পাঁচ অধ্যায়ে বিএনপির ইশতেহার, ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিএনপির বড় ৯ অঙ্গীকার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৭:৫২:১৩
পাঁচ অধ্যায়ে বিএনপির ইশতেহার, ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ বিএনপির বড় ৯ অঙ্গীকার
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রদর্শন ও নীতিগত রোডম্যাপ উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। পাঁচটি সুসংগঠিত অধ্যায়ে বিভক্ত এই নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক ন্যায্যতা, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এবং ধর্ম–সংস্কৃতি–নৈতিকতার সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপির ভাষায়, এটি কেবল ভোটের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং জনগণের সঙ্গে একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, অধিকার ও ন্যায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার।

প্রথম অধ্যায়: রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্র পুনর্গঠন

ইশতেহারের সূচনাতেই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক তাৎপর্যকে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য জোরদার, দলনিরপেক্ষ প্রশাসন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বৈষম্যহীন সমাজ ও মানবিক উন্নয়ন

এই অধ্যায়ে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেছে। দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, নারী ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শ্রমিক ও প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতির কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন

ইশতেহারের তৃতীয় অধ্যায়টি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়ে বিস্তৃত। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ সংকট মোকাবিলা এবং স্বচ্ছ কর ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।শিল্প ও সেবা খাতের আধুনিকায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার, পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন

এই অধ্যায়ে উন্নয়নের ভৌগোলিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হাওর–বাঁওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন সংকট নিরসন এবং নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।পর্যটন খাতকে কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন উৎস হিসেবে বিকাশের পরিকল্পনাও এখানে অন্তর্ভুক্ত।

পঞ্চম অধ্যায়: ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৈতিক পুনর্জাগরণ

শেষ অধ্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সামাজিক নৈতিকতার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিএনপি বলছে, বহুত্ববাদী সমাজে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিএনপির ৯টি মূল প্রতিশ্রুতি: মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব

ইশতেহারে ঘোষিত নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি সরাসরি জনগণের জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত-

ফ্যামিলি কার্ড চালু করে নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য।

কৃষক কার্ড–এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় বাজারজাতকরণ।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও জেলা–মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ।

আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা; প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার ও মিড-ডে মিল।

যুব কর্মসংস্থান: দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ।

ক্রীড়া অবকাঠামো: জেলা–উপজেলা পর্যায়ে বিস্তার।

পরিবেশ সুরক্ষা: ১০ হাজার কিমি নদী–খাল পুনঃখনন ও ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।

ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতাদের কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ।

ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু ও ই-কমার্স হাব।

বিএনপির মতে, এই ইশতেহার ‘ভয় নয় অধিকার, বৈষম্য নয় ন্যায্যতা, লুটপাট নয় উৎপাদন’ এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার স্পষ্ট অঙ্গীকার। দলটি বিশ্বাস করে, জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতির মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

-রফিক


জাকসুর সাবেক ভিপি যোগ দিলেন বিএনপিতে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১২:৪৪:৫১
জাকসুর সাবেক ভিপি যোগ দিলেন বিএনপিতে
ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)–এর সাবেক ভিপি আবদুর রশিদ জিতু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এ যোগ দিয়েছেন। তার এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী–এর উপস্থিতিতে জিতু বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

দলে যোগদান শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আবদুর রশিদ জিতু বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় তিনি একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন। তার ভাষায়, “একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আজ থেকে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাকসুর সাবেক ভিপি হিসেবে জিতুর এই পদক্ষেপ বিএনপির ছাত্র ও যুবভিত্তিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তার পরিচিতি ও সংগঠনিক অভিজ্ঞতা দলটির জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী দিনে দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে জিতুকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

-রফিক


আওয়ামী লীগ ছাড়া গোপালগঞ্জে ভোটের নতুন হিসাব

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১১:০৭:১৮
আওয়ামী লীগ ছাড়া গোপালগঞ্জে ভোটের নতুন হিসাব
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের দৃশ্য এক কথায় ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার মাইকিং শোনা গেলেও সড়কের দুই পাশে ব্যানার ও ফেস্টুনের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো নয়। অতীতে নির্বাচন এলেই পোস্টারে ঢেকে যেত শহর ও গ্রাম। এবার আচরণবিধির কড়াকড়িতে সেই চিত্র প্রায় অনুপস্থিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার বড় পরিবর্তনের কারণে গোপালগঞ্জের ভোটের মাঠও এবার ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগবিহীন গোপালগঞ্জে নতুন সমীকরণ

একসময় যে গোপালগঞ্জকে নিরঙ্কুশভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো, সেখানে এবার দলটি নির্বাচনের বাইরে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভোটের হিসাব কীভাবে দাঁড়াচ্ছে, তা বুঝতে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে অন্তত ৪০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিবেদক। মতামতগুলোতে স্পষ্ট বিভাজন। কেউ বলছেন তিন আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকতে পারে, অন্য দুইটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেশি। কেউ আবার মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা কেন্দ্রে না গেলে পুরো হিসাবই বদলে যেতে পারে। অনেকেই প্রকাশ্যে কোন প্রতীকে ভোট দেবেন তা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

ভয়, অনিশ্চয়তা ও ভোটার উপস্থিতির প্রশ্ন

স্থানীয়দের মতে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর সমাবেশ ঘিরে সহিংসতা ও মামলার পর অনেকেই গ্রেপ্তার বা এলাকাছাড়া হয়েছেন। এসব ঘটনার স্মৃতি ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে নতুন করে মামলা ও হয়রানির শিকার হতে পারেন। ফলে নিরিবিলি থাকাই নিরাপদ মনে করছেন একাংশ ভোটার।

ভোটারদের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন

তবে একই সঙ্গে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা অনেক ভোটার এবার সুযোগ দেখছেন। তরুণদের মধ্যে এই আগ্রহ বেশি। গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পাশে এক চায়ের দোকানে লুডু খেলতে থাকা কয়েকজন তরুণের একজন বললেন, বহু বছর ভোটার হলেও কখনো ভোট দিতে পারেননি, কারণ ফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকত। এবার অন্তত নিজের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘দল নয়, মানুষ’ বনাম দলীয় স্মৃতি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কাজীর বাজারে চায়ের আড্ডায় এক মধ্যবয়সী ভোটার বললেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করলেও স্থানীয় এমপিকে কখনো এলাকায় দেখেননি। এবার বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সরাসরি ভোট চাইছেন, সেটাই বড় পরিবর্তন। আবার ষাটোর্ধ্ব এক ভোটার স্পষ্ট করে বলেন, এবার স্থানীয় মানুষ ছাড়া কাউকে ভোট দেবেন না।

অন্যদিকে, হরিদাসপুর ফেরিঘাট এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধা নেতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ না থাকলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়া জরুরি। তার যুক্তি, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি জয়ী হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা।

তিন আসনের আলাদা আলাদা বাস্তবতা

গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী আংশিক)এই আসনে অতীতে আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকলেও বিএনপি দুইবার জয় পেয়েছিল। এবার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তিন আসনের মধ্যে সবচেয়ে খোলা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।

গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানী আংশিক)এ আসনটি দীর্ঘদিন শেখ ফজলুল করিম সেলিম–এর একক আধিপত্যে ছিল। এবার ১৩ জন প্রার্থী মাঠে। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি। এত প্রার্থী আগে কখনো দেখেননি বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়া)এই আসন ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি, যেখানে একাধিকবার শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়েছেন। এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার।

নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার আশঙ্কার কথা উঠে আসায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে। সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকাভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরে।

গোপালগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন মনে করেন, ভোটার উপস্থিতি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তার ধারণা, তিন আসনের একটিতে দলীয় প্রতীকে জয় আসতে পারে, বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেশি।

রাজনৈতিক গুরুত্ব কোথায়

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে গোপালগঞ্জের এবারের নির্বাচন শুধু ফলাফলের জন্য নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে ভোটের শেষ চিত্র। এই নতুন সমীকরণ ভবিষ্যতে গোপালগঞ্জের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: জাগো নিউজ


আজ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১০:৩১:৩২
আজ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের কাছে নীতি, প্রতিশ্রুতি ও অগ্রাধিকারের রূপরেখা তুলে ধরতেই এই ইশতেহার ঘোষণা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর Hotel Sonargaon–এর বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলটির রাজনৈতিক ঐতিহ্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। তার ভাষায়, দেশের মানুষের কাছে ‘ধানের শীষ’ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়; এটি আবেগ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। সেই আবেগকে ধারণ করেই জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

-রফিক


 জামায়াত বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা মুনাফেক দল: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ২১:৩৬:০৭
 জামায়াত বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা মুনাফেক দল: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নৈতিকতার প্রশ্নে স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও আলিম মাদরাসা এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা এ দেশের উন্নতি করতে পারবে না।

নির্বাচনী জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? পারি না ভাই। এটা হচ্ছে নৈতিকতার প্রশ্ন। আমি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি, কিন্তু যারা এই দেশটাকেই বিশ্বাস করে না, তারা দেশের উন্নতি করবে কেমন করে?" তিনি আরও যোগ করেন যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী কখনোই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াত পাকিস্তান আন্দোলনেরও বিরোধী ছিল এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। তিনি বলেন, "পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু করল, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করল এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করল, সেই সময় জামায়াত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়েছিল।" তিনি তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিনের উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াতকে একটি ‘মুনাফেক দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন যে তারা মুখে এক বলে আর কাজে অন্য কিছু করে।

মির্জা ফখরুল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার বড় সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ভোটারদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে কৃষকদের সারের সংকট দূর করা হবে। সভায় তিনি বিএনপিকে একটি জাতীয়তাবাদী ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী দল হিসেবে তুলে ধরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তাঁর এই কড়া অবস্থান জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


নির্বাচনের মুখে সাইবার যুদ্ধ! মুফতি আমির হামজার ফেসবুক পেজ গায়েব

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ২১:০৪:১৩
নির্বাচনের মুখে সাইবার যুদ্ধ! মুফতি আমির হামজার ফেসবুক পেজ গায়েব
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিয়েছে মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ। দলটির দাবি, একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির সুপরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার হামলার মাধ্যমে পেজটি অপসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত কয়েকদিন ধরে মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি পরিকল্পিতভাবে সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পেজটি অপসারণ করেছে। দলটির দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে নয় বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া রিপোর্টিংয়ের ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমির হামজার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক থেকে একটি পেজ সরিয়ে দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে আমির হামজাকে সরানো যাবে না। ইতোমধ্যে পেজটি পুনরুদ্ধারের জন্য মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক দলীয় সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভুয়া আইডি, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে। এই সাইবার হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।


জামায়াতকে ইসলামী দল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: চরমোনাইর পীর

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৯:২৬:০২
জামায়াতকে ইসলামী দল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: চরমোনাইর পীর
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোথাও ইসলামের কথা উল্লেখ নেই। যারা জামায়াতকে ইসলামী দল মনে করে, তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাইর পীর বলেন, "আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি এবং সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি যে শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে। জামায়াতও ইশতেহার দিয়েছে, কিন্তু সেখানে তারা ইসলামের কথা কোথাও বলেনি।" ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইসলামের পক্ষে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করা। প্রথম দিকে অনেক ইসলামী দল তাদের সাথে সমঝোতায় থাকলেও পরবর্তীতে জামায়াত ও আরও কিছু দল যুক্ত হয়ে ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করে। রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, যখন সারাদেশের মানুষ ইসলামী আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছিল, তখন 'দেশপ্রেমিক' বা 'ইসলামপ্রেমিক'দের পরিবর্তে 'ক্ষমতাপ্রেমিক'রা আন্দোলনে ছোবল দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে বাধ্য করেছে।

বিগত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে চরমোনাইর পীর আরও বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের আমলেই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং তৈরি হয়েছে ‘বেগম পাড়া’র মতো কলঙ্কিত অধ্যায়। জামায়াতে ইসলামীর কড়া সমালোচনা করে তিনি দলটিকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাদের ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আলেম-ওলামাদের দেশ এবং এই পবিত্র জমিনে ইসলাম থাকবে না—তা কখনোই হতে পারে না। তিনি বলেন, "আমরা মনে করেছিলাম আমরা একা হয়ে গেছি, কিন্তু আমরা একা নই। আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন, আলেমরা আমাদের সাথে রয়েছেন এবং দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমীরাও আমাদের সঙ্গেই আছেন।" ঝালকাঠি জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।


ইউনূসকে বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা: মির্জা আব্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৯:১৮:০৪
ইউনূসকে বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা: মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত এবং তাদের সহযোগী সংগঠন এনসিপি। তাঁর দাবি, সরকার প্রধান নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁরাই তাঁকে এই পদে বসিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জামায়াত ও তাদের বাচ্চারা (এনসিপি)। সরকার প্রধান নিজেই বলেছেন ওরা তাঁকে বসিয়েছে। আর তাই এখন ক্ষমতায় বসে নির্বাচন করছে জামায়াত আর এনসিপি।" ১৯৭১ সালে একটি পক্ষ বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সেই পুরোনো শকুনরা এখনো এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা সকাল-বিকাল বিএনপিকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে এবং একটি চক্র ভোট ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, "জনগণের ভোটের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে পারে প্রশাসনে থাকা জামায়াতের লোকেরা। আমি মারাত্মকভাবে ভোট কারচুপির শঙ্কা দেখছি। কিছু কিছু দল ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করেছে।" তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে এবং এতে ব্যর্থ হলে তারা নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করবে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক—এটি একটি পক্ষ মানতে পারছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধীপক্ষের উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে মির্জা আব্বাস বলেন, "ওরা চাচ্ছে আমি কোথাও না কোথাও একটা গণ্ডগোল করি। কিন্তু আমি তা করব না। নির্বাচনের আগে আমি কোনো গণ্ডগোল করতে চাই না। যদি প্রয়োজন হয়, নির্বাচনের পরে করব।" তিনি ভোটার ও কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, এ দেশের মানুষের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতারণা বা ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। ভোটের ফলাফল হাতে নিয়েই বিএনপি ঘরে ফিরবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে যারা থাকেনি, আজ তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৭:৪৩:১৫
আওয়ামী লীগের বোরখার নিচে যারা থাকেনি, আজ তাদের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে জাসাস আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সংগীতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'বট আইডি' ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরের নেতাদের চরিত্র হনন এবং কুৎসা রটানোর এক নোংরা খেলায় মেতেছে একটি চক্র। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গান, নৃত্য ও অভিনয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে শিল্পীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণা সংগীতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির বিরুদ্ধে চালানো প্রোপাগান্ডা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বট আইডি দিয়ে মানুষের চরিত্র হনন এবং অপপ্রচারের যেন শেষ নেই। যারা গণতন্ত্রের জন্য আজীবন আপসহীন সংগ্রাম করলো, যারা কখনোই আওয়ামী লীগের ‘বোরখার নিচে’ কিংবা তাদের আবরণের মধ্যে লুকিয়ে থাকেনি, যারা সব সময় সত্য ও ন্যায়কে সাহসের সঙ্গে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে—আজ তাদের বিরুদ্ধেই সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।”

রিজভী আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকারে বিশ্বাস করে। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাসাস কর্মীদের গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। তাদের রাজনীতি হবে সৃজনশীল এবং ভিন্নতর, যার মাধ্যমে অপশক্তির অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সত্য তুলে ধরা হলে কোনো অপপ্রচারই ধোপে টিকবে না। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহিন, জাসাস সভাপতি ও বিশিষ্ট চিত্রনায়ক হেলাল খান এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। বক্তারা নির্বাচনী প্রচারণায় শিল্পীদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


মার্কা নয়, মানুষ দেখে ভোট হবে: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১১:৪১:১২
মার্কা নয়, মানুষ দেখে ভোট হবে: রুমিন ফারহানা
ছবি : কালবেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এবারের নির্বাচন প্রতীক বা মার্কা দেখে নয় বরং যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বাছাইয়ের লড়াই। তাঁর মতে, কেউ যদি কেবল দলীয় প্রতীকের ওপর ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তবে তা হবে বড় ধরনের ভুল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামের পূর্বপাড়ায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “যোগ্য অভিভাবক যদি এলাকার দায়িত্ব না নেন, তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আপনাদের অনুরোধ করব—যোগ্য, শিক্ষিত, সৎ এবং যার বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা আছে, এমন প্রার্থীকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করুন।” তিনি একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন যে, প্রতি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে অন্তত ৩০ জন এবার মার্কা নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন। ভোটাররা এখন প্রার্থীর সাহস, সততা এবং এলাকার উন্নয়নের সদিচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের প্রতীক ‘হাঁস’-এর জোয়ারের কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ—যেদিকেই তাকাই শুধু হাঁস আর হাঁস। এই হাঁসের গণজোয়ারই আমাদের জয় সুনিশ্চিত করবে, ইনশাআল্লাহ।” নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিনিময়ে তিনি আগামী পাঁচ বছর জনগণকে পাহারা দিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত: