ধর্মের নামে ভোট চাওয়া ইমান নষ্ট করার শামিল: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:২৪:৪২
ধর্মের নামে ভোট চাওয়া ইমান নষ্ট করার শামিল: মির্জা ফখরুল
ছবি : কালবেলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে একটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজি বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে একটি নির্দিষ্ট দল সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রচার করছে যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ। এই দাবির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে কোনো নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলে কি কেউ বেহেশতে যেতে পারে? এটি ইমান নষ্ট করার মতো একটি অপপ্রচার।

বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে দেশের প্রখ্যাত আলেমরাও এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান যে বাবুনগরী সাহেব জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ বলেছেন এবং চরমোনাইয়ের পীর জামায়াতে ইসলামিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইমান রক্ষা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন যে এমন একটি দলকে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের ইমান নষ্ট করতে পারি না। তাই তিনি এলাকার মা-বোন ও ভাইদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন এবং ধর্মের নামে চলা এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকেন।


নিশ্চিন্তে চলাফেরার গ্যারান্টি দেবে বিএনপি: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:০৯:৩১
নিশ্চিন্তে চলাফেরার গ্যারান্টি দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনের এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বনানী বাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এই সভায় তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন যে বিএনপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করা যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। বিগত ১৬ বছরের শাসনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন যে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন।

তাঁদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাই এখন প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান যে বিএনপি এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিককে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বরং মানুষের মূল্যায়ন হবে তার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী কিংবা শ্রমজীবী প্রতিটি নাগরিক যেন একটি নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন যে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা অত্যন্ত জরুরি এবং এ লক্ষ্যে গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা তিনি সবিস্তারে তুলে ধরেন। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন যে গ্রামের মানুষেরা এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অন্যদিকে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতনতা বাড়বে যা একটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থ সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


প্রচারণার শেষলগ্নে মাঠে ডা. শফিকুর রহমান: আজ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিশাল জনসভা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ০৯:৫৩:০৮
প্রচারণার শেষলগ্নে মাঠে ডা. শফিকুর রহমান: আজ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিশাল জনসভা
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রণশিঙা বেজে উঠেছে। প্রচারণার শেষলগ্নে এসে রাজধানী ঢাকা এখন মিছিল-মিটিং আর স্লোগানে উত্তাল। রাজপথের এই লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের জনসমর্থন তুঙ্গে নিতে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ব্যাপক গণসংযোগের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এদিন খোদ দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি আসনে নির্বাচনী জনসভা ও গণসংযোগে অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্রমতে, জামায়াত আমির আজ দিনের শুরুতেই ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হকের পক্ষে বিশাল গণসংযোগে অংশ নেবেন। জোটের সংহতি প্রকাশ ও ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এই আসনটিতে আজ বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এরপর বিকেলে ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে জনসভা করবেন। নিজ এলাকার ভোটারদের সাথে শেষ মুহূর্তের এই আলাপচারিতা তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং সেখানে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হচ্ছে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে আজ সোমবারই দলগুলোর জন্য ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর শেষ পূর্ণাঙ্গ দিন।


আজ রাজধানীর ৮ স্থানে ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ০৯:৪৩:৫৯
আজ রাজধানীর ৮ স্থানে ভাষণ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা তুঙ্গে তুলে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানী ঢাকার আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসভা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রবিবার ঢাকার ৬টি স্থানে সফল জনসভা শেষ করার পর আজ তিনি তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে এই ব্যাপক গণসংযোগ চালাবেন।

বিএনপি দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। দিনের প্রথম জনসভাটি অনুষ্ঠিত হবে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে।

পরবর্তীতে তাঁর জনসভাগুলোর সময়সূচি অনুযায়ী—দুপুর ১২টায় ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠ, দুপুর ১টায় ঢাকা-৮ আসনের পীরজঙ্গী মাজার রোড, দুপুর ২টায় ঢাকা-৯ আসনের মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠ, বিকেল ৩টায় ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোড, বিকেল ৪টায় ঢাকা-৪ আসনের জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোড এবং বিকেল ৫টায় ঢাকা-৬ আসনের ধূপখোলা মাঠে উপস্থিত হবেন তিনি। দিনের শেষ জনসভাটি সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গতকাল রবিবারও তারেক রহমান রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, শ্যামলী এবং বাড্ডা এলাকার ৬টি স্থানে বিশাল জনসভায় বক্তব্য রেখে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন জোরালো করেছেন। আজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই সিরিজ জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


পারিবারিক প্রচারণায় পাল্টে যাচ্ছে ভোটের চিত্র: কৌতূহলী ও আশাবাদী নারী ভোটাররা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ০৮:৫৯:৪০
পারিবারিক প্রচারণায় পাল্টে যাচ্ছে ভোটের চিত্র: কৌতূহলী ও আশাবাদী নারী ভোটাররা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে এক নতুন ও উৎসবমুখর মাত্রা যোগ করেছে প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীদের স্ত্রী, সন্তান ও নিকটাত্মীয়রা এখন রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলিতে চষে বেড়াচ্ছেন। এটি কেবল পারিবারিক সমর্থন নয়, বরং ভোটের সমীকরণে এক শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাঁর পরিবার। ঢাকা-১৭ আসনে প্রচারণাকালে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান শুরু থেকেই তাঁর পাশে রয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য বিনিময় ও উপস্থিতি প্রচারণায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন তাঁদের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। গুলশানের অলিগলিতে রিকশাচালক থেকে শুরু করে শপিংমলের সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দিয়ে বাবার জন্য ভোট চাইছেন তিনি। তাঁর পরিবেশবান্ধব ‘বীজ লিফলেট’ বিতরণ কর্মসূচি তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে প্রচারণার হাল ধরেছেন তাঁর বড় মেয়ে, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জা। বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি গ্রামীণ পাড়া-মহল্লা ও উঠান বৈঠকে সাধারণ মানুষের মন জয় করছেন। তাঁর উপস্থিতি এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের প্রচারণায় এক নতুন ও আধুনিক মাত্রা যোগ করেছে।

ঢাকা-৮ (মির্জা আব্বাস): এই বর্ষীয়ান নেতার পক্ষে তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মতিঝিল ও শাহবাগ এলাকায় দাপুটে গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

ঢাকা-১৩ (ববি হাজ্জাজ): স্বামীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন তাঁর স্ত্রী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

চট্টগ্রাম-৫ (মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন): হাটহাজারী এলাকায় তাঁর স্ত্রী নওশীন আরজান চৌধুরী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।

ফেনী-৩ (আবদুল আউয়াল মিন্টু): তাঁর স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল এবং তিন ছেলে (তাবিথ, তাসরিফ ও তাজওয়ার) পৃথকভাবে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ: তাঁর প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন স্ত্রী সায়রা রহমান আনমনা।

ভোটের এই পারিবারিক আবহে নারী ভোটারদের মধ্যে অভূতপূর্ব কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। সস্ত্রীক বা সপরিবারে প্রার্থীরা ভোটারদের দরজায় যাওয়ায় সাধারণ মানুষ তাঁদের আপন করে নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের এই পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করছে, যা ব্যালট বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: ডা. জুবাইদা রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:২৩:৫২
নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: ডা. জুবাইদা রহমান 
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়নকে অপরিহার্য হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশই নারী; তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।”

গুলশান-বনানী-বারিধারা সোসাইটির নারী প্রতিনিধিদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা’ বিষয়ক এই সভায় ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় তিনি দেশের নারী সমাজের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চিকিৎসক হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান মাতৃমৃত্যুর হারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো সন্তান প্রসবের সময় সঠিক চিকিৎসার অভাবে অনেক মায়ের প্রাণ ঝরে যায়। এই অকাল মৃত্যু রোধে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব সমস্যার সমাধানে কাজ করা হবে।” তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে উন্নত প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নারীর শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সকল বাধা দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি ঘোষণা দেন যে, নারীদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণ আরও সহজতর করতে পর্যাপ্ত ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ ও ‘নারী সাপোর্ট সেন্টার’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জুবাইদা রহমান আরও জানান, উদ্যোক্তা নারীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বিটিভিতে নাহিদ ইসলামের ভাষণ: ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গড়ার মেগা প্ল্যান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:১১:০২
বিটিভিতে নাহিদ ইসলামের ভাষণ: ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গড়ার মেগা প্ল্যান
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

বিগত ৫৫ বছরের 'বৈষম্যের কাঠামো' ভেঙে ইনসাফভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাতির উদ্দেশে নির্বাচনী ভাষণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভাষণে তিনি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তনের এক রূপরেখা তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম তাঁর ভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবকে একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার মূল অঙ্গীকার সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উল্টো একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করেছে। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব পুরনো ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে, কিন্তু সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও বেইনসাফ রাষ্ট্র ফিরিয়ে আনতে চায়।”

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় গেলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বিশেষভাবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিগত সময়ে পুলিশকে 'দলীয় বাহিনী' হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই অপরাধী সদস্যদের বিচার করার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘জনসেবক বাহিনী’ বা অনুরূপ কিছু রাখা হবে। এছাড়া পুলিশ কাঠামোকে বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলা পর্যায় থেকে নিয়োগ ও পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

অর্থনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাচার হওয়া প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত আনা হবে এবং লুটপাটকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর অধীনে নেওয়া হবে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবেশী ভারতের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার সমালোচনা করে একটি আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। তিনি সার্ক পুনর্জীবন এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে 'গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা' গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ এবং কৃষকদের জন্য সরাসরি পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, বিগত সরকারের পতনের পরও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব চালিয়েছে, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত। তাই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।


দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা: বিটিভিতে বিশেষ ভাষণ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২০:৫০:৩৪
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা: বিটিভিতে বিশেষ ভাষণ
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতিকে দেশের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তা ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। ভাষণে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারে তাঁর দলের ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার এবং ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে চরমোনাই পীর বলেন, "স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পায়নি।" তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁদের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণেই দেশে অস্থিরতা বেড়েছে। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মূলনীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কৌশলে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক এবং প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।" আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মুফতি রেজাউল করীম ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভুল নীতি ও ভুল নেতাকে ভোট দেওয়ার দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপরও বর্তায়। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করতে এবং ইসলামের প্রকৃত সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি জনগণের সহযোগিতা ও ভোট কামনা করেন। বক্তৃতায় তিনি রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত পরিকল্পনা ও খাতওয়ারি সংস্কারের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত ৩০ দফা ইশতেহার পাঠ করেন এবং ভোট প্রদানে ইসলামের নীতি ও আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরেন।


কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান-শাওনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:২৫:৩৮
কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান-শাওনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপির ভোট। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (যিনি বহিষ্কার হয়েছেন) আতিকুল আলম শাওনের মধ্যে ভোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রার্থী এবং তাদের নেতাকর্মীরা মারমুখি অবস্থানেও রয়েছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। এদিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আতিকুল আলম শাওনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্রোহের পথ থেকে ফেরানো সম্ভব হয়নি।এরইমাঝে উপজেলা বিএনপির কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাতেও বিভক্তি ঠেকানো যায়নি। আসনটিতে অন্যান্য দলের হেভিওয়েট কোন প্রার্থী না থাকায় বিএনপি বনাম বিএনপির মধ্যে ভোটের লড়াই হবে।

জানা গেছে, কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনে বিএনপির একক প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আতিকুল আলম শাওন। এ আসনে এলডিপির প্রার্থী ছিলেন দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।তফশিল ঘোষণার পর জোট সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের মনোনয়ন পান। এতে বিএনপির মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। দলের একটি অংশ রেদোয়ান আহমেদের সঙ্গে গেলেও অপর একটি অংশ শাওনের পক্ষে অবস্থান নেয়। যার ফলে ওই আসনে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এরইমধ্যে বিএনপির প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনকে বিদ্রোহের পথ থেকে ফেরাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কিছুতেই মাঠ ছাড়তে রাজি হননি। এতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ।

স্থানীয়রা বলছে, বিএনপির ভোট এখন দুই ভাগে বিভক্ত। পাশাপাশি দলটির নেতাকর্মীরাও বিভক্ত। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বনাম বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন হেভিওয়েট প্রার্থী। দুজনই ভোটের মাঠে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

উপজেলার মাধাইয়া এলাকার ভোটার হাজী নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস আলী, আকবর শেখ, আইয়ুব আলী বলেন, চান্দিনায় দুই প্রার্থীর অবস্থান সেয়ানে-সেয়ানে। অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ নিশ্চিত হতে পারে।

বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখনো বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে। তারপরও এ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন বলেন, গত ১৭ বছর যাবত নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের সময় আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার উপর দল অবিচার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আমার পক্ষে রয়েছে। আগামী ১২ তারিখে আমার কলস প্রতীকের বিজয় হবে।


ভোট দিলেই জান্নাত? ধর্মের এমন অপব্যবহার দুঃখজনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৮:৪৯:০৮
ভোট দিলেই জান্নাত? ধর্মের এমন অপব্যবহার দুঃখজনক: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

ভোটের বিনিময়ে জান্নাত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘ধর্মের চরম অপব্যবহার’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় ধর্মকে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ইসলামের নামে মানুষকে এমন ধোঁকা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জান্নাতের মালিক মহান আল্লাহ। কে জান্নাতে যাবেন আর কে যাবেন না, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা কোনো বান্দার নেই। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, ভোটের বিনিময়ে জান্নাত দেওয়ার কথা বলে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। জান্নাত বিক্রির এই ইজারা তাদের কে দিল?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত পাওয়া যেত, তবে এর আগে যারা মারা গেছেন বা যারা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছেন, তাঁদের কী হবে?

জনসভায় তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “হেফাজত আমির স্পষ্ট বলেছেন—জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম। আমরা মদিনার ইসলামে বিশ্বাস করি, মওদুদীর ইসলামে নয়।” তিনি ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবিধানিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হয়েছে, সেখানে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ধর্মকে টেনে আনা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তারাই আজ ইতিহাসের নতুন বয়ান তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করা হবে। এই বন্দরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংযোগ স্থাপন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিএনপির আমলেই এই সেতুর নকশা ও প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: