ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৯:১০:৪২
ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান 
ছবি : সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রচলিত ধারার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভাষণে তিনি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে যুবসমাজ ও জেন-জি প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেন যে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পরিবারতন্ত্র ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর শোষণ থেকে মুক্তি চেয়ে আসছিল, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে। তিনি জুলাইয়ের শহীদ আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওসমান হাদীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বলেন যে এই সাহসী সন্তানদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্ম এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমন একটি রাষ্ট্র গড়বে যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ চালকের আসনে বসতে পারবে না এবং রাষ্ট্র হবে সবার জন্য সমান।

নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন যে ৫টি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ৫টি বিষয়ে ‘না’ বলাই হবে তাঁদের মূল ভিত্তি। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে চিরতরে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন যে অতীতে জামায়াতের কোনো জনপ্রতিনিধি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি, যা তাঁদের সততার এক বড় প্রমাণ।

নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন যে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, বরং কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতি—সবখানে মেধার ভিত্তিতে সগৌরবে নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। তাবলীগ জামাত ও ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন যে ভবিষ্যতে তাঁদের ওপর কোনো ধরনের অন্যায় বিশেষণ ট্যাপ দিয়ে নির্যাতন করা হবে না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার কথা জানান তিনি। প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন যে সংসদে প্রবাসীদের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে এবং দূতাবাসে তাঁদের জন্য বিশেষ উপদেষ্টা বা প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে তিনি শেরপুরে নিহত দলীয় কর্মী রেজাউল করিম এবং প্রয়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পরিশেষে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আকুল আবেদন জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একটি ‘আমানত’ এবং হযরত ওমরের (রা.) আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁদের সরকারের মূল লক্ষ্য।


আজ রাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এনসিপি মুখপাত্র

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১৮:১৩:০০
আজ রাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এনসিপি মুখপাত্র
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ রোববার (১০ মে) রাতেই একটি ফ্লাইটে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

আসিফ মাহমুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস সিটিস ফোরাম ২০২৬’-এ তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।

সফরকালে আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেশনে অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল আয়োজনের পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় প্রবাসীদের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রবাসী সমাজের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এ ছাড়া এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের দক্ষিণ কোরিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সভা, প্রতিনিধি বৈঠক ও বিশেষ কমিউনিটি কার্যক্রমেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সফর ও গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ১৯ মে রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৮:১৩:০১
ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রকে টার্গেট করে যেন কারও ক্ষতি করা না হয়, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আহ্বান জানাবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৯ মে) আট দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের বিরোধী।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় নিরীহ মানবগোষ্ঠীর ওপর জুলুম করা হলে আমরা তার বিপক্ষে থাকবো। আমরা সব সময় মজলুমের পক্ষেই আছি এবং থাকবো।” ভারত প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে যেন কোনো অশুভ তৎপরতা না চালানো হয়, সেই বার্তা ভারত সরকারকে দেওয়া হবে।

জাপান সফর সম্পর্কে জামায়াতের আমির জানান, এই সফরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগর অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাপানি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

/আশিক


ধর্মীয় আবেগ ও লাশের রাজনীতি দিয়ে ফায়দা লুটছে এনসিপি: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৯ ১৩:০৬:৩১
ধর্মীয় আবেগ ও লাশের রাজনীতি দিয়ে ফায়দা লুটছে এনসিপি: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং শহীদদের স্মৃতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। শনিবার (৯ মে) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এনসিপি এবং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। রাশেদ খানের দাবি, এনসিপি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ওসমান হাদির আদর্শকে ধারণ না করে বরং তাকে রাজনৈতিক 'ট্রাম্প কার্ড' হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ওসমান হাদি জীবিত থাকাকালীন এনসিপির তীব্র সমালোচক ছিলেন। হাদির বরাতে তিনি তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরেন: এনসিপি কর্তৃক জুলাই বিপ্লবকে কুক্ষিগত করা, নেতাদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং ছাত্র আন্দোলনের ঐক্য বিনষ্ট করা। বিএনপির এই নেতার দাবি, জীবিত অবস্থায় যাকে এনসিপি নেতারা এড়িয়ে চলতেন, আজ তাকেই নির্বাচনের আগে 'আধ্যাত্মিক নেতা' হিসেবে উপস্থাপন করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, পিআর টিম ও নেতাকর্মীদের নিয়ে মসজিদে গিয়ে জনসমাগম দেখিয়ে জননন্দিত হওয়ার কৃত্রিম চেষ্টা করছেন এনসিপি নেতা, যা সাধারণ মুসল্লিদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শহীদদের নিয়ে এমন অতিমাত্রার রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনাকে ম্লান করে দিচ্ছে।

/আশিক


‘আওয়ামী লীগ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন হাসনাত-সারজিস’

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১৩:৩০:০১
‘আওয়ামী লীগ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন হাসনাত-সারজিস’
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম মূলত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিলেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

টক শোতে রাশেদ খান বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম কোটা সংস্কার আন্দোলনের সফলতা চাইলেও সেটি যেন পূর্ণমাত্রার গণঅভ্যুত্থানে রূপ না নেয়, সেই অবস্থানেই ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই আন্দোলনের উত্তপ্ত সময়ে তাদের মন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়ার ঘটনাই সেই অবস্থানের বড় প্রমাণ।

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটি মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে থাকা দুর্বলতা আড়াল করার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। রাশেদ খানের ভাষায়, আন্দোলনের ভেতরে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল, পরবর্তীতে কঠোর অবস্থান নিয়ে তা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ভূমিকা নিয়ে আসিফ মাহমুদের লেখা বইতেও বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই বইয়ে বলা হয়েছে যে, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে বঙ্গভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তাদের গাড়ি থেকে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, যদি তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এসে অবস্থান না নিতেন, তাহলে তাদের ‘জাতীয় বেইমান’ আখ্যা দেওয়া হতো। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ অনেক আলোচনা প্রকাশ্যে আনা রাজনৈতিকভাবে সবসময় সমীচীন নয়।

এনসিপির ভেতরেও হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। যদিও বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত কারণে সেসব আলোচনা প্রকাশ্যে খুব একটা আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

-রফিক


পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:৪৮:১৬
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও সেখানে কয়েক লাখ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া এবং তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার বিষয়টি উদ্বেগজনক। নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেখানে মুসলিম, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্যাতনের খবর আসছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য বাংলাদেশকেই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশবিরোধী শক্তির উসকানি ও সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলের ভেতরে সব ধরনের দ্বন্দ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে এখনকার প্রধান জাতীয় দায়িত্ব।

/আশিক


লন্ডনের রাস্তায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন পাপন! ভাইরাল ছবিতে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৯:৪৩:৪৯
লন্ডনের রাস্তায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন পাপন! ভাইরাল ছবিতে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনের রাস্তায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন পাপন—বিসিবির সাবেক সভাপতির এই ছবি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। দেশের ক্রিকেটের এক সময়কার প্রতাপশালী নিয়ন্ত্রক নাজমুল হাসান পাপনের এমন 'ভবঘুরে' এবং সাধারণ রূপ দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে আলোচনার ঝড়। বুধবার (৬ মে) সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানের পোস্ট করা এই ছবিটি মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, লন্ডনের এক ব্যস্ত রাস্তার ধারে অত্যন্ত সাধারণ ভঙ্গিতে বসে আইসক্রিম উপভোগ করছেন পাপন। প্রায় দুই বছর ধরে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের বাইরে থাকলেও তাকে নিয়ে আমজনতার কৌতূহল যে বিন্দুমাত্র কমেনি, এই ছবির নিচে জমা হওয়া হাজার হাজার কমেন্টই তার প্রমাণ। কেউ ক্ষমতার এই চরম পালাবদল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন, কেউবা হয়েছেন নস্টালজিক। আবার সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন তার দাপুটে সময়ের কথা।

প্রবাস জীবনে পাপনের এমন সাধারণ দৃশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে লন্ডনের সুপারশপে কেনাকাটা করা বা নিরিবিলি রাস্তায় হাঁটার ছবিও সামনে এসেছিল। তবে রাস্তার ধারে বসে আইসক্রিম খাওয়ার এই দৃশ্যটি যেন সময়ের ব্যবধান এবং জীবনের অনিশ্চয়তাকে আরও প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে আজ সুদূর প্রবাসে এক নিভৃত জীবন—পাপনের এই ছবিটি যেন সেই পরিবর্তনেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

/আশিক


অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে অপরাধ বেড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৯:৪০:৩০
অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে অপরাধ বেড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের তুলনায় বর্তমানে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যকে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে, যা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ যে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি, তা বিশ্ববাসীর কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এই এনসিপি নেতা দাবি করেন, পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতির অভাবেই মূলত দেশে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার নতুনভাবে গঠিত হওয়ার পর প্রস্তুতির এই ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সংকটের পেছনে প্রস্তুতির অভাব এবং সিন্ডিকেটের কারসাজিই মূল কারণ বলে তিনি মনে করেন।

সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। সেবাগ্রহীতা এবং সেবাদাতার মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে—এমনটাই তাঁর প্রত্যাশা।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইদুল রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

/আশিক


শাপলা চত্বর অভিযান ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:২৮:২৪
শাপলা চত্বর অভিযান ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) দলটির প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ওই দিনের ঘটনাটি দেশের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। ঘটনার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার সম্পন্ন না হওয়াকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

বিগত ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সেই অভিযানকে ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর পরিচালিত এক নৃশংসতা হিসেবে বর্ণনা করে জামায়াতের আমির বলেন, সেই রাতের ঘটনা জাতির বিবেককে স্তম্ভিত করেছিল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও মানবতার পরিপন্থি এমন কর্মকাণ্ড একটি সভ্য রাষ্ট্রে কখনোই কাম্য নয় বলে তিনি তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে জানান। তিনি আরও বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বছরের পর বছর ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার স্বীকৃত। কিন্তু সেই অধিকারকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করা গণতান্ত্রিক রীতির সম্পূর্ণ বিরোধী। ভবিষ্যতের যেকোনো সময়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিবৃতির শেষ দিকে তিনি দেশের শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদ থেকে পাঠানো এই বিবৃতিতে তিনি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই তদন্তের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক


এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে: শাহরিয়ার কবির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১২:৪৮:৪৪
এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে: শাহরিয়ার কবির
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এনসিপি-র ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রোববার গভীর রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তিনি ইংরেজিতে লিখেছেন— “It’s time to say goodbye to NCP. All the best.” (এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। শুভকামনা সবার জন্য।)

শাহরিয়ার কবিরের এই বক্তব্যের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি-র সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রম বা রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সিনিয়র এই আইনজীবীর এমন সরাসরি ও কঠোর মন্তব্য দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো সংকটের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।

এনসিপি যখন বিভিন্ন সংস্কার ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে সরব, ঠিক তখনই দলের ভেতরে থাকা বা ঘনিষ্ঠজনদের এমন 'বিদায়ী' সুর দলটির জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। শাহরিয়ার কবিরের এই পোস্টের পর এনসিপি’র পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: