চাঁদ দেখা নিয়ে কাটছে ধোঁয়াশা; ২০২৬-এর ঈদ কি হবে বিশ্বজুড়ে একদিনে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:০২:৪০
চাঁদ দেখা নিয়ে কাটছে ধোঁয়াশা; ২০২৬-এর ঈদ কি হবে বিশ্বজুড়ে একদিনে?
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মতভেদ দেখা দিলেও, পবিত্র ঈদুল ফিতর বা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি প্রায় অধিকাংশ দেশে একই দিনে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য এবং এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের (হিজরি ১৪৪৭) পবিত্র রমজান মাস শুরুর ক্ষেত্রে গাণিতিক গণনা এবং খালি চোখে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে দেশভেদে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। অনেক দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার কোনো কোনো দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান শেষে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময়টি প্রায় সব দেশে অভিন্ন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই গণনা অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের দিকে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।

এ বছর রোজার সময়সীমা নিয়ে জানানো হয়েছে যে, সর্বোচ্চ রোজার দৈর্ঘ্য হতে পারে ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, খোরফাক্কানে সবচেয়ে আগে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা এলাকায় সবচেয়ে দেরিতে ইফতার অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছরই রোজার সময়সীমা এবং শুরুর তারিখে এমন তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। তবে ঈদুল ফিতর একই দিনে হওয়ার এই পূর্বাভাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে একযোগে উৎসব উদযাপনের নতুন আশা সঞ্চার করেছে।


তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:২৫:৪৭
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নতুন চুক্তির লক্ষ্য ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

এরদোগান বলেন, চুক্তিটি মূলত পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘কলেকটিভ ডিটারেন্স’-এর নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি যৌথ সামরিক প্রকল্প, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর উদ্দেশ্য নতুন সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে তিন দেশের সক্ষমতা একত্রিত করা।

নতুন চুক্তিতে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি এককভাবে বা মিত্রদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যায় এই ধারাটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে তিন দেশ।

এরদোগান স্পষ্ট করেছেন, মক্কা চুক্তিকে ইরান, ইসরায়েল, ভারত কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত সামরিক জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে আগ্রহী অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে আরও দৃঢ় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলছে।

তবে চুক্তিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা বাধ্যতামূলক হবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুটি দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনা পাঠাবে কি না, অথবা গোয়েন্দা সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সহযোগিতার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে কি না—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তব সামরিক দায়বদ্ধতার বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বহু দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা আছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের একাধিক যৌথ প্রকল্প রয়েছে। নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এসব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।

তুরস্কের ক্ষেত্রে চুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটি ইতোমধ্যেই ন্যাটোর সদস্য। ফলে আঙ্কারার নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিদ্যমান দায়বদ্ধতার সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন চুক্তিকে ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেনি তুরস্ক এবং এটি নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক ব্লক তৈরির পদক্ষেপ নয় বলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জোর দিয়েছে।

পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে চুক্তিটি নিয়ে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। তবে পাকিস্তান এর আগে স্পষ্ট করেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অর্থ পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি বা পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতা দেওয়া নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, নতুন চুক্তিকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দেখছে না।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত আঞ্চলিক নিরাপত্তায় স্থানীয় শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় নিরাপত্তার প্রধান বহিঃশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন ব্যবস্থা একটি অধিকতর অঞ্চলনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন।

তবে এটি কতটা কার্যকর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হবে, সেটি নির্ভর করবে বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। যৌথ কমান্ড, সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্রের আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং সংকটের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ হলে চুক্তিটির প্রকৃত কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে।

-রফিক


ইরানকে যে শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র, যেটা মানলেই ছাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:২৩:০৩
ইরানকে যে শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র, যেটা মানলেই ছাড়
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আশা, শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের পথও খুলতে পারে।

রয়টার্সকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে একটি চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য সমঝোতার মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বাধাহীনভাবে প্রণালি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত তেল ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করা।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান ও ওমান যদি এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা ঘোষণা করে যার মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা থাকবে না, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর বর্তমান অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি নেবে। তবে এ সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয় হবে না। ইরান চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা পালন করছে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সাম্প্রতিক সংঘাতে এই পথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়ে এবং জ্বালানি পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রণালি পুনরায় কার্যকরভাবে খুলে দেওয়ার যেকোনো চুক্তি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে সম্ভাব্য ফি আদায়ের ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও বিমা খাতের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। ইরান ৫ থেকে ৭ শতাংশ এবং ওমান প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত ফি বিবেচনা করছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক ফি ছাড়াই অবাধ চলাচলের পক্ষে।

এ পরিস্থিতিতে ওমান একটি মধ্যবর্তী সমাধান বের করার চেষ্টা করছে। গত মাসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট একটি প্রস্তাবে হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে স্বেচ্ছামূলক ফি সংগ্রহের বিষয়ও তেহরানের সামনে তোলা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং বিমা কাঠামোর সঙ্গে এটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে আগ্রহী। তাঁর ভাষ্য, ইরান নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলা এড়াতে চায় এবং এ কারণেই সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।

কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ আবার খুলে যেতে পারে এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং সরবরাহঝুঁকির কারণে তেলের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঝুঁকিমূল্য আরও কমতে পারে।

-রফিক


প্রথম mRNA ফ্লু টিকা অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:১৫:১৮
প্রথম mRNA ফ্লু টিকা অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন
ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া মেসেঞ্জার আরএনএ বা mRNA প্রযুক্তি এবার মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি mRNA-ভিত্তিক ফ্লু টিকা ‘mFLUSIVA’ অনুমোদন করেছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো কোনো mRNA-ভিত্তিক মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেল।

নতুন টিকাটির গবেষণা নাম mRNA-1010। এটি মূলত ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য FDA টিকাটিকে নিয়মিত বা পূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ‘অ্যাকসেলারেটেড অ্যাপ্রুভাল’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই বয়সীদের ক্ষেত্রে অনুমোদন বহাল রাখতে মডার্নাকে অতিরিক্ত গবেষণার মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল উপকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।

mFLUSIVA নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত বড় আকারের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড-ডোজ ফ্লু টিকার তুলনায় mRNA-1010 পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে ২৬.৬ শতাংশ বেশি আপেক্ষিক কার্যকারিতা দেখিয়েছে। অর্থাৎ এই ২৬.৬ শতাংশকে টিকার মোট কার্যকারিতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; এটি পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রচলিত টিকার তুলনায় নতুন টিকার অতিরিক্ত আপেক্ষিক সুবিধা।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায়ও mRNA-1010-কে প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড-ডোজ ফ্লু টিকার তুলনায় বেশি কার্যকর পাওয়া গেছে। গবেষণাটি ছিল তৃতীয় ধাপের ডাবল-ব্লাইন্ড ও অ্যাকটিভ-কন্ট্রোলড ট্রায়াল। এতে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

টিকাটি শরীরে সরাসরি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে কাজ করে না। বরং mRNA শরীরের কোষকে ভাইরাসের নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির সাময়িক নির্দেশনা দেয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সেই প্রোটিনকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি ও প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মুখোমুখি হলে শরীর দ্রুত সেটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

mFLUSIVA তিন ধরনের নির্বাচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেইনের হেমাগ্লুটিনিন প্রোটিনকে লক্ষ্য করে তৈরি। প্রতি মৌসুমে কোন কোন ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেইন বেশি ছড়াতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করে ফ্লু টিকার গঠন নির্ধারণ করা হয়। ফলে এটি ‘সব ধরনের ফ্লু’ বা নিউমোনিয়া প্রতিরোধের সার্বজনীন টিকা নয়। ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য FDA-ও ইনফ্লুয়েঞ্জা এ-এর H1N1 ও H3N2 এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা বি-এর একটি স্ট্রেইন অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

mRNA প্রযুক্তির সম্ভাব্য বড় সুবিধা হচ্ছে উৎপাদনের গতি ও নমনীয়তা। প্রচলিত ডিমভিত্তিক ফ্লু টিকা তৈরিতে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে mRNA প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভাইরাসের পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে টিকার গঠন অপেক্ষাকৃত দ্রুত হালনাগাদ করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত পরিবর্তনশীল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মোকাবিলায় এই বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে নতুন টিকার কার্যকারিতার পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রচলিত টিকার তুলনায় mRNA-1010 গ্রহণকারীদের মধ্যে ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথার মতো প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা গেছে। অধিকাংশ প্রতিক্রিয়াই ছিল মৃদু থেকে মাঝারি এবং সাময়িক। গবেষণায় গুরুতর প্রতিকূল ঘটনার হার দুই গ্রুপেই কাছাকাছি ছিল।

বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত ফ্লু টিকা গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় পরিবর্তন আসে এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে নিউমোনিয়াসহ গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে mFLUSIVA-কে সরাসরি ‘নিউমোনিয়ার টিকা’ বলা যাবে না। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের টিকা; ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ কমানো গেলে তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জটিলতার ঝুঁকিও পরোক্ষভাবে কমতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় mRNA প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলেও গবেষকেরা বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মকে ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্যানসার ভ্যাকসিন গবেষণায় কাজে লাগাচ্ছেন। তবে ক্যানসারের ক্ষেত্রে mRNA প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলমান এগুলোকে বর্তমানে সাধারণভাবে অনুমোদিত ‘ক্যানসারের প্রতিষেধক’ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

mFLUSIVA-এর অনুমোদন তাই শুধু নতুন একটি ফ্লু টিকার বাজারে আসার ঘটনা নয়; এটি কোভিড-১৯-এর বাইরে mRNA প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক মাইলফলক। বিশেষ করে দ্রুত পরিবর্তনশীল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে টিকার স্ট্রেইনের অমিল কমানো এবং উৎপাদন সময় সংক্ষিপ্ত করার সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কাজে আসে, সেটিই এখন নজরে থাকবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পাওয়া মানেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে টিকাটি ব্যবহার করা যাবে এমন নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব ওষুধ ও টিকা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ফ্লু মৌসুমগুলোতে বাস্তব ব্যবহারে এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে চলমান নিশ্চিতকরণ গবেষণার ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

-রফিক


মণিপুরের অমীমাংসিত সীমান্ত নিয়ে ভারত-মিয়ানমার আলোচনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৭ ১২:১১:০৩
মণিপুরের অমীমাংসিত সীমান্ত নিয়ে ভারত-মিয়ানমার আলোচনা
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কয়েকটি অংশের বিরোধ নিষ্পত্তিতে নতুন উদ্যোগের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তের বিতর্কিত কিছু ভূখণ্ড নিয়ে পারস্পরিক সমঝোতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই দেশ। এর অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে ভূমি বিনিময়ের একটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা ভূখণ্ড হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম এই চার রাজ্য মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে। দুর্গম পাহাড়, ঘন বন এবং একই জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সীমান্তের দুই পাশে বসবাসের কারণে ঐতিহাসিকভাবে এই সীমান্ত তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত ও জটিল।

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে নয়াদিল্লি। ভারত পুরো ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও টহলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, সীমান্ত সুরক্ষায় প্রায় ৩১ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলাচল এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরেছে ভারত।

তবে সীমান্তের সর্বত্র একই গতিতে বেড়া নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে মণিপুরের কিছু এলাকায় সীমারেখা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জমি এবং সীমান্ত চিহ্নিতকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মণিপুরের চান্দেল জেলার বিরোধপূর্ণ অংশগুলোর একটি গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি খুঁজতে সীমিত ভূমি সমন্বয় বা বিনিময়ের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ১ দশমিক ৪৪ বর্গমাইল বা ৩ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড নিয়ে একটি প্রস্তাব আলোচনায় থাকার কথা বলা হলেও এর সুনির্দিষ্ট শর্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সীমান্ত নির্ধারণের প্রশ্নটি ভারতের কাছে এখন কেবল ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তাও যুক্ত হয়েছে। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভারত অতীতেও অভিযোগ করেছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় কিছু বিদ্রোহী সংগঠন মিয়ানমারের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে। ২০২৬ সালের জুনে নয়াদিল্লি সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ভারতকে আশ্বস্ত করেন, ভারতের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য মিয়ানমারের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এর ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকেও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পায়। ভারত ও মিয়ানমার সন্ত্রাসবাদ, বিদ্রোহ, মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অপারেশনাল সমন্বয় আরও বাড়াতে সম্মত হয়। ফলে সীমান্তের অমীমাংসিত অংশ নির্ধারণকে বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ভারতের উদ্বেগের অন্যতম বড় ক্ষেত্র মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্রগুলো সীমান্ত অতিক্রম করে থাকে বলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর অভিযোগ। নয়াদিল্লি এর আগে বলেছিল, বিদ্রোহীদের চলাচল, অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকানো সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার অন্যতম কারণ।

এই নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকেই ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম বা এফএমআর বাতিলের উদ্যোগ নেয়। ব্যবস্থাটির অধীনে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সদস্যরা নির্দিষ্ট শর্তে ভিসা ছাড়াই এক দেশের সীমান্ত থেকে অন্য দেশের অভ্যন্তরে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াতের সুযোগ পেতেন। ২০২৪ সালে ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনমিতিক কাঠামো সুরক্ষার যুক্তিতে এ ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

তবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়েও আপত্তি রয়েছে। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের দুই পাশে নাগা, কুকি, মিজো ও চিনসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের আত্মীয়তা, সামাজিক সম্পর্ক এবং ঐতিহাসিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সীমান্তকে পুরোপুরি কাঁটাতারের বেড়ায় আবদ্ধ করলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, পারিবারিক যোগাযোগ ও সীমান্তনির্ভর অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে গবেষক ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর আশঙ্কা।

সম্ভাব্য ভূমি বিনিময়ের প্রশ্নেও মণিপুরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আপত্তি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সংগঠনগুলোর একটি অংশের অবস্থান হলো, সীমান্ত সমস্যার সমাধানের নামে ভারতের কোনো ভূখণ্ড মিয়ানমারের হাতে দেওয়া উচিত নয়। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো সমঝোতায় পৌঁছালেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রাজ্য পর্যায়ের অংশীজনদের আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় জটিলতা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণও বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দিল্লি ও নেপিডোর মধ্যে কোনো সমঝোতা হলেও দুর্গম সীমান্তে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ থেকে যেতে পারে।

ভারতের জন্য মিয়ানমারের গুরুত্ব শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের স্থল ও সামুদ্রিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিদেশীয় মহাসড়কের মতো উদ্যোগ নয়াদিল্লির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দীর্ঘমেয়াদে সীমান্তে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ভারতের অর্থনৈতিক ও ভূকৌশলগত স্বার্থের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত।

তবে এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তাকে সরাসরি ভারত-মিয়ানমার ভূমি বিনিময়ের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ হলেও প্রস্তাবিত ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত সমন্বয়ের সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। সীমান্ত সুরক্ষা সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ এটুকুই অধিকতর নির্ভুল ব্যাখ্যা।

ভারতের সামনে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে জটিল স্থলসীমান্ত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের নজিরও রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৫ সালে স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরের মাধ্যমে দুই দেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়সহ কয়েক দশকের জটিলতার অবসান ঘটে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সঙ্গে সেই সমাধানের সময়কার পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ফলে একই ধরনের কূটনৈতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও বাস্তবায়নের পথ এক হবে এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের অমীমাংসিত অংশ নিয়ে বর্তমান আলোচনা নয়াদিল্লির বৃহত্তর সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই সরকারের সমঝোতা, সীমান্ত জরিপ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অবস্থান এবং মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। তবে ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিরোধপূর্ণ অংশগুলোর নিষ্পত্তির উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট ভারত তার পূর্ব সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে।

-রফিক


মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিস বিভাগে বড় পরিবর্তন, প্রবাসীদের জন্য জরুরি বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ২০:১৯:৫৬
মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিস বিভাগে বড় পরিবর্তন, প্রবাসীদের জন্য জরুরি বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, নতুন বিধি অনুযায়ী আবেদনকারীদের আবেদনের প্রাথমিক পর্যায়েই যাবতীয় যোগ্যতা ও নথিপত্রের শতভাগ প্রমাণ দাখিল করতে হবে।

ঘোষিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো আবেদনে প্রাথমিক নথিপত্র বা প্রমাণের ঘাটতি থাকলে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা তা সরাসরি বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। আবেদনকারীকে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি প্রমাণের সুযোগ দিতে পূর্বে যে ‘রিকোয়েস্ট ফর এভিডেন্স’ (আরএফই) বা ‘নোটিশ অব ইন্টেন্ট টু ডিনাই’ (এনওআইডি) পাঠানো হতো, নতুন নিয়মে সেই সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না। প্রতিটি অভিবাসন ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্পষ্ট বলা থাকে, তাই শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতি রদ হলো, যেখানে আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল না করে আবেদনকারীকে আরএফই নোটিশের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতো। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)-এর ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন প্রক্রিয়ার জবাবদিহিতা বাড়াতে এবং ভিত্তিহীন আবেদন রোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালা বুধবার (৫ আগস্ট) জারির পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট বা এর পরে জমা হওয়া এবং ইতিপূর্বে জমা হয়ে বিচারাধীন থাকা সব ধরণের অভিবাসন আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি সরাসরি প্রযোজ্য হবে।

/আশিক


চাঁদের পৃষ্ঠে ফ্যালকন-৯ রকেটের অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:১৩:০৬
চাঁদের পৃষ্ঠে ফ্যালকন-৯ রকেটের অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের উপরের ধাপ বা আপার স্টেজ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনিয়ন্ত্রিত বস্তুটি চাঁদের দৃশ্যমান অংশের 'আইনস্টাইন ক্রেটার' এলাকার কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহাকাশে পাঠানো এই রকেটটি গত বছর সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মূল মিশন শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের আপার স্টেজটিকে মহাকাশে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে বিচ্ছিন্নের পর দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং চাঁদের অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে উপগ্রহটির দিকে ধাবিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের মুখে পড়ে।

খগোলবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বিশ্বজুড়ে বিশেষায়িত শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই বিরল সংঘর্ষটির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে আঘাতের স্থানটি থেকে তাত্ক্ষণিক কোনো ভিডিও বা লাইভ সিগন্যাল পাওয়ার সুবিধা না থাকায় ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব হয়নি।

এই বৈজ্ঞানিক ঘটনা প্রসঙ্গে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষের কারণে পৃথিবীর কোনো ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি নেই। বরং এই অনিয়ন্ত্রিত আঘাত থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত চাঁদের মাটি ও গঠন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে সহায়তার পাশাপাশি মহাকাশে ভাসমান বস্তুর সঠিক গতিপথ চিহ্নিত করার প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই ঘটনাটি মহাকাশ বর্জ্য বা 'স্পেস ডেব্রিস' নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ম্যাট বোথওয়েল মহাকাশে অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর কক্ষপথে যেভাবে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে নতুন কোনো মহাকাশযান বা কৃত্রিম উপগ্রহ নিরাপদে উৎক্ষেপণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও বিপদসংকুল হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র: বিবিসি


মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে নতুন তথ্য, কী বলছে সিএনএন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১০:৩০:১৫
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে নতুন তথ্য, কী বলছে সিএনএন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যয় হয়েছে। এ তথ্য সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, সামরিক সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যত থাড ইন্টারসেপ্টর ছিল, তার প্রায় চার-পঞ্চমাংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্রুত মজুত কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রয়টার্স ও সিবিএস নিউজও পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘ-পাল্লার নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলোর উৎপাদনও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বড় ধরনের সংঘাতে মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে।

সিএনএনের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আরও বড় সামরিক অভিযান থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে সরে আসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো কারণ নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউস এসব প্রতিবেদনে প্রকাশিত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট যখন, যেখানে এবং যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সে অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক প্রস্তুতি তাদের হাতে রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ধারিত সব কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান মজুত নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, থাড এবং প্যাট্রিয়ট বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং সরবরাহ সীমিত হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এসব অস্ত্রের ব্যবহার ও পুনরায় মজুত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

-রফিক


প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ২০:২৯:৪২
প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজস্ব অনুমানের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও, এবার তাঁর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নন; বরং নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্ররা। অনুগতদের সঙ্গে নীতির সংঘাত এবং জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তিনি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।

অনুকূল আইনি ব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টায় হোঁচট খাওয়ার ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। সাবেক অলিম্পিক অ্যাথলেট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটিতে বাদী পক্ষে ছিলেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও ট্রাম্প সমর্থক জেনিন পিরো। দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে মামলায় জয় অসম্ভব বুঝতে পেরে পিরো মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিরোর তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে নতিস্বীকারকারী বলে আখ্যা দেন।

পরবর্তী ধাক্কাটি আসে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আইনি উপদেষ্টা টড ব্ল্যাঞ্চের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক রাজনৈতিক মামলার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এই তহবিলের তীব্র বিরোধিতা করেন রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নি ও থম টিলিস। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই তহবিল পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ চূড়ান্ত হতে দেওয়া হবে না। পরিণতিতে সিনেট অনুমোদন পাওয়ার স্বার্থে ব্ল্যাঞ্চ সিনেটরদের লিখিত মুচলেকা দিয়ে সেই শর্ত মেনে নেন।

অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মার্কিন সাময়িক সামরিক হুমকির মাঝেই ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানি প্রতিনিধিরা গোপন বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে পরবর্তীতে জনসম্মুখে তা অস্বীকার করছে। যদিও ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালির সমুদ্র পথ সম্পর্কিত সীমিত কিছু আলোচনা ছাড়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় কোনো চুক্তির সমঝোতা ঘটেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুদীর্ঘ যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ জনগণের সমর্থনে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে কোনো দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বনিম্ন। তবে এই জরিপ পরিসংখ্যানকে সরাসরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন তাঁর জনপ্রিয়তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শীর্ষে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা তাঁর সরকারের বিষয়ে কী রায় দেন, সেটিই এখন বড় দেখার বিষয়।

/আশিক


শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ০৯:২৬:৪৬
শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছে ইরান। কিয়েভ কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাতের ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দুঃখ প্রকাশ করার পর তেহরান এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি। তবে তিনি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর অবস্থান বা হামলার ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি এবং তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইউক্রেনের তিনটি স্থানে আঘাত হানার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরে কিয়েভ ঘটনাটিকে ভুলবশত সংঘটিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করায় অভিযানটি স্থগিত করা হয়। তবে ইউক্রেনের কথিত দুঃখ প্রকাশকে তিনি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা হিসেবে উল্লেখ করলেও কিয়েভের প্রকাশ্য বিবৃতিতে সেই ভাষা ব্যবহৃত হয়নি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে জানিয়েছিলেন, জাহাজে আঘাতটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এটিকে ‘শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

ইউক্রেন ওই জাহাজটিকে রাশিয়ার জন্য ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী নৌযান হিসেবে সন্দেহ করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী বহন করছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাইকৃত কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের কাছে নিহত নাবিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় উভয় পক্ষ উত্তেজনা আরও বিস্তৃত না করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, জাহাজে হামলার ঘটনা বিনা প্রতিক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে না। পরে জাহাজটির নাবিকেরা এবং নিহত নাবিকের মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

মোহসেন রেজায়ি একই সাক্ষাৎকারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিশেষ করে কোনো প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ তেহরানের ভাষায় ‘অবৈধ পথে’ প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচলের নিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য বাধাহীন ও উন্মুক্ত চলাচল দাবি করলেও তেহরান প্রণালিটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলছে। বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যে সাময়িক নৌপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি হয়নি বলে তেহরান জানিয়েছে।

রেজায়ি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ব্যাহত করেছে এবং মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই মূল্যায়ন স্বীকার করেনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে ইরানি সামরিক নেতৃত্বের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিলের দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের দুটি পৃথক যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান এবং হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন ধরনের আন্তঃআঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরের ঘটনার পর সরাসরি ইরান-ইউক্রেন সামরিক সংঘাত শুরু হলে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠতে পারত।

তেহরান আপাতত হামলা বাতিলের কথা জানালেও ঘটনাটির তদন্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: