ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ! ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিলেই ব্যবস্থা: ইসি 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ০৯:৪৯:২১
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ! ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিলেই ব্যবস্থা: ইসি 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের দিন প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা কর্মী ব্যতীত অন্য সাধারণ ভোটার বা ব্যক্তিদের জন্য ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার এক চিঠিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে শুধুমাত্র প্রিজাইডিং অফিসার, কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন সাথে রাখতে পারবেন। এই নির্দেশনা ইতিমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

নির্বাচন কমিশন সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। ভোট গ্রহণের জন্য পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রে গোপন বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।


বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশইন চেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১০:২৫:৪১
বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশইন চেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান এবং টহল জোরদারের কারণে পুশইনের প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তের ২৪৪/এমপি সীমান্ত পিলারের উত্তর পাতাড়ি এলাকা দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা শুরু হয়। এরপর প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজিবি সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করে। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয় এবং সদস্যরা সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুশইনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার অনেক মানুষ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় উপস্থিত হন। উত্তর পাতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পেরে গ্রামবাসীরাও সেখানে জড়ো হন এবং বিজিবির সদস্যরা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন। তার মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক ছিলেন।

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ১টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অন্ধকারের সুযোগে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে নিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভোর হওয়ার পর সীমান্তের ওই এলাকায় আর কাউকে দেখা যায়নি। বর্তমানে সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল এবং নজরদারি আগের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা নজরদারি সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি আগের মতোই সতর্ক থাকবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

-রফিক


প্রথমবার এমওইউ সই করল বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১০:২০:৪৩
প্রথমবার এমওইউ সই করল বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) প্রথমবারের মতো একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক এই সমঝোতাকে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দলের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, পারস্পরিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রও উন্মুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির এই আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ভবিষ্যতে দলীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের বহুমাত্রিক সম্পর্কেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার এই উদ্যোগকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের আরেকটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে মূল্যায়ন করছেন পর্যবেক্ষকরা।

-রফিক


বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১০:১৫:৩৫
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং। দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান লিউ হাইসিং। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে চীনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফরের একটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র বর্তমানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনায় বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। লিউ হাইসিং বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান (থিংক ট্যাংক), শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চীনা মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশকে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি চীনের অব্যাহত সমর্থনের কথা তুলে ধরে বলেন, পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণসহ চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন উদ্যোগে বেইজিংয়ের আরও সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব বহু দশকের পরীক্ষিত সম্পর্ক। এই ঐতিহাসিক বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে এবং উন্নয়ন, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে লিউ হাইসিং বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্ব দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে চীন বিশ্বাস করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

-রফিক


দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বাধা: ভারতের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক বলল ঢাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ২১:৩৪:৩৭
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বাধা: ভারতের ব্যাখ্যা অসন্তোষজনক বলল ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাকে ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে এই পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক’ বলে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (২৪ জুন) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যাটি বাংলাদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য বা সন্তোষজনক মনে হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও স্পষ্ট করেন যে, কূটনৈতিক নিয়ম ও চ্যানেল বজায় রেখে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বেশ আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর জোটের (আইওআরএ) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক এই সফরের বিষয়ে পূর্বেই সমস্ত তথ্য অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ উপদেষ্টার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে এবং তাঁর যাত্রা ব্যাহত করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে আইওআরএ’র ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছালে ডা. জাহেদ উর রহমানকে তাঁর পরবর্তী যাত্রা অব্যাহত রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে করা একটি মন্তব্যের বিষয়ে মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দৃঢ়ভাবে বলেন যে, বাংলাদেশ সর্বদা বিশ্বাস করে পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল নাগরিকের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান ও মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা প্রদান ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

/আশিক


১৭ বছর পর দেশ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ২০:০০:০৬
১৭ বছর পর দেশ একটি কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ একটি প্রকৃত ও কার্যকর জাতীয় সংসদ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের সাধারণ মানুষ এ ধরনের একটি আইনসভার জন্য অপেক্ষা করছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সেই দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। এর ফলে জাতীয় সংসদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রচারের মাধ্যমেই জাতীয় সংসদ আরও বেশি মহিমান্বিত হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সংসদকে জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে গণমাধ্যম বড় অবদান রাখবে। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিগত বছরগুলোর সংসদীয় ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন।

এমনকি সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সংসদ সদস্য থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ক্ষোভ ও সংকোচ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতে বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হলেও এরশাদের আমলের সংসদে থাকার বিষয়টি বলতেও তাঁর লজ্জা বোধ হয়। তিনি আরও জানান, অতীতে এমন পরিস্থিতিও দেখা গেছে যেখানে টেলিভিশনে বা রেডিওতে এক জনের নির্বাচিত হওয়ার খবর শোনার দুদিন পর অন্য ব্যক্তি সংসদে এসে আসন গ্রহণ করেছেন। ফলে অনৈতিক উপায়ে বা ফাঁকতালে বহু লোক অতীতে সংসদ সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও যোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে এক ধরনের ‘আবোল-তাবোল’ সংসদ চলার পর এবারই প্রথম একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ গঠিত হয়েছে। বর্তমান সংসদকে তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদের মতো একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের সঙ্গে তুলনা করেন। স্পিকার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে এমন অনেক প্রার্থী বিজয়ী হয়ে এসেছেন, যাদের আগে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি বা প্রভাব ছিল না, কিন্তু তারা স্রেফ নিজস্ব যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তায় জয়ী হয়েছেন।

দেশের ভোটারদের মানসিকতার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এবারের ভোট দেওয়ার ধরন দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে যে, সাধারণ মানুষ ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিল। অতীতে সংসদ সদস্যরা যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, মানুষ তাতে সন্তুষ্ট ছিল না বলেই একটি প্রকৃত সংসদ বেছে নিয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু মানুষ এই সংসদের ওপর আস্থা রেখেছে, তাই জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার দায়িত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে সাংবাদিকদের শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের যেকোনো ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সংসদ সচিবালয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথোর সঞ্চালনায় এই ফল উৎসবে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং সালাহ উদ্দিন।

এছাড়া জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা ও নিখিল ভদ্রসহ সংগঠনের সহসভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ) এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মশিউর রহমান ও মনিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

/আশিক


২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাটের আওতায় আসছে নতুন ১৬ ব্যবসা খাত: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:২০:৪২
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ভ্যাটের আওতায় আসছে নতুন ১৬ ব্যবসা খাত: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ১৬টি খাতকে সুনির্দিষ্ট মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই তালিকায় মুদি দোকান থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যুক্ত হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং চলতি বছরের প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্দশতম দিনে লিখিত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরটি টেবিল উত্থাপিত হয়।

সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা অর্থমন্ত্রীর কাছে বিগত অর্থবছরের ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো খাতকে এই রাজস্ব ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তা জানতে চান। একই সঙ্গে নতুন সম্ভাব্য খাতগুলোর একটি তালিকাও লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে আহ্বান করেন তিনি। এই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান যে, সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হয়েছে।

ভ্যাটের পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করেন যে, রাজস্ব আদায়ের ভিত্তি মজবুত করতে নতুন ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে যে ১৬টি খাতকে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাটের আওতায় আনা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকান, কনফেকশনারি, প্রসাধন সামগ্রী বা কসমেটিকসের দোকান এবং প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র। এছাড়া জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন এবং এসি, ফ্রিজ ও ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর দোকানও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড-সিমেন্টের ব্যবসা, ফার্নিচারের শোরুম, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্টুরেন্ট খাতকেও এই নতুন ভ্যাট ব্যবস্থার অধীনে আনা হচ্ছে।

/আশিক


চীনের ডালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:১২:৩১
চীনের ডালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে রওনা হয়ে বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান। এর আগে দুপুর ২টায় তিনি ডালিয়ান থেকে ট্রেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

বেইজিং সফরের ঠিক আগেই বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিশেষ উদ্যোগ ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস শীর্ষক এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চল থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পোদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ দেশের জন্য বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পথ সুগম হওয়া এবং কর্মসংস্থানের বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সফল অর্থনৈতিক মডেলগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে। প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সফর সম্পন্ন করে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ান শহরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

/আশিক


কোন বয়সী শিশুরা পাবে ভিটামিন ‘এ’? জেনে নিন কবে থেকে শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১১:২৩:৫২
কোন বয়সী শিশুরা পাবে ভিটামিন ‘এ’? জেনে নিন কবে থেকে শুরু
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি শিশুকে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র মূলত নিয়মিত ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত দিনে সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, অপুষ্টি কমাতে এবং চোখের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবার দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের কর্মসূচির আওতায় আনতে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং সামগ্রিক শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এই কর্মসূচি শিশু মৃত্যুহার কমাতেও কার্যকর অবদান রাখে।

সূত্র: বাসস


চীনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিলেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১১:০৭:২৮
চীনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিলেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার প্ল্যানারি সেশনে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovation at Scale) শীর্ষক প্ল্যানারি সেশন শুরু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু অভিযোজন, শিল্পখাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক পর্বের বাইরে সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীল শিল্পায়ন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সফরের মাধ্যমে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: