৩৬ বছর পর জাপানে শীতকালীন ভোট: বিরূপ আবহাওয়ায় তাকাইচির ওপর ভরসা জাপানিদের 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:৩৪:৪২
৩৬ বছর পর জাপানে শীতকালীন ভোট: বিরূপ আবহাওয়ায় তাকাইচির ওপর ভরসা জাপানিদের 
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির রাজনৈতিক বাজি সফল হতে চলেছে। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাপানে অনুষ্ঠিত আকস্মিক জাতীয় নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল)। এই সম্ভাব্য বিজয় এলডিপিকে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেওয়ার পাশাপাশি তাকাইচির নেতৃত্বের ওপর জনগণের শক্তিশালী আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাস পর নির্বাচনে গিয়ে সানায়ে তাকাইচি এক প্রকার চমক সৃষ্টি করেছেন। এর আগে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও মূল্যস্ফীতির কারণে এলডিপি যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল, তাকাইচির ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনতাবাদী নীতি তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের (NHK) বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ৩২৮টি আসনের মধ্যে তাকাইচির এলডিপি পেতে পারে ২৭৪টি আসন। অর্থাৎ, মাত্র ৫৪টি আসন পেতে পারে সব বিরোধী দল মিলে।

৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম শীতের তীব্র তুষারপাতের মধ্যে জাপানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। টোকিওসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিরল তুষারপাত সত্ত্বেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাকাইচির জাতীয়তাবাদী বক্তব্য এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের উজ্জীবিত করেছে। তবে তাঁর কর কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ঋণে জর্জরিত জাপানি অর্থনীতিতে এই নীতি শ্রমিক সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাকাইচির এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকাইচিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, যা কূটনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এলডিপির দীর্ঘদিনের মিত্র কোমেইতো পার্টি এবার বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েও তাকাইচির জয়রথ থামাতে পারছে না বলেই জরিপে দেখা যাচ্ছে।


প্রতিরোধ না কি আত্মসমর্পণ? ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে আব্বাস আরাগচির পালটা জবাব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:২১:৫০
প্রতিরোধ না কি আত্মসমর্পণ? ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে আব্বাস আরাগচির পালটা জবাব
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ইরানকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘ভয়াবহ আঘাতের’ মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ কেবল তেহরানের নিজস্ব শর্ত এবং সময়সূচি অনুযায়ীই বন্ধ হবে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ ত্যাগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। জবাবে ইরান পাঁচটি পালটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের পূর্ণ আইনি অধিকার স্বীকার করা, সব মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির গ্যারান্টিযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে আর হামলা হবে না—এমন সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয় এবং তেহরান আপাতত ‘প্রতিরোধ’ চালিয়ে যাওয়ার নীতিতেই অটল।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন যে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং তেহরান নমনীয় না হলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে। এই যুদ্ধবিরতির গুঞ্জনে ইসরায়েল বেশ উদ্বিগ্ন।

তেল আবিব ভয় পাচ্ছে যে ট্রাম্পের হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তে তাদের সামরিক লক্ষ্যগুলো অপূর্ণ থেকে যেতে পারে। ফলে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান হুমকি দিয়েছে যে আমেরিকা ভুল পদক্ষেপ নিলে তারা বাহরাইন ও আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকা দখলসহ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়ছে, তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:২৪:০৫
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়ছে, তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ক্রমেই তীব্র ও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এখন আর বিচ্ছিন্ন আঘাতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ধারাবাহিক ও সুসংগঠিত একটি বিস্তৃত অভিযানে রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান প্রতিদিনের নিয়মিত সামরিক কার্যক্রমের মতো হলেও হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা দুটোই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আক্রমণের ঘনত্ব এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনে নতুন কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিরাজে সর্বশেষ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সেখানে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই তরুণ ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের লামের্দ বিমানবন্দরেও তীব্র বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি ইসফাহান ও কারাজ শহরগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চলছে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই ধারাবাহিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

বন্দর আব্বাসও দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণের আওতায় রয়েছে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত উপস্থিতিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো হামলার ভৌগোলিক বিস্তার। আগে নির্দিষ্ট কিছু শহরে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন আক্রমণের পরিধি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন শহর মাশহাদ, যা সাধারণত হামলার বাইরে থাকে, সেটিও এবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। এটি যুদ্ধের কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

একই সঙ্গে আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন উত্তরাঞ্চলের শহর তাইবাদেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্দেশ করে যে সংঘাত এখন দেশের প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করছে।

সূত্র: আল জাজিরা


হিজবুল্লাহ প্রধানের ঐক্যের আহ্বান, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:১৩:৫০
হিজবুল্লাহ প্রধানের ঐক্যের আহ্বান, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়
ছবি: আল জাজিরা

লেবাননে চলমান সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র ও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম দেশবাসীর উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো আত্মসমর্পণ করে নিজের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, অন্যটি হলো প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের অধিকার রক্ষা করা। তার মতে, এই মুহূর্তে প্রতিরোধ ছাড়া অন্য কোনো পথ গ্রহণযোগ্য নয়।

নাইম কাসেম আরও বলেন, চলমান হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা মানে বাস্তবে আত্মসমর্পণ করা। তার ভাষায়, যে শক্তি একটি দেশের ভূমি দখল করে এবং প্রতিদিন আক্রমণ চালায়, তার সঙ্গে যুদ্ধের সময় আলোচনা করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

তিনি দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সংকটময় সময়ে একমাত্র প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। প্রথমে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং দেশের মানুষ ও ভূমিকে রক্ষা করতে হবে, এরপর অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক হামলা শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করলে সংঘাত দ্রুত লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

মার্চ মাসের শুরু থেকে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি স্থল অভিযানও শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করছে, তাদের লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে বাস্তবে এই সংঘাত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, লেবাননে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় বারো লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফলে দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে দক্ষিণ লেবানন দখলের দাবিও জোরালো হচ্ছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচসহ কয়েকজন কট্টরপন্থী নেতা এই অঞ্চলের সংযুক্তিকরণের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতাদের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিভিন্ন নেতা কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে বাস্তবে ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং কোনো ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়। এই অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে এবং একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলো সুরক্ষিত থাকে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে লাখ লাখ ডলার খরচ: পেন্টাগনের নতুন মাথাব্যথা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:০৬:৪৯
সস্তা শাহেদ ড্রোন ঠেকাতে লাখ লাখ ডলার খরচ: পেন্টাগনের নতুন মাথাব্যথা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারার পেছনে ‘নিম্ন-উচ্চতার হুমকি’ (Low-altitude threats) মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের বিনিয়োগের অভাবকে দায়ী করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল প্যানেল আলোচনায় উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যখন উচ্চ আকাশসীমার প্রথাগত লড়াইয়ে সফল হচ্ছে, তখন নিচু দিয়ে উড়ে আসা ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকাতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করতে গিয়ে পেন্টাগনকে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো এই যুদ্ধের এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ইরান জানে তারা সরাসরি আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়, তাই তারা ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ (War of Disruption) বা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ইরান তাদের উচ্চমাত্রার মোবাইল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত এলাকায় মার্কিন আধিপত্য রুখে দিচ্ছে। গ্রিকো আরও উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করলেও নিচু দিয়ে ওড়া ড্রোন শনাক্ত করার মতো প্রয়োজনীয় সেন্সর ও রাডার তাদের পর্যাপ্ত নেই।

তবে এই বিশেষজ্ঞ মতামতের কয়েক ঘণ্টা পরেই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তাদের সব সামরিক সক্ষমতা হারিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা এখন তেহরানের আকাশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছি।” একই সুর মিলিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একে ‘ইতিহাসে নাম লেখানোর মতো বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের সস্তা ড্রোন প্রযুক্তির বিপরীতে উচ্চমূল্যের মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে এক বিশাল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

/আশিক


নিজেদের জনগণের হাতে মরার ভয়েই আলোচনা লুকাচ্ছে ইরান; ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:২৯:৪৭
নিজেদের জনগণের হাতে মরার ভয়েই আলোচনা লুকাচ্ছে ইরান; ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) রাতে ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন স্টেশনে ‘ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটি’র (NRCC) বার্ষিক এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতারা জনসমক্ষে আলোচনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করলেও পর্দার আড়ালে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইরানি নেতাদের বক্তব্য দেখেছি; তারা আমাদের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার কথা বলছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো, তারা আমাদের সাথে আলোচনা করছে এবং তারা একটি চুক্তি করতে মরিয়া। তারা এটি স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে কারণ তারা মনে করছে নিজেদের জনগণই তাদের হত্যা করতে পারে। এমনকি তারা আমাদের হাতেও মারা যাওয়ার ভয় পাচ্ছে।” প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ (Regime Change) ঘটে গেছে কারণ বর্তমান নেতৃত্ব আগের চেয়ে অনেকটাই আলাদা।

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে আবারও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। বুধবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তান ও মিশরের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ওয়াশিংটন কিছু বার্তা পাঠিয়েছে এবং ইরানও তার কড়া জবাব দিয়েছে। আরাগচি বলেন, “এর অর্থ এই নয় যে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে। আমরা কোনো আলোচনায় বসিনি এবং আপাতত আলোচনার কোনো পরিকল্পনাও আমাদের নেই।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চায় এবং গত চার সপ্তাহে চলমান এই যুদ্ধে ইরানের যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে তেহরান। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ওয়াশিংটন দাবি করছে তারা একটি ‘১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব’ পাঠিয়েছে, আর তেহরান বলছে ট্রাম্প কেবল বাজার ও জনমত নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা দাবি ছড়াচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি


রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২১:৩০:১০
রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একযোগে প্রায় ৩০টি ড্রোন এবং একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ২৬তম দিনে ইরানের এই সুপরিকল্পিত হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সৌদি আরবের জন্য এই পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ দেশটির মোট তেল ও জ্বালানি মজুদের প্রায় ৭০ শতাংশই এই এলাকায় অবস্থিত। মূলত রিয়াদের প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোকে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যেই ইরান এই আক্রমণ চালিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার ছক কষছে, যাতে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা যায়। এই রণকৌশল তেহরানকে বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।

ইরান কেবল সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলেই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ইয়ানবুতেও (Yanbu) নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার ফলে একদিকে যেমন বিশ্ব অর্থনীতিতে পাহাড়সম চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে হামলার পাশাপাশি আরব প্রতিবেশীদের তেল স্থাপনায় এই আঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইরানি হামলার লক্ষ্য কী? বিবিসির বিশেষ বিশ্লেষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:৪৮:৫৪
প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইরানি হামলার লক্ষ্য কী? বিবিসির বিশেষ বিশ্লেষণ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এবার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর চড়াও হয়েছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকালে সৌদি আরব ও কুয়েতসহ অঞ্চলের একাধিক দেশে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং বাহরাইনও এই অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে এই দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত হানা শুরু করে। যদিও প্রাথমিক কিছু হামলার পর তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিবিসির সংবাদদাতা বারবারা প্লেট-আশার এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ‘নিরাপদ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করতে চাইছে। এছাড়া বিশ্ববাজারের জন্য অপরিহার্য তেল ও গ্যাস খাতে বিঘ্ন ঘটিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কৌশলগত চাপ তৈরি করাই ইরানের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর এই আক্রমণের মাধ্যমে ইরান আসলে আরব বিশ্বকে একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছে। তেহরান চায়, আরব দেশগুলো তাদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করুক। এই বহুমুখী সংঘাত এখন আর কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় নেই, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বুধবার সকালের এই হামলার পর সৌদি ও কুয়েতি কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


হরমুজের দখল কার হাতে যাবে? যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:৩০:৫০
হরমুজের দখল কার হাতে যাবে? যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব জেনারেল জিম ম্যাটিস এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান এই মুহূর্তে বন্ধ করা হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার্যত তেহরানের হাতে চলে যেতে পারে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

সোমবার এক নীতিনির্ধারণী সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাটিস বলেন, গত চার সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক চাপের পর যদি এখনই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, তাহলে ইরান এটিকে নিজেদের কৌশলগত বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরান শুধু সামরিকভাবে নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবে প্রণালীটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর কর বা শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপও তারা নিতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতে এক নতুন ধরনের ‘চোকপয়েন্ট পলিটিক্স’ তৈরি করবে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী ইতোমধ্যে আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত ছিল।

তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দাম কমে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে। এই বিরতির উদ্দেশ্য হিসেবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হলেও বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে কৌশলগত দ্বিধার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ম্যাটিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিতভাবে পরিবর্তন করা ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। ইরানের সামরিক অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন এখনো অনিশ্চিত। এর ফলে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যালমেট’ বা কৌশলগত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে বিজয়ী নয়, কিন্তু প্রত্যাহারও ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষক ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে একটি স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা ঘাঁটি গড়ে তুলবে, যাতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু হঠাৎ করে আলোচনার দিকে ঝুঁকে পড়ায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এতে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বৈদেশিক নীতি বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালনি মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির দিকে এগোবে এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তার মতে, ইরান এই সংঘাতকে কূটনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত দিতে পারে। এই ধরনের দাবি ওয়াশিংটনের পক্ষে মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব, ফলে আলোচনার পথ জটিল হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যেমন ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ করে যুদ্ধ থামানোও কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় উপাদানে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: পলিটিকো


মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ২০:০৫:৩৮
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ইরনা এবং প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (Coastal Cruise Missile) মাধ্যমে এই অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ২৬তম দিনে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল।

ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের প্রতিটি মুভমেন্ট নিরবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রেস টিভিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এই রণতরী লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। নৌবাহিনী কর্মকর্তাদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের দিকে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যার ফলে রণতরীটি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রসীমা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ তেহরান কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও হাহাকার শুরু হয়েছে। ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের অনবরত হামলা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর, আল-আরাবিয়া

পাঠকের মতামত: