তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১০:১০:৩০
 তরুণদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই: জামায়াত আমির 
ছবি : সংগৃহীত

বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এক ঐক্যবদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জামায়াতে ইসলামী এমন একটি দেশ গড়তে চায় যেখানে পারিবারিক পরিচয়ে কেউ ক্ষমতার আসনে বসতে পারবে না। তিনি তরুণদের প্রশংসা করে বলেন, “এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং তারা সত্য বলতে দ্বিধা করে না। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা তাদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চাই।” তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আবরার ফাহাদের মতো শহীদদের হিম্মতকে ধারণ করে সাহসের সঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।

বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, শাসক শ্রেণি নিজেদের দেশের মালিক মনে করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো লুণ্ঠনের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, অতীতে জামায়াতের কোনো জনপ্রতিনিধি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি, যা তাঁদের সততা ও দক্ষতার সাক্ষী।

আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারগুলো নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংস্কার প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দিতে এবং সুশাসন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে তিনি দেশবাসীর সমর্থন কামনা করেন। এছাড়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতি—সবখানে মেধার ভিত্তিতে সগৌরবে নেতৃত্ব দেবেন।” তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ হামলার শিকার হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন তিনি।


অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১০:০২:৩৩
অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান, চাইলেন দেশবাসীর দোয়া 
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিটিভি ও বেতারে ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান- ভিডিও থেকে

অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে একটি নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন চেয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে প্রচারিত ৩৭ মিনিটের এক বিশেষ ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।” তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে নিজস্ব নিয়মে এবং প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণমুক্ত রাখা হবে।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন দেওয়া শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি ধর্মীয় চরমপন্থা ও উগ্রবাদে বিশ্বাস করে না। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তারেক রহমান তাঁর ভাষণে নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা, শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ভাতা প্রদান এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া তরুণ ও নারী জনশক্তির মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা তাঁর পরিকল্পনার প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান।

দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন।” তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষের বিজয় মানেই স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশের বিজয়।


স্বনির্ভর বাংলাদেশের লক্ষ্যে বিটিভিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ২১:২১:৫২
স্বনির্ভর বাংলাদেশের লক্ষ্যে বিটিভিতে তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন যে দেশের প্রতিটি সেক্টর এবং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে কেন্দ্র করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বিএনপি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে দলের প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিস্তারিত সুবিধার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সুরক্ষা দিতে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ সুসংবাদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান যে তাঁর দল সরকার গঠন করলে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা বা বেকার ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেকার সমস্যা নিরসনে তিনি বলেন যে ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজারসহ অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প-বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিই হবে এই লক্ষ্য অর্জনের মূল পথ।

নাগরিকদের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ার’ কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেন তারেক রহমান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে এই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী। স্বাস্থ্য ও সেবার এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন যে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ পাচার ঠেকানো সম্ভব হলে কৃষক কার্ডের সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়ন করা একেবারেই অসম্ভব নয়। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাঁরা ধানের শীষকে জয়ী করে বিএনপিকে দেশ সেবার সুযোগ করে দেন।


বাইরে থেকে কেউ দেশ গড়ে দেবে না, দায়িত্ব আমাদেরই: তারেক রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ২০:৫৮:১৮
বাইরে থেকে কেউ দেশ গড়ে দেবে না, দায়িত্ব আমাদেরই: তারেক রহমান 
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে রাজধানীর পৃথক দুটি জনসভায় অংশ নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের মহাপরিকল্পনা ও ভোটারদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠ এবং পরবর্তীতে ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।

বনানীর জনসভায় তারেক রহমান বলেন যে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন যে আমরা দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, এখন আমাদের দেশ গড়ার কাজে নামতে হবে কারণ বাইরে থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দেবে না। ২০ কোটি মানুষের এই দেশে সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাকে তিনি আগামীর প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে গত ১৫ বছরে কেবল মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে এবং এই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে তিনি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভোট প্রার্থনা করেন।

নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন যে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের জন্য গত ১৬ বছর ধরে বহু মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য প্রাণ ঝরেছে। শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম। নিজের ঘর সামাল দেওয়ার মতো করেই দেশ গড়ার দায়িত্ব দেশবাসীকে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান এবং ঘোষণা করেন যে বিএনপির মূল লক্ষ্য হবে— করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের জনসভায় তারেক রহমান এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। তিনি জানান যে একটি নির্দিষ্ট মহলের নেতাকর্মীরা বাসাবাড়িতে গিয়ে মা-বোনদের বিভ্রান্ত করে তাঁদের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি সংগ্রহ করছে এবং নকল ব্যালটে সিল মারার সরঞ্জামসহ ধরা পড়ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক না থাকলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটের অধিকার পুনরায় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জনসভার শেষ পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ যদি ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকে তবে বাংলাদেশের অগ্রগতির গতি কেউ রোধ করতে পারবে না। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেন যে সজাগ দৃষ্টি রাখলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের পথ কেউ বন্ধ করতে পারবে না এবং বিএনপি জয়ী হলে জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে।


দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় নেমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডা. মিতু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৯:১৮:৪২
দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় নেমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ডা. মিতু
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু দাবি করেছেন যে নির্বাচনে জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা চালানোর পর থেকে তিনি ভয়াবহ সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন।

ডা. মিতু জানান যে জামায়াতকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং চরিত্রহননমূলক আক্রমণের মাত্রা আগের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে একজন নারী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর ওপর করা প্রতিটি হ্যারাসমেন্টের দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিতে হবে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা একজন নারী হিসেবে তাঁকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই হেনস্তার পেছনে সরাসরি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির সমর্থকদের দায়ী করে ডা. মিতু অভিযোগ করেন যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং এসব অনলাইন আক্রমণের নৈতিক দায় তিনি এড়াতে পারেন না। তিনি মনে করেন যে দক্ষিণাঞ্চলে তাঁর সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং জামায়াত-সমর্থিত জোটের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেওয়াই এই আক্রমণের মূল কারণ। নির্বাচনী পরিবেশে নারী প্রার্থীদের ভয় দেখানো এবং তাঁদের মনোবল ভাঙার কৌশল হিসেবেই এই সাইবার বুলিং ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়ে ডা. মিতু বলেন যে গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবেই, কিন্তু মতের পার্থক্যের কারণে একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান যে এসব সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ও সামাজিকভাবে তাঁর প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।

উল্লেখ্য যে ডা. মাহমুদা আলম মিতু ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাংগঠনিক টিমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১১ ডিসেম্বর তাঁকে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে দলীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং জামায়াত জোটের সাথে সমন্বয়ের প্রেক্ষাপটে গত ২০ জানুয়ারি তিনি নিজেই নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। প্রার্থী না থাকলেও তিনি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোটের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।


ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৯:১০:৪২
ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিনেই সংস্কার শুরু হবে: ডা. শফিকুর রহমান 
ছবি : সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রচলিত ধারার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভাষণে তিনি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে যুবসমাজ ও জেন-জি প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেন যে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার পরিবারতন্ত্র ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর শোষণ থেকে মুক্তি চেয়ে আসছিল, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে। তিনি জুলাইয়ের শহীদ আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওসমান হাদীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বলেন যে এই সাহসী সন্তানদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্ম এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমন একটি রাষ্ট্র গড়বে যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ চালকের আসনে বসতে পারবে না এবং রাষ্ট্র হবে সবার জন্য সমান।

নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন যে ৫টি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ৫টি বিষয়ে ‘না’ বলাই হবে তাঁদের মূল ভিত্তি। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে চিরতরে বিদায় জানানোর ঘোষণা দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন যে অতীতে জামায়াতের কোনো জনপ্রতিনিধি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি, যা তাঁদের সততার এক বড় প্রমাণ।

নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন যে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, বরং কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতি—সবখানে মেধার ভিত্তিতে সগৌরবে নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়া তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। তাবলীগ জামাত ও ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন যে ভবিষ্যতে তাঁদের ওপর কোনো ধরনের অন্যায় বিশেষণ ট্যাপ দিয়ে নির্যাতন করা হবে না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার কথা জানান তিনি। প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন যে সংসদে প্রবাসীদের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে এবং দূতাবাসে তাঁদের জন্য বিশেষ উপদেষ্টা বা প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে তিনি শেরপুরে নিহত দলীয় কর্মী রেজাউল করিম এবং প্রয়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পরিশেষে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আকুল আবেদন জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একটি ‘আমানত’ এবং হযরত ওমরের (রা.) আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁদের সরকারের মূল লক্ষ্য।


শেখ হাসিনার আসনে ধানের শীষ বনাম ঘোড়া: লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৮:৫৩:০৭
শেখ হাসিনার আসনে ধানের শীষ বনাম ঘোড়া: লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে
ছবি : সংগৃহীত

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনে দীর্ঘ কয়েক দশকের একক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল এই আসনটি এতদিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দখলে থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে ভোটের মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই আসনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এবারই প্রথম বিএনপির সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, লড়াই মূলত দ্বিমুখী রূপ নিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী এস এম জিলানীর ‘ধানের শীষ’ এবং হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের ‘ঘোড়া’ প্রতীকের মধ্যে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির পোড়খাওয়া নেতা এস এম জিলানীর জন্য এই নির্বাচন যেমন মর্যাদার লড়াই, তেমনই গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের কাছে এটি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যমতে, এস এম জিলানী এই অঞ্চলের রাজনীতির এক অত্যন্ত পরিচিত ও পরিচ্ছন্ন মুখ। ৫ আগস্টের পর থেকে এই এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে এক বিশাল জনজোয়ার পরিলক্ষিত হচ্ছে। এস এম জিলানীর শক্তির প্রধান উৎস হলো তাঁর জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং সুসংগঠিত দলীয় নেতা-কর্মী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তিনি এলাকায় তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। গণসংযোগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সরব উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বিশেষ নির্ভরতা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ বর্তমানে নেতৃত্বহীন ও মারাত্মকভাবে বিভ্রান্ত। নেতা-কর্মীদের মধ্যে মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করায় জিলানী পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের পছন্দের তালিকায় সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন। তবে এই আসনের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে বিশাল সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক। টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই সংখ্যালঘু। এই বিশাল ভোট ব্যাংককে একাট্টা করতে পারলে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন বলে সাধারণ ভোটাররা ধারণা করছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নিজেকে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চান। তাঁর শক্তির জায়গা হলো বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। তবে এস এম জিলানীও এই ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরাতে সুকৌশলে এগোচ্ছেন। তিনি এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বিশেষ করে বেকার তরুণদের জন্য কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

নির্বাচনে এই দুজন ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল আজিজ মাক্কী (রিক্সা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান (ফুটবল) মাঠে সক্রিয় আছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, লড়াই হবে মূলত জিলানী ও প্রামাণিকের মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ‘সাইলেন্ট ভোট’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় অথবা তারা ভোটকেন্দ্রে আসে কি না, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। দীর্ঘ সময় ভোট দিতে না পারা সাধারণ মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন, তেমনই সংখ্যালঘুদের মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের চাপা শঙ্কাও কাজ করছে।

এস এম জিলানী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান যে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এবং তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে মৌসুমি বেকারত্ব দূর করে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। অন্যদিকে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক তাঁর বক্তব্যে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের ভোটাররা কার হাতে নতুন ইতিহাসের চাবিকাঠি তুলে দেবেন, তা জানতে এখন কেবল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষা।


হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৮:৩৮:০৪
হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে কড়া পাহারা বসাতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহে ঢাকা-১৩ আসনে জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

জনসভায় বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে একটি পক্ষ ও পরিবার জয়ের জন্য পাগল হয়ে গেছে এবং তারা নির্বাচনে হারের ভয়ে এখন ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি হলে জাতি কাউকে ক্ষমা করবে না। তিনি জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে এখন থেকেই ভোট পাহারা শুরু করতে হবে এবং জালিয়াত বা ভোটচোরদের রুখে দিয়ে বিজয়ের মালা গলায় পরে তবেই ঘরে ফিরতে হবে।

জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন যে যারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ অবশ্যই তাদের সমর্থন করবে না। তিনি বলেন যে একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে এবং হতাশা থেকে চোরাই পথে নির্বাচনকে হাইজ্যাক করার চিন্তা করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে গুন্ডা লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলে মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন যে কিছু অসৎ লোক এখনো দলবাজি করছেন এবং বিভিন্ন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার অবৈধ চেষ্টা করছেন। তিনি তাঁদের সতর্ক করে বলেন যে অপরাধ করে অতীতে ক্ষমা পেলেও আগামীতে আর ক্ষমা করা হবে না। একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগের শাসনামলের মতো বিতর্কিত নির্বাচন করে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে না দেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেন।

নির্বাচনে কারচুপি হলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন যে জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই এবং সকল অপকর্ম ইনশাআল্লাহ প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন যে এই জোট গঠন করা হয়েছে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং মামলাবাজদের বিরুদ্ধে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে এবার বিজয় হবেই বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির চেষ্টার জন্য নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কার ইশারায় নির্বাচন কমিশন ফ্যাসিবাদের অন্ধকার গলিপথে হাঁটার চেষ্টা করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তাঁদের জোট জয়ী হলে রাষ্ট্রে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন রাখা হবে না এবং ইনসাফ কায়েম করা হবে।

ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে মামুনুল হক নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁকে মন্ত্রী করা হবে। তিনি বলেন যে রিকশা হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতীক এবং মামুনুল হক সংসদে ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। উল্লেখ্য যে আজ সোমবার জামায়াত আমির ঢাকা-১৫ আসনে নিজের জন্য ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে এক বিশাল গণমিছিলও পরিচালনা করেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেন যে নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


ধর্মের নামে ভোট চাওয়া ইমান নষ্ট করার শামিল: মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:২৪:৪২
ধর্মের নামে ভোট চাওয়া ইমান নষ্ট করার শামিল: মির্জা ফখরুল
ছবি : কালবেলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে একটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে ধর্মের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজি বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে একটি নির্দিষ্ট দল সাধারণ ভোটারদের মাঝে প্রচার করছে যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ। এই দাবির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে কোনো নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলে কি কেউ বেহেশতে যেতে পারে? এটি ইমান নষ্ট করার মতো একটি অপপ্রচার।

বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে দেশের প্রখ্যাত আলেমরাও এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান যে বাবুনগরী সাহেব জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ বলেছেন এবং চরমোনাইয়ের পীর জামায়াতে ইসলামিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইমান রক্ষা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন যে এমন একটি দলকে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের ইমান নষ্ট করতে পারি না। তাই তিনি এলাকার মা-বোন ও ভাইদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন এবং ধর্মের নামে চলা এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকেন।


নিশ্চিন্তে চলাফেরার গ্যারান্টি দেবে বিএনপি: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৭:০৯:৩১
নিশ্চিন্তে চলাফেরার গ্যারান্টি দেবে বিএনপি: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনের এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বনানী বাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এই সভায় তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন যে বিএনপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করা যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। বিগত ১৬ বছরের শাসনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন যে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন।

তাঁদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাই এখন প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান যে বিএনপি এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিককে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বরং মানুষের মূল্যায়ন হবে তার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী কিংবা শ্রমজীবী প্রতিটি নাগরিক যেন একটি নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন যে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা অত্যন্ত জরুরি এবং এ লক্ষ্যে গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা তিনি সবিস্তারে তুলে ধরেন। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন যে গ্রামের মানুষেরা এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এবং বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে অন্যদিকে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতনতা বাড়বে যা একটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুস্থ সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মতামত: