ভোটের পরেই বিদায়! মেয়াদের ধোঁয়াশা কাটিয়ে সময় জানাল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা আগামী ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। যদি নির্বাচনের তিন দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা (এমপি) শপথ গ্রহণ করেন, তবে এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আমাদের ধারণা, এটি ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে। কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়া ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাওয়ার কথা নয়।” তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি ব্যাখ্যা আইন মন্ত্রণালয় এবং আইন উপদেষ্টা প্রদান করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করা হয়। উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার অভিযোগ করেন যে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পর আরও ১৮০ দিন ক্ষমতা ধরে রাখবে’—এমন একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য অসৎ ও উদ্দেশ্যমূলক। সরকার প্রথম থেকেই জনগণকে নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যারাই নির্বাচিত হবেন, তাঁদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার তুলে দিয়ে সরকার দায়িত্ব থেকে সরে যাবে। এ নিয়ে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ নেই।”
১৮০ কার্যদিবসের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার আরও জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সমান্তরালভাবে ১৮০ কার্যদিবস ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এর আগেও বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নিলেও সংসদ সদস্যরা নির্দিষ্ট মেয়াদে সংবিধান সংস্কারের বিশেষ কাজে যুক্ত থাকবেন। সরকারের এই ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনের পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করা হলো।
সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় টহলের অনুমতি: ইতিহাসে এই প্রথম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেনাবাহিনী। প্রথমবারের মতো নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের একেবারে আঙিনা পর্যন্ত সেনাসদস্যরা টহল দেবেন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন এ ঘোষণা দেন।
সেনা সদর দপ্তর জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন জানান, বিগত নির্বাচনগুলোতে সাধারণত ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন থাকত এবং তাঁরা মূলত ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে দূরে অবস্থান করতেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভোটারদের আতঙ্ক দূর করতে এবং নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় টহল দেওয়ার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি থেকেই এই বর্ধিত সেনা মোতায়েন কার্যকর রয়েছে এবং নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সদস্যকে ব্যারাকে রেখে বাকি প্রায় সব সদস্যকে ভোটের মাঠে নিয়োজিত করেছেন। যানবাহনের কিছুটা অপ্রতুলতা থাকলেও অসামরিক প্রশাসনের সহায়তা এবং প্রয়োজনে বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করে টহল কার্যক্রম জোরদার রাখা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর বলেন, “সেনাসদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যে—ভোটারদের আস্থার জায়গাটি শক্ত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী পুরো নির্বাচনী সময়জুড়ে পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানে সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
পবিত্র রমজানে নতুন অফিস সময় নির্ধারণ
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্ব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস কার্যক্রম সকাল ৯টায় শুরু হবে এবং শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে ব্যাংক, বিমা, সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব সুবিধা ও বিধিবিধান অনুযায়ী অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবে।
উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের রমজান মাস আগামী ১৯ বা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। প্রতি বছর রমজান মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিয়াম সাধনা ও ইবাদতের সুবিধার্থে সরকারের পক্ষ থেকে এভাবে কর্মঘণ্টা পুনর্বিন্যাস করা হয়। আজকের বৈঠকে এই সময়সূচি অনুমোদনের মাধ্যমে রমজান মাসের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হলো।
সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে? আইনি ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে দুটি প্রধান বিকল্প বা অপশন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ পাঠ করানোর কোনো সুযোগ বা স্কোপ বর্তমানে নেই। আইন উপদেষ্টার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণা হওয়ার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে যদি নবনির্বাচিতদের শপথ পড়াতে হয়, তবে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধান বিচারপতি যদি রাজি থাকেন, তবে তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
অন্যদিকে, যদি কোনো অনিবার্য কারণে নির্বাচনের পর প্রথম তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করানো সম্ভব না হয়, তবে এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারবেন বলেও জানান আইন উপদেষ্টা। তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই সংসদের কার্যকারিতা শুরু করতে শপথ গ্রহণের এই আইনি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের আইনি ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা দূর হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশের ভেতর ও বাইরে সমান তালে ভোট: পোস্টাল ব্যালটে নতুন রেকর্ডের হাতছানি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো ভোটগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পোস্টাল ব্যালটে নতুন রেকর্ডের হাতছানিসালীম আহমাদ খান জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের ঠিকানায় মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন প্রবাসী তাঁদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন ইতোমধ্যে নিজ নিজ ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ জন প্রবাসী তাঁদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।
বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত (আইসিপিভি) ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের ভেতরে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ জন ভোটার তাঁদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২ লাখ ১১ হাজার ১২২ জন ভোট দিয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৯ জন তাঁদের পূরণকৃত ব্যালট ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট হাতে পেয়েছেন।
প্রকল্পের টিম লিডার আরও জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধন্যবাদ পাকিস্তান! বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপদেষ্টার
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পাকিস্তানের এই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ড. আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাহবাজ শরিফ বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছেন—খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয় এবং খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘একেবারেই যথাযথ এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত বিশ্বকাপের ম্যাচ বর্জনের এই ঘোষণা দেন। ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তান খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না, কারণ খেলার মাঠে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো।"
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ক্রীড়া বিশ্বে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার তরফ থেকে সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো ভূ-রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে পাকিস্তানের এই বয়কট সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে সঠিক।
জনগণ কি ভোট দিতে যাবে? দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় বাড়ছে শঙ্কা
বাংলাদেশের তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, জনমনে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি গভীর উৎকণ্ঠা ও ভীতিও সমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার বঞ্চিত দেশের নাগরিকরা এবার ভোট দিতে উন্মুখ হলেও নির্বাচনি প্রচারণায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এই আগ্রহকে ম্লান করে দিচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনের সামনে সবচেয়ে বড় শঙ্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ভোটারদের মধ্যে যেমন আগ্রহ আছে, তেমনি আছে উৎকণ্ঠা আর ভীতি, কারণ নির্বাচনি প্রচারণার পর থেকে সারা দেশে সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং ভোটের দিন পরিবেশ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন না, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব উন্নয়ন সহযোগী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চেয়েছে এবং তাদের মতে ভোটারদের উপস্থিতিই হলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাপকাঠি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেবেন, কিন্তু দলের অনুগত নন এমন সাধারণ নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন কি না, তা সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫৩ দিনে অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৯টা পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ ১৬টি, প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলা ১৫টি, ৫টি হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ৩টি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, প্রচার কার্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ২৯টি, নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১৭টি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার একটি ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৩০টি সহিংসতায় ১১৫ জন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪১৪টি সহিংসতায় ২২ জন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৫৩৪টি সহিংসতায় ছয়জন নিহত হয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে প্রতি নির্বাচনেই প্রচুর সংঘাত ও আহতের ঘটনা ঘটছে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিসেম্বরে দেশে ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হলেও জানুয়ারিতে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে এবং মোট ৭৫টি সহিংসতার ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৬১৬ জন আহত হন। জানুয়ারি মাসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮টি ঘটনায় ৫ জন নিহত, ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার পর মাত্র ১১ দিনে ৪৯টি ভয়ংকর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যাতে ৪ জন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠতে না পারায় এবং জনগণকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচনের ঠিক আগে র্যাবের নাম পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঘোষণা করেন যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম বদলে এখন থেকে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) রাখা হচ্ছে এবং বাহিনীর পোশাক ও কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।
নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই ধরনের ঘোষণা এলিট বাহিনীর সদস্যদের আরও গুটিয়ে নিতে বাধ্য করতে পারে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে জনগণের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী এবং গত ৩ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও ঘোষণা করেছেন যে নির্বাচনের দিন যারা ভোটারদের বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর অ্যাকশন নেবে এবং অপরাধী আইনের অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে জয়ী হয়ে ক্ষমতা দখলের মানসিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং ভোটাররা যেন স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ভোটারবিহীন সহিংস নির্বাচন দেশ ও গণতন্ত্রের উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সোর্স: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নির্বাচনের আগে ১ হাজার কোটির বাস কেনার তোড়জোড়
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবসের ঠিক আগে ১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪০টি সিএনজি এসি বাস কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে এই মেগা প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের তোড়জোড়কে অনেকেই ‘বিদায়ী উপহার’ বা তড়িঘড়ি করা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
বাস কেনার প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান স্থিতি বিআরটিসির জন্য ৩৪০টি সিএনজিচালিত সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস সংগ্রহের এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৮২৯ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ (EDCF) থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়ার কথা। দীর্ঘ আড়াই বছর প্রশাসনিক জটিলতা ও দরপত্র নথি নিয়ে ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে টানাপোড়েনের পর হঠাৎ করে গত ১ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী সরকারের শেষ সময়ে সাধারণত বড় কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় না, তবে আগামী রোববারের মধ্যে এই দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দরপত্রের শর্ত ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, দরপত্রের কিছু শর্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে
দরদাতার গত ২০ বছরে অন্তত ৩৪০টি সিএনজি বাস রপ্তানির অভিজ্ঞতা থাকার শর্তটি অনেক বড় কোম্পানিকেও প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।
শুরুতে বাসগুলো কোরিয়ায় নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন শর্ত শিথিল করে বলা হয়েছে যে কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোরীয় হলেই চলবে, বাস অন্য দেশে তৈরি হলেও সমস্যা নেই। এতে মান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিটি বাসের গড় দাম পড়ছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা সাধারণ এসি বাসের বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআরটিসি ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বিআরটিসি চেয়ারম্যানের মতে, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এতে কোনো শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। পুরো টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও ৪৫-৬০ দিন সময় লাগবে বিধায় বর্তমান সরকারের আমলে এটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামছুল হক কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন যে, বিআরটিসির বাস রাখার জায়গা নেই, ঢাকার রাস্তা দখল করে তারা বাস রাখে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ১ হাজার কোটির বাস কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরনের ভীতি কাজ করছে না এবং তথাকথিত 'মব ভায়োলেন্স' বলে এখন আর কিছু নেই। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি অশোভন আচরণ করেন বা আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করেন, তবে সামাজিক ও আইনিভাবে তাঁদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রার্থী সীমা লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ ছাড়া অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিসহ রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের উস্কানি বা অপতৎপরতা রুখে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট সংক্রান্ত সব তথ্য মিলবে হেল্পলাইনে, জানুন কিভাবে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নাগরিকদের জন্য সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর সহযোগিতায় এবং এটুআই কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩–এর মাধ্যমে একটি বিশেষ নির্বাচন তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করে টোল ফ্রি নম্বর ৩৩৩-এ কল করে ৯ প্রেস করলে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাবে।
এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া, নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি এবং প্রবাসী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা, নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে। ফলে ভোটারদের জন্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে ৩৩৩।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত Smart Election Management BD এবং Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কেও হেল্পলাইনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যা ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ জন নাগরিক নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন।
একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবেও ৩৩৩-এর ৯ নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই সেবা সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না। বরং এটি একটি “Information Intake, Early Warning & Forwarding System” হিসেবে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- ভোটের পরেই বিদায়! মেয়াদের ধোঁয়াশা কাটিয়ে সময় জানাল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
- জামায়াত বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা মুনাফেক দল: মির্জা ফখরুল
- মহাকাশ থেকে আসা ৪৪ মিনিটের সেই ছন্দ: নতুন কোনো গ্রহ না কি এলিয়েন সংকেত?
- নিষেধাজ্ঞাহীন পরমাণু বিশ্ব: শুরু হচ্ছে নতুন মহাবিপদ, পরিণতি কী?
- নির্বাচনের মুখে সাইবার যুদ্ধ! মুফতি আমির হামজার ফেসবুক পেজ গায়েব
- জামায়াতকে ইসলামী দল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: চরমোনাইর পীর
- ইউনূসকে বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা: মির্জা আব্বাস
- অচল বন্দর, সচল ষড়যন্ত্র? পণ্যবাহী জাহাজের কবরে পরিণত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর
- সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় টহলের অনুমতি: ইতিহাসে এই প্রথম
- আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে যারা থাকেনি, আজ তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র: রিজভী
- কুমিল্লা-৩ আসনের কায়কোবাদের বড় জয়: জামায়াত প্রার্থীর রিট খারিজ
- পবিত্র রমজানে নতুন অফিস সময় নির্ধারণ
- সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে? আইনি ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল
- ঐক্যের ডাক দিয়ে কুমিল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী
- ডিএসইতে আজকার বাজারচিত্র এক নজরে
- ডিএসইতে আজ শীর্ষ ১০ দরপতনকারী শেয়ার
- ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- চড়া দামে মোস্তাফিজকে দলে নিল লাহোর কালান্দার্স
- শুল্ক ছাড়াই বিদেশ থেকে কত স্বর্ণ আনতে পারবেন
- আবেগ নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জামায়াতের নারী শ্রমনীতি কেন আত্মঘাতী
- ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক কাঠামো
- নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান
- দেশের ভেতর ও বাইরে সমান তালে ভোট: পোস্টাল ব্যালটে নতুন রেকর্ডের হাতছানি
- মার্কা নয়, মানুষ দেখে ভোট হবে: রুমিন ফারহানা
- সর্দি-কাশিতে অব্যর্থ সমাধান আদা চা: জেনে নিন এর জাদুকরী উপকারিতা
- জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতারা
- নতুন মহামারির আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা
- রুক্ষ ত্বকের প্রাণ ফেরাতে জাদুকরী দই: জেনে নিন ৩টি বিশেষ ফেসপ্যাক
- ধন্যবাদ পাকিস্তান! বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপদেষ্টার
- চট্টগ্রাম বন্দরে ভূতুড়ে নীরবতা: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি
- জনগণ কি ভোট দিতে যাবে? দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় বাড়ছে শঙ্কা
- জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
- একদিনে ২ বার দাম বৃদ্ধি! নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল স্বর্ণের বাজার
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সাবধান:আজ ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজ থেকে ২১ ঘণ্টা গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে যেসব এলাকায়: জেনে নিন তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন কখন কোন ওয়াক্তের শুরু
- নির্বাচনের আগে ১ হাজার কোটির বাস কেনার তোড়জোড়
- ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরবঙ্গের ৩ জেলা সফরে তারেক রহমান
- আইসিসি অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! বিশ্বকাপ শুরুর আগে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব
- জাহানারা আলমের ২ অভিযোগে সত্যতা পেল বিসিবির তদন্ত কমিটি
- নেতার আগে জনতা, এমন এক বাংলাদেশ উপহার দেবে বিএনপি: ডা. জুবাইদা
- জামায়াতের জনতার ইশতেহার প্রকাশ: ২৬ বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার
- জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ: নাসীরুদ্দীন
- নেপালকে উড়িয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
- অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন
- জামায়াতের সাথে কেন জোট ভাঙল? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন রেজাউল করীম
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবেই, কারো রক্তচক্ষু মানি না: জামায়াত আমির
- নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- বাজুসের নতুন রেকর্ড: ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- আবেগ নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জামায়াতের নারী শ্রমনীতি কেন আত্মঘাতী
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না








