ধন্যবাদ পাকিস্তান! বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানানোয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপদেষ্টার

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পাকিস্তানের এই অবস্থানকে স্বাগত জানান এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ড. আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, "ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁর দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাহবাজ শরিফ বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়েছেন—খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয় এবং খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘একেবারেই যথাযথ এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত বিশ্বকাপের ম্যাচ বর্জনের এই ঘোষণা দেন। ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তান খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না, কারণ খেলার মাঠে রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো।"
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ক্রীড়া বিশ্বে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার তরফ থেকে সেই পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো ভূ-রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদে পাকিস্তানের এই বয়কট সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে সঠিক।
৫ আগস্ট বিজয়ের দিন, ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য '৫ আগস্ট' এক আনন্দ ও বিজয়ের দিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে এটিকে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, দেড় দশকের বেশি সময়ের 'ফ্যাসিবাদী শাসনের' অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নিপীড়ন ভোগ করতে হয়েছে। এ সময় গুম, খুন, অপহরণ, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবাস করতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকর হয়ে পড়ারচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসমূহকে অকার্যকর করা হয়েছিল। সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে রূপ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র, অগণিত মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালাগুলোতে এবং সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেককে চিরতরে গুম করা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংকিং খাতকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, পেশাজীবী, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে বিদায়ী সরকার হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে শিশুসহ বহু মানুষকে হত্যা করে। রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ হাজারো বীর শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি জানান, এ আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
ঐতিহাসিক সেই বিজয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান গণভবন ছেড়ে পালান এবং একই সঙ্গে সংসদ সদস্য, বিচারক, মন্ত্রী ও ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি লড়াইয়ের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে ঋণ তৈরি হয়েছে, তা পরিশোধের দায়িত্ব এখন সমগ্র জাতির।
একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। গণতান্ত্রিক চর্চায় নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক ও সৌন্দর্যের প্রতীক হলেও, সেই ভিন্ন চিন্তাভাবনা যেন পারস্পরিক শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে তিনি দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিবৃতির সমাপনীতে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে স্থান দেওয়া হবে না এবং কোনো তাবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণকে রক্ষা করার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ চিরকাল সশ্রদ্ধ চিত্তে মনে রাখবে।
/আশিক
বাদ পড়ছে ৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙানোর বাধ্যবাধকতা
সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের সংবিধানে বেশ কিছু যুগান্তকারী ও ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—দেশের সংবিধানে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের বিষয়।
পাশাপাশি চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাও স্থান পাচ্ছে সংবিধানে। অপরদিকে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ এবং ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার অংশগুলো সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি টাঙানোর আইনি বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংবিধানে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির এই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশেষ করে পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় এবং সদ্য ঘোষিত জুলাই সনদকে ভিত্তি করে সংবিধানের বেশ কিছু অনুচ্ছেদ পরিমার্জন ও বাতিলের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ কমিটির সূত্রমতে, সংবিধানে সংসদ সদস্যদের নীতি ও নৈতিকতা রক্ষায় কঠোর বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তনের নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। জুলাই সনদের আলোকে দেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে নির্দিষ্ট করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা ও তাঁর পরিধি বাড়ানো, একাধিক ডেপুটি স্পিকার পদ সৃষ্টি এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪-এর (ক), ৭-এর (ক) ও (খ), এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া বিতর্কিত ধারাগুলো আদালতের রায়ের আলোকেই সংবিধানে আর রাখা হচ্ছে না।
পরিবর্তন আসছে সংবিধানের তফসিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতেও। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ সংক্রান্ত পঞ্চম তফসিল এবং ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত ষষ্ঠ তফসিল বাতিল করা হতে পারে।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ৮-এর (১)-এ থাকা জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিধানে সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণকারী অনুচ্ছেদ ৯-এ ‘বাঙালি’ শব্দের স্থলে ‘বাংলাদেশি’ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি টাঙানোর যে বাধ্যবাধকতা অনুচ্ছেদ ৪-এর (ক)-এ ছিল, তা বাতিল করে কেবল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংরক্ষণের পূর্বের নিয়ম বহাল রাখা হবে।
উল্লেখ্য, উচ্চ আদালত ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কয়েকটি ধারাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিরোধী বলে বাতিল ঘোষণা করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দলীয়করণ করায় দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পথ তৈরি করে।
পাশাপাশি ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত অনুচ্ছেদ ৭ (ক) ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্বকারী অনুচ্ছেদ ৪৪ (২) বাতিল করা হয় এবং দ্বাদশ সংশোধনীর গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। বিশেষ কমিটি আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর করার পাশাপাশি অন্যান্য বিধান সংশোধনের জন্য পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করছে।
সূত্র: যুগান্তর
সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উদীয়মান শিল্পখাতে সৌদি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে আসা সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য বৈঠকে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠককালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, বাণিজ্য প্রসারের সম্ভাবনা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেগবান করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করে। সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বর্তমানে তৈরি হওয়া টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করে জানান যে, তার দেশ বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি ও সবুজ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহী। একইসঙ্গে তিনি রিয়াদের উন্নয়নে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি আরবের আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে রিয়াদ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যৌথ আলোচনায় তিনি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যা দুই দেশের জন্যই কৌশলগত দিক দিয়ে লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় সৌদি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
৫ আগস্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, ইতিহাস এবং জাতীয় গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করে। চিঠিটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচর্চা, দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় চেতনা বিকাশের লক্ষ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি ও বয়সভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হবে, যাতে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে। একই সঙ্গে আবৃত্তি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশাত্মবোধক ও প্রাসঙ্গিক সাহিত্যকর্ম উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করতে বলা হয়েছে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও দিবসটির ভাবনা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ইতিহাস ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও অর্থবহভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুধু প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং জাতীয় জীবনে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
-রফিক
শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: শামা ওবায়েদ
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখান থেকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না এবং দিল্লিতে প্রস্তাবিত ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের প্রতি ভারত সরকারের সমর্থন আছে কি না, সে বিষয়ে নয়াদিল্লিকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। তবে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার একটি আয়োজনে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার সরাসরি আয়োজন করছে না উল্লেখ করেও শামা ওবায়েদ বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেহেতু ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন, তাই অনুষ্ঠানটির প্রতি দিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী, সেটি ভারত সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য বা রাজনৈতিক দাবির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নয়। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, বিদেশে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন পলাতক ব্যক্তিরা কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক উসকানি কিংবা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলে আশ্রয়দাতা দেশের দায়িত্বও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা অতীতের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও কূটনৈতিক যোগাযোগে এই উদ্বেগ ভারতকে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার জানিয়েছে।
ভারত সরকার আগে জানিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে অবস্থানরত কোনো পলাতক ব্যক্তি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কিংবা বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন, এমনটি তারা প্রত্যাশা করে না—এ কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এখন আলোচিত অনুষ্ঠানটির ক্ষেত্রেও দিল্লি একই অবস্থানে আছে কি না, সেটিই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক পথে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করতে পারে বলেও জানান তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান গতি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড কাম্য নয়, যা পারস্পরিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভারতের হাইকমিশনারও সম্প্রতি পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা শুধু অনুষ্ঠানটির বিষয়বস্তু নয়, ভারতের ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বৃহত্তর প্রশ্নটিও সামনে আনছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করার দায়িত্ব উভয় পক্ষের। ফলে কোনো পলাতক রাজনৈতিক নেতা ভারতে বসে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে দিল্লির ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতের একটি সংসদীয় কমিটির উদ্বেগের প্রসঙ্গও আসে। এর জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর নীতি বজায় থাকবে। কোনো তৃতীয় দেশের উদ্বেগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে না বলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পৃথক আমন্ত্রণও এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি থাকায় সব বিষয় বিবেচনা করেই সফরের সিদ্ধান্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান শামা ওবায়েদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রস্তাব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সরকার সেটি এগিয়ে নেবে। তবে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে না।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক সহযোগিতা কাঠামোতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নীতিগতভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। তবে বাংলাদেশ কী মাত্রায় বা কোন কাঠামোয় সম্পৃক্ত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এটিকে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, বরং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে সোমবারের ব্রিফিংয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি প্রধান দিক স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ঢাকা আগ্রহী হলেও দেশটির ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না। দ্বিতীয়ত, ভারত ও চীনসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচনা। তৃতীয়ত, ব্রিকস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা কিংবা মুসলিম দেশগুলোর বহুপক্ষীয় জোট—প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার নিজস্ব প্রয়োজন ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অগ্রসর হবে।
-রফিক
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রটনা নাকি সত্য? নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল মন্ত্রণালয়
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নিয়ে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয় যে, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরির সুযোগ নেই। তবে যদি কোনো গ্রাহকের বিলে অতিরিক্ত টাকা যোগ হওয়া সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বা প্রমাণসম্মত কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরণের অভিযোগের সত্যতা মিললে কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিকার ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সুস্পষ্ট কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি ছাড়া কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।
/আশিক
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলকে আধুনিক, সবুজ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
উক্ত সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিধি বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠকের বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, সরকারের দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) মোট ১ লাখ ২৫ হাজার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। মূলত পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল তৈরি ও টেকসই সবুজায়ন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের গত ৯ম সভার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হয়। এর পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক মূল্যায়ন এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদকে আধুনিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও গভীর আলোচনা হয়।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের মালিকানাধীন জমি ও বর্তমান অবকাঠামো ব্যবহার করে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হয়। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের শিল্প গড়ে তুলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। এছাড়া বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আবেদন ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ এবং হালনাগাদ নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বিডা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পুরো পুলিশ টিম একসঙ্গে চা-বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা
পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনকালে পুরো টিম যেন একই সময়ে একসঙ্গে চা খাওয়া বা বিশ্রামে না যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, পুলিশের ব্যবহৃত গাড়ি বা টহল যান কোনো অবস্থাতেই অরক্ষিত বা নিরাপত্তাহীন রাখা যাবে না। টহলে থাকা সদস্যদের মধ্যে সবাই একসঙ্গে বিশ্রামে না গিয়ে অন্তত একজনকে সার্বক্ষণিক গাড়ির প্রহরায় নিশ্চিত থাকতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া বা নিয়মিত সতর্কতার অংশ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একে অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু ও পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মতিঝিলে মেট্রোরেলের পিলারের কাছে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার এবং আশুলিয়ায় দুষ্কৃতকারীদের রেখে যাওয়া ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো আন্তঃসম্পর্ক বা একই গোষ্ঠীর সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
রথযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উল্টো রথযাত্রার দিনে মতিঝিল এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের নেপথ্যে কোনো মহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছিল কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে উগ্রবাদী তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজপথের তৎপরতা বা নাশকতামূলক সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দলটির সে ধরনের কোনো বড় নাশকতার সক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না; রাজনীতিতে নিষিদ্ধ থাকার কারণে বিদেশ থেকে মাঝে মাঝে তাদের ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতি ছাড়া মাঠে কোনো বড় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত সমাবেশে হামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
/আশিক
বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক এই কার্যক্রম ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির পাশাপাশি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতাভুক্ত বিভিন্ন সুবিধার জন্যও আবেদন করা যাবে। এর মধ্যে হিজড়া, বেদে ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং চা-শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগ্রহী ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থার অনলাইন আবেদন প্ল্যাটফর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা যে ইউনিয়ন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এলাকায়, সেই ঠিকানার ভিত্তিতেই আবেদন দাখিল করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং ট্র্যাকিং আইডি ব্যবহার করে আবেদনের অগ্রগতিও অনলাইনে দেখা যাবে।
প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদনকারীর জন্য প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ ব্যবস্থার আওতায় ইস্যু করা সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ভাতার অর্থ গ্রহণের জন্য আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব অথবা ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রয়োজন হবে। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হলে যোগাযোগের জন্য সক্রিয় মোবাইল নম্বরও আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে সরকারের অন্য কোনো নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে একই ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা নতুন করে এই কর্মসূচির উপকারভোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন না। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ ঠেকাতে আবেদনকারীর তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হবে।
আগে অনলাইনে আবেদন করে যাদের নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আগের অপেক্ষমাণ আবেদন এবং নতুনভাবে জমা পড়া আবেদন একসঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে আবেদনকারীকে নিজের তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতার জন্য নির্বাচিত হবেন না। প্রথমে আবেদনকারীর বয়স, আর্থিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতার তথ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, স্থায়ী ঠিকানা এবং অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছেন কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর প্রচলিত নীতিমালা, স্থানীয় যাচাই কমিটির সুপারিশ এবং বরাদ্দসংখ্যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত হবে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিরা বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট ভাতা বা শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
আবেদন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক হিসাবের তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। ভুল তথ্য, অন্যের মোবাইল হিসাব, অস্পষ্ট কাগজপত্র কিংবা ঠিকানায় অসামঞ্জস্য থাকলে আবেদন বাতিল বা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর পাওয়া ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করাও জরুরি।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক আবেদন ও কর্মসূচির তথ্য রয়েছে। আবেদনকারীদের কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে অর্থ না দিয়ে প্রয়োজনে নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- সালমানের অবয়ব পরিবর্তনের আসল কারণ ও ষাটোর্ধ্বদের ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম
- ৫ আগস্ট বিজয়ের দিন, ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নিজস্ব অর্থায়নে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ আলমগীর
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর উপস্থিতি ঘিরে চাঙ্গা দেবিদ্বার বিএনপি
- ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামি আজম নুর গ্রেপ্তার
- দেশের ১২ জেলার জন্য দুঃসংবাদ, নদ-নদীর পানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ
- প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা
- ৩৪ বছর বয়সে আইপিএল খেলার স্বপ্ন, যে বিপদে পড়লেন মোহাম্মদ আমির
- পদত্যাগের হুমকি দিলে সরাসরি গ্রহণের হুঁশিয়ারি, পেজেশকিয়ান-খামেনি দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত ইরান
- ৫ আগস্ট ঘিরে সারা দেশে কঠোর নজরদারি, মাঠে নামানো হয়েছে একাধিক গোয়েন্দা দল
- বাদ পড়ছে ৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙানোর বাধ্যবাধকতা
- সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মার্কিন অর্থনীতি ও ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক ধাতুর বাজার
- শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল
- সিট দখল ঘিরে আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন বাজুসের সর্বশেষ দর
- ৫ আগস্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
- স্বর্ণের সঙ্গে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম
- আজ মঙ্গলবার বন্ধ যেসব মার্কেট, বের হওয়ার আগে দেখুন
- ফের বাড়ল তেলের দাম
- শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: শামা ওবায়েদ
- শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
- সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
- জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
- বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রটনা নাকি সত্য? নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল মন্ত্রণালয়
- মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকছে যেসব এলাকা
- শতাধিক মানুষের মাঝে গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিনামূল্যে চশমা বিতরণ।
- সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
- সেপ্টেম্বরের মেগা টুর্নামেন্টে বড় চমক: কাকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ঢাকায়?
- ভারতের পূর্ব সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!
- তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর
- ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
- অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?
- পুরো পুলিশ টিম একসঙ্গে চা-বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা
- মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!
- বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইতালি পাড়ি জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা
- এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
- সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বল্লভপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
- নেতৃত্বের রদবদল: বিসিবির বোর্ড সভায় নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের ঘোষণা
- শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা








