ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১৪:৩২:৫৫
ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার সুনির্দিষ্ট সময় ও স্থান এখনো শতভাগ নির্ভুলভাবে আগাম জানানো সম্ভব হয়নি। তবে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক দশ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অল্প সময়ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং বাংলাদেশসহ আশপাশের এলাকায় অনুভূত একাধিক মৃদু কম্পনের পর ভূমিকম্প প্রস্তুতি নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা চাইলে গুগলের Earthquake Alerts System চালু রেখে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা পেতে পারেন।

গুগলের এই বিশেষ ব্যবস্থা বিশ্বের কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সরের তথ্য ব্যবহার করে কাজ করে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক স্মার্টফোন একই ধরনের ভূকম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণে সেটি ভূমিকম্প হিসেবে নিশ্চিত হলে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থানকারী মানুষ সাধারণত কয়েক সেকেন্ড সময় পান। যদিও সময়টি খুবই অল্প, তবুও এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া, গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে দূরে সরে আসা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করা সম্ভব হতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই সুবিধা চালু করতে প্রথমে Settings-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর Safety & Emergency অপশনে গিয়ে Earthquake Alerts নির্বাচন করতে হবে। সেখানে ফিচারটি বন্ধ থাকলে Turn On বা Enable করে দিলেই এটি সক্রিয় হবে। কিছু স্মার্টফোনে এই অপশন Location, Advanced Settings কিংবা Security & Emergency মেনুতেও থাকতে পারে।

তবে এই সুবিধা ব্যবহারের জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ থাকা জরুরি। ফোনে অবশ্যই সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। পাশাপাশি লোকেশন সার্ভিস (GPS) চালু রাখতে হবে এবং সর্বশেষ Google Play Services ইনস্টল থাকতে হবে। এছাড়া ডিভাইসটি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত হতে হবে।

গুগল সাধারণত দুই ধরনের ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পাঠায়। Be Aware Alert তুলনামূলক কম মাত্রার কম্পনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকতে বলে। অন্যদিকে Take Action Alert শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা দেখা দিলে পুরো স্ক্রিনজুড়ে জরুরি বার্তা প্রদর্শন করে এবং উচ্চ শব্দে অ্যালার্ম বাজিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের এই নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালু না থাকলেও তারা স্থানীয় সরকারি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার নোটিফিকেশন অথবা নির্ভরযোগ্য তৃতীয় পক্ষের ভূমিকম্প সতর্কতা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। জানালা, কাচ, বুকশেলফ কিংবা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না। বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে এবং গাড়িতে থাকলে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করা উচিত।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আগাম সতর্কতা, সচেতনতা, নিরাপদ ভবন নির্মাণ এবং নিয়মিত দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এখনই একবার দেখে নেওয়া উচিত Earthquake Alerts ফিচারটি সক্রিয় আছে কি না। জরুরি মুহূর্তে এই অল্প কয়েক সেকেন্ডই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে মূল্যবান সময়।

-রফিক


ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ২০:৫৩:৩৩
ভুয়া বিজ্ঞাপনের অভিযোগে গ্রাহকদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে আইফোন নির্মাতা
ছবি : সংগৃহীত

আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে গ্রাহকদের মোট ২৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি শ্রেণিভিত্তিক মামলা বা ‘ক্লাস অ্যাকশন স্যুট’ সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার অংশ হিসেবে এই বিশাল অর্থ পরিশোধ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলার মূল অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাপল তাদের বিজ্ঞাপনে নিজস্ব ভার্চুয়াল সহকারী ‘সিরি’র যেসব আকর্ষণীয় এআই সক্ষমতার প্রচার চালিয়েছিল, বাস্তব ক্ষেত্রে তার অনেক ফিচারই সচল বা উপস্থিত ছিল না। ফলে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক আইফোন কিনতে উৎসাহিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী ও নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন ভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নির্দিষ্ট ও যোগ্য গ্রাহকেরা নির্ধারিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের ক্ষতির সপক্ষে দাবি পেশ করার পাশাপাশি ইচ্ছে করলে মামলার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই নিষ্পত্তির আওতায় কেবল তারাই আসবেন, যারা ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৬ সিরিজ, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মডেলের হ্যান্ডসেট কিনেছেন। তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে গ্রাহককে উক্ত আইফোনের প্রথম বা মূল ক্রেতা হতে হবে এবং ডিভাইসটি বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কেনা হতে হবে।

শর্তপূরণকারী যোগ্য গ্রাহকেরা ফোনপ্রতি সর্বনিম্ন ২৫ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন। তবে গ্রাহকভেদে প্রাপ্ত অর্থ বাবদ চূড়ান্ত অঙ্ক কত দাঁড়াবে, তা মোট কতজন গ্রাহক সঠিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের তথ্য মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমাদান শেষে সম্পূর্ণ চুক্তিটি আইনিভাবে পরিমিত ও পর্যাপ্ত কি না তা খতিয়ে দেখতে আগামী ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ


সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২১:৫৩:১২
সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
ছবি : সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রাতের আকাশে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একগুচ্ছ মহাজাগতিক সৌন্দর্য। ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাতের আকাশে শনি গ্রহকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করার দারুণ সুযোগ থাকছে। এর পাশাপাশি খালি চোখ ও টেলিস্কোপের সাহায্যে দৃশ্যমান হবে শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহ, শরৎকালীন বিশেষ নক্ষত্রমণ্ডল এবং আমাদের নিকটবর্তী অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি। এছাড়া মাসের শেষভাগে ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার আকাশে উদিত হবে বহুল পরিচিত ‘হারভেস্ট মুন’ বা শরৎকালীন পূর্ণিমার চাঁদ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সেপ্টেম্বর মাস শনি গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য বছরের অন্যতম সেরা সময়। আগামী ৪ অক্টোবরের দিকে গ্রহটি সূর্যের বিপরীত অবস্থানে (অপজিশন) পৌঁছাবে বিধায় সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকেই সূর্যাস্তের পর থেকে শনি আকাশে ক্রমশ উঁচুতে উঠবে এবং পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল অবস্থানে থাকবে। খালি চোখে এটিকে উজ্জ্বল হলুদ বিন্দুর মতো মনে হলেও সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ দিয়েই এর চমৎকার বলয় এবং বৃহত্তম উপগ্রহ ‘টাইটান’ অবলোকন করা সম্ভব হবে।

এই পাক্ষিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে হতে যাওয়া পূর্ণিমা, যা শরৎ বিষুবের নিকটবর্তী হওয়ায় ‘হারভেস্ট মুন’ নামে খ্যাত। দিগন্তের কাছাকাছি থাকার সময় বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবে চাঁদটি সোনালি বা হালকা কমলা আভায় চমৎকার রূপ ধারণ করবে। তবে ২৬ সেপ্টেম্বর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে বলে সামাজিক মাধ্যমে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা একেবারেই সঠিক নয়; কারণ ২০২৬ সালের আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি ২৭-২৮ আগস্ট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তা বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান ছিল না। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদ প্রথম চতুর্থাংশ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে শরৎ বিষুব, যেদিন দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে রাতের ব্যাপ্তি বাড়তে শুরু করবে।

গ্রহগুলোর মধ্যে সূর্যাস্তের পরপরই পশ্চিম আকাশে ‘সন্ধ্যাতারা’ হিসেবে জ্বলজ্বল করবে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ। অন্যদিকে গভীর রাত ও ভোরের আকাশে পূর্ব দিগন্তে স্পষ্টভাবে দেখা মিলবে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির।

সন্ধ্যার পর পূর্ব আকাশে নজরকাড়া পেগাসাসসহ শরৎকালীন বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে। পেগাসাসের কাছাকাছি অবস্থিত আমাদের নিকটতম অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের জন্যও সেপ্টেম্বর অত্যন্ত প্রশস্ত সময়। শহরের কৃত্রিম আলোকদূষণমুক্ত যেকোনো খোলা ও অন্ধকার স্থান থেকে বাইনোকুলার কিংবা টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো সবচেয়ে সুন্দরভাবে উপভোগ করা যাবে।

সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম


শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২১:৪১:০৩
শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক চোখ আটকে রাখার অভ্যাস থেকে ব্যবহারকারীদের বের করে এনে প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ধরন বদলে দিতে নতুন এক বিপ্লবী হার্ডওয়্যার গ্যাজেট তৈরির দিকে এগোচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুল আলোচিত এই নতুন ডিভাইসের সক্ষমতা বাড়াতে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ক্যামেরা প্রযুক্তির স্টার্টআপ ‘গ্লাস ইমেজিং’কে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যে অধিগ্রহণ করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। শিল্প বিশ্লেষকদের জোরালো ধারণা, স্টার্টআপটির উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি ওপেনএআইয়ের ভবিষ্যৎ এআই হার্ডওয়্যারে সরাসরি ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে।

‘গ্লাস ইমেজিং’ প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের সাবেক দুই কর্মী জিভ আত্তার ও টম বিশপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের উদ্ভাবিত ‘নিউরাল ইমেজ সিগনাল প্রসেসিং’ এআই সফটওয়্যার ক্যামেরার সাধারণ কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি লেন্স ও সেন্সরের প্রথাগত হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা দূর করে ছবির নয়েজ ও ব্লার বা ঝাপসা ভাব কার্যকরভাবে কমিয়ে আনে এবং প্রতিকূল বা স্বল্প আলোতেও ছবির জুমের মান ও সামগ্রিক আউটপুট বহুগুণ নিখুঁত করে তোলে। ওপেনএআইয়ের এই অধিগ্রহণ তাদের রহস্যময় হার্ডওয়্যার ডিভাইস নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

অ্যাপলের কিংবদন্তি সাবেক প্রধান ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ওপেনএআইয়ের নতুন এআই ডিভাইস তৈরির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী বছর সম্ভাব্য বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা গ্যাজেটটিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ‘বিশ্বের এ পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে চমৎকার প্রযুক্তির নিদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। জনি আইভ ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ডিভাইসটি স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করবে।

অভ্যন্তরীণ এক কর্মী সভার সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনো স্মার্টওয়াচ বা পোশাকে লাগানোর ক্লিপের মতো পরিধানযোগ্য পণ্য নয়; বরং এটি ডেস্কের ওপর রাখা কিংবা পকেটে বহন করার মতো একটি কমপ্যাক্ট ডিভাইস হতে পারে, যা ব্যবহারকারীর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে সবসময় ‘সম্পূর্ণ সচেতন’ থাকবে। অল্টম্যানের আশা, যুগান্তকারী এই গ্যাজেট ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করতে বড় ভূমিকা রাখবে; তবে এর চূড়ান্ত রূপরেখা, নাম বা উন্মোচনের সঠিক সময় এখনও গোপনই রয়ে গেছে।

/আশিক


দশকের শেষেই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই: পদত্যাগ করে বিস্ফোরক গবেষক

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:৫৭:১৩
দশকের শেষেই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই: পদত্যাগ করে বিস্ফোরক গবেষক
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুতগতির বিকাশ এবং ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ অর্জনের অন্ধ প্রতিযোগিতা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেছেন খোদ প্রযুক্তিটির শীর্ষ গবেষকরা। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে জিপিটি-৪ও মডেলের প্রি-ট্রেনিং ধাপে কাজ করা তরুণ গবেষক জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি পদত্যাগ করে এক্সে এক বিস্ফোরক পোস্টে জানান, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এই অতিমানবীয় ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

তাঁর মতে, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক ঝুঁকি জেনেও মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে এবং এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করছে যা নিজে থেকেই নিজেকে উন্নত করতে পারবে। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও কক্সনের সতর্কবার্তাকে সমর্থন করে জানান, আগামী এক দশকে এআইয়ের মাধ্যমে মানবজাতি ধ্বংসের ঝুঁকি ১০ শতাংশেরও বেশি।

বার্কলের এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক স্টুয়ার্ট রাসেলের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন সুপারইন্টেলিজেন্স যদি মানুষকে প্রতিবন্ধক মনে করে, তবে এটি জৈব অস্ত্র তৈরি, পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা হ্যাক কিংবা সামরিক ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়ে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। এদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, উনবিংশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের মতো বর্তমানেও গুটিকয়েক শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্ট—যেমন অ্যালফাবেট, মেটা, ওপেনএআই ও এক্সএআই—বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলে এই প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে, যাদের অগ্রযাত্রায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ‘ব্রেক পেডাল’ নেই।

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সুপারইন্টেলিজেন্সের উত্থানে হোয়াইট কালার বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাকরির অর্ধেকই বিলুপ্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক বেকারত্বের হার বর্তমানের ৪.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশে নিয়ে ঠেকানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

/আশিক


ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২২:৩৩:৫৭
ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

জরুরি প্রয়োজনে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও বা নেটওয়ার্কহীন দুর্গম এলাকায় অবস্থান করলেও গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই ছাড়া অফলাইন ম্যাপ ব্যবহারের জন্য পাঁচটি কার্যকর প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ ও সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট ছাড়া গুগল ম্যাপ ব্যবহারের মূল উপায়গুলোর মধ্যে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো যাত্রার আগেই অ্যাপের প্রোফাইল থেকে ‘Offline maps’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় এলাকার মানচিত্র ডাউনলোড করে রাখা। এ ক্ষেত্রে শুধু মূল গন্তব্য নয়, পুরো যাত্রাপথটি ডাউনলোড করা ম্যাপের সীমানার ভেতরে রাখা জরুরি। দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও স্মার্টফোনের নিজস্ব জিপিএস (লোকেশন) চালু রাখলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শনাক্ত করা যায়; যদিও ঘনবসতি বা সুড়ঙ্গে সিগন্যালে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তৃতীয়ত, যাত্রা শুরুর আগেই ইন্টারনেট থাকা অবস্থায় পুরো রুট ও টার্নিং পয়েন্টগুলো একবার দেখে নেওয়া নিরাপদ। চতুর্থত, রাস্তার পরিবর্তন সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত অফলাইন ম্যাপ আপডেট করে নেওয়া উচিত। পঞ্চমে, বাসা বা অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই মোবাইল ডেটা বন্ধ করে ডাউনলোড করা ম্যাপ ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা একবার পরীক্ষা করে নেওয়া শ্রেয়।

তবে অফলাইন সংস্করণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে লাইভ ট্রাফিক বা রিয়েল-টাইম যানজট, তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা বা রাস্তা বন্ধের আপডেট পাওয়া যায় না। এ ছাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প রুট বেছে নেওয়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কিংবা সাইকেলের জন্য সুনির্দিষ্ট নেভিগেশন সুবিধা অফলাইনে সীমাবদ্ধ থাকে। ডাউনলোড করা সীমানার বাইরে গেলে অ্যাপ আর কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারে না। তাই নির্বিঘ্ন সফরের জন্য আগে থেকেই পুরো পথের ম্যাপ ডাউনলোড ও নিয়মিত হালনাগাদ রাখাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

/আশিক


জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২০:২৬:৪৭
জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশ একসময় মানব মস্তিষ্কের সক্ষমতাকেও অতিক্রম করতে পারে, অথচ সম্ভাব্য সেই পরিস্থিতির জন্য বৈশ্বিক প্রস্তুতি এখনো অত্যন্ত অপ্রতুল। এমন উদ্বেগের কথা জানিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বকে সতর্ক করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচোকি। অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়ের এআইকে তিনি মানুষের অচেনা এক ‘ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তা’ বা এলিয়েন মাইন্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ওপেনএআইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগে প্রকাশিত এক লেখায় জাকুব পাচোকি উল্লেখ করেন, যন্ত্রের মেধার যে উল্লম্ফন ঘটছে, তার সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতে গোটা বিশ্বকে আরও সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রযুক্তি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তার পরিণতি মোকাবেলার মতো প্রস্তুতি মানবসমাজের এখনও নেই। একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই বহুমুখী ঝুঁকি সামলানো অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো প্রযুক্তি খাতকেই এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌক্তিক বিশ্লেষণভিত্তিক এআইয়ের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকেই ক্রমাগত নিখুঁত করতে সক্ষম হবে, তখন এর অগ্রগতির গতি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

প্রযুক্তির ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘রিকার্সিভ সেল্ফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা স্বয়ংক্রিয় আত্মউন্নয়ন বলা হয়। এর ফলে মানুষের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই এআই নিজে থেকেই নিজের বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে পারবে। পাচোকির মতে, মূল সংকটটি তৈরি হবে ঠিক এখানেই। মানুষের সব কাজে এআই পারদর্শী না হলেও নির্দিষ্ট কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যদি এটি মানুষকে ছাড়িয়ে যায়, তবে বাস্তব জীবনে তার প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

অত্যন্ত শক্তিশালী এই প্রযুক্তি যেন মানুষের বিরুদ্ধে না গিয়ে মানবকল্যাণে নিয়োজিত থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন এআই গবেষণার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তিবিদরা ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পাচোকি স্পষ্ট করেন, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় সবচেয়ে জরুরি। প্রথমটি হলো ‘গোল অ্যালাইনমেন্ট’, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় এআই কেবল নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভেতরে থেকেই দায়িত্ব পালন করবে। দ্বিতীয়টি হলো ‘ভ্যালু অ্যালাইনমেন্ট’, যা কোনো জটিল ও অনিশ্চিত প্রেক্ষাপটে এআইকে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, তাদের সাম্প্রতিক মডেল ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ পূর্ববর্তী সংস্করণ ‘জিপিটি-৫.৬ সল’-এর তুলনায় নিরাপত্তা ও মানব-মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওপেনএআইয়ের এই প্রধান বিজ্ঞানী। তিনি জানান, বিদ্যমান নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কম্পিউটার সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে এআই মডেলগুলো ইতোমধ্যেই মানুষের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। তাই সংকট তীব্র হওয়ার আগেই বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে এমন সক্ষম প্রযুক্তির অসৎ বা ধ্বংসাত্মক ব্যবহার বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এআই যত বেশি স্বয়ংক্রিয় হবে, মানুষের দেওয়া নির্দেশ এবং যন্ত্রের নিজস্ব কার্যকলাপের মধ্যকার পার্থক্যও ততটাই ঘোলাটে হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

ভবিষ্যতে মানুষের বহু দায়িত্ব এআই নিজেই করে ফেলার সামর্থ্য অর্জন করলেও মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বা ‘হিউম্যান এজেন্সি’ বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন পাচোকি। প্রযুক্তির উত্থানে যেন মানুষের ভূমিকা ও মর্যাদা গৌণ হয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত এআই ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বজনীন নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তির বিকাশের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর নীতিগত সমন্বয়ের ওপরও জোর দিয়েছেন এই বিজ্ঞানী। সংক্ষেপে, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের সমান্তরালে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা রয়েছে পাচোকির এই মূল্যায়নে।

/আশিক


সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:২৬:৩২
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান মূল্য ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষাপটে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে কেবল উচ্চ ওয়াটের প্যানেল কিনলেই সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত হয় না; বরং একটি কার্যকর ও টেকসই সোলার সিস্টেম গড়ে তুলতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা, সঠিক প্যানেল নির্বাচন, ইনভার্টারের সামঞ্জস্য, প্রয়োজনীয় ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং ছাদের সূর্যালোকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন।

সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রাথমিক শর্ত হলো গৃহস্থালি বা বাণিজ্যিক যন্ত্রপাতির দৈনিক মোট ওয়াট ও ব্যবহারের সময় হিসাব করে প্রকৃত বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা। চাহিদা না জেনে বড় প্যানেল কিনলে অতিরিক্ত খরচ বা অকার্যকর ব্যবস্থার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া শুধু ওয়াট দেখলেই চলবে না; আবহাওয়া, তাপমাত্রা ও ছাদের ছায়ার বিষয়টিও উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। বাজারে প্রচলিত মনোক্রিস্টালাইন, পলিক্রিস্টালাইন, এন-টাইপ কিংবা বাইফেসিয়ালের মতো আধুনিক প্রযুক্তির মধ্য থেকে ছাদের জায়গা ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক প্যানেলটি বেছে নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি সরাসরি সূর্যালোক পাওয়ার নিশ্চয়তা, অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত ইনভার্টার এবং প্রয়োজনীয়তা বুঝে সঠিক ক্ষমতার ব্যাটারি নির্বাচন করা আবশ্যক। প্রতিটি উপাদানের মধ্যে সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করে অভিজ্ঞ ইনস্টলারের সহায়তায় সোলার সিস্টেম স্থাপন করলে একদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ এড়ানো যায়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হয়।

/আশিক


সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের রহস্য উন্মোচনে বড় মাইলফলকের সামনে বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২০:১৯:৫২
সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের রহস্য উন্মোচনে বড় মাইলফলকের সামনে বিজ্ঞানীরা
ছবি : সংগৃহীত

সৌরজগতের সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা এবং সূর্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রহ বুধের রহস্য উন্মোচনে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত যৌথ মহাকাশ মিশন ‘বেপিকোলম্বো’। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) এবং জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) এই উচ্চাভিলাষী মিশনটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে ফ্রেঞ্চ গায়ানার স্পেসপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রখ্যাত ইতালীয় গণিতবিদ ও প্রকৌশলী জিউসেপ ‘বেপি’ কলম্বোর নামানুসারে পরিচালিত যানটি দীর্ঘ আট বছরের মহাজাগতিক যাত্রায় প্রায় ৬০০ কোটিরও বেশি মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে বুধের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সরাসরি যাত্রাপথ বেছে নিলে যানটি অনেক আগেই বুধের নাগাল পেত, তবে তীব্র গতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জই যাত্রাকাল দীর্ঘায়িত করেছে। যানটিকে বুধের কক্ষপথে নিখুঁতভাবে থিতু করার স্বার্থে বুধ গ্রহের গতির সঙ্গে যানের গতিকে সুনির্দিষ্টভাবে সমন্বয় করতে হয়েছে, যা মহাকাশবিজ্ঞানের অন্যতম জটিল কারিগরি প্রক্রিয়া। এছাড়া সূর্যের তীব্র সান্নিধ্যে অবস্থান করায় বুধের দিনের বেলার তাপমাত্রা প্রায় ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। চরম উত্তপ্ত ও প্রতিকূল এই পরিস্থিতি সামাল দিয়েই যানটিকে টিকে থাকতে হচ্ছে।

অভিযানটির অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ধাপটি বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এদিন মূল যানটি থেকে আলাদা হয়ে যাবে এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ট্রান্সফার মডিউল’। এরপর আগামী ২১ নভেম্বর ইএসএ-এর ‘এমপিও’ এবং জাপানের ‘এমআইও’ নামের পৃথক দুটি অরবিটার বুধের নিজস্ব মহাকর্ষীয় বলের টানে গ্রহটির কক্ষপথে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশ করবে।

পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী এপ্রিল নাগাদ অরবিটার দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের মূল অভিযান শুরু করবে। ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়া সত্ত্বেও বুধ কেন অস্বাভাবিক মাত্রায় ঘন, এর ভূতাত্ত্বিক গঠন কেমন এবং গ্রহটির উপরিভাগের রহস্যময় গহ্বর বা ‘হলোজ’ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে—বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এসব জটিল মহাজাগতিক প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবেন।

/আশিক


প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:৪৯:৩৮
প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় চমক আনতে পারে অ্যাপল
ছবি : সংগৃহীত

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই নিজেদের বহুল প্রতীক্ষিত ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস ‘আইফোন ১৮ প্রো’ ও ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’ উন্মোচন করতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। নতুন এই দুই মডেলে ক্যামেরা প্রযুক্তি, প্রসেসর, ব্যাটারি সক্ষমতা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমে ফোন দুটির সম্ভাব্য দাম, নতুন রং ও স্পেসিফিকেশন নিয়ে নানা তথ্য ফাঁস হয়েছে।

এনডিটিভির বুধবারের (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপল পার্কের স্টিভ জবস থিয়েটারে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের এই প্রো সিরিজ উন্মোচন করা হতে পারে, যা অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপের সুবিধা দিতে প্রো ম্যাক্স সংস্করণে আরও বড় ব্যাটারি এবং সাশ্রয়ী চিপ ব্যবহারের ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও অ্যাপল এখনও ব্যাটারির আনুষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি।

ক্যামেরা প্রযুক্তিতে বড় ধরনের আধুনিকায়নের ইঙ্গিত মিলেছে টম’স গাইডের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো মডেলে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপের তিনটি সেন্সরই—মেইন, আল্ট্রা-ওয়াইড ও টেলিফটো—৪৮ মেগাপিক্সেলের হতে পারে। এর পাশাপাশি লেন্স দিয়ে আলো প্রবেশের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যারিয়েবল-অ্যাপারচার ক্যামেরা ব্যবস্থা যুক্ত করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বল্প আলোসহ বিভিন্ন পরিবেশে ছবি তোলার নিয়ন্ত্রণ গ্রাহকের হাতে আরও স্পষ্টভাবে তুলে দেবে। তবে বেশ কিছু অতি-উন্নত ক্যামেরা ফিচার কেবলমাত্র শীর্ষ সংস্করণ ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’-এর জন্য সংরক্ষিত রাখা হতে পারে।

প্রসেসরের ক্ষেত্রে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে অ্যাপলের নতুন প্রজন্মের ‘এ২০ প্রো’ চিপ ব্যবহারের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক পোর্টাল ম্যাকরিউমার্সের তথ্যমতে, এই চিপটি অত্যাধুনিক ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে, যা প্রসেসিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে। ফলে ফোনের সার্বিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাটারির স্থায়িত্বেও বড় উন্নতি দেখা যাবে। এছাড়া ম্যাকওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন মডেল দুটি ডার্ক চেরি, লাইট ব্লু, ডার্ক গ্রে এবং সিলভার—এই চারটি সম্ভাব্য রঙে বাজারে আনা হতে পারে।

মূল্যের বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে প্রযুক্তি পোর্টাল স্মার্টপ্রিক্স ও বিবম গ্যাজেটস জানিয়েছে, ভারতের বাজারে আইফোন ১৮ প্রো-এর প্রারম্ভিক দাম আনুমানিক ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ রুপি হতে পারে। এদিকে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ডিভাইস দুটির আনুষ্ঠানিক বিক্রি শুরু হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। তবে মূল্য, রং, ব্যাটারি কিংবা বাজারে ছাড়ার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে অ্যাপল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, ফলে বিস্তারিত জানার জন্য প্রযুক্তিপ্রেমীদের চোখ রাখতে হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের অফিশিয়াল ইভেন্টে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: