এপস্টেইন-বারাক গোপন অডিও: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস

সম্প্রতি প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি গোপন অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অডিওতে ইসরাইলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে ফেলার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে এহুদ বারাককে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে এবং ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা সুসংহত করতে ১০ লাখ রাশিয়ান অভিবাসী আনার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা গেছে। বারাক জানান, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন আরও ১০ লাখ রাশিয়ানকে ইসরাইলে পাঠানো হয়। বারাকের মতে, এই বিশাল সংখ্যক অভিবাসী ইসরাইলে এলে দেশটির জনতাত্ত্বিক চিত্রে এক ‘বৈপ্লবিক ও নাটকীয়’ পরিবর্তন আসবে, যা ইসরাইল সহজেই সামলে নিতে পারবে।
কথোপকথনে বারাক অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম বর্ণবাদী ও বাছাইপ্রবণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অতীতে আরব ও মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা ইহুদিদের অবজ্ঞা করে দাবি করেন যে, এখন তাদের ‘গুণগত মান’ বজায় রাখার সময় এসেছে। মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি আধিপত্য বজায় রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রভাব চিরতরে খর্ব করাই ছিল বারাকের এই জনতাত্ত্বিক প্রকৌশলের মূল লক্ষ্য।
এই গোপন রেকর্ড ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মস্কোর সাবেক প্রধান রাব্বি পিনচাস গোল্ডস্মিড এই উদ্যোগকে একটি ‘উদ্ভট পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেফরি এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর সঙ্গে বারাকের এই ধরনের রাষ্ট্রীয় ও স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা ইসরাইলের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের নৈতিকতা ও ফিলিস্তিনবিরোধী পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও কৌশলগত রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে যে, তারা ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং হাইফা এলাকার প্রধান অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।
বিশেষ করে তেহরান দাবি করেছে যে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই ড্রোন ব্যবহার করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানগুলোর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অভিযান ব্যাহত করা যায়।
ইরানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, কেবল বেসামরিক বিমানবন্দর নয়, তারা বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সামরিক ও মহাকাশ শিল্প স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বন্দর নগরী হাইফাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া। বেন গুরিয়নের মতো স্পর্শকাতর স্থানে ড্রোন হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দিলেও বিমানবন্দরের চারপাশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত ড্রোন হামলা ইসরায়েলের ‘আয়রণ ডোম’ ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
হাইফা ও তেল আবিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একের পর এক হামলার ফলে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ওই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
/আশিক
ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প আনছে রাশিয়া: ৯০০ স্যাটেলাইটের মেগা প্রজেক্ট
মহাকাশ প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠান 'স্টারলিংক'-এর একাধিপত্য ভাঙতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) রাশিয়ার বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি ‘ব্যুরো-১৪৪০’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা মহাকাশে নতুন করে ১৬টি নিম্ন-কক্ষপথের (Low-Earth Orbit) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইটগুলোকে সফলভাবে রেফারেন্স কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। মূলত ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী রুশ বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ১৬টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে তারা পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক যোগাযোগ সেবা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে গেছে। রাশিয়ার লক্ষ্য হলো পৃথিবীর যেকোনো দুর্গম প্রান্ত থেকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা। ‘রাশসভেত’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন কক্ষপথে রাশিয়ার ২৫০টির বেশি স্যাটেলাইট অবস্থান করবে। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই স্যাটেলাইটের সংখ্যা ৯০০-তে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে ‘ব্যুরো-১৪৪০’-এর ছয়টি পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট কক্ষপথে সক্রিয় রয়েছে। নতুন ১৬টি স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার ফলে রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনবোর্ড সিস্টেম চালু করার পর এগুলো নির্ধারিত কক্ষপথে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করবে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝেও রাশিয়ার এই মহাকাশ সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের নজর কেড়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার আভাস দিচ্ছে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেই একটু ও পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, 'পূর্ণাঙ্গ বিজয়' অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সামরিক বাহিনীর 'খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স'-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জেনারেল আলিয়াবাদি তার বক্তব্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত এবং অবিচল। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই পথচলা থামবে না।" যদিও তিনি 'পূর্ণ বিজয়' বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা আলোচনায় ইরানের সামরিক বাহিনী যে সহজে নতি স্বীকার করবে না, এটি তারই একটি আগাম সতর্কবার্তা। বিশেষ করে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের এই অনড় মনোভাবের ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে। একদিকে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি দিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই নতুন ঘোষণায় স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
১০ ঘণ্টায় ইরানের ৭ দফা হামলা: তেল আবিব ও ডিমোনায় মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত আল-জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মধ্যরাত থেকে মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ইসরায়েলের ওপর অন্তত ৭ দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এবারের হামলায় ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব ছাড়াও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমোনা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ডিমোনায় হামলার সময় সাইরেন বেজে উঠলে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন।
