জামায়াতকে ইসলামী দল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: চরমোনাইর পীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৯:২৬:০২
জামায়াতকে ইসলামী দল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: চরমোনাইর পীর
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোথাও ইসলামের কথা উল্লেখ নেই। যারা জামায়াতকে ইসলামী দল মনে করে, তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাইর পীর বলেন, "আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি এবং সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি যে শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে। জামায়াতও ইশতেহার দিয়েছে, কিন্তু সেখানে তারা ইসলামের কথা কোথাও বলেনি।" ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইসলামের পক্ষে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করা। প্রথম দিকে অনেক ইসলামী দল তাদের সাথে সমঝোতায় থাকলেও পরবর্তীতে জামায়াত ও আরও কিছু দল যুক্ত হয়ে ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করে। রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, যখন সারাদেশের মানুষ ইসলামী আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছিল, তখন 'দেশপ্রেমিক' বা 'ইসলামপ্রেমিক'দের পরিবর্তে 'ক্ষমতাপ্রেমিক'রা আন্দোলনে ছোবল দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে বাধ্য করেছে।

বিগত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে চরমোনাইর পীর আরও বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের আমলেই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং তৈরি হয়েছে ‘বেগম পাড়া’র মতো কলঙ্কিত অধ্যায়। জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে তিনি দলটিকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাদের ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আলেম-ওলামাদের দেশ এবং এই পবিত্র জমিনে ইসলাম থাকবে না—তা কখনোই হতে পারে না। তিনি বলেন, "আমরা মনে করেছিলাম আমরা একা হয়ে গেছি, কিন্তু আমরা একা নই। আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন, আলেমরা আমাদের সাথে রয়েছেন এবং দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমীরাও আমাদের সঙ্গেই আছেন।" ঝালকাঠি জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।


ইউনূসকে বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা: মির্জা আব্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৯:১৮:০৪
ইউনূসকে বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা: মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত এবং তাদের সহযোগী সংগঠন এনসিপি। তাঁর দাবি, সরকার প্রধান নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁরাই তাঁকে এই পদে বসিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা (এনসিপি)। সরকার প্রধান নিজেই বলেছেন ওরা তাঁকে বসিয়েছে। আর তাই এখন ক্ষমতায় বসে নির্বাচন করছে জামায়াত আর এনসিপি।" ১৯৭১ সালে একটি পক্ষ বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেই পুরোনো শকুনরা এখনো এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা সকাল-বিকাল বিএনপিকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে এবং একটি চক্র ভোট ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, "জনগণের ভোটের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে প্রশাসনে থাকা জামায়াতের লোকেরা। আমি মারাত্মকভাবে ভোট কারচুপির শঙ্কা দেখছি। কিছু কিছু দল ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করেছে।" তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে এবং এতে ব্যর্থ হলে তারা নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করবে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক—এটি একটি পক্ষ মানতে পারছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধীপক্ষের উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে মির্জা আব্বাস বলেন, "ওরা চাচ্ছে আমি কোথাও না কোথাও একটা গণ্ডগোল করি। কিন্তু আমি তা করব না। নির্বাচনের আগে আমি কোনো গণ্ডগোল করতে চাই না। যদি প্রয়োজন হয়, নির্বাচনের পরে করব।" তিনি ভোটার ও কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, এ দেশের মানুষের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতারণা বা ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। ভোটের ফলাফল হাতে নিয়েই বিএনপি ঘরে ফিরবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে যারা থাকেনি, আজ তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৭:৪৩:১৫
আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে যারা থাকেনি, আজ তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে জাসাস আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সংগীতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'বট আইডি' ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরের নেতাদের চরিত্র হনন এবং কুৎসা রটানোর এক নোংরা খেলায় মেতেছে একটি চক্র। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গান, নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শিল্পীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণা সংগীতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির বিরুদ্ধে চালানো প্রোপাগান্ডা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বট আইডি দিয়ে মানুষের চরিত্র হনন এবং অপপ্রচারের যেন শেষ নেই। যারা গণতন্ত্রের জন্য আজীবন আপসহীন সংগ্রাম করলো, যারা কখনোই আওয়ামী লীগের ‘বোরখার নিচে’ কিংবা তাদের আবরণের মধ্যে লুকিয়ে থাকেনি, যারা সব সময় সত্য ও ন্যায়কে সাহসের সঙ্গে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে—আজ তাদের বিরুদ্ধেই সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।”

রিজভী আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকারে বিশ্বাস করে। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাসাস কর্মীদের গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। তাদের রাজনীতি হবে সৃজনশীল এবং ভিন্নতর, যার মাধ্যমে অপশক্তির অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সত্য তুলে ধরা হলে কোনো অপপ্রচারই ধোপে টিকবে না। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহিন, জাসাস সভাপতি ও বিশিষ্ট চিত্রনায়ক হেলাল খান এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। বক্তারা নির্বাচনী প্রচারণায় শিল্পীদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


মার্কা নয়, মানুষ দেখে ভোট হবে: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১১:৪১:১২
মার্কা নয়, মানুষ দেখে ভোট হবে: রুমিন ফারহানা
ছবি : কালবেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এবারের নির্বাচন প্রতীক বা মার্কা দেখে নয় বরং যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বাছাইয়ের লড়াই। তাঁর মতে, কেউ যদি কেবল দলীয় প্রতীকের ওপর ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তবে তা হবে বড় ধরনের ভুল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের পূর্বপাড়ায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “যোগ্য অভিভাবক যদি এলাকার দায়িত্ব না নেন, তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আপনাদের অনুরোধ করব—যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ এবং যার বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা আছে, এমন প্রার্থীকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করুন।” তিনি একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন যে, প্রতি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে অন্তত ৩০ জন এবার মার্কা নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন। ভোটাররা এখন প্রার্থীর সাহস, সততা এবং এলাকার উন্নয়নের সদিচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের প্রতীক ‘হাঁস’-এর জোয়ারের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ—যেদিকেই তাকাই শুধু হাঁস আর হাঁস। এই হাঁসের গণজোয়ারই আমাদের জয় সুনিশ্চিত করবে, ইনশাআল্লাহ।” নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিনিময়ে তিনি আগামী পাঁচ বছর জনগণকে পাহারা দিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিত ছিলেন।


জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:৪১:০২
জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল 
ছবি: যুগান্তর

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ১০টায় ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, পূর্ণ নিরাপত্তা এবং তাঁদের প্রাপ্য সব অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বীর সন্তানদের সুচিকিৎসায় প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের অভাবনীয় সাহস ও দৃঢ়তার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের ধরন ছিল এক রকম, কিন্তু তরুণদের সেই সাহসী ভূমিকা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন সম্ভব করেছে।" আন্দোলনের বীরদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তিনি বিগত সরকারের আমলের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "যারা ফ্যাসিস্ট কায়দায় অপরাধ করেছে, তাদের বিচার ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।"

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই জেলা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও দরিদ্র। বড় কোনো কলকারখানা না থাকায় এখানে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফার্ম প্রতিষ্ঠা, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যাতে তরুণরা ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ পায়। একই সাথে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আশ্বাস দেন এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা বলেন। সভায় জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরবঙ্গের ৩ জেলা সফরে তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২১:৪২:০৯
৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরবঙ্গের ৩ জেলা সফরে তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে দিনাজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রস্ততিমূলক বৈঠক শেষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সফরকালে তারেক রহমান দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, এবারের নির্বাচনী সফরে তারেক রহমান সড়কপথের পরিবর্তে হেলিকপ্টার ব্যবহার করবেন। দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের তিনটি জেলায় তিনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। সফরের দিন নির্ধারিত হলেও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি; যা মূলত আবহাওয়া, নিরাপত্তা এবং সফরসূচি নির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সফরকালে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দিনাজপুর-৬ আসনে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনে শাহরিন ইসলাম তুহিনের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

দিনাজপুরে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শুরু হয়েছে। ডা. জাহিদ হোসেন আরও জানান, উত্তরবঙ্গ সফরকালে তারেক রহমান তাঁর প্রয়াত নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার এবং খালা ও সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করবেন। দীর্ঘ সময় পর উত্তরাঞ্চলে তারেক রহমানের এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনসভাগুলোকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।


নেতার আগে জনতা, এমন এক বাংলাদেশ উপহার দেবে বিএনপি: ডা. জুবাইদা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২১:০২:৫২
নেতার আগে জনতা, এমন এক বাংলাদেশ উপহার দেবে বিএনপি: ডা. জুবাইদা
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে শ্রমের মর্যাদা, মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং জ্ঞান ও সমতাভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিল অ্যাম্পিথিয়েটারে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রূপরেখা তুলে ধরেন। ডা. জুবাইদা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও একটি সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বর্তমান সময়কে গৌরবের নতুন সূর্যোদয়ের কাল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন হচ্ছে—ব্যক্তির আগে দল, দলের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা এবং সবার আগে বাংলাদেশ।

মতবিনিময় সভায় ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে সাধারণ মানুষের শ্রমের মর্যাদা এবং সুবিচার নিশ্চিত হবে। শোষণের আগে মানুষের অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা এমন একটি দেশ উপহার দিতে চাই যেখানে নেতার চেয়ে জনতাই হবে মূল চালিকাশক্তি।" এ লক্ষ্যে তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই পারে একটি শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।

সভায় জানানো হয় যে, আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি তাদের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই ইশতেহারে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সমস্যাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সমাধানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা ‘মাস্টারপ্ল্যান’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষিত যুবসমাজ এবং মেহনতি জনতার ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপি যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঢাকা-১৭ আসনের এই সভায় বিপুল সংখ্যক পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথের প্রতি জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


জামায়াতের জনতার ইশতেহার প্রকাশ: ২৬ বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২০:৫৪:২৮
জামায়াতের জনতার ইশতেহার প্রকাশ: ২৬ বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহার ‘জনতার ইশতেহার’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারটিতে মূলত বৈষম্যহীন সমাজ, যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, এই ইশতেহারটি তৈরিতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। তাদের অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদাকে ভিত্তি করেই এই রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইশতেহারে মোট ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রধান ৯টি ক্ষেত্রকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন, ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে যুবকদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কৃষি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদনের সুযোগ এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব ও স্বচ্ছ অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। এ ছাড়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিও স্থান পেয়েছে ইশতেহারে।

এ ছাড়াও কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা অংশগ্রহণ করেন। জামায়াতের এই ‘জনতার ইশতেহার’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ: নাসীরুদ্দীন 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:৩০:১৯
জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ: নাসীরুদ্দীন 
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নেই এবং তাঁর নারী কর্মীদের হেনস্তা ও হামলার শিকার হতে হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ভোটার ও ব্যবসায়ীদের বাধ্য করে প্রতিপক্ষের সভায় নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। রাতের আঁধারে তাঁর লাগানো পোস্টার ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গভবন স্টাফ কোয়ার্টারে তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করার ঘটনাকে তারেক রহমানের পূর্বপরিকল্পিত কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "ইসি যদি আগেই গোল দিয়ে দেয়, তবে জনগণ কীভাবে ভোট দেবে?" তাঁর মতে, গণমাধ্যমগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে না পারে। প্রশাসন ও গণমাধ্যম ইতোমধ্যে পক্ষ নিয়ে ফেলেছে দাবি করে তিনি আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর একমাত্র বিএনপির বাধার কারণেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। ঢাকা-৮ আসনের জন্য নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি স্কুলগুলোতে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করবেন এবং মাদকমুক্ত ঢাকা-৮ গড়বেন। এ ছাড়া কাঁচাবাজারের জন্য মাল্টি কমপ্লেক্স বিল্ডিং নির্মাণ, হকারদের লাইসেন্স প্রদান, কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নকেও তিনি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছেন বলে জানান।


জামায়াতের সাথে কেন জোট ভাঙল? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন রেজাউল করীম 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:৫৪:০২
জামায়াতের সাথে কেন জোট ভাঙল? বিস্ফোরক তথ্য দিলেন রেজাউল করীম 
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, জামায়াত নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছিলেন।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী আট দলকে বাদ দিয়ে এককভাবে পরবর্তীতে কয়েকটি ছোট দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেখানে ইসলামের প্রকৃত চেতনা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কোনো বালাই নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যে জোটে ইসলাম এবং নিজেদের ভেতরে ভ্রাতৃত্ব নেই, সেখানে থাকলে জাতি ধোঁকা খাবে—এই আশঙ্কা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ওই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে আদর্শিক ঐক্যের অভাব রয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রেজাউল করীম আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াতে ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপনে একাধিক বৈঠক করেছে। সেসব বৈঠকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে তাঁরা ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রপন্থী ও জঙ্গি হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জামায়াতের এই দ্বিমুখী নীতির কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছে। এদিন ‘জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচনকালে তিনি ৩০টি মৌলিক দফা ও ১২টি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই ইশতেহারে মূলত ইনসাফ কায়েম, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং ইসলামের মৌলিক নীতিমালার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত: