বগুড়া এখন সিটি করপোরেশন! তালিকায় যুক্ত হলো ৫টি নতুন উপজেলা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২১:২৮:৩২
বগুড়া এখন সিটি করপোরেশন! তালিকায় যুক্ত হলো ৫টি নতুন উপজেলা
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে দেশের চারটি জেলায় আরও পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন করে গঠিত উপজেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জকে ভেঙে ‘মোকামতলা’ এবং কক্সবাজারের চকরিয়াকে বিভক্ত করে ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা করা হয়েছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে দুটি এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। নিকার বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতেই এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার এই সিদ্ধান্তে উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জনপদে খুশির জোয়ার বইছে। সরকার মনে করছে, সিটি করপোরেশন ও নতুন উপজেলাগুলো কার্যকর হলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

/আশিক


বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বেইজিংয়ে বড় অঙ্গীকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ২০:১৩:৫০
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বেইজিংয়ে বড় অঙ্গীকার
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ধারা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি পুনরায় সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগীয় (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকটি মূলত বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব, আঞ্চলিক সংযোগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার হিসেবে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বেইজিংয়ের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে একে অপরকে সহযোগিতার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলের বেইজিং সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যা বিশেষ করে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথকে আরও সুগম করবে।

/আশিক


কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপির সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর: কৃষি পুনর্বাসনে আসছে বড় ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:২২:১৪
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপির সাথে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর: কৃষি পুনর্বাসনে আসছে বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনার জন্য কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে তলব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এমপির ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক মোল্লা সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ বিকেল ৪টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশা, জরুরি পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।

এর আগে গতকাল এক সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান জানিয়েছিলেন, আগাম বন্যার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে ‘অত্যন্ত সাহসী ও নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, “আমার স্মরণকালের মধ্যে ধানের হাওরে এত বড় ক্ষতি আর কখনো দেখিনি। এবার শুধু আগাম বন্যা নয়, টানা বৃষ্টিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উজান-ভাটির বিভাজন ছাড়াই সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।” তিনি জানান, তার নির্বাচনি এলাকার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের ২৪টি ইউনিয়নই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি দুর্গত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রতিবেদন জমা দিতে এসেছেন।

/আশিক


দেশে হামের তাণ্ডব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, দিশেহারা অভিভাবকরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৭:০৬:৪৬
দেশে হামের তাণ্ডব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু, দিশেহারা অভিভাবকরা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক ব্যাধি ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১২ শিশু। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়ে ঢাকায় একজন শিশু মারা গেছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১১ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে (৫ জন)। এছাড়া রাজশাহীতে ২ জন এবং বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটে একজন করে শিশু মারা গেছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর ল্যাবরেটরিতে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৫৭ শিশু। অর্থাৎ, গত দেড় মাসে মোট ৩৩৬টি শিশু এই রোগের কারণে প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে গত ৪ মে এক দিনেই সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় ৩১ হাজার ৯১২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ২০৮ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের এই ব্যাপক বিস্তার রোধে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো হামের টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

/আশিক


ওয়াকফ সম্পত্তির উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১২:৪১:৩৩
ওয়াকফ সম্পত্তির উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক
ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ওয়াকফ-এর প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এবং ওয়াকফ প্রশাসক দেশের ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণে ওয়াকফ সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং ধর্ম সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ। সংশ্লিষ্টরা এই সাক্ষাৎকে ওয়াকফ প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন।

/আশিক


২০৩০ সালের টার্গেট ২০%: সৌরবিদ্যুতের হাত ধরে জ্বালানি বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১১:৪২:২৬
২০৩০ সালের টার্গেট ২০%: সৌরবিদ্যুতের হাত ধরে জ্বালানি বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ২০২৮ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার অতিরিক্ত রুফটপ সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হবে। বর্তমানে ১ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে এবং ৬টি সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিপিডিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে শিল্পখাতের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য শক্তি যোগ করলে এই সক্ষমতা দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াটে। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮ হাজার থেকে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মোট সৌরবিদ্যুতের ১ হাজার ৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড অবস্থায় রয়েছে। অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের মধ্যে ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ এবং ৬২ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব ডিসি অফিসে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী জানান, ১ মেগাওয়াট সৌর প্ল্যান্ট স্থাপন করলে প্রায় ৩ কোটি টাকা আমদানি ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব। তিনি আরও জানান, পূর্বে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৩ হাজার একর অব্যবহৃত জমিতে সৌরকেন্দ্র স্থাপন করলে বিদ্যুতের দাম ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার মেগাওয়াট সৌর সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্বে ‘দ্রুততম সৌর বিপ্লবের’ উদাহরণ তৈরি করছে। বাংলাদেশও ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।

/আশিক


হয়রানি করলে ছাড় নয়! জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ২২:০১:১৪
হয়রানি করলে ছাড় নয়! জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকার এমন একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে চায় যেখানে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে। বুধবার (০৬ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’-এর বার্ষিক সম্মিলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ‘জনসেবায় জনপ্রশাসন’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি কড়া বার্তাও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রতিটি যৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে কাজ করে যান। রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস—আর সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হলে প্রশাসনকে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। প্রশাসনকে কেবল আইন প্রণয়নের যন্ত্র হিসেবে না দেখে একে জনগণের সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তরুণ সমাজকে দেশের শ্রেষ্ঠ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সচিবালয় থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে আগারগাঁওয়ের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন সাধারণ ও স্বতস্ফূর্ত অবস্থান প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে যেমন নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


কুয়ালালামপুরে চিকিৎসায় বড় উন্নতি, দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ২১:৩৭:১০
কুয়ালালামপুরে চিকিৎসায় বড় উন্নতি, দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘ লড়াই ও চিকিৎসার পর তিনি এখন অনেকটা শঙ্কামুক্ত এবং দ্রুত সুস্থতার পথে রয়েছেন। বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির জানান, মির্জা আব্বাস এখন পুরোপুরি বিপদমুক্ত। তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। বর্তমানে তার শারীরিক প্রক্রিয়া ও থেরাপি চলছে। মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পেলে ঈদুল আজহার আগেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে পরিবারের। এছাড়া আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি নিজেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে উপস্থিত হয়ে দোয়া চাইবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে সিঙ্গাপুরে এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।

/আশিক


পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর সীমান্ত সিল! বিজিবি-কে কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৮:০৯:১৯
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর সীমান্ত সিল! বিজিবি-কে কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি-কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৬ মে) ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইন’ হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে বিগত সময়ের রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে তালিকাভুক্ত করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সঠিক তালিকা তৈরির বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। আসন্ন কোরবানির ঈদে মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশকে ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি মহাসড়ক ও রেলপথে অপরাধ রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে।

মাদক ও অনলাইন জুয়াকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধীদের দমনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। সাইবার জগতকে নিরাপদ রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


তেলের পর বিদ্যুৎ! ভর্তুকি সামাল দিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৮:০০:২৭
তেলের পর বিদ্যুৎ! ভর্তুকি সামাল দিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি তেল ও এলপিজির পর এবার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বুধবার (৬ মে) বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে এবং কারিগরি কমিটি এটি পর্যালোচনা শুরু করবে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুচরায় ৮.৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছিল। তাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৭.০৪ টাকা হয়েছিল। এখনকার প্রস্তাব অনুযায়ী ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে ১.২০ টাকা থেকে ১.৪৮ টাকা পর্যন্ত দাম যোগ হবে।

পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের ঘাটতি ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘাটতি এবং ভর্তুকির চাপ কমাতেই দাম বাড়ানোর এই পথে হাঁটছে সরকার।

উল্লেখ্য, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্বে আসার আগে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সরকার এখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে গত ৯ এপ্রিল একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। পিডিবির হিসেব মতে, ইউনিটপ্রতি ১.২০ টাকা দাম বাড়লে সরকারের ভর্তুকি ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা কমবে। তবে সাধারণ মানুষ ও শিল্প মালিকদের জন্য এটি হবে এক বিশাল বোঝা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: