ইরান যুদ্ধেই মুনাফার পাহাড় গড়ছে যেসব কোম্পানি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১৭:৩৩:৪৬
ইরান যুদ্ধেই মুনাফার পাহাড় গড়ছে যেসব কোম্পানি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই অস্থিতিশীল করে তোলেনি, একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তৈরি করেছে গভীর চাপ। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার অচলাবস্থা এবং আর্থিক বাজারের অস্থিরতায় বিশ্বের বহু দেশ যখন চাপে, তখন কিছু বহুজাতিক করপোরেশনের জন্য এই যুদ্ধ পরিণত হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগে।

বিশেষ করে তেল-গ্যাস, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও বাজারের ভয়কেই ব্যবসায়িক সুবিধায় রূপান্তর করছে এসব করপোরেশন।

তেলের বাজারে অস্থিরতা, মুনাফায় জ্বালানি জায়ান্ট

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সেখানে সামরিক উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি সুবিধা পেয়েছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো।

ব্রিটিশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বিপি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কোম্পানিটি বলছে, অস্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিতে তাদের ট্রেডিং বিভাগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করেছে।

একই সময়ে শেল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে প্রায় ৬৯২ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি আয় করে ৫৪০ কোটি ডলারের মুনাফা দেখিয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় কিছুটা কমেছে, তবুও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় আরও বাড়বে।

যুদ্ধের ভয়েই বাড়ছে ব্যাংকগুলোর আয়

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। শেয়ারবাজার, পণ্যবাজার এবং মুদ্রাবাজারে প্রতিদিন বড় ধরনের ওঠানামা হচ্ছে। আর এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা করছে ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো।

জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করেছে।

ব্যাংক অব আমেরিকা, মরগান স্ট্যানলি, সিটিগ্রুপ, গোল্ডম্যান স্যাকস ও ওয়েলস ফার্গোসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ, তেল, সোনা ও ডলারে ঝুঁকছেন। ফলে ট্রেডিং কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কমিশন ও লেনদেন আয়ও দ্রুত বাড়ছে।

অস্ত্র ব্যবসায় স্বর্ণসময়

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দ্রুত লাভবান খাতগুলোর একটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা শিল্প। ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্র কেনার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বড় বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকর্ড অর্ডার পাচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস জানিয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে তাদের বিক্রি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অন্যদিকে লকহিড মার্টিন, বোয়িং ও নর্থরপ গ্রুম্যানও নতুন সামরিক অর্ডারের তথ্য দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাজেট আরও বাড়বে, যা অস্ত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ

ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। তেলের দামের লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে অনেক দেশ আবারও সৌর, বায়ু ও বৈদ্যুতিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ারের দাম চলতি বছরে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ডেনমার্কের ভেসটাস ও ওরস্টেডও মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের অক্টোপাস এনার্জি জানিয়েছে, সৌর প্যানেল ও হিট পাম্পের বিক্রি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও নতুন গতি এসেছে। বিশেষ করে চীনা নির্মাতারা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।

সূত্র:বিবিসি


যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২১:৩৪:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বিশ্বাস করে না বিশ্ব, মন্তব্য ইরানি মুখপাত্রের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বক্তব্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটনের নীতিকে সরল ও ভণ্ডামিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বাঘাইয়ের মতে, ওয়াশিংটন এখনো এমন একটি মানসিকতায় আটকে রয়েছে যেখানে তারা মনে করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের স্মৃতিশক্তি বা বিশ্লেষণ করার কোনো ক্ষমতা নেই। তারা ধরে নিয়েছে যে সবাই অন্ধভাবে তাদের কথা বিশ্বাস করবে এবং কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তা মেনে নেবে।

একদিকে ইরানের সাধারণ মানুষকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা যাতে মার্কিন পাইকারি কোনো দোকান থেকে কেনাকাটা করতে না পারেন—এমন কূটনৈতিক পদক্ষেপকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। পুরো একটি জাতির জীবিকা ধ্বংসের মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে উদযাপনের পাশাপাশি সাধারণ দোকানের সদস্যপদ কার্ড নিয়ে বড় বড় কথা বলা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও নীতির চরম অসংগতিকেই স্পষ্ট করে তোলে। ওয়াশিংটনের এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নেওয়া নীতির চিন্তাগত সীমাবদ্ধতাও ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/আশিক


ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:২০:০০
ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেল খরচ! ইরান যুদ্ধে কত ব্যয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫১০ কোটি (৪৫.১ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে দেওয়া পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাবের বরাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার; এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার যোগ হয়ে মোট ব্যয়ের অঙ্ক ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

তবে প্রতিরক্ষা ও বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের দেওয়া এই পরিসংখ্যান যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ এই হিসাবে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরোক্ষ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পেন্টাগনের বর্তমান এই হিসাব কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বানুমানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিবিও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে আগস্টের পর যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে, যা সংঘাত বাড়লে আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। একই সঙ্গে এই বিপুল খরচের ধাক্কায় ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিবিও।

সূত্র: সিএনএন


২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:০৬:৩৮
২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ইমরান খানের বোন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে লাহোরে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলের আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্সের বরাতে নিশ্চিত করেছেন পিটিআই পাঞ্জাবের এক মুখপাত্র।

গ্রেপ্তারের পর লাহোর জেলা প্রশাসনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, যেকোনো জনসমাগমে তাঁর উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে।

কারাবন্দি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী সপ্তাহে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে গণমিছিলের ডাক দিয়েছে পিটিআই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এর আগেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রশাসন সম্ভাব্য সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এদিকে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী জুলফি বুখারি এই আটকের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আসন্ন গণবিক্ষোভ ঘিরে সরকার কতটা শঙ্কিত ও উদ্বেগে রয়েছে, আলিমা খানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাই তার প্রমাণ।

সূত্র : রয়টার্স


রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৭:০৬:২১
রাজধানী রিয়াদের আকাশে আগুনের শিখা! কী ঘটেছে আরামকো ও বিমানবন্দরে?
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে তীব্র আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রত্যক্ষ করার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলার আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করে গোষ্ঠীটি। রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে বিমানবন্দর মহাসড়কের পাশে জ্বালানি ট্যাংকের কাছে আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাতেও তারা যৌথ আক্রমণ চালিয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। তবে রিয়াদের সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি গোষ্ঠীটি। উল্লেখ্য, চলমান সংঘাত শুরুর পর এটিই রিয়াদে হুতিদের প্রথম হামলার দাবি।

অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, শনিবার ভোররাতে রিয়াদের আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিশ ও ফারাসান, পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ এবং ইয়ানবু লক্ষ্য করে চালানো হামলার অপচেষ্টাও রুখে দেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদে দুই দফা নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলে বাসিন্দারা দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, যা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধমূলক বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:৪৭:৫১
ইরান যুদ্ধে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা, তথ্য ফাঁসে ট্রাম্পের তীব্র ক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৩৬০ কোটি (৪৩.৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হালনাগাদ হিসাব অনুসারে, এই বিপুল খরচের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে। হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এর বাইরে অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনঃস্থাপনে প্রায় ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলার এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও ৪৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির আর্থিক অঙ্ক আরও ব্যাপক হতে পারে, কারণ হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ব্যয় সেন্টকমের এই হিসাবে আসেনি। পেন্টাগনের ইনস্পেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শত শত ভবন, উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও নজরদারি আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণমতে, প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের পুনঃসরবরাহের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক মজুতের ঘাটতি ও ব্যয় সংক্রান্ত ফাঁস হওয়া এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে নস্যাৎ করেছেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:৩১:৩০
তিব্বত-নেপালে বরফ ধস ও পাহাড়ি ঢল: চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ আট দেশ
ছবি : সংগৃহীত

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক আকস্মিক বরফ ধস ও সর্বনাশা পাহাড়ি ঢল কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা স্থানীয় দুর্যোগ নয়, বরং এটি সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসা এক মারাত্মক অশনিসংকেত। হিমালয়ের পানির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে টিকে থাকা বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশের জন্য এই বিপর্যয় এক তীব্র সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক গতিতে গলতে থাকায় এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির পৌনঃপুনিক ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিশেষ করে ভৌগোলিকভাবে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার ভাটির প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় উজানের পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ (GLOF) কিংবা বরফ ধসের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নদীভাঙন, অসময়ে তীব্র পাহাড়ি ঢল এবং পূর্বাভাসবিহীন প্রলয়ঙ্করী বন্যার তীব্র ঝুঁকি আরও গভীর হচ্ছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এ ধরনের বিপর্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে একমত হয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। বিপর্যয় কমাতে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আটটি দেশের মধ্যে অবিলম্বে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উজানের পাহাড়ি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নদ-নদীর প্রবাহ এবং পানি বৃদ্ধির রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানে যৌথ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে যথাসময়ে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বহুলাংশে কমিয়ে আনা যাবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ।


রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের খাঁড়া? স্বাক্ষরিত হলো ট্রাম্পের নতুন বিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ২১:০৯:৪১
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের খাঁড়া? স্বাক্ষরিত হলো ট্রাম্পের নতুন বিল
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ভারতসহ অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের এখতিয়ার দিয়ে একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত এই আইনটির নাম রাখা হয়েছে প্রয়াত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে এবং পরবর্তীতে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তবে আইনটি স্বাক্ষরিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতের ওপর এখনই এই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গেছে; বরং নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই আইনের বিধান অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হওয়ার পূর্ববর্তী ১২ মাসে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা গ্যাস আমদানি করা শীর্ষ পাঁচটি দেশকে নজরদারিতে রাখা হবে। আইন কার্যকরের ৩০ দিন পরও যদি তারা জেনেশুনে রাশিয়ার তেল ক্রয় অব্যাহত রাখে, কিংবা মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করে—তবেই তাদের ওপর এই কঠোর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তবে যেসব দেশ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা লক্ষণীয়ভাবে কমিয়েছে অথবা যাদের আমদানির পরিমাণ রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের নিচে, তারা এই শুল্ক থেকে বিশেষ ছাড় পেতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ জোগাতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি আয়ে আঘাত হানতেই মূলত ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিকে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ‘বহুমুখী উৎস’ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতিতেই অটল থাকবে ভারত।

সূত্র: স্ক্রল


ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেগা পদক্ষেপ, নতুন আইনে সই ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৮:০৫:১৮
ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেগা পদক্ষেপ, নতুন আইনে সই ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর নতুন ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অতিরিক্ত শুল্ক ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ সংক্রান্ত এক কঠোর আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা কার্যকর আইনে পরিণত করেছেন।

নতুন এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতের বাণিজ্যিক লেনদেনে যুক্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ওপর সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পেট্রোলিয়াম কেনাবেচা, আন্তর্জাতিক পরিবহন, অর্থায়ন, সামুদ্রিক বীমা সুবিধা এবং দেশটির তেল-গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগকারী যে কোনো তৃতীয় পক্ষের ওপর মার্কিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।

আইনটির মাধ্যমে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, শীর্ষ রুশ নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষস্থানীয় ধনকুবেরদের (অলিগার্ক) লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি রাশিয়ার একাধিক প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা ও আক্রমণাত্মক নিষেধাজ্ঞা চলমান ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল ও দুরূহ করে তুলবে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই


শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ল এআই-এর জাল গোয়েন্দা রিপোর্ট, রক্ষা পেল চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৭:৫৮:৪৮
শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ল এআই-এর জাল গোয়েন্দা রিপোর্ট, রক্ষা পেল চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তৈরি একটি ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মধ্যপ্রাচ্যে চীনা একটি জাহাজে সরাসরি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে অপারেশন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তথ্যটির অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরাশক্তি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য এক ভয়াবহ সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের বসন্তকালে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে একটি বিভ্রান্তিকর গোয়েন্দা রিপোর্ট পৌঁছায়, যেখানে দাবি করা হয়—মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থানরত একটি চীনা বাণিজ্যিক জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্রের সংবেদনশীল সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছে। এমন সংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটি আটকে তল্লাশি চালাতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

এজন্য যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করার পাশাপাশি নৌ কমান্ডোরা জাহাজটিতে প্রবেশের লক্ষ্যে মোতায়েন হন। কিন্তু চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগমুহূর্তে গোয়েন্দা নথিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হলে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে প্রতিবেদনটি কোনো মানবিক গোয়েন্দা সূত্রের নয়, বরং একটি এআই চ্যাটবটের ভুয়া ও কাল্পনিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি। এআই-এর এই মিসআইডেন্টিফিকেশন বা ভুল শনাক্তকরণের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় শেষ মুহূর্তে অভিযানটি স্থগিত করা হয়। এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে, এই ভুয়া তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে দ্রুতগতিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর জন্য বিশেষ কৌশলগত নীতিমালাও প্রণয়ন করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সংবেদনশীল যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রযুক্তির দেওয়া তথ্যের অন্ধ বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে যে কোনো সময় বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে জোর সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

পাঠকের মতামত: