আকাশে আসছে নতুন অতিথি: দেখা মিলবে ধূমকেতু ভিয়ারজোসের

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক অনন্য বিস্ময় নিয়ে পৃথিবীর আকাশের দিকে ধীরলয়ে এগিয়ে আসছে নতুন এক অতিথি, যার নাম ধূমকেতু ‘সি/২০২৪ ই১ (ভিয়ারজোস)’। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ধূমকেতুটি এখন সৌরজগতের সুদূর প্রান্ত থেকে সূর্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক দিন মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।
বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ধূমকেতুটির আদি নিবাস সৌরজগতের একেবারে প্রান্তিক অঞ্চল ‘ওর্ট মেঘ’। বরফ ও ধূলিকণায় ভরা এই বিশাল অঞ্চল থেকেই এর জন্ম। বর্তমানে সূর্যের কাছাকাছি আসার ফলে এর ভেতরের বরফ গলতে শুরু করেছে, যা ধূমকেতুটির পেছনে একটি উজ্জ্বল ও দীর্ঘ লেজ তৈরি করেছে। এই লেজটিই মূলত ধূমকেতুটিকে রাতের আকাশে এক রহস্যময় ও আকর্ষণীয় রূপ দান করেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মহাকাশ টেলিস্কোপ ‘জেমস ওয়েব’ দিয়ে ইতিমধ্যে ধূমকেতুটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ধূমকেতুর আলোতে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতি তুলনামূলক অনেক কম। এর থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, ধূমকেতুটি তৈরির সময়ই এই উপাদানের ঘাটতি ছিল অথবা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় এটি উপাদানটি হারিয়ে ফেলেছে।
দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বসবাসকারীরা ইতিমধ্যে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের দেখা পেয়েছেন এবং অনেক সৌখিন জ্যোতির্বিদ এর চমৎকার ছবিও তুলেছেন। এখন উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতেও এটি দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতুটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করবে। ফলে ওই সময়ের পর থেকে এটি আরও স্পষ্ট ও উজ্জ্বলভাবে দেখা যাবে।
বাংলাদেশের আকাশ থেকে এই ধূমকেতুটি দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ যদি সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকে এবং কৃত্রিম আলোর প্রভাব মুক্ত থাকে, তবে গভীর রাতে বা খুব ভোর রাতে শক্তিশালী দূরবীন বা টেলিস্কোপ দিয়ে এটি দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে কোথাও কোথাও খালি চোখেও হালকা আলোর আভা দেখা দেওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য সংরক্ষণে আরও স্মার্ট চ্যাটজিপিটি; লাইব্রেরি ফিচারে বদলে যাবে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিজেদের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি-তে (ChatGPT) ‘লাইব্রেরি’ (Library) নামক একটি যুগান্তকারী ফিচার যুক্ত করেছে ওপেনএআই। এই নতুন সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে চ্যাটে আপলোড করা বিভিন্ন ফাইল একটি নির্দিষ্ট ক্লাউড স্টোরেজে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এর ফলে পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো বারবার আপলোড করার ঝামেলা ছাড়াই পরবর্তী যেকোনো সময়ে সেগুলোর তথ্য ব্যবহার করা সহজ হবে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ‘লাইব্রেরি’ সুবিধাটি বর্তমানে চ্যাটজিপিটির প্লাস (Plus), প্রো (Pro) এবং বিজনেস (Business) সংস্করণ ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। সুবিধাটি সক্রিয় হওয়ার পর চ্যাটজিপিটির ওয়েব সংস্করণের সাইডবারে ‘লাইব্রেরি’ নামে একটি আলাদা ট্যাব দেখা যাবে। এই ট্যাবে ব্যবহারকারীর আপলোড করা সাম্প্রতিক সব ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা থাকবে। তবে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে তৈরি করা ছবিগুলো আগের মতোই ‘ইমেজেস’ ট্যাবে সংরক্ষিত থাকবে; লাইব্রেরি অংশে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর নিজস্ব আপলোড করা ফাইলগুলোই দৃশ্যমান হবে।
লাইব্রেরি থেকে কোনো ফাইল পুনরায় ব্যবহার করতে চাইলে কম্পোজার মেনুর অ্যাটাচমেন্ট বা অ্যাড বাটনে ক্লিক করে ‘অ্যাড ফ্রম লাইব্রেরি’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। ব্যবহারকারী নিজে থেকে ডিলিট না করা পর্যন্ত এই ফাইলগুলো লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত থাকবে।
মজার ব্যাপার হলো, কোনো নির্দিষ্ট চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেললেও সেই চ্যাটে ব্যবহৃত ফাইলগুলো লাইব্রেরি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে না। ফাইল স্থায়ীভাবে মুছতে হলে লাইব্রেরি থেকে নির্দিষ্ট ফাইলটি নির্বাচন করে ট্র্যাশ আইকনে ক্লিক করতে হবে, যা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে ওপেনএআই-এর সার্ভার থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হবে।
সূত্র: ব্লিপিং কম্পিউটার
ফেসবুকে রিলস শেয়ারে মাসে আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা: মেটার বড় ঘোষণা
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের বিশাল সুযোগ নিয়ে এলো মেটা (ফেসবুকের মাতৃপ্রতিষ্ঠান)। এখন থেকে ফেসবুকে রিলস ও পোস্ট শেয়ার করে প্রতি মাসে ৩ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকারও বেশি আয় করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক নতুন একটি প্রোগ্রামের আওতায় এই বিপুল অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। মূলত ইউটিউব ও টিকটকের জনপ্রিয় ক্রিয়েটরদের ফেসবুকমুখী করতেই মেটার এই বিশেষ উদ্যোগ। মেটার অফিশিয়াল নিউজরুম থেকে জানানো হয়েছে, যারা অন্য প্ল্যাটফর্মে (ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউব) অলরেডি জনপ্রিয়, তারাই এই প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার পাবেন।
এই প্রোগ্রামের আওতায় যাদের অন্য প্ল্যাটফর্মে অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে ১ হাজার ডলার এবং যাদের ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয় করতে পারবেন। নির্বাচিত ক্রিয়েটররা টানা তিন মাস মেটার পক্ষ থেকে এই নিশ্চিত পেমেন্ট পাবেন, তবে শর্ত হলো তাদের নিয়মিত মানসম্মত ‘এলিজিবল রিলস’ শেয়ার করতে হবে। এছাড়া ফেসবুক এসব ক্রিয়েটরের কন্টেন্টের রিচ বাড়াতে বিশেষ কারিগরি সহায়তাও প্রদান করবে। বর্তমানে এই প্রোগ্রামটি আমন্ত্রণভিত্তিক হলেও আগ্রহী ক্রিয়েটররা ফেসবুক অ্যাপের ‘প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড’ থেকে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন।
আয়ের সুযোগ শুধু রিলস বা ভিডিওতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; মেটা তাদের মনিটাইজেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ছবি, স্টোরি এমনকি টেক্সট বা লেখা পোস্ট থেকেও টাকা আয়ের সুযোগ থাকছে। মেটার তথ্যমতে, বর্তমানে ফেসবুকের মোট আয়ের ৬০ শতাংশই আসছে রিলস থেকে, আর বাকি অংশ আসছে ছবি ও লেখা থেকে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশাল বোনাস ঘোষণা বাংলাদেশের তরুণ ক্রিয়েটরদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে। মেটা ২০২৫ সালে ক্রিয়েটরদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পেমেন্ট করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি।
/আশিক
নাসার ধাক্কায় বদলে গেল গ্রহাণুর পথ; মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
মহাকাশ বিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের খবর দিচ্ছে নাসার 'ডার্ট' (DART) মিশনের সাম্প্রতিক গবেষণা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মানুষ প্রথমবার ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মহাকাশযানকে গ্রহাণুর সঙ্গে ধাক্কা খাইয়েছিল, যার প্রভাব বিজ্ঞানীদের আগের সব ধারণাকেই আমূল বদলে দিয়েছে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স অ্যাডভান্সেস'-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেই ধাক্কার ফলে কেবল ছোট গ্রহাণু 'ডাইমরফোস' নয়, বরং পুরো গ্রহাণু জোড়ার সূর্যের চারপাশের কক্ষপথেও পরিবর্তন এসেছে।
এই পরীক্ষায় মহাকাশযানটি গিয়ে ধাক্কা দিয়েছিল ছোট গ্রহাণু ডাইমরফোস-এর সঙ্গে, যা মূলত বড় গ্রহাণু ডিডিমোস-এর চারপাশে ঘোরে। এই দুই গ্রহাণু মিলে একটি ‘বাইনারি সিস্টেম’ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এই গ্রহাণু জোড়ার যে ৭৭০ দিনের সময় লাগত, তা এখন এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও এই সময়টুকু আমাদের কাছে অতি সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু মহাজাগতিক স্কেলে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ডাইমরফোস থেকে ছিটকে যাওয়া পাথর ও ধূলিকণা এই ধাক্কার শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল, যার ফলে এর কক্ষপথের পথ সামান্য বদলে গেছে।
গবেষকদের মতে, এই পরীক্ষাটি দেখিয়েছে যে মহাকাশে মানুষের সৃষ্ট একটি ছোট পরিবর্তনও দীর্ঘ সময় পরে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো বিপজ্জনক গ্রহাণু সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে এভাবেই মহাকাশযান দিয়ে ধাক্কা মেরে তার গতিপথ সামান্য বদলে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে পৃথিবীকে এক বিশাল মহাজাগতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার পথ প্রশস্ত হলো। এই আবিষ্কারটি মূলত পৃথিবীকে গ্রহাণুর সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
/আশিক
মার্চের আকাশে গ্রহের মেলা! ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহাজাগতিক থিয়েটার দেখবে বাংলাদেশ
মার্চের শেষার্ধে বাংলাদেশের আকাশ এক অনন্য মহাজাগতিক মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে। দিনের তপ্ত রোদ শেষে সন্ধ্যার আকাশ যখন স্বচ্ছ ও নির্মল হয়ে ওঠে, তখনই চোখ মেললে ধরা দিচ্ছে বিস্ময়কর সব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেখা যাবে গ্রহের মেলা, চাঁদের লুকোচুরি আর উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের উপস্থিতি; সব মিলিয়ে এক মহাজাগতিক থিয়েটার।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সময়ের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক দৃশ্য
ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'প্ল্যানেট প্যারেড' মার্চের শেষ ভাগেও অব্যাহত থাকবে, তবে গ্রহগুলোর অবস্থানে আসবে নতুন বিন্যাস। ১৬ মার্চের পর সূর্যাস্তের ঠিক পরেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিচ্ছে শুক্র গ্রহ। সন্ধ্যাতারা হিসেবে পরিচিত এই গ্রহের খুব কাছেই অবস্থান করছে বুধ গ্রহ। সাধারণত সূর্যের কাছাকাছি থাকায় বুধ দেখা কঠিন হলেও মার্চে এটি গোধূলি বেলায় ঢাকার আকাশেও স্পষ্ট দেখা যাবে। এদিকে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি মাঝ আকাশে নিজের আধিপত্য বজায় রাখবে। টেলিস্কোপে এর চারটি বড় উপগ্রহ 'গ্যালিলিয়ান মুন' দেখার সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে শনি গ্রহ ভোরের আকাশে সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে, যা দেখার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহই আদর্শ সময়।
২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে দেখা যাবে আকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য। এ সময়ে চাঁদের সরু ফালি একে একে বিভিন্ন গ্রহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে 'ক্রিসেন্ট মুন' শুক্র ও বুধের খুব কাছাকাছি থাকবে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে এই দৃশ্য এমন মনে হবে যেন চাঁদ আর শুক্র একে অপরকে আলিঙ্গন করছে। ২৫ মার্চ চাঁদ চলে আসবে বৃহস্পতির কাছে, যা আলোকদূষণমুক্ত আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে।
আগামী ২০ মার্চ ২০২৬ পালিত হবে বসন্তকালীন বিষুব। এদিন সূর্য ঠিক পূর্ব দিকে উদিত হবে এবং পশ্চিমে অস্ত যাবে, ফলে দিন ও রাত প্রায় সমান হবে। বাংলাদেশ বিষুবরেখার কাছাকাছি হওয়ায় এ পরিবর্তনের প্রভাব এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ঋতু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং বসন্তের পূর্ণতার প্রতীক।
মার্চের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশের ঠিক ওপরে দেখা যাবে কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ, যার তিনটি তারার সারি বা 'বেল্ট' সহজেই চেনা যায়। কালপুরুষের নিচে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে জ্বলজ্বল করবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক (সাইরাস)। অন্যদিকে উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। শহরের বাইরে খোলা আকাশে গেলে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার হালকা সাদা আভাও চোখে পড়তে পারে।
৩১ মার্চ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট গ্রহ দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। খালি চোখে শুক্র ও বৃহস্পতি দেখা গেলেও শনির বলয় বা ইউরেনাসের আভা দেখতে হলে অন্তত ১০×৫০ ক্ষমতার একটি বাইনোকুলার প্রয়োজন হবে। এই মার্চের আকাশ তাই শুধু রাতের সৌন্দর্য নয়, বরং প্রকৃতি ও মহাকাশের এক অনন্য সংলাপ।
সূত্র : দ্য স্কাই লাইভ, স্কাইম্যাপ অনলাইন
মহাকাশ স্টেশনের বাইরে সাড়ে ৬ ঘণ্টা; নাসার নভোচারীদের রোমাঞ্চকর ‘স্পেসওয়াক’
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) আয়ুষ্কাল বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এক বিশেষ অভিযানে নামছেন নাসার নভোচারীরা। চলতি মার্চ মাসেই তারা দুই দফায় স্টেশনের বাইরে খোলা মহাকাশে বের হয়ে কাজ করবেন, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্পেসওয়াক’। স্টেশনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথ সুগম করতেই এই চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নাসার তথ্যমতে, প্রথম স্পেসওয়াকটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ। এই রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ নভোচারী জেসিকা মিয়ার এবং তাঁর সঙ্গী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস। তারা স্টেশনের বিশেষ প্রবেশদ্বার ‘কোয়েস্ট এয়ারলক’ দিয়ে শূন্য মহাকাশে বেরিয়ে আসবেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করে তারা ‘২এ পাওয়ার চ্যানেল’ প্রস্তুত করবেন। মূলত স্টেশনে সর্বাধুনিক সৌর প্যানেল ‘আইআরওএসএ’ (iROSA) বসানোর প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করবেন তারা। এই আধুনিক রোল-আউট সোলার অ্যারেগুলো বসানো হলে স্টেশনটি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।
জেসিকা মিয়ারের জন্য এটি চতুর্থ অভিজ্ঞতা হলেও, ক্রিস্টোফার উইলিয়ামসের জন্য এটিই হবে জীবনের প্রথম স্পেসওয়াক। প্রথম দফার কাজ সফল হলে ‘ইউএস স্পেসওয়াক–৯৫’ নামে দ্বিতীয় অভিযানটি শুরু হবে। সেখানে স্টেশনের ‘৩বি পাওয়ার চ্যানেল’ মেরামতের কাজ করা হবে। উল্লেখ্য যে, মহাকাশ স্টেশন তৈরির পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে কয়েকশ বার এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা হয়েছে। এবার যে দুটি অভিযান হতে যাচ্ছে, সেগুলো হবে এই স্টেশনের ২৭৮তম ও ২৭৯তম স্পেসওয়াক। আধুনিক প্রযুক্তির এই সংযোজন ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে নাসা।
/আশিক
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রহস্যময় সংকেত; ভিনগ্রহের প্রাণী নাকি ডার্ক ম্যাটার?
আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের কেন্দ্রস্থল থেকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আসা অদ্ভুত কিছু সংকেত বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একসময় এসব সংকেতের পেছনে ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের একদল গবেষকের মতে, এই রহস্যময় সংকেতের উৎস হতে পারে মহাবিশ্বের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অদৃশ্য পদার্থ। তাদের এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাটি বিশ্বখ্যাত ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. শ্যাম বালাজি উল্লেখ করেছেন যে, তারার বিস্ফোরণের মতো মহাকাশের বড় বড় প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো দিয়ে এই অদ্ভুত সংকেতগুলোর পুরোপুরি ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডার্ক ম্যাটার এমন এক পদার্থ যা আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলনও করে না, ফলে একে সরাসরি দেখা যায় না; অথচ মহাবিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই রহস্যময় পদার্থ দিয়ে গঠিত। এই গবেষণায় ‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ বা উত্তেজিত ডার্ক ম্যাটার প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে শক্তি জমা হয় এবং পরবর্তীতে তা ‘পজিট্রন’ নামক কণা আকারে নির্গত হয়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মহাকাশে দেখা দেওয়া তিনটি অদ্ভুত সংকেত—৫১১-কেভি (keV) বিকিরণ, ২-মেগা ইলেকট্রন ভোল্ট গামা রশ্মি এবং গ্যাসের অস্বাভাবিক আয়নাইজেশনের ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে এই তত্ত্বটি প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে চেরেনকভ টেলিস্কোপ অ্যারে অবজারভেটরির মতো অত্যাধুনিক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রকল্পগুলো এই বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। যদি এই ধারণাটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের চিরচেনা ধারণাকে বদলে দেওয়ার পাশাপাশি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
/আশিক
ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’
ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া বার্তা আদান-প্রদান করা অসম্ভব—প্রযুক্তির এই প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে বাজারে আসছে নতুন এক বৈপ্লবিক অ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো যেখানে ডাটা বা ওয়াই-ফাই ছাড়া অচল, সেখানে সম্পূর্ণ ইন্টারনেটহীন অবস্থায় কাজ করবে ‘বিটচ্যাট’ (BitChat) নামক এই অ্যাপটি। আধুনিক এই প্রযুক্তির নেপথ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টুইটারের (বর্তমানে এক্স) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জ্যাক ডরসি।
বিটচ্যাট অ্যাপটি মূলত ব্লুটুথ প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যাকে কারিগরি ভাষায় ‘পিয়ার-টু-পিয়ার’ (P2P) যোগাযোগ ব্যবস্থা বলা হয়। সাধারণ মেসেজিং অ্যাপগুলো কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করলেও বিটচ্যাট সরাসরি এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে বার্তা পাঠাতে সক্ষম। ফলে এই প্রক্রিয়ায় কোনো ইন্টারনেট কানেকশন বা মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন পড়ে না। এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে যা ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তাও নিশ্চিত করবে।
দূরত্ব ও কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে বিটচ্যাট সাধারণ ব্লুটুথ ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সাধারণ ব্লুটুথের রেঞ্জ ১০০ মিটারের আশেপাশে থাকলেও বিটচ্যাট ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ব্যক্তিগত বার্তার পাশাপাশি এখানে গ্রুপ চ্যাট বা চ্যাটরুম তৈরির সুবিধাও থাকছে। কাছাকাছি থাকা একাধিক ব্যবহারকারীর ব্লুটুথ মিলে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক বা ‘ক্লাস্টার’ তৈরি করবে, যার ফলে বার্তা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ক্রমান্বয়ে পৌঁছাতে পারবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, তখন বিটচ্যাট যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এটি অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে অ্যাপটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি আইফোন (iOS) ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে বিশ্বজুড়ে মেসেজিং ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।
/আশিক
মহাকাশে দানবীয় ডিম? নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল রহস্যময় নীহারিকা
মহাকাশ বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হিসেবে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ‘এগ নেবুলা’ বা ডিম নীহারিকার এক দুর্লভ ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার আলোকবর্ষ দূরে সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত এই নীহারিকাটি দেখতে অনেকটা ডিমের কুসুম ও তার চারপাশের সাদা অংশের মতো, যা মহাকাশপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি প্রি-প্ল্যানেটারি বা গ্রহীয় নীহারিকা। যখন কোনো নক্ষত্র তার আয়ুষ্কালের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেটি থেকে গ্যাস ও ধুলোর স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এই ধরনের অদ্ভুত কাঠামোর সৃষ্টি হয়। হাবলের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নীহারিকাটির কেন্দ্রে থাকা মৃতপ্রায় তারাটি ঘন ধুলোর মেঘে ঢাকা পড়ে আছে, তবে তা থেকে দুটি উজ্জ্বল আলোর রেখা তীব্র গতিতে মেঘ ভেদ করে বেরিয়ে আসছে। গবেষকদের ধারণা, মূল তারার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা ছোট কোনো তারার মহাকর্ষীয় টানের কারণে এই বিচিত্র গঠন তৈরি হয়েছে।
এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘কসমিক ডাস্ট’ বা মহাজাগতিক ধুলো। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নীহারিকা থেকে নির্গত ধুলো থেকেই ভবিষ্যতে নতুন নক্ষত্র বা গ্রহের জন্ম হতে পারে। উল্লেখ্য যে, আমাদের সৌরজগতও প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে এমন ধুলোর মেঘ থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তারা জন্ম ও মৃত্যুর এই রহস্যময় চক্র বুঝতে এগ নেবুলার মতো ক্ষণস্থায়ী ধাপগুলো পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
/আশিক
পার্লার ছাড়াই নিখুঁত রূপচর্চা: ঘরেই আসছে ‘এআই স্কিন অ্যানালাইজার’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের প্রয়োগ এখন বিশ্বব্যাপী। রূপচর্চার দুনিয়াতেও নাক গলিয়ে ফেলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। 'এআই স্কিন অ্যানালাইজার' তৈরি হয়েছে এআই অ্যালগরিদ্ম এবং রোবোটিক্সের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই। এটি এমন এক ডিভাইস, যা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং মাল্টি-স্পেকট্রাল ইমেজিং ব্যবহার করে মুখের ছবি তুলবে। তারপর সেই ছবির গভীরে গিয়ে ত্বকের বিশ্লেষণ করবে।
ত্বকের কোথায় লুকিয়ে আছে অবাধ্য একখানা ব্রণ কিংবা ঠিক কোন ক্রিমটা মাখলে আগামীকালের পার্টিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখাবে, তা জানার জন্য আর কখনোই পার্লারে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কারণ ছোট্ট একটা যন্ত্রই এখন আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত রূপচর্চাশিল্পী।
সাধারণ চোখে যে সমস্যাগুলো ধরা পড়ে না, সেগুলোও দেখবে। এই যেমন— ত্বকের ঠিক কোন কোন জায়গায় বলিরেখা পড়তে পারে, তা কোনো মানুষ চোখে দেখে বলতে পারবেন না। কিন্তু এআই অ্যানালাইজার পারবে। কোন বয়সে ত্বকের কোথায় বলিরেখা পড়তে পারে, চোখের নিচে ঠিক কতখানি কালির পোঁচ রয়েছে, ত্বকের কোন অংশে দাগছোপ পড়বে পড়বে করছে, সেসব বলে দেবে যন্ত্রটি। অর্থাৎ ত্বকের আগাগোড়া ডেটাবেস তৈরি করে দেবে এক লহমায়।
তবে এই যন্ত্র যে কেবল সমস্যা বলবে তা নয়, সমাধানের পথও বাতলে দেবে। যেমন— কোন ক্রিমটি ত্বকের জন্য উপযুক্ত, তা জানাবে। শুষ্ক, তৈলাক্ত ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন ধরনের ত্বক হয়। একেক রকম ত্বকের জন্য একেকটি উপাদান কার্যকর। কারও ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ভালো, কারও হায়ালুরনিক অ্যাসিড, আবার কারও বেশি রেটিনলযুক্ত ক্রিম মেখে ফেললেই ত্বকে র্যাশ বেরিয়ে যায়। কার জন্য কোনটি, তা বলে দেওয়াই অ্যানালাইজারের কাজ।
ত্বক যেমনই হোক না কেন, তার সঠিক মূল্যায়নের জন্য আর কাউকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। কোন ক্রিমটা সকালে মাখবেন, কোনটা বিকালে, আর কোনটা রাতে ফেশিয়ালটা করাবেন, কোনটা করাবেন না, তা করে দেবে ‘এআই স্কিন অ্যানালাইজার’। যাকে সবজান্তা রূপচর্চাশিল্পী বললেও ভুল বলা হবে না।
মুখ দেখে অনুমানের ভিত্তিতে একজন মানুষ যতটা বলবেন, তার ঢের গুণ বেশি বলবে ওই যন্ত্র। কারণ অনুমান নয়, যন্ত্রটি ত্বকের গভীরে চোখ রাখবে। নিখুঁত বিশ্লেষণ করবে ত্বকের প্রতিটি কোষের। এখন প্রতিদিনের ব্যবহারের উপযোগী ছোটখাটো যন্ত্র, যা বাড়িতেই রাখা যাবে। এ যন্ত্র এখন সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনেও সহজলভ্য। ত্বকের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে গিয়ে বিশ্লেষণ করবে এআই রোবট। তিন পদ্ধতিতে কাজ করবে যন্ত্রটি। এর মাল্টি-স্পেকট্রাল ইমেজিং সাধারণ আলোর পাশাপাশি অতিবেগনি রশ্মি ব্যবহার করবে। কারণ সাধারণ আলোতে যে দাগছোপ ধরা পড়ে না, তা অতিবেগনি রশ্মিতে দিব্যি বোঝা যায়। ত্বকের চরিত্র বুঝতে এই রশ্মিকেই কাজে লাগাবে স্কিন অ্যানালাইজার।
ডিপ লার্নিং পদ্ধতিতে সব তথ্য বিশ্লেষণ করবে। এর কাছে লাখ লাখ ডেটা থাকবে। আপনার ছবি তোলার পর কম্পিউটার ভিশন অ্যালগরিদ্ম সেই ছবির প্রতিটি পিক্সেল বিশ্লেষণ করবে। তার পর রিপোর্ট দেবে।
ত্বক বেশি শুষ্ক না তৈলাক্ত, এআই ডিভাইস দেবে নির্ভুল তথ্য। প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স ত্বকের বর্তমান অবস্থা দেখে তার ভবিষ্যৎ রূপ বর্ণনা করবে। যেমন— আপনার ত্বকের আর্দ্রতা বা কোষের বৈশিষ্ট্য দেখে বলে দেবে আগামী কয়েক বছরে ত্বকের কোথায় বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।
শুধু স্কিন অ্যানালাইজার নয়, ফেশিয়াল ডিভাইসও বেরিয়ে গেছে এখন। অনেক ক্ষেত্রে একই যন্ত্রে দুইয়ের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এটিও কাজ করবে তিন ধাপে—
দামের ওপর নির্ভর করে যন্ত্রটি নানা রকম হয়।
স্ক্যানিং ও কাস্টমাইজেশন: ফেশিয়াল শুরু করার আগে ডিভাইসটি ত্বক স্ক্যান করবে এবং জানাবে কতটা এক্সফোলিয়েশন জরুরি, কোন ফেশিয়াল এ ত্বকের জন্য ভালো।
ট্রিটমেন্ট: ডিভাইসটি জানাবে কোন কোন ক্রিম বা জেল ব্যবহার করে ফেশিয়াল করলে ভালো হবে। ত্বকের কোন জায়গায় একটু বেশি সিরাম লাগাতে হবে, কোথায় কম, তা-ও জানিয়ে দেবে।
থেরাপিউটিক লাইট: এলইডি থেরাপিতে ত্বকের জেল্লা বৃদ্ধির পদ্ধতিও এর জানা। ব্রণর জন্য নীল আলো, অ্যান্টি-এজিংয়ের জন্য লাল আলো জরুরি। কোন আলোর থেরাপিতে আপনার ত্বক ঠিক তারকাদের মতো হয়ে উঠবে, তা-ও কিন্তু জানিয়ে দেবে এই যন্ত্র।
কোথায় পাবেন, দাম কত?
বিভিন্ন বিউটি ক্লিনিকে এ যন্ত্রটি পাওয়া যাচ্ছে। এখন অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে। ডিভাইসের ধরন অনুযায়ী দাম পড়বে। সাধারণ সেন্সর থাকলে এর দাম ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে হবে। যদি আকারে বড় ও ত্রিমাত্রিক সুবিধাযুক্ত মেশিন চান, তাহলে দাম একটু বেশিই পড়বে। সে ক্ষেত্রে দাম শুরু হবে ৬০ হাজার টাকা থেকে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভয়াবহ আগুন
- আসছে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি, আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা
- দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ফেরী, নৌকা, গাড়ি, পথ- সফর নিরাপদ করতে রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া
- ২৬ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি
- দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাটের ৫ জরুরি নির্দেশ
- নিজেদের জনগণের হাতে মরার ভয়েই আলোচনা লুকাচ্ছে ইরান; ট্রাম্প
- বীর শহিদদের স্মরণে সাভারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- পদ্মার অতলে বাস ট্র্যাজেডি: ২৩ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদ্ধার অভিযান
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- ট্রাম্পের ১৫ দফার প্রস্তাব ‘ছুড়ে ফেলে দিল’ ইরান: পাল্টা কঠিন শর্তে বিপাকে হোয়াইট হাউস
- রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?
- শাসক বদলালেও বদলায়নি শোষণের ধারা: জামায়াত আমির
- প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইরানি হামলার লক্ষ্য কী? বিবিসির বিশেষ বিশ্লেষণ
- নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পদ্মায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’: ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পথে ট্র্যাজেডি
- হরমুজের দখল কার হাতে যাবে? যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
- মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উত্তাল সমুদ্রে ইরানের বড় চাল!
- পুরুষের টাক পড়া রুখবে এসেনশিয়াল অয়েল; জেনে নিন ব্যবহারের জাদুকরী কৌশল
- তথ্য সংরক্ষণে আরও স্মার্ট চ্যাটজিপিটি; লাইব্রেরি ফিচারে বদলে যাবে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
- ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
- যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় শত শত প্রাণহানি
- কুমিল্লা রেললাইনে রক্তের দাগ, পড়ে আছে চারটি জুতা
- জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেটে বাংলাদেশ
- 'লেবাননে গাজার মতো ধ্বংস চান নেতানিয়াহু'
- মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হতে পারে ইউএস আর্মির এক হাজার প্যারাট্রুপার
- সুনামগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
- পাকিস্তানের হাত ধরে মার্কিন শান্তি প্রস্তাব তেহরানে: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে যুদ্ধের অবসান?
- জনপ্রিয়তায় ধস ট্রাম্পের: ইরান যুদ্ধ ও তেলের দামে দিশেহারা মার্কিন জনতা
- পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড
- স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন
- আলোচনায় ইরান কি এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী
- পেনি স্টকের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা
- স্বল্পমূল্যের শেয়ারে হঠাৎ উল্লম্ফন: ডিএসইর টপ গেইনার তালিকায় কী বার্তা দিচ্ছে বাজার?
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ইউক্রেনে রাশিয়ার নজিরবিহীন ড্রোন হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা চলছে, ইরান অস্বীকার করছে- সত্যটা কে বলছে?
- তেল উত্তোলনে বড় ধস: উত্তাল পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার জেরে কুয়েতের পিছুটান
- বড় পর্দায় ফিরছে ‘মোআনা’: লাইভ-অ্যাকশনে চমক দেখাবেন ডোয়াইন জনসন
- মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সৌদি-পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ
- ১৯৭১-এর দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ: বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী অভ্যুদয়ের দলিল
- আবারও কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নতুন স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
- হেপাটাইটিস ‘ই’ চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার: লাখো প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো
- যুদ্ধের প্রভাবে থমকে গেছে দুবাইয়ের প্রোপার্টি মার্কেট: বিনিয়োগকারীদের পিছুটান
- যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত: মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণে এবার তেহরানের পাল্টা চাল
- সৌদি ও কুয়েতে একের পর এক ড্রোন হামলা: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা
- সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
- যুদ্ধবিরতিতে ইরানের ৫ কঠোর শর্ত
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ক্রেতাদের মুখে হাসি
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- তেজাবি স্বর্ণের বাজারে ধস: ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি নিয়ে এল নতুন দাম
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ইসরায়েলের আকাশ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে? যুদ্ধবিরতিতে ৬ কঠিন শর্ত তেহরানের
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দেশে কমলো কত
- রিয়াদের ৭০ শতাংশ জ্বালানি মজুদের ওপর আঘাত: যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কি ইরানের হাতে?








