কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপির সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর: কৃষি পুনর্বাসনে আসছে বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:২২:১৪
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপির সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর: কৃষি পুনর্বাসনে আসছে বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনার জন্য কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে তলব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এমপির ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক মোল্লা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বিকেল ৪টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশা, জরুরি পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।

এর আগে গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান জানিয়েছিলেন, আগাম বন্যার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে ‘অত্যন্ত সাহসী ও নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, “আমার স্মরণকালের মধ্যে ধানের হাওরে এত বড় ক্ষতি আর কখনো দেখিনি। এবার শুধু আগাম বন্যা নয়, টানা বৃষ্টিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উজান-ভাটির বিভাজন ছাড়াই সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।” তিনি জানান, তার নির্বাচনি এলাকার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের ২৪টি ইউনিয়নই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি দুর্গত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রতিবেদন জমা দিতে এসেছেন।

/আশিক


ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৫৮:০৫
ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত আন্দোলনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, মুক্তিকামী মানুষের কাছে ৫ আগস্ট কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল মাইলফলক।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় মাহদী আমিন বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে সব রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে আসে। তীব্র গণমানুষের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শাসকশ্রেণি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রায় পথচলা শুরু করে। এই স্মরণীয় অবদানকে সম্মান জানাতে দিবসটি জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

মুখপাত্র তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির আন্দোলনই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আসল পটভূমি তৈরি করেছিল। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষক, পোশাকশ্রমিক ও নারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল এই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। মানুষের এই স্রোতকে থামিয়ে দিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে নির্মম নির্যাতন ও আকাশপথ থেকে গুলি চালানো হলেও রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ কিংবা চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরামদের মতো বীরদের অদম্য সাহস জাতিকে মুক্তির পথ দেখায়।

তিনি গভীর বেদনার সাথে স্মরণ করেন যে, জুলাই-আগস্টের লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শত শত মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গণতান্ত্রিক দলগুলো দল-মত ভুলে ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এই এক অভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই ঐতিহাসিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে একক অর্জন হিসেবে দাবি করতে গিয়ে একটি রাজনৈতিক দল যেমন পরবর্তীতে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নেওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভিন্নমত ও ইতিবাচক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত থাকার আহ্বান জানান, যেন রাজপথে বয়ে যাওয়া রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।

মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সাল ছিল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল হলো সেই স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। একাত্তর, নব্বই এবং চব্বিশের লড়াইয়ের শিক্ষাকে পাথেয় করেই আগামীর পথ নির্ধারণ করবে দেশ। রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রূপকল্প, ৩১ দফা কর্মসূচি, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মেধাভিত্তিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

/আশিক


জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৪৩:০১
জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে, যেন তা হারিয়ে না যায়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনাকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন আত্মত্যাগের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে। এটিকে জাতির ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দুপুরের একটি আবেগঘন ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দৃষ্টিশক্তি হারানো এক সন্তানকে নিয়ে এক মায়ের আকুতি তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী ও অঙ্গহানির শিকার হওয়া বীরদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকার ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। তিনি মন্তব্য করেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরে বিদেশি শত্রুকে পরাজিত করা হয়েছিল, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়ে। স্বাধীনতার পর ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অভাবে জনগণ যে বঞ্চিত হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সহনশীল ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে আইন বা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের মনোজগতে প্রকৃত সংস্কার আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার শুরু হতে হবে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ৫ আগস্টের অর্জনকে স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। তিনি বিগত সরকারের অর্থপাচার, বাকস্বাধীনতা হরণ ও 'আয়নাঘর'-এর মাধ্যমে কায়েম করা ভয়ের রাজত্বের তীব্র সমালোচনা করেন এবং রূপান্তরে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সংসদের বিভিন্ন হুইপ, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই কার-এ নিয়ে বিভাজন করলে অর্জন হারিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২০:০৯:১৫
জুলাই কার-এ নিয়ে বিভাজন করলে অর্জন হারিয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার প্রাপ্তি নয়; বরং দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন, গুম, খুন, নির্যাতন ও হাজারো মানুষের অকাতরে প্রাণদানের ধারাবাহিকতার ফসল এটি।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের হাত থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার পর যদি এটিকে নির্দিষ্ট সীমানায় ভাগ করার চেষ্টা করা হয়, তবে জুলাইয়ের মূল চেতনা নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক জাতি স্বাধীনতার জন্য শতাব্দী ধরে আন্দোলন করলেও তা অর্জন করতে পারেনি, অথচ সঠিক সময়ে মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহের লড়াই শতাব্দীর পরিবর্তন এনে দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানকে এই ধরনের এক ঐতিহাসিক রূপান্তর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে দলীয়করণের ঊর্ধ্ব রাখা এবং এর মূল দর্শন বাস্তবায়নে সকলকে এক হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান।

নিজের গুম হওয়ার দুঃসহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত জমানার চড়া মূল্য দেওয়ার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেবল বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সমাজ ও রাজনীতির অসংখ্য মানুষ দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। চৌধুরী ইলিয়াস আলীর মতো অনেক নেতা গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি। তাই দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ত্যাগ ও সংগ্রামকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জুলাইয়ের শেষ ৩৬ দিনের হিসাব কষলে এই অভ্যুত্থানের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্দোলন অহিংস থাকবে নাকি সহিংস রূপ নেবে তা বিক্ষোভকারীরা ঠিক করে না; বরং যখন গণতান্ত্রিক ও শান্তিময় পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, তখনই আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে। এছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, তা কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই কার্যকর করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংস্কার পরিষদ বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ—নাম যেটাই দেওয়া হোক না কেন, সংসদে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়েই একেকটি সংস্কার বাস্তবে রূপ নেবে।

সংগঠিত অন্যায়ের বিচারে আইনি কাঠামোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আলাদা আইন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতির মাত্রা বিবেচনা করে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে গুরুতর আহতদের এবং কর্মক্ষমদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এখনো যারা তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন, তাঁদের নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেন তিনি।

ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো একক ব্যক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলও যদি মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকে তবে তাদেরও আইনি কাঠামোর মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্ভব। তবে তিনি প্রশাসনিক নির্দেশে বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নন; বরং আদালতই এ বিষয়ে চুড়ান্ত ফয়সালা দেবেন বলে মনে করেন।

আগামীতে যাতে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি জানান, ইতিহাসের এই আত্মত্যাগকে ধরে রাখতে জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা আগামীর সরকারকে ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করবে। জুলাইয়ের অর্জনকে বাংলাদেশ ও সাধারণ মানুষের যৌথ জয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

/আশিক


বাংলাদেশ আর কোনো দেশের 'ক্লায়েন্ট স্টেট' থাকবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:৩০:১৫
বাংলাদেশ আর কোনো দেশের 'ক্লায়েন্ট স্টেট' থাকবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো দেশের স্বাধীন ও স্বাবলম্বী পররাষ্ট্রনীতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর এক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই বছর পূর্বের উত্তাল সময় স্মরণ করে জানান, প্রবাসে থাকা অবস্থাতেও শিশু-কিশোরদের নির্মম হত্যা, বিদায়ী সরকারের দমন-পীড়ন এবং সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘটনা তিনিসহ প্রবাসীরা গভীর শঙ্কার সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি খেদ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটি ছিল অন্যতম অন্ধকার ও নৃশংস একটি সময়। তিনি জানান, সেই সময় জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশে পরিচালিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে এবং সরকার পতনের গতিকে ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং একটি নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামাল দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলও সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনকে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের অর্জনের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ যে গুরুত্ব হারাতে বসেছিল, তা আবার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূত্র ধরে তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ আর কখনোই কোনো একক পরাশক্তি বা প্রতিবেশী দেশের তোষামোদি বা নির্ভরশীলতার নীতি অনুসরণ করবে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনাতেই এই অসম্ভব মিশন জয় করা সম্ভব হয়েছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কূটনীতিকদের নিরলস ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আজ এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্ভব হয়েছে।

দেশের যুবসমাজের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবন বাজি রেখে এক স্বৈরাচারী দানবের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন মেধা, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধ দিয়ে দেশ পুনর্গঠন ও এগিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব আমাদের সকলের।

/আশিক


আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১৮:০৭:২৬
আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্র করে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে (ডকুমেন্টারি) শহীদ আবু সাঈদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টিকে বড় ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি মন্তব্য করেন, শহীদ আবু সাঈদ হলেন এই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রতিচ্ছবি ও প্রতীক; তাঁকে বাদ দিয়ে নির্মিত চিত্রকে প্রকৃতপক্ষে ডকুমেন্টারি বলা যায় না।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যকালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি প্রামাণ্যচিত্রটির নানা ত্রুটি তুলে ধরে জানান, এতে শুরুতেই যে বড় ভুলটি পরিলক্ষিত হয়েছে, তা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবির অনুপস্থিতি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পটভূমি বিচারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ভুলের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিষয়টি মনে পুষে রেখে জাতীয় সংসদের মতো ওয়াকআউট করা মোটেই সমীচীন হয়নি।

বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রশাসন জনগণের নির্বাচিত একটি সরকার। ফলে কাজের কোনো ভুল হলে তা শুধরে দেওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদায়ী শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো প্রকার লজ্জাবোধ ছিল না, তবে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই তাদের মতো আচরণ করবে না।

এর আগে অনুষ্ঠান চলাকালে গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হওয়ার পর মিলনায়তনে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রদর্শিত তথ্যে আন্দোলনের মূল ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে ফুটে ওঠেনি।

ডকুমেন্টারির প্রদর্শন শেষ হতেই মিলনায়তনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ শুরু হয়। উপস্থিত অনেকেই স্থান ত্যাগ করে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে অসন্তোষ জানালে অডিটোরিয়ামে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদকারীদের মূল দাবি ছিল, প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস ও শহীদদের অবদান সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

/আশিক


জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ১০:৩৩:৫৮
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জাদুঘরটির যাত্রা শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তথ্যপ্রমাণসহ তুলে ধরাই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির দিনে এই জাদুঘর উদ্বোধন করা হলো। সাবেক গণভবনকে রূপান্তর করে সেখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের দলিল, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, স্মারক, শিল্পকর্ম এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার উপকরণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, জাদুঘরটি শুধু অতীতের ঘটনাবলি প্রদর্শনের স্থান নয়; বরং গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, নাগরিক প্রতিরোধ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে গবেষণা ও জনসচেতনতার একটি কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, নথিপত্র, আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত উপকরণ এবং শহীদ ও আহতদের স্মৃতিবাহী নিদর্শন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে অবহিত করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে প্রদর্শনীগুলোতে স্থিরচিত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট সংযোজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছিলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সেই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঘটনাগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আন্দোলনের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগ স্মরণ করে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রাখা হয়।

উদ্বোধনের দিনটি বিশেষ অতিথি, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের টিকিটের দাম ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাদুঘরটি চালুর আগে প্রদর্শনীর উপকরণ স্থাপন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও টিকিট ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল কনটেন্ট সংযোজন এবং ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের কয়েক দিন আগেও নিজস্ব জনবল নিয়োগ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল। আপাতত জাতীয় জাদুঘর ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

-রফিক


৫ আগস্ট বিজয়ের দিন, ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ২১:৫২:৪০
৫ আগস্ট বিজয়ের দিন, ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য '৫ আগস্ট' এক আনন্দ ও বিজয়ের দিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে এটিকে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, দেড় দশকের বেশি সময়ের 'ফ্যাসিবাদী শাসনের' অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নিপীড়ন ভোগ করতে হয়েছে। এ সময় গুম, খুন, অপহরণ, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাবাস করতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিগত সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকর হয়ে পড়ারচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসমূহকে অকার্যকর করা হয়েছিল। সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে রূপ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র, অগণিত মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালাগুলোতে এবং সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেককে চিরতরে গুম করা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংকিং খাতকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, পেশাজীবী, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে বিদায়ী সরকার হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে শিশুসহ বহু মানুষকে হত্যা করে। রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ হাজারো বীর শহীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি জানান, এ আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

ঐতিহাসিক সেই বিজয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান গণভবন ছেড়ে পালান এবং একই সঙ্গে সংসদ সদস্য, বিচারক, মন্ত্রী ও ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি লড়াইয়ের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে ঋণ তৈরি হয়েছে, তা পরিশোধের দায়িত্ব এখন সমগ্র জাতির।

একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। গণতান্ত্রিক চর্চায় নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক ও সৌন্দর্যের প্রতীক হলেও, সেই ভিন্ন চিন্তাভাবনা যেন পারস্পরিক শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে তিনি দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও নাগরিককে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতির সমাপনীতে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে স্থান দেওয়া হবে না এবং কোনো তাবেদার রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ এবং ২০২৪ সাল ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণকে রক্ষা করার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ চিরকাল সশ্রদ্ধ চিত্তে মনে রাখবে।

/আশিক


বাদ পড়ছে ৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙানোর বাধ্যবাধকতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৮:৪২:২০
বাদ পড়ছে ৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙানোর বাধ্যবাধকতা
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের সংবিধানে বেশ কিছু যুগান্তকারী ও ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—দেশের সংবিধানে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের বিষয়।

পাশাপাশি চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাও স্থান পাচ্ছে সংবিধানে। অপরদিকে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ এবং ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার অংশগুলো সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি টাঙানোর আইনি বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংবিধানে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির এই প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশেষ করে পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় এবং সদ্য ঘোষিত জুলাই সনদকে ভিত্তি করে সংবিধানের বেশ কিছু অনুচ্ছেদ পরিমার্জন ও বাতিলের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিশেষ কমিটির সূত্রমতে, সংবিধানে সংসদ সদস্যদের নীতি ও নৈতিকতা রক্ষায় কঠোর বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তনের নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। জুলাই সনদের আলোকে দেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে নির্দিষ্ট করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা ও তাঁর পরিধি বাড়ানো, একাধিক ডেপুটি স্পিকার পদ সৃষ্টি এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪-এর (ক), ৭-এর (ক) ও (খ), এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া বিতর্কিত ধারাগুলো আদালতের রায়ের আলোকেই সংবিধানে আর রাখা হচ্ছে না।

পরিবর্তন আসছে সংবিধানের তফসিল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতেও। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ সংক্রান্ত পঞ্চম তফসিল এবং ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত ষষ্ঠ তফসিল বাতিল করা হতে পারে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে দ্বিতীয় ভাগের অনুচ্ছেদ ৮-এর (১)-এ থাকা জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিধানে সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণকারী অনুচ্ছেদ ৯-এ ‘বাঙালি’ শব্দের স্থলে ‘বাংলাদেশি’ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি টাঙানোর যে বাধ্যবাধকতা অনুচ্ছেদ ৪-এর (ক)-এ ছিল, তা বাতিল করে কেবল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংরক্ষণের পূর্বের নিয়ম বহাল রাখা হবে।

উল্লেখ্য, উচ্চ আদালত ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কয়েকটি ধারাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিরোধী বলে বাতিল ঘোষণা করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দলীয়করণ করায় দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পথ তৈরি করে।

পাশাপাশি ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত অনুচ্ছেদ ৭ (ক) ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্বকারী অনুচ্ছেদ ৪৪ (২) বাতিল করা হয় এবং দ্বাদশ সংশোধনীর গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়। বিশেষ কমিটি আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর করার পাশাপাশি অন্যান্য বিধান সংশোধনের জন্য পরবর্তী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করছে।

সূত্র: যুগান্তর


সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৮:৩৫:১৩
সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উদীয়মান শিল্পখাতে সৌদি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে আসা সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য বৈঠকে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠককালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, বাণিজ্য প্রসারের সম্ভাবনা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেগবান করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করে। সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বর্তমানে তৈরি হওয়া টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করে জানান যে, তার দেশ বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি ও সবুজ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহী। একইসঙ্গে তিনি রিয়াদের উন্নয়নে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি আরবের আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে রিয়াদ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যৌথ আলোচনায় তিনি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যা দুই দেশের জন্যই কৌশলগত দিক দিয়ে লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় সৌদি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: