টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১০:৫৯:২৪
টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

টানা দুই দফা বড় মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের স্বর্ণবাজারে এবার কিছুটা স্বস্তির খবর এলো। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দর কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, আজ সকাল ১০টা থেকেই স্বর্ণের নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে টানা মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কার পর ক্রেতারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

স্বর্ণের নতুন দাম (৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর)

বাজুস ঘোষিত সংশোধিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী—

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা

এর আগে সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাজুস স্বর্ণের দাম বড় পরিসরে বাড়িয়েছিল। সে সময় ভরিতে ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা, যা সেদিন বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

চলতি বছরে কতবার বদলাল স্বর্ণের দাম

এই সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে চলতি বছরে দেশের বাজারে মোট ২৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ১৬ দফা দাম বেড়েছে, আর ৯ দফা কমানো হয়েছে। অপরদিকে ২০২৫ সালে দেশের স্বর্ণবাজারে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল—যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

রুপার দামেও কমতির প্রভাব

স্বর্ণের পাশাপাশি এবার রুপার দামও কমানো হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।

নতুন দর অনুযায়ী—

২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা

২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা

১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় হয়েছিল মোট ১৩ বার—এর মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল, কমেছিল মাত্র ৩ বার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা মিলিয়েই দেশের বাজারে এ ধরনের ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় হচ্ছে। সামনে বিয়ের মৌসুম ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকায় মূল্য আরও ওঠানামা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

-রফিক


দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১০:৫৩:০০
দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। টানা পাঁচ দফা দাম কমার পর পরপর দুই দফায় বাড়ানো হলো স্বর্ণের মূল্য। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়, যা দেশের বাজারে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ দর ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকেই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে এখন খরচ হবে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২১৩ টাকায়। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

মাত্র একদিন আগেও স্বর্ণের দাম তুলনামূলক কম ছিল। গত ৬ মে বাজুস ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই হিসাবে মাত্র এক ব্যবধানে আবারও ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝোঁক বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকে সামনে রেখে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বাজুসকে ধারাবাহিকভাবে দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তন দেশের স্বর্ণবাজারে অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


প্রবাসী আয় পাঠানোর আগে দেখে নিন মুদ্রার রেট 

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৮ ১০:২৬:৫২
প্রবাসী আয় পাঠানোর আগে দেখে নিন মুদ্রার রেট 
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং বিদেশে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিদিন নজর রাখছে মুদ্রাবাজারের ওঠানামার দিকে।

শুক্রবার (৮ মে) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, মার্কিন ডলার, ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মতো শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর বিপরীতে টাকার চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। অন্যদিকে ইউরোর দাম উঠেছে ১৪৪ টাকা ১৪ পয়সায় এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের বিনিময় হার পৌঁছেছে ১৬৬ টাকা ৬৪ পয়সায়।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৌদি রিয়ালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩ টাকা ৪৭ পয়সা এবং কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৭৬ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে কুয়েতি দিনারের দাম সবচেয়ে বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৯৯ টাকা ৬০ পয়সা। বাহরাইনি দিনারের বিনিময় হার ৩২৬ টাকা ৮৪ পয়সা এবং ওমানি রিয়াল বিক্রি হচ্ছে ৩১৯ টাকা ৩০ পয়সায়।

এদিকে এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের মুদ্রার মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের দাম ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা, ব্রুনাই ডলার ৯৬ টাকা ৭৯ পয়সা এবং চীনা রেনমিনবি ১৮ টাকা ৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাপানি ইয়েনের দাম প্রতি ইউনিটে ৭৭ পয়সা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রার মূল্য ৮ পয়সা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার রয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা।

এছাড়া কানাডিয়ান ডলার ৮৯ টাকা ৮৬ পয়সা, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৬২ পয়সা এবং দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড ৭ টাকা ৪৭ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলারের চাহিদা বাড়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় এবং রপ্তানি আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছে।

-রফিক


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৯:৫৮:৫০
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় থেকে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়া এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার ইঙ্গিত এবং বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৪৫ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২৩ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৫৪ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তেলের দাম কমলে সাধারণত বন্ড মার্কেটে ইল্ডও কমে আসে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীরা আবার স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও কিছুদিন চলতে পারে। মূলত ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবই স্বর্ণের দামকে এই রেকর্ড উচ্চতায় ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


সব রেকর্ড চুরমার! স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১০:৩১:০৯
সব রেকর্ড চুরমার! স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের লাগাম যেন কিছুতেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বাড়ানো হলো মূল্যবান এই ধাতুর দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ভরিতে আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় গিয়ে ঠেকল।

আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

নতুন দামের তালিকা (প্রতি ভরি)

২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা।

২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা।

১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ২১৩ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (৬ মে) সকালেও স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসেবে মাত্র দুই দিনে ভরিতে দাম বাড়ল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বারই ছিল মূল্যবৃদ্ধির খবর। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস।

/আশিক


ফের ৯ শতাংশ পার মূল্যস্ফীতি, দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ 

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৭:৫৪:৩২
ফের ৯ শতাংশ পার মূল্যস্ফীতি, দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ 
ছবি : সংগৃহীত

দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এতে পড়েছে। এর ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টানা চার মাস মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পর মার্চে কিছুটা কমলেও এপ্রিল মাসে আবার তা বেড়েছে। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। সে অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা করা হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। তেলের দাম বাড়ার পর গত দুই সপ্তাহে শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে, তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

বিপজ্জনক বিষয় হলো, এপ্রিল মাসে জাতীয় গড় মজুরি হার বেড়েছে মাত্র ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির (৯.৪%) চেয়ে অনেক কম। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় মানুষ এখন ধারদেনা করতে কিংবা খাবার ও যাতায়াতের মতো জরুরি খাতের খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

/আশিক


স্বর্ণের পর এবার রুপার দামে বড় লাফ! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১১:৪২:৫৩
স্বর্ণের পর এবার রুপার দামে বড় লাফ! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)। টানা দুই দফা কমানোর পর এবার রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা এবং স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন দাম সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপা ও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছর এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৩৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালেও স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও লেগেছে চড়া দামের হাওয়া। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা কিনতে গুণতে হবে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রুপার দাম কমানো হলেও কয়েক দিনের মাথায় তা আবার বাড়ল। উল্লেখ্য, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩৭ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ বারই দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে।

/আশিক


১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় মিলবে এক ভরি স্বর্ণ, জানুন বিস্তারিত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ০৯:৩৮:১০
১ লাখ ৯৬ হাজার টাকায় মিলবে এক ভরি স্বর্ণ, জানুন বিস্তারিত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের এক ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশে সোনা ও রুপার মূল্য নির্ধারণকারী সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ৫ মে সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দর কার্যকর করেছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এই দামেই সোনা ও রুপা বিক্রি হবে।

বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ দর অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায়। একইসঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা কিনতে ব্যয় হবে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও উচ্চমূল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকায়।

এদিকে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হারের চাপ এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বেশি বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে এবং সেই প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।

বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় বাড়তি দামে স্বর্ণ কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অনেকেই এখন কম ওজনের অলংকার অথবা বিকল্প হিসেবে রুপার অলংকারের দিকে ঝুঁকছেন।

ব্যবসায়ীদের একাংশের ধারণা, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল হয়, তাহলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

-রাফসান


নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১২:০৬:১৩
নবম পে-স্কেল নিয়ে পুনর্গঠিত কমিটির নতুন পরিকল্পনা ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পে-স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে এবং খুব দ্রুতই এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে নতুন এই বেতন কাঠামো এককালীন কার্যকর না করে আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে। এই বিশাল ব্যয়নির্বাহের জন্য আগামী বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের সুপারিশ করবে অর্থ বিভাগ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নির্ধারিত পে-স্কেলের প্রায় ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হতে পারে।

সূত্রমতে, প্রথম বছর বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পরবর্তী দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট মূল বেতন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো কার্যকর করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পুনর্গঠিত কমিটির প্রাথমিক বৈঠকে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও সদস্যরা এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পক্ষেই মত দিয়েছেন। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আসা জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

উল্লেখ্য যে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের জন্য বড় অঙ্কের বাড়তি বরাদ্দ রাখার কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সম্মেলন শেষে অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে কমিটির পক্ষ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠকের কথা রয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদের মতে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় একবারে পুরো পে-স্কেল কার্যকর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিন থেকে চার ধাপে এটি বাস্তবায়ন করাকেই তিনি সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান বলে মনে করছেন।

/আশিক


স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১০:২৭:২৪
স্বর্ণের বাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাব: আন্তর্জাতিক দরে ব্যাপক পতন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের পরিবর্তে ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস নেমেছে। আজ মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৩ ডলার ৫৩ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস (BAJUS) গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় যে দাম নির্ধারণ করেছিল, তা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজুসের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকায়।

কম দামি বা সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এমন পতন ঘটলেও স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব জানতে হলে বাজুসের নতুন সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণত স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবী স্বর্ণের’ দাম ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে বাজুস এই দাম সমন্বয় করে থাকে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার অতিক্রম করেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণ বিক্রি করে দিয়ে ডলার সংগ্রহ করছেন, যা ডলারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে এবং স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। দেশের বাজারেও স্বর্ণের এই দরপতনের প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে কারণ চলতি বছর ইতিমধ্যে কয়েক ডজন বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: