেরা তাদের বর্ধিত নতুন মজুরি হাতে পাবেন। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের সকল যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও যদি মাঠে আন্দোলন চলতে থাকে, তবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সেই আন্দোলন থামানোর দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিল্পকারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

পোস্টের শেষাংশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে ফ্যাসিস্ট শক্তির যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও আস্ফালন কঠোরহস্তে মোকাবিলা এবং দমন করতে বিএনপি সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।

/আশিক


শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:৫৩:০৩
শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকারের অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, শিল্প রক্ষা এবং মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি সুনির্দিষ্ট আহ্বান নিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, তারা আজকে কারও পক্ষে দাঁড়াননি, বরং দেশের ও সাধারণ মানুষের পক্ষ হয়ে কথা বলছেন। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার গত নয় মাসে দেশ পরিচালনার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা করেনি। বরং ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার, লুটপাট, দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিরোধী মত দমন এবং সমালোচকদের কারাগারে পাঠানোর এজেন্ডা নিয়ে সরকার ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপি নেতা জানান, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের ফসল। সরকারের আশপাশে এমন কিছু উপদেষ্টা ও সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের ভুলের কারণে দেশ আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। পোশাকশিল্প, সার ও চাল উৎপাদনসহ প্রতিটি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বারবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি আদেশ হ্রাসের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমানও মারাত্মকভাবে নিচে নেমে গেছে।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৩ সালে শ্রমিকরা সর্বনিম্ন পঁচিশ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছিলেন। তখন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবিকে যৌক্তিক বলে শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ এখন উনারাই ক্ষমতায় এসে শ্রমিকদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় বর্তমানে inflación বা মুদ্রাস্ফীতি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার, অকটেন, চাল, ডাল, তেল, ডিম, বিদ্যুৎ ও যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়াতে হবে।

শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির খোঁজার বিষয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নাকের ডগায় কীভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে, তা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে তাদের উপস্থিতি বা ষড়যন্ত্রের দায় সম্পূর্ণভাবে নিরীহ শ্রমিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও দিতে পারছে না। এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

শিল্পের অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস অর্ডার ভিয়েতনাম, ভারত ও মালয়েশিয়ায় চলে যাচ্ছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকরা বাংলাদেশের শ্রমিকদের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেশি বেতন পান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ালে শিল্পমালিকদের লোকসান হবে, এই যুক্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং বন্দরে ঘুষ বাণিজ্য, পরিবহনে চাঁদাবাজি এবং পথে পথে হয়রানি বন্ধ করা গেলে মালিকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমে যাবে। এতে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারও বেশি রাজস্ব বা কর পাবে।

সরকারকে সতর্ক করে এনসিপি নেতা বলেন, এই লুটপাটতন্ত্র ও অনিয়ম বন্ধ না করলে দেশের প্রতিটি খাতের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়াকে উপেক্ষা করলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা, পুলিশের সঙ্গে সংঘাত এবং যুবদল-ছাত্রদলের নেতাদের অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নামার সুনির্দিষ্ট জবাব সরকারকে দিতে হবে। মজুরি কমিশনে শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ বা গুলি না চালিয়ে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। শ্রমিক, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিলে জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকবে।

/আশিক


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ: ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ১৫ দিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:৩৪:৩৮
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ: ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ১৫ দিন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে এই নোটিশ পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত বা সম্রাট নোটিশটি পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী পনেরো দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার একটি জনসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি বলেছিলেন, এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে, এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না এবং বলা হয় যে আমারে টাকা পাঠায়। নোটিশদাতার অভিযোগ, বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ত্রিশ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর-তিন বা সদর আসনের সংসদ সদস্য শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। নির্ধারিত পনেরো দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:১২:২৬
শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহিংসতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সরকারি নলডাঙ্গা ভূখু স্কুল মাঠে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসরাইল হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি থাকলেও এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যে সহিংসতা চালাচ্ছে, তার পেছনে জামায়াত আমিরের উস্কানিমূলক বক্তব্য রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন শুরু করলেও জামায়াত আমিরের ‘দাবি আদায় না হলে সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হবে’—এমন বক্তব্যের পরই আন্দোলনকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ তাণ্ডব শুরু করেছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে গার্মেন্টস শিল্পে আগুন দেওয়া হচ্ছে।

‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই জামায়াতকে ক্ষমতায় আনতে নানারকম ন্যারেটিভ প্রকাশ করায় পত্রিকাটি এখন জামায়াতের মুখপত্র ও প্রোপাগান্ডা হাউজে পরিণত হয়েছে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের তথ্য প্রকাশের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, তিনি অসত্য বা মিথ্যা ন্যারেটিভের একটি কাগজ ছিঁড়েছেন এবং নিজের বিরুদ্ধে চলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ট্যাগিং প্রতিহত করেছেন।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, দেশে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট কাটাতে সরকার বিকল্প উপায়ে কাজ করছে। বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নতুন কোনো গ্যাসের কূপ বা অনুসন্ধান চালানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারের সিন্ডিকেট সরকারকে অসহযোগিতা করছে এবং গ্যাস সংকটের সমাধান হলে সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করবে। বিএনপি সরকারকে একাত্তর ও চব্বিশের—এই দুই পরাজিত অপশক্তিকে মোকাবিলা করে দেশ চালাতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনিতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রাখছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৮:৪৬:৫৩
বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রাখছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে নিরাপদে পুষে রাখছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদ বর্তমানে বিএনপির লোকজনের দখলেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও স্থানীয় নির্বাচন বিষয়ক মতবিনিময় সভার পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা চালালেও ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে। গত আট মাসে বিএনপির সরকার পরিচালনার ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, আন্দোলন মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে সেই দায়িত্ব এনসিপিকে দেওয়া যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা প্রায় ৫০০টি আন্দোলন সফলভাবে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থার কথা উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকায় এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতার পেছনে সরকারের ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধী দলে থাকাকালীন বিএনপি শ্রমিক আন্দোলনকে উসকে দিলেও এখন সরকারে এসে বেতন কাঠামোর বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তবে সহিংসতার পথ পরিহার করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণভাবে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন ও মাহিন সরকারসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ২০:৪০:২২
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা বেড়ে যাবে বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। Monday (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে এনসিপি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে। এই চাঁদাবাজির প্রমাণ হিসেবে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের দেওয়া গাড়ি ও টাকা ব্যবহার করছেন, অথচ প্রকাশ্যে এসে গরম গরম বক্তব্য দিচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়ার একমাত্র কারণ হলো দলটিকে সতর্ক করা। আওয়ামী লীগকে তারা বোঝাতে চায় যে, নিয়মিত অনুদান ও চাঁদা দেওয়া বন্ধ করলে এবং পেছন থেকে সহযোগিতা না করলে তাদের পরিণতি খারাপ হবে।

এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি করার সময় ল্যাপটপ চুরি এবং জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ছাগল চুরি করাটাই পাটওয়ারীর প্রধান অভিজ্ঞতা। এই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এর জের ধরেই রাশেদ খাঁন যোগ করেন, পাটওয়ারী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে সারা দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে যাবে।

/আশিক


জামায়াতের ‘বিপ্লব’ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা রুহুল কবীর রিজভীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৮:৪৭:১৬
জামায়াতের ‘বিপ্লব’ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা রুহুল কবীর রিজভীর
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে শুধু জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনার ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেটে এক সংবাদিক মতবিনিময় সভায় এই কথা জানান তিনি।

চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি ও প্রতিবেশী দেশ থেকে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামানোর এই ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে তিনি জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী রয়েছে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লবের কড়া নাড়ার’ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাত্র আট মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য বোধগম্য নয় এবং সংসদের বাইরে লংমার্চের মাধ্যমে মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি তাদেরকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরী প্রমুখ।

/আশিক


শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৭:৪৮:০২
শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন চলছে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা বর্তমানে আন্দোলনের নামে সহিংসতা চালাচ্ছে, তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের দাবিতে শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে না। গ্রেপ্তার হওয়া মুখোশধারী নাশকতাকারীরা ঘটনাস্থলে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে। এর আগে সকালে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববারই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং আজ সোমবারই এই বোর্ডের প্রথম সভা বা খুব দ্রুত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের বিষয়গুলো অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মতভাবে মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

বৈঠকে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, কিছু কারখানা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কিছু শ্রমিক নেতা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে—এমনকি এ ধরনের অভিযুক্ত কারখানা ও নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের তালিকার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সাধারণ শ্রমিক বা কোনো শ্রমিক সংগঠন কখনো শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: