নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশে কর্মসূচি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১১:২১:৩৬
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশে কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ ও কার্যকর করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত থাকায় এবার তারা মাঠে নামার কর্মসূচি জোরদার করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ দাবিতে এক বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি–সহ বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। পে-স্কেলের আওতাভুক্ত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি উল্লেখযোগ্য রূপ নেয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এই অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে শুক্রবার সারাদেশে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, কর্মচারীরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আন্দোলনের পথ অনুসরণ করছেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার মধ্যে থেকেই তারা তাদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো গেজেট না আসায় কর্মচারীদের হতাশা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি আরও বিস্তৃত ও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নবম পে-স্কেলের বাস্তবায়ন সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করছেন, গেজেট প্রকাশ বিলম্বিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অসন্তোষ ও অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের জন্য সময়ের দাবি।

-রফিক


আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১১:১৮:৫২
আজ কোন কোন এলাকায় গ্যাস থাকবে না জেনে নিন
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস পাইপলাইন প্রতিস্থাপন ও জরুরি কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতি বিরাজ করবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস ব্যবহারে ভোগান্তি দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, শীতলক্ষ্যা নদী ও আদমজী ইপিজেড এলাকায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা প্রায় ২১ ঘণ্টা গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকবে। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব পড়বে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে। পাশাপাশি পঞ্চবটি ও মুক্তারপুর এলাকা, মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এবং শ্যামপুর বিসিক শিল্প এলাকাতেও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এসব অঞ্চলের আশপাশের এলাকাগুলোতেও কোথাও কোথাও গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে পারে অথবা চাপ অত্যন্ত কম থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

তিতাস গ্যাস জানায়, আদমজী ইপিজেড এলাকার ভেতরে অবস্থিত ২০ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চালন পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও কার্যকর রাখতে এই পাইপলাইন পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কাজটি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্যাস সরবরাহ আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়, নেপথ্যে কী

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১০:২৭:২৪
৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়, নেপথ্যে কী
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আগাম কারিগরি প্রস্তুতি শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে Northern Electricity Supply PLC (নেসকো)।

নেসকোর সিরাজগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ থেকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগটির নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দারের স্বাক্ষর রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোট ছয় ঘণ্টা সিরাজগঞ্জ দপ্তরের অধীন ১১ কেভি মাসুমপুর ও সার্কিট হাউস ফিডারের আওতাভুক্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এই সময়ে জরুরি মেরামত, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ লাইনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণের কাজ করা হবে।

নেসকো জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে যাতে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট না ঘটে এবং একই সঙ্গে আসন্ন গরমের মৌসুমে লোডশেডিং এড়ানো যায়, সে লক্ষ্যেই এই আগাম রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত এই কাজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে বলে সংস্থাটি আশা করছে।

এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ফলে সিরাজগঞ্জ শহরের মাসুমপুর, মাসুমপুর কারিগর পাড়া, হাজী আহম্মেদ আলী রোড, বাজার স্টেশন, নিউ মার্কেট, কাচারী পাড়া, বগুড়া বাসস্ট্যান্ড, চক শিয়ালকোল এবং দিয়ার বৈদ্যনাথসহ আশপাশের এলাকাগুলোর গ্রাহকরা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন সময়সহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন রাখতে এই ধরনের পরিকল্পিত কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকদেরই উপকারে আসবে।

-রফিক


শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপিসহ নানা দলের কর্মসূচি, জেনে নিন বিস্তারিত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১০:২১:২০
শুক্রবার রাজধানীতে বিএনপিসহ নানা দলের কর্মসূচি, জেনে নিন বিস্তারিত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই রাজনৈতিক দল, সরকারি দপ্তর ও নানা সংগঠনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচির কারণে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। ফলে সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে কোথায় কী কর্মসূচি রয়েছে, তা জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনা এড়ানো সহজ হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে যেসব রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর Hotel Sonargaon–এর বলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরো আয়োজন পরিচালনা করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। এই কর্মসূচিকে ঘিরে হোটেল সোনারগাঁও ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।

তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগ

সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের উদ্যোগে বনানী কাঁচাবাজার এলাকায় ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। তারেক রহমানের পক্ষে এই গণসংযোগ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও প্রচার দলের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ সময় বনানী ও আশপাশের সড়কে বাড়তি ভিড় ও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী জনসভা

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন আজ বাদ জুমা পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ধূপখোলা মাঠে একটি বড় নির্বাচনী জনসভা আয়োজন করবেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দয়াগঞ্জ ও ধূপখোলা এলাকার সড়কগুলোতে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হতে পারে।

নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী গণসংযোগ

সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত বসুন্ধরা ও বাড্ডা পূর্ব থানা এলাকার ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালাবেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি সম্মিলিত ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর আহ্বায়ক। দীর্ঘ সময়ব্যাপী এই কর্মসূচির কারণে বসুন্ধরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের গতি ব্যাহত হতে পারে।

তাসনিম জারার গণসংযোগ

বিকেল ৪টা থেকে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত মুগদা এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেবেন ডা. তাসনিম জারা। গণসংযোগের পাশাপাশি বিকেল ৫টায় মুগদা বড় মসজিদ এলাকায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ সময় মুগদা ও আশপাশের সড়কে অতিরিক্ত জনসমাগম হতে পারে।

নগরবাসীর জন্য পরামর্শ

আজকের এসব কর্মসূচির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট ও সড়ক বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে। তাই অফিস, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বের হওয়ার আগে বিকল্প রুট বিবেচনা করা এবং সময় হাতে রেখে বের হওয়াই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

-রাফসান


আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১০:১৭:৪৬
আজ শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে
ছবি: সংগৃহীত

নগরজীবনের প্রতিদিনের ব্যস্ততায় কেনাকাটার প্রয়োজনে মানুষকে ছুটতে হয় রাজধানীর নানা মার্কেট ও বিপণিবিতানে। কিন্তু ঢাকার তীব্র যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যদি দেখা যায় দোকানের শাটার নামানো, তাহলে ভোগান্তি ও হতাশা দুটোই বাড়ে। সে কারণে আগেভাগে জানা থাকলে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকান, বাজার ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

আজ যেসব শপিং সেন্টার ও বাজার বন্ধ

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আজ ঢাকার পুরান ও নতুন অংশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট এবং শ্যামবাজারের পাইকারি দোকানগুলো। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট ও রাজধানী সুপার মার্কেট।

পুরান ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর মধ্যেও আজ বন্ধ থাকবে দয়াগঞ্জ বাজার, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চক বাজার, বাবু বাজার, নয়া বাজার, কাপ্তান বাজার ও ইসলামপুরের কাপড়ের দোকানসমূহ। পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসার জন্য পরিচিত ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট ও সান্দ্রা সুপার মার্কেটেও আজ লেনদেন হবে না।

আজ যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ

শুধু বাজার নয়, রাজধানীর কয়েকটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানও আজ সাপ্তাহিক ছুটির আওতায় বন্ধ থাকবে।

বিজয় সরণিতে অবস্থিত সামরিক জাদুঘর সাধারণত প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ জাদুঘর বন্ধ থাকে।

আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর শনি থেকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে।

এ ছাড়া দোয়েল চত্বরের পাশে অবস্থিত শিশু একাডেমি জাদুঘর রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে শুক্রবার ও শনিবার এই জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়।

শুক্রবারে কেনাকাটা বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট বাজার ও স্থানের সাপ্তাহিক ছুটির সূচি জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে যানজট পেরিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে এবং সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।


কুমিল্লা-৩ আসনের কায়কোবাদের বড় জয়: জামায়াত প্রার্থীর রিট খারিজ

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৭:৩০:১১
কুমিল্লা-৩ আসনের কায়কোবাদের বড় জয়: জামায়াত প্রার্থীর রিট খারিজ
ছবি : কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি ও মন্ত্রী, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল মনোনয়ন চ্যালেঞ্জ করে রিট দাখিল করলেও আদালত তা খারিজ করেছে।হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, দৈত্ব নাগরিক সংক্রান্ত প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পারবেন এবং ফলাফল ও গেজেটেও কোনো বাধা নেই।

তবে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকরা ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা আদালতকে অবমাননা করার সমতুল্য।

কায়কোবাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্বাচনে কোনো সমস্যা নেই। জামায়াতের অপপ্রচার বিভ্রান্তিকর।”মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন, “জামায়াত বরাবরের মতো মিথ্যাচার ও অপপ্রচারে ব্যস্ত। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”


ঐক্যের ডাক দিয়ে কুমিল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৭:০৮:৪৮
ঐক্যের ডাক দিয়ে কুমিল্লা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান। বুধবার (৪ ফেব্রয়ারি) দিবাগত রাতে মুরাদনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় দলটির পক্ষ থেকে ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে সমর্থন দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে দুঃশাসন, ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্রের সংকট চলছে। জনগণের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হওয়ার এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় জোট ও স্থানীয় সমঝোতার ভিত্তিতে মুরাদনগর উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পারস্পরিক আলোচনা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক উপলব্ধির মাধ্যমে জোটবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঐক্য কোনো সাময়িক কৌশল নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দায়বদ্ধতা থেকে জন্ম নেওয়া একটি ঐক্য।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অন্যায়-দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মুরাদনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোই এই জোটের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি একটি জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বিভক্তি নয়, ঐক্যই জনগণের শক্তি। এই ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, এটি মুরাদনগরের মানুষ, দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের পক্ষে নেওয়া একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

এ সময় তিনি মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণ, তরুণ সমাজ ও গণতন্ত্রকামী সব শক্তির প্রতি এই ঐক্যের পাশে থাকার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সমঝোতার আলোকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ, ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সব নেতাকর্মীকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ উদ্দিন শহীদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব সরকার, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. কামাল, সাধারণ সম্পাদক রশিদ রানা, অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, কার্যকরী সদস্য জহিরসহ ছাত্র, যুব ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতারা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১১:২৪:১১
জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের পক্ষে সরাসরি মাঠে নামতে দেখা গেছে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্তত ২০ জন প্রভাবশালী নেতা-কর্মীকে। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর জনসমক্ষে এসে তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়েছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের এই উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপস্থিত নেতারা দাবি করেন, তাঁরা সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশেই ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, এই আসনটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত হওয়ায় এবং বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা নূর-ই আলম চৌধুরীর অনুসারী হওয়ায়, তাঁর ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েই পলাতক নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। এতে দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর তুলনায় নাদিরা আক্তার ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছেন বলে দলটির একাংশ মনে করছে।

বৈঠকে শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাহার ব্যাপারী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা এবং চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি, মাদবরেরচরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত সাতজন চেয়ারম্যান সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। উঠান বৈঠকে শিবচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন খান তাঁর বক্তব্যে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।

বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "আমাদের দলের চেয়ারম্যান বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ, তাই আমরা বলব সবার আগে শিবচর। কে কোন দল করল সেটা বড় বিষয় না, বড় বিষয় হলো আমরা সবাই মানুষ।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো অযথা হয়রানি করা হবে না এবং কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না। শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে এসেছেন এবং এটি কোনো দলকে পুনর্বাসিত করার বিষয় নয়।

উল্লেখ্য, এই আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বিএনপির প্রথম প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করে দ্বিতীয় দফায় নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সম্প্রতি দলের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের অন্য অংশের নেতাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। শিবচরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ‘আওয়ামী-বিএনপি’র বিশেষ নির্বাচনী সমীকরণ এখন সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরে ভূতুড়ে নীরবতা: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:৫৬:৩০
চট্টগ্রাম বন্দরে ভূতুড়ে নীরবতা: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ইঞ্জিনের গর্জন নেই, নেই পণ্যবাহী ট্রাকের চিরচেনা জট—দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর এখন এক ভূতুড়ে নীরবতায় আচ্ছন্ন। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতিতে গত বুধবারও বন্দরের মূল তিনটি টার্মিনাল ছিল পুরোপুরি জনশূন্য। জেটির বিশালাকার গ্যান্ট্রি ক্রেনগুলো আকাশের দিকে মুখ করে স্থির দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি যেন পুরো বাংলাদেশের থমকে যাওয়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেরই প্রতিচ্ছবি।

চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটি—যা ২৪ ঘণ্টা সচল থাকত, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। গতকাল বুধবার সকালে বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, পণ্য ওঠানো-নামানোর অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো অলস পড়ে আছে এবং জেটিতে থাকা ১৪টি জাহাজ পণ্য খালাস করতে না পেরে আটকা পড়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে নতুন কোনো জাহাজ জেটিতে ভেড়ানো যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি বহির্নোঙরে যাওয়ার জন্য তৈরি জাহাজগুলোও বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। আন্দোলনকারীরা বন্দরের প্রতিটি প্রবেশপথে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি, ফলে জেটি থেকে ইয়ার্ড সর্বত্রই এখন জনমানবহীন। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের ৪ নম্বর গেটের সামনে পণ্যবাহী লরি ও ট্রেইলারের দীর্ঘ সারি থাকলেও গতকাল গেটটি ছিল তালাবদ্ধ। জেটি ও বহির্নোঙর মিলিয়ে বর্তমানে ১৪২টি জাহাজ অলস বসে আছে।

এই অচলাবস্থার ফলে বাজারে চিনি, ভোজ্যতেল ও ডালের মতো নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আমদানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, রমজান মাসের আগে এই জট না ছুটলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এদিকে বেসরকারি ডিপোগুলোয় গতকাল পর্যন্ত ১০ হাজার ৮১৭ টিইইউস রপ্তানি কনটেইনার আটকা পড়েছে। বিদেশি জাহাজগুলো যদি পণ্য না নিয়ে বন্দর ত্যাগ করে, তবে তৈরি পোশাক খাতের শত শত কোটি টাকার ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরুর পর কনটেইনার খালাসের হার নাটকীয়ভাবে কমেছে; যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার একক কনটেইনার খালাস হতো, তা গত সোমবার নেমে এসেছে মাত্র ১ হাজার ২৩০ টিইইউসে। বর্তমানে বন্দরে কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩১২ টিইইউস।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পাল্লাও ভারী হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কর্মবিরতির কারণে তা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। বন্দরের ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার কনটেইনারের বিপরীতে বর্তমানে ৫২ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার জমে আছে। ডিপো মালিক সমিতির (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার জানিয়েছেন, সময়মতো রপ্তানি কনটেইনার পাঠাতে না পারলে বিদেশি জাহাজগুলো সেগুলো রেখেই বন্দর ত্যাগ করবে, যা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় সংকট। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করলেও আন্দোলন প্রশমিত হয়নি। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিটি ইজারা বাতিল ও বদলি আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই অচল অবস্থা বজায় থাকবে। শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন এই সংকট দ্রুত সমাধানে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন, অন্যথায় সাধারণ ভোক্তার ওপর এর চরম প্রভাব পড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ


ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সাবধান:আজ ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ০৯:২৫:০৯
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সাবধান:আজ ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ
ছবি : সংগৃহীত

ব্যস্ততম এই নগরীতে কেনাকাটা বা জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে জেনে নেওয়া ভালো আজ রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। ঢাকার এলাকাভেদে সাপ্তাহিক ছুটির ভিন্নতা থাকায় আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ও শপিং মল বন্ধ থাকবে। তীব্র যানজট ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছে ফিরে আসা যেন না লাগে, সেজন্য মার্কেট বন্ধের এই তালিকাটি দেখে নিন।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে আজ রাজধানীর বেশ কিছু জনবহুল এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী ও গাবতলী এলাকা। মিরপুর স্টেডিয়াম, চিড়িয়াখানা, টেকনিক্যাল ও কল্যাণপুর এলাকাতেও আজ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এছাড়া আসাদগেট, ইস্কাটন, মগবাজার, বেইলি রোড ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় মার্কেটগুলো খুলবে না। মালিবাগের একাংশ, শাজাহানপুর, শান্তিনগর, শহীদবাগ ও শান্তিবাগ এলাকাতেও আজ কেনাকাটা করা যাবে না। রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরারপুল ও পল্টন এলাকায় আজ সাপ্তাহিক ছুটি। এছাড়া কাকরাইল, বিজয় নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা, রমনা শিশু পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও নিউমার্কেট এলাকার দোকানপাট আজ বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট এলাকাভিত্তিক ছুটির কারণে আজ বেশ কিছু বড় শপিং কমপ্লেক্স ও মার্কেট বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং ও বিআরটিসি মার্কেট। শ্যামলী হল মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট ও মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সও আজ খুলবে না। মিরপুর মাজার কর্পোরেট মার্কেট ও শাহ্ আলী সুপার মার্কেটেও আজ সাপ্তাহিক ছুটি। মগবাজার ও বেইলি রোড এলাকার মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ও কনকর্ড টুইন টাওয়ার আজ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, জোনাকি সুপার মার্কেট, পল্টন সুপার মার্কেট ও স্টেডিয়াম মার্কেট (১ ও ২) আজ বন্ধ থাকবে। গুলিস্তান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট ও সাকুরা মার্কেট আজ দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের জন্য বন্ধ থাকবে।

পাঠকের মতামত: