নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: ডা. জুবাইদা রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:২৩:৫২
নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: ডা. জুবাইদা রহমান 
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়নকে অপরিহার্য হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশই নারী; তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।”

গুলশান-বনানী-বারিধারা সোসাইটির নারী প্রতিনিধিদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা’ বিষয়ক এই সভায় ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় তিনি দেশের নারী সমাজের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চিকিৎসক হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান মাতৃমৃত্যুর হারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো সন্তান প্রসবের সময় সঠিক চিকিৎসার অভাবে অনেক মায়ের প্রাণ ঝরে যায়। এই অকাল মৃত্যু রোধে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে।” তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নত প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সকল বাধা দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ঘোষণা দেন যে, নারীদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণ আরও সহজতর করতে পর্যাপ্ত ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ ও ‘নারী সাপোর্ট সেন্টার’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জুবাইদা রহমান আরও জানান, উদ্যোক্তা নারীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বিটিভিতে নাহিদ ইসলামের ভাষণ: ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গড়ার মেগা প্ল্যান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:১১:০২
বিটিভিতে নাহিদ ইসলামের ভাষণ: ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গড়ার মেগা প্ল্যান
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

বিগত ৫৫ বছরের 'বৈষম্যের কাঠামো' ভেঙে ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাতির উদ্দেশে নির্বাচনী ভাষণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভাষণে তিনি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তনের এক রূপরেখা তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম তাঁর ভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার মূল অঙ্গীকার সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উল্টো একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করেছে। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব পুরনো ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে, কিন্তু সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও বেইনসাফ রাষ্ট্র ফিরিয়ে আনতে চায়।”

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় গেলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বিশেষভাবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিগত সময়ে পুলিশকে 'দলীয় বাহিনী' হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই অপরাধী সদস্যদের বিচার করার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘জনসেবক বাহিনী’ বা অনুরূপ কিছু রাখা হবে। এছাড়া পুলিশ কাঠামোকে বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলা পর্যায় থেকে নিয়োগ ও পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

অর্থনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাচার হওয়া প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত আনা হবে এবং লুটপাটকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর অধীনে নেওয়া হবে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবেশী ভারতের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার সমালোচনা করে একটি আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। তিনি সার্ক পুনর্জীবন এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে 'গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা' গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ এবং কৃষকদের জন্য সরাসরি পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, বিগত সরকারের পতনের পরও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব চালিয়েছে, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত। তাই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।


দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা: বিটিভিতে বিশেষ ভাষণ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২০:৫০:৩৪
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা: বিটিভিতে বিশেষ ভাষণ
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতিকে দেশের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তা ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারে তাঁর দলের ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার এবং ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে চরমোনাই পীর বলেন, "স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পায়নি।" তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁদের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণেই দেশে অস্থিরতা বেড়েছে। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মূলনীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কৌশলে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক এবং প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।" আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মুফতি রেজাউল করীম ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভুল নীতি ও ভুল নেতাকে ভোট দেওয়ার দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপরও বর্তায়। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করতে এবং ইসলামের প্রকৃত সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি জনগণের সহযোগিতা ও ভোট কামনা করেন। বক্তৃতায় তিনি রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত পরিকল্পনা ও খাতওয়ারি সংস্কারের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত ৩০ দফা ইশতেহার পাঠ করেন এবং ভোট প্রদানে ইসলামের নীতি ও আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরেন।


কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান-শাওনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:২৫:৩৮
কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান-শাওনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপির ভোট। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (যিনি বহিষ্কার হয়েছেন) আতিকুল আলম শাওনের মধ্যে ভোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রার্থী এবং তাদের নেতাকর্মীরা মারমুখি অবস্থানেও রয়েছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। এদিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আতিকুল আলম শাওনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্রোহের পথ থেকে ফেরানো সম্ভব হয়নি।এরইমাঝে উপজেলা বিএনপির কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাতেও বিভক্তি ঠেকানো যায়নি। আসনটিতে অন্যান্য দলের হেভিওয়েট কোন প্রার্থী না থাকায় বিএনপি বনাম বিএনপির মধ্যে ভোটের লড়াই হবে।

জানা গেছে, কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনে বিএনপির একক প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আতিকুল আলম শাওন। এ আসনে এলডিপির প্রার্থী ছিলেন দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।তফশিল ঘোষণার পর জোট সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের মনোনয়ন পান। এতে বিএনপির মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। দলের একটি অংশ রেদোয়ান আহমেদের সঙ্গে গেলেও অপর একটি অংশ শাওনের পক্ষে অবস্থান নেয়। যার ফলে ওই আসনে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এরইমধ্যে বিএনপির প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনকে বিদ্রোহের পথ থেকে ফেরাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কিছুতেই মাঠ ছাড়তে রাজি হননি। এতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ।

স্থানীয়রা বলছে, বিএনপির ভোট এখন দুই ভাগে বিভক্ত। পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীরাও বিভক্ত। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বনাম বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন হেভিওয়েট প্রার্থী। দুজনই ভোটের মাঠে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

উপজেলার মাধাইয়া এলাকার ভোটার হাজী নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস আলী, আকবর শেখ, আইয়ুব আলী বলেন, চান্দিনায় দুই প্রার্থীর অবস্থান সেয়ানে-সেয়ানে। অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ নিশ্চিত হতে পারে।

বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখনো বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে। তারপরও এ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন বলেন, গত ১৭ বছর যাবত নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের সময় আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার উপর দল অবিচার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আমার পক্ষে রয়েছে। আগামী ১২ তারিখে আমার কলস প্রতীকের বিজয় হবে।


ভোট দিলেই জান্নাত? ধর্মের এমন অপব্যবহার দুঃখজনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৮:৪৯:০৮
ভোট দিলেই জান্নাত? ধর্মের এমন অপব্যবহার দুঃখজনক: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

ভোটের বিনিময়ে জান্নাত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘ধর্মের চরম অপব্যবহার’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় ধর্মকে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ইসলামের নামে মানুষকে এমন ধোঁকা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জান্নাতের মালিক মহান আল্লাহ। কে জান্নাতে যাবেন আর কে যাবেন না, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা কোনো বান্দার নেই। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, ভোটের বিনিময়ে জান্নাত দেওয়ার কথা বলে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। জান্নাত বিক্রির এই ইজারা তাদের কে দিল?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত পাওয়া যেত, তবে এর আগে যারা মারা গেছেন বা যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন, তাঁদের কী হবে?

জনসভায় তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “হেফাজত আমির স্পষ্ট বলেছেন—জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম। আমরা মদিনার ইসলামে বিশ্বাস করি, মওদুদীর ইসলামে নয়।” তিনি ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবিধানিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হয়েছে, সেখানে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ধর্মকে টেনে আনা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তারাই আজ ইতিহাসের নতুন বয়ান তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে। এই বন্দরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংযোগ স্থাপন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিএনপির আমলেই এই সেতুর নকশা ও প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন: মির্জা আব্বাস 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৭:২৮:৫৮
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন: মির্জা আব্বাস 
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ (মতিঝিল-শাহবাগ) আসনের নির্বাচনী ময়দান এখন বেশ উত্তপ্ত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর ধৈর্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে মির্জা আব্বাস তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি যেন নির্বাচনের দিন ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে পারি, আপনারা সেই দোয়া করবেন।” নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়মিত মির্জা আব্বাসকে নিয়ে বিভিন্ন ‘বেফাঁস’ মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা।

মির্জা আব্বাস আরও অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তাঁর আশঙ্কা, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের অপচেষ্টা হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী নিজেরা যা করবে, তার দায় আগেভাগেই অন্য দলের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, কারণ বর্তমানে তাদের সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

যাদের দেশ পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তারা কীভাবে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেয়—এমন প্রশ্ন তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের লোক বসানো আছে বলেই তারা এমন ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রয়োজনে নির্বাচনের ফলাফল ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করার জন্য এই অপশক্তি কাজ করছে। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের হিসাব হবে, নিরাপদ হবে রাজধানী: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৭:১৪:১৭
১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের হিসাব হবে, নিরাপদ হবে রাজধানী: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঢাকা শহরকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ শহরে পরিণত করা হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। বিগত ১৬ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "গত দেড় দশকে মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, হয়েছে শুধু মেগা দুর্নীতি। স্বৈরাচারী সরকার দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে, যা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করা হবে।"

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী সরকার এই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে।

নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ সম্পর্কে আবেগঘন বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, "আমি এই এলাকারই সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি। এই এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে।" তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমৃত্যু জনসেবার কথা স্মরণ করে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, "আগামী ১২ তারিখে আপনাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিতে অনুরোধ করবেন। আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।"


জিয়ার সেই ভুলের খেসারত দিচ্ছে জাতি, একই পথে তারেক: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১১:৪৯:৩১
জিয়ার সেই ভুলের খেসারত দিচ্ছে জাতি, একই পথে তারেক: আসিফ মাহমুদ
ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চিন্তা হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের করা ‘ঐতিহাসিক ভুলের’ পুনরাবৃত্তি। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছেন—‘জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারে’। এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, যদি দেশের মানুষ শেখ হাসিনা বা তাঁর সন্তানদের রাজনীতিতে দেখতে চাইত, তবে ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হতো না। হাজারো মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে যে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করা হয়েছে, তাদের আবার স্বাগত জানানো শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে বলেন, "জিয়াউর রহমান তাঁর জীবনে একটি বড় ভুল করেছিলেন—তিনি বাকশাল প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই ভুলের খেসারত জাতিকে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে দিতে হয়েছে। এর ফলেই দেশে গুম, খুন এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, এই ভুলের কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জনিং’-এর শিকার হতে হয়েছে এবং তারেক রহমানকে বছরের পর বছর নির্বাসনে থাকতে হয়েছে।

তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন, নিজের পরিবার ও দেশের এত ত্যাগের পর তিনি কীভাবে একই ভুলের পথে হাঁটতে চাইছেন? তিনি স্পষ্ট জানান, জুলাই বিপ্লবের চেতনা হলো ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎপাটন করা, তাদের পুনর্বাসন করা নয়। তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১১:১৫:৫৩
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের নির্বাচনী মাঠ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আখতার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নির্বাচনী প্রচারণার সময় একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে এই হুমকি পাওয়ার পর রাতেই তিনি পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

পীরগাছা থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আখতার হোসেন পীরগাছা থানার ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একটি কল আসে এবং অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

শনিবার রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আখতার হোসেন বলেন, "সারা দেশের মতো আমার আসনেও শাপলা কলি প্রতীকের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে বা উড়ো কথা বলে আমাদের এই জয়যাত্রাকে থামানো যাবে না।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তাঁর প্রতিপক্ষ নির্বাচনে জেতার জন্য কালোটাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করছে এবং প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আজ ঢাকার রাজপথে তারেক রহমান: ৬টি আসনে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী ঝটিকা সফর!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ০৯:৪৮:৪১
আজ ঢাকার রাজপথে তারেক রহমান: ৬টি আসনে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী ঝটিকা সফর!
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আজ রাজধানী ঢাকার রাজপথে নামছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি আসনে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।

গত শনিবার গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জনসভার সময়সূচি ও স্থান: বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ দুপুর ২টায় তারেক রহমান নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর অত্যন্ত ব্যস্ত এক সময়সূচি অনুযায়ী তিনি রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাবেন

বেলা ২টা ৪০ মিনিট: ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠ।

বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট: ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বর সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ।

বিকেল ৪টা ২০ মিনিট: ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেট।

বিকেল ৫টা ১০ মিনিট: ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠ।

সন্ধ্যা ৬টা: ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠ।

নির্বাচনের ঠিক আগে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর এবং ছয়টি জনসভায় সশরীরে অংশগ্রহণ রাজধানীর নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মিরপুর, পল্লবী এবং বাড্ডা এলাকার জনসভাগুলোকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পাঠকের মতামত: