বিএনপির ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও বড় পরিকল্পনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৮:০৪:৪৬
বিএনপির ইশতেহারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও বড় পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে সংরক্ষণ ও আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটি বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্বাভাবিক পরিণতি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও–এ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার–২০২৬–এ এসব অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে দলটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে পুনরায় সামনে আনে।

ইশতেহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে, ১৯৭৫ সালের সিপাহী–জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, যা জনগণের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধা ইস্যু

ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নকে একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং তাদের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপির অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। তাই শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া আগ্রহী ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও যোগ্য মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য প্রতিশ্রুতি

ইশতেহারে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

দলটি জানিয়েছে, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের মামলার দ্রুত বিচার, সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কল্যাণের দায়িত্ব নেবে।

যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ইশতেহার স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, বরং জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনৈতিক ঘোষণা।

-রফিক


গত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, স্থিতিশীলতার স্বার্থে ফল মেনেছি: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ১৭:৪৩:২৩
গত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, স্থিতিশীলতার স্বার্থে ফল মেনেছি: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গত নির্বাচন নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গত নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়েছে তা তারা কখনো দাবি করেননি।

তবে দেশের চরম অচল অবস্থা এড়ানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা সেই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন। নিজের জন্মভূমিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

কুশল বিনিময় অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান বিরোধী দল বিএনপির উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, তাহলে মনে রাখবেন—সারাদেশের মানুষ এখন ‘জুলাই যোদ্ধা’। এই জাগ্রত জনতা আপনাদের ক্ষমা করবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াত চায় না বিএনপির পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদীদের মতো হোক। জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিচ্যুতি মেনে নেবে না।

এদিন ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নের মুমিনছড়া চা বাগান এলাকায় শত শত নেতা-কর্মী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং একটি মিছিলের মাধ্যমে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

পরে তিনি সেখানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ইয়ামির আলীসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


সংসদে সমাধান না হলে রাজপথই শেষ ভরসা: গণভোট নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৬:০৭:৪০
সংসদে সমাধান না হলে রাজপথই শেষ ভরসা: গণভোট নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সকালে মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—"ভোট আর গণভোট; একটা হালাল হলে আরেকটা হারাম হবে কেন?" তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সংসদীয় উপায়ে গণভোটের সমস্যার সমাধান না হয়, তবে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দাবি আদায় করা হবে। ঈদযাত্রা নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় ভাড়ার নৈরাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। এটাকে 'অমানবিক ও অপরাধ' আখ্যা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষের যাত্রা আরামদায়ক করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, দেশবাসী ও প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি গাজা ও ইরানে চলমান সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি মজলুমদের বিজয়ের জন্য দোয়া করেন।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যস্ততায় কাটছে বিরোধীদলীয় নেতার ঈদের দিনটি। বেলা ১১টা থেকে ২৯ মিন্টো রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় শুরু করেছেন তিনি। এরপর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

/আশিক


এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:৩০:২৯
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন করে সাংগঠনিক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরপরই ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ এবং ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ নামে দুটি নতুন সহযোগী সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ ফোরামে এ দুটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। কৃষিখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দলটি পেশাভিত্তিক অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে চায়, যা রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।

নেতারা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এই খাতের মানুষদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ গঠনের মাধ্যমে কৃষকদের দাবি, অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে সরাসরি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে দলটি জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় শ্রমিক শক্তি এবং জাতীয় নারীশক্তি নামে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন গঠন করেছে। নতুন দুটি সংগঠন যুক্ত হলে দলটির সংগঠনভিত্তিক বিস্তার আরও গভীর ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন সংগঠন দুটি নিয়ে প্রাথমিক কাঠামোগত পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, দলীয় আলোচনার ভিত্তিতেই এই দুটি সংগঠনের ধারণা এসেছে। তিনি জানান, একটি অনানুষ্ঠানিক কৃষক উইং আগে থেকেই থাকলেও সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দলের অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ সুগম করা। এই লক্ষ্যে রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপির সাংগঠনিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থেকেই দলটির ছাত্রভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিকাশ ঘটেছে। পরবর্তীতে যুব, শ্রমিক ও নারী সংগঠন যুক্ত হয়ে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা এখন পেশাভিত্তিক সংগঠন ও সেক্টরভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এছাড়াও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিপি ইতোমধ্যে ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্স, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম, ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলসহ একাধিক সংগঠন গঠন করেছে। প্রকৌশলী, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং প্রবাসীদের নিয়েও পৃথক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা দলটির বহুমাত্রিক সাংগঠনিক কৌশলকে নির্দেশ করে।

-রাফসান


জামায়াতে ইসলামীর আমীরের ঈদের বিশেষ কর্মসূচি প্রকাশ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৬:৪৪:৪৭
জামায়াতে ইসলামীর আমীরের ঈদের বিশেষ কর্মসূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকায় আদায় করবেন। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৪টার সময় দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ৮টায় মিরপুরের ৬০ ফিট সংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে নির্ধারিত প্রধান ঈদ জামাতে তিনি অংশ নেবেন। জামাত শেষে বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে উপস্থিত সাধারণ মুসল্লি, নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জামায়াতের আমীরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং জামাতস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

/আশিক


আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মেনে নেব না: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৬:৫০:২৮
আমাদের ঘাড়ে কারও আধিপত্য মেনে নেব না: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘ সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ কারও আধিপত্য মেনে নেবে না। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চীনা দূতাবাসের সহায়তায় দুস্থদের মাঝে 'ঈদ উপহার' বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমাদের ঘাড়ের ওপর আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না। বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজ বুক উঁচু করে বাঁচতে চায় এবং বিশ্বের বুকে গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে চায়।” চীনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই সব নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, কিন্তু চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার চীনের দেওয়া বন্ধুত্বের নিদর্শনগুলো ‘হাইজ্যাক’ করে নিজেদের নামে চালিয়ে দিয়ে চরম অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেছে।

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জামায়াত আমিরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ঈদুল ফিতর হলো ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার উৎসব। বাংলাদেশের মানুষের খুশিতে অংশীদার হতে এবং উন্নয়নে সহায়তা করতে চীন সবসময় পাশে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং দুই দেশ একসঙ্গে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করবে।

/আশিক


চীনের দেওয়া সহায়তা হাইজ্যাক করা হয়েছে! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জামায়াত আমিরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১২:১৯:৫৩
চীনের দেওয়া সহায়তা হাইজ্যাক করা হয়েছে! চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জামায়াত আমিরের
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, বিরোধী দল হিসেবে জনগণের কল্যাণে কাজ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে তাঁর দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে 'ঈদ উপহার' হিসেবে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈদেশিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “দেশের ঘাড়ে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেওয়া হলে আমরা তা বরদাশত করব না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অতীতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য চীনের দেওয়া সহায়তাগুলো ‘হাইজ্যাক’ বা আত্মসাৎ করা হয়েছিল। তবে আগামীতে চীন বা অন্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সহায়তা যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জামায়াত আমির জানান, দেশের মানুষের প্রয়োজনে এবং কৃষকদের স্বার্থে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর দল যেকোনো ধরনের সাহসী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দল কেবল রাজপথেই নয়, বরং সামাজিক সেবামূলক কাজের মাধ্যমেও পাশে থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

/আশিক


সংসদে নয়া ইতিহাস: প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল জামায়াতে ইসলামী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১০:২১:৫৫
সংসদে নয়া ইতিহাস: প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল জামায়াতে ইসলামী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে দলের নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গত ১২ মার্চ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের গেজেট অনুযায়ী, ‘বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা (পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা) আইন, ২০২১’ এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে এই মনোনয়ন কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম সংসদীয় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াত। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সরকারের বিরোধিতাকারী দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আসন থাকায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে এই সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। ৬৮টি আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন। নতুন এই সংসদীয় কাঠামো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


সরকার কি শুধু ধানের শীষের ভোটারদের? ত্রাণ বৈষম্য নিয়ে সরব সারজিস আলম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:১০:০৬
সরকার কি শুধু ধানের শীষের ভোটারদের? ত্রাণ বৈষম্য নিয়ে সরব সারজিস আলম
ছবি : সংগৃহীত

জনগণের ট্যাক্সের অর্থে কেনা সরকারি ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বণ্টনে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড এবং ঈদ উপহারের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো বর্তমানে শুধুমাত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে আসা সরকারি সুবিধাগুলো বিএনপি নেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা সাধারণ দরিদ্র মানুষেরা পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকারি সুবিধা কি কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের সমর্থকদের জন্য? এই সরকার কি শুধু ধানের শীষের ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি দেশের পুরো জনগণের?

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, সরকারের উচিত দেশের ১০০ শতাংশ জনগণের কথা ভাবা, কিন্তু বর্তমানে মাঠপর্যায়ে যা ঘটছে তাতে মনে হচ্ছে সরকার কেবল ৫০ শতাংশ বা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা উপহার বা সুবিধা কেন কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় বিলি করা হবে, তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর এই পোস্টটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

/আশিক


রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ফাঁস করলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৬:৪৮:১৭
রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ফাঁস করলেন জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুতেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নাটকীয়তার সাক্ষী হলো। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ শুরু করতে গেলে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির তিনটি সুনির্দিষ্ট ‘অপরাধ’ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।

অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে সংসদ ভবনের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের কারণগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “এই সংসদ জুলাই শহীদদের পবিত্র রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা স্পিকারের কাছে আগেই সবিনয় নিবেদন করেছিলাম, এই মহান সংসদে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট বা খুনির দোসর বক্তব্য দিয়ে পরিবেশ কলুষিত করতে না পারে।”

জামায়াত আমিরের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ও বর্জনের কারণ

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে এবং বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সময় হওয়া প্রতিটি খুনের নেপথ্যে রাষ্ট্রপতির পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। তিনি নিজেকে এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই পরিচালিত করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র চাপের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালালে রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন তাঁর কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র নেই। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদাহানি করেছেন এবং জাতির সামনে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।

তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছিলেন যেখানে বিধান ছিল—নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তারা একই সাথে ‘সংস্কার সংশোধন পরিষদের’ সদস্য হিসেবেও বিবেচিত হবেন এবং একই দিনে উভয় পদের শপথ গ্রহণ করবেন। বিরোধী দল এই দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল তা নেয়নি। এছাড়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছিল অধ্যাদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, যা তিনি করেননি। এর ফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে তিনি সরাসরি অপমান করেছেন বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।

একই সুরে সুর মিলিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল এই সংসদ। এখানে কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসরদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে মহান সংসদকে অপবিত্র করা যাবে না।” বিরোধী দলের এই অনড় অবস্থান এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন ওয়াকআউট ত্রয়োদশ সংসদের শুরুতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: