খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:৪৩:১৬
খাওয়ার টেবিলে শিশুর স্ক্রিন আসক্তি কি আসলেই ক্ষতিকর?
ছবি : সংগৃহীত

খাবার খাওয়ার সময় শিশুর সামনে টেলিভিশন চালু রাখা, মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকা কিংবা ট্যাবলেটে গেম খেলা এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাওয়ার টেবিলে ডিভাইসের উপস্থিতির কারণে শিশুরা প্রায়ই তাদের আহারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। এর ফলে তারা ঠিক কতটুকু খাবার গ্রহণ করছে, সে সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট কোনো ধারণা থাকে না। তবে স্ক্রিনে সময় কাটালেই শিশুরা সরাসরি অতিরিক্ত খেতে শুরু করে—সমস্যাটিকে এতটা সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবে স্ক্রিন ব্যবহারের ধরণ, পরিবেশন করা খাবারের প্রকৃতি এবং শিশুর সার্বিক জীবনযাত্রার মেলবন্ধনেই এর ফলাফল নির্ধারিত হয়।

সাধারণ নিয়মে খাবার খাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি শারীরিক কিছু সংকেতের ওপর নির্ভর করে। খাওয়ার আগে তীব্র ক্ষুধা পাওয়া, চিবানোর সময় খাবারের স্বাদ ও গঠন উপভোগ করা এবং একপর্যায়ে পেট ভরে আসার অনুভূতি পাওয়ার মাধ্যমেই আহার শেষ হয়। কিন্তু খাবারের সময় শিশুর দৃষ্টি যদি পর্দায় আটকে থাকে, তবে সেই মনোযোগের বড় একটি অংশ অন্য দিকে চলে যায়। এর ফলে পেটে ক্ষুধা না থাকলেও অবচেতনভাবেই তাদের হাত চলতে থাকে। অনুষ্ঠান যত সময় ধরে চলতে থাকে, খাবারের তাগিদ না থাকা সত্ত্বেও কেবল সময় কাটানোর জন্যই তাদের খাওয়া অব্যাহত থাকে।

তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রক্রিয়াটি আরও কিছুটা ভিন্ন ও জটিল। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরীক্ষাগারে পরিচালিত কিছু নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের সময় টেলিভিশন চলার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়েনি। এই ফলাফলের অর্থ স্ক্রিনের সামনে খাওয়া স্বাস্থ্যকর বা নিরাপদ—তা কিন্তু নয়। বরং এর থেকে বোঝা যায়, এই ধরনের অভ্যাসের চূড়ান্ত প্রভাব একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে এবং তা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত আচরণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ডিভাইসে শিশু আসলে কী দেখছে, সেই বিষয়টির ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত জোরালো। ভিডিও গেম বা সাধারণ টিভি অনুষ্ঠান দেখার সময় পরিবেশ পুরোপুরি খাদ্য-নিরপেক্ষ থাকে না। বিভিন্ন আকর্ষণীয় খাবারের বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডের প্রচারণা, ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থাপন কিংবা সুস্বাদু খাবারের দৃশ্য শিশুদের মনে অজান্তেই খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। খাবারের সময় স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে করা একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ৩৫টি গবেষণার মধ্যে ২৭টিতেই দেখা গেছে, খাবাবের বিজ্ঞাপন বা খাদ্য-সংক্রান্ত ইঙ্গিতের ফলে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ সরাসরি বৃদ্ধি পায়। তবে গবেষকরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, টেলিভিশনের তুলনায় মোবাইল বা ট্যাবলেট নিয়ে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তি তুলনামূলক কিছুটা দুর্বল।

স্ক্রিনের সামনে শিশুকে কোন ধরণের খাবার দেওয়া হচ্ছে, তাও বড় একটি বিবেচ্য বিষয়। যেমন, আধা ঘণ্টা ধরে কার্টুন দেখার সময় একটি শিশুর কাছে যদি এক বাটি বিস্কুট রেখে দেওয়া হয়, তবে খাবার টেবিলে বসে নির্দিষ্ট মাপে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতার সাথে তার বড় অমিল দেখা দেবে। প্রথম ক্ষেত্রে খাবারের কোনো নির্দিষ্ট শুরু বা শেষ থাকে না। পাত্রটি হাতের কাছে থাকায় শিশুটি আনমনে বারবার অল্প অল্প করে মুখে তুলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে মোট কতখানি খেয়ে ফেলেছে, তা আর তার নিজের হিসেবেও থাকে না।

এই আচরণটি একসময় দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে রূপ নেয়। স্ক্রিনের সামনে বসা মানেই যদি প্রতিবার চিপস, বিস্কুট বা মিষ্টি পানীয়র জোগান পাওয়া নিশ্চিত হয়, তবে মস্তিষ্কে এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্থায়ী সংযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিকভাবে ক্ষুধা না পেলেও কেবল টেলিভিশনের সুইচ অন করাই শিশুর মনে ওই মুখরোচক খাবারগুলোর চাহিদা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে শিশুদের মূল খাবার ও নাশতা খাবার টেবিলেই পরিবেশন করা সমীচীন। সম্পূর্ণ প্যাকেট বা বড় পাত্র শিশুর সামনে তুলে না দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাপে মেপে দেওয়া জরুরি। পানীয়র ক্ষেত্রে পানির প্রাধান্য থাকা প্রয়োজন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকসের বদলে ফল, দই কিংবা পরিমিত বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবার তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।

/আশিক


শীতে কি সত্যিই ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো উচিত?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৪ ২০:২৮:৪৮
শীতে কি সত্যিই ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো উচিত?
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আমেজে অনেকেই ঘরের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহারে নানা কৌশল খাটান, যার মধ্যে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ অন্যতম। আবহাওয়া বদলালেও ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। শীত হোক কিংবা গরম—খাবারের গুণগত মান ও নিরাপত্তা ঠিক রাখতে ফ্রিজের মূল তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় রাখা উচিত।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের মূল অংশের আদর্শ তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম হওয়া দরকার। শীতকালে বাইরের পারদ নামলেও ভেতরের এই নির্ধারিত তাপমাত্রা পরিবর্তন করা অনুচিত। কারণ আবহাওয়া ছাড়াও ফ্রিজের ভেতরে থাকা খাবারের পরিমাণ এবং কতবার দরজা খোলা হচ্ছে, তার ওপর কুলিং নির্ভর করে। ফ্রিজের ডায়ালের নম্বর দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করে সঠিক তাপমাত্রা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি না করা, বারবার অপ্রয়োজনে দরজা না খোলা, খাবার সবসময় ঢেকে সংরক্ষণ করা এবং দরজার রাবারের সিল ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করা। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি ঠান্ডা না করে সঠিক সেটিংস বজায় রাখলেই খাবার নিরাপদ থাকে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমে।

/আশিক


টয়লেটে ফোন ব্যবহার: ডেকে আনছেন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৯:২৭:১৩
টয়লেটে ফোন ব্যবহার: ডেকে আনছেন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি?
ছবি : সংগৃহীত

ফোন ছাড়া একটা দিন কাটানোর কথা ভাবা এখন প্রায় অসম্ভব। পকেটে বা হাতে ফোন না থাকলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। কিছুক্ষণ পরপর নোটিফিকেশন চেক করা কিংবা স্ক্রল করার এই তীব্র নেশা এখন ঘরের চার দেওয়াল পেরিয়ে অবলীলায় ঢুকে পড়েছে টয়লেটেও। অভ্যাসবশত কমোডে বসেও যারা স্ক্রিন স্ক্রল করেন, তারা আসলে অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা সেখানে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস মানুষের অজান্তেই মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়।

পাশাপাশি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, তাই সেখানে কথা বলা অনুচিত।

তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন—ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে যাওয়া বা টিস্যু না থাকার মতো পরিস্থিতিতে সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং তা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো সত্তা বা গুণবাচক নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা না হয়।

/আশিক


মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:২২:৪৫
মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান
ছবি : সংগৃহীত

কমলালেবু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী তা সবার জানা থাকলেও, এর খোসা অধিকাংশ সময়ই ফেলে দেওয়া হয়। তবে এই ফেলে দেওয়া খোসা ব্যবহার করেই বাড়িতে অত্যন্ত কম খরচে এবং মাত্র ৩ থেকে ৪টি উপাদান দিয়ে তৈরি করা সম্ভব প্রাকৃতিক সুগন্ধযুক্ত সাবান।

বাড়িতেই কমলালেবুর খোসা দিয়ে ঘরোয়া উপায়ে সাবান তৈরির এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। সাবানটি তৈরির জন্য মূলত প্রয়োজন পড়বে কমলালেবুর টাটকা খোসা, সাবান বেস, সামান্য পানি এবং জমানোর জন্য একটি সিলিকন ছাঁচ। সিলিকন ছাঁচ হাতের কাছে না থাকলে ডিসপোজেবল কাগজের কাপ ব্যবহার করলেও চলবে।

প্রথমে কমলালেবুর খোসাগুলো পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর সামান্য পানি মিশিয়ে মিক্সারে খোসাগুলোর একটি মিহি পেস্ট তৈরি করা প্রয়োজন। পেস্টে যাতে খোসার কোনো বড় অংশ থেকে না যায়, সে জন্য একটি চালুনি বা পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিতে হবে।

এরপর সাবান বেসটি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে তৈরি রাখতে হবে। এবার একটি পাত্রে পানি দিয়ে তার ওপর আরেকটি বাটি বসিয়ে 'ডাবল বয়লার' পদ্ধতিতে মাঝারি আঁচে সাবান বেস গলিয়ে নিতে হবে। বাটিটি পানিতে কিছুটা ডুবে থাকলেও খেয়াল রাখতে হবে যেন ভেতরে পানি ঢুকে না যায়। সাবান বেস সম্পূর্ণ গলে গেলে তার মধ্যে আগে থেকে ছেঁকে রাখা কমলালেবুর খোসার মিশ্রণটি ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।

মিশ্রণটি কম আঁচে ১২ থেকে ১৩ মিনিট অনবরত নাড়তে হবে, যাতে কোনো দলা পেকে না যায়। রান্না শেষ হলে চুলা বন্ধ করে গরম মিশ্রণটি ছাঁচে বা কাগজের কাপে ঢেলে নিতে হবে। সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিলেই সাবানটি জমে শক্ত হয়ে যাবে। দ্রুত শক্ত করতে চাইলে এটি কিছুক্ষণ ফ্রিজেও রাখা যেতে পারে। জমে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে নিলেই ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে সুগন্ধি সাবান। কমলালেবুর খোসার তৈরি এই সাবান ত্বকের পরিচর্যায় যেমন ভূমিকা রাখে, তেমনই শরীরে দীর্ঘসময় ধরে একটি রিফ্রেশিং প্রাকৃতিক গন্ধ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

/আশিক


শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৯:৪৫:৫৭
শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
ছবি : সংগৃহীত

শীতের সকালে অলসতা কাটিয়ে শরীরচর্চায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হলেও সঠিক সময়ে পুষ্টি ও পানির জোগান নিশ্চিত করা জরুরি। ক্যাফেইনযুক্ত কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে ঘরের সাধারণ উপাদান দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক পানীয় ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরে শক্তি ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তবে কোন পানীয়টি আপনার জন্য উপযোগী, তা নির্ভর করে মূলত ব্যায়ামের ধরন এবং সময়ের ওপর।

হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা শীতের সকালের জন্য একটি সহজ বিকল্প। এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তরল গ্রহণে সাহায্য করলেও সরাসরি কোনো চর্বি পোড়ায় না বা শক্তি জোগায় না। অন্যদিকে, কলা ও দুধের স্মুদি কিংবা ওটস ও দুধের মিশ্রণ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সরবরাহ করতে বেশ উপকারী। তবে ওটসে ফাইবার থাকায় এটি হজম হতে একটু সময় নেয়, তাই কঠোর ব্যায়ামের ঠিক আগে এটি এড়িয়ে চলা ভালো।

প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট ও পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে ডাবের পানি বেছে নেওয়া যায়, যদিও এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকায় দীর্ঘ ও কঠোর ব্যায়ামে ঘামের ঘাটতি পূরণে এটি একাই যথেষ্ট নয়। এছাড়া বিটরুটের রসে থাকা ডায়েটারি নাইট্রেট রক্তপ্রবাহ ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং কমলার রস বা গরম দুধের সঙ্গে কলা খাওয়ার অভ্যাসও শক্তির জোগান দেয়। তবে সব ধরনের ব্যায়ামের জন্য একই পানীয় প্রযোজ্য নয়। এক ঘণ্টার কম সময়ের মাঝারি ব্যায়ামের ক্ষেত্রে কেবল সাধারণ পানিই যথেষ্ট হতে পারে। প্রতিদিন প্রি-ওয়ার্কআউট পানীয় গ্রহণ বাধ্যতামূলক না হলেও, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে এসব পানীয় নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সূত্র: এনডিটিভি


চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৯:৩৭:২৩
চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিষয়ে ‘ফেরিটিন ফেস’ নামক একটি ট্রেন্ড ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ট্রেন্ডের দাবি অনুযায়ী, চোখের নিচে কালো দাগ, ফ্যাকাশে ত্বক ও চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো শরীরে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মুখাবয়বের এসব দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখে শরীরে আয়রন বা ফেরিটিনের মাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, কারণ এসব উপসর্গের পেছনে আরও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।

ফেরিটিন মূলত একটি প্রোটিন, যা মানবদেহে আয়রন সঞ্চয় করে রাখে। লোহিত রক্তকণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন সারা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে, আর এই হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রধান উপাদান হলো আয়রন। শরীরে আয়রনের সঞ্চয় কমে গেলে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেলে তা ‘আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া’ বা রক্তস্বল্পতায় রূপ নেয়।

ত্বক ফ্যাকাশে হওয়া বা চোখের নিচে কালচে ছোপ পড়া আয়রনের ঘাটতির সম্ভাব্য লক্ষণ হলেও জিনগত কারণ, অপর্যাপ্ত ঘুম, অ্যালার্জি বা বয়সের কারণেও তা হতে পারে। একইভাবে চুল পড়ার পেছনে থাইরয়েড, মানসিক চাপ ও হরমোনের সামঞ্জস্যহীনতা ভূমিকা রাখে। নখ দুর্বল হয়ে বাঁকা হওয়া কিংবা মুখের কোণে ফাটল ধরার মতো সমস্যা কেবল পুষ্টির অভাব নয়, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা চর্মরোগের কারণেও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে আয়রনের ঘাটতির প্রকৃত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব ও নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের মধ্যে কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড দেখে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্তে আয়রনের সঠিক মাত্রা জানতে ফেরিটিন ব্লাড টেস্ট ও সিবিসি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা বিপজ্জনক, কারণ শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

/আশিক


কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:১৯:৫৭
কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’
ছবি : সংগৃহীত

কোরিয়ানদের মতো কাচের মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক বা ‘গ্লাস স্কিন’ পাওয়ার জনপ্রিয় ট্রেন্ডের ছোঁয়া এখন রূপচর্চাপ্রেমীদের মুখে মুখে। এই ধরনের সতেজ ও প্রাণবন্ত ত্বক পেতে বাজারে রকমারি প্রসাধনী পাওয়া গেলেও ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কফি দিয়ে তৈরি ফেস স্ক্রাব অন্যতম কার্যকরী ও সুপরিচিত একটি মাধ্যম হিসেবে নজর কাড়ছে। কফি কেবল ক্লান্তি দূর করতেই নয়, বরং রূপচর্চাতেও সমানভাবে ভূমিকা রাখে। এর সূক্ষ্ম দানাগুলো ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ আলতোভাবে দূর করে এবং ম্যাসাজের ফলে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ ও উজ্জ্বল করে তোলে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. চঞ্চল শর্মার মতে, কফির ফেস স্ক্রাব মূলত একটি চমৎকার ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। কফির ছোট ছোট কণা ত্বককে আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে। ঘরে থাকা নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, মধু কিংবা দইয়ের সঙ্গে কফি মিশিয়ে খুব দ্রুতই এর কার্যকর পেস্ট তৈরি করা সম্ভব। কফি স্ক্রাব ব্যবহারে ত্বকের মৃত কোষ দূর হওয়ার পাশাপাশি ক্যাফেইনের উপস্থিতির কারণে মুখ সতেজ দেখায় এবং চোখের নিচের ফোলাভাব কমে আসে। এ ছাড়া কফিতে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদান ত্বকের লালচে ভাব ও সংবেদনশীলতা কমাতেও বেশ সহায়ক।

রূপচর্চার সুবিধার্থে ঘরে বসেই খুব সহজে তৈরি করা যায়—এমন ৭টি কফি স্ক্রাবের বিস্তারিত প্রস্তুত প্রণালী ও ব্যবহারবিধি উল্লেখ করা হলো

১. কফি, নারকেল তেল ও মধু

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল এবং ১ টেবিল চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। এটি মুখে আলতো করে বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

২. কফি, লেবুর রস ও অলিভ অয়েল

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্রস্তুত করুন। সংবেদনশীল চোখের চারপাশ এড়িয়ে মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৩. কফি, অ্যালোভেরা ও ক্যামোমাইল

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল ও ১ চা চামচ ক্যামোমাইল চা মিশিয়ে মুখে প্রয়োগ করুন। হালকা ম্যাসাজের পর ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

৪. কফি ও বেন্টোনাইট ক্লে

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ বেন্টোনাইট ক্লে এবং ১ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে পেস্ট বানান। মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট শুকানোর সুযোগ দিন এবং এরপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

৫. কফি, অ্যাভোকাডো ও জোজোবা অয়েল

১ টেবিল চামচ চটকে নেওয়া অ্যাভোকাডোর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া ও ১ টেবিল চামচ জোজোবা অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। হালকা হাতে ম্যাসাজ শেষে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

৬. কফি, গ্রিন টি ও রোজহিপ অয়েল

লিকার তৈরি করে ঠান্ডা করা গ্রিন টি-র সঙ্গে ২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়া ও ১ চা চামচ রোজহিপ অয়েল মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

৭. কফি, ব্রাউন সুগার ও মধু

২ টেবিল চামচ কফির গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ ব্রাউন সুগার এবং ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। সার্কুলার মোশনে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

তবে প্রাকৃতিক এসব স্ক্রাব ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক। যেকোনো নতুন স্ক্রাব মুখে সরাসরি ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। স্ক্রাব করার সময় কখনই ত্বক জোরপূর্বক ঘষা যাবে না এবং সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বারের বেশি এটি ব্যবহার না করাই শ্রেয়। স্ক্রাবিং সম্পন্ন করার পরপরই ত্বকে একটি উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। আর যদি ত্বকে কোনো ধরনের চর্মরোগ, তীব্র অ্যালার্জি বা জটিলতা থাকে, তবে ঘরোয়া যেকোনো স্ক্রাব ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: হেলথশটস


দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:০২:৪৬
দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা ঘুম ডেকে আনছে বড় বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে সাময়িকভাবে ঘুম কম হওয়া স্বাভাবিক হলেও রাতের পর রাত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া মারাত্মক শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম শুধু শারীরিক ক্লান্তি বা অবসাদই তৈরি করে না, বরং পুরুষদের শুক্রাণুর মান কমিয়ে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যেসব পুরুষ রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান, তাদের এই স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

আমাদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলা জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’-এর ওপর ভিত্তি করে চব্বিশ ঘণ্টার নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ও হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। হার্ভার্ডের গবেষকদের পরীক্ষামূলক তথ্যে দেখা গেছে, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে জেগে থাকেন এবং ভোরের দিকে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান, তার শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই নষ্ট হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে।

এছাড়া দেহঘড়ির ছন্দপতন ঘটলে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বা কর্টিসলের ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা আরও কমিয়ে দেয়। এর ফলে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপপনিয়া’ নামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে, যাতে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই দেহঘড়ি বিঘ্নিত হতে থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক ঝুঁকির পাশাপাশি শুক্রাণুর সংখ্যাও হ্রাস পেতে পারে। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য রাতে টানা ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি এবং ঘুম না আসলে মেডিটেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


পুষ্টিতে ভরপুর কলা: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় একে রাখা কেন জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৯:৫৪:৫৯
পুষ্টিতে ভরপুর কলা: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় একে রাখা কেন জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

শীতকাল এলেই আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা ও বিভ্রান্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যার মধ্যে অন্যতম হলো শীতের দিনে বা রাতে কলা খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা বাড়ে কি না। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য এই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শীতকালে খাদ্যতালিকা থেকে কলা বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। যদিও সাইনাস বা শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন, তবে শীতকালীন পুষ্টির চাহিদা পূরণে কলার জুড়ি মেলা ভার।

শীতের ঠান্ডায় হাড়ের সুরক্ষা ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন খনিজের ভূমিকা অপরিসীম। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলা হলো পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফোলেট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন বি৬-এর একটি শক্তিশালী উৎস। এছাড়া নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডস-এর একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যাপ্ত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কার্ডিওভাসকুলার ও করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি কলার পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতেও কাজ করে।

হজম প্রক্রিয়া ও শক্তির যোগানেও কলার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কলায় প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় কলা রাখলে সারাদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায় এবং বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে। তবে শীতের রাতে কলা খাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। পুষ্টির দিক থেকে রাতের বেলা মিষ্টি খাওয়ার স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে কলা, এবং সন্ধ্যার দিকে বা জিম করার পর এটি পেশির ক্লান্তি দূর করে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাতে কলা পরিহার করাই শ্রেয়, কারণ এটি হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয় এবং শ্লেষ্মা বা কাশির প্রকোপ বাড়াতে পারে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, শীতকালে কলা অত্যন্ত উপকারী একটি ফল হলেও কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যায় বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। সর্দি-কাশি, সাইনাস কিংবা অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শীতের রাতে কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকা বা তা সীমিত করা উচিত, কারণ এটি শরীরে শ্লেষ্মার অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

/আশিক


মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:৫৪:২০
মন ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট্ট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরা। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাও সমানভাবে জরুরি। কাজের অতিরিক্ত চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়মিত ঘুম এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চাপের মধ্যে থাকলে তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন কাজকে ব্যাহত করে।

মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যুক্ত করলেই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দূর করতে নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটা, এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া। এছাড়া প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের পছন্দের কাজের জন্য কিছুটা সময় রাখা, মনের জমা থাকা কথা কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করা এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার কৌশল আয়ত্ত করা দরকার।

একসঙ্গে অতিরিক্ত কাজের চাপ না নিয়ে কাজকে ছোট ভাগে ভাগ করা এবং কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে মানসিক শান্তি রক্ষার্থে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করা এবং অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করে হতাশা তৈরি হওয়া থেকে দূরে থাকা জরুরি। মন খারাপ বা উদ্বেগকে অস্বাভাবিক না ভেবে নিজের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। মানসিক সুস্থতা একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়; বরং ছোট ছোট ধারাবাহিক অভ্যাসের মাধ্যমেই এটি দীর্ঘস্থায়ী করা যায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: