ফলের রস না কি গোটা ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোনটি নিরাপদ?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:২৭:২৬
ফলের রস না কি গোটা ফল: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোনটি নিরাপদ?
ছবি : সংগৃহীত

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল খাওয়া নিয়ে যে ভীতি কাজ করে, তা দূর করতে বিশেষজ্ঞরা এখন আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি হলো ফলের সঠিক নির্বাচন এবং পরিমিতিবোধ।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিস হলে ফল খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, ফলের প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ থাকলেও এতে থাকা ফাইবার ও ভিটামিন শরীরের জন্য অপরিহার্য। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কোনো ফলই পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এবং ফাইবারের পরিমাণ বিবেচনা করা জরুরি।

যেসব ফলের জিআই (GI) কম এবং ফাইবার বেশি, সেগুলো রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে। এই তালিকায় রয়েছে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, পেঁপে ও বেদানা। এগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। অন্যদিকে, আম, কলা, কাঁঠাল, আঙুর ও লিচুতে প্রাকৃতিক চিনির মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই এগুলো একেবারে বাদ না দিলেও অত্যন্ত অল্প পরিমাণে এবং মাঝে মাঝে খাওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফলের রসের (Fruit Juice) ক্ষেত্রে। গোটা ফল চিবিয়ে খেলে যে পরিমাণ ফাইবার পাওয়া যায়, রসে তা থাকে না। ফলে রস খেলে রক্তে শর্করা খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ফলের রসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর।

খাওয়ার সময়ের ব্যাপারেও রয়েছে বিশেষ পরামর্শ। খালি পেটে ফল না খেয়ে দিনের মাঝামাঝি সময়ে বা বিকালের হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খাওয়া ভালো। এতে রক্তে শর্করার আকস্মিক ওঠানামা (Spike) রোধ করা সম্ভব হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল শত্রু নয়, বরং পরিমিতিবোধই হলো সুস্বাস্থ্যের মূল মন্ত্র।


২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২১:২৬:১৮
২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হওয়া রোধে যেসব বিষয় জানা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

একসময় চুল পড়া কিংবা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার একটি স্বাভাবিক সার্বিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে তরুণদের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ পিছিয়ে যাওয়া এবং মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অকাল চুল পড়ার নেপথ্যে একক কোনো কারণ না থেকে বরং বংশগত কারণ, মানসিক অস্থিরতা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের মতো বহুমুখী প্রভাবকের যৌথ ভূমিকা থাকতে পারে।

ভারতের বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাশি সোনির মতে, তরুণ বয়সে চুল পড়ার কারণগুলো বহুমুখী। তিনি উল্লেখ করেন, বংশগত বা জিনগত প্রবণতা, ক্রমাগত মানসিক চাপ, ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস এবং আধুনিক জীবনের ভুল অভ্যাসের কারণে অকালেই মাথার চুল ঝরে পড়তে পারে।

অকাল চুল পড়ার প্রথম ও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা বংশগত টাক পড়ার সমস্যাকে। ডাক্তার সোনি জানান, জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে মাথার ত্বক ও চুলের ফলিকলগুলো অ্যান্ড্রোজেন হরমোন, বিশেষত ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি)-এর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে ধীরে ধীরে ফলিকল সংকুচিত হয়ে চুল পাতলা ও দুর্বল হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল মায়ের দিকের পারিবারিক ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে না, বরং বাবা-মা উভয় পক্ষের পারিবারিক জিনগত ধারা বিবেচনা করা জরুরি।

দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ। বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উদ্বেগ, কর্মক্ষেত্রের মাত্রাতিরিক্ত চাপ, বিষণ্নতা, অপর্যাপ্ত ঘুম, দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর ক্র্যাশ ডায়েট কিংবা বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতার ধাক্কায় ‘টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম’ নামের ব্যাধি দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় মাথার স্বাভাবিক চয়ন পর্যায় থেকে বিপুল পরিমাণ চুল একযোগে ঝরে পড়ার ধাপে চলে যায়। উল্লেখ্য, কোনো মানসিক বা শারীরিক ধাক্কা খাওয়ার কয়েক মাস পর এই চুল পড়া পরিলক্ষিত হয় বিধায় সাধারণ গ্রাহক মূল কারণ শনাক্ত করতে বিভ্রান্ত হন।

ফিটনেস সচেতন তরুণদের মাঝে জিম সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত ক্রিয়েটিন নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক থাকলেও আধুনিক গবেষণায় ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার কারণ হিসেবে নিশ্চিত প্রমাণিত হয়নি। কিছু গবেষণায় ক্রিয়েটিন গ্রহণের পর ডিএইচটি হরমোনের মাত্রায় সাময়িক পরিবর্তনের কথা বলা হলেও কোনো হরমোনের সাধারণ ওঠানামাই সরাসরি টাক পড়ার প্রধান কারণ—এমন চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি।

চতুর্থত, খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি উপাদানের অভাব চুল ঝরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রভাব ফেলে। প্রোটিনের অভাব, অতিরিক্ত অনিয়ন্ত্রিত ডায়েটিং এবং আয়রনসহ অপরিহার্য ভিটামিনের ঘাটতি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে দেয়। তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট বা ভিটামিন গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শে সুনির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। তাই বয়স কম ভেবে অকাল চুল পড়াকে হেলাফেলা না করে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক চাপ ও বংশগত ইতিহাস পর্যালোচনা করে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


কম বয়সে চুল পড়ার প্রধান তিনটি কারণ ও এর প্রতিকার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২০:০২:০৩
কম বয়সে চুল পড়ার প্রধান তিনটি কারণ ও এর প্রতিকার
ছবি : সংগৃহীত

চুল মূলত ত্বকেরই একটি বিশেষ অংশ, তবে বর্তমানে মাথার চুল ঝরে পাতলা হয়ে যাওয়া বা টাক পড়ার সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অর্থাৎ একশর বেশি চুল ঝরতে শুরু করলেই মাথা ফাঁকা হতে দেখা যায়। অল্প বয়সে চুল ঝরে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেখানে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন রূপান্তরিত হয়ে ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরনে পরিণত হয় এবং চুলের ফলিকল সংকুচিত করে ফেলে। দ্বিতীয় কারণটি হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা, যা টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামক জটিলতা তৈরি করে প্রচুর পরিমাণে চুল ঝরিয়ে দেয়। এছাড়া তৃতীয় কারণ হিসেবে প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের মতো পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি শহরের ধুলোবালি ও শক্ত পানির ক্ষতিকর প্রভাব চুলের গোড়াকে দুর্বল করে তোলে।

অল্প বয়সে টাক পড়ার এই সমস্যা রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। চুল ঘন ঘন ধোয়ার ক্ষেত্রে সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু বেছে নেওয়া উচিত এবং চুল ধোয়ার পর ঈষদুষ্ণ ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল দিয়ে স্ক্যাল্পে মাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। চুলের মূল উপাদান কেরাটিনের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, সয়াবিন, পালং শাক ও বাদামের মতো বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা দরকার।

পাশাপাশি ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহার করলে তা ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে ভূমিকা রাখে। কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি এবং আমলকীর মতো প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া হলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ধূমপান চুলের ফলিকলে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় বলে তা বর্জন করা আবশ্যক এবং শরীর ও কোষ মেরামতের জন্য দৈনিক অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।

চুল পড়ার স্থায়ী প্রতিকারের জন্য চুলের পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যা আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। সঠিক পুষ্টি পৌঁছানোর জন্য হেয়ার ফলিকলের নিচে ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি ভেদে চিকিৎসকরা খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন ও শ্যাম্পু প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এছাড়া অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের সমস্যা মোকাবেলায় মেসোথেরাপি ও পিআরপির মতো আধুনিক চিকিৎসা বেশ কার্যকর। তবে এ ধরনের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত সময় ও একাধিক সেশনের প্রয়োজন হয়, যার সফলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য এবং জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা বাধ্যতামূলক।

/আশিক


খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:৪৩:১৬
খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?
ছবি : সংগৃহীত

খাবার খাওয়ার সময় শিশুর সামনে টেলিভিশন চালু রাখা, মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকা কিংবা ট্যাবলেটে গেম খেলা এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাওয়ার টেবিলে ডিভাইসের উপস্থিতির কারণে শিশুরা প্রায়ই তাদের আহারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। এর ফলে তারা ঠিক কতটুকু খাবার গ্রহণ করছে, সে সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা থাকে না। তবে স্ক্রিনে সময় কাটালেই শিশুরা সরাসরি অতিরিক্ত খেতে শুরু করে—সমস্যাটিকে এতটা সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবে স্ক্রিন ব্যবহারের ধরণ, পরিবেশন করা খাবারের প্রকৃতি এবং শিশুর সার্বিক জীবনযাত্রার মেলবন্ধনেই এর ফলাফল নির্ধারিত হয়।

সাধারণ নিয়মে খাবার খাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি শারীরিক কিছু সংকেতের ওপর নির্ভর করে। খাওয়ার আগে তীব্র ক্ষুধা পাওয়া, চিবানোর সময় খাবারের স্বাদ ও গঠন উপভোগ করা এবং একপর্যায়ে পেট ভরে আসার অনুভূতি পাওয়ার মাধ্যমেই আহার শেষ হয়। কিন্তু খাবারের সময় শিশুর দৃষ্টি যদি পর্দায় আটকে থাকে, তবে সেই মনোযোগের বড় একটি অংশ অন্য দিকে চলে যায়। এর ফলে পেটে ক্ষুধা না থাকলেও অবচেতনভাবেই তাদের হাত চলতে থাকে। অনুষ্ঠান যত সময় ধরে চলতে থাকে, খাবারের তাগিদ না থাকা সত্ত্বেও কেবল সময় কাটানোর জন্যই তাদের খাওয়া অব্যাহত থাকে।

তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রক্রিয়াটি আরও কিছুটা ভিন্ন ও জটিল। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরীক্ষাগারে পরিচালিত কিছু নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় টেলিভিশন চলার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়েনি। এই ফলাফলের অর্থ স্ক্রিনের সামনে খাওয়া স্বাস্থ্যকর বা নিরাপদ—তা কিন্তু নয়। বরং এর থেকে বোঝা যায়, এই ধরনের অভ্যাসের চূড়ান্ত প্রভাব একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে এবং তা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত আচরণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ডিভাইসে শিশু আসলে কী দেখছে, সেই বিষয়টির ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত জোরালো। ভিডিও গেম বা সাধারণ টিভি অনুষ্ঠান দেখার সময় পরিবেশ পুরোপুরি খাদ্য-নিরপেক্ষ থাকে না। বিভিন্ন আকর্ষণীয় খাবারের বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থাপন কিংবা সুস্বাদু খাবারের দৃশ্য শিশুদের মনে অজান্তেই খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। খাবারের সময় স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে করা একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ৩৫টি গবেষণার মধ্যে ২৭টিতেই দেখা গেছে, খাবাবের বিজ্ঞাপন বা খাদ্য-সংক্রান্ত ইঙ্গিতের ফলে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ সরাসরি বৃদ্ধি পায়। তবে গবেষকরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, টেলিভিশনের তুলনায় মোবাইল বা ট্যাবলেট নিয়ে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তি তুলনামূলক কিছুটা দুর্বল।

স্ক্রিনের সামনে শিশুকে কোন ধরণের খাবার দেওয়া হচ্ছে, তাও বড় একটি বিবেচ্য বিষয়। যেমন, আধা ঘণ্টা ধরে কার্টুন দেখার সময় একটি শিশুর কাছে যদি এক বাটি বিস্কুট রেখে দেওয়া হয়, তবে খাবার টেবিলে বসে নির্দিষ্ট মাপে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতার সাথে তার বড় অমিল দেখা দেবে। প্রথম ক্ষেত্রে খাবারের কোনো নির্দিষ্ট শুরু বা শেষ থাকে না। পাত্রটি হাতের কাছে থাকায় শিশুটি আনমনে বারবার অল্প অল্প করে মুখে তুলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে মোট কতখানি খেয়ে ফেলেছে, তা আর তার নিজের হিসেবেও থাকে না।

এই আচরণটি একসময় দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে রূপ নেয়। স্ক্রিনের সামনে বসা মানেই যদি প্রতিবার চিপস, বিস্কুট বা মিষ্টি পানীয়র জোগান পাওয়া নিশ্চিত হয়, তবে মস্তিষ্কে এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সংযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিকভাবে ক্ষুধা না পেলেও কেবল টেলিভিশনের সুইচ অন করাই শিশুর মনে ওই মুখরোচক খাবারগুলোর চাহিদা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে শিশুদের মূল খাবার ও নাশতা খাবার টেবিলেই পরিবেশন করা সমীচীন। সম্পূর্ণ প্যাকেট বা বড় পাত্র শিশুর সামনে তুলে না দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাপে মেপে দেওয়া জরুরি। পানীয়র ক্ষেত্রে পানির প্রাধান্য থাকা প্রয়োজন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকসের বদলে ফল, দই কিংবা পরিমিত বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবার তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।

/আশিক


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:৫৬:৪৫
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

সকালে পেট পরিষ্কার না হওয়া, মলত্যাগের জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির মতো কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক ফাইবার ‘ইসবগুলের ভুষি’ (সাইলিয়াম হাস্ক)। এটি মূলত ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ বীজের আবরণ থেকে প্রস্তুতকৃত একটি দ্রবণীয় আঁশ। এটি ওষুধের মতো কৃত্রিমভাবে অন্ত্রকে উত্তেজিত না করে প্রাকৃতিক ‘বাল্ক-ফর্মিং ল্যাক্সেটিভ’ হিসেবে কাজ করে; পানির সংস্পর্শে এলে জেলির মতো ফুলে ওঠে অন্ত্রে পানি ধরে রাখে এবং মল নরম ও ভারী করে সহজে নিঃসরণে সহায়তা করে। তবে এর যথাযথ কার্যকারিতা পেতে সঠিক মাত্রা ও গ্রহণের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা প্রাথমিক অবস্থায় দৈনিক প্রায় ৫ গ্রাম বা ১ থেকে ২ চা-চামচ ইসবগুল দিয়ে শুরু করতে পারেন। অতিরিক্ত মাত্রা একবারে গ্রহণ করলে উপকারের বদলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অন্ত্রে ব্লকেজ তৈরির ঝুঁকি থাকে। এটি খাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করা।

প্রায় ২৪০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস পানিতে ইসবগুল মিশিয়ে বিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক পান করতে হবে এবং দিনভর প্রচুর পানি খেতে হবে; অন্যথায় এটি অন্ত্রের পানি শুষে নিয়ে মলকে উল্টো শক্ত করে ফেলতে পারে। দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময় বা সন্ধ্যায় এটি খাওয়া গেলেও যারা নিয়মিত অন্যান্য ওষুধ সেবন করেন, তাদের ওষুধের কার্যকারিতা ও পুষ্টি শোষণ ঠিক রাখতে ইসবগুল খাওয়ার মাঝে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বজায় রাখা আবশ্যক।

তবে খাবার গিলতে সমস্যা, অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা, তীব্র পেটব্যথা, বমি ভাব কিংবা মলদ্বারে রক্তপাতের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ইসবগুল গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ইসবগুল খাওয়ার পর যদি তীব্র পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা সমস্যা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

/আশিক


টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:৫৯:১৯
টানা ১৪ দিন গ্রিন টি পানে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটে: বিশেষজ্ঞের তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

সকালে এক কাপ গরম গ্রিন টি পান করার অভ্যাস এখন অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের একটি পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে, তবে সাধারণ এই পানীয়টি মানবদেহে কতটা গভীর ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাতে পারে তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি উল্লেখ করেছেন যে, টানা ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় গ্রিন টি পান করলে শরীরে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের অভিমত অনুযায়ী, টানা দুই সপ্তাহ গ্রিন টি পানের ফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মানুষের লিভারের ওপর। গ্রিন টিতে ‘ইজিসিজি’ (EGCG)-এর মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যাটেকিন এবং কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা লিভারের ভেতরের প্রদাহ প্রশমিত করার পাশাপাশি সামগ্রিক মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এর বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ক্রনিক রোগের ঝুঁকি থেকে মানবদেহকে সুরক্ষিত রাখে।

লিভারের সুরক্ষার পাশাপাশি বিপাক প্রক্রিয়া বৃদ্ধি ও শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণেও পানীয়টি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রিন টির উপাদানগুলো শরীরের স্বাভাবিক বিপাক হার বা মেটাবলিজম গতিশীল করে এবং অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া বা ফ্যাট মেটাবলিজমকে আরও ত্বরান্বিত করে। একই সাথে এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, যা স্বাস্থ্য সচেতন ও ফিটনেস বজায় রাখতে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে আশাব্যঞ্জক বিপাকীয় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

গ্রিন টি মানসিক কর্মক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের একাগ্রতা বাড়াতেও সহায়ক। সাধারণ কফি পানের পর অনেকের মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস দেখা দেয়, গ্রিন টির ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি থাকে না। এতে কফির চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম ক্যাফেইন থাকে এবং যুক্ত থাকে ‘এল-থিয়ানিন’ নামক এক বিশেষ অ্যামাইনো অ্যাসিড। এই দুই উপাদানের সম্মিলিত ক্রিয়া মস্তিষ্ককে শান্ত ও স্থির রাখে, যা অস্থিরতা তৈরি না করেই দীর্ঘক্ষণ নিরবচ্ছিন্ন মানসিক সতর্কতা, স্থায়িত্বশীল শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যগত অসংখ্য গুণাবলি থাকা সত্ত্বেও গ্রিন টি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন ডা. শেঠি। তিনি দৈনিক এক থেকে সর্বোচ্চ তিন কাপ গ্রিন টি পানের পরামর্শ দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত ঘন গ্রিন টি নির্যাসের (Green Tea Extract) ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করার কড়া সতর্কতা দিয়েছেন। অতিরিক্ত মাত্রায় ঘন নির্যাস সেবনের ফলে বিরল ক্ষেত্রে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার কারণে পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় পান করাই এই অভ্যাসের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:৫৪:০৩
বুকের ব্যথাই শেষ কথা নয়: হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো জানেন কি?
ছবি : সংগৃহীত

সিনেমার মতো নাটকীয়ভাবে হঠাৎ বুকে চেপে ধরে লুটিয়ে পড়ার বাইরেও অত্যন্ত ধীর ও বিভ্রান্তিকর উপসর্গে বাস্তব জীবনে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় সাধারণ অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা সাধারণ পেশির ব্যথার আড়ালে প্রাণঘাতী এই সমস্যার প্রাথমিক সতর্কসংকেত লুকিয়ে থাকে। মানুষ প্রায়ই খাদ্যাভ্যাস বা কাজের চাপকে দায়ী করে এসব লক্ষণ অবহেলা করেন, যার ফলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হয় এবং হৃৎপিণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, বুকে তীব্র ব্যথা না হয়ে কেবল মাঝখানে চাপ লাগা, ভারী ভাব, আঁটসাঁট লাগা কিংবা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে আবার ফিরে আসে। এই অস্বস্তি শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথার বদলে কেবল বমিভাব, পেটের সমস্যা কিংবা চরম ক্লান্তির মতো অপ্রচলিত উপসর্গ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, কারণহীন যেকোনো বুকজ্বালা বা অস্বস্তিকে কেবল গ্যাস্ট্রিক ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে সময়ক্ষেপণ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সব শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হবে এবং দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। রোগী অচেতন হয়ে পড়লে এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকলে অবিলম্বে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করা এবং প্রয়োজনে ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহার করে রোগীকে বাঁচানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

/আশিক


ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৯:৫৭:০৯
ওষুধ বা সিরাম নয়, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচ খাবারেই মিটবে চুল পড়ার সমস্যা
ছবি : সংগৃহীত

অল্প বয়সেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা এখন প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা ও ব্যস্ত নাগরিক জীবনের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে চুলের স্বাস্থ্যে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই দ্রুত সমাধান পেতে কৃত্রিম রাসায়নিক প্রসাধন, নামীদামি সিরাম বা নানা ধরনের ওষুধের শরণাপন্ন হন, যা ক্ষেত্রবিশেষে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে চুলকে আরও বেশি ভঙ্গুর ও দুর্বল করে তোলে। অথচ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্থায়িত্ব ও উজ্জ্বলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ পুষ্টির ওপর, যার প্রধান জোগান আসে দৈনন্দিন সুষম খাবার থেকে। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতন পরিবর্তন এনে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে পারলে চুল পড়ার হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং মাথার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম রাখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। বিশেষ করে আখরোট, আমন্ড ও কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চুলের ফলিকলকে গভীর থেকে শক্তিশালী করে এবং চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে চিয়া বীজে থাকা উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের সার্বিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সালাদ কিংবা টকদইয়ের সঙ্গে পরিমিত চিয়া বীজ গ্রহণের অভ্যাস চুলের শুষ্কতা দূর করে গোড়া মজবুত রাখতে সহায়ক।

চুলের মূল গাঠনিক উপাদান যেহেতু প্রোটিন, তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে শিমের বীজ একটি উৎকৃষ্ট উপাদান হতে পারে। পর্যাপ্ত শিমের বীজ খাওয়ার ফলে চুলের ভঙ্গুরতা রোধ হয় এবং নতুন চুল গজিয়ে ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালং শাক ভিটামিন এ-এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা মাথার স্ক্যাল্প বা ত্বককে সুস্থ রাখার পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। এর বাইরে দেশীয় ভেষজ ফল আমলকী চুলের সুরক্ষায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা রাখে। আমলকীতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ বাড়িয়ে চুলকে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে তোলে। মূলত বাহ্যিক পরিচর্যার চেয়ে সুষম খাদ্যের সমন্বয়ে চুলের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধি করাই দীর্ঘমেয়াদে চুল পড়া মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ও স্থায়ী উপায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২১:২৭:১৯
ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
ছবি : সংগৃহীত

সময়ের আবর্তনে মানুষের বয়স বৃদ্ধি পাওয়া একটি স্বাভাবিক জৈবিক নিয়ম। কিন্তু জীবনের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কে পা রাখলেই কি একজন মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধ হয়ে যান, নাকি অন্তরের অনুভূতি তাকে প্রবীণ হিসেবে ভাবতে শেখায়—তা নিয়ে গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিতর্ক রয়েছে। বাস্তব জীবনের নানা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বয়স বেড়ে যাওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির কর্মক্ষমতা নিঃশেষ হওয়া, উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া কিংবা সমসাময়িক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নয়। এক লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি জেবেল আলীর একটি গির্জার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, উপাসনালয়ের বেদির কাছে অসুস্থ ও প্রবীণ উপাসকদের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি সংরক্ষিত আসন থাকত। আসনগুলো সচরাচর ফাঁকাই পড়ে থাকত, তবে ভিড়ের দিনে অন্য কেউ সেখানে বসলেও সাধারণত কেউ বাধা দিত না।

লেখক ও তার সঙ্গী দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের সেই আসনগুলোর উপযুক্ত মনে না করে তা এড়িয়ে চলতেন। তাদের ধারণা ছিল, যাদের সত্যিই শারীরিক সহায়তা বা বিশ্রামের প্রয়োজন, জায়গাগুলো কেবল তাদের জন্যই ছেড়ে রাখা উচিত। তবে একদিন গির্জায় উপচে পড়া ভিড়ে বসার জায়গা না পেয়ে তারা নিরুপায় হয়ে ওই সংরক্ষিত আসনে গিয়ে বসেন। প্রার্থনার কিছুক্ষণ পরেই এক আয়োজক অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের মনে করিয়ে দেন যে আসনগুলো প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ।

তখন লেখকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঠিক কত বছর বয়স হলে একজন মানুষ নিজেকে বয়োবৃদ্ধ বিবেচনা করবেন এবং বার্ধক্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ঠিক কখন আসে। এই সাধারণ ঘটনাটি বয়সের মনস্তত্ত্ব নিয়ে এক জটিল সত্যকে সামনে এনেছে। অনেকের পক্ষেই নিজের বয়স বাড়ার চেয়ে সমাজ বা পারিপার্শ্বিক মানুষ তাকে বৃদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করছে—এই মানসিক রূপান্তর মেনে নেওয়া সবচেয়ে বেশি কঠিন ঠেকে। অথচ বাস্তবতা হলো, বয়সের অঙ্ক বাড়লেও বহু মানুষ এখনো নিয়মিত চাকরি করছেন, গাড়ি ড্রাইভ করছেন, দেশ-বিদেশে ঘুরছেন, শরীরচর্চা বজায় রাখছেন এবং নতুন নতুন সৃজনশীল কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখছেন, যা বার্ধক্য নিয়ে সমাজের গতানুগতিক ধারণার সাথে কোনোভাবেই মেলে না।

মানুষের নিজের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হতে থাকে। শৈশবে কোনো শিশুর কাছে পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন ব্যক্তিকে অনেক বৃদ্ধ মনে হতে পারে, কিন্তু সেই ব্যক্তি নিজে যখন জীবনের সেই প্রান্তে পৌঁছান, তখন তিনি নিজেকে যথেষ্ট কর্মক্ষম ও তরুণ অনুভব করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য বহু পরিকল্পনা দেখতে পান। এখানেই কেবল একটি সংখ্যামান এবং প্রকৃত বার্ধক্যের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়। জন্মসনদ বা পরিচয়পত্রের তারিখ শুধু এটুকু প্রমাণ করে যে পৃথিবীতে একজন মানুষ কতগুলো বছর পার করেছেন। কিন্তু সেই সংখ্যা কখনোই পরিমাপ করতে পারে না ব্যক্তির প্রাণচাঞ্চল্য, সক্ষমতা কিংবা তার অন্তর্নিহিত স্বপ্নকে।

ইতিহাসে প্রবীণ বয়সকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল, আধুনিক যুগে তার সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে গেছে। উইলিয়াম শেক্সপিয়র তার বিখ্যাত ‘অ্যাজ ইউ লাইক ইট’ নাটকে জীবনের অন্তিম অধ্যায়কে শৈশবের অসহায়ত্ব ও স্মৃতিভ্রমের এক পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু আজকের দিনের আধুনিক জীবনধারায় সেই ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা অচল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সচেতনতার কারণে প্রবীণরা এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভ্রমণ করছেন, স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখছেন, নতুন জ্ঞান আহরণ করছেন এবং ম্যারাথনের মতো কঠিন শারীরিক প্রতিযোগিতাতেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রবীণ প্রজন্মকে সমাজের মূলধারার সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার, ভিডিও যোগাযোগ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও সামাজিক মাধ্যমের সংযোগ প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে বয়স বৃদ্ধি মানেই আধুনিক পৃথিবীর অগ্রযাত্রা থেকে ছিটকে পড়া নয়। জীবন উপভোগ করা, নিত্যনতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া কিংবা ব্যক্তিগত স্বপ্ন বাস্তবায়নে বয়স কখনোই অন্তরায় হতে পারে না। তাই মানুষের জীবনকে কেবল কত বছর অতিবাহিত হলো তা দিয়ে না মেপে, সেই সময়গুলো মানুষ কতটা সার্থকতা ও আনন্দের সাথে অতিবাহিত করছে, তা দিয়েই প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হওয়া উচিত। গির্জার সেই অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার পর লেখকের কাছেও প্রবীণদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে গেছে। ভবিষ্যতে এমন কোনো সংরক্ষিত জায়গা দেখলে তিনি হয়তো আর সংকোচ বোধ করবেন না। কারণ বার্ধক্য কোনো পালিয়ে বেড়ানোর মতো দুর্বলতা নয়, বরং দীর্ঘ এক জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের গৌরবময় প্রতীক।

/আশিক


পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২০:০২:২৭
পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

ডাল, ছোলা, রাজমা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সবজি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই এগুলো খাওয়ার পর পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে রান্নার পদ্ধতি সঠিক না হলে কিংবা পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকলে এই সমস্যাগুলো আরও প্রকট রূপ নেয়। তবে খাবার পরিপাকে সহায়তা করতে এবং হজমপ্রক্রিয়া সহজ করতে হেঁশেলে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে একটি পরিচিত ভেষজ মসলা—হিং।

ইন্টিগ্রেটিভ লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ লুক কৌতিনহো সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিংয়ের স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, রান্নায় সামান্য বা এক চিমটি হিং যোগ করলে তা গ্যাস, পেটফাঁপা এবং পেট ফাঁপার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ডাল, শিম, ছোলা ও রাজমা রান্নায় ঐতিহাসিকভাবেই হিং ব্যবহারের চল রয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হিংয়ে থাকা সক্রিয় উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্রের প্রয়োজনীয় এনজাইমের ক্ষরণ ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজ ও লাইপেজের মতো এনজাইমের গতিশীলতা বাড়াতে হিং সহায়ক, যা জটিল খাদ্য উপাদান সহজে ভাঙতে সাহায্য করে।

তবে কেবল মসলা ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে রান্নার পূর্বপ্রস্তুতিতেও সতর্ক হওয়া জরুরি। ডাল বা শক্ত দানাযুক্ত শস্য রান্নার আগে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখা, অঙ্কুরোদগম (স্প্রাউটিং) করা এবং হালকা আঁচে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে রান্না করলে তা হজমের জন্য অনেক বেশি উপযোগী হয়ে ওঠে। ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ছোলা কিংবা রাজমার মতো সবজিতে রান্নার সময় জিরা, আদা ও হলুদের পাশাপাশি সামান্য হিং ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে খাবারের গন্ধ ও স্বাদে নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, তাই প্রতি রান্নায় মাত্র এক চিমটি হিং ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

/আশিক

পাঠকের মতামত: