৩৬ বছর পর জাপানে শীতকালীন ভোট: বিরূপ আবহাওয়ায় তাকাইচির ওপর ভরসা জাপানিদের 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:৩৪:৪২
৩৬ বছর পর জাপানে শীতকালীন ভোট: বিরূপ আবহাওয়ায় তাকাইচির ওপর ভরসা জাপানিদের 
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির রাজনৈতিক বাজি সফল হতে চলেছে। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাপানে অনুষ্ঠিত আকস্মিক জাতীয় নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল)। এই সম্ভাব্য বিজয় এলডিপিকে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেওয়ার পাশাপাশি তাকাইচির নেতৃত্বের ওপর জনগণের শক্তিশালী আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাস পর নির্বাচনে গিয়ে সানায়ে তাকাইচি এক প্রকার চমক সৃষ্টি করেছেন। এর আগে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও মূল্যস্ফীতির কারণে এলডিপি যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল, তাকাইচির ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনতাবাদী নীতি তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের (NHK) বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ৩২৮টি আসনের মধ্যে তাকাইচির এলডিপি পেতে পারে ২৭৪টি আসন। অর্থাৎ, মাত্র ৫৪টি আসন পেতে পারে সব বিরোধী দল মিলে।

৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম শীতের তীব্র তুষারপাতের মধ্যে জাপানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। টোকিওসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিরল তুষারপাত সত্ত্বেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাকাইচির জাতীয়তাবাদী বক্তব্য এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের উজ্জীবিত করেছে। তবে তাঁর কর কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ঋণে জর্জরিত জাপানি অর্থনীতিতে এই নীতি শ্রমিক সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাকাইচির এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকাইচিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, যা কূটনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এলডিপির দীর্ঘদিনের মিত্র কোমেইতো পার্টি এবার বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েও তাকাইচির জয়রথ থামাতে পারছে না বলেই জরিপে দেখা যাচ্ছে।


চাঁদ দেখা নিয়ে কাটছে ধোঁয়াশা; ২০২৬-এর ঈদ কি হবে বিশ্বজুড়ে একদিনে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:০২:৪০
চাঁদ দেখা নিয়ে কাটছে ধোঁয়াশা; ২০২৬-এর ঈদ কি হবে বিশ্বজুড়ে একদিনে?
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মতভেদ দেখা দিলেও, পবিত্র ঈদুল ফিতর বা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি প্রায় অধিকাংশ দেশে একই দিনে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য এবং এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের (হিজরি ১৪৪৭) পবিত্র রমজান মাস শুরুর ক্ষেত্রে গাণিতিক গণনা এবং খালি চোখে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে দেশভেদে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। অনেক দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার কোনো কোনো দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান শেষে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময়টি প্রায় সব দেশে অভিন্ন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই গণনা অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের দিকে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।

এ বছর রোজার সময়সীমা নিয়ে জানানো হয়েছে যে, সর্বোচ্চ রোজার দৈর্ঘ্য হতে পারে ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, খোরফাক্কানে সবচেয়ে আগে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা এলাকায় সবচেয়ে দেরিতে ইফতার অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছরই রোজার সময়সীমা এবং শুরুর তারিখে এমন তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। তবে ঈদুল ফিতর একই দিনে হওয়ার এই পূর্বাভাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে একযোগে উৎসব উদযাপনের নতুন আশা সঞ্চার করেছে।


ইতালির সংবিধানে আটকা পড়লেন ট্রাম্প: বোর্ড অব পিস নিয়ে নতুন জটিলতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১০:০৫:১৬
ইতালির সংবিধানে আটকা পড়লেন ট্রাম্প: বোর্ড অব পিস নিয়ে নতুন জটিলতা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) বড় ধরনের কূটনৈতিক হোঁচট খেল। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পর এবার ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দেশ ইতালি এই বোর্ডে যোগ দিতে তাদের অক্ষমতার কথা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইতালির এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, দেশটির সংবিধানের সাথে প্রস্তাবিত এই শান্তি বোর্ডের সনদের মৌলিক বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ইতালীয় সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমান অধিকার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা ছাড়া ইতালি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় অংশ নিতে পারে না। অন্যদিকে, বোর্ড অব পিসের সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান’ এবং ‘চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী’ হিসেবে রাখা হয়েছে, যা ইতালির সমতার শর্ত পূরণ করে না।

ইতালির এই অস্বীকৃতি ট্রাম্পের এই স্বঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সংস্থা’র গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কড়া সমালোচকরা এই বোর্ডকে জাতিসংঘের একটি ‘পে-টু-প্লে’ (অর্থ দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ) সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করছেন, কারণ স্থায়ী সদস্যপদের জন্য প্রতিটি দেশের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ডটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক একদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। গত মাসে ট্রাম্প ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬টি দেশ এই বোর্ডে নাম লিখিয়েছে, যার মধ্যে গাজা মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসরও রয়েছে।


সন্ধ্যাবেলায় বড় ধাক্কা! ৪ দেশ মিলিয়ে এক কম্পনে জনমনে আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ২১:৩২:৩৫
সন্ধ্যাবেলায় বড় ধাক্কা! ৪ দেশ মিলিয়ে এক কম্পনে জনমনে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তবর্তী ভারতের সিকিম রাজ্যে মাঝারি মাত্রার এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই কম্পনে সিকিম ছাড়াও নেপাল, চীন ও ভুটানের কিছু অংশ কেঁপে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভলকানো ডিসকভারি’ এই খবর নিশ্চিত করেছে।

রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৬। ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিম সিকিমে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এই কেন্দ্রস্থলটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫৫ মাইল বা ৮৮ কিলোমিটার দূরে। গভীরতা কম হওয়ায় উৎপত্তিস্থলের আশপাশে বেশ জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছে।

হিমালয় সংলগ্ন হওয়ার কারণে সিকিম ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১টি কম্পন অনুভূতির (Reports) তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তবে কেন্দ্রস্থলের খুব কাছে জনবসতি কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নেপাল, চীন ও ভুটানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও এই কম্পন স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়েছিল। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বড় কোনো প্রভাবের তথ্য মেলেনি।


এপস্টেইন-বারাক গোপন অডিও: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৪৩:২৯
এপস্টেইন-বারাক গোপন অডিও: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি গোপন অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অডিওতে ইসরাইলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে ফেলার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র ফুটে উঠেছে।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে এহুদ বারাককে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে এবং ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা সুসংহত করতে ১০ লাখ রাশিয়ান অভিবাসী আনার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা গেছে। বারাক জানান, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন আরও ১০ লাখ রাশিয়ানকে ইসরাইলে পাঠানো হয়। বারাকের মতে, এই বিশাল সংখ্যক অভিবাসী ইসরাইলে এলে দেশটির জনতাত্ত্বিক চিত্রে এক ‘বৈপ্লবিক ও নাটকীয়’ পরিবর্তন আসবে, যা ইসরাইল সহজেই সামলে নিতে পারবে।

কথোপকথনে বারাক অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম বর্ণবাদী ও বাছাইপ্রবণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অতীতে আরব ও মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা ইহুদিদের অবজ্ঞা করে দাবি করেন যে, এখন তাদের ‘গুণগত মান’ বজায় রাখার সময় এসেছে। মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি আধিপত্য বজায় রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রভাব চিরতরে খর্ব করাই ছিল বারাকের এই জনতাত্ত্বিক প্রকৌশলের মূল লক্ষ্য।

এই গোপন রেকর্ড ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মস্কোর সাবেক প্রধান রাব্বি পিনচাস গোল্ডস্মিড এই উদ্যোগকে একটি ‘উদ্ভট পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেফরি এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর সঙ্গে বারাকের এই ধরনের রাষ্ট্রীয় ও স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা ইসরাইলের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের নৈতিকতা ও ফিলিস্তিনবিরোধী পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


রাশিয়ান তেল না কি ট্রাম্পের বন্ধুত্ব? বড় বাজি ধরলেন মোদি!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৩৫:০৫
রাশিয়ান তেল না কি ট্রাম্পের বন্ধুত্ব? বড় বাজি ধরলেন মোদি!
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে ঘোষিত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘ কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার অবসান ঘটল। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য ক্রয় করবে এবং আগামী ১০ বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরিতে সম্মত হয়েছে। শুল্ক প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসের পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, উড়োজাহাজ, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা আমদানি করবে। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

গত বছরের শেষ দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা এখন বড় আকারে হ্রাস পেল। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার জানান, ১৮ শতাংশ শুল্ক হারের কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবেন, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে এখনো ১৯ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। এই পদক্ষেপের ফলে ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:০৫:২০
যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তেহরান-ভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলতে সক্ষম ইরান।

প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই সমরকৌশল নতুন না হলেও এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা লক্ষণীয়। তেহরানের লক্ষ্য সরাসরি সামরিক বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের ব্যয়ভারকে ‘অসহনীয়’ করে তোলা। ইরানের এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আঘাত সহ্য করেও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই ‘বিজয়’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের যুদ্ধলক্ষ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। এই ভিন্নধর্মী মানদণ্ডের কারণে এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সামরিকভাবে পঙ্গু হয়েও অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারবে। তবে আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার কোনো ভিত্তি থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত এবং শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতেই ইরান এমন বয়ান তৈরি করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ইরানের প্রক্সি সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার ক্ষমতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এই সক্ষমতাই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে রেখেছে, যা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বাংলাদেশ–পাকিস্তান জোট প্রশ্নে সতর্ক ভারতের সংসদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৮:৫৮:৩৪
বাংলাদেশ–পাকিস্তান জোট প্রশ্নে সতর্ক ভারতের সংসদ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা–এ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশসংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে সেগুলোর লিখিত উত্তর সংসদে পাঠ করে শোনান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এ তথ্য জানিয়েছে NDTV।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কি কোনো স্পর্শকাতর পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিকে কি পাকিস্তান কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারে, যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর, বহুমাত্রিক এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের ভিত্তি কেবল কূটনৈতিক নয়; বরং ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সাদৃশ্য এবং সামাজিক যোগাযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক, আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান এই সম্পর্কের কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হয়।

সংসদে আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, এই বিষয়টি ভারত সরকার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরে আসছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়সহ সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকগুলোতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন–এর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

এ ছাড়া সংসদে ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠ জোট’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি বলেন, ভারত সরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ভারতের সঙ্গে যেসব দেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, তাদের নীতিগত অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্কও নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে প্রতিবেশী’ নীতির আলোকে ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখছে। একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

-রাফসান


বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, ভূরাজনীতি নাকি চাহিদাই কারণ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১২:৫৩:৩৬
বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, ভূরাজনীতি নাকি চাহিদাই কারণ?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ ঘিরে আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও নিম্নমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এর ফলে টানা কয়েক সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী চাপ কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দরপতনের পথে রয়েছে বৈশ্বিক তেলবাজার। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীভূত হয়েছে ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে।

বার্তাসংস্থা Reuters–এর সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ০৫ ডলারে। এর আগের সেশনে এই তেলের দাম একদিনেই প্রায় ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। একই দিনে মার্কিন বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দর ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই দুই প্রধান তেল সূচক ধারাবাহিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর তেলের দাম সাময়িকভাবে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে তা দ্রুতই ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করলেও আঞ্চলিক শক্তিগুলো বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়। এই বাস্তবতায় শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত বাজারে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত থাকলে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমবে।

বিশ্ব তেলবাজারে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত কৌশলগত একটি নৌপথ। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোও তাদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠায়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমার যেকোনো ইঙ্গিত সরাসরি তেলের দামে প্রতিফলিত হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা Capital Economics–এর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম বাড়াতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের মূল নিয়ামক হবে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাজাখস্তানে তেল উৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে এলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি আপাতত কিছুটা কমে আসায় তেলবাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলাচ্ছে। এখন বাজারের ভবিষ্যৎ গতি অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর।

-রফিক


নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ২১:১১:৩৫
নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিশ্বশান্তির সর্বশেষ রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির আনুষ্ঠানিক মৃত্যু হচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবসান ঘটল। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, যা বিশ্বকে এক অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই চুক্তিতে সই করেছিলেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েন রাখতে পারত। ২০২১ সালে এর মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানো হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আজ তা চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে গেল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ব্যাপারে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অবসান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এতে চীনও যুক্ত হয়ে একটি ত্রিমুখী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে দেবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল এই পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক মোড়চিহ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, গত ৩৫ বছরে এই প্রথম দুই দেশ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর আইনি সুযোগ পেল। অন্যদিকে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ মানতে বেইজিংয়ের অস্বীকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প রাশিয়া ও চীনকে চরম উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গত ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি দেশটির আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গোল্ডেন ডোমের জবাবে রাশিয়া ও চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে পাল্টা হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। ফলে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা এখন এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত: