জিয়ার সেই ভুলের খেসারত দিচ্ছে জাতি, একই পথে তারেক: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১১:৪৯:৩১
জিয়ার সেই ভুলের খেসারত দিচ্ছে জাতি, একই পথে তারেক: আসিফ মাহমুদ
ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চিন্তা হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের করা ‘ঐতিহাসিক ভুলের’ পুনরাবৃত্তি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছেন—‘জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারে’। এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, যদি দেশের মানুষ শেখ হাসিনা বা তাঁর সন্তানদের রাজনীতিতে দেখতে চাইত, তবে ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হতো না। হাজারো মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে যে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করা হয়েছে, তাদের আবার স্বাগত জানানো শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে বলেন, "জিয়াউর রহমান তাঁর জীবনে একটি বড় ভুল করেছিলেন—তিনি বাকশাল প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই ভুলের খেসারত জাতিকে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে দিতে হয়েছে। এর ফলেই দেশে গুম, খুন এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, এই ভুলের কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’-এর শিকার হতে হয়েছে এবং তারেক রহমানকে বছরের পর বছর নির্বাসনে থাকতে হয়েছে।

তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, নিজের পরিবার ও দেশের এত ত্যাগের পর তিনি কীভাবে একই ভুলের পথে হাঁটতে চাইছেন? তিনি স্পষ্ট জানান, জুলাই বিপ্লবের চেতনা হলো ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎপাটন করা, তাদের পুনর্বাসন করা নয়। তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ২০:৪৫:৩৭
নাহিদ ইসলামের ডাকে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্ব ও দলটির বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে বলেন, নাহিদ ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেও গার্মেন্টস কর্মীরা তাতে সাড়া না দিয়ে কাজে ফিরে গেছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে নাহিদ ইসলামের ডাকে একশ লোকও জড়ো হবে না এবং তিনি হয়তো এরই মধ্যে তার প্রমাণও পেয়েছেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপি কেন একটি ‘নামসর্বস্ব দলে’ পরিণত হলো, সে বিষয়ে নাহিদ ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের ভূমিকাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তারা অতি-আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন। তার মতে, নাহিদ ইসলাম যত বেশি অহংকার করবেন, তত বেশি বুঝতে পারবেন যে ওই অভ্যুত্থানে এককভাবে কেবল তারাই সবকিছু করেননি।

দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী উল্লেখ করেন, সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীদের ধরে রাখার যোগ্যতাও দলটির নেতৃত্বের নেই; ফলে সাধারণ মানুষ কেন তাদের ডাকে মাঠে নামবে?

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দীর্ঘ এক বিবৃতি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সামান্তা শারমিন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, দলের আদর্শচ্যুতি, সংগঠনে গণতন্ত্রের অভাব এবং নারীর রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ এনে তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।

/আশিক


জামায়াত জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়লেন এনসিপি নেত্রী সামান্ত শারমিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৯:১৬:০৬
জামায়াত জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়লেন এনসিপি নেত্রী সামান্ত শারমিন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্ত শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত জানান।

ফেসবুক পোস্টে সামান্ত শারমিন উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের নীতির সঙ্গে তিনি দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে মিত্র হিসেবে গ্রহণ করা নীতিগত বা কৌশলগতভাবে সঠিক নয় বলে মনে করতেন তিনি। দলটির সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বিগত ১১ মাস ধরে দলের ভেতরে থেকে গণতান্ত্রিক উপায়ে ও লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে এই অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তা ব্যর্থ হয়।

সংগঠনকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে এতদিন আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক থাকা সম্ভব নয় বলেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর ঘোষিত এনসিপির নতুন কমিটিতে সামান্ত শারমিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল, যা নিয়ে সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

/আশিক


শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৯:৩৫:২৩
শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে কিছু ব্যক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই আন্দোলন প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলন নয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের দ্রুত কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বোর্ড এ বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব একজন নেতা। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের সার্বিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি পোশাকশিল্পের মালিকদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শ্রমিকনেতাদের সঙ্গেও এ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই একমত হয়ে স্বীকার করেছে যে, চলমান এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন নয়; বরং একটি কুচক্রী মহল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

/আশিক


গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৮:৫৪:৫৩
গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরও যদি আন্দোলন অব্যাহত থাকে, তবে রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে তা কঠোরভাবে থামানোর পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের রয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান রাশেদ খাঁন। ওই পোস্টে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে পোশাকশ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ আগামী জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গেই শ্রমিকেরা তাদের বর্ধিত নতুন মজুরি হাতে পাবেন। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষেই এই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের সকল যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও যদি মাঠে আন্দোলন চলতে থাকে, তবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সেই আন্দোলন থামানোর দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিল্পকারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

পোস্টের শেষাংশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, প্রকৃত শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার পর শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে ফ্যাসিস্ট শক্তির যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও আস্ফালন কঠোরহস্তে মোকাবিলা এবং দমন করতে বিএনপি সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।

/আশিক


শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:৫৩:০৩
শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকারের অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, শিল্প রক্ষা এবং মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি সুনির্দিষ্ট আহ্বান নিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হান্নান মাসউদ বলেন, তারা আজকে কারও পক্ষে দাঁড়াননি, বরং দেশের ও সাধারণ মানুষের পক্ষ হয়ে কথা বলছেন। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার গত নয় মাসে দেশ পরিচালনার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা করেনি। বরং ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার, লুটপাট, দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিরোধী মত দমন এবং সমালোচকদের কারাগারে পাঠানোর এজেন্ডা নিয়ে সরকার ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপি নেতা জানান, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের ফসল। সরকারের আশপাশে এমন কিছু উপদেষ্টা ও সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের ভুলের কারণে দেশ আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। পোশাকশিল্প, সার ও চাল উৎপাদনসহ প্রতিটি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বারবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি আদেশ হ্রাসের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমানও মারাত্মকভাবে নিচে নেমে গেছে।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, ২০২৩ সালে শ্রমিকরা সর্বনিম্ন পঁচিশ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছিলেন। তখন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবিকে যৌক্তিক বলে শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ এখন উনারাই ক্ষমতায় এসে শ্রমিকদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় বর্তমানে inflación বা মুদ্রাস্ফীতি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার, অকটেন, চাল, ডাল, তেল, ডিম, বিদ্যুৎ ও যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়াতে হবে।

শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির খোঁজার বিষয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নাকের ডগায় কীভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে, তা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে তাদের উপস্থিতি বা ষড়যন্ত্রের দায় সম্পূর্ণভাবে নিরীহ শ্রমিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও দিতে পারছে না। এই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

শিল্পের অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস অর্ডার ভিয়েতনাম, ভারত ও মালয়েশিয়ায় চলে যাচ্ছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম। মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকরা বাংলাদেশের শ্রমিকদের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেশি বেতন পান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ালে শিল্পমালিকদের লোকসান হবে, এই যুক্তি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং বন্দরে ঘুষ বাণিজ্য, পরিবহনে চাঁদাবাজি এবং পথে পথে হয়রানি বন্ধ করা গেলে মালিকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমে যাবে। এতে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারও বেশি রাজস্ব বা কর পাবে।

সরকারকে সতর্ক করে এনসিপি নেতা বলেন, এই লুটপাটতন্ত্র ও অনিয়ম বন্ধ না করলে দেশের প্রতিটি খাতের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়াকে উপেক্ষা করলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা, পুলিশের সঙ্গে সংঘাত এবং যুবদল-ছাত্রদলের নেতাদের অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নামার সুনির্দিষ্ট জবাব সরকারকে দিতে হবে। মজুরি কমিশনে শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ বা গুলি না চালিয়ে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। শ্রমিক, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিলে জাতীয় নাগরিক পার্টি তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকবে।

/আশিক


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ: ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ১৫ দিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ২০:৩৪:৩৮
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ: ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ১৫ দিন
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে এই নোটিশ পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত বা সম্রাট নোটিশটি পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী পনেরো দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার একটি জনসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি বলেছিলেন, এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে, এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না এবং বলা হয় যে আমারে টাকা পাঠায়। নোটিশদাতার অভিযোগ, বক্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ত্রিশ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর-তিন বা সদর আসনের সংসদ সদস্য শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। নির্ধারিত পনেরো দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:১২:২৬
শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খান
ছবি : সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহিংসতার দায় জামায়াতের আমির এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সরকারি নলডাঙ্গা ভূখু স্কুল মাঠে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসরাইল হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি থাকলেও এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যে সহিংসতা চালাচ্ছে, তার পেছনে জামায়াত আমিরের উস্কানিমূলক বক্তব্য রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন শুরু করলেও জামায়াত আমিরের ‘দাবি আদায় না হলে সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হবে’—এমন বক্তব্যের পরই আন্দোলনকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ তাণ্ডব শুরু করেছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে গার্মেন্টস শিল্পে আগুন দেওয়া হচ্ছে।

‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই জামায়াতকে ক্ষমতায় আনতে নানারকম ন্যারেটিভ প্রকাশ করায় পত্রিকাটি এখন জামায়াতের মুখপত্র ও প্রোপাগান্ডা হাউজে পরিণত হয়েছে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের তথ্য প্রকাশের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, তিনি অসত্য বা মিথ্যা ন্যারেটিভের একটি কাগজ ছিঁড়েছেন এবং নিজের বিরুদ্ধে চলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ট্যাগিং প্রতিহত করেছেন।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, দেশে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট কাটাতে সরকার বিকল্প উপায়ে কাজ করছে। বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নতুন কোনো গ্যাসের কূপ বা অনুসন্ধান চালানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারের সিন্ডিকেট সরকারকে অসহযোগিতা করছে এবং গ্যাস সংকটের সমাধান হলে সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করবে। বিএনপি সরকারকে একাত্তর ও চব্বিশের—এই দুই পরাজিত অপশক্তিকে মোকাবিলা করে দেশ চালাতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনিতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রাখছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৮:৪৬:৫৩
বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রাখছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে নিরাপদে পুষে রাখছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদ বর্তমানে বিএনপির লোকজনের দখলেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও স্থানীয় নির্বাচন বিষয়ক মতবিনিময় সভার পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা চালালেও ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে। গত আট মাসে বিএনপির সরকার পরিচালনার ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, আন্দোলন মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে সেই দায়িত্ব এনসিপিকে দেওয়া যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা প্রায় ৫০০টি আন্দোলন সফলভাবে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের অনাস্থার কথা উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকায় এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহারের অঙ্গীকার পূরণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতার পেছনে সরকারের ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধী দলে থাকাকালীন বিএনপি শ্রমিক আন্দোলনকে উসকে দিলেও এখন সরকারে এসে বেতন কাঠামোর বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তবে সহিংসতার পথ পরিহার করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণভাবে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জোনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন ও মাহিন সরকারসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ২০:৪০:২২
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনা বেড়ে যাবে বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। Monday (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগকে ভয় দেখিয়ে এনসিপি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে। এই চাঁদাবাজির প্রমাণ হিসেবে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং তাদের দেওয়া গাড়ি ও টাকা ব্যবহার করছেন, অথচ প্রকাশ্যে এসে গরম গরম বক্তব্য দিচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়ার একমাত্র কারণ হলো দলটিকে সতর্ক করা। আওয়ামী লীগকে তারা বোঝাতে চায় যে, নিয়মিত অনুদান ও চাঁদা দেওয়া বন্ধ করলে এবং পেছন থেকে সহযোগিতা না করলে তাদের পরিণতি খারাপ হবে।

এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েও তীব্র মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি করার সময় ল্যাপটপ চুরি এবং জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ছাগল চুরি করাটাই পাটওয়ারীর প্রধান অভিজ্ঞতা। এই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এর জের ধরেই রাশেদ খাঁন যোগ করেন, পাটওয়ারী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে সারা দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরির উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে যাবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: