যুদ্ধবিরতি বহাল, তবু ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১৪:১৭:১০
যুদ্ধবিরতি বহাল, তবু ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। যদিও এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবুও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কথা স্বীকার করছে না।

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তার বক্তব্যে নতুন সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আল্টিমেটামের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ছিল সীমিত পরিসরের এবং সেটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধবিরতির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামান্য সামরিক উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে ইরানও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়নি। তবে তেহরান বারবার অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। ইরানি সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষায় তারা ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হান্টাভাইরাস, কীভাবে ছড়ায়?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১১:২৮:০৮
বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হান্টাভাইরাস, কীভাবে ছড়ায়?
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়া বিরল হান্টাভাইরাসকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে ইতোমধ্যে তিনজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি ধরন মানুষের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে সক্ষম হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রথমদিকে জ্বর, দুর্বলতা, শরীর ব্যথা এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও পরে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে পানি জমা, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক নেই।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করার আগেই এক যাত্রী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার মাধ্যমেই জাহাজের অন্য যাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ নামে পরিচিত এই ধরনটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা সাধারণ হান্টাভাইরাসের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক।

এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে একজন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামানো হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্ত্রীও মারা যান। এছাড়া ২ মে জাহাজে থাকা এক জার্মান নারী পর্যটকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া পাঁচজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ব্রিটেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নতুন করে আর কারও শরীরে উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, হান্টাভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্ত সময় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসতর্কতা জোরদার করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রভিত্তিক ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান, সীমিত চিকিৎসা সুবিধা এবং বন্ধ পরিবেশ ভাইরাস বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং নিয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

-রফিক


তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১১:১০:১৮
তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়েছে। একইসঙ্গে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরে শুক্রবার সকালে এশিয়ার বাজার চালু হলে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও দাম এখনও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় রাত ৩টা পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য দাঁড়ায় ১০১ দশমিক ১২ ডলার। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে এটি ১০৩ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যেকোনো ধরনের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ছোট আক্রমণ নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা পরিচালনা করে।

অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলায় একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ এবং কাছাকাছি থাকা আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি বেসামরিক এলাকাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বড় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় চলাচল সীমিত করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শুক্রবার এশিয়ার বাজার খোলার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক এক শতাংশের বেশি কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও চাপ তৈরি হয়েছে। আগের দিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন মন্দার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে রপ্তানিকৃত তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং খাদ্যপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

-রাফসান


ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:৩২:৫৪
ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী (ফাইল ছবি)

ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর আক্রমণাত্মক অবস্থানে গিয়ে দেশটিকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব এখন আর ভারতের কোনো কথা বিশ্বাস করে না এবং ভারতীয় বয়ান এখন পুরোপুরি ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল আহমেদ শরিফ ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর রাজনীতিকরণ ঘটেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ হয়েছে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং কাশ্মীরিদের ওপর দমন-পীড়ন আড়াল করতে বারবার পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা দায় চাপিয়ে থাকে। পেহেলগাম হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভারত এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে অঞ্চলের প্রধান নিরাপত্তা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জেনারেল আহমেদ শরিফ বলেন, ভারত আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যযুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন ভারতের ‘ভণ্ডামি’ বুঝতে পারছে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


খামেনি-পেজেশকিয়ান আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: বড় কোনো সিদ্ধান্তের পথে ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:৪৯:৩১
খামেনি-পেজেশকিয়ান আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: বড় কোনো সিদ্ধান্তের পথে ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা আলি খামেনির সঙ্গে রাজধানী তেহরানে এক দীর্ঘ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) বিস্তারিত কিছু না জানালেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দুই শীর্ষ নেতার এই আলোচনায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো সর্বোচ্চ নেতার বিনয়ী, আন্তরিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ। পেজেশকিয়ানের মতে, খামেনির দৃষ্টিভঙ্গি ও কথোপকথনের ধরন পুরো বৈঠকের পরিবেশকে বিশ্বাস, শান্তি ও সরাসরি সংলাপভিত্তিক পরিবেশে রূপ দিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার এই ‘সবুজ সংকেত’ ইরানের আগামী দিনের বৈদেশিক নীতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

/আশিক


বেইজিং সফরের আগেই হার মানলেন ট্রাম্প? হরমুজ প্রণালি নিয়ে পিছু হটল ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:২৯:১৫
বেইজিং সফরের আগেই হার মানলেন ট্রাম্প? হরমুজ প্রণালি নিয়ে পিছু হটল ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তিবলে প্রভাব বিস্তারের নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে উন্মুক্ত রাখার বিতর্কিত পরিকল্পনা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের একটি কূটনৈতিক ও সামরিক পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত বুধবার চীন সফরে পৌঁছান। ঠিক একই দিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুংদা ফ্যান মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক পথ না থাকা এবং বিশ্বজুড়ে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প এই আপস করতে বাধ্য হয়েছেন।

অধ্যাপক ফ্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি দিয়ে জেতার’ পুরনো কৌশল এবার কাজে আসেনি। মূলত শি-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা কমানোর একটি বড় চাহিদা তৈরি হয়েছিল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থার সংকট চরম পর্যায়ে থাকায় বর্তমানে বেইজিং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীন তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে।

এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার বা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এর প্রবণতা আরও বাড়বে। যদিও কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তবে ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে চীন একটি বড় ধরনের ‘ব্রেকথ্রু’ বা স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের  সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১২:৪৭:১৮
ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের  সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা নিরসনে এবার কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ও সমঝোতার জন্য তেহরান প্রস্তুত। তবে এই আলোচনার টেবিলে ইরানের জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বুধবার (৬ মে) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে পেজেশকিয়ান ইরানের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাতে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, আলোচনায় পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার তীব্র অনাস্থার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে যখন দ্বিপক্ষীয় সংলাপ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ওয়াশিংটন ইরানের ওপর দুবার হামলা চালিয়েছে। আমেরিকার এই আচরণকে তিনি ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তাদের বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোর কিছু অংশ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সম্ভাব্য সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা: ইসরায়েলি হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১১:১৯:৫৫
ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা: ইসরায়েলি হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে লেবানন। বুধবার (৬ মে) রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় থমকে গেছে সব ধরনের শান্তি প্রক্রিয়া। এই হামলায় হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান ইউনিটের এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে ওই কমান্ডারকে নির্মূল করা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ বা লেবাননের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই হামলার পর লেবাননের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, আপাতত ইসরায়েলের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লেবানন কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট সময়সূচি চায়। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলা বন্ধ না হলে আলোচনার কোনো পরিবেশ তৈরি হবে না।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরের শেষ নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, বৈরুতে এই নতুন হামলার পর তা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইসরায়েল তাদের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেবাননের ভেতরে ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ‘নিরাপত্তা বলয়’ গড়ার দাবি করলেও বৈরুতের কেন্দ্রঘেঁষা এলাকায় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ জমছে।

সূত্র : রয়টার্স


মৃত্যুর ৭ বছর পর সামনে এল এপস্টেইনের রহস্যময় সুইসাইড নোট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১১:০৩:৩৫
মৃত্যুর ৭ বছর পর সামনে এল এপস্টেইনের রহস্যময় সুইসাইড নোট
ছবি : সংগৃহীত

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের রহস্যময় মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তার কথিত ‘সুইসাইড নোট’ বা আত্মহননের চিরকুট জনসমক্ষে এনেছেন মার্কিন এক ফেডারেল বিচারক। বুধবার (৬ মে) নিউ ইয়র্কের একটি আদালতের নির্দেশে এই চাঞ্চল্যকর নথিটি প্রকাশ করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইন লিখেছেন, পৃথিবীকে বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি ‘আনন্দের বিষয়’। হলুদ রঙের লিগ্যাল প্যাডে হাতে লেখা এই নোটে আরও বলা হয়েছে— "তারা আমার ব্যাপারে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি! যার ফলাফল হলো ১৫ বছর আগের এই অভিযোগগুলো। তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়!"

নোটটি প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট এবং খুনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন। তার আইনজীবীরা এটি আদালতে জমা দিয়েছিলেন। মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক টাইমসে এই নোট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটি প্রকাশের নির্দেশ দেন। বিচারক জানান, এটি একটি ‘বিচার বিভাগীয় নথি’ এবং জনসাধারণের এটি দেখার অধিকার রয়েছে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে ম্যানহাটনের জেলে এপস্টেইনের সাথে প্রায় দুই সপ্তাহ একই সেলে ছিলেন টারটাগ্লিওন। তার দাবি, নোটটি তাদের কক্ষের একটি বইয়ের ভেতরে লুকানো ছিল। যদিও মার্কিন ফেডারেল তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা এর আগে কখনও এই নোটটি দেখেননি এবং বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথির মধ্যেও এটি ছিল না।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এপস্টেইন। পরে ২০১৯ সালে আবারও নিউ ইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সংগ্রহের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ১০ আগস্ট ম্যানহাটনের জেল কক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যা পরে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই নতুন চিরকুটটি তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্যে নতুন মাত্রা যোগ করল।

সূত্র: রয়টার্স


দ্রুতই শেষ হবে যুদ্ধ: ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বড় ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১০:১২:১০
দ্রুতই শেষ হবে যুদ্ধ: ইরানের সঙ্গে সমঝোতার বড় ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং খুব দ্রুতই যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৬ মে) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চাইছে। সমঝোতা অনুযায়ী তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না—এমন শর্তেই আলোচনা এগোচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার টেবিলে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "খুব সম্ভবত আমরা একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।"

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তার নির্ধারিত চীন সফরের আগেই এই সমঝোতা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে তার। তবে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়, তবে আবারও বিধ্বংসী বোমা হামলা শুরু করা হবে।

এদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে কিছুটা রক্ষণাত্মক অবস্থান দেখা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, তারা এখনো মার্কিন প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দেননি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া নথিগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ অনড় অবস্থানে ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই সরবরাহ হতো, যা এখন যুদ্ধের কারণে চরম সংকটে রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: