নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিশ্বশান্তির সর্বশেষ রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির আনুষ্ঠানিক মৃত্যু হচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবসান ঘটল। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, যা বিশ্বকে এক অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই চুক্তিতে সই করেছিলেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েন রাখতে পারত। ২০২১ সালে এর মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানো হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আজ তা চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে গেল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ব্যাপারে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অবসান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এতে চীনও যুক্ত হয়ে একটি ত্রিমুখী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে দেবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল এই পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক মোড়চিহ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, গত ৩৫ বছরে এই প্রথম দুই দেশ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর আইনি সুযোগ পেল। অন্যদিকে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ মানতে বেইজিংয়ের অস্বীকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প রাশিয়া ও চীনকে চরম উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গত ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি দেশটির আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গোল্ডেন ডোমের জবাবে রাশিয়া ও চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে পাল্টা হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। ফলে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা এখন এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।
৬০০ বার হামলা চালায় ইরান ইরাকে মার্কিন স্থাপনায়
ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ৬০০টিরও বেশি হামলার তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস, ইউএস ডিপ্লোম্যাটিক সাপোর্ট সেন্টার এবং এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে এবং তারা ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিক ও স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে যে ইরাক সরকারের কিছু অংশ এসব মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখন শুধু কথা নয়, বরং মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ‘কাজ’ দেখতে চায়।
মিলিশিয়াদের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরানো, তাদের অর্থায়ন বন্ধ করা এবং বেতন দেওয়া থামানোর জন্য ইরাক সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরাক সরকার ও এসব মিলিশিয়ার মধ্যের সীমারেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি! ইরান-আমেরিকার আলোচনায় বড় মোড়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে বিশ্ব। দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (মেমো) চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বুধবার (৬ মে) শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত একটি পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষের দীর্ঘ আলোচনার পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুতই এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'ও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, “আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি আছি এবং শিগগিরই এই স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
প্রকাশিত তথ্য মতে, এই ১৪ দফার মেমোটি মূলত যুদ্ধ অবসানের একটি প্রাথমিক কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে। এটি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে পরবর্তী ধাপে আলোচনা চলবে। অ্যাক্সিওস আরও উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া আশা করছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি সই হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ এবং অগ্রসর পর্যায়ের আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ উত্তেজনা কমাবে না, বরং অস্থিতিশীল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এখন পুরো বিশ্বের নজর আগামী ৪৮ ঘণ্টার ওপর, যা নির্ধারণ করতে পারে এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
/আশিক
অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেবে নবগঠিত বিজেপি সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে চায়। মূলত সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। বিজেপি নেতাদের মতে, রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথ অভিযান চালাতে সক্ষম হবে, যা সীমান্ত জেলাগুলোর জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন রোধে সহায়ক হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলটি ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার নিয়ে তৃণমূল ও কেন্দ্রের মধ্যে তুমুল বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালে বিএসএফ-এর কার্যপরিধি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বাস্তবায়নে মমতা ব্যানার্জির সরকারের তীব্র বাধার মুখে পড়েছিল মোদি সরকার। এছাড়া খাগড়াগড় ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর তদন্তেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের ফলে এখন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে দিল্লি-কলকাতা একযোগে কাজ করতে পারবে।
/আশিক
এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘ইলদিরিমহান’ উন্মোচন করেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার (৫ মে) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রকাশ্যে আনা হয়। তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ইলদিরিমহান’ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার, যার ফলে এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিশাল অংশ জুড়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর গতিবেগ সর্বোচ্চ ম্যাক ২৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে যা একে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রে পরিণত করেছে।
চারটি রকেট ইঞ্জিন সম্বলিত এই প্ল্যাটফর্মে জ্বালানি হিসেবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন, বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে প্রতিরক্ষা খাতে অভাবনীয় স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। ‘সাহা ২০২৬’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের সামনে তাদের কারিগরি শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যকেই তুলে ধরেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং একটি টেকসই সমঝোতার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ বুধবার (৬ মে) সকালে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আকস্মিক ঘোষণা দেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ বা ব্লকড আগের মতোই পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। মূলত প্রস্তাবিত চুক্তিটি চূড়ান্ত করা এবং এতে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী এই সামরিক বিরতি নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার থেকে হরমুজে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধারে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যাকে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে কঠোর প্রতিরোধের হুমকি দিয়েছিল।
/আশিক
যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলটি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময়ে আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে সেখানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রতিরোধের ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে একজন সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, কোনো জ্বালানি স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। বরং বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও তাদের ‘দুঃসাহসিক’ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো নাশকতামূলক ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর আক্রমণ চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ পাহারায় পার করে দিচ্ছে। এ সময় তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করায় বেশ কয়েকটি ইরানি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন এক মহাযুদ্ধের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে কিছুটা নমনীয়তার সুর শোনা গেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না। যুদ্ধ এড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও জানান যে, এই সংকট নিরসনে বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে এবং সেই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বার্থে কোনো প্রকার আঘাত এলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফক্স নিউজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ওই অঞ্চলে চলমান মার্কিন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতাধীন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার বিষয়ে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, বিগত কয়েক বছরে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বিশ্বের সেরা সক্ষমতার অধিকারী।
ইরান থেকে আসতে পারে এমন যেকোনো হুমকি রুখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সাগরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র পথ হলো শক্তিশালী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট জানান, মার্কিন রণতরি এবং কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামগুলো ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন পড়লে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
কঠোর হুমকির পাশাপাশি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নিজ ধারণা ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, ক্রমাগত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তেহরান এখন আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই চাপের কারণেই হয়তো ইরান এখন শান্তি আলোচনার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার পথ খোলা রাখার অর্থ এই নয় যে কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকির জবাবে ইরান পাল্টা কোনো সামরিক মহড়া বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না।
সূত্র: আলজাজিরা
মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ছয়টি ছোট যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইরান এর আগেই দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এই উত্তেজনার খবরটি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ নৌ অভিযান শুরু করার পর ইরান তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় মুক্ত করতেই ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ।
বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি মার্কিন অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। কুপারের ভাষ্যমতে, আইআরজিসি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন পাহারায় থাকা জাহাজগুলোতে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নস্যাৎ হয়ে যায়।
এই বিশাল সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ হাজার সেনা, নৌবাহিনীর শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ডুবো সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে সেই জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। একই সাথে তিনি সাতটি ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার দাবিও করেন।
বিপরীত দিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেনি এবং ইরানি নৌযান ধ্বংস হওয়ার খবরটিও তারা অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন বাহিনী প্রণালিটি সচল করতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথমে সমুদ্রের মাইন অপসারণ করে পথ নিরাপদ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সেই পথ দিয়ে সফলভাবে পার করা হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে তেল ও এলপিজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়ে থাকে। অ্যাডমিরাল কুপার জানিয়েছেন, ইরানের হুমকির মুখে বর্তমানে অন্তত ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যাতায়াত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
/আশিক
মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, এক সময় বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনী কৌশলে অতিরিক্তভাবে আই-প্যাকের ওপর নির্ভরতা।
অতীতে এই সংস্থার পরিকল্পনা দলকে সুবিধা দিলেও, এবার কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এছাড়া মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাঙনও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও অন্যান্য ছোট দলের উত্থানে তা বিভক্ত হয়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলে পড়ে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক বছরে দলটি নীরবে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে এবং এবারের নির্বাচনে বহিরাগত নেতাদের বদলে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা গেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘ভুয়া’ ও ‘বহিরাগত’ ভোটার বাদ পড়াও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সীমান্তসংক্রান্ত নানা ইস্যুতে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? ধারণা করা হচ্ছে, যদি শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পান, তাহলে তিনি এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- হয়রানি করলে ছাড় নয়! জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের
- ৪৮ দলের মেগা বিশ্বকাপ: সব ম্যাচ দেখার বিনিময়ে লাখপতি হওয়ার সুযোগ
- কুয়ালালামপুরে চিকিৎসায় বড় উন্নতি, দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস
- ২৭ না কি ২৮ মে? কোরবানির ঈদ নিয়ে যা জানাল বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া দপ্তর
- মৃত্যুর ১৭ বছর পরও বিশ্ব সংগীতের রাজা মাইকেল জ্যাকসনই!
- বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত
- লন্ডনের রাস্তায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন পাপন! ভাইরাল ছবিতে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়
- ৬০০ বার হামলা চালায় ইরান ইরাকে মার্কিন স্থাপনায়
- কালিগঞ্জে বসতবাড়ির যাতায়াত পথ বন্ধ: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পরিবার
- মৌলভীবাজারে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- পায়ে ধরে ইজ্জত ভিক্ষা চেয়েও রক্ষা পাইনি: কুমিল্লায় গৃহবধূর পৈশাচিক আর্তনাদ
- পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর সীমান্ত সিল! বিজিবি-কে কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- তেলের পর বিদ্যুৎ! ভর্তুকি সামাল দিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি
- ফের ৯ শতাংশ পার মূল্যস্ফীতি, দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ
- একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, বড় সুখবর দিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি! ইরান-আমেরিকার আলোচনায় বড় মোড়
- ৬ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৬ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নির্ধারিত স্থান ছাড়া বসবে না পশুর হাট: প্রতিমন্ত্রী
- অনিদ্রায় ভুগছেন? এই ৫টি অভ্যাস বদলে দেবে আপনার জীবন
- অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা
- এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’
- স্বর্ণের পর এবার রুপার দামে বড় লাফ! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- ২৪ ডিগ্রি না কি ২৬ ডিগ্রি? কোন তাপমাত্রায় এসি চালালে বিদ্যুৎ বিল কমবে
- রাহুল গান্ধীর সমর্থন পেলেন থালাপতি বিজয়: বদলে যাচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজনীতির রঙ
- দ্বিগুণ হতে পারে সরকারি চাকুরের বেতন, যা আছে নতুন সুপারিশে
- ধর্মপুর-ঝাগুরজুলি সড়কের বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে কুমিল্লাবাসী
- বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা এডুকেশন হাব: শিক্ষামন্ত্রী
- মেয়র হতে চান নীলা ইসরাফিল: ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মুখ
- পরাজয় অস্বীকার মমতার: ভোট লুটের অভিযোগ উড়িয়ে যা জানাল কমিশন
- আমাদের আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব: ইরানের প্রেসিডেন্ট
- যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি!
- মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?
- আজ ঢাকার আবহাওয়া যেমন থাকতে পারে
- ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় মিলবে এক ভরি স্বর্ণ, জানুন বিস্তারিত
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজকের বন্ধ মার্কেট তালিকা
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট আজকের ক্রীড়ারাত, জানুন সূচী
- আজ রাতে আকাশের খেলা: হ্যালির ধূমকেতুর ছোঁয়ায় দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির!
- কেমন পশু কিনলে কুরবানি শুদ্ধ হবে না? শরিয়তের কড়া নির্দেশনা দেখে নিন
- রাতেই ধেয়ে আসছে ৬০ কিমি বেগে ঝড়: ১১ অঞ্চলে আবহাওয়া অফিসের জরুরি বার্তা
- ইতিহাসে সেরা নির্বাচন! সেনাপ্রধানের কণ্ঠে অসামরিক প্রশাসনের জয়গান
- বাড়ি ফিরতে দুশ্চিন্তা শেষ! দেখে নিন আপনার রুটের ঈদ স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী
- পুলিশে বড় রদবদল: চট্টগ্রামের নতুন এসপি আলোচিত মাসুদ আলম
- টাকা নষ্টের মেগা প্রকল্প আর নয়: সেতুমন্ত্রী
- অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে অপরাধ বেড়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- মুরাদনগরে পুলিশের অ্যাকশন: ২ কেজি গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরা দুই ভাই!
- কেরালার রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন ৩৪ বছরের মুসলিম তরুণী ফাতিমা তাহিলিয়া
- সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ঢাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কাঁকশিয়ালী’-র নতুন কমিটি গঠন
- স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ল দাম
- সংসদের ১ম অধিবেশনের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিনির্ধারণী সমাপনী বক্তব্য, হুবহু পড়ুন
- বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- যুদ্ধবিরতিতে গোপনে অস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান?
- শুক্রবারের নামাজের পূর্ণ সময়সূচি প্রকাশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জানুন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সঠিক সময়
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত
- যুদ্ধ শেষ নয়, ইরান হামলার ছক এখনো টেবিলে
- ক্রিকেটে ঠাসা সূচি; বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ ও আইপিএলের উত্তাপ আজ
- কালিগঞ্জে বসতবাড়ির যাতায়াত পথ বন্ধ: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পরিবার
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রাতজুড়ে ক্রিকেট উত্তেজনা, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন জানুন সূচী








