ফলের রস না কি গোটা ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোনটি নিরাপদ?

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল খাওয়া নিয়ে যে ভীতি কাজ করে, তা দূর করতে বিশেষজ্ঞরা এখন আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি হলো ফলের সঠিক নির্বাচন এবং পরিমিতিবোধ।
অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিস হলে ফল খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ফলের প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ থাকলেও এতে থাকা ফাইবার ও ভিটামিন শরীরের জন্য অপরিহার্য। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কোনো ফলই পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এবং ফাইবারের পরিমাণ বিবেচনা করা জরুরি।
যেসব ফলের জিআই (GI) কম এবং ফাইবার বেশি, সেগুলো রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে। এই তালিকায় রয়েছে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে ও বেদানা। এগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। অন্যদিকে, আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনির মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই এগুলো একেবারে বাদ না দিলেও অত্যন্ত অল্প পরিমাণে এবং মাঝে মাঝে খাওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফলের রসের (Fruit Juice) ক্ষেত্রে। গোটা ফল চিবিয়ে খেলে যে পরিমাণ ফাইবার পাওয়া যায়, রসে তা থাকে না। ফলে রস খেলে রক্তে শর্করা খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর।
খাওয়ার সময়ের ব্যাপারেও রয়েছে বিশেষ পরামর্শ। খালি পেটে ফল না খেয়ে দিনের মাঝামাঝি সময়ে বা বিকালের হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খাওয়া ভালো। এতে রক্তে শর্করার আকস্মিক ওঠানামা (Spike) রোধ করা সম্ভব হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়, বরং পরিমিতিবোধই হলো সুস্বাস্থ্যের মূল মন্ত্র।
ব্রণের যন্ত্রণায় ভুগছেন? রান্নাঘরের এই কয়েকটি উপাদানেই মিলবে সমাধান!
তৈলাক্ত ত্বক, হরমোনজনিত পরিবর্তন কিংবা ধুলোবালির কারণে হওয়া ব্রণ বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তার কারণ। গাল, কপাল বা থুতনি—ব্রণের উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বাজারচলতি নামী-দামী প্রসাধনী ব্যবহার করেন, যা সবসময় আশানুরূপ ফল দেয় না। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞগণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপাদানের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক শান্ত থাকে এবং ব্রণের জ্বালাপোড়া অনেকটাই কমে আসে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তুলসী ও নিম
যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তাদের জন্য তুলসী ও নিমপাতা মহৌষধ। সমপরিমাণ তুলসী ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে মুখে লাগিয়ে রাখুন। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
উজ্জ্বলতা ফেরাতে ওটস ও তুলসী
ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরে পেতে এক চামচ ওটস গুঁড়ো, এক চামচ তুলসী পাতার গুঁড়ো এবং সামান্য কাঁচা দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। সপ্তাহে অন্তত দু’বার ১৫ মিনিট করে এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
শীতকালীন ব্রণের বিশেষ যত্ন
শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় অনেক সময় ব্রণের প্রকোপ বেড়ে যায়। এ সময় তুলসী গুঁড়ো, নিমপাতা বাটা, সামান্য হলুদ ও চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে বিশেষ প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ব্রণের প্রদাহ কমায়।
হলুদ ও মধুর যুগলবন্দি
আধ চা-চামচ হলুদের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। হলুদের অ্যান্টি-সেপটিক গুণ এবং মধুর ময়েশ্চারাইজিং ক্ষমতা ব্রণ দ্রুত সারিয়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে রসুনের কোয়ার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে আগে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি।
যেকোনো ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন আপনার ত্বকে কোনো অ্যালার্জি হচ্ছে কি না। ব্রণের সমস্যা যদি খুব বেশি গুরুতর বা ব্যথাদায়ক হয়, তবে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
রোজায় ক্লান্তি ও পানিশূন্যতা বিদায়! ইফতারে এই ৬টি পানীয়র জাদুকরী গুণ দেখুন
রমজান মাসে দীর্ঘ সময় উপবাসের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা এবং ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের রমজান যেহেতু ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মাঝামাঝি সময়ে (সম্ভাব্য ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু) পড়বে, তখন আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইফতার ও সেহরিতে সঠিক পানীয় নির্বাচন কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও জোগায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে ইফতারে তরল জাতীয় পুষ্টিকর খাবারের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পানিশূন্যতা রোধ এবং সতেজ থাকতে কিছু কার্যকরী পানীয়র হলো
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু পানি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং হজম প্রক্রিয়া সচল রাখে। চিনির বদলে সামান্য মধু বা গুড় মেশালে এটি আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের খনি হলো ডাবের পানি। ইফতারে এটি পান করলে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য দ্রুত ফিরে আসে এবং ক্লান্তি দূর হয়।
দুধে থাকা প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, টক দইয়ের লাচ্ছি বা মাঠা প্রো-বায়োটিক হিসেবে কাজ করে, যা সেহরি বা ইফতারের ভারী খাবারের পর পেট ঠান্ডা রাখে।
পেটের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেলের শরবতের জুড়ি নেই। রমজানে এটি একটি চিরাচরিত স্বাস্থ্যকর পানীয়।
চিয়া সিড বা তোকমা দানা, ফাইবারে ঠাসা এই দানাগুলো পানিতে ভিজিয়ে শরবতের সাথে খেলে দীর্ঘ সময় তৃষ্ণা কম লাগে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এছাড়াও ফলের টাটকা রস বা সাধারণ পানি অল্প অল্প করে বারবার পান করা উচিত। তবে অতিরিক্ত চা-কফি বা সোডাযুক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে তুলতে পারে।
আপনার সন্তান মনোযোগ হারাচ্ছে? জেনে নিন সমাধান
অভিভাবক হিসেবে সন্তানের মনোযোগ ও একাগ্রতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা দৈনন্দিন কাজে শিশু যদি মনোযোগ ধরে রাখতে না পারে, তাহলে তার শেখার গতি ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাধাগ্রস্ত হয়। তবে আশার কথা হলো সঠিক পদ্ধতি, ধারাবাহিকতা ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের মাধ্যমে শিশুদের একাগ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
কেন শিশুদের একাগ্রতা গুরুত্বপূর্ণ
একাগ্রতা মানে হলো নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ ধরে রেখে বিভ্রান্তি উপেক্ষা করার ক্ষমতা। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি অনেকটা মাইন্ডফুলনেসের মতো বর্তমান মুহূর্তে সম্পূর্ণভাবে উপস্থিত থাকা। শিশু যখন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে, অঙ্ক সমাধান করে বা গল্প পড়ে, তখন তার মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় বিকাশ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং স্মৃতিশক্তি দ্রুত উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু আনন্দ ও আগ্রহ নিয়ে শেখে, তাদের একাগ্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি হয় এবং ফলাফলও ভালো হয়। তাই একাগ্রতা কেবল পরীক্ষার নম্বর বাড়ায় না, বরং আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে ওঠার ভিত্তি গড়ে দেয়।
শিশুদের একাগ্রতা বাড়ানোর ১৬টি কার্যকর কৌশল
১. নির্দিষ্ট দৈনন্দিন রুটিন গড়ে তুলুন
নির্ধারিত ঘুম, খাবার ও পড়াশোনার সময়সূচি শিশুর মনে শৃঙ্খলা আনে। যখন তারা জানে কখন কী করবে, তখন অস্থিরতা কমে এবং কাজে মনোযোগ বাড়ে।
২. পড়াশোনার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ তৈরি করুন
শব্দহীন, আলো-বাতাসপূর্ণ একটি নির্দিষ্ট জায়গা শিশুদের দীর্ঘসময় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। পড়ার সময় মোবাইল ও গ্যাজেট দূরে রাখাই উত্তম।
৩. বড় কাজ ছোট ভাগে ভাগ করুন
একসঙ্গে অনেক কাজ দিলে শিশু দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করলে তারা চাপমুক্ত থাকে এবং প্রতিটি ধাপ শেষ করার আনন্দ পায়।
৪. কাজের ফাঁকে বিরতি দিন
টানা পড়াশোনার বদলে ছোট বিরতি দিলে মস্তিষ্ক পুনরুজ্জীবিত হয়। হালকা খেলাধুলা, নড়াচড়া বা নাস্তার বিরতি শিশুকে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরতে সাহায্য করে।
৫. নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে উৎসাহ দিন
শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়, যা মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক। খেলাধুলা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা যোগব্যায়াম শিশুর একাগ্রতা বাড়াতে কার্যকর।
৬. স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে মনোযোগের স্থায়িত্ব কমে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে শিশুদের গ্যাজেট ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা উচিত।
৭. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন
ভালো ঘুম শিশুর মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে। নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো, গল্প বলা বা শান্ত পরিবেশ ঘুমের মান উন্নত করে।
৮. মাইন্ডফুলনেস ও ধ্যান চর্চা করান
শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দেওয়া, শান্ত সঙ্গীত শোনা বা ছোট ধ্যানচর্চা শিশুদের মানসিক চাপ কমিয়ে একাগ্রতা বাড়ায়।
৯. পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন
মস্তিষ্কের কার্যকারিতার সঙ্গে খাদ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলমূল, শাকসবজি, ডিম, বাদাম, দই ও পর্যাপ্ত পানি শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক।
১০. মনোযোগ বাড়ানো গেম খেলান
পাজল, দাবা, সুডোকু বা বোর্ড গেম শিশুর বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও একাগ্রতা বাড়ায় এগুলো খেলাধুলার মাধ্যমেই শেখার সুযোগ দেয়।
১১. বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
স্পষ্ট ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য দিলে শিশু বুঝতে পারে তাকে কী করতে হবে। অস্পষ্ট নির্দেশনা শিশুকে বিভ্রান্ত করে।
১২. নিজে উদাহরণ তৈরি করুন
শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে। আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন, শিশুও তা অনুসরণ করতে উৎসাহ পায়।
১৩. আগ্রহভিত্তিক শেখায় উৎসাহ দিন
শিশুর পছন্দের বিষয় দিয়ে শেখালে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনোযোগী হয় এবং শেখা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
১৪. সময়সীমা নির্ধারণ করুন
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য শিশুকে পরিকল্পনা ও মনোযোগী হতে শেখায়।
১৫. ধৈর্য ও ইতিবাচক মনোভাব রাখুন
একাগ্রতা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। প্রশংসা ও উৎসাহ শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
১৬. পর্যবেক্ষণ দক্ষতা বাড়ান
ইন্দ্রিয়ভিত্তিক খেলা ও পর্যবেক্ষণমূলক কাজ শিশুকে বর্তমান মুহূর্তে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থাকতে শেখায়।
একাগ্রতা শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শিশু আলাদা, তাই তাদের মনোযোগের মাত্রাও ভিন্ন। তবে সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত চর্চা ও অভিভাবকের সহানুভূতিশীল ভূমিকার মাধ্যমে প্রতিটি শিশুই নিজের একাগ্রতা বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় ২১শ শতকের দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
সূত্র: 21K School
সকালে দুধ চা পানের আগে সাবধান: পাকস্থলীতে হতে পারে বড় ক্ষতি
চায়ের স্বাদ ও আভিজাত্য কম-বেশি সবারই পছন্দের, তবে দুধ চা পানের অভ্যাসে নিজের অজান্তেই শরীরের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে দুধ চা পান করা স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চায়ের সঙ্গে দুধ ও চিনি মিশিয়ে পানের নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে নাশতার আগে বা খালি পেটে দুধ চা পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যা থেকে গ্যাসের সমস্যা ও হজমশক্তি ব্যাহত হতে পারে। যারা কড়া করে দুধ চা পান করতে পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ‘পেপটিক আলসার’-এর মতো জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এছাড়া চায়ের অন্যতম উপাদান ‘ট্যানিন’ দুধের স্পর্শে এলে অধিকতর সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা দাঁতে হলদেটে দাগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত দুধ চা পানের অভ্যাস পাকস্থলীতে বিরূপ প্রভাব ফেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় পেট ফাঁপা বা ‘ব্লোটিং’-এর অস্বস্তিও দেখা দেয়। যারা দিনে চার থেকে পাঁচ বার বা তার বেশি দুধ চা পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে অনিদ্রার সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। এসব শারীরিক বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে দুধ চায়ের পরিবর্তে লিকার চা, মধু বা লেবু চা পানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খালি পেটে চা পানের অভ্যাস পরিহার করে তার আগে সামান্য বিস্কুট, মুড়ি বা চিড়া খেয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সর্দি-কাশিতে অব্যর্থ সমাধান আদা চা: জেনে নিন এর জাদুকরী উপকারিতা
শীতকাল বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি, কাশি ও ঠান্ডা একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৌসুমে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে তাৎক্ষণিক আরাম পেতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যুগ যুগ ধরে মানুষ ঘরোয়া টোটকা হিসেবে আদা চায়ের ওপর ভরসা রেখে আসছে। আদার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং উষ্ণ গুণাগুণ গলার অস্বস্তি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ আদায় রয়েছে ‘জিঞ্জেরল’ নামক একটি শক্তিশালী উপাদান, যা মূলত অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ রোধে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সর্দি-কাশির সময় আদার ঝাঁঝালো স্বাদ গলায় প্রশান্তি দেয়। কফ জমে থাকার সমস্যায় আদা শরীরকে ভেতর থেকে গরম করে কফ পাতলা করতে সাহায্য করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট বা নাক বন্ধ থাকার সমস্যায় স্বস্তি মেলে।
সর্দি-ঠান্ডার পাশাপাশি আদা চা হজম প্রক্রিয়ার উন্নতিতেও সহায়ক। অনেক সময় ঠান্ডার কারণে বমিভাব বা হজমের সমস্যা দেখা দেয়, যা আদা চা পানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি শরীরে প্রাকৃতিক উষ্ণতা তৈরি করে, যা শীতকালীন শীতকাতুরে ভাব দূর করে। আদা চা তৈরির সঠিক নিয়ম হলো—এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো কাঁচা আদা ফুটিয়ে নেওয়া। এর গুণাগুণ আরও বাড়াতে এবং স্বাদভেদে এতে লেবুর রস ও সামান্য মধু যোগ করা যেতে পারে। দিনে ১ থেকে ২ কাপ আদা চা সর্দি-কাশির উপসর্গগুলো উপশমে দারুণ কাজ করে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত আদা চা পানের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া উচিত।
রুক্ষ ত্বকের প্রাণ ফেরাতে জাদুকরী দই: জেনে নিন ৩টি বিশেষ ফেসপ্যাক
বসন্তের আগমনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ত্বকের রুক্ষতা ও টান টান ভাব যেন কিছুতেই কাটছে না। আর্দ্রতা ধরে রাখতে অনেকেই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার বা কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করছেন, কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও প্রাণহীন, তারা ঘরে থাকা দইয়ের বিশেষ ফেসপ্যাক ব্যবহার করে পেতে পারেন কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক।
শীতের বিদায়লগ্নে ত্বকের যত্নে দই একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়। ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে আপনি তিনটি ভিন্ন উপায়ে দইয়ের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন
১. দই ও মধুর ফেসপ্যাক
শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দই ও মধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্যাকটি ত্বকের চুলকানি, র্যাশ ও লালচে ভাব কমাতেও সহায়ক। ২ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর হালকা গরম পানি বা সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
২. দই ও বেসনের ফেসপ্যাক
ত্বকের মরা চামড়া বা ডেড সেল দূর করতে এই প্যাকটি অতুলনীয়। ১ চামচ বেসনের সঙ্গে ২ চামচ টকদই এবং এক চিমটি হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি ত্বকে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের রোদে পোড়া দাগ বা ট্যান দূর করে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
৩. দই ও কলার ফেসপ্যাক
শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ত্বক নিস্তেজ ও শুষ্ক দেখায়। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন-ই ত্বকের পানিশূন্যতা দূর করে। অর্ধেকটি কলা ভালো করে চটকে নিয়ে তাতে এক চামচ দই মিশিয়ে নিন। বাড়তি উপকার পেতে এতে এক চামচ মধুও যোগ করতে পারেন। এই মিশ্রণটি ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ফিরে আসে।
কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত
সবজি মানবদেহের জন্য অপরিহার্য এক ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য, যা কম ক্যালরির হলেও উচ্চ পুষ্টিমান নিশ্চিত করে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীরা একমত যে নিয়মিত ও বৈচিত্র্যময় সবজি গ্রহণ হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ বহু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবজিতে থাকা খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে।
সবজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো অত্যন্ত কম ক্যালরিযুক্ত হলেও ভিটামিন এ, সি ও কে-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনে সমৃদ্ধ। পাশাপাশি পটাশিয়াম, আয়রন ও ফলেটের মতো খনিজ উপাদান শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত সবজি খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং শরীর দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
পাতাজাতীয় সবজি যেমন পালং শাক, কেল ও লেটুস বিশেষভাবে পরিচিত তাদের উচ্চ পুষ্টিমান ও কম ক্যালরির জন্য। এসব সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এ ছাড়া এতে থাকা আয়রন ও ফলেট রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ক্রুসিফেরাস বা ফুলকপি জাতীয় সবজি যেমন ব্রোকলি, বাঁধাকপি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটস ক্যানসার প্রতিরোধী গুণের জন্য পরিচিত। এসব সবজিতে সালফারজাতীয় যৌগ, বিশেষ করে সালফোরাফেন থাকে, যা শরীরের ক্ষতিকর কোষের বৃদ্ধি দমন করতে সহায়ক। একই সঙ্গে এগুলো ভিটামিন সি ও খাদ্যআঁশের চমৎকার উৎস, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
মূলজাতীয় সবজি যেমন গাজর, মিষ্টি আলু, বিট ও মূলা শরীরের জন্য শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। গাজর ও মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং ত্বক সুস্থ রাখে। অন্যদিকে বিটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করে।
পেঁয়াজ, রসুন ও লিকের মতো অ্যালিয়াম শ্রেণির সবজি প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এসব সবজিতে থাকা বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সালফার যৌগ শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।
আলু, ভুট্টা ও মটরশুঁটির মতো স্টার্চযুক্ত সবজি শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণে কার্যকর। আলুতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে কলার চেয়েও বেশি। মটরশুঁটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভালো উৎস হওয়ায় নিরামিষভোজীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
শসা, সেলারি ও টমেটোর মতো পানিসমৃদ্ধ সবজি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। এসব সবজির ক্যালরি অত্যন্ত কম হলেও পানির পরিমাণ বেশি থাকায় গরম আবহাওয়ায় এগুলো বিশেষ উপকারী। টমেটোতে থাকা লাইকোপিন হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের সবজি অন্তর্ভুক্ত করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। সবুজ, লাল, কমলা ও বেগুনি রঙের সবজি একসঙ্গে খেলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রায় সব ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পেতে পারে। একরঙা খাদ্যাভ্যাসের চেয়ে বৈচিত্র্যময় সবজি গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি কার্যকর।
সবজি কেবল পেট ভরানোর খাবার নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পুষ্টির উৎস। নিয়মিত সবজি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। সুস্থ থাকতে চাইলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবজিকে প্রধান স্থান দেওয়ার বিকল্প নেই।
সূত্র: গুগল
ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
ফ্রিজে রাখা সত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায় বাজার থেকে আনা সবজি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কখনো সবজি নরম হয়ে যায়, কখনো আবার পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। গৃহিণী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে এটি একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ ফ্রিজ নয়, বরং সবজি সংরক্ষণের ভুল পদ্ধতি।
সবজি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঠিক সমন্বয়। গবেষণা অনুযায়ী, অধিকাংশ সবজি সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা ১ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা সবজির প্রাকৃতিক কোষগঠন ঠিক রাখে এবং পচন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। তাপমাত্রা খুব কম হলে কিছু সবজিতে ‘চিলিং ইনজুরি’ দেখা দেয়, ফলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।
ফ্রিজের ক্রিসপার ড্রয়ার মূলত সবজি সংরক্ষণের জন্যই তৈরি। কিন্তু অনেকেই এর সঠিক ব্যবহার জানেন না। ক্রিসপার ড্রয়ারে সাধারণত দুটি সেটিং থাকে—উচ্চ আর্দ্রতা ও কম আর্দ্রতা। শাকপাতা, লেটুস, পালং, ধনেপাতা কিংবা পুদিনার মতো পাতাজাতীয় সবজি উচ্চ আর্দ্রতার ড্রয়ারে রাখা উচিত, কারণ এসব সবজির পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। অন্যদিকে শসা, ক্যাপসিকাম, মরিচ কিংবা বিনসের মতো সবজি কম আর্দ্রতার ড্রয়ারে রাখলে তুলনামূলক বেশি দিন ভালো থাকে।
সবজি ফ্রিজে রাখার আগে ধোয়া উচিত কি না, এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ সবজি না ধুয়েই ফ্রিজে রাখা উত্তম। কারণ ধোয়ার পর যদি সবজি পুরোপুরি শুকানো না হয়, তাহলে ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার ঘটায়। তবে শাকপাতা জাতীয় সবজি চাইলে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া যায় এবং কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে রাখা যেতে পারে।
সবজি রাখার সময় ব্যাগ বাছাইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শক্ত প্লাস্টিক ব্যাগে সবজি ভরে ফ্রিজে রেখে দেন, যা একটি বড় ভুল। শক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ বাতাস চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ভেতরে ঘাম জমে সবজি দ্রুত পচে যায়। তাই ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এতে একদিকে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় বাতাস চলাচলের সুযোগ পায়।
পাতাজাতীয় সবজি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। এগুলো ধুয়ে শুকিয়ে এয়ারটাইট কনটেইনারে রাখা যেতে পারে, তবে ভেতরে অবশ্যই কাগজের তোয়ালে দিতে হবে। এই তোয়ালে অতিরিক্ত পানি শুষে নেয় এবং সবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখে। সপ্তাহে একবার তোয়ালে পরিবর্তন করলে ফল আরও ভালো হয়।
মূলজাতীয় সবজি যেমন গাজর, মূলা কিংবা বিট রাখার আগে পাতা কেটে ফেলা জরুরি। পাতা রেখে দিলে তা মূল অংশের আর্দ্রতা শুষে নেয়। এসব সবজি প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায় অথবা পানিভর্তি কনটেইনারে ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। তবে পানি ব্যবহার করলে প্রতিদিন তা পরিবর্তন করা আবশ্যক, নইলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
ব্রোকলি ও ফুলকপি তুলনামূলক সংবেদনশীল সবজি। এগুলো ফ্রিজে রাখার সময় হালকা মোড়ানো বা ছিদ্রযুক্ত ব্যাগে রাখা উচিত। সম্পূর্ণ খোলা রাখলে দ্রুত শুকিয়ে যায়, আবার পুরোপুরি মোড়া থাকলে পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেলারি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল সবচেয়ে কার্যকর। ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায় সেলারি দীর্ঘদিন খাস্তা থাকে।
মাশরুম, ক্যাপসিকাম ও শসা এমন সবজি যেগুলো অতিরিক্ত আর্দ্রতায় খুব দ্রুত নষ্ট হয়। এগুলো ঢিলেঢালা কাগজের ব্যাগ বা এমন কনটেইনারে রাখা ভালো, যেখানে ভেতরে পানি জমবে না। ব্যাগ মুখে ক্লিপ লাগিয়ে হালকা খোলা রাখলে ঘনীভবন কম হয়।
পেঁয়াজ ও রসুন সাধারণত ফ্রিজের বাইরে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুকনো জায়গায় রাখা সবচেয়ে ভালো। তবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে ফ্রিজেও রাখা যেতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই আলাদা কনটেইনার ব্যবহার করতে হবে যাতে গন্ধ ছড়াতে না পারে।
ফল ও সবজি একসঙ্গে রাখাও সবজি নষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ। আপেল, কলা ও নাশপাতির মতো ফল থেকে ইথিলিন গ্যাস বের হয়, যা আশপাশের সবজিকে দ্রুত পাকিয়ে নষ্ট করে দেয়। তাই ফল ও সবজি আলাদা ড্রয়ার বা আলাদা শেলফে রাখা উচিত।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো ফ্রিজে অতিরিক্ত সবজি গাদাগাদি করে রাখা। এতে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না, ফলে কিছু সবজি দ্রুত নষ্ট হয়। ফ্রিজে সবজি রাখার সময় সবসময় একটু ফাঁকা জায়গা রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে বাজারে বিশেষ ধরনের শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য সবজি ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ব্যাগ পাতাজাতীয় সবজি সংরক্ষণে বিশেষভাবে কার্যকর। পাশাপাশি নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার রাখা এবং নষ্ট সবজি দ্রুত সরিয়ে ফেলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক নিয়ম মেনে সবজি সংরক্ষণ করলে শুধু খাবারের অপচয় কমে না, বরং পরিবারের খাদ্যব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। একই সঙ্গে প্রতিদিন তাজা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসই পারে ফ্রিজের সবজিকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে।]
বিটরুট কেন সুপারফুড, জানুন এর স্বাস্থ্যগুণ
বিটরুট দেখতে সাধারণ একটি সবজি হলেও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে এটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আয়রন, ফলেট, নাইট্রেট, ফাইবার এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সমন্বয়ে বিটরুটকে এখন অনেক পুষ্টিবিদ “ফাংশনাল ফুড” হিসেবে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ এটি শুধু পেট ভরানোর খাবার নয়, বরং শরীরের নির্দিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
বিটরুটের উজ্জ্বল লাল রঙের পেছনে রয়েছে বেটালেইন নামের এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
হিমোগ্লোবিন ও রক্তস্বল্পতায় বিটরুটের ভূমিকা
রক্তস্বল্পতা বাংলাদেশের মতো দেশে একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মধ্যে। বিটরুটে থাকা আয়রন ও ফলেট হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিয়ম মেনে খেলে এটি শরীরে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের পরিবেশ উন্নত করতে পারে।
যদিও বিটরুট কোনো ওষুধ নয়, তবু এটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত থাকলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হালকা মাত্রার আয়রন ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী একটি প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।
রক্তচাপ ও হৃদ্স্বাস্থ্যে বিটরুট কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। এই উপাদান রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত ও শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
এ কারণেই অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অল্প পরিমাণ বিটরুট খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি কখনোই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক খাদ্য হিসেবে বিবেচ্য।
লিভার ডিটক্স ও শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা
লিভার মানবদেহের প্রধান ডিটক্স অঙ্গ। বিটরুটে থাকা বেটালেইন ও ফাইবার লিভারের এনজাইম কার্যক্রমকে সহায়তা করে, যার ফলে শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য ও টক্সিন বের হয়ে যেতে সহজ হয়।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিটরুট খেলে লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে যারা ভাজাপোড়া বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খান, তাদের জন্য এটি সহায়ক একটি সবজি।
ত্বক, শক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় বিটরুট ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে ত্বক উজ্জ্বল থাকা, ক্লান্তিভাব কমে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে শরীরে প্রাণচাঞ্চল্য অনুভূত হওয়ার কথা অনেকেই বলেন।
এ ছাড়া বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়, ফলে হঠাৎ করে শক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
পিরিয়ড হেলথ ও PCOS প্রসঙ্গে বিটরুট
নারীদের মাসিকজনিত দুর্বলতা ও রক্তস্বল্পতায় বিটরুট সহায়ক হতে পারে। পিরিয়ডের সময় শরীরে আয়রনের চাহিদা বাড়ে, সেখানে বিটরুট একটি প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
PCOS-এর ক্ষেত্রে বিটরুট সরাসরি চিকিৎসা নয়, তবে ইনফ্লামেশন কমানো, লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করা এবং সামগ্রিক পুষ্টি জোগানোর মাধ্যমে এটি হরমোন ভারসাম্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
ডায়াবেটিসে বিটরুট: নিরাপদ না ঝুঁকিপূর্ণ
বিটরুটে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে, কিন্তু এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বাড়ায় না। তাই সীমিত পরিমাণে খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয়।
তবে অতিরিক্ত খেলে বা জুস আকারে বেশি গ্রহণ করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কখন বিটরুটে সতর্কতা দরকার
যাদের কিডনিতে পাথরের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিটরুটে থাকা অক্সালেট সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে বেশি বিটরুট খেলে প্রস্রাব বা মলের রঙ লালচে হতে পারে, যা ভয়ের কিছু নয়।
রক্তে শর্করার ওঠানামা বেশি হলে বা বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
নিরাপদ পরিমাণ ও খাওয়ার সেরা উপায়
পুষ্টিবিদদের মতে, বিটরুট প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খাওয়া যথেষ্ট। একবারে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ গ্রাম, অর্থাৎ আধা ছোট বিটরুট নিরাপদ পরিমাণ হিসেবে ধরা হয়।
সবচেয়ে ভালো হলো স্যালাডে কাঁচা বা হালকা সেদ্ধ করে খাওয়া। জুস হিসেবে খেলে অল্প পরিমাণ নেওয়া উচিত এবং শসা বা গাজরের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াই ভালো। খালি পেটে বিটরুট জুস না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এতে রক্তে চিনি দ্রুত বাড়তে পারে।
পাঠকের মতামত:
- ফলের রস না কি গোটা ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোনটি নিরাপদ?
- গণসংযোগকালে পান বিক্রেতাকে টাকা: তোপের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
- ১২ কোটি ভোটারের মহোৎসব: এক নজরে নির্বাচনের নিয়ম ও প্রস্তুতি
- তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির
- অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া
- ভোটের দুই দিন আগে বড় চমক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই
- ব্যয়ের ভারে ভারী নির্বাচন: বিগত সব রেকর্ড ভাঙল এবারের বাজেট
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- শেষ হলো ভোটযুদ্ধ: প্রচার শেষে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরা
- ১০ ফেব্রুয়ারি: দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ মঙ্গলবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
- এক সপ্তাহে বড় লাফ! রিজার্ভে নতুন চমক দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আকাশে আসছে নতুন অতিথি: দেখা মিলবে ধূমকেতু ভিয়ারজোসের
- স্বনির্ভর বাংলাদেশের লক্ষ্যে বিটিভিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ
- ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই? লাহোরে আইসিসি ও বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- বাইরে থেকে কেউ দেশ গড়ে দেবে না, দায়িত্ব আমাদেরই: তারেক রহমান
- এপস্টেইন মারা যাননি, তিনি বেঁচে আছেন: সাবেক প্রেমিকার চাঞ্চল্যকর দাবি!
- দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় নেমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডা. মিতু
- ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান
- শেখ হাসিনার আসনে ধানের শীষ বনাম ঘোড়া: লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে
- স্কুলে রমজানের ছুটি নিয়ে সুখবর! মন্ত্রণালয়কে মাউশির চিঠি
- হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ: শফিকুর রহমান
- আজই শেষ ব্রিফিং হতে পারে: শফিকুল আলম
- নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইসি: সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুখবর
- ধর্মের নামে ভোট চাওয়া ইমান নষ্ট করার শামিল: মির্জা ফখরুল
- নিশ্চিন্তে চলাফেরার গ্যারান্টি দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
- ৯ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নির্বাচন ও গণভোট: ফল প্রকাশের দিন জানাল নির্বাচন কমিশন
- রেকর্ড ভেঙে চূড়ায় রেমিট্যান্স: স্বস্তিতে দেশের অর্থনীতি
- গুঞ্জন না কি সত্যি? হানিয়া আমিরের বিয়ের খবর নিয়ে উত্তাল ভক্তকুল
- আজকের মুদ্রার রেট; ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর আপডেট একনজরে
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল কবে? দিনক্ষণ জানালেন ইসি আনোয়ারুল সরকার
- ৬১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি এড়াতে আইসিসির নতিস্বীকার! বড় জয় পেল বিসিবি
- মাথাব্যথা মানেই কি ব্রেন টিউমার? জেনে নিন লক্ষণ চেনার বৈজ্ঞানিক উপায়
- ট্রাম্পকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি কুখ্যাত এপস্টেইনের; ফাঁস হলো গোপন নথি
- প্রচারণার শেষলগ্নে মাঠে ডা. শফিকুর রহমান: আজ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিশাল জনসভা
- ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ! ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিলেই ব্যবস্থা: ইসি
- আজ রাজধানীর ৮ স্থানে ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- সোমবার ঢাকার কোন কোন মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন বের হওয়ার আগেই
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের ওয়াক্ত
- পারিবারিক প্রচারণায় পাল্টে যাচ্ছে ভোটের চিত্র: কৌতূহলী ও আশাবাদী নারী ভোটাররা
- উত্তপ্ত চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে শ্রমিক নেতারা
- স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা, ভরি মিলবে ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকাতে
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আবেগ নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জামায়াতের নারী শ্রমনীতি কেন আত্মঘাতী
- আইনের রক্ষক পুলিশ কেন ভয়ের প্রতীকে পরিণত হয়?
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে? সোচ্চারের জরিপে চমক!
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- শীত নিয়ে বদলাচ্ছে পূর্বাভাস, জেনে নিন বিস্তারিত
- আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন
- আজ টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- ভোটকেন্দ্র জানুন অ্যাপে, মিলবে প্রার্থী ও ফলাফলের তথ্য
- ডিএসইতে আজকার বাজারচিত্র এক নজরে
- আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে








