আইসিসি অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! বিশ্বকাপ শুরুর আগে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব 

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২১:২৯:৫৪
আইসিসি অফিস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! বিশ্বকাপ শুরুর আগে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব 
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ক্রিকেট বিশ্বে এক নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এবার সরাসরি আইসিসি কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পাশাপাশি সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং ভারতকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্রিকেট প্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ভয়াবহ বিতর্কের মূলে রয়েছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অভিনেতা আরসালান নাসির। সম্প্রতি তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বর্জন করা। ওই ভিডিওতে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) লক্ষ্য করে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এমনকি ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নিয়েও ব্যক্তিগত ও কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ চালাতে ছাড়েননি তিনি।

ভিডিওটির সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল আইসিসি কার্যালয়ে হামলার প্রকাশ্য হুমকি। আরসালান নাসির বলেন, আইসিসির সদর দপ্তর দুবাইয়ে হওয়ার কারণেই চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তিনি দাবি করেন, যদি এই অফিস ভারতে থাকত, তবে পাকিস্তানি জনগণ তা অনেক আগেই উড়িয়ে দিত। পাকিস্তান সরকারের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর আইসিসি যে বিবৃতি দিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে তিনি আরও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, পাকিস্তান সরকারই নাকি আইসিসি ও ভারতের ‘বাপ’।

এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নেটিজেনরা আরসালান নাসিরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। অনেকেই একে স্রেফ বিনোদন নয়, বরং জঙ্গি মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছেন। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরের ঠিক আগে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইসিসি বা বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।


জাহানারা আলমের ২ অভিযোগে সত্যতা পেল বিসিবির তদন্ত কমিটি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২১:১৬:৩৪
জাহানারা আলমের ২ অভিযোগে সত্যতা পেল বিসিবির তদন্ত কমিটি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাহানারার দাখিলকৃত চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুইটির ব্যাপারে প্রাথমিক প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে বিসিবির গঠিত স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি। সম্প্রতি ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে জমা দিয়েছে, যার ভিত্তিতে বিসিবি এখন আইনি ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।

জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অসদাচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত এই কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছিল। অবশেষে গত ৩১ জানুয়ারি কমিটি তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি তদন্তের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, জাহানারার আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুইটি প্রমাণিত না হলেও বাকি দুইটিতে সাবেক ম্যানেজার এবং নির্বাচক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিসিবির আইনি দল এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বিসিবি তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, বোর্ড স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশগুলো গ্রহণ করেছে এবং জাতীয় দলের শৃঙ্খলা ও নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। জাহানারা আলম দীর্ঘ সময় ধরে নারী দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর করা এই অভিযোগগুলো ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পথে থাকায় দেশের ক্রিকেটে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে একে বড় একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের শাস্তির বিষয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে এখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


নেপালকে উড়িয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:১৬:০৭
নেপালকে উড়িয়ে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

স্বাগতিক নেপালকে তাদেরই মাটিতে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দাপটের সঙ্গে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপার মঞ্চে পা রাখল পিটার বাটলারের শিষ্যরা। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।

ফাইনাল নিশ্চিত করার সহজ সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। নেপালের কাছে ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারলেও ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ ছিল, তবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা মাঠ ছেড়েছে দাপুটে জয় নিয়ে। ৩ ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে রাউন্ড রবিন লিগ শেষ করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এদিন একাদশে কিছুটা পরিবর্তন আনলেও গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার নেপাল গোলরক্ষক নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে বক্সের ভেতর থেকে প্রতিমা মুন্ডা প্লেসিং শটে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

প্রথমার্ধের মাঝপথে কোচ বাটলার মাঠে নামান শান্তি মারডি ও আলপি আক্তারকে। এই পরিবর্তনের সুফল আসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে, যখন আলপি আক্তারের দারুণ গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় দল। দ্বিতীয়য়ার্ধে নেপাল আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। এরপর বাংলাদেশ আরও একবার জালের দেখা পেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। ম্যাচের শেষ দিকে নেপাল ১০ জনের দলে পরিণত হয়। আলপি আক্তার হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও তাঁর ফ্রি-কিকটি নেপাল গোলরক্ষক রুখে দেন।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অবিশ্বাস্য। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৮টি গোল দিলেও একটি গোলও হজম করতে হয়নি বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। অন্যদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে ভুটানকে ৮-০ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। স্বাগতিক নেপাল ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় এবং সব ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে ভুটান। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলার বাঘিনীরা।


মাত্র ৯ কোটির মোস্তাফিজের কারণে ৬ হাজার কোটির ক্ষতি!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১১:১২:৫৭
মাত্র ৯ কোটির মোস্তাফিজের কারণে ৬ হাজার কোটির ক্ষতি!
ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটে এক চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আইপিএল থেকে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত আইসিসিকে এক বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এনডিটিভি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

মোস্তাফিজকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত

ঘটনার শুরু আইপিএলের নিলাম থেকে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নিলামে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)। তবে ভারতে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজের নিরাপত্তার প্রশ্নে কড়া হুমকি আসার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। উগ্রপন্থী কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হুমকির মুখে বিসিসিআই কেকেআর-কে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে। গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে ছেড়ে দেয় কলকাতা।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন ও আইসিসির ভূমিকা

একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ভারতের মাটিতে আইপিএলে নিরাপত্তা পাবেন না—বিসিসিআই-এর এমন অবস্থানের পর বিসিবি তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিসিবি এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইসিসি-র কাছে দাবি জানায় যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। তবে আইসিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং বাংলাদেশ দলে কোনো ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই’ বলে রায় দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

পাকিস্তানের সংহতি ও আর্থিক মহাধস

বাংলাদেশের এই বহিষ্কার মেনে নেয়নি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। তারা ঘোষণা দিয়েছে যে, বাংলাদেশের ওপর করা অবিচারের প্রতিবাদে এবং সংহতি জানিয়ে তারা বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে অংশ নেবে না। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ এই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে ব্রডকাস্টার, স্পনসর এবং বিজ্ঞাপন স্বত্ব বাবদ আইসিসি এবং বিসিসিআই প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। শুধুমাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের স্লট থেকেই কয়েকশ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত।

ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন সংকট

ক্রিকেট বোদ্ধারা মনে করছেন, মাত্র ৯ কোটি টাকার মোস্তাফিজ ইস্যুকে সঠিকভাবে সামলাতে না পেরে আইসিসি এবং বিসিসিআই এখন নিজেদের ইগোর লড়াইয়ে হাজার কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতি এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতিই মুখ্য হয়ে উঠেছে।


ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৯:৪৫:২৪
ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় বৈরিতা এখন চরমে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর এবার ভারতের বাজার থেকে নিজেদের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘পাকিস্তান সুপার লিগ’ (পিএসএল) সরিয়ে নেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। মূলত রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের সঙ্গে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পাল্টা জবাব হিসেবেই ভারতের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না করার পথে হাঁটছে পাকিস্তান।

ভারতের বাজারে পিএসএল নিষিদ্ধের পথে পিসিবি পিএসএলের গত আসরগুলোতে ভারতের সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যানকোড ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করত। তবে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পিএসএলের ১১তম আসরের সম্প্রচার স্বত্ব ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় দর্শকরা এবার টিভিতে বা অনলাইনে পিএসএল উপভোগ করতে পারবেন না। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে আইসিসি এবং ভারতকে একটি বাণিজ্যিক বার্তা দিতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ বয়কট ও আইসিসির উদ্বেগ গত ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলবে না। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের পর আইসিসি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি সভা ডেকেছে। আইসিসি সতর্ক করে বলেছে, টুর্নামেন্টের মাঝে কোনো নির্দিষ্ট দলকে বয়কট করা বৈশ্বিক ক্রিকেটের চেতনা বিরোধী এবং এর ফলে পিসিবির ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট ২০২৫ সালে পেহেলগামের একটি ঘটনার পর ভারতের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মাঝপথেই পিএসএল সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার পিসিবি আগেভাগেই ভারতের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল। বিশ্লেষকদের মতে, এতে পিসিবি আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তারা এই ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত। উল্লেখ্য, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল ভেন্যু ভারত হলেও পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাকিস্তানে পিএসএল সম্প্রচার করে এ স্পোর্টস ও পিটিভি স্পোর্টস। বাংলাদেশে এর স্বত্ব রয়েছে টি স্পোর্টসের কাছে। তবে ভারতের বড় বাজারটি এবার পিসিবির স্বপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের কারণে শূন্যই থাকছে।


পাক-ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবি-কে আইসিসি-র কড়া সতর্কবার্তা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১০:১৫:২৬
পাক-ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে পিসিবি-কে আইসিসি-র কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা। পাকিস্তান সরকারের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার মুখ খুলেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিসিবি-কে প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ক্রিকেটের প্রকৃত সৌন্দর্য। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানালেও সংস্থাটি মনে করে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের এই অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক এবং কোটি কোটি ভক্তের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। আইসিসি আরও স্পষ্ট করেছে যে, পিসিবি বিশ্ব ক্রিকেট কাঠামোর একজন সদস্য ও নিয়মিত সুবিধাভোগী হিসেবে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তার দীর্ঘমেয়াদী এবং উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পাকিস্তানের ক্রিকেটের ওপরই পড়তে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা সব সদস্য দেশের যৌথ দায়িত্ব। এই অবস্থায় আইসিসি আশা করছে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটি সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মর্যাদা রক্ষা করবে। মূলত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানের এই অবস্থান ক্রিকেট বিশ্বে এখন বড় ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতার আভাস দিচ্ছে।


ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তানের

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২১:২১:৫১
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা পাকিস্তানের
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে সবুজ সংকেত দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক শেষে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিদের বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি দেওয়া হলেও ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি বয়কট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “পাকিস্তান সরকার ক্রিকেট দলকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না।” এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সাবেক চ্যাম্পিয়নরা তাদের বিশ্বকাপ ভেন্যু শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করবে।

আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সাথে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বিশেষ বৈঠকে এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মূলত বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই পাকিস্তান শুরুতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। উল্লেখ্য, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু টেনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে ম্যাচ খেলতে আপত্তি জানিয়েছিল। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় এবং বদলি দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আইসিসির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটিতে কেবল পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি নিজেরাও টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামার অনড় অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি নিয়ে আইসিসি এখন বড় ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতার মুখে পড়তে যাচ্ছে।


অল-ফরম্যাট ক্রিকেটারের আকাল: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় রদবদল আনছে বিসিবি 

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ২০:৫২:০০
অল-ফরম্যাট ক্রিকেটারের আকাল: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় রদবদল আনছে বিসিবি 
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিয়মিত অল-ফরম্যাট ক্রিকেটারের অভাব বিবেচনায় ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই চুক্তিতে সব মিলিয়ে ২৭ জন ক্রিকেটারের নাম থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির তালিকা এবং সংশোধিত বেতন কাঠামো এখনো বোর্ড সভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেও ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে যখন টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য আলাদা চুক্তির পরিবর্তে ৫টি ক্যাটাগরি (এ প্লাস, এ, বি, সি ও ডি) চালু করা হয়েছিল, তখন তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে রাখা হয়েছিল এই বিশেষ ক্যাটাগরি। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় দলের কেউই তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলছেন না বিধায় এই ক্যাটাগরি রাখার যৌক্তিকতা দেখছে না বোর্ড।

বিসিবির উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা ছিল ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির প্রধান শর্ত, যা বর্তমানে পূরণ হচ্ছে না। বোর্ড ইতোমধ্যে ২৭ জন ক্রিকেটারের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এবারের চুক্তিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নাম না থাকা একটি বড় পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ায় স্বভাবতই তিনি তালিকার বাইরে চলে গেছেন। তবে আগের চুক্তিতে থাকা বাকি ২১ জন ক্রিকেটার তাদের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

নতুন চুক্তির সম্ভাব্য তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছেন উদীয়মান ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল ৬ জন ক্রিকেটার। তারা হলেন— শামীম হোসেন পাটোয়ারী, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম ও হাসান মুরাদ। পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাদের অন্তর্ভুক্তির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই ২৭ জনের তালিকায় রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহিদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, শাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, জাকের আলী অনিক, তানজিদ হাসান তামিম, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও খালেদ আহমেদ। বোর্ড সভায় অনুমোদন পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করবে বিসিবি।


বাংলাদেশ ইস্যু: অলিম্পিক আয়োজন হারাতে পারে ভারত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১১:৫১:০১
বাংলাদেশ ইস্যু: অলিম্পিক আয়োজন হারাতে পারে ভারত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের সরে দাঁড়ানোর আকস্মিক সিদ্ধান্ত ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রীড়াঙ্গনে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণে ভারতের অলিম্পিক 'বিড' বা আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। মূলত বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ আইসিসি প্রত্যাখ্যান করার পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইসিসি-কে দিয়ে এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করিয়েছে। বর্তমানে আইসিসি-র শীর্ষ পদে থাকা জয় শাহ ও সঞ্জোগ গুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বরা সরাসরি ভারতের স্বার্থরক্ষা করছেন বলে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।

গত এক মাসে উত্তর বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা দুই দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ভারত বর্তমানে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আহমেদাবাদে আয়োজন করার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হয়। আইওসি-র একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি ভারতের মাটিতে খেলতে আসতে ভয় পায় বা বয়কট করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ভারতকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

আইওসি অতীতেও খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অলিম্পিক বিড ও সংলাপ স্থগিত করেছিল সংস্থাটি। এখন ভারতকেও বিশ্বাসযোগ্য আয়োজক হিসেবে প্রমাণ দিতে হলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রিকেটীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিশাল বাজারকে আকৃষ্ট করা। তবে আইওসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকলেও তারা খেলাধুলার নিরপেক্ষতা এবং জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না। ফলে আইসিসি-তে বিসিসিআই-এর নিরঙ্কুশ দাপট শেষ পর্যন্ত ভারতের অলিম্পিক আয়োজনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলতে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট অদম্য বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১০:০৫:১৭
বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলতে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট অদম্য বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হারানো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের দীর্ঘ বিরতি কাটাতে এবং খেলার ছন্দে রাখতে নতুন টুর্নামেন্টের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন উদ্দীপনা যোগ করতে মিরপুরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২৬’। টুর্নামেন্টটির বিশেষত্ব হলো, এটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সমাপ্ত হবে।

দল ও নেতৃত্ব বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতায় মোট তিনটি দল অংশগ্রহণ করবে। দলগুলো হলো—ধূমকেতু একাদশ, দুর্বার একাদশ ও দুরন্ত একাদশ। ধূমকেতু একাদশের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। দুর্বার একাদশের অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং দুরন্ত একাদশের দায়িত্ব পালন করবেন আকবর আলী। প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাইজমানি ও ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এই টুর্নামেন্টের জন্য।

কোচিং প্যানেল টুর্নামেন্টে দলগুলোর কোচিং প্যানেলেও রাখা হয়েছে দেশের পরিচিত মুখদের। ধূমকেতু একাদশের হেড কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। দুর্বার একাদশের দায়িত্বে থাকছেন মিজানুর রহমান বাবুল ও তুষার ইমরান। অন্যদিকে, হান্নান সরকার ও রাজিন সালেহ যথাক্রমে দুরন্ত একাদশের হেড কোচ ও সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন নিয়ম ও সূচি ম্যাচে বাড়তি রোমাঞ্চ ও কৌশলগত বৈচিত্র্য আনতে এবারই প্রথম যুক্ত করা হয়েছে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ কনসেপ্ট। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শেষে ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে দর্শকদের জন্য থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচ শুরু হবে।

টিকিটের মূল্য সাধারণ দর্শকদের মাঠে আসার সুযোগ দিতে টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে হাতের নাগালেই। ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিট পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। নর্দার্ন ও সাউদার্ন স্ট্যান্ডের টিকিট ২০০ টাকা এবং ক্লাব হাউজের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখার জন্য দর্শকদের খরচ করতে হবে ১,০০০ টাকা।

পাঠকের মতামত: