স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে? বন্ধ করুন এই ৫টি ফিচার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:৫৮:১৫
স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে? বন্ধ করুন এই ৫টি ফিচার
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করা প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিগত কিছু অসচেতনতার কারণে অনেক সময় ফোনের চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের মাত্র ৫টি ফিচার বা সেটিংস পরিবর্তন করে দিলে ব্যাটারির আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি খরচ হওয়ার প্রধান উৎস হলো এর ডিসপ্লে। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা সবসময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে না রেখে তা চোখের জন্য আরামদায়ক স্তরে রাখা উচিত। এ ছাড়া 'অটো-লক' বা 'স্ক্রিন টাইমআউট' সময় কমিয়ে রাখলে ডিসপ্লে দ্রুত বন্ধ হয়ে ব্যাটারি সাশ্রয় করে।

দ্বিতীয়ত, অনেক সময় ব্যবহারকারী অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। এই 'ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ' অপশনটি সেটিংস থেকে বন্ধ করে দিলে অপ্রয়োজনীয় চার্জ খরচ বন্ধ হয়।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো 'লোকেশন সার্ভিস'। সব অ্যাপের জন্য সবসময় লোকেশন অন না রেখে কেবল 'অ্যাপ ইউজিং' বা অ্যাপ ব্যবহারের সময় লোকেশন অন রাখার অপশনটি সিলেক্ট করা উচিত। এতে ফোনের জিপিএস হার্ডওয়্যার অনবরত ব্যাটারি খরচ করা থেকে বিরত থাকে।

চতুর্থত, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেলুলার ডেটা বা মোবাইল ডেটার তুলনায় ওয়াইফাই (Wi-Fi) ব্যবহার করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। কারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল খুঁজতে ফোনকে অনেক বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। সবশেষে, আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড উভয় ক্ষেত্রেই 'লো-পাওয়ার মোড' বা 'ব্যাটারি সেভার' মোড ব্যবহার করা একটি কার্যকর উপায়। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রসেস বন্ধ করে ব্যাটারির আয়ু নিশ্চিত করে। এই সহজ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে স্মার্টফোনের ব্যাটারি নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে আসবে।


রিলস ভিডিওতে বৈপ্লবিক ফিচার আনছে মেটা; বদলে যাবে আপনার অভিজ্ঞতা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ২০:৫৯:১৯
রিলস ভিডিওতে বৈপ্লবিক ফিচার আনছে মেটা; বদলে যাবে আপনার অভিজ্ঞতা
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট দেখার সময় বিরক্তিকর ‘লিঙ্ক ইন বায়ো’ খোঁজার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং শপিং প্রিয় দর্শকদের জন্য এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে মেটা। এখন থেকে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক রিলস ভিডিওর ভেতরেই সরাসরি যুক্ত করা যাবে শপিং লিঙ্ক। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট এক প্রতিবেদনে মেটার এই নতুন ফিচারের কথা তুলে ধরেছে।

ইনস্টাগ্রামের এই নতুন সুবিধায় একজন ক্রিয়েটর একটি রিল পোস্ট করার আগেই তাতে ৩০টি পর্যন্ত পণ্যের লিঙ্ক যুক্ত করতে পারবেন। মেটার নিজস্ব কমার্স ক্যাটালগ ছাড়াও এতে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। দর্শকরা যখন রিলটি দেখবেন, তখন স্ক্রিনে একটি ছোট ‘ব্যানার’ ভেসে উঠবে; যেখানে ট্যাপ করলেই সুপারিশকৃত পণ্যের তালিকা চলে আসবে। এর ফলে দর্শকদের আর কষ্ট করে প্রোফাইলে গিয়ে বায়ো থেকে লিঙ্ক খুঁজতে হবে না, বরং ভিডিও দেখতে দেখতেই পছন্দের পণ্য কেনা সহজ হবে।

মেটা জানিয়েছে, এই সুবিধাটি ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক উভয় প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাবে। তবে ফেসবুক ক্রিয়েটরদের জন্য কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তারা আপাতত কেবল আমাজনের মতো নির্দিষ্ট মার্কেটপ্লেস পার্টনারদের পণ্যই ট্যাগ করতে পারবেন। এই পরিবর্তনের ফলে মেটা এখন সরাসরি টিকটক ও ইউটিউব শর্টসের সমপর্যায়ে চলে এল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ক্রিয়েটরদের আয়ের নতুন পথ খুলবে, অন্যদিকে মেটা নিজেও ব্যবহারকারীদের কেনাকাটার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে তথ্য পাবে, যা তাদের বিজ্ঞাপন ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে।

/আশিক


তথ্য সংরক্ষণে আরও স্মার্ট চ্যাটজিপিটি; লাইব্রেরি ফিচারে বদলে যাবে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৯:২১:২৮
তথ্য সংরক্ষণে আরও স্মার্ট চ্যাটজিপিটি; লাইব্রেরি ফিচারে বদলে যাবে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
ছবি : সংগৃহীত

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিজেদের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি-তে (ChatGPT) ‘লাইব্রেরি’ (Library) নামক একটি যুগান্তকারী ফিচার যুক্ত করেছে ওপেনএআই। এই নতুন সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে চ্যাটে আপলোড করা বিভিন্ন ফাইল একটি নির্দিষ্ট ক্লাউড স্টোরেজে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এর ফলে পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো বারবার আপলোড করার ঝামেলা ছাড়াই পরবর্তী যেকোনো সময়ে সেগুলোর তথ্য ব্যবহার করা সহজ হবে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ‘লাইব্রেরি’ সুবিধাটি বর্তমানে চ্যাটজিপিটির প্লাস (Plus), প্রো (Pro) এবং বিজনেস (Business) সংস্করণ ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। সুবিধাটি সক্রিয় হওয়ার পর চ্যাটজিপিটির ওয়েব সংস্করণের সাইডবারে ‘লাইব্রেরি’ নামে একটি আলাদা ট্যাব দেখা যাবে। এই ট্যাবে ব্যবহারকারীর আপলোড করা সাম্প্রতিক সব ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা থাকবে। তবে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে তৈরি করা ছবিগুলো আগের মতোই ‘ইমেজেস’ ট্যাবে সংরক্ষিত থাকবে; লাইব্রেরি অংশে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর নিজস্ব আপলোড করা ফাইলগুলোই দৃশ্যমান হবে।

লাইব্রেরি থেকে কোনো ফাইল পুনরায় ব্যবহার করতে চাইলে কম্পোজার মেনুর অ্যাটাচমেন্ট বা অ্যাড বাটনে ক্লিক করে ‘অ্যাড ফ্রম লাইব্রেরি’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। ব্যবহারকারী নিজে থেকে ডিলিট না করা পর্যন্ত এই ফাইলগুলো লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত থাকবে।

মজার ব্যাপার হলো, কোনো নির্দিষ্ট চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেললেও সেই চ্যাটে ব্যবহৃত ফাইলগুলো লাইব্রেরি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে না। ফাইল স্থায়ীভাবে মুছতে হলে লাইব্রেরি থেকে নির্দিষ্ট ফাইলটি নির্বাচন করে ট্র্যাশ আইকনে ক্লিক করতে হবে, যা সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে ওপেনএআই-এর সার্ভার থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হবে।

সূত্র: ব্লিপিং কম্পিউটার


ফেসবুকে রিলস শেয়ারে মাসে আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা: মেটার বড় ঘোষণা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৩ ১৯:৫৪:৫৪
ফেসবুকে রিলস শেয়ারে মাসে আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা: মেটার বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের বিশাল সুযোগ নিয়ে এলো মেটা (ফেসবুকের মাতৃপ্রতিষ্ঠান)। এখন থেকে ফেসবুকে রিলস ও পোস্ট শেয়ার করে প্রতি মাসে ৩ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকারও বেশি আয় করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক নতুন একটি প্রোগ্রামের আওতায় এই বিপুল অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। মূলত ইউটিউব ও টিকটকের জনপ্রিয় ক্রিয়েটরদের ফেসবুকমুখী করতেই মেটার এই বিশেষ উদ্যোগ। মেটার অফিশিয়াল নিউজরুম থেকে জানানো হয়েছে, যারা অন্য প্ল্যাটফর্মে (ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউব) অলরেডি জনপ্রিয়, তারাই এই প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার পাবেন।

এই প্রোগ্রামের আওতায় যাদের অন্য প্ল্যাটফর্মে অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে ১ হাজার ডলার এবং যাদের ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয় করতে পারবেন। নির্বাচিত ক্রিয়েটররা টানা তিন মাস মেটার পক্ষ থেকে এই নিশ্চিত পেমেন্ট পাবেন, তবে শর্ত হলো তাদের নিয়মিত মানসম্মত ‘এলিজিবল রিলস’ শেয়ার করতে হবে। এছাড়া ফেসবুক এসব ক্রিয়েটরের কন্টেন্টের রিচ বাড়াতে বিশেষ কারিগরি সহায়তাও প্রদান করবে। বর্তমানে এই প্রোগ্রামটি আমন্ত্রণভিত্তিক হলেও আগ্রহী ক্রিয়েটররা ফেসবুক অ্যাপের ‘প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড’ থেকে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন।

আয়ের সুযোগ শুধু রিলস বা ভিডিওতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; মেটা তাদের মনিটাইজেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ছবি, স্টোরি এমনকি টেক্সট বা লেখা পোস্ট থেকেও টাকা আয়ের সুযোগ থাকছে। মেটার তথ্যমতে, বর্তমানে ফেসবুকের মোট আয়ের ৬০ শতাংশই আসছে রিলস থেকে, আর বাকি অংশ আসছে ছবি ও লেখা থেকে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশাল বোনাস ঘোষণা বাংলাদেশের তরুণ ক্রিয়েটরদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক নতুন দুয়ার খুলে দেবে। মেটা ২০২৫ সালে ক্রিয়েটরদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পেমেন্ট করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

/আশিক


নাসার ধাক্কায় বদলে গেল গ্রহাণুর পথ; মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৯:৪৯:২২
নাসার ধাক্কায় বদলে গেল গ্রহাণুর পথ; মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের খবর দিচ্ছে নাসার 'ডার্ট' (DART) মিশনের সাম্প্রতিক গবেষণা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মানুষ প্রথমবার ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মহাকাশযানকে গ্রহাণুর সঙ্গে ধাক্কা খাইয়েছিল, যার প্রভাব বিজ্ঞানীদের আগের সব ধারণাকেই আমূল বদলে দিয়েছে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স অ্যাডভান্সেস'-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেই ধাক্কার ফলে কেবল ছোট গ্রহাণু 'ডাইমরফোস' নয়, বরং পুরো গ্রহাণু জোড়ার সূর্যের চারপাশের কক্ষপথেও পরিবর্তন এসেছে।

এই পরীক্ষায় মহাকাশযানটি গিয়ে ধাক্কা দিয়েছিল ছোট গ্রহাণু ডাইমরফোস-এর সঙ্গে, যা মূলত বড় গ্রহাণু ডিডিমোস-এর চারপাশে ঘোরে। এই দুই গ্রহাণু মিলে একটি ‘বাইনারি সিস্টেম’ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এই গ্রহাণু জোড়ার যে ৭৭০ দিনের সময় লাগত, তা এখন এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তিত হয়েছে। যদিও এই সময়টুকু আমাদের কাছে অতি সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু মহাজাগতিক স্কেলে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ডাইমরফোস থেকে ছিটকে যাওয়া পাথর ও ধূলিকণা এই ধাক্কার শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল, যার ফলে এর কক্ষপথের পথ সামান্য বদলে গেছে।

গবেষকদের মতে, এই পরীক্ষাটি দেখিয়েছে যে মহাকাশে মানুষের সৃষ্ট একটি ছোট পরিবর্তনও দীর্ঘ সময় পরে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো বিপজ্জনক গ্রহাণু সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে এভাবেই মহাকাশযান দিয়ে ধাক্কা মেরে তার গতিপথ সামান্য বদলে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে পৃথিবীকে এক বিশাল মহাজাগতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার পথ প্রশস্ত হলো। এই আবিষ্কারটি মূলত পৃথিবীকে গ্রহাণুর সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

/আশিক


মার্চের আকাশে গ্রহের মেলা! ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহাজাগতিক থিয়েটার দেখবে বাংলাদেশ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:২৯:৩৩
মার্চের আকাশে গ্রহের মেলা! ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহাজাগতিক থিয়েটার দেখবে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মার্চের শেষার্ধে বাংলাদেশের আকাশ এক অনন্য মহাজাগতিক মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে। দিনের তপ্ত রোদ শেষে সন্ধ্যার আকাশ যখন স্বচ্ছ ও নির্মল হয়ে ওঠে, তখনই চোখ মেললে ধরা দিচ্ছে বিস্ময়কর সব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেখা যাবে গ্রহের মেলা, চাঁদের লুকোচুরি আর উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জের উপস্থিতি; সব মিলিয়ে এক মহাজাগতিক থিয়েটার।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সময়ের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক দৃশ্য

ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া 'প্ল্যানেট প্যারেড' মার্চের শেষ ভাগেও অব্যাহত থাকবে, তবে গ্রহগুলোর অবস্থানে আসবে নতুন বিন্যাস। ১৬ মার্চের পর সূর্যাস্তের ঠিক পরেই পশ্চিম আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে দেখা দিচ্ছে শুক্র গ্রহ। সন্ধ্যাতারা হিসেবে পরিচিত এই গ্রহের খুব কাছেই অবস্থান করছে বুধ গ্রহ। সাধারণত সূর্যের কাছাকাছি থাকায় বুধ দেখা কঠিন হলেও মার্চে এটি গোধূলি বেলায় ঢাকার আকাশেও স্পষ্ট দেখা যাবে। এদিকে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি মাঝ আকাশে নিজের আধিপত্য বজায় রাখবে। টেলিস্কোপে এর চারটি বড় উপগ্রহ 'গ্যালিলিয়ান মুন' দেখার সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে শনি গ্রহ ভোরের আকাশে সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে, যা দেখার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহই আদর্শ সময়।

২০ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে দেখা যাবে আকাশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য। এ সময়ে চাঁদের সরু ফালি একে একে বিভিন্ন গ্রহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে। ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে 'ক্রিসেন্ট মুন' শুক্র ও বুধের খুব কাছাকাছি থাকবে। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে এই দৃশ্য এমন মনে হবে যেন চাঁদ আর শুক্র একে অপরকে আলিঙ্গন করছে। ২৫ মার্চ চাঁদ চলে আসবে বৃহস্পতির কাছে, যা আলোকদূষণমুক্ত আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যাবে।

আগামী ২০ মার্চ ২০২৬ পালিত হবে বসন্তকালীন বিষুব। এদিন সূর্য ঠিক পূর্ব দিকে উদিত হবে এবং পশ্চিমে অস্ত যাবে, ফলে দিন ও রাত প্রায় সমান হবে। বাংলাদেশ বিষুবরেখার কাছাকাছি হওয়ায় এ পরিবর্তনের প্রভাব এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ঋতু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং বসন্তের পূর্ণতার প্রতীক।

মার্চের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশের ঠিক ওপরে দেখা যাবে কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ, যার তিনটি তারার সারি বা 'বেল্ট' সহজেই চেনা যায়। কালপুরুষের নিচে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে জ্বলজ্বল করবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক (সাইরাস)। অন্যদিকে উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডলও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। শহরের বাইরে খোলা আকাশে গেলে মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গার হালকা সাদা আভাও চোখে পড়তে পারে।

৩১ মার্চ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিট গ্রহ দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। খালি চোখে শুক্র ও বৃহস্পতি দেখা গেলেও শনির বলয় বা ইউরেনাসের আভা দেখতে হলে অন্তত ১০×৫০ ক্ষমতার একটি বাইনোকুলার প্রয়োজন হবে। এই মার্চের আকাশ তাই শুধু রাতের সৌন্দর্য নয়, বরং প্রকৃতি ও মহাকাশের এক অনন্য সংলাপ।

সূত্র : দ্য স্কাই লাইভ, স্কাইম্যাপ অনলাইন


মহাকাশ স্টেশনের বাইরে সাড়ে ৬ ঘণ্টা; নাসার নভোচারীদের রোমাঞ্চকর ‘স্পেসওয়াক’

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:৩৮:৩৩
মহাকাশ স্টেশনের বাইরে সাড়ে ৬ ঘণ্টা; নাসার নভোচারীদের রোমাঞ্চকর ‘স্পেসওয়াক’
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) আয়ুষ্কাল বাড়াতে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এক বিশেষ অভিযানে নামছেন নাসার নভোচারীরা। চলতি মার্চ মাসেই তারা দুই দফায় স্টেশনের বাইরে খোলা মহাকাশে বের হয়ে কাজ করবেন, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্পেসওয়াক’। স্টেশনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথ সুগম করতেই এই চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নাসার তথ্যমতে, প্রথম স্পেসওয়াকটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ। এই রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ নভোচারী জেসিকা মিয়ার এবং তাঁর সঙ্গী ক্রিস্টোফার উইলিয়ামস। তারা স্টেশনের বিশেষ প্রবেশদ্বার ‘কোয়েস্ট এয়ারলক’ দিয়ে শূন্য মহাকাশে বেরিয়ে আসবেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করে তারা ‘২এ পাওয়ার চ্যানেল’ প্রস্তুত করবেন। মূলত স্টেশনে সর্বাধুনিক সৌর প্যানেল ‘আইআরওএসএ’ (iROSA) বসানোর প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করবেন তারা। এই আধুনিক রোল-আউট সোলার অ্যারেগুলো বসানো হলে স্টেশনটি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

জেসিকা মিয়ারের জন্য এটি চতুর্থ অভিজ্ঞতা হলেও, ক্রিস্টোফার উইলিয়ামসের জন্য এটিই হবে জীবনের প্রথম স্পেসওয়াক। প্রথম দফার কাজ সফল হলে ‘ইউএস স্পেসওয়াক–৯৫’ নামে দ্বিতীয় অভিযানটি শুরু হবে। সেখানে স্টেশনের ‘৩বি পাওয়ার চ্যানেল’ মেরামতের কাজ করা হবে। উল্লেখ্য যে, মহাকাশ স্টেশন তৈরির পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে কয়েকশ বার এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা হয়েছে। এবার যে দুটি অভিযান হতে যাচ্ছে, সেগুলো হবে এই স্টেশনের ২৭৮তম ও ২৭৯তম স্পেসওয়াক। আধুনিক প্রযুক্তির এই সংযোজন ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে নাসা।

/আশিক


মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রহস্যময় সংকেত; ভিনগ্রহের প্রাণী নাকি ডার্ক ম্যাটার?

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১৯:৩৫:৫৮
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রহস্যময় সংকেত; ভিনগ্রহের প্রাণী নাকি ডার্ক ম্যাটার?
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের কেন্দ্রস্থল থেকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আসা অদ্ভুত কিছু সংকেত বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একসময় এসব সংকেতের পেছনে ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের একদল গবেষকের মতে, এই রহস্যময় সংকেতের উৎস হতে পারে মহাবিশ্বের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অদৃশ্য পদার্থ। তাদের এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাটি বিশ্বখ্যাত ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. শ্যাম বালাজি উল্লেখ করেছেন যে, তারার বিস্ফোরণের মতো মহাকাশের বড় বড় প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো দিয়ে এই অদ্ভুত সংকেতগুলোর পুরোপুরি ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডার্ক ম্যাটার এমন এক পদার্থ যা আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলনও করে না, ফলে একে সরাসরি দেখা যায় না; অথচ মহাবিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই রহস্যময় পদার্থ দিয়ে গঠিত। এই গবেষণায় ‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ বা উত্তেজিত ডার্ক ম্যাটার প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে শক্তি জমা হয় এবং পরবর্তীতে তা ‘পজিট্রন’ নামক কণা আকারে নির্গত হয়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মহাকাশে দেখা দেওয়া তিনটি অদ্ভুত সংকেত—৫১১-কেভি (keV) বিকিরণ, ২-মেগা ইলেকট্রন ভোল্ট গামা রশ্মি এবং গ্যাসের অস্বাভাবিক আয়নাইজেশনের ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে এই তত্ত্বটি প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে চেরেনকভ টেলিস্কোপ অ্যারে অবজারভেটরির মতো অত্যাধুনিক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রকল্পগুলো এই বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। যদি এই ধারণাটি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের চিরচেনা ধারণাকে বদলে দেওয়ার পাশাপাশি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

/আশিক


ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ০৯:৫৭:৫৪
ইন্টারনেট ছাড়াই পাঠানো যাবে মেসেজ: আসছে জ্যাক ডরসির ‘বিটচ্যাট’
ছবি : সংগৃহীত

ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া বার্তা আদান-প্রদান করা অসম্ভব—প্রযুক্তির এই প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে বাজারে আসছে নতুন এক বৈপ্লবিক অ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো যেখানে ডাটা বা ওয়াই-ফাই ছাড়া অচল, সেখানে সম্পূর্ণ ইন্টারনেটহীন অবস্থায় কাজ করবে ‘বিটচ্যাট’ (BitChat) নামক এই অ্যাপটি। আধুনিক এই প্রযুক্তির নেপথ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম টুইটারের (বর্তমানে এক্স) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট প্রযুক্তি উদ্যোক্তা জ্যাক ডরসি।

বিটচ্যাট অ্যাপটি মূলত ব্লুটুথ প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যাকে কারিগরি ভাষায় ‘পিয়ার-টু-পিয়ার’ (P2P) যোগাযোগ ব্যবস্থা বলা হয়। সাধারণ মেসেজিং অ্যাপগুলো কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করলেও বিটচ্যাট সরাসরি এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে বার্তা পাঠাতে সক্ষম। ফলে এই প্রক্রিয়ায় কোনো ইন্টারনেট কানেকশন বা মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন পড়ে না। এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে যা ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তাও নিশ্চিত করবে।

দূরত্ব ও কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে বিটচ্যাট সাধারণ ব্লুটুথ ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সাধারণ ব্লুটুথের রেঞ্জ ১০০ মিটারের আশেপাশে থাকলেও বিটচ্যাট ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ব্যক্তিগত বার্তার পাশাপাশি এখানে গ্রুপ চ্যাট বা চ্যাটরুম তৈরির সুবিধাও থাকছে। কাছাকাছি থাকা একাধিক ব্যবহারকারীর ব্লুটুথ মিলে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক বা ‘ক্লাস্টার’ তৈরি করবে, যার ফলে বার্তা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ক্রমান্বয়ে পৌঁছাতে পারবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিগ্রহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, তখন বিটচ্যাট যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এটি অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে অ্যাপটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি আইফোন (iOS) ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে বিশ্বজুড়ে মেসেজিং ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

/আশিক


মহাকাশে দানবীয় ডিম? নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল রহস্যময় নীহারিকা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৯:২৫:০২
মহাকাশে দানবীয় ডিম? নাসার হাবল টেলিস্কোপে ধরা পড়ল রহস্যময় নীহারিকা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হিসেবে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ‘এগ নেবুলা’ বা ডিম নীহারিকার এক দুর্লভ ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার আলোকবর্ষ দূরে সিগনাস নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত এই নীহারিকাটি দেখতে অনেকটা ডিমের কুসুম ও তার চারপাশের সাদা অংশের মতো, যা মহাকাশপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একটি প্রি-প্ল্যানেটারি বা গ্রহীয় নীহারিকা। যখন কোনো নক্ষত্র তার আয়ুষ্কালের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেটি থেকে গ্যাস ও ধুলোর স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এই ধরনের অদ্ভুত কাঠামোর সৃষ্টি হয়। হাবলের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নীহারিকাটির কেন্দ্রে থাকা মৃতপ্রায় তারাটি ঘন ধুলোর মেঘে ঢাকা পড়ে আছে, তবে তা থেকে দুটি উজ্জ্বল আলোর রেখা তীব্র গতিতে মেঘ ভেদ করে বেরিয়ে আসছে। গবেষকদের ধারণা, মূল তারার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা ছোট কোনো তারার মহাকর্ষীয় টানের কারণে এই বিচিত্র গঠন তৈরি হয়েছে।

এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘কসমিক ডাস্ট’ বা মহাজাগতিক ধুলো। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নীহারিকা থেকে নির্গত ধুলো থেকেই ভবিষ্যতে নতুন নক্ষত্র বা গ্রহের জন্ম হতে পারে। উল্লেখ্য যে, আমাদের সৌরজগতও প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে এমন ধুলোর মেঘ থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তারা জন্ম ও মৃত্যুর এই রহস্যময় চক্র বুঝতে এগ নেবুলার মতো ক্ষণস্থায়ী ধাপগুলো পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

/আশিক

পাঠকের মতামত: