ঐক্যের ডাক দিয়ে কুমিল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৭:০৮:৪৮
ঐক্যের ডাক দিয়ে কুমিল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান। বুধবার (৪ ফেব্রয়ারি) দিবাগত রাতে মুরাদনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় দলটির পক্ষ থেকে ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে সমর্থন দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে দুঃশাসন, ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্রের সংকট চলছে। জনগণের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হওয়ার এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় জোট ও স্থানীয় সমঝোতার ভিত্তিতে মুরাদনগর উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পারস্পরিক আলোচনা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক উপলব্ধির মাধ্যমে জোটবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঐক্য কোনো সাময়িক কৌশল নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দায়বদ্ধতা থেকে জন্ম নেওয়া একটি ঐক্য।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অন্যায়-দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মুরাদনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোই এই জোটের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি একটি জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বিভক্তি নয়, ঐক্যই জনগণের শক্তি। এই ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, এটি মুরাদনগরের মানুষ, দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের পক্ষে নেওয়া একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

এ সময় তিনি মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণ, তরুণ সমাজ ও গণতন্ত্রকামী সব শক্তির প্রতি এই ঐক্যের পাশে থাকার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সমঝোতার আলোকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ, ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সব নেতাকর্মীকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ উদ্দিন শহীদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব সরকার, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. কামাল, সাধারণ সম্পাদক রশিদ রানা, অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, কার্যকরী সদস্য জহিরসহ ছাত্র, যুব ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


ঈদের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারে লাাখো মানুষের ঢল: প্রতিটি পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৪১:৩৯
ঈদের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারে লাাখো মানুষের ঢল: প্রতিটি পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড়
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাসের রমজানের নিস্তব্ধতা ভেঙে চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। আজ রোববার, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্র সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট। সাগরের নীল জলরাশি আর বালুকাবেলায় ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

গতকাল শনিবার ঈদের দিন বিকেলে কক্সবাজারে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকলেও তা পর্যটকদের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং বৃষ্টির পর সৈকতের আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে থাকা দৃষ্টিনন্দন রঙধনু আর মেঘমুক্ত আকাশের মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত পর্যটকদের ঈদ আনন্দে যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা। হিমেল হাওয়ার পরশ আর বিকেলের মায়াবী পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের মনে বাড়তি প্রশান্তি এনে দিয়েছে।

সৈকত ঘুরে দেখা যায়, কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণীসহ প্রতিটি পয়েন্টে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। পর্যটকরা কেউ পরিবার নিয়ে সমুদ্রস্নানে মেতেছেন, কেউবা ওয়াটার বাইক বা জেটস্কিতে চড়ে ঢেউয়ের মাঝে রোমাঞ্চ খুঁজছেন। সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘোড়ায় চড়া আর বাইক রাইডিংয়ের আনন্দ নিতেও দেখা গেছে অনেককে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানে সৈকত এলাকা অনেকটা জনমানবহীন থাকলেও ঈদের ছুটি শুরু হতেই পর্যটনের জোয়ার শুরু হয়েছে।

ঢাকা থেকে মা, বোন ও ভাগনিকে নিয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার এসেছেন রোকসানা রহমান। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, "কক্সবাজারে আজ আমাদের দ্বিতীয় দিন, সামনে আরও এক সপ্তাহ হাতে আছে। প্রিয়জনদের নিয়ে সমুদ্রের এই বিশালতা দেখা যেন ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।"

একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন রাজশাহী থেকে আসা হেমায়েত হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, "পরিবারের সঙ্গে এখানে ঈদ উদযাপন করা স্বপ্নের মতো। সমুদ্র, পাহাড় আর সবুজের এই মেলবন্ধন সত্যিই অসাধারণ।" চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে আসা নাজমা আক্তার জানান, সমুদ্র স্নান আর সৈকতে বাইক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তার ঈদের আনন্দকে আরও পূর্ণতা দিয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন গ্রহণ করেছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি ও গোয়েন্দা টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা ডিউটি পালন করছে।

বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন এবং সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার টিম লিডার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, পর্যটকদের নির্বিঘ্নে বিনোদন নিশ্চিত করতে তারা সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে লাল পতাকা টাঙিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত পর্যটকদের সতর্ক করছেন।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার আশা প্রকাশ করে বলেন, "ঈদের পরদিন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসছেন এবং এই ধারা টানা ১০ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।" পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবারের ঈদে ১০ থেকে ১১ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে এবং এ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার না হন এবং উৎসবের এই সময়টা আনন্দদায়ক হয়।

/বাজিত


চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩ দিনে ২৫ জাহাজ; তবুও কাটছে না অনিশ্চয়তা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:৩৬:৫৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩ দিনে ২৫ জাহাজ; তবুও কাটছে না অনিশ্চয়তা
জ্বালানিবাহী জাহাজ (ছবি-সংগৃহীত)

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি বোঝাই ২৫টি জাহাজ নোঙর করেছে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, বুকিং থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে বাধার কারণে কাতার ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে এলএনজি ও ক্রুড অয়েলবাহী গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রাফায়েত হামীম আজ রোববার জানিয়েছেন, বর্তমানে ‘বেওয়েক বর্নহোল্ম’ ও ‘মর্নিং জেইন’ নামে দুটি জাহাজ পথের মধ্যে থাকলেও এলএনজি বোঝাই আরও চারটি জাহাজ আটকে আছে। বিশেষ করে ‘লিব্রেথা’ নামক একটি জাহাজ এলএনজি লোড করার পরও আসতে পারছে না এবং ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামক আরেকটি জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছাতেই পারছে না।

এই সংকটের কারণে দেশে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট কমিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোলাবাজার থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি দামে (ইউনিট প্রতি ২৪.৫ থেকে ২৮ ডলার) দুটি এলএনজি কার্গো কিনতে বাধ্য হয়েছে সরকার, যা যুদ্ধের আগে ছিল মাত্র ১০ ডলার।

/আশিক


সাতক্ষীরায় নৃশংসতা: যুবককে পিটিয়ে জখম ও বাড়িতে ঢুকে মাকে মারধর

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৭:২৬:৫১
সাতক্ষীরায় নৃশংসতা: যুবককে পিটিয়ে জখম ও বাড়িতে ঢুকে মাকে মারধর
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের সুবর্ণগাছি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবকের ওপর নৃশংস হামলা, নগদ টাকা ছিনতাই এবং পরবর্তীতে তার বাড়িতে ঢুকে মাকেও মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।অভিযোগকারী ফজলু সরদারের ছেলে আব্দুল গফফার জানান, সুবর্ণগাছি মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

তবে বিচারাধীন বিষয় উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং তাকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজ সংলগ্ন সড়কে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।প্রতিবাদ করলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় তার নাক ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হন।

অভিযুক্তদের মধ্যে আনছার সরদারের ছেলে জাকির সরদার, আব্দুল কাদের গাজীর ছেলে মোঃ আলামিন, রশিদ গাজীর ছেলে জালাল গাজী, জামির সরদারের ছেলে আরিফুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ গাজীর ছেলে হাবিবুল্লাহ গাজী, আমিনুর রহমানের ছেলে রাফি এবং ইনছার গাজীর ছেলে আব্দুল্লাহ গাজীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে আব্দুল কাদের গাজীর ছেলে মোঃ আলামিন ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা ১ লাখ ৫ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল গফফারকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে তার মা মোছাঃ সালেহা বেগমকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে আহত করে এবং পুনরায় হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় বাস লণ্ডভণ্ড: ৩ শিশু ও ২ নারীসহ ঝরল ১২ প্রাণ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ০৯:২৯:৫৩
কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় বাস লণ্ডভণ্ড: ৩ শিশু ও ২ নারীসহ ঝরল ১২ প্রাণ
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনের ওপর উঠে গেলে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে এই প্রচণ্ড সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩টি শিশু ও ২ জন নারী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বর্তমানে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

নিহতদের পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে বাসের চালক লেভেলক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুতগামী ট্রেনটি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

/আশিক


সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১০:২৭:২৪
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা না করে সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাতক্ষীরা জেলার কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপনের একটি দীর্ঘদিনের প্রচলন আবারও সামনে এসেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ শুক্রবার সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন।

সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতটি কুশখালী বাউকোলা কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজন করা হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা এবং পাইকগাছাসহ আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষ এই জামাতে অংশ নেন, যা এলাকাটিতে একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়।

ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মওলানা মহব্বত আলী। নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করেন মওলানা মাহবুবুর রহমান, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, পবিত্র শাওয়াল মাসের সূচনা উপলক্ষে তারা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং রোজা শুরু করেছিলেন একদিন আগে থেকেই। তার মতে, আগের বছরের তুলনায় এবার মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি।

খুতবায় তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ উদযাপন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে যাতে সবাই একই দিনে ঈদ পালন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রায় এক যুগ ধরে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত সময় অনুসরণ করলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়।

তবে বিষয়টি দেশের প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে ভিন্ন হওয়ায় প্রতি বছরই এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের দিন নির্ধারণ করা হয়, যা দেশব্যাপী একযোগে উদযাপনের জন্য অনুসরণ করা হয়।

-রাফসান


কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:২৭:০৫
কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকার লিবার্টি মোড়ে অবস্থিত একটি টুপির দোকানে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক ও জুতার কেনাকাটা বেশিরভাগই শেষ। তবে জমে উঠেছে টুপি, আতর, জায়নামাজ ও তসবির বাজার।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় টুপি ও আতরের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নিজেদের পছন্দের টুপি, জায়নামাজ ও সুগন্ধি আতর কিনছেন তারা।

নগরীর মোগলটুলী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান দুই ছেলেকে নিয়ে টুপি ও জায়নামাজ কিনতে এসেছেন কান্দিরপাড় এলাকায়। বাংলাবাজার পত্রিকা তিনি বলেন, ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, জুতা কেনা শেষ। টুপি ও আতর কেনা বাকি ছিল। ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি।তারা নিজেদের পছন্দের টুপি কিনবে। কয়েকটি টুপি পছন্দ হয়েছে কিন্তু দাম বেশি। তাই কয়েকটি দোকান ঘুরে যাচাই করছি।

বাদুরতলা এলাকার আতর বিক্রিতা নাজমুল হাসান বলেন, দোকানে কয়েক রকমের আতর আছে।যেমন কস্তুরি গোলাপ, হাজারে আসওয়াদ, রেড আফ্রিকান, সুলতানসহ নামিদামি ব্র্যান্ডের। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সব রকমের বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া কম দামের আতর রয়েছে। সারা বছর আতরের চাহিদা না থাকলেও ঈদের আগ মুহূর্তে আতরের চাহিদা বেড়ে যায়। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত আতর বিক্রি হয়।

কান্দিরপাড় লিবার্টি মোড়ে বিখ্যাত টুপি আতরের দোকান খুশবো স্টোরের স্বত্বাধিকারী মালেক খসরু উষা বলেন, মূলত ২৫ রমজানের পর থেকে ঈদের দিন ভোর পর্যন্ত টুপি, জায়নামাজ, তসবি বিক্রি চলে। গভীর রাত পর্যন্ত দোকানে বেচাকেনা চলে। সব বয়সী মানুষ এসে পছন্দের টুপি, জায়নামাজ, তসবি কেনেন। এখানে মূলত ৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকার দামের টুপি আছে। পাকিস্তানি, আফগানি, কাবুল, ভারতীয়সহ নানা নকশার দেশি-বিদেশি টুপি বিক্রি হয়। জায়নামাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মান ও নকশার পণ্য। বিশেষ করে তুরস্ক ও সৌদি আরব থেকে আমদানি করা জায়নামাজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া সৌদি ও দুবাই থেকে আনা আতরের চাহিদাও রয়েছে। এবারও ভালো বিক্রি হচ্ছে। টুপি আর আতরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দাম আগের মতোই আছে।

কুমিল্লার তাফসীরবিশারদ অধ্যাপক মাও. আবুল বাশার মিরাজী বলেন, ঈদের নামাজের পূর্বে নতুন জামা-পায়জামা টুপি ও সুগন্ধি ব্যবহার করা রাসুল (সা.) এর সুন্নত। রাসুল (সা.) ঈদের নামাজের আগে এসব উপকরণ ব্যবহার করতেন। এরপর থেকে যুগ যুগ ধরে মুসলমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে এসব ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ট্যাগ: কুমিল্লা

কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২০:০৬:৩৯
কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পল্লীতে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত: মোবারক আলী মোল্লার ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামে জাফর ফারুক মোল্লার স্ত্রী মোছাঃ মরিয়ম খাতুন,মৃত বেলাত আলী মোল্লার ছেলে জাফর ফারুক মোল্লা।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১/২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করে আসছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জানান,তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। জীবিকার প্রয়োজনে যাত্রী পরিবহনের সময় কিছু ব্যক্তিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে নেওয়া- আসা নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি এ ধরনের যাত্রী পরিবহন করতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরনের হুমকি- ধামকি দিতে থাকে।অভিযোগে আরও বলা হয়, গত (১৮ মার্চ ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে পাকা সড়কে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার রড ও ছুরি নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় তারা গালিগালাজ করতে থাকে এবং প্রতিবাদ করলে মরিয়ম খাতুন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে।

পরে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা ৩ হাজার ৫০০ টাকা পড়ে গেলে তা জাফর ফারুক মোল্লা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি ধরার চেষ্টা করা হয়।

তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের ওপরও হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় হারুন অর রশিদকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগ: সাতক্ষীরা

উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: নীলসাগর এক্সপ্রেসে বড় দুর্ঘটনা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৬:২৪:৩২
উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: নীলসাগর এক্সপ্রেসে বড় দুর্ঘটনা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনের অদূরে তিলকপুর এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে ট্রেনের ভেতরে ও ছাদে থাকা অসংখ্য যাত্রী হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়েছিল। এরপর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কিছু পরেই তিলকপুর স্টেশনের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে ৯টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। ঈদের মৌসুমে ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় এবং ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ ভ্রমণ করার কারণে ছাদ থেকে পড়ে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে বগিগুলো উদ্ধার করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর বেশ কয়েকজন যাত্রী হতাহত হয়েছেন, তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাকবলিত স্থান থেকে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে উত্তরবঙ্গগামী ও ঢাকাগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে, ফলে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

/আশিক


ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই চিরচেনা যানজট: স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১১:০৬:৫৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই চিরচেনা যানজট: স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সোমবার রাত থেকে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই মহাসড়কে সেই চিরচেনা দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি নেই। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত যানবাহনগুলো স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে। মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস ও আশেকপুর বাইপাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দেখা গেছে, যাত্রীরা বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাসে করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। বিশেষ করে মহাসড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আধিক্য চোখে পড়ার মতো।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। তবে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের সুবিধা থাকায় যাত্রীরা কোনো বাধা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত) মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৪৯৮টি। একদিনে সেতু থেকে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য দুই পাশেই আলাদাভাবে ২টি করে বুথ রাখা হয়েছে। যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানিয়েছেন, মহাসড়কে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: