পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:৪৮:১৬
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও সেখানে কয়েক লাখ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া এবং তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার বিষয়টি উদ্বেগজনক। নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেখানে মুসলিম, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্যাতনের খবর আসছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য বাংলাদেশকেই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশবিরোধী শক্তির উসকানি ও সাম্প্রদায়িক প্রোপাগান্ডা বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলের ভেতরে সব ধরনের দ্বন্দ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে এখনকার প্রধান জাতীয় দায়িত্ব।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্যের অভিযোগ, সংসদে মির্জা ফখরুল-নাহিদের বাগ্বিতণ্ডা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ২১:৩৬:০০
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্যের অভিযোগ, সংসদে মির্জা ফখরুল-নাহিদের বাগ্বিতণ্ডা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ অধিবেশনে তীব্র উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে হান্নান মাসউদের মন্তব্যকে ‘ভুল তথ্য’ ও ‘অসত্য’ আখ্যা দিয়ে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার দাবি জানিয়েছে সরকারি দল বিএনপি।

রোববার (২১ ২১ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাজেটের আলোচনা করতে গিয়ে বক্তব্যের একপর্যায়ে অনুপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন নোয়াখালী-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখানে নেই। কিন্তু উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন বিরোধী দল মিছিল করতেছে মদের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বা সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করার কারণে—এমন অসত্য তথ্য দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন আমরা খুবই আশাহত হই।”

ঋণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য টেনে তিনি আরও বলেন, “যখন ঋণ নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলতে যাই, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলে আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই, এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করে।”

হান্নান মাসউদের এই মন্তব্যের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। জবাবে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “এখানে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক দাঁড়িয়ে বলেছেন হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়েছে।

কিন্তু কোন তথ্যটা ভুল ছিল, সেটা বলেনি।” নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্লিপ অব টাং ভুল বলেছেন, পরে সেটা তিনিই শুধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে। ওনাকে আমরা সম্মান করি এর মানে এই না যে তার বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না।”

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পরই তীব্র আপত্তি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হান্নান মাসউদের বক্তব্যের আপত্তিকর ও অসত্য অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করতে স্পিকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য এখানে মেনে নেওয়া যাবে না।” মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মাঝেই বিএনপি ও জামায়াত সদস্যদের মধ্যে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ আবার দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং কড়া ভাষায় তিরস্কার করে বলেন, “যখন খুশি দাঁড়াবেন এটা সংসদের রীতি না। আপনি বসেন। হান্নান মাসউদ, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, এটা জাতীয় সংসদ।”

ডেপুটি স্পিকারের এই মন্তব্যের পরপরই পরিস্থিতি শান্ত করতে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সংসদের বাইরে কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক টেনে না আনার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “এটা সত্য-এটা অসত্য এই ঝগড়ায় যদি যাই তাহলে অনেক কিছু আমাদের জন্য লজ্জাজনক হয়ে যাবে। আমি চাচ্ছি না কারো সম্মানের সাথে এই লজ্জাটা লেগে থাকুক। আমি অনুরোধ করবো এই বিষয়ের পুরাটাই আপনি এখান থেকে ইগনোর করুন, সেটাই কল্যাণকর হবে।” জামায়াত আমিরের এই ইগনোর (এড়িয়ে যাওয়া) করার পরামর্শ ও হস্তক্ষেপে বিষয়টি সেখানেই থেমে যায় এবং পরে এই ইস্যুটি নিয়ে সংসদে আর কোনো আলোচনা করা হয়নি।

/আশিক


সংসদ অধিবেশনে হঠাৎ উত্তাপ, হান্নান মাসুদের আচরণে ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৯:৫২:০১
সংসদ অধিবেশনে হঠাৎ উত্তাপ, হান্নান মাসুদের আচরণে ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে স্পিকারের অনুমতি ছাড়া হঠাৎ দাঁড়িয়ে কথা বলা এবং হইচই করার অপরাধে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল হান্নান মাসউদকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নোয়াখালীর এই তরুণ এমপির আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা কায়সার কামাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি বসুন, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।”

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে সময় সংসদে বক্তব্য রাখছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ করে নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য ডেপুটি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন হান্নান মাসুদ। সংসদীয় রীতিনীতি লঙ্ঘন করে হুট করে দাঁড়িয়ে পড়ায় তাকে বারবার বসার তাগিদ দেন ডেপুটি স্পিকার।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ক্ষুব্ধ কণ্ঠে হান্নান মাসুদের উদ্দেশে বলেন, “হান্নান মাসুদ আপনি বসুন। সংসদে কথা বলার জন্য আপনি যখন খুশি তখন দাঁড়াবেন, দিস ইস নট দ্য নর্ম (এটি নিয়ম নয়)। মাননীয় সদস্য দয়া করে আপনি বসুন।” কিন্তু স্পিকারের এই বারবার নির্দেশনা সত্ত্বেও হান্নান মাসুদ না বসে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং তাকে কথা বলার ফ্লোর দেওয়ার জন্য অনবরত দাবি জানাতে থাকেন।

একপর্যায়ে হান্নান মাসুদকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে ডেপুটি স্পিকার কঠোর ভাষায় বলেন, “হান্নান মাসুদ এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ। আপনি আপনার সিটে বসুন।” স্পিকারের এই কঠোর মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমপি হান্নান মাসুদ তার আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত উঁচিয়ে সংসদের ভেতর চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। সংসদের এই হট্টগোলের জেরে অধিবেশনে উপস্থিত অন্য সদস্যদের মধ্যেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

/আশিক


আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গুম করলাম: ট্রাইব্যুনালে সাবেক বডিগার্ডের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৯:৪৭:০৬
আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গুম করলাম: ট্রাইব্যুনালে সাবেক বডিগার্ডের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামি, সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁরই একসময়ের বডিগার্ড (রানার) ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস।

রোববার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে তাঁর এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণকালে অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে রংপুর সেনানিবাসের বর্তমান ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করার নেপথ্য ঘটনা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ ও স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ তাঁরা একটি মাইক্রোবাসে করে মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান।

সেখানে গাড়িতে বসে জিয়াউল আহসান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে ‘টার্গেট’ কখন আসবে তা ট্র্যাকিং করছিলেন। সেদিনের মিশন ব্যর্থ হলেও, পরে ছুটিতে গিয়ে ইমরুল জানতে পারেন যে বনানী-মহাখালী এলাকা থেকেই ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয়েছে। ছুটি শেষে র‍্যাব সদর দপ্তরে ফিরে তিনি এক থমথমে পরিবেশ দেখতে পান এবং জানতে পারেন যে অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ জিয়াউল আহসান নিজেই ধ্বংস করে ফেলেছেন।

জবানবন্দির সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশে ইমরুল কায়েস জানান, একদিন জিয়াউল আহসানের কাছে শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর ফোন আসে। তখন ফোনে ক্ষুব্ধ জিয়াউল আহসানকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ (গুম) করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে! এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠায়ে দেন, এটাই আমার ভালো।” সাক্ষী আরও দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের রানার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি তাঁকে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মানুষকে বিভিন্নভাবে হত্যার সাথে জড়িত থাকতে দেখেছেন।

এদিকে, জবানবন্দি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, তদন্ত ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে যে ইলিয়াস আলীকে জিয়াউল আহসানই অপহরণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, জিয়াউলের এই ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে বিস্তৃত ছিল। সাক্ষীর বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এ প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে ইনজেকশন পুশ করে অথবা মাথায় গুলি ঠেকিয়ে হত্যার পর বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে জাফলং সীমান্তে আসামি এনে মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যার মতো ভয়ানক ‘জাফলং অপারেশন’ পরিচালনা করেছিলেন জিয়াউল। জবানবন্দি শেষে নিজের জীবনের চরম নিরাপত্তা হীনতার কথা উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিশেষ সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।

/আশিক


রাশেদ খাঁনকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ গরুর সাথে গল্পের পরামর্শ এমপি হানজালার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২১ ১৮:৩৮:৫৫
রাশেদ খাঁনকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ গরুর সাথে গল্পের পরামর্শ এমপি হানজালার
ছবি : সংগৃহীত

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এবং বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ও ব্যঙ্গাত্মক বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনের দেওয়া একটি আক্রমণাত্মক পোস্টের জবাবে আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি রসাত্মক ও কটাক্ষপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন এমপি হানজালা।

কাউন্টার পোস্টে এমপি হানজালা লেখেন, "রাশেদ খাঁন আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকব বাঘের সাথে—বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না!" রাশেদ খাঁনকে সরাসরি নিশানা করে তিনি আরও লেখেন, "আর রাশেদ খাঁনকে রেখে আসব ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে এক গরুর পাশে। দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে!" স্ট্যাটাসের শেষে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের প্রতি রসিকতা ছুঁড়ে দিয়ে এই সংসদ সদস্য লেখেন, "চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ—গরুটা যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে!"

এর আগে শনিবার বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে এমপি হানজালার তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘অদ্ভুত প্রাণী’ ও ‘ম্যানারলেস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, এক বিএনপি নেতার সঙ্গে হানজালার আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক ছিল এবং তাকে টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় দেখার ব্যবস্থা করা উচিত।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো, হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মত ট্রিট করে।" রাজনৈতিক শূন্যতার কারণে বিএনপিকে এই আচরণ হজম করতে হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরও লেখেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ওই বিএনপি নেতা "এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।" দুই নেতার এই ফেসবুক যুদ্ধ এখন নেটদুনিয়ায় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


 ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ২০:৪৮:৫৯
 ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুনের এই দ্বৈত রাষ্ট্রীয় সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়া, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক চীন। দুই দেশের এই শীর্ষ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বহুপক্ষীয় জোটে নিজেদের অবস্থান পাকা করার একটি কৌশলগত মিশন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম স্পষ্ট করেছেন যে, এই সফরে সরকারি অপচয় রোধে সফরসঙ্গীর সংখ্যা মাত্র ২৮ জনে সীমিত রাখা হয়েছে, যা বৈদেশিক সফরের ক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

মালয়েশিয়া মিশন (২১–২২ জুন): লক্ষ্য যখন শ্রমবাজার ও আসিয়ান

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ জুন (রোববার) দুপুরে কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম এই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত রেমিট্যান্স এবং জনশক্তি কেন্দ্রিক হলেও, এবারের সফরে এজেন্ডার পরিধি অনেক বিস্তৃত।

প্রধান এজেন্ডা ও কৌশলগত আলোচনা:

জি-টু-জি (G2G) কর্মী নিয়োগের গতি বৃদ্ধি: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রথা দূর করে পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন শিল্প খাতে (বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ও কনস্ট্রাকশন) আরও বেশি নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোচিপ শিল্পে অংশীদারিত্ব: মালয়েশিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং হাব। বাংলাদেশ তার হাই-টেক পার্কগুলোর উন্নয়নে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা এবং যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে।

আসিয়ান (ASEAN) সদস্যপদ ও রোহিঙ্গা সংকট: ২০২৬ সাল নাগাদ আসিয়ানের কার্যকর অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ। জোটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মালয়েশিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চায়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা দাবি করা হবে।

হালাল অর্থনীতি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য: বিশ্বজুড়ে মালয়েশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন (JAKIM) অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের উদীয়মান খাদ্য ও ওষুধ শিল্পকে এই হালাল ইকোসিস্টেমে যুক্ত করার রোডম্যাপ তৈরি হবে।

চুক্তি ও দলিল সইয়ের সম্ভাবনা:

১. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক কমাতে এফটিএ বা প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (PTA) এর প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে।২. সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রটোকল: পর্যটন ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে একটি সমঝোতা স্মারক।

চীন মিশন (২৩–২৬ জুন): সামার দাভোস ও বেইজিংয়ের মেগা ডিল

২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের উইন্ডো সিটি বা বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের এই পাঁচ দিনের সফরটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—প্রথমটি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) মঞ্চে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব উপস্থাপন এবং দ্বিতীয়টি বেইজিংয়ে শীর্ষ নেতাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বোঝাপড়া।

২৩ জুন ২০২৬

সকাল (WEF শীর্ষ বৈঠক): বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও-র সাথে একান্ত বৈঠক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (4IR) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের তরুণদের যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা।

দুপুর (বহুপক্ষীয় কূটনীতি): সামার দাভোসে অংশ নেওয়া কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

বিকেল (মূল ভাষণ): 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং global ল্যান্ডস্কেপ' সেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক তহবিল (Loss and Damage Fund) ছাড়ের দাবি তুলবেন তিনি।

সন্ধ্যা: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্রীয় স্বাগত নৈশভোজে অংশগ্রহণ।

২৪ জুন ২০২৬

সকাল: 'ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল' প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান।

দুপুর: চীনের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে চেপে দালিয়ান থেকে বেইজিং যাত্রা। এর উদ্দেশ্য চীনের উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ। বেইজিংয়ে পৌঁছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান।

২৫ জুন ২০২৬

সকাল (অর্থনৈতিক কূটনীতি): চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের (Exim Bank) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক। বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ ও রেয়াত সময় (Grace Period) বৃদ্ধির প্রস্তাব।

দুপুর (বিনিয়োগ সম্মেলন): বিডা (BIDA) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ চীনের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির নির্বাহীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তুলে ধরে বক্তব্য।

বিকেল (আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক): গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক। দুই দেশের উপস্থিতিতে ১৫-১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই।

২৬ জুন ২০২৬

সকাল: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সাথে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা।

দুপুর (মাস্টার স্ট্রোক বৈঠক): চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এই বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চীনা সহায়তার (Currency Swap) মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিকেল: তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঢাকার উদ্দেশ্যে বেইজিং ত্যাগ।

বেইজিংয়ে কী কী চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) হতে যাচ্ছে?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন সফরে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। এর বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:

১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU): যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ইকোনমি, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, কৃষি প্রযুক্তি স্থানান্তর, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।

২টি মূল চুক্তি: অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত।

১টি কর্মপরিকল্পনা (Action Plan): আগামী ৫ বছরের জন্য চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বের রোডম্যাপ।

১টি প্রটোকল: বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্য (যেমন আম, চামড়া ও পাটজাত পণ্য) চীনে শুল্কমুক্ত রপ্তানির প্রটোকল।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি ও বেসরকারি খাত

এই সফরের অন্যতম বড় ফোকাস হলো বাংলাদেশে প্রস্তাবিত "চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল" (Chinese Economic Zone)। আনোয়ারা বা পটুয়াখালীতে পরিকল্পিত এই বিশেষ জোনে চীনের হেভি ইন্ডাস্ট্রি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সোলার প্যানেল) এবং বৈদ্যুতিক যান (EV) প্রস্তুতকারকদের আনার জন্য চীনের বেসরকারি খাতের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গোলটেবিল বৈঠক করবেন।

দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রভাব (Analyst View):

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য (Balancing Act) রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীন ও মালয়েশিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে বাংলাদেশ তার "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়" ও "সবার আগে বাংলাদেশ" নীতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।


আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, খুলনার সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের ডাক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ২০:১২:১৯
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, খুলনার সমাবেশ থেকে জামায়াত আমিরের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি শোষণ-দুর্নীতিমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, "আগামীর বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কিংবা কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারকে তোষামোদ করার জন্যও নয়। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে দুনিয়ার বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্যই এই বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না। সরকার যদি আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করে, তাহলে আমরা সরকারকেও ছেড়ে কথা বলবো না।"

বক্তব্যে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, "বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া কথা রাখেনি। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন এবং জনরায়কে সম্মান করুন। জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে, তা দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, তবে জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।"

নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে যেন কোনো গৃহযুদ্ধ শুরু না হয়, সেই উদ্দেশ্যে শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তবে কারও চোখ রাঙানিকে তারা পরোয়া করেন না। খুলনাবাসীর ভোটের রায় চুরি ও কারচুপির মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সংসদে আমাদের যে শক্তি আছে, তা নিয়েই আমরা সিংহের মতো লড়াই করে যাব। ফয়সালা যদি সংসদে না হয়, তবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তের মাঠ-ঘাট থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। আর সেই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।" একটি চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তিনি যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

/আশিক


আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১৮:০৭:১৯
আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার এক বিশেষ অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান, সাবেক পুলিশ প্রধানের গ্রেপ্তার এবং রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শুরুতেই দেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণাত্মক ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে বর্তমানে কোনো বৈধ বা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করি না; এটি মূলত একটি ‘মাফিয়া পার্টি’। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বর্তমানে তাদের সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রকাশ্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে।” তবে দলটির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সরকারের বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে তারা যেন দেশের কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

আলোচিত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের (Interpol) সহযোগিতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইতিমধ্যে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে দেশের আদালতে দায়ের হওয়া মামলাসহ প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক সব আইনি কাগজপত্র ইতিমধ্যে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, দেশটির সরকার দ্রুতই তাদের অভ্যন্তরীণ সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে।”

দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা মোহাম্মদপুরের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকাটি গত বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য বা চারণভূমি হয়ে রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। খুব দ্রুতই পুরো মোহাম্মদপুর এলাকাকে সম্পূর্ণ আইনি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে এবং এখানকার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত সব অপরাধীকে গোড়া থেকে নির্মূল করা হবে।”

পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা এবং বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও জনগণের নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, যা ইতিমধ্যে দেশের সব সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর এই প্রশংসনীয় ও গৌরবময় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাদের কাজের গতি আরও বেগবান করতেই আজ যোগ্য সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।”

/আশিক


শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ০৮:৪৮:৫৪
শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে শিলিগুড়ি করিডর বা কথিত ‘চিকেনস নেক’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চীন-ভারত সীমান্ত, নেপাল, ভুটান এবং তিস্তা অববাহিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কৌশলগত আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ঢাকার সম্ভাব্য কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন শুধু ভৌগোলিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সরু ভূখণ্ডই দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য এবং সিকিমকে স্থলপথে যুক্ত করে। এর উত্তরে নেপাল, ভুটান ও চীনঘেঁষা অঞ্চল; দক্ষিণে বাংলাদেশ। ফলে এই করিডরকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা-পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অবকাঠামো জোরদার, বিমানঘাঁটি উন্নয়ন, সীমান্ত নজরদারি এবং সংযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা বাড়ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই প্রস্তুতির বড় কারণ শুধু বাংলাদেশ নয়; বরং চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা হিসাব।

বাংলাদেশের জন্যও এই অঞ্চলটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রংপুর বিভাগ, তিস্তা নদী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী—সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ এখন শুধু কৃষি বা নদীনির্ভর অঞ্চলের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পানি-নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা উত্তরবঙ্গের কৃষি, জীবিকা, পরিবেশ ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট, নদীভাঙন, চরাঞ্চলের অনিশ্চয়তা এবং কৃষিজ উৎপাদনের ঝুঁকি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।

এই প্রেক্ষাপটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের কাছে শুধু একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়; এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, কৃষি সেচ এবং নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন—এসব বিষয় প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রকল্পে চীনা সহায়তার সম্ভাবনা ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের দৃষ্টিতে, তিস্তা প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় এতে চীনের উপস্থিতি ভবিষ্যতে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের দৃষ্টিতে, তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিকল্প উন্নয়ন সহযোগী খোঁজা অস্বাভাবিক নয়।

লালমনিরহাট বিমানবন্দর ঘিরেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো এই বিমানক্ষেত্র পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, উত্তরবঙ্গে কোনো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে যদি তাতে চীনা কারিগরি বা আর্থিক সহযোগিতা থাকে, তাহলে তা ভারতের শিলিগুড়ি করিডর নিরাপত্তা-চিন্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা হয়।

এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে চীন একটি বড় ফ্যাক্টর। সিকিম, অরুণাচল, তিব্বত এবং ভুটানঘেঁষা সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্ক বহু বছর ধরেই সংবেদনশীল। ২০১৭ সালের দোকলাম সংকট দেখিয়েছে, হিমালয়সংলগ্ন সীমান্তে সামান্য উত্তেজনাও বড় কৌশলগত সংকটে রূপ নিতে পারে। চীন অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকার করে না; অন্যদিকে ভারত এটিকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ভারতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনা, সরঞ্জাম ও রসদ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ স্থলসংযোগ।

তবে এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় অতিরঞ্জিত, উত্তেজনাপূর্ণ ও অসমর্থিত দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের আশঙ্কা, কোথাও উত্তরবঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করার কথিত পরিকল্পনা, কোথাও আবার ধর্মীয় উত্তেজনাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি সামনে আসে। এসব দাবি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করলেও এগুলোর অনেকটির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে তথ্যভিত্তিক, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। কারণ ভুল তথ্য বা উসকানিমূলক বয়ান শুধু জনমতকে বিভ্রান্ত করে না; বরং আঞ্চলিক সম্পর্ককেও আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদী, সীমান্ত ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে আন্তঃনির্ভরশীল। আবার চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে ঢাকার জন্য কোনো একপক্ষের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ রাখাও যুক্তিযুক্ত নয়। এখানে দরকার পরিপক্ব কূটনীতি, স্বচ্ছ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে উন্নয়ন সিদ্ধান্ত নেওয়া।

তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত স্পষ্ট ও বাস্তববাদী। প্রথমত, ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন আলোচনাকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তৃতীয়ত, যে কোনো বিদেশি সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। চতুর্থত, তিস্তা প্রকল্পকে কেবল ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার চোখে না দেখে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অন্যদিকে ভারতের জন্যও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের উদ্বেগকে উপেক্ষা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য, ভিসা জটিলতা, পুশ-ইন বিতর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন—এসব বিষয় দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ায়। যদি ভারত সত্যিই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও শিলিগুড়ি করিডরের স্থিতিশীলতা চায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্কই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি করিডর, তিস্তা ও উত্তরবঙ্গকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এই অঞ্চলকে ঘিরে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত হিসাব ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এই প্রতিযোগিতা যেন সংঘাত, আতঙ্ক বা উসকানিতে রূপ না নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশের নীতি হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ়; সহযোগিতামূলক কিন্তু আত্মসম্মানসম্পন্ন; উন্নয়নমুখী কিন্তু নিরাপত্তা-সচেতন। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, তিস্তার ন্যায্য পানি, সীমান্তের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই ঢাকাকে এগোতে হবে। কারণ শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য যেমন কৌশলগত, তেমনি তিস্তা ও উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের জন্য অস্তিত্ব, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।


এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৯:২৯:২৩
এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আজ তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন সদস্যের উত্থাপিত এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ওই সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না করার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া হাউজে তুলে ধরা। সেখানে একজন সংসদ সদস্যের মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার মতো ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ভাবমূর্তিকে জনগণের সামনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পার্থ আরও মন্তব্য করেন, যদি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সত্যিই একটি মাইক্রোওভেনের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সেটি কিনে দিতে প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে তিনি রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।

পার্থের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, মাননীয় সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, স্পিকার নিজেই প্রথমে নাকজ করেছেন যে এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান নিজের জন্য নয়, বরং সব সংসদ সদস্যের জন্য একটি সুবিধার কথা চেয়েছেন। স্পিকার যথার্থই বলেছেন যে এটি সংসদে না বলে কমিটির কাছে বলা যেত। কিন্তু সেই সূত্র ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ যেভাবে গাড়ি-বাড়ি এবং ব্যক্তিগতভাবে জিনিসপত্র দেওয়ার অফার করলেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। উনার কাছে কেউ কিছু চায়নি যে উনি দান করবেন। সংসদ সদস্যদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ কারও সম্মানে আঘাত না করেন।

উভয় নেতার এই বাদানুবাদের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট 'হাউস কমিটি' রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় বিষয় সেখানে উত্থাপন করাই নিয়ম। স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য নিজের একার জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের সামগ্রিক সুবিধার জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

স্পিকার এই ঘটনাটিকে গুরুতর কোনো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি যোগ করেন, যদিও এটি সংসদে না বললেই ভালো হতো, কারণ এতে জনমনে ভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিষয়টি সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধার মধ্যেও পড়তে পারে। আন্দালিব রহমান পার্থের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার অফার করেছেন, সেটি তার জন্য অসম্মানজনক মনে হতে পারে। তাই এই বিষয় নিয়ে আর বাড়াবাড়ির কোনো দরকার নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: