২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্সের বরাতে নিশ্চিত করেছেন পিটিআই পাঞ্জাবের এক মুখপাত্র।
গ্রেপ্তারের পর লাহোর জেলা প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, যেকোনো জনসমাগমে তাঁর উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।
কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী সপ্তাহে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে গণমিছিলের ডাক দিয়েছে পিটিআই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এর আগেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এদিকে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী জুলফি বুখারি এই আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আসন্ন গণবিক্ষোভ ঘিরে সরকার কতটা শঙ্কিত ও উদ্বেগে রয়েছে, আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাই তার প্রমাণ।
সূত্র : রয়টার্স
বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী শনিবার পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানিয়েছে, এই সময়ে ভারি বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মদিনা, তাবুক, আল জউফ, হাইল, নাজরানসহ রিয়াদের বিভিন্ন অংশেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মক্কা, তায়েফ এবং এর আশেপাশের গভর্নরেটগুলোতে শনিবারেও ভারী বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া জেদ্দা ও রাবিঘের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রতিকূল এই আবহাওয়ায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনসিএম। এর ফলে তীব্র ধূলিঝড়, সড়কে দৃশ্যমানতা হ্রাস, উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ঢেউ এবং কিছু এলাকায় টর্নেডো বা জলস্তম্ভ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এনসিএমের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিয়মিত ফলো করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ—উভয়টিরই একক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল।
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দূতাবাসের ভেরিফাইড সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা একটি অ্যানিমেশন ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জোর করে তুলে নিয়ে একটি বড় ময়লার পাত্রের ভেতর ফেলে দিচ্ছেন। ওই ময়লার পাত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘বিপজ্জনক বর্জ্য’ কথাটি লেখা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় মূলত এই ভিডিওটি শেয়ার করে ইরানি দূতাবাস। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা ক্যাপশনে কেবল ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন’ কথাটি লেখা হয়েছে এবং এর সঙ্গে একটি হাসিমুখের ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই জোরালো সাফল্যের পরই মূলত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা: ইয়াইর গোলান
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্যও একটি বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা—এমন মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলান। তাঁর দাবি, মার্কিন নির্বাচনের এই ফলাফল থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় প্রধান দলের কাছেই নেতানিয়াহুর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ক্ষমতায় বহাল থাকলে ইসরায়েল মারাত্মক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুতর সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে এই কঠোর মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। ইসরায়েলের ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের জন্য দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক পথের কথা তুলে ধরে গোলান লেখেন, ‘হয় নেতানিয়াহুর ইসরায়েল—যা বিশ্বজুড়ে বয়কটের শিকার, পশ্চাৎপদ ও বিচ্ছিন্ন এক সুপার-স্পার্টা; অথবা একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল, মুক্ত ও নিরাপদ ইসরায়েল। নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে হেরে গেছেন। তিনি বর্তমান ইসরায়েলের জন্য একটি বড় বিপদ।’
তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সরকারের বর্তমান অতি-ডানপন্থী নীতির কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সুসম্পর্কের অবনতি দেশটির সামগ্রিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল করে তুলতে পারে বলে জোরালো সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন তিনি।
ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস দল মূলত ইহুদি-নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান একটি অংশ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এই জোট সচল থেকে আটচল্লিশটি আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে তিপ্পান্নটি আসন। এ ছাড়া আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি দল রেকর্ড উনিশটি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে। নির্বাচনের এই ফলাফল দেশটিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নতুন এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি দলের মধ্যে জোট গঠন এবং পারস্পরিক সমর্থন আদায়ের বিষয়টি এখন ইসরায়েলি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি সাতাশ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার নেতানিয়াহুর দীর্ঘ প্রচেষ্টার জন্য একে একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করবেন। এসব ধারাবাহিক আলোচনা শেষে তিনি জোট সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। নতুন সরকার গঠনের এই জটিল প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয়, তা নিয়ে গোটা ইসরায়েলি রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
/আশিক
আরও শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি নেতার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসবে—এমন আশা করাকে বড় ভুল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী। একই সঙ্গে সর্বাত্মক প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জনে জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি ‘আরও শক্তিশালী ইরান’ গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ ও সরকারের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমর্থন অবিচল রাখা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
ইরানের জাতীয় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এসব কথা বলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর বা তেরো অবন উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় দিনটিকে ‘সত্যের পক্ষের শক্তির সঙ্গে অসত্যের পক্ষের শক্তির মুখোমুখি অবস্থানের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন মুজতাবা খামেনেয়ী।
বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের প্রকাশ্য শত্রুতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দুই দেশের মধ্যকার বিরোধের মূল প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, এখন কেবল তেরো অবন নয়, বরং প্রতিটি দিন ও প্রতিটি ঘণ্টাই ‘মহাশয়তান’-এর বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের অবিরাম প্রতিরোধ ও সংগ্রামের সময়। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী নীতির প্রতিটি পদক্ষেপই ইরানের জনগণের দৃঢ় সংকল্প ও বাস্তবতার মুখে বারবার বাধার সম্মুখীন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বার্তায় ১৯৫৩ সালের আটাশ মোরদদ অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ইসলামি বিপ্লবের আগের ও পরের বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা নেতিবাচক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। মুজতাবা খামেনেয়ীর অভিযোগ, ইরানের তেলসহ জাতীয় সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বজায় রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র অতীতে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা সমর্থিত সাভাক প্রতিষ্ঠা, স্বৈরশাসনের প্রতি সহযোগিতা এবং ইসলামি বিপ্লব ঠেকানোর নানা কৌশল গ্রহণ করেছিল ওয়াশিংটন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, অভ্যুত্থানকারী ও মোনাফেকিনদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি ইরাকের বাথ সরকারকে সহযোগিতা প্রদান, ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস, দীর্ঘমেয়াদি ও দমনমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিতে সহায়তা এবং জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও ওয়াশিংটন সরাসরি জড়িত ছিল।
তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বহু বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পারস্য উপসাগর, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘অপরাজেয় শক্তির’ ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীল আঞ্চলিক সরকারগুলোর সামরিক দুর্বলতাও এর মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে বলে জানান সর্বোচ্চ নেতা।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসন ও অপরাধের জোরালো জবাবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে সংঘাতের পরিধি আরও বহুগুণ বিস্তৃত হতে পারে বলেও মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। এ ছাড়া ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনসহ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর পারস্পরিক ঐক্য ও কার্যক্রমকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন মুজতাবা খামেনেয়ী।
মুজতাবা খামেনেয়ী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, যারা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে কখনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় ক্ষমতার পালাবদলের মাধ্যমে তাদের নীতি বদলে যাবে কিংবা ওয়াশিংটনকে কিছু ছাড় দিয়ে ইরানের প্রতি দীর্ঘদিনের শত্রুতা বন্ধ করা সম্ভব—তারা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার মধ্যে রয়েছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সামাজিক সমন্বয়ই সাফল্যের প্রধান ভিত্তি বলে মনে করেন তিনি। জনগণের প্রতি সরকারের সমর্থন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতকরণ, বস্তুগত ও নৈতিক অগ্রগতি সাধন এবং দেশের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের আরও অনেক বেশি আন্তরিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ইরানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে দেশের তরুণ সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মুজতাবা খামেনেয়ী। তাঁর মতে, সব ধরনের হতাশা ও অসম্ভবের ধারণাকে পেছনে ফেলে তরুণদের মাঝে ‘আশা ও আমরা পারব’—এই অদম্য বিশ্বাস মনে প্রাণে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য সঠিক জ্ঞানার্জন, তাকওয়া, কর্মদক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধ, সুদৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করার তাগিদ দেন তিনি।
বার্তার একেবারে শেষাংশে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ইরানের জনগণ খুব দ্রুত বিজয়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সর্বাত্মক উন্নয়ন অর্জন করবে এবং ‘মহাশয়তান’-এর দাম্ভিক আধিপত্যের পতন ত্বরান্বিত হবে বলে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী।
পার্সটুডে
যুক্তরাষ্ট্রবাসী বিরক্ত হলে ইসরায়েলে চলে যাওয়ার ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে গেলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ভাবতে পারেন—এমন মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলে নিজের বিপুল জনপ্রিয়তার দাবি করার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলেও নিজের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে পিছপা হবেন না। প্রয়োজনে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী দলের আইনগত উদ্যোগ আটকে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কোনোদিন আমাকে নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেলে আমি ইসরায়েলে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব।’ ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে গর্ব করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলে তাঁর সমর্থনের হার নিরানব্বই শতাংশ, যা ইতিহাসে যেকোনো ব্যক্তির মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগেও গত মে মাসে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তখনও ইসরায়েলিদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা নিরানব্বই শতাংশ বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তাঁর জনপ্রিয়তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেরো থেকে ছাব্বিশ অক্টোবর পরিচালিত সিএনএনের এক জরিপে ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার ছিল চৌত্রিশ শতাংশ। বিপরীতে চৌষট্টি শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে। তাঁর দাবি, ইসরায়েল এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম এবং দেশটির আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে চারশ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা হবে। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইসরায়েলকে সহায়তা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার বিষয়টি ব্যবহার করে ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশ রিপাবলিকানদের সমালোচনা করছেন।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই সিবিএস নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে তিনি ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমার হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা আছে, তার নাম ভেটো। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ‘মিস্টার ভেটো’ নামে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনাকেও স্বাগত জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলেও নিজের নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে চান তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এই রায়ের ফলে ফেডারেল সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব বেড়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাঁকে নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। সিবিএসকে তিনি বলেন, আমরা স্লটার মামলায় জিতেছি, আর এই মামলা প্রেসিডেন্টকে এমন বিশাল ক্ষমতা দিয়েছে, যা আগে কখনো ছিল না।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জনসভা ও নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটারদের আহ্বান জানান তিনি। নিজের প্রচারণার পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর জনসভাগুলো রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। নির্বাচনে ট্রাম্পের শাসন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল। এখন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, সেটিই হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
পার্সটুডে
শেনজেনে আসন্ন এপেক সম্মেলনে তিন বিশ্বনেতার বৈঠকের সম্ভাবনা
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে বেইজিং। চলতি নভেম্বর মাসের শেষ দিকে চীনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে চীন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী আঠারো ও উনিশ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক নেতাদের সম্মেলনের ফাঁকে সম্ভাব্য এই বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে তিন দেশের কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করছেন। এর আগে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
আসন্ন এই এপেক সম্মেলনে একুশটি সদস্য অর্থনীতির শীর্ষ নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, যাদের আতিথ্য দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও নিশ্চিত করে বলেছেন যে, এ ধরনের একটি বৈঠক আয়োজনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সম্ভাব্য বৈঠক আয়োজনের জন্য চীনকে রাজি করাতে ওয়াশিংটন ও মস্কো যৌথভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে।
সূত্র: আনাদোলু
ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সিনেটের দুটি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক আসনেও জয় পেয়েছে দলটি। ফলে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা দুটি সিনেট আসন জিতেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। পাশাপাশি জর্জিয়ায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন ধরে রেখেছে দলটি। প্রতিনিধি পরিষদেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত ছয়টি আসন ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে ভোট গণনা এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে আরও ফলাফলের প্রয়োজন রয়েছে।
নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ফল এসেছে সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয় পেয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় পর সাউথ ক্যারোলাইনার একটি সিনেট আসনে জয় পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
পেশায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নির্বাচনী প্রচারে জনস্বাস্থ্য, শিশুদের নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যনীতি ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান নির্বাচনী প্রচারে আলোচনায় আসে।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্ড্রুজ বলেন, যাঁরা তাঁকে ভোট দেননি, তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করাও তাঁর দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রত্যেক নাগরিকের কথা শোনা এবং সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
আরেক গুরুত্বপূর্ণ ফল এসেছে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে। সেখানে সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন। হোয়াটলি ছিলেন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী। ফলে এই ফলাফলকে শুধু একটি আসনের পরিবর্তন হিসেবে নয়, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয় কুপার নির্বাচনী প্রচারে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য স্বস্তির আরেকটি খবর এসেছে জর্জিয়া থেকে। সেখানে বর্তমান সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে জয় ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক সিনেটর জন সুনুনুকে পরাজিত করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতেই থাকছে।
মার্কিন সিনেটের মোট আসন ১০০টি। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাট ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের হাতে ৪৭টি আসন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিট চারটি আসন নিজেদের দখলে আনতে হবে।
নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় জয়ের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যের অর্ধেক পথ অতিক্রম করেছে দলটি। তবে বাকি গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ফলাফলের ওপর সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে।
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়ছে। পেনসিলভানিয়ার তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হয়েছে। পাশাপাশি নিউ জার্সি, কেন্টাকি এবং নর্থ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।
পেনসিলভানিয়ার দশম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে সাতবারের রিপাবলিকান প্রতিনিধি স্কট পেরিকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যানেল স্টেলসন। এই জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আসনটি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও নতুন ফলাফল তাদের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
শুধু কংগ্রেস নয়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য ফল পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন কিশা ল্যান্স বটমস। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ওহাইওতে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একের পর এক ফলাফল আসার মধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতো।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, তিনি নিজে ব্যালটে না থাকায় রিপাবলিকান প্রার্থীরা প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। তবে নির্বাচনী ফলাফলের ওপর তাঁর প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলেছেন। তিনি জানান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতেও তাঁর আপত্তি নেই এবং প্রয়োজনে সমঝোতার পথ খোঁজা হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না করলেও তাঁর প্রশাসনের নীতি ও কর্মসম্পাদন সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান প্রকাশের সুযোগ পান।
এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, অভিবাসননীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভোটার জরিপ অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। অনেক ভোটার মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় তাঁদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কার্যকর নজরদারি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পক্ষেও মত দিয়েছেন। তবে এই অসন্তোষের সবটুকু যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক সমর্থনে রূপ নিয়েছে, এমনটিও নয়। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোটারদের আস্থা ও অসন্তোষের বিষয়গুলোও জরিপে উঠে এসেছে।
এই নির্বাচনের ফলাফল মার্কিন রাজনীতির আগামী দুই বছরের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের অবশিষ্ট সময় কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক অনেকাংশেই নির্ভর করবে কোন দল আইনসভার নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে তার ওপর।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সরকারি ব্যয় নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা বাড়বে। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এলে সরকারি নিয়োগ, আইন প্রণয়ন এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য ভিন্ন রূপ নিতে পারে। ফলে নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশের আগে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কি রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার এক বা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে?
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরই মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আগামী দুই বছরের ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘ভুল করলে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র দেখবে যুক্তরাষ্ট্র’: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন আবারও কোনো সামরিক ভুল করলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে অপ্রত্যাশিত ও সুদূরপ্রসারী। সম্ভাব্য হামলার জবাব শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এমনকি নতুন সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেহরানে ইরানের পার্লামেন্টের উন্মুক্ত অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন কালিবাফ। এমন একসময়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দিলেন, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস ও তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে কালিবাফ দাবি করেন, ইরান বর্তমানে সামরিক ও প্রতিরক্ষাগত প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তেহরান কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্ধারিত সামরিক কৌশলের প্রসঙ্গ তুলে কালিবাফ বলেন, সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, শত্রুপক্ষের যেকোনো সামরিক ভুলের জবাব এমনভাবে দেওয়া হবে, যা তাদের পূর্বপরিকল্পনা ও কৌশলগত হিসাবকে অকার্যকর করে দিতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও কৌশলগত ভুল করে, তাহলে এবার এমন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হবে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে ওয়াশিংটনকে আরও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
কালিবাফের বক্তব্যে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। তবে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু, পরিধি কিংবা সামরিক কৌশল সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মার্কিন নীতির সমালোচনা করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধের মূল কারণ ইরানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বিদেশি আধিপত্য প্রত্যাখ্যানের অবস্থান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বিভিন্ন উপায়ে ইরানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানি জনগণের প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক চাপ এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে নিজেদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের জাতীয় অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি।
কালিবাফের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত করেছে। তাঁর দাবি, বারবার সামরিক চাপ সৃষ্টি করেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের অবস্থান বদলাতে পারেনি।
তবে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যে একটি দৃঢ় ও যুক্তিসংগত জবাব পৌঁছে দিয়েছে তেহরান। এখন নতুন যুদ্ধ এড়ানোর দায়িত্ব ওয়াশিংটনের।
কালিবাফ বলেন, সংঘাত প্রতিরোধের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
অবশ্য তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই জবাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তিনি প্রকাশ করেননি। ফলে আলোচনায় ঠিক কোন কোন বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং কোন প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং সামরিক অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা থেকে মার্কিন সামরিক বিমানকে হুমকি দেওয়ার পর আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইরান এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা এবং অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, এই দুই বিপরীত প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে কালিবাফের সর্বশেষ বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের কঠোর সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান বাস্তবে কতটা বিস্তৃত সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে কালিবাফ দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের ঐক্য। জাতীয় সংহতি অটুট থাকলে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলোও প্রত্যাখ্যান করেন পার্লামেন্ট স্পিকার। তাঁর দাবি, সামরিক, কূটনৈতিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কালিবাফ। তিনি স্বীকার করেন, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে।
বিশেষ করে বাজারে একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন মূল্য, দুর্বল তদারকি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। তাঁর মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি করছে।
ইরানের বিভিন্ন সীমান্তপথে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি সীমান্তে আমদানি, রপ্তানি এবং ট্রানজিট পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, পরিবহনসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখা, বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কালিবাফের বক্তব্যে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট ও জনজীবনের দুর্ভোগের স্বীকৃতি উঠে এসেছে। অর্থাৎ বহিরাগত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে ইরানের নেতৃত্বকে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে চীনসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেইজিং সম্প্রতি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তেহরান একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নতুন সামরিক অভিযানের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই: ওয়াশিংটন ও তেহরান কি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নতুন যুদ্ধ এড়াতে পারবে, নাকি সীমিত সামরিক হামলা এবং পাল্টা হুঁশিয়ারির ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যকে আরেকটি বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে?
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার হরমোজগান প্রদেশের বন্দর খামিরের আকাশে ড্রোন দুটি ধ্বংস করা হয়।
আইআরজিসির হরমোজগান প্রদেশের ইউনিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতাধীন আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সফলভাবে ড্রোন দুটি ভূপাতিত করেছে। ইরানের আকাশসীমা ও জলসীমায় মার্কিন ড্রোন-সংক্রান্ত ঘটে চলা একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটল।
এর আগে গত সোমবার রাতে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণে দুটি মার্কিন এমকিউএম-সতেরো শূন্য গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের পরিচালিত অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনগুলো নামানো হয়। ওই সময় বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ধরনের মার্কিন ড্রোন আটকের সংখ্যা তখন থেকেই চারটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-নয় ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ভূপাতিত হওয়া এমকিউ-নয় ড্রোনের মোট সংখ্যা পঞ্চান্নটিতে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।
পাঠকের মতামত:
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ
- বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে সৌদির বেশ কিছু অঞ্চল
- শীতে কি সত্যিই ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো উচিত?
- ট্রাম্পকে ডাস্টবিনে ফেলার এআই ভিডিও শেয়ার করল ইরানি দূতাবাস
- দীর্ঘ বিরতির পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করায় মুদ্রাবাজারে আলোচনা
- মার্কিন নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সতর্কবার্তা: ইয়াইর গোলান
- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ডলার ও তেলের দাম হ্রাস
- শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে পার্শ্ববর্তী দেশের ইন্ধন রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে একাধিক লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
- পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত
- আরও শক্তিশালী ইরান গড়ে তুলতে জাতীয় ঐক্যের ডাক ইরানি নেতার
- গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না
- বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- যুক্তরাষ্ট্রবাসী বিরক্ত হলে ইসরায়েলে চলে যাওয়ার ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
- সবুজ জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ঢাকা ও বেইজিংয়ের
- শেনজেনে আসন্ন এপেক সম্মেলনে তিন বিশ্বনেতার বৈঠকের সম্ভাবনা
- পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গ্যাসকূপ খননসহ নতুন ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন
- ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ
- ‘ভুল করলে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র দেখবে যুক্তরাষ্ট্র’: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
- বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও শ্রমিক বিক্ষোভের ওপর ভারত নজর রাখছে: রণধীর জয়সওয়াল
- শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীলতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী: হান্নান মাসউদ
- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি আইআরজিসির
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ: ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ১৫ দিন
- হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে নামল ইসরায়েলি প্লেন
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার জেরে ফের বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম
- হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
- শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ
- টয়লেটে ফোন ব্যবহার: ডেকে আনছেন কোন স্বাস্থ্যঝুঁকি?
- শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খান
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রচেষ্টার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে বড় ধাক্কা
- ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুষে রাখছে: নাহিদ ইসলাম
- তেলের বাজার চাঙ্গা হতেই বড় ধাক্কা খেলো মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের বাজার
- আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো পুত্র
- পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, অচল শিল্পাঞ্চল
- শত্রুর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ঘাঁটি এখন ইরানি বাহিনীর নাগালে: জেনারেল আবদুল্লাহি
- হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা, ইরানের দ্বীপে মার্কিন হামলা: বড় যুদ্ধের পূর্বাভাস?
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা, পুতিনকে ফোন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানের: কী বার্তা দিল মস্কো?
- ইরানের পাশে চীন, তবে যুদ্ধ নয়: মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বেইজিংয়ের নতুন কূটনৈতিক বার্তা
- ৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা
- অ্যাম্বুলেন্সে পাওয়া গেল ৬৭২ বোতল ভারতীয় সিরাপ
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন
- সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
- আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস
- বড় ধরনের সাইবার হামলার পরও ক্রিপ্টোবাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে পেরেছে বাইন্যান্স
- রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে ভিন্ন পরিচয়ে এপিএলে খেলছেন মোহাম্মদ আমির
- শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসির পুনর্বীক্ষা
- ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান
- রাত আটটা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন ও বর্ধিত মূল্য
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম
- চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
- ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থী
- সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
- রূপপুর প্রজেক্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক: মিলল বায়েরার অনুমোদন