তেল আবিবে হওয়া হামলার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। তবে ইরান কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, বরং গুচ্ছ বোমা (ক্লাস্টার ওয়ারহেড) সমৃদ্ধ উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল ব্যবহার করছে বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলও ইরানে তাদের বিমান হামলা জোরদার করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, গত এক রাতেই তারা ইরানের অভ্যন্তরে ৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ৩ হাজারের বেশি সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে তারা জোর দিয়ে বলছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক কাঠামো এবং তারা কোনো বেসামরিক এলাকায় হামলা করছে না। মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশের এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে।
/আশিক
শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের একটি অভিজাত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) তেল আবিবের মেয়র রন হুলদাই নিশ্চিত করেছেন যে, একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ‘সরাসরি আঘাতে’ শহরের একটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা ও বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের একটি পুরনো তিনতলা ভবন এই হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি পুলিশ ও আর্মি রেডিওর ধারণা, কোনো রকেট লঞ্চার থেকে ছোড়া প্রায় ১০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক সমৃদ্ধ ৩-৪টি ওয়ারহেড এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা বিভাগ এই ধ্বংসলীলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এবং ভবনের ধসে পড়া অংশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেয়র রন হুলদাই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। মূলত উত্তর তেল আবিবের অভিজাত আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করেই এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের এই সরাসরি আঘাত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হাইফা এবং জেরুজালেমের পর তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে এই ধরনের বিধ্বংসী বিস্ফোরণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ওয়ারহেডগুলোর প্রকৃতি পরীক্ষা করে দেখছেন। শহরজুড়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
/আশিক
লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের ওপর ‘ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ’ চালাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক অভিযান নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষ করে লেবানন ও গাজা উপত্যকার বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলাকে তারা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি বেসামরিক জনগণের ওপর এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে ইরান আর সংযম প্রদর্শন করবে না। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং গাজা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অবস্থানরত সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে এই প্রতিক্রিয়া হবে ‘নির্বিচার ও সীমাহীন’, যা সংঘাতকে আরও তীব্র পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এই ধরনের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে একটি নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিবৃতি কেবল সামরিক হুমকি নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তা, যার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখতে চাইছে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করতে চাইছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সংঘাতটি কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
-রাফসান
ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এক গভীর মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণহানি ও আহতের দীর্ঘ তালিকা। যুদ্ধের মাত্র ২৫ দিনের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে এবং আহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, যা এই সংঘাতের তীব্রতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেখানে অন্তত ১,৫০০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫৫১ জনেরও বেশি। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে দেশটির অভ্যন্তরে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক এবং গভীর।
লেবাননেও পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে অন্তত ১,০০১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২,৫৮৩ জন। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরাকেও এই সংঘাতের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। সেখানে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে ইসরায়েলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৪,৬৯৭ জন আহত হয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন, যা যুদ্ধের বহুমাত্রিকতা ও ঝুঁকির মাত্রা নির্দেশ করে।
প্যালেস্টাইন ও সিরিয়ায় তুলনামূলক কম হলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রতিটি দেশে অন্তত চারজন করে নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তারকে আরও স্পষ্ট করে।
কুয়েতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বাহরাইনে অন্তত দুইজন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত আটজন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। ওমানে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবে অন্তত দুইজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জর্ডান ও কাতারেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে, যদিও সেখানে প্রাণহানি না হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। জর্ডানে অন্তত ২৮ জন এবং কাতারে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যেখানে কেবল সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া দেশগুলোই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এর প্রভাবের মধ্যে পড়ে গেছে। বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, যা মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ‘নতুন চমক’ আসছে, দাবি আইআরজিসির
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘আগ্রাসী শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইরান নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আসন্ন দিনগুলোতে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম এমন ‘নতুন চমক’ প্রস্তুত করছে তেহরান।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যেই এমন কিছু পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে চলমান সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপগুলো কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ, যার লক্ষ্য যুদ্ধের ফলাফলকে আরও স্পষ্ট করে তোলা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে তার সব সামরিক বিকল্পের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। ফলে তিনি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বদলে রাজনৈতিক ও যোগাযোগভিত্তিক কৌশলের দিকে ঝুঁকছেন, যা ইরানের দৃষ্টিতে দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।
আইআরজিসির ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, মার্কিন প্রশাসন এখন কার্যত একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে তারা না সামরিকভাবে স্পষ্ট সাফল্য অর্জন করতে পারছে, না কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে পারছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতার ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘বক্তব্যের যুদ্ধ’ বা তথ্যযুদ্ধে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের চাপ এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেন।
আইআরজিসি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়; বরং এতে আক্রমণাত্মক সক্ষমতারও প্রতিফলন থাকবে, যা শত্রুপক্ষের কৌশলগত হিসাবকে ভেঙে দিতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে সংঘাতের ভারসাম্য ইরানের পক্ষে ঝুঁকতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার উচিত যুদ্ধসংক্রান্ত প্রচারণা থেকে দূরে থেকে বাস্তব অর্থনৈতিক সূচক, যেমন শেয়ারবাজার ও তেলের মূল্য পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।
সূত্র:তাসনিম নিউজ এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান: নিহত ৬, আহত ৯
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে রাতভর পরিচালিত বিমান হামলায় উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শহরের একাধিক আবাসিক এলাকা সরাসরি আঘাতের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, যা হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে তাবরিজের কয়েকটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, ফলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইতোমধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের হামলাগুলোতে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা সংঘাতের চরিত্রে একটি উদ্বেগজনক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, তাবরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই ধরনের হামলা কেবল সামরিক কৌশল নয়; বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক এলাকায় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এনেছে। তারা এই ধরনের হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, এই হামলার ফলে ইরানের অভ্যন্তরে মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবাসিক এলাকা ধ্বংস হওয়ায় বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন, যা ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- এক-এগারোর দাপুটে কর্মকর্তা এখন রিমান্ডে: মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড়
- জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে মার্কিন চুক্তি: শামা ওবায়েদ
- ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে আঘাত: বিমানবন্দরের জ্বালানি বিমানে ড্রোন হামলা চালাল ইরান
- ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্ল্যান: ১২০ সিগন্যাল হচ্ছে অটোমেশন
- যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া রোনানের কাঁধে চড়ে জয়: সাফে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্স
- নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে পিএসএল মাতাতে ঢাকা ছাড়লেন তানজিদ-রিশাদ
- সামাজিক কুসংস্কার ছাপিয়ে গবেষণায় পিরিয়ড: জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন হাতিয়ার
- খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আইআরজিসি: ৭ রাউন্ডের হামলায় তছনছ ইসরায়েল
- আকাশচুম্বী দামে বিক্রি হল রাজস্থান রয়্যালস
- ধন্যবাদ বিএনপি সরকারকে: আসিফ নজরুল
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দেশে কমলো কত
- ইলন মাস্কের স্টারলিংক-এর বিকল্প আনছে রাশিয়া: ৯০০ স্যাটেলাইটের মেগা প্রজেক্ট
- যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতি স্বীকার নয়: ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ না হওয়া পর্যন্ত লড়বে ইরান
- ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ১০ ঘণ্টায় ইরানের ৭ দফা হামলা: তেল আবিব ও ডিমোনায় মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
- ২৪ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৪ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ২৪ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- সাকিবকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত পেতে চান হাবিবুল বাশার: শুরু হলো নতুন মিশন
- শত কেজি বিস্ফোরকের সফল আঘাত: ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি করল ইরান
- জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিচ্ছে সরকার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- বিমানের জ্বালানিতে রেকর্ড লাফ: এক ঝটকায় ৮০% দাম বাড়াল সরকার
- লেবানন-গাজায় হামলা হলে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
- ইরান যুদ্ধে কোন দেশে কতজন মানুষ নিহত হয়েছে?
- ইরানের ‘নতুন চমক’ আসছে, দাবি আইআরজিসির
- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় বিধ্বস্ত ইরান: নিহত ৬, আহত ৯
- ‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসনের কারণে স্থাপনায় আগুন লেগেছে’- বাহরাইন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা
- ২৫ মার্চ: ১০:৩০–১০:৩১, থমকে যাবে পুরো দেশ
- ২৫ দিনে ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার সর্বশেষ চিত্র
- বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি ইরানের
- পাকিস্তানে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার রেট কত, জানুন সর্বশেষ আপডেট
- ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন রণতরি ‘ফোর্ড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- সক্ষমতার বাইরে সেবা দিলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
- শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন
- ইরানিদের পাশে কাশ্মীরি জনতা: নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের সাথে দান করছেন পশুও
- বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল? আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব নেই দেশের শেয়ারবাজারে
- সংকটে নয়, আতঙ্কেই পাম্পে লম্বা লাইন: প্রকৃত সত্য জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী
- ইরানের সঙ্গে আলোচনার দাবি ট্রাম্পের, অস্বীকার তেহরানের
- গ্যাস্ট্রিকমুক্ত থাকতে চাইলে বদলান ৫টি অভ্যাস
- ক্লাস্টার মিসাইলে কাঁপছে উত্তর ইসরাইল: আহতদের উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্ট
- যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া
- ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পেলাম না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- জেরুজালেমে বিকট বিস্ফোরণ; ইরান থেকে ধেয়ে আসছে একের পর এক মিসাইল
- লঘুচাপের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া: উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কতা
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ইরান প্রেম: ভারসাম্যের রাজনীতিতে শেহবাজ শরিফ
- যাকাতের টাকায় চলছে দল ও নির্বাচন: নাম না নিয়ে জামায়াতকে এ্যানির তোপ
- ইসরায়েলে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: জেরুজালেম-তেল আবিবে মহ আতঙ্ক
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- তেজাবি স্বর্ণের বাজারে ধস: ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি নিয়ে এল নতুন দাম
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- ইরানকে সৌদি আরবের শেষ হুঁশিয়ারি: এবার কি শুরু হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ?
- আগুনে পুড়ছে যানবাহন, ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছে পুলিশ: বুধবার ভোরে উত্তপ্ত ইসরায়েল
- নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- অমাবস্যা পেরিয়ে প্রতিপদ শুরু: আজ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞান
- ইসরায়েলের আকাশ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে? যুদ্ধবিরতিতে ৬ কঠিন শর্ত তেহরানের
- ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চরম দুর্ভিক্ষ? ডব্লিউএফপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা








