২৪ কোটি ডলারের মেগা চুক্তি! চীনের সহায়তায় সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের নৌবহর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২০:৪৬:১৯
২৪ কোটি ডলারের মেগা চুক্তি! চীনের সহায়তায় সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের নৌবহর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের নৌপরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। চীন থেকে চারটি বিশালাকৃতির অত্যাধুনিক জাহাজ কেনার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীন সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেন।

ঢাকার চীনা দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় কেনা চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি হবে ‘ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাঙ্কার’ এবং বাকি দুটি ‘মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার’। আধুনিক নৌ-বাণিজ্যের প্রসারে এই জাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বিশাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

খরচের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাঙ্কার কিনতে ব্যয় হবে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নৌপরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা করবে না, বরং বাংলাদেশের সামুদ্রিক স্বায়ত্তশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চীন বাংলাদেশের সাথে সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই জাহাজগুলো যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের খরচ কমবে এবং রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজের বহর আরও শক্তিশালী হবে।


প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:৪৭:৩০
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে তিনি প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং প্রশাসনও সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

সফর ঘিরে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি পৃথক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতাদের নিয়ে সন্ধ্যার সাংগঠনিক সভাটি তৃণমূল পর্যায়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনবেন এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়ে নির্দেশনা দেবেন।

চূড়ান্ত সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টার দিকে তারেক রহমান মহেশখালীতে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এসব প্রকল্প দেশের বন্দর, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সরকারি অংশে মাতারবাড়িকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাতারবাড়ির কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই সঙ্গে গৃহহারা ১০০ পরিবারের হাতে নতুন নির্মিত বাড়ির চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর দুপুর ১টার দিকে ফটিকছড়িতে যাবেন তারেক রহমান। সেখানে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় গিয়ে প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করার কর্মসূচি রয়েছে।

হাটহাজারীতে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এই সহায়তা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

দিনের সরকারি কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু বর্তমানে পদে নেই—এমন কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকেও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানিয়েছেন, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা সভায় অংশ নেবেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারাও জানিয়েছেন, বাঁশখালীর কর্মসূচি জনসভা না হলেও প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাগত ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বন্যার্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাইছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফর ঘিরে নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সব কর্মসূচি শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একদিনের এই সফরে উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম সব মিলিয়ে সরকারি ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


স্বর্ণ খাতে বড় সংস্কার, বদলাতে পারে আমদানি-রপ্তানি নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:২৮:৫১
স্বর্ণ খাতে বড় সংস্কার, বদলাতে পারে আমদানি-রপ্তানি নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের দীর্ঘদিনের অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণ ব্যবসাকে ধীরে ধীরে বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়াটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনকে আগামী রোববারের মধ্যে লিখিত মতামত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংশ্লিষ্টদের মতামত দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে আরও একটি পরামর্শসভা করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব সংশোধিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসাবান্ধব কাঠামোর আওতায় আনতে নীতি সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বর্ণ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খসড়া নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি, সংরক্ষণ, পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনা, রপ্তানি এবং কর-শুল্ক কাঠামো—সবগুলো বিষয় নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বর্ণ ও অলংকার খাত বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর একটি বড় অংশ এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসেনি। এই অবস্থার দায় শুধু ব্যবসায়ীদের নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা, নজরদারি এবং বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ঘাটতিও এর জন্য দায়ী। তাঁর মতে, ব্যবসায়ীদের এমন একটি পরিবেশ দিতে হবে যেখানে বৈধভাবে ব্যবসা করা সহজ হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে।

সরকারের উদ্দেশ্য নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্য শিল্পখাতের মতো নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় আনা হলে একাধিক ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। বৈধ পথে আমদানি বাড়বে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, ব্যবসায়ীদের আইনি নিরাপত্তা তৈরি হবে এবং স্বর্ণের উৎস, মজুত ও বিক্রির হিসাব আরও পরিষ্কার হবে। সরকার সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানিমুখী শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

খসড়া নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের প্রতিটি ধাপ হিসাবের আওতায় আনা। কোথা থেকে স্বর্ণ এসেছে, কোন ব্যবসায়ীর কাছে কত পরিমাণ মজুত রয়েছে, কতটুকু অলংকার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কী পরিমাণ বিক্রি হয়েছে—এ ধরনের তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য হিসাব ও তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে অঘোষিত স্বর্ণ, অবৈধ লেনদেন এবং উৎস গোপনের প্রবণতা কমতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

শুল্ক ও কর কাঠামোও নতুনভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় বাজারের সঙ্গে দুবাইসহ আন্তর্জাতিক প্রধান স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর দামের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে বৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং চোরাচালান বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সে কারণে এমন কর ও শুল্কহার দরকার, যাতে বৈধ ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক থাকে এবং অবৈধ পথে স্বর্ণ আনার আর্থিক প্রণোদনা কমে যায়।

সরকার শুধু স্বর্ণ আমদানি নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং এই খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে। দেশে দক্ষ স্বর্ণকার ও দীর্ঘদিনের অলংকার তৈরির ঐতিহ্য রয়েছে। যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ, মান নিয়ন্ত্রণ, ডিজাইন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ মূল্য সংযোজিত স্বর্ণালংকার রপ্তানির মাধ্যমে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী এর আগে জাতীয় সংসদে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। দেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর হওয়ায় নতুন উচ্চমূল্যের পণ্য ও শিল্পখাতকে বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণালংকার রপ্তানিকেও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

-রাফসান


গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:২৩:০৭
গণমাধ্যম শক্ত হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কোনো পক্ষের প্রতি অনুগত না হয়ে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সংবাদমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো, আর্থিক দুর্বলতা এবং পেশাগত অনিশ্চয়তাকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও চিহ্নিত করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং তা কোনো স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গণতান্ত্রিক বিকাশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বহু শতকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেখানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ধৈর্য, সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম যত স্বাধীন ও কার্যকর হবে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতাও তত শক্তিশালী হবে। এর আগেও জুলাইয়ের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো ভালো কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভুল, অনিয়ম ও দুর্নীতিকে নির্ভয়ে সামনে আনা।

তবে দেশের টেলিভিশন টকশো ও রাজনৈতিক আলোচনার ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তাঁর মতে, অনেক আলোচনায় এমন একটি চিত্র তুলে ধরা হয়, যেন সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, সমালোচনা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হলেও তা তথ্যভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সরাসরি চাপ নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারপরও অনেক সাংবাদিক নিজেরাই আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের মধ্যে থাকেন। তাঁর মতে, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সাহসী হতে হবে। সত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজেদের অধিকার রক্ষায় পেশাজীবীদের ঐক্যও জরুরি।

সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক সংবাদকর্মী ন্যূনতম চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়, বেতন কাঠামো অনিশ্চিত থাকে এবং শ্রম অধিকারের প্রশ্নেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। অথচ এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রতিবাদ সবসময় দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামোকেও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল। তাঁর মতে, একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক নির্ভরতা কিংবা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান যদি সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তাহলে একজন সাংবাদিকের পক্ষে পূর্ণ স্বাধীনতায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মালিকানা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক শর্ত হচ্ছে ভিন্নমতকে সম্মান করা। রাজনৈতিকভাবে একমত না হলেও প্রতিপক্ষকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে এবং জনপরিসরে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়লে গণমাধ্যম যেমন দুর্বল হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন এবং পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও সেই ধারা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অংশটি বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন দলের ভিন্ন ব্যাখ্যার অংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরে মির্জা ফখরুল একাধিকবার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছেন। জুলাইয়ে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করা এবং রাজনীতিবিদদের ভুলত্রুটি তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা।

-রফিক


আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১৪:১৭:৪১
আগস্টের শেষে চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

আগস্ট মাসের শেষ দিকে চাকরিজীবীদের সামনে টানা চার দিনের ছুটি উপভোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মাত্র এক দিনের নৈমিত্তিক বা অনুমোদিত ছুটি সমন্বয় করতে পারলে ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ অবকাশ পাওয়া যেতে পারে। তবে পুরো পরিকল্পনাই নির্ভর করবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর সরকারি ছুটির চূড়ান্ত তারিখের ওপর।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। ইসলামি ধর্মীয় দিবসের তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির দিন প্রয়োজন হলে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে—আগের বছরও চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকলে চাকরিজীবীরা পরদিন ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক দিনের নৈমিত্তিক বা অনুমোদিত ছুটি নিতে পারেন। এরপর ২৮ আগস্ট শুক্রবার এবং ২৯ আগস্ট শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় সব মিলিয়ে টানা চার দিনের বিরতি পাওয়া যাবে।

অর্থাৎ ২৬ আগস্ট সরকারি ছুটি, ২৭ আগস্ট ব্যক্তিগত বা নৈমিত্তিক ছুটি এবং ২৮ ও ২৯ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটি—এই সমন্বয়ই দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি করবে। যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, গ্রামের বাড়ি যাওয়া বা ব্যক্তিগত বিশ্রামের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

তবে ২৭ আগস্টের ছুটি স্বয়ংক্রিয় নয়। সংশ্লিষ্ট অফিস বা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ছুটি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নৈমিত্তিক ছুটি বা অন্য প্রযোজ্য ছুটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নিজস্ব এইচআর নীতি ও সাপ্তাহিক ছুটির কাঠামো অনুযায়ী সুবিধার পার্থক্য থাকতে পারে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি পালিত হয়। তবে হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনির্বাপণ, পরিবহন ও অন্যান্য জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটির সুবিধা একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

এ কারণে দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা করার আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি—প্রথমত, চাঁদ দেখার পর ২৬ আগস্টের ছুটি বহাল থাকে কি না; দ্বিতীয়ত, ২৭ আগস্টের ব্যক্তিগত ছুটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করে কি না। সরকার ধর্মীয় ছুটির তারিখ পরিবর্তন করলে পুরো চার দিনের হিসাবও বদলে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে সরকারি ছুটির বর্তমান সূচি অপরিবর্তিত থাকলে আগস্টের শেষ সপ্তাহে চাকরিজীবীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় দীর্ঘ বিরতির সুযোগ রয়েছে। মাত্র এক দিনের ছুটি সমন্বয় করতে পারলেই বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিনের অবকাশ মিলতে পারে।

-রফিক


দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২১:৩৯:০২
দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, নতুন আইনের রূপরেখা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া ইতোমধ্যে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এসআরবি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে (ন্যূনতম দুই বছর মেয়াদে) সদস্য এনে এই বাহিনী গঠিত হতে পারে। এসআরবির মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্ত পরিচালনার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ইউনিটটিকে।

নতুন এই বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং মানবাধিকার বা বিচার প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন, যারা নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে পারবেন। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত ও কার্যকর হওয়ার পর র‌্যাবের বিদ্যমান সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, চলমান মামলা ও দায়-দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

/আশিক


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০৬:০২
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার খবর দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) দেখা দেওয়া যান্ত্রিক গোলযোগ সমাধান শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে, যার ইতিবাচক প্রভাবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সারা দেশের গ্যাস সংকট কেটে যাবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এফএসআরইউ সংস্কারের কাজ বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সঞ্চালন ফের চালু করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না থাকলে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও চাপ তৈরি হয়। গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা যায়।

/আশিক


নদীদূষণ দূর করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০১:৫১
নদীদূষণ দূর করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের নদীদূষণ মারাত্মক ও দুর্বিষহ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এই মুহূর্তে কঠোর ও টেকসই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে নদী দূষণ ঠেকাতে সার্বিক এবং সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্র অবহেলা বা শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি কেবল নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, তা যেন দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকা শহরের চারপাশের নদ-নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে একটি বিস্তৃত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দাঁড় করানো এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এই বিশেষ বৈঠকে রাজধানীর কোলঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদীসমূহ—বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ আশপাশের জলাশয়গুলোর বিদ্যমান পরিবেশগত বিপর্যয়, বর্জ্য ও দূষণের প্রধান প্রধান উৎস, বর্তমানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং এসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত ও গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নদীকে বাঁচাতে হলে শিল্পকারখানাসমূহে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নিয়মিত ও কার্যকর রাখা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শহরের খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং নদী দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

/আশিক


ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৫৮:০৫
ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, মুক্তিকামী মানুষের কাছে ৫ আগস্ট কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল মাইলফলক।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় মাহদী আমিন বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সব রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে আসে। তীব্র গণমানুষের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শাসকশ্রেণি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রায় পথচলা শুরু করে। এই স্মরণীয় অবদানকে সম্মান জানাতে দিবসটি জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মুখপাত্র তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির আন্দোলনই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আসল পটভূমি তৈরি করেছিল। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও নারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। মানুষের এই স্রোতকে থামিয়ে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে নির্মম নির্যাতন ও আকাশপথ থেকে গুলি চালানো হলেও রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ কিংবা চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামদের মতো বীরদের অদম্য সাহস জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়।

তিনি গভীর বেদনার সাথে স্মরণ করেন যে, জুলাই-আগস্টের লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গণতান্ত্রিক দলগুলো দল-মত ভুলে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এই এক অভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ঐতিহাসিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে দাবি করতে গিয়ে একটি রাজনৈতিক দল যেমন পরবর্তীতে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভিন্নমত ও ইতিবাচক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানান, যেন রাজপথে বয়ে যাওয়া রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।

মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সাল ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল হলো সেই স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশের লড়াইয়ের শিক্ষাকে পাথেয় করেই আগামীর পথ নির্ধারণ করবে দেশ। রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রূপকল্প, ৩১ দফা কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মেধাভিত্তিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

/আশিক


জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৪৩:০১
জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন আত্মত্যাগের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। এটিকে জাতির ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দুপুরের একটি আবেগঘন ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দৃষ্টিশক্তি হারানো এক সন্তানকে নিয়ে এক মায়ের আকুতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী ও অঙ্গহানির শিকার হওয়া বীরদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে বিদেশি শত্রুকে পরাজিত করা হয়েছিল, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়ে। স্বাধীনতার পর ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অভাবে জনগণ যে বঞ্চিত হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সহনশীল ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে আইন বা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের মনোজগতে প্রকৃত সংস্কার আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার শুরু হতে হবে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ৫ আগস্টের অর্জনকে স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। তিনি বিগত সরকারের অর্থপাচার, বাকস্বাধীনতা হরণ ও 'আয়নাঘর'-এর মাধ্যমে কায়েম করা ভয়ের রাজত্বের তীব্র সমালোচনা করেন এবং রূপান্তরে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সংসদের বিভিন্ন হুইপ, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: