যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:০৫:২০
যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তেহরান-ভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলতে সক্ষম ইরান।

প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই সমরকৌশল নতুন না হলেও এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা লক্ষণীয়। তেহরানের লক্ষ্য সরাসরি সামরিক বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের ব্যয়ভারকে ‘অসহনীয়’ করে তোলা। ইরানের এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আঘাত সহ্য করেও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই ‘বিজয়’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের যুদ্ধলক্ষ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। এই ভিন্নধর্মী মানদণ্ডের কারণে এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সামরিকভাবে পঙ্গু হয়েও অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারবে। তবে আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার কোনো ভিত্তি থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত এবং শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতেই ইরান এমন বয়ান তৈরি করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ইরানের প্রক্সি সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার ক্ষমতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এই সক্ষমতাই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে রেখেছে, যা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বাংলাদেশ–পাকিস্তান জোট প্রশ্নে সতর্ক ভারতের সংসদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৮:৫৮:৩৪
বাংলাদেশ–পাকিস্তান জোট প্রশ্নে সতর্ক ভারতের সংসদ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা–এ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশসংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে সেগুলোর লিখিত উত্তর সংসদে পাঠ করে শোনান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এ তথ্য জানিয়েছে NDTV।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কি কোনো স্পর্শকাতর পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিকে কি পাকিস্তান কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে পারে, যা ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর, বহুমাত্রিক এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের ভিত্তি কেবল কূটনৈতিক নয়; বরং ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সাদৃশ্য এবং সামাজিক যোগাযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক, আলোচনা ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান এই সম্পর্কের কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হয়।

সংসদে আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, এই বিষয়টি ভারত সরকার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরে আসছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়সহ সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকগুলোতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন–এর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

এ ছাড়া সংসদে ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠ জোট’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি বলেন, ভারত সরকার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ভারতের সঙ্গে যেসব দেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, তাদের নীতিগত অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্কও নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে প্রতিবেশী’ নীতির আলোকে ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখছে। একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

-রাফসান


বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, ভূরাজনীতি নাকি চাহিদাই কারণ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১২:৫৩:৩৬
বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন, ভূরাজনীতি নাকি চাহিদাই কারণ?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ ঘিরে আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও নিম্নমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এর ফলে টানা কয়েক সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী চাপ কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দরপতনের পথে রয়েছে বৈশ্বিক তেলবাজার। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীভূত হয়েছে ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে।

বার্তাসংস্থা Reuters–এর সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ০৫ ডলারে। এর আগের সেশনে এই তেলের দাম একদিনেই প্রায় ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। একই দিনে মার্কিন বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দর ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই দুই প্রধান তেল সূচক ধারাবাহিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর তেলের দাম সাময়িকভাবে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে তা দ্রুতই ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করলেও আঞ্চলিক শক্তিগুলো বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয়। এই বাস্তবতায় শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত বাজারে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত থাকলে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমবে।

বিশ্ব তেলবাজারে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত কৌশলগত একটি নৌপথ। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোও তাদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠায়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমার যেকোনো ইঙ্গিত সরাসরি তেলের দামে প্রতিফলিত হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা Capital Economics–এর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম বাড়াতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের মূল নিয়ামক হবে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাজাখস্তানে তেল উৎপাদন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে এলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি আপাতত কিছুটা কমে আসায় তেলবাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলাচ্ছে। এখন বাজারের ভবিষ্যৎ গতি অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর।

-রফিক


নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ২১:১১:৩৫
নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?
ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিশ্বশান্তির সর্বশেষ রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির আনুষ্ঠানিক মৃত্যু হচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবসান ঘটল। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর আর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি নিয়ন্ত্রণ থাকছে না, যা বিশ্বকে এক অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০১০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই চুক্তিতে সই করেছিলেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েন রাখতে পারত। ২০২১ সালে এর মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানো হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আজ তা চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে গেল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ব্যাপারে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অবসান শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এতে চীনও যুক্ত হয়ে একটি ত্রিমুখী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে দেবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল এই পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক মোড়চিহ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, গত ৩৫ বছরে এই প্রথম দুই দেশ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর আইনি সুযোগ পেল। অন্যদিকে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা এবং নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ মানতে বেইজিংয়ের অস্বীকৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প রাশিয়া ও চীনকে চরম উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গত ২৭ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি দেশটির আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গোল্ডেন ডোমের জবাবে রাশিয়া ও চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে পাল্টা হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। ফলে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা এখন এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।


শুল্ক ছাড়াই বিদেশ থেকে কত স্বর্ণ আনতে পারবেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৪:৩৭:২৭
শুল্ক ছাড়াই বিদেশ থেকে কত স্বর্ণ আনতে পারবেন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও কৌতূহল দুই-ই বাড়ছে। বর্তমানে এক ভরি স্বর্ণের দাম আড়াই লাখ টাকা অতিক্রম করায় স্বর্ণ কেনাবেচা ও আমদানি সংক্রান্ত বিধান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত যাত্রীদের জন্য শুল্কমুক্ত স্বর্ণ আনার সুযোগ অনেকের কাছেই বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।

চলতি অর্থবছর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা হালনাগাদ ব্যাগেজ বিধিমালার আওতায় বিদেশ থেকে স্বর্ণের অলংকার ও স্বর্ণের বার আনার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ কিংবা অন্যান্য বিদেশি গন্তব্য থেকে দেশে ফেরার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ শুল্ক ছাড়াই আনা যাবে।

নতুন অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী, একজন বিদেশফেরত যাত্রী বছরে একবার কোনো শুল্ক বা কর ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার দেশে আনতে পারবেন। এই পরিমাণ স্বর্ণের ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৮ ভরি ১০ আনা। অর্থাৎ এই সীমার মধ্যে থাকলে যাত্রীকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না।

একই বিধিমালায় রুপার অলংকার আনার ক্ষেত্রেও ছাড় নির্ধারণ করা হয়েছে। শুল্ক ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০০ গ্রাম রুপার অলংকার দেশে আনার অনুমতি রয়েছে। তবে স্বর্ণ কিংবা রুপা যাই হোক না কেন, একই ধরনের অলংকার ১২টির বেশি আনা যাবে না বলে বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

শুধু অলংকার নয়, নির্দিষ্ট শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে স্বর্ণের বার আনার সুযোগও রাখা হয়েছে। একজন যাত্রী বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০ তোলা ওজনের একটি সোনার বার আনতে পারবেন, যার জন্য তোলাপ্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ‘ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম’ পূরণ করতে হয়। এতে যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ফ্লাইটের তথ্য, আগমনের দেশ এবং সঙ্গে আনা পণ্যের বিবরণ উল্লেখ করতে হয়। তবে যদি আনা স্বর্ণের অলংকার ১০০ গ্রাম এবং রুপার অলংকার ২০০ গ্রামের কম হয়, সে ক্ষেত্রে এই ফরম পূরণের প্রয়োজন নেই।

নির্ধারিত সীমার মধ্যে পণ্য থাকলে যাত্রীরা বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল ব্যবহার করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই বের হয়ে যেতে পারবেন। তবে সীমা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত অংশের জন্য প্রযোজ্য শুল্ক দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে সরাসরি স্বর্ণ আমদানি সীমিত হওয়ায় ব্যাগেজ রুলসের আওতায় আসা স্বর্ণই বর্তমানে দেশের বাজারে সরবরাহের বড় উৎসে পরিণত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি কয়েক হাজার টাকা বেশি থাকে।

এর পাশাপাশি করোনা পরবর্তী সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

-রাফসান


ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক কাঠামো

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১২:৩৫:২০
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক কাঠামো
ছবি: আল জাজিরা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের একটি সীমিত সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশকে একটি প্রস্তাবিত কাঠামো উপস্থাপন করেছে, যার মূল লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো।

আল জাজিরাকে দেওয়া একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এই কাঠামোর আওতায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে বলা হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় এই নীতিগত কাঠামোই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হবে।

সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ইরান আগামী তিন বছর সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে। পরবর্তী পর্যায়ে দেশটি সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সম্মত হবে। বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যার একটি বড় অংশ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ, তা একটি তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই কাঠামো শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যস্থতাকারীরা প্রস্তাব করেছেন, ইরান যেন তাদের আঞ্চলিক অ-রাষ্ট্রীয় মিত্রদের কাছে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করে। পাশাপাশি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম ব্যবহার না করার অঙ্গীকারও করতে বলা হয়েছে, যদিও এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ দাবির তুলনায় তুলনামূলকভাবে সীমিত।

এ ছাড়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য “নন-অ্যাগ্রেশন এগ্রিমেন্ট” বা আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির ধারণাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত উভয় পক্ষ এই কাঠামোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আলাদা এক সূত্র জানায়, আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পূর্বে তুরস্কে বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনাটি ওমানে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্র।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে আসছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় থমথমে। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব সাগরে মার্কিন নৌবহর ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের নির্দেশ দেন। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনায় প্রবেশ করছে শক্ত অবস্থান থেকে। আরব সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট সামরিক বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও সহিংস দমন-পীড়ন দেশটিকে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখেও ফেলেছে।

তবুও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের কারণে তেহরান এই আলোচনায় কতটা ছাড় দেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই ১৯৮০ সাল থেকে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করেছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

এরপর থেকেই ইরান ধাপে ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করেছে। গত বছরের ইসরায়েল–ইরান ১২ দিনের যুদ্ধে কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হওয়ায় বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড–এর একটি ড্রোন ভূপাতিত করে, যা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন–এর কাছাকাছি চলে এসেছিল। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানির অভিযোগও তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: আল জাজিরা


নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১২:১৯:৪০
নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে মাটির গভীরে নির্মিত আরও একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করেছে। বুধবার দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির অস্তিত্ব জানায়।

ঘাঁটিটি পরিদর্শনে যান ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস ফোর্সের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি। পরিদর্শনকালে তারা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, পরিচালন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক যুদ্ধ প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। এ সময় বাহিনীর একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জানান, সম্ভাব্য যে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরান এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের সামরিক কৌশলে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আক্রমণাত্মক রণকৌশলের দিকে অগ্রসর হয়েছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া, বৃহৎ পরিসরের অভিযান পরিচালনা এবং অসম যুদ্ধ কৌশলকে কেন্দ্র করেই নতুন সামরিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই ঘোষণার মধ্যেই ইরানের আশপাশের জলসীমা ও আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, নজরদারি ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত রয়েছে, তবুও আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তাই অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে সেটি শুধু দ্বিপাক্ষিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

-রফিক


অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:০০:৩৬
অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন গেমের নেশা কীভাবে একটি সাজানো সংসার নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। রাজ্যের গাজিয়াবাদের 'ভারত সিটি' আবাসন কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতরা হলো—বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। এই মর্মান্তিক পরিণতির আগে তারা একটি ডায়েরিতে আট পৃষ্ঠার দীর্ঘ সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছে, যার শেষে লেখা ছিল, "আমি সত্যিই দুঃখিত, স্যরি পাপা।"

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনই অনলাইন গেমে প্রচণ্ড আসক্ত ছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের এই আসক্তি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। গেমের প্রতি এই নেশার কারণে তারা গত দুই বছর ধরে স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা একটি 'কোরিয়ান লাভ গেম' এবং কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি এতটাই আচ্ছন্ন ছিল যে, তারা নিজেদের কোরীয় নামও রেখেছিল। তাদের মা-বাবা যখন তাদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দেন এবং গেম খেলা বন্ধের চেষ্টা করেন, তখন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয় গেম খেলতে না পারার ক্ষোভ থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের বাসার বারান্দার দরজা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে জানালা দিয়ে একে একে নিচে লাফিয়ে পড়ে। তাদের আর্তচিৎকার এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার বিকট শব্দে মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। মা-বাবা বারান্দার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ তাদের ঘর থেকে যে আট পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, সেখানে তাদের গেমিং এবং মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল। নোটের এক জায়গায় আঁকা ছিল একটি কান্নার ইমোজি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বোনের বাবা চেতন কুমার দুই স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এক স্ত্রীর এবং অন্যজন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ছিল। তারা মেজ বোন প্রাচীর নেতৃত্বেই সব কাজ করত। বুধবার সকালে আবাসন কমপ্লেক্সের নিচে তিন মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বিহ্বল মা এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অনলাইন গেমের ভয়াবহতা নিয়ে এই ঘটনাটি এখন ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


রাশিয়ার তেল ছাড়ছে ভারত! ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৭:৩০:১৩
রাশিয়ার তেল ছাড়ছে ভারত! ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে এই দাবি নিয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারা জানিয়েছে যে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সংকেত পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান যে, ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি বড় পদক্ষেপ হবে, কারণ এতে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেক কমে আসবে। যদিও গত বছরও ট্রাম্প এই ধরনের দাবি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মস্কো এবং নয়াদিল্লির মধ্যে যে ‘উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ রয়েছে, তা রাশিয়ার কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি রাশিয়ার সম্মান থাকলেও মস্কো ভারতের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা এবং ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ভারত সরকার বরাবরই এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করে আসছে। গত বছরের ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় তিনি মার্কিন চাপের মুখেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের এই নতুন দাবি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।


১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৪:২৭:০২
১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ চলাকালীনই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হঠাৎ করেই ঘোষণা দেয়, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। এই ঘোষণার পরপরই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ক্রিকেট সূচি ও প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত শুধু পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েই দ্রুত আলোচনা শুরু হয় ক্রীড়াঙ্গনে। বিশেষ করে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেয়েদের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। কারণ টুর্নামেন্টের পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংককে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের নারী ‘এ’ দলের।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মূল জাতীয় দলের ম্যাচটি যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে মেয়েদের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে দুই দেশের ‘এ’ দলের ম্যাচ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা সূচি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ক্রিকেটে এই দ্বৈরথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই আপাতত জোরালো।

ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ‘এ’ দলের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা আসার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের নারী ‘এ’ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড প্রকাশ করে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নারী ক্রিকেটের সূচি নিয়ে পিসিবি এখনো কোনো পিছু হটার অবস্থানে নেই।

এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান নারী ‘এ’ দলের সঙ্গে রয়েছে ভারত নারী ‘এ’ দল ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও সূচি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে আয়োজকরা আপাতত কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ বর্জনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব নারী ‘এ’ দলের ম্যাচে পড়ছে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটকে অনেক সময় আলাদা প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় বিবেচনা করা হয়, যার ফলেই এই ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের কারণে পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়টি এখনো পুরোপুরি গুঞ্জন পর্যায়েই রয়েছে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত International Cricket Council কোনো জরুরি বোর্ড সভা আহ্বান করেনি কিংবা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথ আবারও কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং রাজনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। সামনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্ব।

-রফিক

পাঠকের মতামত: